Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > ৩য় মত
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: কজ
মোট লেখা:১০৪১
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - মার্চ
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
মতামত
তথ্যসূত্র:
৩য় মত
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
৩য় মত




ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী সমীপে

‘আমাদের ফোন’ এ স্লোগান নিয়ে যে সেলফোন কোম্পানিটি আমাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে তা হলো টেলিটক লিমিটেড। দেশের একমাত্র শতভাগ দেশীয় ও সরকারি মালিকানাধীন সেলফোন কোম্পানি এটি। দেশব্যাপী এর নেটওয়ার্ক বিস্তৃত না থাকায় (এমনকি যেসব এলাকাতে এর নেটওয়ার্ক আছে সেখানে ও বড় দালানগুলোতে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না) বিভিন্ন সময়ে অসুবিধা সত্ত্বেও মনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশপ্রেমের এই টেলিটক ফোন প্রথম থেকেই ব্যবহার করে আসছি একক আইডি হিসেবে। এমনকি অন্যান্য সেলফোন কোম্পানি বিভিন্ন ইউটিলিটি সার্ভিসসহ ভেল্যুএডেড যেসব সার্ভিস দিয়ে আসছে, এখনো পর্যাপ্ত টেলিটক লিমিটেড তার কাছে পৌঁছাতে পেরেছে বলে মনে হয় না। আমার জানা মতে, সার্বিক দিক বিবেচনা করে অনেকেই টেলিটক লিমিটেডের সিম ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন। বেসরকারি সেলফোন কোম্পানিগুলোর কলরেটসহ সার্বিক সেবার মান বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিযোগী হিসেবে সর্বনিম্ন কলরেট ও দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নতমানের সেবার জন্যই এই টেলিটকের যাত্রা শুরু হয়েছিল বলে আমরা জানি। কিন্তু টেলিটক লিমিটেড আজ প্রশ্নবিদ্ধ। অনেকের মুখে প্রায়শ শোনা যায় টেলিটকই আজ বেসরকারি সেলফোন কোম্পানিগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। কেন? তাহলে কি ধরে নেব, বেসরকারি সেলফোন কোম্পানিগুলো আমাদের দেশে ভর্তুকির মাধ্যমে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। যদি তাই হয়, তবে কেনো বলা হচ্ছে আমাদের দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বেসরকারি সেলফোন কোম্পানিগুলো। বেসরকারি সেলফোন কোম্পানিগুলো যদি দেশব্যাপী দ্রুতগতির ইন্টারনেটসহ বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এবং উন্নতমানের সেবাসহ কম কলরেটে কথা বলার সুযোগ দিতে পারে টেলিটক লিমিটেড কেনো পারবে না? তাই আমিসহ অন্যান্য টেলিটক ব্যবহারকারীর দেশপ্রেমের একটি অংশ ধরে রাখার জন্য মন্ত্রী মহোদয় বিষয়টি ভেবে দেখবেন কি? যাতে করে সকলেই সমস্বরে বলতে পারি ‘কথা হোক টেলিটকে, দেশের টাকা থাকুক দেশে’।

মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন মিঠু
ডাকবাংলা রোড, শিবপুর, নরসিংদী
................................................................................................................

আইসিটির উন্নয়ন প্রয়োজন

গত এক দশকের আইসিটির স্রোতধারার নিরীক্ষণে বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে একজন প্র্যাকটিশিয়ান হিসেবে আমার সন্দেহ এদেশের কমপিউটারায়নের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আশঙ্কিত। আসা যাক যুক্তি এবং ব্যাখ্যায়।

আমার এ আশঙ্কার একটি বড় কারণ হচ্ছে গণসচেতনতার অভাব ও কমিউনিকেশন গ্যাপ। এছাড়াও নীতিনির্ধারকদের আরোপিত দিকনির্দেশনার সাথে জনগণের বাস্তবিক সম্পৃক্ততার অভাব, সরকারি উদ্যোগগুলোর ট্রায়াল অ্যান্ড ফেইলুর মটো এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের ট্রায়াল অ্যান্ড লার্ন দৃষ্টিভঙ্গি, নামসর্বস্ব সার্টিফিকেশন কোর্সের ভূঁইফোড় ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোর জবাবদিহিতার অভাব, কার্যকর ক্যারিয়ার কাউন্সিলিংয়ের অভাব, যোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাধনসমূহের স্থানীয়করণের অসুবিধা, সর্বোপরি সুষ্ঠু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাম্যাবস্থার অপ্রতুলতা আইসিটি চর্চার প্রধানতম কয়েকটি অন্তরায়। এর কোনো একটিকে ছেড়ে অন্যটিকে দেখলে সমস্ত ব্যাপারটি গোলমেলেই রয়ে যাবে।

কমপিউটার সার্থক ব্যবহার তখনই নিশ্চিত হবে, যখন সাধারণ মানুষ একে দৈনন্দিন জীবনের কার্যকর অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। আর এজন্য প্রয়োজন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে গণসচেতনতা গড়ে তোলা এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ প্রণীত পাঠ্যসূচি অনুসরণকারী সার্টিফিকেশন কোর্সের ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোর আন্তরিক উদ্যোগ।

নিতান্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, দরিদ্র পিতামাতার শেষ সম্বলের বিনিময়ে অর্জিত নলেজ বেইজড সার্টিফিকেশন নিয়ে যারা বের হচ্ছেন, তাদের আশানুরূপ চাকরি কে দেবে? এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর নেই। প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাজারে দাঁড়াতে যেখানে খুব ভালো গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি এবং ফিল্ড এক্সপেরিয়েন্সই যথেষ্ট সেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে এ প্রজন্মের; কেননা আশা ও বাস্তবতার বিস্তার পার্থক্য কোয়ালিফাইড প্রফেশনালিজমের সংজ্ঞাটিই পাল্টে দিয়েছে। মোড়ে মোড়ে রঙ চকচকে ব্যানারে গড়ে ওঠা অপর্যাপ্ত জ্ঞানধারী কমপিউটার ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোর কাছে কি আদৌ কোয়ালিটি মানসম্পন্ন শিক্ষা আশা করা যায়?

কালক্ষেপণ না করে বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতকে নজরে রেখে আমাদের স্থানীয় সাধারণ জনগণের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। ধরা যাক মোড়ে যিনি মিষ্টি ব্যবসায় জড়িত কিংবা বড় বাজারে যিনি রড-সিমেন্টের ব্যবসায় করেন তার ব্যবসায়ের পরিধি কিন্তু তাদের জন্য অনেক বেশি অথচ তারা কমপিউটার ব্যবহার করছেন না বা করতে পারছেন না। এখানে কি আপনি গাইডলাইনের অপর্যাপ্ততাকে দায়ী করবেন না? এখন পর্যন্তও আমাদের স্থানীয় কমপিউটার ব্যবহারকারীদের (৭৫-৮৫%) কাছে কমপিউটার মূলত বিনোদননির্ভর, লোক দেখানো কিংবা নিছকই কৌতূহল মেটানোর অভিজাত যন্ত্রবিশেষ। এর কারণ হিসেবে কি কার্যকর ক্যারিয়ার কাউন্সিলিংয়ের অভাব, অপ্রতুল গণসচেতনতা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে দায়ী করতে পারি না?

কমপিউটার প্রযুক্তিকে মনেপ্রাণে আপন করে নিত্য কর্মসূচির সাথে ব্যবহার করতে পারলেই কমপিউটারের সার্থক ব্যবহার সম্ভব। তাই সত্যি বলতে কি আইসিটি ইন্ডাস্ট্রিকে নীতিনির্ধারণের ব্যাপারে আরো বাস্তববাদী হতে হবে।

কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছতে হলে একদিকে যেমন এই প্রযুক্তিটি জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার ভেতর থাকতে হবে তেমনি অন্যদিকে বাংলাদেশে যথেষ্ট কমপিউটারায়ন হতে হবে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজার সীমাবদ্ধ থাকলেও অন্তত প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়া যায়। এর ফলে সাধারণ মানুষ এই প্রযুক্তিটিকে সানন্দে স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে ব্যবহারে উৎসাহিত হবে।

প্রীতম চক্রবর্তী
মধ্য কান্দাপাড়া, নরসিংদী
................................................................................................................

কমপিউটার জগৎ-কে বলছি

কমপিউটার জগৎ পত্রিকার মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, আমাদের দেশে কয়েক বছর যাবত নাচ-গান-অভিনয় ইত্যাদির প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে। আর এই অনুষ্ঠানগুলো টিভি মাধ্যমগুলো বেশ জাঁকজমকের সাথে প্রচার করছে। কিন্তু সেই তুলনায় বিজ্ঞান বিষয়ের তেমন কোনো অনুষ্ঠান প্রচার করা হয় না। এ কারণে আমাদের নতুন প্রজন্ম এই বিজ্ঞান বিষয় থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে এমন পিছুটান কি আমাদের কাম্য। সরকারের কাছে আমার অনুরোধ, সরকার যেন বিজ্ঞান বিষয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে এবং আমরা যেন তা ঘরে বসে দেখতে-বুঝতে পারি। কিছু না করলেও বছরে একবার সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে এর আয়োজন করা উচিত। অবশ্যই আয়োজনের চেয়ে এর প্রচার থাকতে হবে বেশি। এই আয়োজন বিভিন্ন বয়সের, বিভিন্ন শ্রেণীর হতে পারে। মোট কথা বিজ্ঞানকে এগিয়ে নিতে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতেই হবে। নতুবা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন অন্যদিকে ভেসে যাবে।

ইরম্মদ
লালপুর, নাটোর
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
২০০৯ - মার্চ সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস