Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > চাই এক্সপির সুষ্ঠু ব্যবহার-২
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: তাসনীম মাহ্‌মুদ
মোট লেখা:১১৯
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - জানুয়ারী
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
উইন্ডোজ ‍এক্সপিসফটওয়্যার, 
তথ্যসূত্র:
ব্যবহারকারীর পাতা
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
চাই এক্সপির সুষ্ঠু ব্যবহার-২
সিস্টেমে কোনো সমস্যা হলে যেমন- সিস্টেম ক্র্যাশ করলে, সিস্টেম ধীরে রান করলে, সিস্টেম হ্যাং করলে এ ধরনের সমস্যার জন্য আমরা সবাই হয় উইন্ডোজকে দোষারোপ করি, নয়তোবা হার্ডওয়্যারের দোষ দিই। কিন্তু এটি সর্বতোভাবে সঠিক নয়। সিস্টেমে এ ধরনের সমস্যার জন্য ব্যবহারকারীর আচরণও বহুলাংশে দায়ী। ব্যবহারকারীর যেসব আচরণের জন্য সিস্টেম ক্ষতিগ্রসত্ম হয় তার কিছু অংশ পাঠকদের উদ্দেশে এর আগে তুলে ধরা হয়েছিল ‘চাই এক্সপির সুষ্ঠু ব্যবহার’ শিরোনামে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও আরো কিছু সমস্যার সমাধান তুলে ধরা হয়েছে। এসবের জন্য ব্যবহারকারীই একামত্মভাবে দায়ী।

প্রয়োজনাতিরিক্ত ফন্ট

ডিজাইন করার সময় এবং বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট যেমন- ম্যাগাজিন, ব্রুশিয়র, লেটারহেড, ভিজিটিং ও জন্মদিনের কার্ড তৈরির সময় আমরা মাল্টিপল ফন্ট ব্যবহার করি। এ ফাইলগুলো তৈরি করতে যেসব অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হয়, সেসব অ্যাপ্লিকেশনের সাথে কিছু বিল্ট-ইন ফন্ট থাকে। এ ফন্টগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টল হয়। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা অনেকেই নিজেদের আত্মতৃপ্তির জন্য এসব ফন্ট ছাড়া কিছু থার্ডপার্টি ফন্ট ডাউনলোড ও ইনস্টল করি। বাছবিচারহীনভাবে এসব বাড়তি ফন্ট পিসিতে ইনস্টল করার ফলে সিস্টেমে কাজের গতি কমে যায়। কেননা, উইন্ডোজ সব ফন্ট ফাইলই স্টার্টআপের সময় মূল মেমরিতে লোড করে নেয়। সিস্টেমে অসংখ্য ফন্ট ফাইল ইনস্টল করার ফলে সাইজ অনেক বেড়ে যায়। এর ফলে পিসির বুটটাইমও ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।

সমাধান


Start->Settings->Control Panel->Fonts-এ নেভিগেট করে আপনার কমপিউটারের ফন্ট ওপেন করুন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় প্রথমে একই ধরনের ফন্টগুলো চিহ্নিত করা যেগুলো ছাড়া আপনার কাজ স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যেতে পারবেন। আর এজন্য View->List Fonts by Similarity-তে গিয়ে ড্রপডাউন বক্স থেকে বেজ হিসেবে একটি ফন্ট সিলেক্ট করুন। এবার ফন্টগুলো ডিলিট করার সিদ্ধামত্ম নেবার আগে Details ভিউ বাটন টোগল করে চেক করে দেখুন ফাইল কত বড়।

এক্ষেত্রে ম্যাক ব্যবহারকারীরা একটু সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। কেননা, তারা ফ্রিওয়্যার ‘লাইনোটাইপ ফন্টএক্সপ্লোরার এক্স’ ব্যবহার করতে পারছেন। এটি www.linotype.com সাইট থেকে ফ্রি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। এই টুল এপলের আইটিউনের ইঙ্গিতবহ ইন্টারফেস সম্বলিত ফন্টলিস্ট প্রদর্শন করে। সিঙ্গেল ক্লিকেই ফন্ট ডিলিট হয়। সহজে ব্রাউজিংয়ের সুবিধার জন্য ভিউ টোগল করতে ViewWYSIWYG Font list নেভিগেট করুন (এখানে WYSIWYG-এর পুরো রূপ হচ্ছে What-You-See-Is-What-You-Get)। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী খুব সহজেই তাৎক্ষণিকভাবে ফন্টের টাইপ ফেস বুঝে সে অনুযায়ী যথাযথ সিদ্ধামত্ম নিতে পারবেন।

সতর্কতা

সিস্টেম ফন্ট অর্থাৎ উইন্ডোজের ডিফল্ট ফন্টকে তালগোল পাকানো উচিত নয়। সিস্টেম ফন্টের পুরো লিস্ট পাওয়া যায় www.microsoft.com/typography/default.mspx সাইটে। ফন্ট ফোল্ডারের অন্যান্য ফন্ট মাইক্রোসফট অফিস বা থার্ডপার্টি সফটওয়্যার থেকে আসে। এগুলো খুব একটা জরুরি ধরনের ফন্ট টাইপ নয়। সুতরাং এগুলো ডিলিট করাই যুক্তিযুক্ত কাজ হবে। ডিলিট করার আগে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে যে, এই ফন্টগুলো ভবিষ্যতেও দরকার হবে না।

সার্ভিসসমূহ

পিসির সিস্টেম স্টার্টআপ প্রসেস ধীরগতিসম্পন্ন হবার কারণ শুধু অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এ তালিকায় রয়েছে অপ্রয়োজনীয় সার্ভিসসমূহ, যা রিসোর্সকে ভারাক্রামত্ম করে বুট টাইম বাড়িয়ে দেয়। অবশ্য এটি বলা যাবে না এগুলোর বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। কেননা এসব বিষয়ের অনেকই উইন্ডোজের অনুজ্ঞামূলক, যা কোনো ঝামেলা ছাড়াই কাজ করে। তবে সিস্টেমের সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে তারও প্রয়োজন নেই। কেননা, এসব ফাংশনের মধ্যে কোনো কোনোটি ম্যানুয়ালি অন করা যায় ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী।

সমাধান

উইন্ডোজের সাথে এমন কিছু টুল থাকে, যা সিস্টেম স্টার্টআপ সার্ভিসকে ডিজাবল করতে সহায়তা করে। এজন্য StartRun-এ গিয়ে টেক্সট বক্সে msconfig.exe এন্টার করুন। এর ফলে সিস্টেম কনফিগারেশন ইউটিলিটি উইন্ডো ওপেন হবে। Services ট্যাবে সুইচ করে টোগল করুন Hide.all Microsoft Services অপশন। এবার যেকোনো এন্ট্রিকে নিষ্ক্রিয় করুন যেটি আপনার কাছে অর্থহীন মনে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই ইউটিলিটি প্রতিটি সার্ভিসের ব্যাখ্যা প্রদান করেনি। যে কারণে ব্যবহারকারীরা সব সময় যথাযথ সিদ্ধামত্ম নিতে পারেন না। যদি কোনো ক্ষেত্রে সিদ্ধামত্ম নিতে ব্যর্থ হন, তাহলে ব্ল্যাকভিপার ওয়েবসাইটে গিয়ে সার্ভিস এনাবল এবং ডিজাবলের ইনস্ট্রাকশন অনুসরণ করতে পারেন। ব্ল্যাকভিপারের ওয়েবসাইট হলো www.blackviper.com।

ড্রাইভার সংক্রামন

যখনই সিস্টেমে কোনো হার্ডওয়্যার প্ল্যাগ করা হয়, তখনই সেই ডিভাইসের জন্য একটি ড্রাইভার ইনস্টল করতে হয়, যাতে কাজ করা যায়। পিসির লাইফটাইমে এমন অনেক প্ল্যাগ অ্যান্ড প্লে ইনস্ট্রুমেন্টের আগমন ও প্রস্থান ঘটে, যেমন প্রিন্টার স্ক্যানার, ডিজিটাল ক্যামেরা। যদি ব্যবহারকারী একজন প্রযুক্তিবিদ হয়ে থাকেন, তাহলে নিঃসন্দেহে বলা যায় তিনি বিভিন্ন সময় প্রয়োজনে বিভিন্ন ধরনের ডিভাইসের জন্য বিভিন্ন ধরনের ড্রাইভার তার কমপিউটারে ইনস্টল করেছেন, যা তার সিস্টেমকে ভারাক্রামত্ম করে তুলেছে।

প্রয়োজনাতিরিক্ত ড্রাইভারই হচ্ছে প্রধান আসামি, যা সিস্টেমকে ধীরগতিসম্পন্ন করে ফেলে। মাত্রাতিরিক্ত ড্রাইভার সিস্টেমের যথাযথ ফাংশনের ক্ষেত্রে যেমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তেমনি কারণ হয়ে দাঁড়ায় বিএসওডি (ব্লু স্ক্রিন অব ডেথ)-এর। এ সমস্যাটি মূলত আবির্ভূত হয়েছে দুর্বলভাবে ড্রাইভার প্রোগ্রাম রচনার জন্য অথবা হার্ডওয়্যারের ম্যালফাংশনের কারণে।

সমাধান

সিস্টেম থেকে অবাঞ্ছিত ড্রাইভারসমূহ অপসারণ করার আগে সব ড্রাইভারের একটি ব্যাকআপ কপি তৈরি করা উচিত।

ড্রাইভারের ব্যাকআপ কপি তৈরি করার জন্য ড্রাইভম্যাক্স ইউটিলিটি ব্যবহার করা যেতে পারে। এই ইউটিলিটি www.innovative-sol.com/drivermax/ সাইট থেকে ফ্রি ডাউনলোড করার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। প্রোগ্রাম ইন্টারফেসে Driver Operations-Export drivers-এ গিয়ে সব ড্রাইভার একটি ফোল্ডারে এক্সপোর্ট করতে হবে।

ব্যাকআপ প্রসেস সম্পন্ন হবার পর অপ্রয়োজনীয় ড্রাইভার রিমুভের কাজ করতে হবে উইন্ডোজ সিস্টেম ইউটিলিটি ব্যবহার করে। StarSettingsControl PanelSystem-এ গিয়ে সিস্টেম প্রোপার্টিজ উইন্ডোজ ওপেন করুন। Advanced ট্যাবে সুইচ করে Environmental Variables বাটনে প্রেস করুন। এরপর সিস্টেম ভেরিয়েবল প্যানেলের অমত্মর্গত New-তে ক্লিক করুন এবং ভেরিয়েবল নেম হিসেবে ইনপুট করুন devmgr_show_nonpresent_devices এবং ভেরিয়েবল ভ্যালু হিসেবে ‘1’ এবং পরিবর্তনসমূহ সেভ করার জন্য ওকে প্রেস করুন Environmental Variables উইন্ডো থেকে। সিস্টেম প্রোপার্টি উইন্ডোতে Hardware ট্যাবে সুইচ করুন এবং Device Manager বাটনে প্রেস করুন। পরবর্তী উইন্ডোতে ViewShow hidden devices-এ এক্সেস করুন যাতে করে কমপিউটার ড্রাইভারসমূহ ডিসপ্লে করে।

সতর্কতা

Device Manager অল্পকিছু ড্রাইভার লাল ক্রস দিয়ে চিহ্নিত করে। সুতরাং অন্ধের মতো কমপিউটার থেকে সব ড্রাইভার মুছে ফেলা ঠিক হবে না। কেননা, এসব ফাইল সত্যিকার অর্থে করাপ্টেড বা ড্যামেজ নাও হতে পারে। সুতরাং যেকোনো ড্রাইভার রিমুভ করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন। অন্যথায় এড়িয়ে যান
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
২০০৯ - জানুয়ারী সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস