Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > অপারেটিং সিস্টেমে বাংলার হালচাল
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সৈয়দ হাসান মাহমুদ
মোট লেখা:১৪৪
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - মার্চ
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
কমপিউটারে  বাংলা ব্যবহার
তথ্যসূত্র:
ফলোআপ
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
অপারেটিং সিস্টেমে বাংলার হালচাল

বাংলা কমপিউটিংয়ের প্রসার এখন বেশ ভালো গতিতেই এগোচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বাঙালি হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে অচিরেই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবো এবং আমাদের ভাষার মাহাত্ম্য তাদের সামনে তুলে ধরতে পারবো। কমপিউটারের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে অপারেটিং সিস্টেম। আমরা সাধারণত তিন ধরনের অপারেটিং সিস্টেমের সাথে পরিচিত। এগুলো হচ্ছে উইন্ডোজ, ম্যাকিনটোশ ও লিনআক্স। এছাড়াও আরো কিছু অপারেটিং সিস্টেমে রয়েছে কিন্তু সেগুলোর ব্যবহার খুবই সীমিত। এখন দেখা যাক অপারেটিং সিস্টেমগুলোতে বাংলা ভাষা কি অবস্থানে রয়েছে।

উইন্ডোজে বাংলার সীমাবদ্ধতা



উইন্ডোজে বাংলা ভাষার সূচনা হয় উইন্ডোজ ২০০০ বের হবার পর থেকে। কিন্তু তাতে ভালো করে বাংলা ওয়েবসাইটগুলো বা ওয়েবে বাংলা লেখাগুলো পড়া যেত না। উইন্ডোজ এক্সপি সার্ভিস প্যাক ২ বা তার পরবর্তী সব সংস্করণে ওয়েবে ভালোভাবে বাংলা পড়া যায়। এজন্য উইন্ডোজের কমপ্লেক্স স্ক্রিপ্ট সাপোর্টটি সক্রিয় করে দিতে হবে। উইন্ডোজে ডিফল্ট ইউনিকোড ফন্ট হিসেবে দেয়া আছে Vrinda। এটি দেখতে তেমন একটা আকর্ষণীয় নয় এবং ইংরেজি ফন্টের তুলনায় এর আকার অনেক ছোট। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের পুরনো ভার্সনে এই ফন্ট দিয়ে ওয়েবসাইটগুলো বাংলা লেখা দেখায়, তাই সবার কাছে তা ভালো নাও লাগতে পারে। ভালোভাবে বাংলা দেখার জন্য ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের ৭ বা ৮ ভার্সনটি ব্যবহার করতে হয় বা অন্য ব্রাউজার যেমন মজিলা ফায়ারফক্স, অপেরা, সাফারি, গুগল ক্রোম ইত্যাদি ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। ওয়েবসাইটে বাংলা লিখতে চাইলে ফনেটিক টাইপিং পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন। এজন্য অভ্র, শাব্দিক বা একুশের ইউনিজয় সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। কিছু কিছু ওয়েব সাইটে বাংলা লেখার জন্য আলাদা করে কোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হয় না। উইন্ডোজে রয়েছে বাংলা ভাষার জন্য আলাদা ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাক। এটি ডাউনলোড করে নিলে বাংলা লিখতে ও পড়তে সমস্যা কম হবে। ভিসতায় দেয়া হয়েছে দুই ধরনের বাংলা- একটি বাংলাদেশের জন্য আরেকটি ভারতের বাংলাভাষীদের জন্য। ভিসতার জন্য বের হয়েছে বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ ইন্টারফেস প্যাক (LIP)। নতুন বের হওয়া এই LIP ফাইলটির আকার ২.৬ মেগাবাইট যা শুধু ভিসতা ৩২বিট সমর্থন করে। বাংলা ভাষা অপারেটিং সিস্টেমে দেয়া হয়েছে ল্যাঙ্গুয়েজ ইন্টারফেস প্যাক হিসেবে, তাই পুরো কমপিউটিং বাংলায় পরিচালনা করা যায় না। মাইক্রোসফট বাংলাদেশ নামে মাইক্রোসফটের অধীনে আমাদের দেশে গড়ে উঠেছে একটি প্রতিষ্ঠান। উইন্ডোজে বাংলা ভাষার উন্নতির জন্য এই সংস্থা কাজ করছে। যেহেতু উইন্ডোজ ওপেনসোর্সভিত্তিক নয়, তাই আমাদের নির্ভর করতে হবে মাইক্রোসফটের ওপরে। উইন্ডোজে বাংলা ভাষার বিকাশের জন্য আমাদের দেশের অনেক মেধাবী তরুণ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন মাইক্রোসফটের সাথে। তাই কবে আমরা পুরোপুরি বাংলায় উইন্ডোজ অপারেট করতে পারবো সেটাই এখন দেখার বিষয়।

মেকিনটোশে বাংলার বিকাশ



বিশ্ববিখ্যাত কমপিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এপলের নাম সবার জানা। আমাদের দেশে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মাঝে এপল কমপিউটার দেখা যায় না বললেই চলে। কিন্তু ডেস্কটপ পাবলিশিংয়ের জগতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। ভালো মানের মুদ্রণের জন্য এপলের কমপিউটার বা ম্যাকের জুড়ি মেলা ভার। উন্নত গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেসের কারণে বেশিরভাগ মুদ্রণকাজ ম্যাকে হয়ে থাকে। আমাদের দেশীয় প্রকাশনার কাজে ম্যাকের ব্যবহার লক্ষণীয়। এপলের কমপিউটারগুলোতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে ম্যাকিনটোশ বা ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম। বর্তমানে এপল পিসির জন্য নতুন ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমটি হচ্ছে Mac OS X। Mac OS X অপারেটিং সিস্টেমের ব্যাপারে একটি মজার ব্যাপার রয়েছে। তা হচ্ছে, এই সিরিজের প্রতিটি ভার্সনের নাম বিড়ালগোত্রীয় প্রাণীর সাথে মিল রেখে দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত এই সিরিজের ৬টি ভার্সন বের হয়েছে, তার মধ্যে Mac OS X ১০, ১০.১, ১০.২, ১০.৩, ১০.৪ ও ১০.৫-এর নাম যথাক্রমে চিতা, পুমা, জাগুয়ার, প্যানথার, টাইগার ও লেপার্ড। Mac OS X ১০.৬ বের হবার পথে এবং এর নাম স্নো লেপার্ড।

২০০০ সালের পরে বের হওয়া উইন্ডোজ ও লিনআক্সের সব ভার্সনে ইউনিকোডের সুবাদে বাংলা ভালোভাবে পড়া ও লেখা যায়।

বাংলাদেশের অন্যতম হার্ডওয়্যার প্রকৌশলী বজলুর রশিদের উৎসাহে এপলে বাংলা কমপিউটিংয়ের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াস পান। তিনি এপলের মেইলিং লিস্টের সদস্য হিসেবে এপলের কাছে তার কাজের অগ্রগতির জন্য সাহায্য চান। এপলের এশিয়া বিভাগের অপারেটিং সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ম্যানেজার ও ডেভেলপার লি কলিন্সের কাছে জানতে পারেন ম্যাকে বাংলা ইউনিকোড ব্যবহার করা সম্ভব। এটি করার জন্য তাকে ব্যবহার করতে হবে তাদের নতুন অপারেটিং সিস্টেম Mac OS XGes True Type। ম্যাক ফন্ট ডেভেলপ করার জন্য ব্যবহার করতে হবে এপল ফন্ট টুল ও এপল অ্যাডভান্স টাইপোগ্রাফি। তাই তিনি প্রথমে কাজ শুরু করেন ইউনিকোড বাংলা ফন্ট লিখন নিয়ে কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাচাই করে নেন একুশ ডট অর্গের বানানো জনপ্রিয় বাংলা ইউনিকোড ফন্ট রূপালি। এরপর তিনি একুশের সহায়তায় ধীরে ধীরে সাফল্যের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। ম্যাকে ইউনিকোডভিত্তিক বাংলা কমপিউটিংয়ের এটিই ছিলো প্রথম ধাপ, সময়ের সাথে তার আরো উন্নতি সাধিত হয়েছে। বর্তমানে রূপালি ও সোলাইমানিলিপিসহ আরো কিছু ফন্ট ম্যাকে দারুণ কাজ করে। এপল তাদের অপারেটিং সিস্টেমে বাংলা সংযোজনের ব্যাপারটি নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছে।

লিনআক্সে বাংলার জয়জয়কার



আমাদের দেশে বেশিরভাগ পিসি ব্যবহারকারী অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু তাদের মাঝে খুব কম লোকই খুঁজে পাওয়া যাবে যারা অপারেটিং সিস্টেমের বৈধ কপি ব্যবহার করেন। আমাদের দেশের অর্থনৈতিক কথা চিন্তা করলে খুব কম লোকই ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় উইন্ডোজের অরিজিনাল সিডি কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাবেন। একই জিনিস যদি কেউ হাজার টাকার বদলে মাত্র ৪০-৫০ টাকায় পায় তবে সে নকল সিডির প্রতিই বেশি ঝুঁকবে। কিন্তু আসলে তা ঠিক নয়। পাইরেটেড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করার দায়ে মূল কোম্পানি ব্যবহারকারীকে দোষী সাব্যস্ত করে জরিমানা করতে পারে। তাই হয় অরিজিনাল কপি ব্যবহার করতে হবে অথবা খুঁজতে হবে এমন কিছু যা অল্পমূল্য বা বিনামূল্যে পাওয়া যায়। পাইরেসি সমস্যার সমাধানে ওপেনসোর্সের তরফ থেকে বাজারে আসে লিনআক্স নামের অপারেটিং সিস্টেম। ওপেনসোর্সভিত্তিক এই অপারেটিং সিস্টেমটি সবার মাঝে খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর কারণ ছিলো এটি বিনামূল্যে পাওয়া যেতো। সোর্স কোড উন্মুক্ত থাকার কারণে প্রোগ্রামারদের মাঝে লিনআক্স খুব ছড়িয়ে পড়ল এবং তারা লিনআক্সে বাংলা কমপিউটিংয়ের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হলো। উবুন্টু লিনআক্সে বাংলা সংযোজন বাংলা কমপিউটিংয়ের ক্ষেত্রে বিশাল এক সাফল্য। ইউনিকোডের আশীর্বাদে উবুন্টুকে প্রায় অনেকাংশে বাংলায় অনুবাদ করা সম্ভব হয়েছে। এই কাজ সাধন করার জন্য অনেক বাঙালির শ্রম রয়েছে। লিনআক্সের অন্যান্য ভার্সনেও রয়েছে বাংলা লেখা ও পড়ার ব্যবস্থা। বাংলা ভাষায় বের হওয়া লিনআক্স অপারেটিং সিস্টেম শ্রাবণী ও হৈমন্তী প্রমাণ করে লিনআক্সে বাংলা কমপিউটিংয়ের জয়ের কথা। তাই এ বিষয়ে আর বাড়িয়ে তেমন কিছু না বললেই চলে। লিনআক্সে বাংলা কমপিউটিংয়ে একটি সমস্যা রয়ে গেছে, তা হলো বাজারে যেসব বাংলাভিত্তিক সফটওয়্যার বের হয় তার বেশিরভাগই হচ্ছে উইন্ডোজের জন্য। লিনআক্সের জন্যও যদি এসব সফটওয়্যার বের করা হয় তবে লিনআক্স ব্যবহারকারীদের জন্য তা অনেক উপকারী একটি পদক্ষেপ হবে।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : shmt_21@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
২০০৯ - মার্চ সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস