Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > বর্ষসেরা গেম ২০০৮
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সৈয়দ হাসান মাহমুদ
মোট লেখা:৫৪
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - ফেব্রুয়ারী
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
গেমকমপিউটার গেম, 
তথ্যসূত্র:
গেমের জগৎ
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
বর্ষসেরা গেম ২০০৮
পুরনো স্মৃতিবিজড়িত করে, নতুনের আগমনী বার্তা দিয়ে চলে গেল আরো একটি বছর। বিদায়ী ২০০৮ সালে বের হয়েছে ভালোমানের অনেক গেম। যার কিছু গেমারদের মন জয় করে নিয়েছে, কিছু তাদের মনে তেমন একটা দাগ কাটতে পারেনি। ২০০৭ সালের কথা মনে আছে তো? সেই সালে শূটিং গেমের আধিক্য ছিল বেশি। নামকরা গেমগুলোর মাঝে ছিল ক্রাইসিস, কল অব ডিউটি, গিয়ারস অব ওয়ার ইত্যাদি। নতুন গেমের বদলে পুরনো গেমের প্রসঙ্গ আসছে বলে অবাক হবেন না! কারণ পুরনো গেমগুলোর কাহিনীর ধারাবাহিকতায় বের হওয়া সিক্যুয়ালগুলোই ২০০৮ সালে গেমিং দুনিয়াকে কাঁপিয়ে দিয়ে গেছে। এবারের সেরা গেমগুলোর তালিকা তৈরি করার জন্য Game Spot, Game Spy, Game Trailer, IGN, Game Critics Awards ও Game Informer অনলাইন গেমিং ওয়েবসাইটগুলোর সাহায্য নেয়া হয়েছে। আলোচিত গেমগুলো বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে তা নিয়ে সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন সৈয়দ হাসান মাহমুদ ও সৈয়দ হোসেন মাহমুদ।
...............................................................................

অ্যাকশন গেম



অ্যাকশন/ অ্যাডভেঞ্চার গেমের চাহিদা সবসময়ই বেশি। তাই এ ধরনের গেমের তালিকাও বড়। পিসি, কন্সোল, মোবাইল- সব রকম প্লাটফর্মে এ ধরনের গেমের রাজত্ব। কিছু গেম রয়েছে যা কন্সোলে মুক্তি দেয়া হয় কিন্তু পিসির জন্য বের করা হয় না। তাই অনেকেই ভালো ভালো গেম খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। কিছু গেম আবার কন্সোলে মুক্তি দেয়ার অনেক পরে পিসির জন্য অবমুক্ত করা হয়। পিসিতে রিলিজ হবার আগ পর্যন্ত গেমারদের অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়। ২০০৮ সালের প্রথমসারির অ্যাকশন গেমগুলোর মধ্যে রয়েছে- Metal Gear Solid 4, Dead Space, Grand Theft Auto 4, Ninja Gaiden ও No More Heroes। গত বছরে গেমারদের প্রিয় অ্যাকশন গেমের তালিকায় রয়েছে Metal Gear Solid সিরিজের ৪র্থ পর্ব Guns of the Patriots নামের গেমটি। গেমটি তৈরি করেছে কোজিমা প্রোডাকশন্স ও পাবলিশ করেছে কোনামি নামের প্রতিষ্ঠান। গেমটি বিভিন্ন গেমিং সাইট ও গেমারদের রেটিং অনুযায়ী ১০-এর মধ্যে ১০ পয়েন্ট অর্জন করে সেরা অ্যাকশন গেম হিসেবে নিজের স্থান দখল করে নিয়েছে। এই সিরিজের গেমগুলো মূলত স্টিলথধর্মী অর্থাৎ শত্রুর চোখ ফাঁকি দিয়ে কার্য উদ্ধার করা বা স্পাইয়ের মতো খেলার গেম। এতে বেশিরভাগ কাজই করতে হবে সাবধানে যেনো কাকপক্ষীও টের না পায় এবং কিছু সময় সরাসরি যুদ্ধেও যেতে হবে। তাই গেমগুলোতে রয়েছে দুটি ভিন্ন রকমের স্বাদ।

গেমটি গত বছরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক পুরস্কার লাভ করেছে, যা অন্য গেমগুলোর তুলনায় বেশি। সব দিক থেকে বিবেচনা করে এই গেমটিই বছরের সেরা গেম হিসেবে প্রথম স্থান দখল করে আছে। কিন্তু কিছু সাইটে ফলআউট ৩-কে প্রথম দেখানো হয়েছে, এর কারণ হচ্ছে Metal Gear Solid 4 শুধু প্লে স্টেশনের জন্য বের হয়েছে। আর ফলআউট ৩ সব প্লাটফর্মের জন্য বের করা হয়েছে। গেমপ্লে, গ্রাফিক্স, সাউন্ড সিস্টেম সব কিছু মিলিয়ে সবার চোখে মেটাল গিয়ার সলিড গেমটিই সেরা। পিসি গেমাররা অধীর আগ্রহে এই গেমের জন্য অপেক্ষা করছে, কবে তা পিসিতে রিলিজ হবে। থার্ড পারশন অ্যাকশন গেম হিসেবে EA Games-এর Dead Spaceও পিছিয়ে নেই। এই গেমটিও অন্য অ্যাকশন গেমগুলোর মাঝে ভালো স্থান দখল করে আছে। সারভাইভাল হরর ধাঁচের এই গেমে আপনাকে খেলতে হবে আইজ্যাক ক্লার্ক নামের এক চরিত্রে। চরিত্রের নাম নেয়া হয়েছে বিখ্যাত দুই সায়েন্স ফিকশন লেখক আইজ্যাক আজিমভ ও আর্থার সি. ক্লার্কের নামানুসারে। এই গেম খেলার সময় Resident Evil 4, Dark Secto ও Gears of War-এর সাথে ভালো সাদৃশ্য খুঁজে পাবেন।

এ সম্পর্কে কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না, কারণ ছোট থেকে বড় সবার পছন্দের গেমের তালিকায় রয়েছে এই সিরিজের গেম। বাজারে জিটিএ-৪-ভাইস সিটি, সান আন্ড্রেজ ইত্যাদি অনেক গেম বের হয়েছিল কিন্তু সেগুলো আসলে ছিল জিটিএ-৩-এর এক্সপানশন প্যাক। কিন্তু বাজারে তা জিটিএ-৪ নামে ছাড়া হয়। এতদিন পরে বের হলো জিটিএ-৪-এর আসল গেম। গেমটি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ৪ ডিভিডি প্যাকে, তাই বুঝতেই পারছেন এই গেম খেলার জন্য হার্ডডিস্কে কতটুকু জায়গা লাগতে পারে।

ডেড অর এলাইভ সিরিজের গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেমকোর বানানো নিনজা গাইডেন সিরিজের গেমগুলো ছোট আকারের গেমিং কন্সোলে দারুণ জনপ্রিয়। আর্কেড গেম হিসেবে রিলিজ দেয়া নতুন এই গেমের গ্রাফিক্স করা হয়েছে আরো উন্নত। গেমে বীভৎসতা ও রক্তারক্তি বেশি, তাই গেমের রেটিং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ঠিক করা হয়েছে। No More Heroes গেমটি বের করা হয়েছে উইই কন্সোলের জন্য। এতে ট্রাভিস টাচডাউন নামের চরিত্রে খেলতে হবে। খেলার ধরন অনেকটা জিটিএ সিরিজের গেমের মতো, কিন্তু এতে মূল মিশন হচ্ছে ১০ জন কুখ্যাত আততায়ীকে খুঁজে তাদের মেরে ফেলা।
.............................................................................

ফাইটিং গেম



ফাইটিং গেম হিসেবে ধরা হয় ডুয়াল ফাইটিং গেমগুলোকে। এ গেমগুলোতে বিপক্ষের খেলোয়াড়ের সাথে লড়াই করতে হয়। বিপক্ষের প্লেয়ার কমপিউটার নিয়ন্ত্রিত হতে পারে বা অন্য কোনো প্লেয়ার হতে পারে। এ ধরনের গেম বেশি খেলতে দেখা যায় গেমের দোকানগুলোতে, কারণ এই গেমগুলো আর্কেড গেম হিসেবেই বেশি জনপ্রিয়। এসব গেমের তালিকায় আমাদের দেশে বেশি খেলতে দেখা যায় কিং অব ফাইটার, স্ট্রিট ফাইটার, ডবল ড্রাগন, লাস্ট ব্লেড, সামুরাই শোডাউন, ফ্যাটাল ফুরি ইত্যাদি। এগুলো সবই ইম্যুলেটরের সাহায্যে কমপিউটারে চালানো যায়, কিন্তু কিছু গেম আছে যা শুধু কন্সোলেই বের হয়। যেমন- গত বছরের আলোচিত ৫টি ফাইটিং গেম হচ্ছে Soul Caliber IV, Super Street Fighter II Turbo HD Remix, Super Smash Bros. Brawl, Bleach : Dark Souls ও Mortal Kombat vs DC Universe। প্লে স্টেশন ৩ ও এক্সবক্স ৩৬০-এর জন্য বের হওয়া গেম Soul Caliber সিরিজের ৪র্থ গেমের সাথে তার আগের গেমের কিছুটা পরিবর্তন রয়েছে। আগের চরিত্রগুলোর পাশাপাশি স্টার ওয়ারস থেকে আনা হয়েছে কিছু নতুন চরিত্র এবং রয়েছে আরো কিছু বোনাস চরিত্র। গেমে সংযোজিত হয়েছে নতুন অনেক অস্ত্র ও যুদ্ধকৌশল। সোল ক্যালিবার গেমের গ্রাফিক্স খুবই উন্নতমানের, যা দেখলে মনেই হবে না যে তা কোনো গেমের গ্রাফিক্স। মনে হবে যেনো টিভিতে বসে কোনো ফাইটিং ম্যাচ উপভোগ করছেন। এই গেমটিও পিসিতে রিলিজ দেয়া হয়নি। এখানে Street Fighter ও Bleach এই গেম দুটি টুডি, বাকি ৩টি থ্রিডি ডুয়াল ফাইটিং গেম। গেমারদের সাথে স্ট্রিট ফাইটারের মতো জনপ্রিয় গেমের নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। এই গেমে পুরনো সব চরিত্রই রাখা হয়েছে, কিন্তু এবারের গেমের গ্রাফিক্সে খুবই উঁচুমানের রেজ্যুলেশন ব্যবহার করা হয়েছে। তাই গেমের পরিবেশ ও প্রতিটি চরিত্র দেখতে হয়েছে আরো প্রাণবন্ত ও সজীব। এতে রিয়ু, কেন, সাগাত, গোয়েল, চুন লি, বাইসন, হোন্ডা, জাঙ্গিফসহ টারবো ২ সিরিজের সব চরিত্রই রাখা হয়েছে। প্রতিটি চরিত্রের পাওয়ারে দেয়া হয়েছে আকর্ষণীয় দৃশ্য। জাপানের বিখ্যাত কার্টুন সিরিজ ব্লিচের আদলে নিনটেন্ডো গেমিং কন্সোলের জন্য বানানো Bleach : Dark Souls গেমটি দারুণ উত্তেজনাকর ও শ্বাসরুদ্ধকর। মরটাল কমব্যাটের বারাকা, জাক্স, কানো, সোনিয়া, কিতানা, লিউ কাং, রাইডেন, শ্যাং সুং, সাও কান, স্কর্পিয়ন, সাব-জিরোর বিপরীতে ডিসি ইউনিভার্সের ব্যাটম্যান, সুপারম্যান, ক্যাপ্টেন মারভেল, ক্যাট ওম্যান, ওয়ান্ডার ওম্যান, ডার্কসিড, ডেথস্ট্রোক, ফ্ল্যাশ, গ্রিন ল্যান্ট্রিন, জোকার ও লেক্স লুথরকে নিয়ে খেলতে হবে। এই গেম শুধু এক্সবক্স ৩৬০ ও প্লে স্টেশন ৩-এর জন্য বের করা হয়েছে। Super Smash Bros. Brawl গেমটি বানানো হয়েছে নিনটেন্ডো গেমের নানা চরিত্র নিয়ে। এতে রয়েছে মারিও ব্রাদারস গেমের ব্রাউজার, ক্যাপ্টেন ফ্যালকন, ডাঙ্কি কং, কিরবি, মারিও, জেল্ডা, ইয়োশি, পকিমোন, সনিক, ফক্সসহ আরো অনেক চরিত্র।
...............................................................................
মিউজিক্যাল গেম



মিউজিক্যাল গেমগুলোর প্রচলন আমাদের দেশে তেমন একটা নেই বললেই চলে। বর্তমানে বাজারে দু-একটি মিউজিক্যাল গেম দেখা যায় এবং এগুলো গেমারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ভালোই সফলতা লাভ করেছে। মিউজিক্যাল গেমগুলোর সাথে দরকার পড়ে কিছু মিউজিক ইনস্ট্রুমেন্টের, যেমন- মাইক্রোফোন, গিটার ইত্যাদি। যারা সঙ্গীতপ্রেমী এবং বাদ্যযন্ত্র শিখতে আগ্রহী তাদের জন্য এসব গেম বেশ উপকারী। শুধু আনন্দের জন্য নয়, খেলার মধ্য দিয়ে সঙ্গীত শিক্ষার ব্যাপারটিই এসব গেম বানানোর মূল উদ্দেশ্য। সেরা ৫টি মিউজিক্যাল গেমে মাঝে রয়েছে Rock Band 2, Audio Surf, Guitar Hero : World Tour, Patapon ও Sing Star। বাজারে রক ব্যান্ড ২ ও গিটার হিরো গেম দুটি পাওয়া যায়। কিন্তু বাকি গেমগুলো আমাদের দেশে পাওয়া কিছুটা দুষ্কর। এগুলো খেলতে আগ্রহী হলে বাইরে থেকে গেমের ডিস্ক আনিয়ে নিতে হবে বা ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে নিতে হবে। মিউজিক্যাল গেম রেসে যে গেমটি সবার চেয়ে এগিয়ে তার নাম Rock Band 2। এই গেম চারজনে একসাথে খেলা যায়। এই গেমে গেমারকে চার সদস্যের ব্যান্ড দল গঠন করতে হবে। লিড গিটারের দায়িত্বে থাকবে প্রথমজন, দ্বিতীয়জন বেস গিটারে, তৃতীয়জন ড্রামে ও শেষজন থাকবে ভোকাল হিসেবে। মিউজিক ইনস্ট্রুমেন্টগুলো কন্ট্রোলার দিয়ে বাজানো যাবে, কিন্তু ভোকাল হিসেবে নিজেকে গাইতে হবে মাইক্রোফোনের সাহায্যে। তো বুঝতেই পারছেন গলা সেঁধে তারপর এই গেম খেলতে বসতে হবে। এই গেমটি এখনো পিসির জন্য রিলিজ দেয়া হয়নি, তাই যাদের গেমিং কন্সোল রয়েছে তারাই এর মজা উপভোগ করতে পারবেন। Guitar Hero : World Tour নামের গেমটি এখনো পিসির জন্য বের হয়নি তবে খুব শিগগিরই তা বের হবে। এই গেমটি বানানো হয়েছে Rock Band 2 গেমটির সাথে পাল্লা দেয়ার জন্য, কারণ এতে নতুন যুক্ত করা হয়েছে ড্রাম ও ভোকাল অপশন- যা আগের গিটার হিরো সিরিজের কোনো গেমে ছিল না। Audio Surf গেমের ডিস্কের সাথে একজোড়া ইউএসবি মাইক্রোফোন দেয়া হয়। বাকি গেম দুটো কন্সোলে খেলার জন্য। সুর ও তাল মেলানোটাই এই গেমের মূল উপপাদ্য। যারা নতুন গান শেখা শুরু করেছেন অথবা গিটার বা ড্রাম শিখছেন, তারা এই গেমগুলো খেলে দারুণ উপকৃত হবেন তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
..............................................................................

পাজল গেম



পাজল গেমগুলোর সুবিধা হচ্ছে এই গেমগুলো খেলার জন্য উঁচুমানের পিসির প্রয়োজন পড়ে না। এসব গেমের জন্য সিস্টেম রিকোয়ারমেন্ট খুবই কমমানের হয় এবং হার্ডডিস্কে খুব কম জায়গা দখল করে। পাজল গেমগুলো বুদ্ধিমত্তা বিকাশে সহায়তা করে এবং ক্লান্তি দূর করে। তাই ছোটদের এই ধরনের গেমগুলো বেশি খেলতে দেয়া উচিত এবং বড়রাও কাজের চাপে অবশ্রান্ত হয়ে গেলে ফাঁকে ফাঁকে গেমগুলো খেলে চাঙ্গা হয়ে নিতে পারেন। Air Traffic Chaos, Order Up!, Trauma Center : Under the Knife 2, World of Goo ও Professor Cryton & the Curious Village গেমগুলো গত বছরের সেরা পাজল গেমগুলোর তালিকায় রয়েছে। এয়ার ট্র্যাফিক গেমটি নিনটেন্ডো ডিএস-এ খেলার উপযোগী জনপ্রিয় একটি গেম। এই গেমে গেমারকে এয়ারপোর্টের কন্ট্রোল টাওয়ার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অর্ডার আপ গেমটি শুধু উইই কন্সোলের জন্য বানানো হয়েছে। এটি একটি কুকিং কম্পিটিশন গেম। নিজের রেস্টুরেন্টকে ফাইভ স্টার পাওয়ানোর জন্য নানা রকম সুস্বাদু খাবারের আয়োজন করতে হবে গেমারকে। ব্যতিক্রমধর্মী এই গেমটিতে আনা হয়েছে নতুন এক গেমিং স্টাইল। ওয়ার্ল্ড অব গো গেমে গো হিসেবে দেখানো হয়েছে কালো রঙের নমনীয় গোলাকার কিছু প্রাণীকে, এগুলো দেখতে অনেকটা আলকাতরার তৈরি ছোট গোলকের মতো। গেমে নির্দিষ্টসংখ্যক গো বলকে নানারকম বাধা অতিক্রম করে সুরক্ষিতভাবে বেরুনোর পথ পর্যন্ত আনতে হবে। যেমন- পথের মাঝখানে খাদ থাকলে তার ওপর দিয়ে গো বলগুলোকে সাজিয়ে সেতু বানিয়ে পার হতে হবে। গেমটিতে পদার্থবিজ্ঞানের সাথে দারুণ এক যোগসাজশ তৈরি করা হয়েছে যা না দেখলে বিশ্বাস হবে না। এই গেমটি উইন্ডোজ, ম্যাক ও লিনআক্সের জন্য অবমুক্ত করা হয়েছে। প্রথম গেমটির মতো Trauma Center ও Professor Cryton & the Curious Village গেম দুটিও বের করা হয়েছে নিনটেন্ডো ডিএসের জন্য। বেশিরভাগ পাজল গেম হাতে বহনযোগ্য গেমিং কন্সোলের জন্য বানানো হয়, তাই পিসি গেমারদের কিছুটা আফসোস করতেই হবে। তাই বলে পিসির জন্য যে ভালো পাজল গেম নেই তা নয়। Tetris, Bejeweled, Magical Drops, Puzzle Bubble, Alchemy, Collapse, Zuma, Luxor, Sudoku Gridmaster, Minesweeper, Bomberman, Sokoban, Rush Hour, Bridge Buider, Crazy Machines, Pipe Mania, Snake ইত্যাদি গেম খেলা শুরু করলে সময় কিভাবে পার হয়ে যাবে তা বুঝেতেই পারবেন না।
...............................................................................

ড্রাইভিং গেম



ড্রাইভিং বা রেসিং গেম হিসেবে এনএফএস বা নিড ফর স্পিড সিরিজের গেম কেউ খেলেননি বা দেখেননি এমন লোক খুঁজে পেলে তা খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার হবে। যারা নতুন কমপিউটার কিনেন তাদের পিসিতে অন্তত এনএফএস ২ অবশ্যই খুঁজে পাওয়া যাবে। শুধু নতুন পিসিতেই নয়, এই গেম বেশিরভাগ পিসিতে পাওয়া যাবে। অনেকের রেসিং গেমের হাতেখড়ি হয়েছে এই সিরিজের মাধ্যমে। কিন্তু এই সিরিজের নতুন সংযোজন আন্ডারকভার গেমারদের চাহিদা মেটাতে পারেনি বলে গেম রেটিং স্কোরে অনেক পিছিয়ে গেছে। অবাক করার বিষয় যে, এই সিরিজের গেমগুলো গত কয়েক বছর ধরে সেরা তালিকায় স্থান করে নিতে পারেনি। গত বছরের সেরা রেসিং গেমগুলোর মাঝেও এনএফএস সিরিজের গেমের দেখা মেলেনি। এবারের সেরা তালিকায় যেগুলোর নাম রয়েছে সেগুলো হচ্ছে Baja : Edge of Control, Race Driver : Grid, MotorStrom : Pacific Rift, Pure ও Burnout Paradise। Baja প্লে স্টেশন ও এক্সবক্স ৩৬০-এর জন্য বানানো হয়েছে এবং MotorStrom গেমটি শুধু প্লে স্টেশনের জন্য রিলিজ দেয়া হয়েছে। বাকি ৩টি গেম পিসি ও কন্সোল উভয় প্লাটফর্মেই অবমুক্ত করা হয়েছে। Baja, Pure ও MotorStrom গেমগুলো মূলত অফরোড ড্রাইভিং গেম অর্থাৎ গেমগুলো রেসিং ট্র্যাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কাঁচা ও পাকা রাস্তা সবখানেই দক্ষতার সাথে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। Pure গেমটির বৈশিষ্ট্য এই, এতে রয়েছে চার চাকার মোটরবাইক, এগুলো দিয়ে রেস খেলার পাশাপাশি শূন্যে লাফ দেয়া অবস্থায় নানারকম কসরত দেখিয়ে পয়েন্ট অর্জন করতে হবে। MotorStrom গেমে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হবে সমুদ্র সৈকতের ধার ধরে ছুটে চলা। পথে থাকবে নানারকমের বাধা, যেমন- চোরাবালি, কর্দমাক্ত পথ, ছোট নদী, লাভা পুল ইত্যাদি। এতে রয়েছে বাইক, বাগিস, র্যা লি কার, রেসিং ট্রাক, মাড প্লাগার, বিগ রিগ ও মনস্টার ট্রাক নিয়ে খেলার সুবিধা। Grid ও Burnout Paradise গেম দুটি ট্র্যাক রেসিংভিত্তিক। গ্রিড গেমটি বিপরীত পক্ষের রেসারের কঠিন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের জন্য বেশ নাম করেছে। এই গেমে অন্যান্য রেসিং গেমের মতো খুব সহজেই জেতার আশা করাটা হবে বোকামি, কারণ একটু সুযোগ পেলেই প্রতিপক্ষ আপনাকে অনেক পেছনে ফেলে দেবে। পেছন থেকে এগিয়ে সামনের রেসারকে ছাড়িয়ে যাওয়া কিছুটা কষ্টের হবে। ইলেক্ট্রনিক আর্টসের ব্যানারে বের হওয়া বার্নআউট প্যারাডাইস গেমটি খুবই ভালোমানের রেসিং গেম হিসেবে নাম করতে পেরেছে, যা একই কোম্পানির বের করা নিড ফর স্পিড সিরিজের গেমগুলো করতে পারেনি। এই প্রথম বার্নআউট সিরিজের গেম পিসির জন্য রিলিজ দেয়া হলো। নিড ফর স্পিড সিরিজের ব্যর্থতার জন্যই হয়ত EA Games-এর এই উদ্যোগ।
..............................................................................

স্ট্র্যাটেজি গেম



আগে স্ট্র্যাটেজি গেমের চাহিদাও যেমন বেশি ছিল তেমন গেমও বের হতো। কিন্তু ইদানীং তেমন ভালো মানের স্ট্র্যাটেজি গেমের দেখা মেলে না। কারণ কমান্ড অ্যান্ড কনকোয়ার সিরিজের জেনারেলস, টাইবেরিয়াম ওয়ারস, রেড অ্যালার্ট ইত্যাদি এবং স্টারক্রাফট, ওয়্যারক্রাফট, এইজ অব এম্পায়ার, এম্পায়ার আর্থ এই গেমগুলো আগে যেমন নাম করে গেছে, সেই তুলনায় নতুন সিক্যুয়ালগুলো তেমন একটা নাম করতে পারেনি। এখনকার গেমগুলোর মাঝে Civilization, Sins of Solar Empire, War hammer গেমগুলো গেমারদের মন ভুলিয়ে রেখেছে। রেড অ্যালার্ট সিরিজের ৩য় পর্বের জন্য সবাই রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষমাণ ছিল কিন্তু গেম রিলিজের পর দুর্বল গেমপ্লে গেমারদের করেছে হতাশ। দুর্বল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স গেমটির সাফল্যের অন্তরায় ছিল বলে সবার বিশ্বাস। তা না হলে সেরা স্ট্র্যাটেজি গেমের তালিকায় গেমটি অবশ্যই স্থান দখল করতে পারতো। কেইনস রেথ নামের গেমটি খুবই ভালোমানের হওয়া সত্ত্বেও শীর্ষ তালিকায় নাম লেখাতে সক্ষম হয়নি। শীর্ষ গেমগুলোর তালিকায় যে গেমগুলো রয়েছে সেগুলোর নাম হচ্ছে- Civilization IV : Colonization, Culdcept Saga, Civilization Revolution, Sins of Solar Empire ও Advance Wars : Days of Ruin। রিয়েল টাইম স্ট্র্যাটেজি গেম হিসেবে সিভিলাইজেশন সিরিজের গেমগুলোর বেশ সুনাম রয়েছে। এই গেমগুলো খুব দক্ষতার সাথে খেলতে হয়, কারণ একটু ভুলের জন্য অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। আর এই গেম খেলার জন্য ধৈর্য থাকা চাই, তা না হলে গেমটি খেলে আনন্দ পাবেন কম। সিভিলাইজেশন সিরিজের ৪র্থ পর্বের ৩য় এক্সপানশন প্যাক কোলোনাইজেশন গেমটি ১৯৯৪ সালে বানানো অরিজিনাল কোলোনাইজেশন গেমের রিমেক। নতুন এই গেমে ব্যবহার করা হয়েছে সিভিলাইজেশন ৪-এর গ্রাফিক্স ইঞ্জিন, তাই পুরনো গেমের গ্রাফিক্সের সাথে রয়েছে বিশাল এক তফাত, যা দেখে সবাই হতবাক হয়ে যাবেন। চারটি ইউরোপীয় দেশ স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস নিয়ে খেলতে হবে গেমটিতে। সিভিলাইজেশন ৪-এর অন্য দুটি এক্সপানশন প্যাক হচ্ছে ওয়ারলর্ডস ও বেয়ন্ড দ্য সোর্ড। Culdcept Saga গেমটি বানানো হয়েছে এক্সবক্স ৩৬০-এর জন্য। এটি মূলত বোর্ড গেম যাতে কালেলিটেবল কার্ড দিয়ে খেলতে হয় অনেকটা মনোপলি খেলার মতো। Sins of Solar Empire হচ্ছে মহাকাশ নিয়ে বানানো স্ট্র্যাটেজি গেম অর্থাৎ গেমটি হচ্ছে সায়েন্স ফিকশনধর্মী স্পেস ট্যাক্টিক্যাল গেম। এই গেমে নতুন ধরনের স্বাদ রয়েছে তাই যাদের কাছে ফ্যান্টাসি ও সামরিক যুদ্ধনির্ভর স্ট্র্যাটেজি গেমগুলো খেলে একঘেয়ে লাগছে, তারা একঘেয়েমি দূর করতে এই গেম খেলে দেখতে পারেন। Civilization Revolution হচ্ছে এই সিভিলাইজেশন সিরিজের সবচেয়ে নতুন সংযোজন। Advance Wars : Days of Ruin গেমটিও ভালো মানের একটি স্ট্র্যাটেজি গেম।
...............................................................................

রোল প্লেয়িং গেম



আরপিজি বা রোল প্লেয়িং গেমে খেলতে হয় কোনো একটি নির্দিষ্ট চরিত্রকে নিয়ে এবং সমাধান করতে হয় নানারকম ধাঁধার ও অনেক ধরনের কাজও করতে হয়। কিছু আরপিজি রয়েছে যেগুলো দেখতে অনেকটা স্ট্র্যাটেজি গেমের মতো অর্থাৎ গেমের ইন্টারফেস ও ম্যাপের সাথে স্ট্র্যাটেজিক গেমের মিল পাওয়া যায়, যেমন- ডিয়াব্লো, ব্লেড অ্যান্ড সোর্ড ইত্যাদি। আবার কিছু গেম রয়েছে যা থার্ড পারসনভিত্তিক এবং এতে অ্যাকশন ও অ্যাডভেঞ্চার গেমের মজাও পাওয়া যায়, যেমন- রাইজ অব দ্য আর্গোনটস, ফলআউট ইত্যাদি। গেমের পরিবেশের গ্রাফিক্স ও ক্যারেক্টার অ্যানিমেশনের দিক থেকে ফাইনাল ফ্যান্টাসি সিরিজের গেমগুলোর নাম সবার তুঙ্গে। কিন্তু আমাদের জন্য আফসোসের বিষয় এই যে, এই গেমগুলোর বেশির ভাগই হচ্ছে জাপানী ভাষার এবং এগুলো খুব কমই ইংরেজিতে অনূদিত হয়। ইংরেজিতে অনূদিত এই সিরিজের মুভি ও কার্টুনগুলোও পাওয়া বিরল। পিসির চেয়ে এই গেমগুলো কনসোলেই খেলতে পছন্দ করে গেমাররা। এই সিরিজের কয়েকটি গেম আমাদের দেশে পাওয়া যায় তবে তা খুঁজে পাওয়া কিছুটা কষ্টকর হবে। বিসিএস কমপিউটার সিটি, মেট্রো শপিং মল, রাইফেল স্কয়ার এইসব এলাকায় খুঁজে দেখতে পারেন, ভাগ্য ভালো হলে পেয়ে যেতে পারেন। আর যদি একান্তই না পেয়ে থাকেন তবে ইন্টারনেটের সহয়তায় তা ডাউনলোড করে নিতে হবে। আমাদের দেশে এই সিরিজের গেম তেমন একটা প্রচলিত না হলেও এটি খুবই জনপ্রিয় গেম সিরিজ, তাই এই সিরিজের নতুন গেম Crisis Core : Final Fantasy VII অর্জন করে নিয়েছে ২০০৮ সালের সেরা আরপিজি গেমের খেতাব। তারপরেই অবস্থান করছে Fable II নামের আরেকটি জনপ্রিয় গেম। এই গেমটি ফ্যান্টাসিনির্ভর তাই বলার অপেক্ষা রাখে না যে আপনাকে মোকাবেলা করতে হবে নানারকম ভয়ানক জীবজন্তু, দৈত্যদানব, পিশাচ, জাদুকর ইত্যাদির সাথে। গেমটি অনেকটা অ্যাকশন ধাঁচের তাই অন্যান্য রোল প্লেয়িংয়ের মতো একঘেয়ে লাগবে না। গেমটি ডেভেলপ করেছে ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট গেমসের মতো দারুণ গেমের নির্মাতা লায়নহেড স্টুডিও এবং পাবলিশ করেছে মাইক্রোসফট গেম স্টুডিও। এটি শুধু এক্সবক্স ৩৬০-এর জন্য রিলিজ দেয়া হয়েছে। পিসি ভার্সন রিলিজের জন্য কিছুটা দেরি হবে। তাই গেমারদের কিছুটা অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে। সেরাদের মাঝে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে The World’s End’s With You নামের গেমটি। বেথেসডা গেম স্টুডিওর বানানো ফলআউট ৩ গেমটির কাহিনী খুবই সুন্দর হয়েছে। এই গেম রয়েছে সেরাদের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে। এতে যুদ্ধের পরে মাটির উপরের দুনিয়ার নিউক্লিয়ার রি-অ্যাকশন থেকে বাঁচার জন্যে মানুষ আশ্রয় নেয় মাটির গভীরে ভল্ট নামের স্থানে। অনেক যুগ ধরে তারা সেখানে বসবাস করছে। সেখানে জন্ম হবে গেমের ক্যারেক্টারের এবং ধীরে ধীরে সে বড় হয়ে উঠবে এবং শেষে অভিযান করবে মাটির উপরের দুনিয়ার উদ্দেশ্যে। পঞ্চম অবস্থানের মালিক হচ্ছে জাপানের Shin Megami Tensei : Persona 4 নামের প্লে স্টেশন ২-এর জন্য নির্মিত কনসোল রোল প্লেয়িং গেমটি। এ্যাটলাস কোম্পানির তৈরি এই গেমে অনেকগুলো চরিত্র নিয়ে খেলার সুযোগ রয়েছে।
...............................................................................

স্পোর্টস গেম



স্পোর্টস গেমের কথা বলতে গেলে যে নামটি সবার আগে সামনে ভেসে উঠে তা হচ্ছে EA Sports। কারণ বাজারের বেশির ভাগ স্পোর্টস গেমের তালিকায় রয়েছে ইলেকট্রনিক আর্টসের গেমগুলো। ফুটবল, রাগবি, হকি, বাস্কেটবল, রেসিং, রাইডিং প্রায় সবধরনের গেম বানাতে এই প্রতিষ্ঠানের জুড়ি নেই। একের পর এক দারুণ লোভনীয় সব স্পোর্টস গেম গেমারদের উপহার দিয়ে যাচ্ছে ইএ স্পোর্টস। প্রতিবারের মতো এবারের সেরা গেমগুলোর তালিকায় যে এই কোম্পানির গেমগুলো বেশি স্থান দখল করে থাকবে তা চোখ বন্ধ করে বলা যায় আর হয়েছেও তাই। ২০০৮ সালের সেরা স্পোর্টস গেমের মধ্যে সেরা পাঁচের চারটি গেমই ইএ স্পোর্টসের দখলে। সেরাদের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে আইস হকি NHL 09। এই গেমের দুর্দান্ত গেমপ্লে সবার মন জয় করেছে বলেই গেমটি সেরাদের তালিকায় নিজের স্থান শক্তভাবে ধরে নিতে পেরেছে। 1UP.com, Electronic Gaming Monthly, Game Informer, Gamespot, GameZone, IGN, Official PlayStation Magazine, Offial Xbox Magazine, TeamXbox, X-play সবগুলোর তরফ থেকে ভালো মানের গেম রেটিং পেয়ে গেমটি সেরা স্পোর্টস গেম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ফিফা টুর্নামেন্ট যখন শুরু হয় টিভির সামনে থেকে কাউকে সরানোটা তখন খুব মুশকিলের কাজ। রাস্তার টিভির দোকানের পাশে বা চায়ের স্টলে জমে যায় বিশাল ভিড়। আর শুধু দেখা বাদ দিয়ে নিজের পছন্দের খেলোয়াড় নিয়ে যখন পিসির সামনে বসে গেমের মজা উপভোগ করা হয় তখন তার কথা আলাদা। নতুন ফিফা সকার ০৯-এ রয়েছে ৫০০টি টিম ও ৩০টি লীগ। আর ক্যারেক্টার গ্রাফিক্স করার সময় তা যেনো হুবহু আসল খেলোয়াড়ের আদলে হয় তার দিকে এইবার বেশ নজর দেয়া হয়েছে। এটি রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে আমেরিকান ফুটবল বা রাগবি খেলা Madden NFL 09। প্লে স্টেশনের জন্য বানানো সনি স্টুডিওর MLB 08 নামের বেসবলভিত্তিক গেমটি রয়েছে চতুর্থ স্থানে। গলফ খেলার উপরে বানানো Tiger Woods PGA Tour 09 গেমটি রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে।

...............................................................................

শূটিং গেম



ফাস্ট পারসন হোক আর র্থাড পারসনই হোক শ্যূটিং গেমের মজাই আলাদা। ভিন্ন রকমের অস্ত্র নিয়ে নানারকম কৌশলে শত্রুকে ঘায়েল করার উত্তেজনা অসাধারণ। শূটিং গেমগুলোর কাহিনী প্রায় একই ধরণের হয়ে থাকে তাই কিছুটা একঘেয়ে লাগে। যুদ্ধভিত্তিক ও সায়েন্স ফিকশনের উপরে বানানো গেমে কিছুটা তফাত থাকলেও খেলার ধাচ প্রায় একই রকমের। গেমের একঘেয়েমিতা দূর করার লক্ষ্যে গেমে কিছুটা নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা হয়েছে গত বছরের গেমগুলোতে। হরর, সায়েন্স ফিকশন, মার্সেনারি, বিশ্বযুদ্ধভিত্তিক নানা ক্যাটাগরির গেমের আবির্ভাব হয়েছে গত বছরে। কল অব ডিউটি সিরিজের গেমগুলো বিশ্বযুদ্ধভিত্তিক হয়ে থাকে। কিন্তু এই সিরিজের চতুর্থ গেমটি কিছুটা ভিন্নধর্মী হওয়াতে তা বেশ নাম করেছিলো ২০০৭ সালে। কিন্তু ২০০৮ সালে বের হওয়া Call of Duty 5 গেমটি তার আগের ধারায় ফিরে যাওয়ায় তা শীর্ষের তালিকায় স্থান দখল করতে পারেনি। তাই বলে গেমটির জনপ্রিয়তার কোনো কমতি হয়নি। গত বছরে সেরাদের সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে যে গেমটি, সেটি হচ্ছে হরর গেম লেফট ফর ডেড। ভালব কর্পোরেশনের বানানো ফার্স্ট পারসন সারভাইভাল হরর গেমটিতে রয়েছে চারটি ভিন্ন চরিত্র। ২০০৭ সালে প্রথম সারিতে থাকা গেম ক্রাইসিসের ২য় পর্ব ওয়ারহেড গেমারদের হতাশ করেনি, তাই এর অবস্থান হয়েছে দুইয়ের ঘরে। এই গেমটি প্রথম বা মূল গেমের কাহিনীর ধারাবাহিকতায় বানানো হয়েছে। দারুণ কাহিনী, উচ্চমানের গ্রাফিক্স ও অসাধারণ গেমপ্লের জন্য গেমটি বেশ আলোচিত হয়েছে। ফারক্রাই গেমের নাম শোনেননি এমন গেমার তো দূরের কথা, গেম কম খেলেন এমন লোকও খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ফারক্রাই গেমটি বের হবার পরে দারুণ সাড়া পরে গিয়েছিলো। বিক্রি হয়েছিলো এর রেকর্ড সংখ্যক কপি। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি কারণ ফারক্রাই ২ গেমটিও বের হবার পর সবাই তা লুফে নিয়েছে। আগের কাহিনীর ধারাবাহিকতায় না গিয়ে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে বানানো এই গেমের পটভূমি সাজানো হয়েছে আফ্রিকাকে কেন্দ্র করে। এই গেমে ক্যারেক্টার দেয়া হয়েছে অনেকগুলো এবং গেমারকে খেলতে হবে একজন মার্সেনারির ভূমিকায়। অর্থের বিনিময়ে জীবন বাজি রেখে পূরণ করতে হবে নানা মিশন। চারের সারিতে রয়েছে গিয়ার অব ওয়ার ২ নামের গেমটি। প্রথম গেমটি দারুণ সাফল্যের পর এই গেমটিও গেমের দুনিয়া কাঁপিয়ে দিয়েছে। শেষ গেমটি হচ্ছে প্লে স্টেশন ৩-এর জন্য বানানো সনির রেজিস্টেন্স ২ নামের গেম। ফার্স্ট পারসন সায়েন্স ফিকশনধর্মী এই গেমটিও ভালো নাম করেছে।

গেমের ক্যাটাগরি অনুসারে ভাগ করে গেম আলোচনা করা হয়েছে গেমারদের সুবিধার্থে। কারণ একেক গেমারের একেক গেম পছন্দ। কেউ কনসোলে গেম খেলে থাকেন আবার কারো পছন্দ পিসি গেম। তাই সবার কথা বিবেচনা করে সব ধরনের গেম নিয়ে ও সব রকম প্লাটফর্মের গেমের আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি লেখাটি সবার ভালো লাগবে। গেমগুলো সম্পর্কে কোনো কিছু জানার থাকলে মেইল করুন নিচের ঠিকানায়।

..............................................................................

গেমিং পোর্টাল টুফানমেইল ডট কম

ইন্টারনেটে এখন ওয়েবসাইট ব্রাউজিং, ই-মেইল আদান-প্রদান বা চ্যাটিং ছাড়াও গেম বেশ জনপ্রিয়। সম্প্রতি গেমারদের জন্য প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে বাংলাদেশী গেমিং পোর্টাল টুফানমেইল ডট কম (www.2funmail.com)। অবশ্য শুধু গেমিং পোর্টাল বললে ভুল হবে; টুফানমেইল ডট কম-এ রয়েছে আরো অনেক কিছুই।
কী আছে টুফানমেইল ডট কমে

এই গেমিং পোর্টালটিতে মূলত ৬টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে গেমগুলোকে। এগুলো হলো অ্যাকশন, আর্কেড, স্পোর্টস, স্ট্র্যাটেজি, রেসিং এবং পাজল। এ ৬টি ক্যাটাগরিতে রয়েছে প্রায় ১২০টির মতো গেম। এখানে গেম খেলতে হলে প্রয়োজন হবে শুধু নাম রেজিস্ট্রেশন। আর সেটাও কিন্তু একেবারেই ফ্রি।

সদস্য হোন ফোরামের

টুফানমেইল ডট কম-এ রয়েছে গেমারস ফোরাম। এর মাধ্যমে সবার সাথে আলোচনা করা যাবে গেম নিয়ে। কোনটা ভালো লাগছে, কোনটা খারাপ লাগছে লিখতে পারবেন ফোরামে। হয়ত আপনার ভালো লেগেছে এমন একটি গেম অন্য কেউ আপনার কাছ থেকে জানতে পেরে খেলতে শুরু করল আর সেও পছন্দ করে ফেলল। আবার যেটা ভালো লাগছে না সেটাও জানাতে পারেন। পরামর্শ দিতে পারেন গেমসংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যাপারে।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : shmt_21@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
২০০৯ - ফেব্রুয়ারী সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস