Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > এপলের আইফোন
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: নাদিম আহমেদ
মোট লেখা:৫৩
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৮ - ফেব্রুয়ারী
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
মোবাইল
তথ্যসূত্র:
মোবাইলপ্রযুক্তি
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
এপলের আইফোন

মোবাইল ফোন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত বস্তু৷ এর প্রতি আগ্রহের অন্ত নেই তরুণ সমাজের৷ আর মোবাইল ফোন কোম্পানি, সেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানেরও চেষ্টার কমতি নেই কিভাবে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা যায় ফোন সেটটিকে৷ মোবাইল ফোন এখন আর শুধু কল রিসিভ বা কল করার জন্য ব্যবহার হয় না৷ এতে রয়েছে ক্যামেরা, মিউজিক, নিউজ আপডেট, ইন্টারনেট সুবিধাসহ অনেক ফিচার৷ সম্প্রতি আইপডের ব্যাপক সাফল্যের পর অ্যাপেল বাজারে ছেড়েছে আইফোন (iPhone)৷ আইফোন হচ্ছে এপলের তৈরি ইন্টারনেট এনাবল মোবাইল ফোন৷ এতে রয়েছে মাল্টিটাচড স্ট্রিম এবং বাটনসহ ভার্চুয়াল কী বোর্ড৷ এছাড়া ক্যামেরা মোবাইল এবং পোর্টেবল মিডিয়া প্লেয়ারের সব সুবিধাও এতে বিদ্যমান৷ এতে রয়েছে ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের সুবিধাসহ ই-মেইল এবং লোকাল ওয়াইফাই কানেক্টিভিটি৷ ব্যবহার করা হয়েছে জিএসএম স্ট্যান্ডার্ড৷ আইপডের অভাবনীয় সাফল্যের পর এপল ২০০৭ সালের ২৯ জুন আইফোন সর্বপ্রথম জনসমক্ষে পরিচিত করে তোলে৷ টাইম ম্যাগাজিনে একে Invention of the year ২০০৭ বলে ঘোষণা করা হয়৷



আইফোনের ফিচার

কল :

আইফোনের রয়েছে সুদৃশ্য টাচস্ক্রিন৷ ফলে ইউজার কল করার জন্য কাঙিক্ষত নাম বা নম্বরে টাচ করেই কল করতে পারবেন৷ এতে ফেভারিট নম্বরের লিস্ট তৈরি করা সম্ভব এবং একই সাথে কল মার্জ করে কনফারেন্স কলও তৈরি করা যায়৷ এছাড়া কল হোল্ডিং, মার্জিং, কলার আইডি কনফারেন্সসহ অন্যান্য সেল্যুলার নেটওয়ার্কের সব ফিচারও এতে বিদ্যমান৷ গান শোনার সময় কল আসলে রিংটোন বাজবে এরপর কথা বলা শেষ হলে আবার গান বাজা শুরু হবে৷ অন্যদিকে ভয়েস ডায়ালিং সম্ভবপর নয় আইফোনে৷ ভিজ্যুয়াল ভয়েসমেইল ফিচার রয়েছে আইফোনে৷ এছাড়াও আইফোনে সর্বোচ্চ ৫ লাখ গান রিংটোন হিসেবে যুক্ত করা সম্ভব৷ রিংটোন ইউজার আইটিউন হতে ডাউনলোড করে নিতে পারেন (চার্জপ্রযোজ্য) অথবা ইউজার নিজেই বিভিন্ন টিউন, যা স্টোর করা রয়েছে তা এডিট করে তৈরি করতে পারেন পছন্দমতো রিংটোন৷ রিংটোনের ব্যাপ্তিকাল হতে পারে ৩ সেকেন্ড হতে ২ মিনিট পর্যন্ত৷

এসএমএস

আইফোনে রয়েছে ভার্চুয়াল QWERTY সফট কী বোর্ড, ফলে সহজেই এসএমএস টাইপ করা যায়৷ এছাড়াও এতে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের মতো স্পেল চেকিং এবং গ্রামার চেকিং অপশনও রয়েছে৷ সফট কী বোর্ড এবং টাচস্ক্রিন থাকায় একে স্মার্ট ফোনের চেয়েও সহজে ব্যবহার করা যায়৷

মাল্টিমিডিয়া

আগেই বলা হয়েছে আইফোন একটি মাল্টিমিডিয়া ফোন৷ এতে রয়েছে আইপডের মতো মিউজিক লাইব্রেরি৷ তবে প্রতিটি মিউজিক সেকশন অ্যালফাবেটিক্যালি সজ্জিত এবং আইপডের চেয়ে তুলনামূলক বড় ফন্ট ব্যবহার করা হয়েছে৷ এছাড়া আইপডের মতো আইফোনেও ইউজার গান, আর্টিস্ট অ্যালবাম, ভিডিও অথবা প্লে লিস্ট নিজের ইচ্ছেমতো কনফিগার করে নিতে পারেন৷ প্রতিটি অ্যালবামকে আলাদা ইমেজ বা আইকন দিয়েও চিহ্নিত করা সম্ভব আইফোনে৷ এগুলোও টাচ করেই অ্যালবামে ঢুকানো এবং গান সিলেক্ট করে শোনা সম্ভব৷ আইফোনের মেইনভিউর ডান পাশে রয়েছে চমল কলঠণ প্লেয়ার৷ ফলে ইউজার সহজেই You Tube হতে ব্রাউজ (Browse) এবং এক্সেস করতে পারবেন৷ পছন্দমতো ভিডিও ডাউনলোড করে স্টোর করাও সম্ভব আইফোনে৷ এছাড়া প্রয়োজনীয় You Tube -এর লিঙ্ক স্টোর করাও সম্ভব আইফোন স্টোরেজে৷ আইফোনে রয়েছে ৩.৫ ইঞ্চি স্ক্রিন৷ ফলে আইফোনে টিভি বা মুভির অংশবিশেষও দেখা সম্ভব৷ আর অন্যান্য প্লেয়ারের মতো ফরওয়ার্ড বা ব্যাকওয়ার্ড অথবা ভলিউম কন্ট্রোলার তো রয়েছেই৷

আইফোনে রয়েছে ম্যাপিং সুবিধা, যা সম্ভব হয়েছে গুগল ম্যাপ এবং আইফোনের নিজস্ব অ্যাড্রেসিং ম্যাপিং অ্যাপ্লিকেশনের জন্য৷ গুগল ম্যাপের মাধ্যমে ইউজার স্যাটেলাইট ইমেজ এবং ম্যাপ দেখতে পারেন৷ জানতে পারেন তার অবস্থান, ডিরেকশন এবং ট্র্যাফিক ইনফরমেশন৷

ওয়েব কানেক্টিভিটি :

আইফোনে সাফারি ব্রাউজারের মাধ্যমে ওয়েব এক্সেস করা সম্ভব৷ সাফারি ওয়েব ব্রাউজারও এপলের তৈরি এবং এটি পোর্টেবল ডিভাইস উপযোগী ব্রাউজার৷ আইফোনে ওয়্যারলেস কানেকশন ওয়াইফাই (Wi-Fi) অথবা এনহেন্সড জিপিআরএস (EGPRS) টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে৷ EGPRS ডিজিটাল মোবাইল ফোন টেকনোলজি যার ডাটা রেট এবং ডাটা ট্রান্সমিশন স্পিড আগের তুলনায় বেশি৷ এটি মূলত তৃতীয় প্রজন্মের টেকনোলজি৷ ওয়েব পেজ মূলত ল্যান্ডস্কেপ ভিউয়ে দেখা যায়৷ আইফোন ফ্ল্যাশ বা জাভা সমৃদ্ধ টেকনোলজি সাপোর্ট করে না৷ এর ই-মেইল প্রোগ্রাম অন্যান্য ইন্টারনেট সাপোর্টেড ফোনের মতো এইচটিএমএল ই-মেইল এবং ছবিসহ ই-মেইল, পিডিএফ, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এবং এক্সেলের এটাচমেন্ট পাঠানো এবং খোলা সম্ভব৷ ই-মেইল মাইক্রোসফট আউটলুকে কনফিগার করা যায় অথবা ইয়াহুতেও দেখা সম্ভব৷ আইফোনে রয়েছে ২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা এবং ফ্ল্যাশ ছাড়াই ছবি তোলা যায়৷ তবে আইফোনে ভিডিও রেকর্ডিং সম্ভব নয়৷ এতে ইউজার তার ছবি আপলোড জুম এবং ই-মেইল করতে পারবেন৷ এতে রয়েছে iPhone যাতে ইউজার নিজস্ব ফটো অ্যালবাম তৈরি করতে পারবেন৷

ইন্টারফেস :

আইফোনের রয়েছে তিনটি সেন্সর৷ প্রোসিমিটি সেন্সর যা অটোমেটিক্যালি ফোনের পাওয়ার সেভ করে৷ যখন ফোনটি কথা বলার জন্য কানের কাছে নেয়া হয় তখন কানের স্পর্শ টাচস্ক্রিনে কাজ করে না৷ ফলে কথা বলা/শোনার সময় টাচস্ক্রিনের স্পর্শ লাগলে তা বাধাগ্রস্ত হয় না৷ এছাড়া অন্যান্য ফোনের মতো রয়েছে অ্যামবিয়েন (Ambient) লাইট সেন্সর যা অন্যান্য ফোনের মতোই নির্দিষ্ট সময় পর ফোনের লাইট বন্ধ করে দেয়৷ তৃতীয় সেন্সরটি এক্সিস এক্সিলোমিটার যা ফোনের ওরিয়েন্Uশেন ঠিক করার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং সে অনুযায়ী স্ক্রিন পরিবর্তন করতে ব্যবহার হয়৷ এটি মূলত ব্যবহার হয় ছবি ওয়েব অথবা স্ক্রিন সেটিং ঠিক করার জন্য৷
আইফোনের মেইন মেনুর নিচের দিকের ডান পাশের ওপরের অংশে রয়েছে হোম বাটন৷ এছাড়া মেইন মেনুতে আইকনসহ ধারাবাহিকভাবে রয়েছে এসএমএস, ক্যালেন্ডার, ফটো, ক্যামেরা, ইউটিউব, স্টোক, ম্যাপ, ওয়েদার, ক্লক, ক্যালকুলেটর, নোট সেটিং এবং ইটিউনের পৃথক সিম্বল যাতে হাত দিয়ে স্পর্শ করেই ঢুকা যাবে৷ নিচের দিকে পৃথক সারিতে রয়েছে ফোন, ই-মেইল সাফারি ব্রাউজার এবং আইপডের বাটন৷ এসএমএস ইমেজে টাচ করলে লেখার স্ক্রিনসহ সফট কী বোর্ড আসবে এবং ইউজার স্ক্রিনে মেসেজ লিখতে পারবেন৷ আইফোনের পাশে বামদিকের উপরের অংশে রয়েছে তিনটি হার্ডসুইচ৷ এগুলো যথাক্রমে wake / sleep মোড, ভলিউম কমানো/বাড়ানো এবং রিংগার অন/অফ করার জন্য ব্যবহার হয়৷ অন্যান্য মাল্টিমিডিয়া এবং ফোন অপারেশন টাচস্ক্রিনেই সম্ভব৷
চার্জিং ব্যাটারি

আইফোন দুইভাবে চার্জ করা যায়৷ এটি অন্যান্য মোবাইল ফোনের মতো কেবল এবং পাওয়ার অ্যাডাপ্টারের সাহায্যেও চার্জ দেয়া যায়৷ এছাড়া এটি এমপিথ্রি প্লেয়ারের মতো পিসির সাথে যুক্ত করেও চার্জ দেয়া যায়৷ পিসির সাথে যুক্ত করার জন্য এতে ক্যাবল এবং পাওয়ার ডক রয়েছে যাতে ফোনটিকে ডকে বসিয়ে পিসির ইউএসবি পোর্টের সাথে যুক্ত করে চার্জ করা সম্ভব৷ এছাড়া পিসি হতে আইটিউনস বা গান আইফোনে কপি করে নেয়া যায়৷ আইফোন পিসির ইউএসবি পোর্টে যুক্ত করলে পাশের চিত্রের মতো আপডেট স্ক্রিন আসবে৷ যখন ইউজার আইফোন কল অথবা মেসেজের জন্য ব্যবহার করবেন না তখন তা লক করে রাখতে পারবেন৷ ফলে লক করা থাকলে টাচস্ক্রিনে স্পর্শ করলেও তা কাজ করবে না৷ তবে এক মিনিট আইফোন কাজ না করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক হয়ে যাবে৷ আইফোনের ব্যাটারি রিচার্জেবল এবং এর ব্যাটারি পরিবর্তন করা যায়৷ ব্যাটারি ওয়ারেন্টি থাকা অবস্থায় নষ্ট হলে তা পরিবর্তন করে দেবে কোম্পানি৷ অন্যথায় ইউজারকে নতুন ব্যাটারি কিনতে হবে৷ আইফোনের ব্যাটারি অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন৷ এতে ৭ ঘণ্টা ভিডিও, ৬ ঘণ্টা ওয়েব ব্রাউজিং অথবা টানা ৮ ঘণ্টা কথা বলা যাবে৷ এছাড়া এর ব্যাটারির রয়েছে ২৫০ ঘণ্টা স্ট্যান্ডবাই টাইম এবং ২৪ ঘণ্টা মিউজিক প্লেয়িং টাইম৷ এপলের সাইটে বলা হয় এর ক্ষমতার শতকরা ৮০ ভাগ প্রদর্শন করবে ৪০০টি চার্জ-রিচার্জ সাইকেলের পরই৷ যখনই শতকরা ৮০ ভাগ চার্জ সম্পন্ন হবে তখন এটি ৫.৬ ঘণ্টা ভিডিও, ৪.৮ ঘণ্টা ওয়েব ব্রাউজিং এবং ৬.৪ ঘণ্টা টকটাইম অথবা ১৯.২ ঘণ্টা মিউজিক প্লেয়িং টাইম দিতে পারবে৷

সফটওয়্যার

অপারেটিং সিস্টেমের একটি ছোট ভার্সন সীমিত ফিচারসমৃদ্ধ করে তৈরি করা হয়েছে আইফোনের জন্য৷ এটি ম্যাকের অরিজিনাল অপারেটিং সিস্টেমের চেয়ে ভিন্নতর৷ এতে রয়েছে অ্যানিমেশনের জন্য Core Animation৷ আইফোনের সম্পূর্ণ মেমরি ৪ গিগাবাইট এবং অপারেটিং সিস্টেম অর্ধেকের কম জায়গা দখল করেছে৷ আইফোনের সিপিইউ ARM প্রসেসর৷ অন্যদিকে এপলের প্রসেসর হচ্ছে X86 এবং পাওয়ার প্রসেসর৷ তবে আইফোনের অপারেটিং সিস্টেম অফিসিয়ালি সম্পূর্ণরূপে ঘোষণা করা হয়নি৷ এতে মোবাইল চ্যাট, ভয়েস রেকর্ডিং, ফ্ল্যাশ সাপোর্টসহ বিভিন্ন সুবিধা ভবিষ্যতে যুক্ত হবে বলে আশা করা যায়৷

একনজরে আইফোন

স্ক্রিন সাইজ : ৩.৫ ইঞ্চি (৮.৯সেমি)৷ স্ক্রিন রেজ্যুলেশন : ৩২৪ * ৪৮০ পিক্সেল৷ ইনপুট মেথড : মাল্টি টাচস্ক্রিন ইন্টারফেস এবং হোম বাটন৷ অপারেটিং সিস্টেম : ওএসএএক্স৷ স্টোরেজ : ৮ গিগাবাইট/৪ গিগাবাইট৷ ব্যবহৃত ব্র্যান্ড : জিএসএম, ওয়াইফাই ইবিজিই এবং ব্লুটুথ৷ ক্যামেরা : ২ মেগাপিক্সেল৷ ব্যাটারি : রিচার্জেবল, ৮ ঘণ্টা টকটাইম, ৬ ঘণ্টা ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ২৪ ঘণ্টা অডিও, ২৫০ ঘণ্টা স্ট্যান্ডবাই৷ সাপোর্টেড সফটওয়্যার : এইচটিএমএল, সাফারি, গুগল ম্যাপ, ইউটিউব, মাল্টিপল, এসএমএস৷

ফিডব্যাক : nehadaiub1@gors.it
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
২০০৮ - ফেব্রুয়ারী সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস