Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > বাংলাদেশে মাইক্রোসফটের আসল উইন্ডোজ এক্সপি স্টার্টার ও ভিসতা স্টার্টার
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: এস.এম. গোলাম রাব্বি
মোট লেখা:৭২
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - ফেব্রুয়ারী
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
সফটওয়্যারউইন্ডোজ ‍এক্সপি, 
তথ্যসূত্র:
সফটওয়্যার
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
বাংলাদেশে মাইক্রোসফটের আসল উইন্ডোজ এক্সপি স্টার্টার ও ভিসতা স্টার্টার



লোকজনকে ডিজিটাল জগতে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে এবং পিসি ব্যবহারের সুযোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে মাইক্রোসফট ২০০৪ সালে তৈরি করে উইন্ডোজ এক্সপি স্টার্টার সংস্করণ। উন্নয়নশীল দেশের প্রযুক্তি বাজারে প্রথমবারের মতো পিসি ব্যবহারকারীদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এ অপারেটিং সিস্টেম। উইন্ডোজ এক্সপি স্টার্টার সংস্করণ প্রথমে বের হয় থাইল্যান্ডে, ২০০৪ সালে। এরপর সফটওয়্যারটি ২৪টি ভাষায় বিশ্বের ১৩৯টি দেশে প্রকাশ পায়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের ২০ লাখেরও বেশি পরিবার প্রথমবারের মতো উইন্ডোজ স্টার্টারভিত্তিক কমপিউটার ব্যবহারে অভিজ্ঞতা লাভ করেছে।

বিশ্বব্যাপী উইন্ডোজ ভিসতা অপারেটিং সিস্টেমের মুক্তির সাথে সাথে মাইক্রোসফট ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উইন্ডোজ স্টার্টার পরিবারের জন্য সূচনা করল উইন্ডোজ ভিসতা স্টার্টার নামের আরেকটি নতুন সফটওয়্যারের। উইন্ডোজ ভিসতা স্টার্টারও প্রথমবারের মতো উন্নয়নশীল বিশ্বের কমপিউটার ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা হয়। উইন্ডোজ ভিসতা অপারেটিং সিস্টেমের কারিগরি অগ্রগতির সাথে সাথে ব্যবহারকারীদের কাছে উইন্ডোজ ভিসতা স্টার্টার ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও বাড়ছে। মূলত মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এক্সপি স্টার্টার ও মাইক্রোসফট ভিসতা স্টার্টার অপারেটিং সিস্টেম দুটির উল্লেখযোগ্য কিছু বৈশিষ্ট্য এবং এই সফটওয়্যার দুটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সিস্টেম নিয়েই তৈরি হয়েছে এ লেখা। উল্লেখ্য, ‘বাইনারি লজিক’ নামের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার আমদানিকারক একটি বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি এই সফটওয়্যার দুটি বাংলাদেশে বাজারজাত করছে।



উন্নয়নশীল প্রযুক্তির বাজারে প্রথমবারের মতো পিসি ব্যবহারকারীদের মাইক্রোসফট যথেষ্ট সহনীয় দামে উইন্ডোজ এক্সপি স্টার্টার সংস্করণ সরবরাহ করছে। এটি ব্যবহারের জন্য বেশি দামি হার্ডওয়্যারেরও প্রয়োজন নেই।

এক্সপি স্টার্টার : বৈশিষ্ট্য

লোকালাইজড অ্যান্ড টেইলরড সাপোর্ট : উইন্ডোজ এক্সপি স্টার্টারে রয়েছে ‘মাই সাপোর্ট’ নামের একটি হেল্প সিস্টেম, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এই সফটওয়্যারটি ব্যবহারের সব সাহায্য পাবে। এছাড়াও সর্বপ্রথম পিসি ব্যবহারকারীদের জন্য এতে অনেক আঞ্চলিক ভাষায় সংযোজিত হয়েছে কিছু ইনস্ট্রাকশন ভিডিও।

লোকালাইজড কাস্টমাইজেশন : উইন্ডোজ এক্সপি স্টার্টার সংস্করণে ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দমতো বাজারভিত্তিক ওয়ালপেপার, স্ক্রিনসেভার বাছাই করতে পারবে।

প্রিকনফিগারড সেটিং : প্রাথমিক পর্যায়ের কমপিউটার ব্যবহারকারীদের সেটআপ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান দেয়ার জন্য উইন্ডোজ স্টার্টার সংস্করণ বেশ কিছু অগ্রগামী সেটিং দেয় এবং সব সময় উইন্ডোজ ফায়ারওয়াল চালু রাখে।

সিম্পলিফাইড টাস্ক ম্যানেজমেন্ট : উইন্ডোজ এক্সপি স্টার্টার অপারেটিং সিস্টেমে নতুন পিসি ব্যবহারকারীরা একই সাথে তিনটি প্রোগ্রাম এবং প্রতিটি প্রোগ্রামে তিনটি উইন্ডো চালু রাখতে পারে। এক্সপি স্টার্টারে ১০২৪ ´ ৭৬৮ রেজ্যুলেশনের ডিসপ্লে সাপোর্ট করে।

ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি : উইন্ডোজ এক্সপি স্টার্টার অপারেটিং সিস্টেমে সহজে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া যায় এবং ওয়েব ব্রাউজ করা যায়।

সিকিউরিটি : উইন্ডোজ এক্সপি স্টার্টার ব্যবহারকারীরা উইন্ডোজ এক্সপি সার্ভিস প্যাক ২-এর সিকিউরিটি টেকনোলজির সাথে সরবরাহ করা সর্বশেষ সিকিউরিটি আপডেট পেতে পারে।

কমিউনিকেশন : এ অপারেটিং সিস্টেমের উইন্ডোজ মেসেঞ্জারে টেক্সট মেসেজিংয়ের মাধ্যমে খুব সহজেই বন্ধুবান্ধব কিংবা পরিবারের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করা যায়।

ডিজিটাল ফটোগ্রাফি : উইন্ডোজ এক্সপি স্টার্টার অপারেটিং সিস্টেমচালিত পিসিতে ব্যবহারকারীরা খুব সাধারণভাবে ডিজিটাল ক্যামেরা সংযোজন করতে পারে এবং এতে সংযোজিত ব্যবহারযোগ্য টুলের মাধ্যমে তারা সহজে সেই ক্যামেরার ছবিগুলো স্টোর করতে পারে, বন্ধুবান্ধব কিংবা পরিবারের লোকজনের সাথে শেয়ার করতে পারে, ওয়েবে পাঠাতে পারে, এমনকি প্রিন্টও করতে পারে।

ডিজিটাল মিডিয়া প্লেয়ার : মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এক্সপি স্টার্টার সংস্করণে সংযোজিত হয়েছে উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার ৯, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ভিডিও দেখা বা অডিও শোনার কাজ করতে পারে।

যা যা প্রয়োজন : উইন্ডোজ এক্সপি স্টার্টার ব্যবহারের জন্য আপনাদের প্রয়োজন হবে অন্তত ২৩৩ মেগাহার্টজ প্রসেসর, ২৫৬ মে.বা. র্যা ম, ৮০০ X ৬০০ রেজ্যুলেশনের ভিডিও অ্যাডাপ্টার।

ভিসতা স্টার্টার : বৈশিষ্ট্য

ভিসতা স্টার্টার সংস্করণে উইন্ডোজ এক্সপি স্টার্টার ব্যবহারের সব সুবিধাই পাওয়া যাবে। তবে এতে অতিরিক্ত আরো কিছু নতুন বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা যোগ হয়েছে। যেমন-

সহজে ব্যবহারযোগ্য : উইন্ডোজ ভিসতা স্টার্টারে রয়েছে উন্নত সাপোর্ট ও হেল্প টুলস যাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কিছু স্টেপ-বাই-স্টেপ টিউটরিয়াল এবং ইনস্ট্রাকশনাল ভিডিও। এই অপারেটিং সিস্টেমে ব্যবহারকারীরা একই সাথে তিনটি প্রোগ্রাম চালাতে পারে এবং প্রতিটি প্রোগ্রামে ইচ্ছেমতো বহুসংখ্যক উইন্ডো খুলতে পারে।

নির্ভরযোগ্য : উইন্ডোজ ভিসতা স্টার্টারের নতুন নতুন আপডেট বৈধভাবে ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা মনে স্বসিত্ম পেতে পারে।

সুলভ মূল্য : মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ভিসতা অপারেটিং সিস্টেমের সব সাধারণ বৈশিষ্ট্য সংযোজিত হয়েছে ভিসতা স্টার্টার সংস্করণে এবং এটি খুব সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়।

সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার কম্প্যাটিবিলিটি : উইন্ডোজ ভিসতা স্টার্টার একটি বিশাল সীমার উইন্ডোজভিত্তিক সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন এবং হার্ডওয়্যার ডিভাইসসমূহ যেমন- প্রিন্টার, স্পিকার এবং ক্যামেরা ইত্যাদির সাথে মানানসই।

সিকিউরিটি : উইন্ডোজ ভিসতার জন্য দেয়া সর্বশেষ সিকিউরিটি আপডেট পাওয়া যাবে ভিসতা স্টার্টারেও।

কমিউনিকেশন : উইন্ডোজ ভিসতা স্টার্টারে ব্যবহারকারীরা উইন্ডোজ মেইল এবং উইন্ডোজ লাইভ মেসেঞ্জার ব্যবহার করে ই-মেইল ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিংয়ের মাধ্যমে প্রিয়জনদের সাথে সবকিছু শেয়ার করতে পারে ও মজা করতে পারে।

ডিজিটাল ফটোগ্রাফি : মাইক্রোসফট ভিসতা স্টার্টারভিত্তিক পিসি ব্যবহারের মাধ্যমে ভিন্ন কমপিউটারের শেয়ারড ফোল্ডারে রাখা ডিজিটাল ছবি অ্যাকসেস করতে পারে। এমনকি ওই পিসিটি ভিসতা স্টার্টারচালিত না হলেও।

ডিজিটাল অডিও এবং ভিডিও : ভিসতা স্টার্টারের সাথে যুক্ত হয়েছে উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার ১১, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অডিও শুনতে পারবে, ভিডিও দেখতে পারবে, সিডি কিংবা ডিভিডি বার্ন করতে পারবে।

যা যা প্রয়োজন : মাইক্রোসফট উইন্ডোজ স্টার্টার সংস্করণ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন হবে অন্তত ৮০০ মেগাহার্টজ প্রসেসর, ৩৮৪ মেগাবাইট র্যা ম, ১৫ গিগাবাইট হার্ডডিস্ক, ৮০০ X ৬০০ রেজ্যুলেশনের ভিডিও অ্যাডাপ্টার ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশে ‍মাইক্রোসফটের এ দু’টি অপারেটিং সিস্টেমের প্রতিটির দাম ৪,৩০০ টাকা। যোগাযোগ : বাইনারি লজিক, ০১৭৩০২৭৫২১, ০১৯১১৪৪৯৭৭৮।

কজ ওয়েব
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
২০০৯ - ফেব্রুয়ারী সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস