Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > ক্যাশ রেজিস্টার নয়, কমপিউটার বাধ্যতামূলক
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মোস্তাফা জব্বার
মোট লেখা:৯৩
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৮ - ফেব্রুয়ারী
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
কমপিউটার
তথ্যসূত্র:
নীতিনির্ধারনী
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
ক্যাশ রেজিস্টার নয়, কমপিউটার বাধ্যতামূলক


বাংলাদেশে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয়ার বা উপযুক্ত সময়ে লাগসই উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণ না করার বহু দৃষ্টান্ত আছে৷ এর হয়তো একটি বিশেষ কারণও আছে৷ সম্ভবত আমাদের সমাজ-অর্থনীতি ও রাজনীতির পশ্চাত্পদতার জন্য নীতিনির্ধারকদের মগজের বিকাশ সঠিকভাবে হয় না৷ এই সার্বিক বিকাশের চাকাটি দুনিয়ার উন্নত অংশের সাথে মিলে না বলেই আমাদের সাধারণ মানুষের চরম দুর্দশা কাটে না৷ বলা যেতে পারে, তাদের পায়ের পাতাটি প্রকৃতার্থেই উল্টো দিকে ঘুরানো৷ দুনিয়ার সবচেয়ে উন্নত অংশ এখন ডিজিটাল লাইফস্টাইল ও জীবনযাপনে ডিজিটালপ্রযুক্তির প্রয়োগ করছে৷ অথচ আমরা এখনো কৃষি যুগ ছেড়ে আসতে পারিনি৷ আমাদের মাঝে কিছু কিছু ডিজিটালপ্রযুক্তি উঁকি দিচ্ছে বটে৷ কিন্তু কিছু লোক জেনে হোক না জেনে হোক, ব্যক্তি স্বার্থেই হোক বা জ্ঞানের অভাবেই হোক আপ্রাণ চেষ্টা করছে সেই ডিজিটাল জীবনধারাকে ঠেকিয়ে রাখতে৷ এটি যে আমাদের সাধারণ মানুষের প্রবণতা, তা কিন্তু নয়৷ সাধারণ মানুষ কতো দ্রুত সর্বাধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারে তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো মোবাইল ফোন ব্যবহার৷ কিন্তু আমাদের রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিদের যাদের হাতে প্রযুক্তি বাছাই করার ক্ষমতা থাকে, তারাই জনগণের ওপর শতবর্ষের পুরনো প্রযুক্তি চাপিয়ে দিয়ে থাকেন৷ অন্যরা যখন যে প্রযুক্তি ছেড়ে দেয় তখন আমরা সেই প্রযুক্তি গ্রহণ করতে বাধ্য হই৷ আমাদের নীতিনির্ধারকরা এতটা পেছনে থাকেন যে, তাদেরকে ক্রেন দিয়েও সামনে টেনে আনা যায় না৷ আমাদের যখন কমপিউটার দরকার, তখন তারা ম্যানুয়াল টাইপরাইটার কিনে দেন৷ ব্যবধানটা হয়ে দাঁড়ায় একশো বছরের৷ সেই সব দৃষ্টান্তের সব কথা আমরা যদি উল্লেখ করতে চাই, তবে মহাভারত লিখতে হবে৷ সে অবকাশ আমাদের নেই৷

সম্প্রতি এমনি একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে৷ আমি শুধু অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গৃহীত এমন একটি সিদ্ধান্ত সর্ম্পকে কিছু কথা বলতে চাই৷ খবরটি দেশের একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রথম পাতায় ছাপা হয়েছে৷ খবরটির শিরোনাম হলো : মাঝারি ও বড় দোকানে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার বাধ্যতামলক৷ খবরে বলা হয়, সারাদেশের মাঝারি ও বড় দোকানগুলোতে ইলেকট্রনিক্স ক্যাশ রেজিস্টার বাধ্যতামলক করা হচ্ছে৷ আগামী বছরের মধ্যে এসব দোকানে তা না বসালে দোকানের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না৷ সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকার মাঝারি ও বড় দোকানগুলোর ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের আগে ইলেকট্রনিক্স ক্যাশ রেজিস্টারের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য রাজস্ব বোর্ড থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রাণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে৷ রাজস্ব বোর্ড সূত্র জানায়, সারাদেশে পরোক্ষ কর (ভ্যাট) বাড়ানোর জন্য সরকার ইলেকট্রনিক্স ক্যাশ রেজিস্টার সিস্টেম চালু করতে চাইছে৷ এই লক্ষ্যে ভ্যাটের কর্মকর্তারা সারাদেশের মাঝারি ও বড় দোকানগুলোর তালিকা প্রস্তুত করেছেন৷ আগামী বছরের শুরুতে এ তালিকা সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় সরবরাহ করা হবে৷ তালিকাভুক্ত দোকানগুলোতে ইলেকট্রনিক্স ক্যাশ রেজিস্টার বাধ্যতামলক করার পর অন্যান্য দোকানেও এ ব্যবস্থা চালু করা হবে৷

বর্তমানে খুচরা বিক্রয় পর্যায়ে প্রতিটি পণ্যে দেড় শতাংশ ভ্যাট রয়েছে৷ অন্যদিকে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে ভ্যাটের পরিমাণ ১৫ শতাংশ৷ ১৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে- হোটেল, রেস্তোরা, ক্যাটারার, পণ্যাগার, বন্দর, বিজ্ঞাপনী সংস্থা, নিলামকারী সংস্থা, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং এজেন্সি, টেলিফোন, সংস্থা, সিমকার্ড সরবরাহকারী, যান্ত্রিক লন্ড্রি, কমিউনিটি সেন্টার, চলচিত্র স্টুডিও, মিষ্টির দোকান, ওয়াসা, বীমা কোম্পানি, বিউটি পার্লার, শিপিং এজেন্ট, বিদেশী শিল্পীসহযোগে অনুষ্ঠান ও ক্যাবল অপারেটরসহ আরো কয়েকটি সংস্থার আয়ের ওপর৷

এ ব্যাপারে রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মোহম্মদ আলম জানান, বড় ও মাঝারি দোকানগুলোতে ইলেকট্রনিক্স ক্যাশ রেজিস্টার চালু হলে দোকানদার ও ভ্যাট উভয় বিভাগেরই উপকার হবে৷ কোনো পণ্য কিনতে গেলে তখন আর দোকানিকে আলাদা করে ভ্যাট রসিদ কাটতে হবে না৷


প্রথম প্রজন্মের ক্যাশ রেজিস্টার

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দোকানদারদের বিড়ম্বনা কতটা বাড়বে এবং ভ্যাটের কিছু লোকের আয় কতটা বাড়বে সেসব বিষয় নিয়ে কথা না বলাই ভালো৷ বরং এসব বিড়ম্বনার কথা মাথায় না ঢুকিয়ে এনবিআরের উদ্দেশ্যের সততা নিয়ে প্রশ্ন না তুলে হিসাব-নিকাশের জন্য আধুনিক বা ইলেকট্রনিক কিংবা ডিজিটাল যন্ত্রা ব্যবহার করার বাধ্যতামলক ব্যবস্থার সিদ্ধান্তটি নিঃসন্দেহে ভালোও প্রশংসাযোগ্য৷ অন্তত আড়তদারি বা টং-এর থেকে আমাদের ব্যবসায়কে উনিশ শতকে পৌঁছানোর জন্য এই যন্ত্রাটির প্রয়োগের কথা ভাবাই যায়৷ কিন্তু এটি কি সঠিক সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত হলো? আমার কাছে মনে হচ্ছে, দোকানদারদের হাতে কমপিউটার দেবার আগে এনবিআরের উচিত প্রথমে নিজের ঘরে কমপিউটার বসানো৷ এরা নিজেরা যদি হালনাগাদ উপাত্ত সংরক্ষণ করতে পারে এবং সেইসব উপাত্তের ভিত্তিতে যদি সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়, তবে করদাতারা আধুনিক ব্যবস্থা নিলে পুরো জাতি এর সুফল পাবে৷ তবে করদাতাদেরকে কমপিউটার না দিয়ে ক্যাশ রেজিস্টার দিলে এটি একুশ শতকের অফিসে কায়িক টাইপরাইটারের বদলে কমপিউটার ব্যবহার না করে ইলেকট্রনিক টাইপরাইটার বসানোর মতো কাজ হয়ে যাবে৷ এছাড়া এই কাজটি কিছুটা ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেয়ার মতোও হবে৷ এখন যখন আমরা একুশ শতকে দাঁড়িয়ে আছি, তখন দোকানে শতবর্ষের পুরনো ক্যাশ রেজিস্টার কেন? জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কোনো বড়কর্তার আত্মীয়স্বজনদের কারো কি ক্যাশ রেজিস্টারের ডিস্ট্রিবিউটরশিপ আছে? নইলে এখন কমপিউটারের কথা না ভেবে ক্যাশ রেজিস্টার বাধ্যতামলক করার প্রশ্ন এলো কেন? কার স্বার্থে এমন একটি সিদ্ধান্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিচ্ছে? অন্যদিকে আমি অবাক হলাম কেনো এরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে একথা বলেনি, এখন ক্যাশ রেজিস্টার নয়, প্রয়োজন কমপিউটারের৷ তাদের বলা উচিত, ক্যাশ রেজিস্টার কালচার মাত্র এক শতাব্দী পুরনো ধ্যানধারণার প্রতিফলন ঘটায়৷ এখন থেকে সোয়া শ বছর আগেই আমেরিকায় ক্যাশ রেজিস্টার ব্যবহার হওয়া শুরু হয়৷ আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পর ১৮৭৯ সালে জেমস রিটি নামের এক সেলুন মালিক দুনিয়ার প্রথম ক্যাশ রেজিস্টার তৈরি করেন৷ আমেরিকার হাইও রাজ্যের ডায়টোনায় তার সেলুনের কর্মচারীরা যাতে তার মুনাফা আত্মসাত করতে না পারে, সেজন্য রিটি এই যন্ত্রাটি চালু করেন৷ ১৮৮৩ সালে এই যন্ত্রাটির প্যাটেন্ট করা হয়৷ রিটির জন্য সেলুন ছাড়াও ক্যাশ রেজিস্টারের একটি আলাদা ব্যবসায় পরিচালনা কঠিন ছিল বলে ১৮৮৪ সালে তিনি ক্যাশ রেজিস্টারের ব্যবসায় সিনসিনাটির জ্যাকব এইচ একার্টের কাছে বিক্রি করে দেন৷ একার্ট ন্যাশনাল ক্যাশ রেজিস্টার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন৷ জন এইচ প্যাটারসন এতে কাগজের রোল যোগ করেন৷ ১৯০৬ সালে চার্লস এফ ক্যাটিং ইলেকট্রিক মোটরসহ ক্যাশ রেজিস্টার ডিজাইন করেন৷ খুব সহজে ইনভয়েস প্রদান, বিক্রির হিসাব রাখা এবং দ্রুততম সময়ে দৈনিক বিক্রির পরিমাণ জানাসহ ভ্যাট বা করের হিসাব রাখার জন্য ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টারের কোনো বিকল্প তখন ভাবা হতো না৷ তাই শতবর্ষ যাবত এই যন্ত্রাটি দোকানে দোকানে দাপটের সাথেই রাজত্ব করেছে৷ যদিও বিশ শতকের শেষ তৃতীয়াংশে দোকান ব্যবস্থাপনায় কমপিউটার আসতে শুরু করে তথাপি নানা কারণে ক্যাশ রেজিস্টার তখনো জনপ্রিয় ছিল৷ প্রথমত এই যন্ত্রাটিতে মাত্র কয়েকটি পণ্যের জন্য নির্দিষ্ট বোতাম রাখা সম্ভব হতো৷ ফলে নির্দিষ্ট পণ্য বা সেবার জন্য কয়েকটি বোতাম দিয়েই সহজে ব্যবসায় চালানো যেতো৷ দ্বিতীয়ত এই যন্ত্রাগুলোর জন্য আলাদা কোনো প্রিন্টারের প্রয়োজন হতো না৷ ইতোমধ্যেই এতে টাচ স্ক্রিনসহ অনেক ধরনের কমপিউটারপ্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে৷ এটি এখন সফটওয়্যার পরিচালিত৷ ফলে এর সাথে এখন ইনভেন্টরি পর্যন্ত রক্ষা করা যায়৷ এমনকি কমপিউটারের সাথেও একে যুক্ত রাখা যায়৷ কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এখন কমপিউটারের ক্ষমতা ব্যবহার করার সুযোগ থাকতে অর্ধেক ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যাশ রেজিস্টার কেন?

ক্যাশ রেজিস্টার প্রথম যে জঘন্য কাজটি করবে সেটি হলো আমাদের রাষ্ট্রভাষা বাংলার বদলে ইংরেজি ভাষাকে ব্যবসায়ে স্থায়ী আসন দিয়ে দেবে৷ ক্যাশ রেজিস্টারের এমবেডেড সফটওয়্যার বিশেষভাবে না বদলালে তাতে বাংলা ও ইংরেজি পাশাপাশি ব্যবহার করা যাবে না৷ এনবিআরের এত দেশপ্রেম নেই যে, তারা ক্যাশ রেজিস্টারে বাংলা ভাষা বাধ্যতামলক করবে৷ বরং বিল্ট ইন সিস্টেম হিসেবে ইংরেজির ব্যবহার শতকরা ৯৯ ভাগ ক্ষেত্রেই প্রচলিত হয়ে যাবে৷ তাছাড়া ক্যাশ রেজিস্টার একটি ডেডিকেটেড যন্ত্রা৷ এটি দিয়ে আর কোনো কাজ করা যায় না৷ এর সার্বিক সীমাবদ্ধতাও ব্যাপক৷ অন্যদিকে একজন ব্যবসায়ী প্রয়োজনে লেখালেখি থেকে শুরু করে ইন্টারনেট ব্রাউজিং, যোগাযোগ ইত্যাদিসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক ও অফিসিয়াল কাজ করতে পারবেন একটি কমপিউটার যন্ত্রা দিয়ে৷ আজকাল কমপিউটার ব্যবহার করা ক্যাশ রেজিস্টার ব্যবহার করার চাইতে সহজ৷ ক্যাশ রেজিস্টার স্বল্প পণ্যসহ খাবার দোকানে ব্যবহার করা গেলেও মুদি দোকান বা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে সাধারণ ক্যাশ রেজিস্টার ব্যবহার করতে হলে বারকোড রিডার ও কমপিউটারের সমর্থন দরকার হবে৷ ফলে তখন ব্যবসায়ীর জন্য বাড়তি ব্যয় বাধ্যতামলক হয়ে যাবে৷ আরো একটি কারণে ক্যাশ রেজিস্টারের বদলে কমপিউটার ব্যবহার করা ভালো৷ কারণ, কমপিউটারের জন্য সফটওয়্যার ডেভেলপ করার একটি বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে৷ এতে দেশের বিপুল পরিমাণ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হবে৷ দেশের সফটওয়্যার শিল্পের প্রসার হবে৷ ফলে সার্বিক বিবেচনায় দেখা যায়, আসলে এই ক্যাশ রেজিস্টার নয়, কমপিউটারই হলো ব্যবসায়ীর প্রকৃত সমাধান৷ কমপিউটার দিয়ে যে কাজ করা যায়, ক্যাশ রেজিস্টার দিয়ে সে কাজ করা যায় না, তাই নয় শুধু কমপিউটার এখন দামে সস্তা, সহজে ব্যবহারযোগ্য এবং ক্যাশ রেজিস্টারের চাইতে হাজার হাজার গুণে শক্তিশালী৷ গত ১৩ অক্টোবর ২০০৭ আমি অনলাইনে ক্যাশ রেজিস্টারের দাম যাচাই করতে গিয়ে দেখি, স্যামসাংয়ের ইআর-১৫০ মডেলটির অনলাইন দাম ১২৯ ডলার৷ এটিকে ছবি দেখে, স্পেসিফেকেশন দেখে ক্যালকুলেটরের চাইতে বেশি কিছু মনে হয়নি৷ পস সিস্টেম বা ডিসপে­র টাইপসহ স্যামসাংয়ের মাঝারি মানের ক্যাশ রেজিস্টারের দাম ২৬০ ডলার থেকে শুরু৷ তবে যেটি এখনকার জন্য খুবই উপযোগী মনে হতে পারে সেটি হলো বারকোড রিডারসহ উচুমানের ক্যাশ রেজিস্টার৷ বারকোড রিডারসহ একটি ক্যাশ রেজিস্টারের দাম ৬০০ ডলারের বেশি হতে পারে৷ এমনকি ২০০০ ডলারের ক্যাশ রেজিস্টারও আমি অনলাইনে পেয়েছি৷ এই দামের সাথে আমদানি ব্যয়, শুল্ক ও কর ইত্যাদিও যোগ হবে৷ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যদি ক্যাশ রেজিস্টারের আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট পুরো মওকুফ করে দেয়, তবুও এর দাম কমপিউটারের চাইতে অনেক বেশি হবে৷


বর্তমানের ক্যাশ রেজিস্টার

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যদি এটি মনে করে থাকে, ক্যাশ রেজিস্টারের দাম কম বলে এটি খুব সহজে চালু করা যাবে, তবে উপরের দামের তুলনায় বুঝা যাবে যে, সেটি ভুল৷ বাংলাদেশের বাজারে এখন একটি কমপিউটার কিনতে ২৫ হাজার টাকা হলেই চলে৷ এর সাথে ৫ হাজার টাকায় বারকোড রিডার এবং ৩ হাজার টাকায় প্রিন্টার যোগ করা যায়৷ এর সাথে হাজার পাঁচেক টাকার সফটওয়্যার প্রয়োজন হতে পারে৷ ফলে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে শুধু ক্যাশ রেজিস্টার কেন কিনবে মানুষ?

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ করছি৷

ফিডব্যাক : mustafajabbar@gmail.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
২০০৮ - ফেব্রুয়ারী সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস