Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > পিসি ধীরে রান করার জন্য দায়ী কে?
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: লুৎফুন্নেছা রহমান
মোট লেখা:১৩৬
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৭ - ডিসেম্বর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
পিসি
তথ্যসূত্র:
ব্যবহারকারীর পাতা
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
পিসি ধীরে রান করার জন্য দায়ী কে?

আপনার পিসি কি ধীরগতিতে রান করে? ওয়েবসাইট লোড হতে দীর্ঘ সময় নেয়? উইন্ডোজ স্টার্ট হতে দীর্ঘ সময় নেয়? ইত্যাদি সমস্যার জন্য আমরা সাধারণত উইন্ডোজকে দোষারোপ করে থাকি৷ এ ধরনের সমস্যার জন্য উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমকে গালাগাল দেয়ার আগে আমাদেরকে কিছু বিষয়ে ধারণা রাখা উচিত৷ কেননা আপনার কমপিউটারে ব্যবহার হওয়া কোনো কোনো সফটওয়্যার এ ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে, যা আমরা অনেকেই জানি না বা বুঝি না৷ কারণ, কোনো কোনো প্রোগ্রাম ব্যাকগ্রাউন্ডে রান হয়, যা বিপুল পরিমাণে রিসোর্স অধিগ্রহণ করে৷ এমনকি এসব প্রোগ্রাম যখন নিষ্ক্রিয় থাকে, তখনও অপ্রয়োজনীয়ভাবে ৠাম অধিগ্রহণ করে থাকে৷



সুতরাং সিস্টেম পরীক্ষা করে দেখা উচিত এবং ব্যাপকভাবে রিসোর্স অধিগ্রহণকারী সফটওয়্যারগুলো শনাক্ত করে তা অপসরণ করা এবং অধিকতর কমপ্যাক্ট টুল ব্যবহার করা উচিত৷ কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কোন কোন প্রোগ্রাম ব্যবহার করা উচিত এবং সেই প্রোগ্রাম সম্পর্কে কিভাবে নিশ্চিত হবেন? এর জন্য প্রথমে পরখ করা যাক আপনার সিস্টেমে বিদ্যমান সিকিউরিটি স্যুট, আইটিউন বা গুগল সাইডবারের কারণে কি হয়?

সিকিউরিটি স্যুট

যখন ব্রাউজার ধীরে রান করে : নিরাপত্তার জন্য সবসময় সিকিউরিটি সফটওয়্যার প্যাকেজের গুরুত্ব অপরিসীম৷ বিস্ময়কভাবে সিকিউরিটি টুলে সম্পৃক্ত করা হয়েছে এন্টিফিশিং, এন্টিস্পাইওয়্যার, এন্টিস্প্যাম, ফায়ারওয়াল এবং ভাইরাস স্ক্যানার ইত্যাদি ফাংশন৷ এতগুলো ফাংশনের সংগ্রহ কমপিউটার পারফরমেন্সের ওপর প্রভাব ফেলবে এটাই স্বাভাবিক৷

আমরা জানি, নর্টন ইন্টারনেট সিকিউরিটি ২০০৭ সার্ফিং স্পিডে প্রভাব ফেলে৷ এখানে একটি মাত্র ব্রাউজার উইন্ডো ওপেন হয়, যেখানে সিপিইউর ব্যবহার ৮০% বেড়ে যায়৷ সেই তুলনায় সিকিউরিটি স্যুট ছাড়া সার্ফিংয়ে সিপিইউর ব্যবহার হয় মাত্র ২০-৩০%৷ শুধু তাই নয়, স্যুটিং সময়ও প্রায় ২৩ সেকেন্ড কমে যায়৷ কারণ, স্যুটের উপস্থিতি৷ ৠাম ব্যবহারের ক্ষেত্রেই শুধু সফটওয়্যার মিতব্যয়ী৷ সিমেনটেকের চারটি অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে, যেগুলো সক্রিয় থেকে ৪০ মে.বা. অধিগ্রহণ করে৷ এই ইউটিলিটিগুলো আগের ভার্সন, যা ২০০৬ সালে রিলিজ পেয়েছিল সেগুলোর তুলনায় উন্নততর এবং কম সিস্টেম রিসোর্স অধিগ্রহণ করে৷

আরেকটি সিকিউরিটি সংক্রান্ত স্যুট রয়েছে, যা পিসিকে ধীরগতিসম্পন্ন করে৷ কমপিউটার অ্যাসোসিয়েটস এন্টিভাইরাস উইন্ডোজ বুট টাইমকে প্রায় এক মিনিট প্রলম্বিত করে৷ এটি সার্ফিংকে ধীর করে না, তবে স্যুটের ফায়ারওয়াল সিস্টেমের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায় যখনই ব্রাউজার ওয়েবসাইট কল করে৷

পিসিকে রক্ষা করার জন্য কতগুলো অ্যাপ্লিকেশনের দরকার তা প্রত্যেক ব্যবহারকারীর স্বাভাবিক প্রশ্ন৷ ম্যাকাফি ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট ব্যবহার করে ন্যুনতম ১৫টি অ্যাপ্লিকেশন এবং এগুলোর সবই যুগপত্ভাবে স্টার্ট হয়৷ অনেক অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে যেগুলো সম্মিলিতভাবে সামান্য কিছু বেশি মেমরি ব্যবহার করে৷ যদিও সিপিইউর ব্যবহার হয় ৫০% যখন সার্ফিং মনিটর করে৷

জি-ডাটা সিকিউরিটি স্যুট কল করা হলে একটি ওয়েবসাইট ইউআরএল পরীক্ষা করে দেখে৷ এই টুলের সিপিইউর ব্যবহার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে থাকে এবং প্রতিটি সাইট সম্পূর্ণ ডাউনলোড হবার পর তা আকস্মিকভাবে কমে যায়৷ উপরন্তু,-এ মডিউলটি বাড়তি ৮০ মে.বা. বেশি মেমরি ব্যবহার করে৷ এই সিকিউরিটি স্যুট অন্যান্য স্যুটের তুলনায় দ্রুতগতিতে পিসি বুট করতে পারলেও ৩০ সেকেন্ড সময় নেয় এবং সব জি-ডাটা অ্যাপ্লিকেশন স্টার্ট করতে এবং সিস্টেম চেক করতে শতভাগ পাওয়ার ব্যবহার করে৷

এটি কদাচিত্ বিস্ময়কর যে সিপিইউ ভ্যালু পরিমাপ করা হয় যেখানে সিকিউরিটি স্যুটের জন্য ভাইরাস চেক করতে ৬৭ থেকে ৮৬ শতাংশ বেশি সময় নেয়৷ এ কারণে স্ট্যান্ড এলোন ভাইরাস স্ক্যানার যেমন এন্টিভার পিই (Antivir PE)পিসিরনিরাপত্তার জন্য বিকল্প জনপ্রিয় টুল হিসেবে বিবেচিত৷ এই ফ্রি অ্যাপ্লিকেশনটি মাত্র ৬৪ শতাংশ সিপিইউর পাওয়ার ব্যবহার করে এবং অফার করে এক চমত্কার ব্যালেন্স সিকিউরিটি ও সিস্টেম লোড৷ যেহেতু এন্টিভার শুধু ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তারপরও এর পারফেরমেন্স চমত্কার৷ এক্ষেত্রে অন্যান্য বিষয়ে সিকিউরিটির জন্য আপনি সাধারণ জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারেন৷ অন্ধের মতো এটাচমেন্ট ফাইল ওপেন করা উচিত নয়৷ উইন্ডোজের সর্বশেষ আপডেট ব্যবহার করুন এবং অসতর্কভাবে প্রলুব্ধকর ওয়েব লিঙ্কে ক্লিক করা উচিত নয়৷

ইন্টারনেট

ওয়েব থেকে ডাটা পুঞ্জীভূত করলে পিসির গতি কমে যায় : অতীতে সার্ফিং ছিল খুব সহজ এবং সাদামাটা ধরনের৷ ওয়েব ২.০-এ প্রত্যেক ব্যবহারকারী ইন্টারনেটে তার ডেস্কটপ পেতে পারে৷ ফাইল শেয়ারিং নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীর মাল্টিমিডিয়ার প্রয়োজনীয়তা মেটাতে পারে৷ এ ধরনের সার্ভিসের জন্য অর্থ ব্যয় করতে হয় রিসোর্স অনুযায়ী৷

এ ব্যাপারটিকে বুঝানোর জন্য বলা যেতে পারে গুগল ডেস্কটপ ও তার সাইডবার৷ সাইডবার অফার করে ফ্রি সার্ভিস৷ যেমন নিউজ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, দৈনিক রাশিচক্র৷ এগুলো গেজেটের মাধ্যমে সম্প্রসারণ করা যাবে৷ তবে এরচেয়ে বেশি হলে পিসির গতি কমে যেতে থাকবে৷

গেজেট অবিরতভাবে ইন্টারনেট থেকে ডাটা লোড করে এবং তা কখনো কখনো সিপিইউর ২০%, ৪০% এমনকি ৬০% পাওয়ার ব্যবহার করে৷ কেননা, গুগল সফটওয়্যার অবিরতভাবে রান করতে থাকে৷ সুতরাং এ ব্যাপারে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে৷ যাতে করে এটি ১০০ মে.বা. ৠাম ব্যবহার করে এবং ৭০ মে.বা. সোয়াপ ফাইলের জন্য থাকে৷ ফিল্ম, মিউজিক এবং গেমস, অন্যান্য আকর্ষণীয় বিষয় এবং বৈধ নয় এমন কিছু সবসময় ফাইল শেয়ারিং নেটওয়ার্কে পাওয়া যায়৷ এ ধরনের টুলগুলোর মধ্যে কাজ্বা মিডিয়া ডেস্কটপ-এর বেশ দুর্নাম রয়েছে৷ কেননা, এটি স্পাইওয়্যার ও বিরক্তিকর পপআপ বিজ্ঞাপন দিয়ে পরিপূর্ণ থাকে৷ যদিও কাজ্বার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, কাজ্বায় কোনো স্পাইওয়্যার নেই, তারপরও সেখানে বেশ বিজ্ঞাপন দেখা যায়৷ ব্যানারে ক্লিক করলেই কুকিজ আপনার আচরণ রেজিস্টার করে ফেলবে৷

এ ধরনের ফাইল শেয়ারিং নেটওয়ার্কে সিপিইউর ব্যবহার বেশ উঁচু মাত্রায় লক্ষ করা যায়৷ অনেক সময় এ ধরনের ঘটনার জন্য ইন্টিগ্রেটেড ভাইরাস স্ক্যানিং ফাংশনও দায়ী৷ এগুলো একবার সক্রিয় হতে পারলে তা ধীরে ধীরে ৫০ শতাংশ সিস্টেম প্রসেসিং পাওয়ার ব্যবহার করতে পারে৷ এছাড়াও কাজ্বা সংক্ষিপ্ত বিরতির পর সিস্টেম রিসোর্স ব্যবহার করতে চায়, যার ফলে সিপিইউর লোড ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়৷ এগুলো বাধাপ্রাপ্ত হয় বিশ্রাম ফেজে যেখানে খুব বেশি হলে ১০ শতাংশ ব্যবহার হয় যদি ফাইল বিনিময় করা না হয়৷

অনেকের মতে কাজ্বার বিকল্প হিসেবে টরেন্ট ক্লায়েন্ট অ্যাজুরাস ব্যবহার করা যেতে পারে, যদিও এটি সিস্টেমের জন্য বোঝা৷ অ্যাজুরাস একটি জাভা প্রোগ্রাম, এটি রান করতে জাভা লাইব্রেরি দরকার৷ সিপিইউর ব্যবহার কালেভদ্রে ১০ শতাংশ অতিক্রম করে৷

অ্যাপ্লিকেশন

এ প্রোগ্রাম চলাকালীন অন্য কোনো প্রোগ্রাম চালু করা যায় না : পিডিএফ ডকুমেন্ট রিড করার জন্য প্রায় সবাই অ্যাক্রোব্যাট রিডার ব্যবহার করেন৷ কারণ, এর বিকল্প সফটওয়্যার সুমাত্রার নাম খুব কম ব্যবহারকারীই জানেন৷ সিপিইউ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অ্যাডোবি প্রোগ্রামের পারফরমেন্সের বেশ কুখ্যাতি রয়েছে৷ পিডিএফে সাধারণ স্ক্রলিংয়ে ও ৪৪ শতাংশ সিপিইউ রিসোর্স অধিগ্রহণ করে৷ যদি ডায়নামিক জুম ব্যবহার করা হয়, তাহলে সিপিইউর ব্যবহার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়৷

অ্যাডোবির আরেকটি পণ্য ফটোশপ এলিমেন্টস ব্যাপকভাবে রিসোর্স অধিগ্রহণ করে৷ এটি স্টার্ট হতে প্রায় ৩০ সেকেন্ড সময় নেয়৷ এই প্রোগ্রামটি উইন্ডোজ এক্সপির চেয়েও প্রায় ২৩ সেকেন্ড বেশি সময় নেয় স্টার্ট হতে৷ ফটোশপ এলিমেন্ট গড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ সিপিইউ রিসোর্স ব্যবহার করে৷ ডাটাবেজে নতুন ফটো যুক্ত করার জন্য দরকার হয় ১৭০ মে.বা. সিস্টেম মেমরি৷

এখানেই শেষ নয়৷ একটি সক্রিয় এডিটিং ফাংশন যেমন চেকিং ও রেড আই রিমুভ করতে সিপিইউর লোড ৯০% বেড়ে যায় এবং পিসি খুব কমই অন্য কোনো কিছু করতে পারে৷

ফটোশপের বিকল্প হিসেবে ফ্রিওয়্যার ইমেজ ভিউয়ার ইরফানভিউ-এর তুলনায় অনেক কম রিসোর্স অধিগ্রহণকারী৷ এটি যখন ফটো এডিটিংয়ের কাজ করে, তখন ৩০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত সিপিইউ রিসোর্স ব্যবহার করে৷ এই টুল কদাচিত্ ৠাম রিসোর্স ব্যবহার করে৷ এটি ফটোশপ এলিমেন্টের চেয়ে অধিকতর সহজে এবং দ্রুতগতিতে সাধারণ সর্টিং ও এডিটিংয়ের কাজ করতে পারে৷

ভার্চুয়ালাইজার বেশ জনপ্রিয়৷ কেননা, ভার্চুয়াল মেশিন এনভায়রনমেন্টে সার্ফ করা নিরাপদ৷ তাছাড়া এগুলোর জন্য দরকার হয় ডুয়াল কোর সিপিইউর ক্ষেত্রে কম সিস্টেম রিসোর্স৷ ভার্চুয়াল পিসিতে সার্ফিং করলে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়৷

বিপুলসংখ্যক ফন্ট ইনস্টল করলে উইন্ডোজ বুটিং প্রসেস কমে যায়৷ বুট প্রসেসে যেখানে ৪৫ সেকেন্ড সময় নেয় সেখানে বিপুলসংখ্যক ফন্টের কারণে বুট প্রসেস সময় অনেক বেড়ে যায়৷

দেরি হওয়ার কারণ : উইন্ডোজ এক্সপি যখন স্টার্ট করা হয়, তখন ইনস্টল করা সব ফন্ট লোড হয়৷ সাধারণত উইন্ডোজের সাথে প্রায় ৭০টি ফন্ট থাকে, যা স্টার্টআপ সময়ে কোনো প্রভাব ফেলে না৷ কিন্তু এ সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়, যখন কয়েকটি গ্রাফিক্স ও ডেস্কটপ পাবলিশিং অ্যাপ্লিকেশন যেমন কোয়ার্ক এক্সপ্রেস ইনস্টল করা হয়৷ এমন অবস্থায় পিসি স্টার্ট নিতেও প্রচুর সময় নেবে৷

মাল্টিমিডিয়া

প্লেয়ার প্রদর্শন করে ঝাঁকুনিপূর্ণ ডিসপ্লে : মুভি প্লে করা, মিউজিক শোনা এবং মিডিয়া ফাইল অর্গানাইজ করা ইত্যাদি কাজ পিসির ওপর ব্যাপক লোড ফেলে৷ এছাড়াও প্রস্তুতকারকরা তাদের মাল্টিমিডিয়া পণ্যকে সুসজ্জিত করে বিপুলসংখ্যক ফাংশন, আকর্ষণীয় ইন্টারফেস, স্বয়ংক্রিয় ওয়েব কানেকশন এবং এনিমেশন দিয়ে৷ যারা মাল্টিপল প্রোগ্রাম ব্যবহার করে মুভি ও মিউজিক ফাইলগুলোকে ক্যাটাগরাইজ ও মূল্যায়ন করার জন্য৷ ফলে পিসির পারফরমেন্স স্টার্ট হওয়ার পর থেকেই কমতে থাকবে৷ এর ভালো দৃষ্টান্ত হলো পিনাকল মেডিসেন্টার৷

মিডিয়া সেন্টার তাত্ক্ষণিকভাবে ইনস্টল করে এসকিউএল সার্ভর মাল্টিমিডিয়া কানেকশন ম্যানেজ করার জন্য৷ যদি আপনি সার্ভারকে পুরোপুরিভাবে এড়িয়ে যান, তাহলেও এটি প্রতিবার সিস্টেম স্টার্ট করার সময় ৫০ মে. বা.-এর বেশি মেমরি ব্যবহার করে৷ এমনকি প্রকৃত প্রোগ্রাম ওপেন না করেই৷ যদি এতে সোয়াপ ফাইল যুক্ত থাকে তাহলে এটি ১০০ মে. বা.-এ উন্নীত হয়৷ যখন আপনি টেলিভিশন দেখতে চান, তখনই প্রোগ্রাম লোড হওয়া উচিত৷ কিন্তু এক্ষেত্রে স্টার্ট হতে ১৫ সেকেন্ড সময় নেয়৷ মেডিসেন্টার ব্যাপকভাবে সিপিইউ ক্যাপাসিটি অধিগ্রহণ করে৷ ফলে অন্য কোনো প্রোগ্রাম আর রান হতে পারে না সেই সময়৷ এ অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে৷ ফলে টিভি প্রোগ্রাম রেকর্ডিংয়ের সময় সিপিইউর ব্যবহার কদাচিত্ ৬০% অতিক্রম করে৷

উইন্ডোজে আইটিউনের পারফরমেন্সের ক্ষেত্রে দুর্নাম রয়েছে৷ যদিও এর কোনো যৌক্তিকতা নেই৷ আইটিউনে মিউজিক শোনার জন্য দরকার হয় ১২ শতাংশ সিপিইউর রিসোর্স৷ পক্ষান্তরে সিপিইউর ব্যবহার এনকোডিংয়ের সময় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত লক্ষ করা যায়৷ কারণ, এই প্রোগ্রামটি সেগুলোকে বাইডিফল্ট AAC ফরমেটে রূপান্তর করে৷ তবে প্রোগ্রাম গোগ্রাসে প্রচুর ৠাম অধিগ্রহণ করে এমনকি যখন এটি অপারেট করে না৷

মিডিয়া প্লেয়ার ক্ল্যাসিক বেশ রিসোর্স সেভ করতে পারে অডিও বা ভিডি ফাইল প্লে করার সময়৷ এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ কেননা, এইচডি ফিল্ম পুরো সিপিইউ ক্যাপাসিটি গ্রহণ করে৷ তবে এর ব্যতিক্রম দেখা যায় হালকা ধরনের প্লেয়ারের ক্ষেত্রে৷ আপনি কোনো ঝাঁকুনি ছাড়াই মুভি উপভোগ করতে পারবেন৷ যখন ডিভিডি প্লে করা হয় তখন মিডিয়া প্লেয়ার ক্ল্যাসিক নিরোর শো টাইমের চেয়ে ১১ শতাংশ কম সিপিইউ রিসোর্স ব্যবহার করে৷ এই ফ্রি অ্যাপ্লিকেশনটি কম রিসোর্স ব্যবহার করে৷ এমনকি কুইকটাইম ও রিয়েল প্লেয়ারের চেয়ে কম৷

রিয়েল প্লেয়ারও সিস্টেমকে ধীর করে৷ রিয়েল প্লেয়ারের ইন্টারফেসটি সম্পূর্ণ সেট হতে ২০ সেকেন্ড. সময় নেয়৷ এর কারণ প্লেয়ার প্রতিবার স্টার্টের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইন্টারনেটে যুক্ত হতে চেষ্টা করে৷
................................................................................................................

লক্ষণীয়

যদি কোনো প্রোগ্রাম অহেতুক প্রচুর পরিমাণে রিসোর্স অধিগ্রহণ করে, তাহলে আপনার যা করা উচিতণ্ড এক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে যেগুলোকে ট্র্যাক ও দক্ষতার সাথে সংস্কার সাধন করবে এবং এরপরও যদি কাজ না করে, তাহলে সেই প্রোগ্রামগুলো আনইনস্টল করতে হবে৷ এসব উদ্দেশ্যে নিচে বর্ণিত টুলগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে৷

প্রসেস মনিটর

উইন্ডোজ টাস্ক ম্যানেজার কেবল বর্তমানে চালু কাজের বাহ্যিক দৃশ্য প্রদর্শন করে৷ প্রসেস মনিটর অন্যদিকে ডিএলএল, ড্রাইভার প্রোগ্রাম মডিউল ইত্যাদি বিস্তারিত প্রদর্শন করে এবং ভ্যালু রেজিস্ট্রি থেকে রিড করে সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করে৷
ওয়েবসাইট : www.microsoft.com

অটোরানস

msconfig উইন্ডোজ টুল সব প্রসেস ডিসপ্লে করে না যা অপারেটিং সিস্টেমের সাথে স্টার্ট হয়৷ এখানে সক্রিয় রিসোর্স অধিগ্রহণ হতে থাকে অবিরতভাবে৷ অটোরান টুল অনাকাঙিক্ষত অটোস্টার্ট এন্ট্রি খুঁজে দেখে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সিলেক্ট করা এন্ট্রি অপসারণ করে৷
ওয়েবসাইট : www.microsoft.com

সিক্লিনার

অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম আনইনস্টল করার পরও কিছু কিছু প্রোগ্রাম কমপিউটারে থেকে যায়৷ যেমন রেজিস্ট্রি এন্ট্রি এবানডেন হওয়া৷ এসব প্রোগ্রাম ট্র্যাক ও রিমুভ করার জন্য সিক্লিনার প্রোগ্রাম কার্যকর ভূমিকা রাখে৷
ওয়েবসাইট : www.ccleaner.com ..............................................

যেসব অ্যাপ্লিকেশন কমপিউটারের গতি কমায়

নর্টন ইন্টারনেট সিকিউরিটি ২০০৭



Slow surfing is safe surfing -এই নীতি অনুসারী ইউটিলিটি৷

সিএ ইন্টারনেট সিকিউরিটি স্যুট ২০০৭



বাড়তি এক মিনিট যুক্ত করে কমপিউটারের সার্বিক বুট টাইমে৷

ম্যাকাফি ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি স্যুট ২০০৭



র‌্যাম, সিপিইউ, পাওয়ার ইত্যাদি সবকিছুর জন্য বাড়তি শক্তির দরকার হয়৷

জি-ডাটা ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি স্যুট ২০০৭



ভিন্ন বিষয়ে দক্ষতার সাথে প্রোটেক্ট করার জন্য প্রচুর ৠাম ও সিপিইউ অধিগ্রহণ করে৷

গুগল ডেস্কটপ ৫.১



বিপুলসংখ্যক ফিচার সমন্বিত থাকায় সিস্টেমকে হতে হয় শক্তিশালী, যা রীতিমতো ব্যয়বহুল৷

কাজ্বা ৩.২.৫



এটি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সিপিইউ লোড ব্যবহার করে৷

অ্যাডোবি রিডার ৮.১



পিডিএফ ডকুমেন্টজুড়ে স্ক্রলিং করতে ৫৪ শতাংশ সিপিইউ পাওয়ার ব্যবহার করে৷

অ্যাডোবি ফটোশপ এলিমেন্টস ৫



উইন্ডোজ এক্সপি বুট হতে যত সময় নেয় তার চেয়েও বেশি সময় নেয় স্টার্ট হতে৷

ভার্চুয়ালবক্স ১.৪



সিঙ্গেল কোর সিপিইউর চেয়ে ডুয়াল কোর সিপিইউতে অধিকতর দক্ষতার সাথে কাজ করে৷

২০০০ ফন্ট



যত বেশি ফন্ট থাকবে উইন্ডোজ বুটিং প্রসেসও তবে বেশি ধীর গতিতে হবে৷

আইটিউন ৭.৩.২



মিউজিক এনকোডিংয়ের সময় শূটআপে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সিপিইউ ব্যবহার হয়৷

ফিডব্যাক : mahmood_sw@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
২০০৭ - ডিসেম্বর সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস