Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > বছরের সেরা ১০ গেম
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সৈয়দ হাসান মাহমুদ
মোট লেখা:৫৪
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৮ - ফেব্রুয়ারী
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
কমপিউটার গেম
তথ্যসূত্র:
গেমের জগৎ
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
বছরের সেরা ১০ গেম
২০০৭ সালে বের হওয়া গেমগুলোর মধ্যে ফাস্ট পারসন শূটিং গেমের প্রাধান্য ব্যাপকভাবে লক্ষণীয়৷ কেননা গত বছরের সেরা দশ গেমের মধ্যে ৫টি গেমই শূটিং গেম৷ সেরা গেমের কথা শুনে হয়তো বুঝতে পারছেন, এই সংখ্যায় বিগত বছরের সেরা গেমগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে৷ সেরা ১০ গেমের তালিকাটি Game Spot, Game Spy, Game Trailer, IGN Euro Gamer, Game Informer, Game Critics Awards ও Game Ratings অনলাইন গেমিং ওয়েবসাইটগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি রেটিং পাওয়া গেমগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে৷ সৈয়দ হোসেন মাহমুদ ক্রাইসিস :

২০০৭-এর গেমগুলোর মধ্যে সেরাদের সেরা গেমটি হচ্ছে ক্রাইসিস৷ গেমটি রিলিজ করেছে EA Sports এবং ডেভেলপ করেছে Crytek ৷ এই গেমটি নিয়ে গত ডিসেম্বরের সংখ্যায় বিস্তারিত লেখা হয়েছিলো৷ এটি মূলত সায়েন্স ফিকশনধর্মী ফাস্ট পারসন শূটিং গেম৷ এতে আপনাকে আমেরিকার স্পেশাল ফোর্সের হয়ে জেক ডানের ভূমিকায় উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী ও ভিনগ্রহবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে৷ এর মূল আকর্ষণ হচ্ছে প্লেয়ারের পরিহিত ন্যানো স্যুট যা গেমটিকে অন্যান্য শূটিং গেম থেকে আরো আধুনিকতর করে তুলেছে৷ এই স্যুটটি আপনাকে দেবে অসীম শক্তি, সর্বোচ্চ সুরক্ষা, অস্বাভাবিক দ্রুততা ও আংশিক অদৃশ্য হওয়ার ক্ষমতা৷ এতে প্রায় ১৫ রকমের যানবাহন ব্যবহার করা হয়েছে যার বেশিরভাগ গেমার চালাতে সক্ষম৷ এতে নতুন সংযোজন হিসেবে রয়েছে খালি হাতে মারামারি করা, নিকটবর্তী শত্রুকে গলা চেপে মারার সুবিধা, স্পেসশিপের অভ্যন্তরে ওজনহীন পরিবেশে গেম খেলা গেমটিতে এনেছে নতুনত্ব৷ এছাড়া চমত্কার কাহিনী, অসাধারণ গেম প্লে, পরিবেশের গ্রাফিক্সের বাস্তবতা, দারুণ সাউন্ড ইফেক্ট, আধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার, সুসজ্জিত মাল্টিপ্লেয়ার মোড ইত্যাদি কারণে গেমটি খুবই প্রশংসিত হয়েছে৷ গত বছরের সবচেয়ে বেশি পুরস্কারপ্রাপ্ত গেমগুলোর মধ্যে এটি একটি৷

কল অফ ডিউটি ৪ : মর্ডান ওয়ারফেয়ার :

ফাস্ট পারসন শূটিং গেমগুলোর মধ্যে কল অফ ডিউটি সিরিজের গেমগুলো বেশ নামকরা৷ ইর্ডধশর্টধমভ থেকে রিলিজ করা এর চতুর্থ সিক্যুয়াল হচ্ছে কল অফ ডিউটি : মর্ডান ওয়ারফেয়ার৷ এতে আগের গেমগুলোর মতো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিবর্তে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের পটভূমি স্থান পেয়েছে৷ অসাধারণ গেম প্লে, সুন্দর কাহিনী, সুসজ্জিত মাল্টিপ্লেয়ার মোড, গেমের স্পেশাল ইফেক্ট, চমত্কার সাউন্ড ইফেক্ট সব কিছু মিলিয়ে গেমটি সেরা গেমগুলোর মাঝে উপরের দিকের স্থান দখল করে আছে৷ এই গেমে আপনাকে খেলতে হবে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ইউএস মেরিন ও ব্রিটিশ এসএএস উভয় বাহিনীর সদস্য হিসেবে প্রায় ৬টি চরিত্রে৷ প্রতিটি মিশনে থাকবে নতুনত্ব যা আপনাকে এনে দেবে খেলার মাঝে দারুণ এক স্বাদ৷ উন্নত যুদ্ধ কৌশল ও শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করে খেলার দক্ষতা, দ্রুততা ও নির্ভুল লক্ষ্যভেদের মাধ্যমে বিজয় নিশ্চিত করতে হবে৷ মাল্টিপ্লেয়ার মোডগুলো হচ্ছে : টিম ডেথ ম্যাচ, ফ্রি ফর অল, ডোমিনেশন, স্যাবোটাজ, সার্চ অ্যান্ড ডেস্ট্রয়, ওল্ডকোর ইত্যাদি৷ মোডগুলোতে খেলার ধারাবাহিকতায় প্লেয়ারের ৠাঙ্ক বাড়তে থাকবে এবং সেই সাথে অস্ত্র আপগ্রেড হবে৷ এসল্ট রাইফেল, সাবমেশিন গান, শটগান, স্নাইপার রাইফেল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য৷ গেমটি বাস্তবধর্মী ও আকর্ষণীয়৷

বায়োশক :

সেরা গেমগুলোর তালিকায় বায়োশক গেমটিও পিছিয়ে নেই৷ এটিও একটি সায়েন্স ফিকশনধর্মী ফাস্ট পারসন শূটিং গেম৷ এটি রিলিজ করেছে 2K Boston/2K Australia ও ডিজাইন করেছে Ken Levine৷ এটি আগের গেম সিস্টেম শক-এর সিক্যুয়াল৷ এতে রয়েছে সুন্দর ও রহস্যময় এক কাহিনী৷ গেমটির পটভূমি হচ্ছে ১৯৬০ সালের, যেখানে মধ্য আটলান্টিকের উপরে প্লেন ক্র্যাশে বেঁচে যাওয়া যাত্রী জ্যাক আবিষ্কার করবে পানির নিচের রহস্যময় নগরী রাপচার৷ নানান অস্ত্র ও প্লাসমিড (যা তাকে দেবে শত্রুকে ইলেকট্রিফাই করার ক্ষমতা) নিয়ে মোকাবেলা করতে হবে অদ্ভুত সব প্রাণীর৷ গেমটির প্রধান রিসোর্সগুলো হলো ADAM, EVE ও টাকা৷ ADAM হলো মিউটাজেন যা জেনেটিক পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম৷ এটি সংগ্রহ করে তা দিয়ে প্লাসমিড কিনতে হবে৷ আর EVE কাজ করবে প্লাসমিডের চালিকাশক্তি হিসেবে যা অনেকটা অন্যান্য গেমের ম্যাজিক পয়েন্ট অর্জনের মতো৷ গেমের কাহিনী সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের কিন্তু খেলার ধরন সাধারণ শূটিং গেমগুলোর মতোই৷ গেমটি ঋ৩, E3, IGN, Game Spot, Game Spy, Game Trailer ইত্যাদি অনলাইন গেমিং ওয়েবসাইট থেকে পুরস্কার পেয়েছে এর অসাধারণ গেম প্লে, সুন্দর কাহিনী, গ্রাফিক্স কৌশল, আর্টিস্টিক ডিজাইন, অপূর্ব সাউন্ডের কারণে৷
দ্য অরেঞ্জ বক্স :

Valve Software থেকে রিলিজ করা হাফ লাইফ সিরিজের গেমগুলোর নাম কারো অজানা থাকার কথা নয়৷ পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় কোনো রেডিওঅ্যাক্টিভ পদার্থের রেডিয়েশনের ফলে ক্ষয় হতে হতে তার প্রাথমিক পরিমাণের অর্ধেক হয়ে যাওয়ার সময়কালকে ওই পদার্থের হাফ লাইফ বলে৷ ক্ষয় হয়ে যাওয়ার কনস্ট্যানটিকে গ্রীক অক্ষর ল্যাম্বডা দিয়ে প্রকাশ করা হয়৷ গেমের নাম ও লোগো এই সায়েন্টিফিক ব্যাপারটির ওপর ভিত্তি করে দেয়া হয়েছে৷ এতে সায়েন্টিফিক ব্যাপারগুলো খুব সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয়েছে যা লক্ষ করার মতো৷ দ্য অরেঞ্জ বক্স গেম প্যাকটিতে ৫টি গেম দেয়া হয়েছে-হাফ লাইফ ২, এর এক্সপানশন এপিসোড ওয়ান, এপিসোড টু, পাজল গেম পোর্টাল ও মাল্টিপ্লেয়ার গেম টিম ফোরট্রেইস৷ হাফ লাইফে খেলতে হবে বিজ্ঞানী গর্ডন ফ্রিম্যান ও তার সঙ্গী এলিক্সকে নিয়ে৷ লড়াই করতে হবে তাদের ভুলের কারণে পোর্টালের মাধ্যমে পৃথিবীতে এসে পড়া এলিয়েনদের বিরুদ্ধে৷ এটি প্রথম গেম হাফ লাইফ থেকে এপিসোড টু পর্যন্ত একটি বিশাল ধারাবাহিক কাহিনী৷ গেমগুলো ফাস্ট পারসন শূটিং গেমের পাশাপাশি দারুণ এডভেঞ্চার ও পাজল গেম৷ এতে ব্যবহার হয়েছে নতুন সব অস্ত্র ও যানবাহন গেমটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য৷
গিয়ার অফ ওয়্যার :

এটি একটি সায়েন্স ফিকশনধর্মী থার্ড পারসন শূটিং গেম৷ গেমের পটভূমি হচ্ছে ছেরা নারে একটি কাল্পনিক গ্রহ৷ গ্রহটি কোয়ালিশন অফ অর্গানাইজড গভর্মেন্ট বা সিওজি নামের একটি সংস্থা দিয়ে পরিচালিত৷ লোকাস হোর্ড নামের একদল হিংস্র বিদ্রোহী সৈন্যদলের হঠাত্ আক্রমণে সিওজি-এর সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে এবং গ্রহের প্রায় সব শহর, কারখানা লোকাস হোর্ডের হস্তগত হয়ে যায়৷ সিওজি-এর সব সৈন্যও আটকা পড়ে৷ এখানে গেমারকে মার্কাস ফেনিক্স নামে সিওজি-এর একজন সৈন্য হিসেবে খেলতে হবে৷ গেমের শুরুতেই দেখা যাবে ডম নামের অন্য একজন সৈন্যের সহায়তায় মার্কাস জেল ভেঙ্গে পালাবে৷ তারপর সে ও ডম এবং আরো দুই বন্ধু কোলে ট্রাইন ও ডামন বাইর্ড মিলে একটি ডেল্টা স্কোয়াড গঠন করবে এবং লোকাস হোর্ডের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে৷ গেমে কো-অপারেটিভ মোডে মার্কাস-এর পাশাপাশি তার বন্ধু ডমকে নিয়েও খেলা যাবে৷ এছাড়া মাল্টিপ্লেয়ার মোডে ৪টি চরিত্র নিয়েই খেলার সুবিধা আছে৷ এটি পাবলিশ করেছে মাইক্রোসফট গেম স্টুডিও৷ এই গেমটি ২০০৬ সালে XBOX360 -এর জন্য রিলিজ পেয়েছিল এবং ২০০৬ সালের সবচেয়ে দ্রুত বিক্রি হওয়া গেম ক্যাটাগরিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত৷ কারণ, মাত্র ১০ সপ্তাহে গেমটির প্রায় ৩ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছিল৷ তাই মাইক্রোসফট গেমটি ২০০৭-এর নভেম্বর মাসের ৬ তারিখে পিসির জন্য রিলিজ দেয়৷
ওয়ার্ল্ড ইন কনফ্লিক্ট :

এটি একটি রিয়েল টাইম স্ট্র্যাটেজি গেম, অনেকটা কমান্ড অ্যান্ড কনকোরার : জেনারেলস-এর মতো৷ গেমটির পটভূমি হচ্ছে ১৯৮৯ সাল, যেখানে দেখানো হয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যায়নি৷ তারা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ও ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য সংগ্রাম করবে৷ অন্যান্য স্ট্র্যাটেজি গেমের মতো সম্পদ আহরণ ও ঘাঁটি বানানোর ব্যাপারটি রাখা হয়নি৷ গেম খেলে পয়েন্ট অর্জন করে তা দিয়ে রিইনফোর্সমেন্টের জন্য আবেদন করতে হবে, তাহলে হেডকোয়ার্টার থেকে চাহিদা মোতাবেক সৈন্য প্রদান করা হবে৷ গেমের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ম্যাপকে ৩৬০ ডিগ্রি কোণে ইচ্ছেমতো ঘুরানো যায়৷ সিঙ্গেল প্লেয়ার মোডে ইউএসএ ও ন্যাটোর পক্ষ হয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে খেলতে হবে৷ কিন্তু মাল্টিপ্লেয়ার মোডে ৩টি দলে যেকোনো একটি নিয়ে খেলা যাবে৷ যুদ্ধে সব ধরনের ট্যাঙ্ক, এন্টিট্যাঙ্ক, এন্টিএয়ারক্রাফট, ট্রুপ ক্যারিয়ার, হেলিকপ্টার, স্নাইপার ইত্যাদি ইউনিটের পাশাপাশি টেকটিক্যাল এইড হিসেবে নিউক্লিয়ার মিসাইল, কার্পেট বোম্বিং, এয়ার স্ট্রাইকার, প্যারাট্রুপার ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে৷ নির্মাতারা গেমটিকে রিয়েল টাইম স্ট্র্যাটেজি গেম বলার চেয়ে রিয়েল টাইম টেকটিক্যাল গেম বলাটা বেশি ভালো মনে করছেন৷ গেমের ডিজাইন করেছে সুইডিশ প্রতিষ্ঠান ম্যাসিভ এন্টারটেইনমেন্ট ও পাবলিশ করেছে সিয়েরা এন্টারটেইনমেন্ট৷
ফ্লাইট সিম্যুলেটর এক্স-এসেলারেশন :

মাইক্রোসফটের গেম ফ্লাইট সিম্যুলেটর এক্স-এসেলারেশন গেমটি গেম ফ্লাইট সিম্যুলেটর এক্স বা FSX-এর এক্সপানশন প্যাক৷ এটি চালাতে আগের ভার্সনটি ইনস্টল করা থাকতে হবে৷ অন্যান্য ফ্লাইট সিম্যুলেশন গেমগুলোর চেয়ে মাইক্রোসফটের এই গেমগুলো বেশ জনপ্রিয়৷ FSX -এর দুটি এডিশন রয়েছে৷ একটি স্ট্যান্ডার্ড ও অপরটি ডিলাক্স৷ ডিলাক্সে রয়েছে ৫০টি, স্ট্যান্ডার্ডে ৩০টি মিশন এবং এক্সপানশনটিতে রয়েছে নতুন আরো ৩০টি সিঙ্গেল প্লেয়ার মিশন ও ১৯টি মাল্টিপ্লেয়ার মিশন৷ ডিলাক্সে প্লেন, এয়ারপোর্ট ও শহরের সংখ্যা যথাক্রমে ২৪, ৪৫ ও ৩৮৷ তার বিপরীতে স্ট্যান্ডার্ডের প্লেন, এয়ারপোর্ট ও শহরের সংখ্যা যথাক্রমে ১৮, ৪০ ও ২৮৷ এসেলারেশনে নতুন যুক্ত তিনটি এয়ারক্রাফট হচ্ছে F/A-18A হর্নেট, EH-101হেলিকপ্টার, -P-51 মাসট্যাং৷ গেমগুলোতে এয়ারক্রাফট চালনা শেখানোর পাশাপাশি, নিখুঁত টেক অফ ও ল্যান্ডিং এবং নানারকম মিশন খেলার ব্যবস্থা রয়েছে৷ গেমের গ্রাফিক্স কোয়ালিটি খুবই সুন্দর ও যথেষ্ট বাস্তবসম্মত৷ এতে আশপাশের এলাকা খুব ভালোভাবে ও সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে৷ একেক রকমের এয়ারক্রাফট চালানোর কৌশল একেক রকম, তাই তা গেমের স্বাদ বহুগুণে বাড়িয়েছে৷
আনরিয়েল টুর্নামেন্ট ৩ :

গেমটির নাম আনরিয়েল টুর্নামেন্ট ৩ হলেও এটি এই সিরিজের চতুর্থ সিক্যুয়াল৷ গেমটি গেম ইঞ্জিনের ওপর ভিত্তি করে সিরিয়াল করা হয়েছে৷ মূল আনরিয়েল টুর্নামেন্ট গেমটি আনরিয়েল গেম ইঞ্জিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে৷ আনরিয়েল ইঞ্জিন ২ ব্যবহার করে আনরিয়েল টুর্নামেন্ট ২০০৩ ও ২০০৪ তৈরি করা হয়েছে৷ আনরিয়েল টুর্নামেন্ট ৩ তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে এ সময়ের অন্যতম শক্তিশালী আনরিয়েল ইঞ্জিন ৩৷ এই ইঞ্জিনটি গিয়ার অফ ওয়্যার গেমেও ব্যবহার করা হয়েছে৷ আনরিয়েল টুর্নামেন্ট ৩ নিয়ে বলার তেমন কিছু নেই, কারণ যারা ফাস্ট পারসন শূটিং গেম খেলেন, তাদের অন্যতম পছন্দের গেম সিরিজ হচ্ছে এটি৷ এই গেমের গ্রাফিক্সের মান, অনেক রকমের অস্ত্র, ক্যারেক্টার এনিমেশন সবার নজর কাড়ার মতো৷ নির্দিষ্ট টিম নিয়ে গেমটি খেলতে হয়৷ টিমগুলো হচ্ছে\ নেক্রিস, দ্য করাপ্ট, আয়রন গার্ড, আয়রন স্কাল, রোনিন ও থান্ডারক্র্যাশ৷ ডেথ ম্যাচ, টিম ডেথ ম্যাচ, ক্যাপচার দ্য ফ্লাগ, ডুয়াল, ওয়ারফেয়ার ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য খেলার মোড৷ বায়ো রাইফেল, ফ্লাক ক্যানন, লিঙ্ক গান, রকেট লঞ্চার, রিডিমার, ইম্প্যাক্ট হ্যামার ইত্যাদি অস্ত্র এতে ব্যবহার করা হয়েছে৷ গেমটি খেলার সময় সর্বক্ষণ খুবই সতর্ক থাকতে হয়৷ একটু অসাবধানতা ডেকে আনতে পারে মৃত্যু৷ পরিশেষে বলা যায় এটি খুবই উত্তেজনাপূর্ণ ও অ্যাকশনভিত্তিক গেম যা সবার পছন্দ হবে৷
সুপ্রীম কমান্ডার :

ফোর্জড এলায়েন্স : সুপ্রীম কমান্ডার : ফোর্জড এলায়েন্স গেমটি সায়েন্স ফিকশনধর্মী রিয়েল টাইম স্ট্র্যাটেজি গেম৷ এটি সুপ্রীম কমান্ডার-এর একটি এক্সপানশন৷ কিন্তু এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে খেলতে আগের ভার্সনটির প্রয়োজন পড়বে না৷ ইউনাইটেড আর্থ ফেডারেশন, সাইব্রান নেশন, এয়ন ইলুমিনেট ফ্যাকশন বা জাতিগুলোর পাশাপাশি নতুন যুক্ত করা হয়েছে সেরাফিম নামের ফ্যাকশনটি৷ ইউনাইটেড আর্থ ফেডারেশনে সাধারণ মানবজাতি, সাইব্রান নেশনে সাইবারনেটিক মানবজাতি এবং এয়ন ইলুমিনেটে রয়েছে ভিনগ্রহবাসীদের দিয়ে আবেশিত মানবজাতি৷ যেকোনো পক্ষ নিয়ে আপনি খেলতে পারবেন৷ নতুন এই গেমটিতে যুক্ত হয়েছে আরো নতুন কিছু ম্যাপ৷ গেমটিতে জল, স্থল, আকাশপথ এমনকি মহাশূন্যেও যুদ্ধ করা যায়৷ মানবসভ্যতা টিকিয়ে রাখার জন্য আধুনিক যুদ্ধকৌশল ও অত্যাধুনিক অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আপনাকে অবতীর্ণ হতে হবে মহাকাশীয় এক কাল্পনিক মহাযুদ্ধে৷ এর গেম প্লে দারুণ ও অনন্য কাহিনী থাকার কারণেও গেমটি কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে৷ কারণ গেমটিতে উচ্চমানের গ্রাফিক্স দেয়ার জন্য ভালো মানের পিসির প্রয়োজন এবং নিউক্লিয় বিস্ফোরণের গ্রাফিক্স তেমন সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়নি৷ গেমটি পাবলিশ করেছে THQ গেমে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান৷
দি উইচার :

মধ্যযুগীয় ইউরোপের দানব, ভূতপ্রেত, ডাইনি, ড্রাগনে ভরপুর কালো জাদুর জগতের কথা মনে পড়লেই গা ছমছম করে ওঠে৷ দি উইচার গেমটিতে গা ছমছম করা অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে গেমারকে জেরাল্ট নামের এক স্মৃতিভ্রষ্ট কালো জাদুকরের ভূমিকায় খেলতে হবে৷ গেমের শুরুতে জেরাল্ট নিজের জাদুক্ষমতা সম্পর্কে কিছু মনে করতে পারবে না, ধীরে ধীরে গেমের লেভেল পার হতে থাকলে জেরাল্টের স্মৃতিশক্তি ফিরে আসবে এবং সে তার জাদুক্ষমতা, বন্ধু ও শত্রুদের সম্পর্কে জানতে পারবে৷ ডায়াব্লো এবং নেভার উইন্টার নাইট গেমগুলোর মতো এটিও একটি আরপিজি বা রোল প্লে ধাচের এবং শুধু সিঙ্গেল মোডে খেলা যায়৷ এর একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে হিরোর তিনটি আলাদা কম্ব্যাট স্টাইল হলো স্পিড, হ্যাভি ও গ্রুপ স্টাইল৷ যেকোনো একটি স্টাইলে হিরোকে নিয়ে খেলতে হবে, তবে গেমের মাঝেও খেলার কম্ব্যাট স্টাইল পরিবর্তন করা যাবে৷ এছাড়া গেমটি তিনটি আলাদা ক্যামেরা ভিউতেও খেলার সুবিধা আছে৷ গেমের গ্রাফিক্স আরো ভালো হলে এটি আরো সাফল্য লাভ করতো৷ গেমটি ডেভেলপ করেছে সিডি প্রজেক্ট রেড স্টুডিও এবং পাবলিশ করেছে বিখ্যাত গেম নির্মাতা কোম্পানি আটারি৷
গত বছরের আরো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গেম হচ্ছে এনিমি টেরিটোরি-কোয়ার্ক ওয়ারস, সিভিলাইজেশন ৪\ বিয়োন্ড দ্য সোর্ড, শার্লক হোমস\ দ্য এওয়েকেন্ড এডভেঞ্চার, রেস ০৭\ দ্য WTCC গেম, নেভার উইন্টার নাইটস ২ : মাস্ক অফ দ্য বিট্রেয়ার, কোম্পানি অফ হিরোস : অপোসিং ফ্রন্টস, গিল্ড ওয়ারস : আই অফ দ্য নর্থ, মেডিয়াভেল ২ : টোটাল ওয়ার কিংডমস, ইউনিভার্স এট ওয়ার : আর্থ এসাল্ট, ফ্যান্টাসি ওয়ারস, ফিফা ম্যানেজার ০৮, গিটার হিরো ৩ : লিজেন্ড অফ রক, দ্য এজ অফ এম্পায়ার ৩\ দ্য এশিয়ান ডাইনেস্টি, দ্য সিমস-বন ভয়েজ, উইনিং ইলেভেন : প্রো ইভ্যুলুশন সকার ২০০৮, ডেস্টিনেশন : ট্রেজার আইল্যান্ড, টু ওয়ার্ল্ডস, পেইন কিলার\ ওভারডোজ, লোকি : হিরোস অফ মিথোলজি, হেলগেট : লন্ডন, দ্য সেটলারস\ রাইজ অফ এন এম্পায়ার, মেডেল অফ অনার\ এয়ারবর্ন, স্ট্যাঙ্গেলহোল্ড, ঘোস্ট রেকন এডভান্সড ওয়ারফাইটার ২, স্পাইডারম্যান\ ফ্রেন্ড অর ফো, এটাক অন পার্ল হারবার, জন কুপার ইন হেলডোরাডো, টিনেজ মিউটেন্ট নিনজা টারটেলস, বী দ্য মুভি, এনএফএস প্রো স্ট্রিট ইত্যাদি৷ কল অফ ডিউটি, সুপ্রীম কমান্ডার ও ওয়ার্ল্ড ইন কনফ্লিক্টের জন্য ৫১২ মেগাবাইট এবং বাকিগুলোর জন্য ১ গিগাবিট ৠাম লাগবে৷ আর সবগুলোর ক্ষেত্রেই পেন্টিয়াম ৪, ২.৪ গিগাহার্টজ বা ডুয়াল কোর, ১.৮ গিগাহার্টজ বা এএমডি এথলন ৬৪ ২৮০০+প্রসেসর এবং ১২৮ মেগাবাইটের জিফোর্স ৬৬০০ বা এটিআই রেডন ৯৮০০ প্রো গ্রাফিক্স কার্ডের প্রয়োজন হবে৷ প্রায় সব গেমই ভিসতা সমর্থন করবে৷

ফিডব্যাক : shmt_15@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
২০০৮ - ফেব্রুয়ারী সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস
অনুরূপ লেখা