Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > গেম-রেড অ্যালার্ট ৩, ‍আন্ডারকভার
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: অনিমেষ ‍আহমেদ
মোট লেখা:১৬
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - জানুয়ারী
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
গেমকমপিউটার গেম, 
তথ্যসূত্র:
গেমের জগৎ
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
গেম-রেড অ্যালার্ট ৩, ‍আন্ডারকভার

রেড অ্যালার্ট ৩

২০০১ সালে ওয়েস্টউড তৈরি করে কমান্ড অ্যান্ড কনকোয়ার সিরিজের রেড অ্যালার্ট গেমের সরাসরি সিক্যুয়াল রেড অ্যালার্ট ২। মনকাড়া কাহিনী এবং সেই সময়ের আকর্ষণীয় গেম প্ল্যান সবাইকে মুগ্ধ করে। ৯/১১ পরবর্তী সময়ে যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করে সেই রকম আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং প্রেক্ষাপট নিয়ে এই গেমের মূল গেমপ্লে তৈরি করা হয়। ৯/১১-এর আগেই এরকম একটি প্রেক্ষাপট নিয়ে তৈরি করা গেম সবাইকে মাতিয়ে রেখেছিল সেই সময়। পরবর্তী সময়ে ওয়েস্টউড স্টুডিওকে ইলেক্ট্রনিক আর্টস কিনে নেয়ায় বিশ্বব্যাপী অসংখ্য গেমার হতাশ হয়েছিলেন রেড অ্যালার্ট সিরিজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে। এই গেমটি এতটাই সাড়া ফেলেছিল সেই সময় যে এর একটি এক্সপানশন প্যাক ইউরিজ রিভেঞ্জ সে সময় সেরা এক্সপানশন প্যাকের পুরস্কার জিতে নেয়।



রেড অ্যালার্ট ২ গেমের ধারাবাহিকতায় ইএ গেম সম্প্রতি রিলিজ করেছে কমান্ড অ্যান্ড কনকোয়ার সিরিজের নতুন গেম রেড অ্যালার্ট ৩। পুরনো গেমারদের রেড অ্যালার্ট সিরিজ সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। নতুনদের জানানোর জন্য বলা যায়, রেড অ্যালার্টের গেম মানেই বর্তমান রাজনৈতিক বিশ্বের দুই পরাশক্তির কথা। ক্ষমতার প্রশ্নে প্রথম হবার কাহিনীর কথা। সুতরাং বুঝতেই পারছেন একাধিক ক্যাম্পেইন থাকবে গেমে। আর যিনি গেম খেলবেন তিনি হবেন কাহিনীর উদীয়মান কমান্ডার। প্রতিটি লেভেলে থাকবে একটি করে মিশন। আর সফল মিশন মানেই কমান্ডারের প্রমোশন। সেই সাথে নতুন কাহিনী, ঘটনা এবং প্রেক্ষাপটের জন্ম। আর এই সিরিজের গেমে নতুন প্রেক্ষাপটের জন্ম দেয়া হয় প্রতিটি লেভেল শুরুতে আকর্ষণীয় ভিডিও বা মুভি দিয়ে।

রেড অ্যালার্ট সিরিজের নতুন এই গেমে ক্যাম্পেইন রাখা হয়েছে তিনটি। বুঝতেই পারছেন এর মধ্যে অবশ্যই মার্কিন পরাশক্তি একটি থাকবে। আর প্রতিপক্ষ সব সময়ই সোভিয়েত ইউনিয়ন। নতুন পরাশক্তি হিসেবে থাকছে এশিয়ার এম্পায়ার অব রাইজিং সান। রেড অ্যালার্ট ২-এর এক্সপানশন প্যাক শেষ হয়েছিল টাইম মেশিন দিয়ে। আর রেড অ্যালার্ট ৩ শুরু হয়েছে নতুন টাইম মেশিন আবিষ্কার দিয়ে। টাইম মেশিন আবিষ্কারের ফলে অতীত সময়ের আইনস্টাইনকে মেরে ফেলা হয়। যার কারণে পৃথিবীর ইতিহাস নতুন করে শুরু হয় কোনো পারমাণবিক বোমা বা অ্যাটম বোমা ছাড়াই। যেহেতু আইনস্টাইন থাকছে না তাই আমেরিকান শক্তি দুর্বল থাকবে।

গেমের ভিজ্যুয়ালাইজেশনের কথা না বললেও চলবে, কারণ এটা কমান্ড অ্যান্ড কনকোয়ার সিরিজের গেম। এই গেমে প্রথমবারের মতো এইচডি ডিভিডি মানের ভিডিও ব্যবহার করা হয়েছে। গ্রাফিক্স অসাধারণ বললে ভুলই বলা হবে। বলা যেতে পারে তার চেয়ে বেশি কিছু। প্রতিটি সিকোয়েন্স আগের চেয়েও উন্নত করে তৈরি করা হয়েছে। গেমপ্লেতে নাটকীয়তা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এত কিছুর কারণে এই গেম যে অনেক বেশি রিসোর্স নেয় তা বলতে বাধা নেই।

বর্তমান সময়ে এবং প্রেক্ষাপটে আগামী দিনের ফিকশন গেমের স্বাদ নিতে চাইলে আপনার জন্য সব দিক থেকে সময়োপযোগী গেম হচ্ছে রেড অ্যালার্ট ৩। গেমের কাহিনী এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে অচিরেই বের হতে পারে এর উন্নত এক্সপানশন প্যাক।

এই গেমে বরাবরের মতোই কিছু স্পেশাল ক্যারেক্টার রাখা হয়েছে। এরা হচ্ছে তানিয়া এবং নাতাশা। যারা রেড অ্যালার্ট ২ গেমটি খেলেছেন তাদেরকে তানিয়া নামের সাথে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার কোনো প্রয়োজন নেই। এই গেমে নতুন যে ক্যারেক্টার রাখা হয়েছে সেটি হচ্ছে নাতাশা। আর গেমের নতুন নতুন অস্ত্রগুলোর কথা না হয় না-ই বললাম। খেলতে খেলতেই তার প্রমাণ পাবেন।
.............................................................................

আন্ডারকভার

বর্তমান সময়ে বাজারে আসার আগেই যে গেমটি সবার ঘুম কেড়ে নিয়েছিল সেটি হচ্ছে আন্ডারকভার। এর কারণ হচ্ছে এটি নিড ফর স্পিড সিরিজের নতুন গেম। গেমের বাজারে অনেক রেসিং গেমই আছে। কিন্তু কোনো গেমই এই সিরিজকে আজ পর্যন্ত টেক্কা দিতে পারেনি অসাধারণ গেম প্লে, কাহিনী নির্ভরতা, আধুনিক মিউজিক এবং চোখ ধাঁধানো গ্রাফিক্সের কারণে। সেই সাথে এই সিরিজের প্রত্যেকটি গেমে থাকে নতুন নতুন উত্তেজনা। একটা গেম কতটুকু জনপ্রিয় হলে তার ১২তম পর্ব বের হতে পারে তা একবার ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে। আর কোনো গেম এতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছে কিনা তাও দেখার বিষয়। আন্ডারকভার এই সিরিজের দ্বাদশ গেম।



রিলিজ পাবার পর এ গেমটি নিয়ে গেমারদের বেশ হতাশ হতে হয়েছে। তার কারণ এ সিরিজের অন্যান্য গেম উত্তেজনা আনতে পারেনি। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না, এই সিরিজের সেরা গেম এটি গ্রাফিক্স এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের দিক থেকে। নতুন নতুন ইভেন্ট হঠাৎ করে যুক্ত করার ফলে এই গেমের সাথে গেমারদের মানিয়ে নিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তাই বলে এটা বলা যাবে না যে এই গেম বাজে বা সবার মনোযোগ আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে এই গেম খেলতে গেমারদেরই কিছুটা সমস্যা হবে, তার কারণ হচ্ছে এর হাই সিস্টেম রিকোয়ারমেন্ট। এই গেমটি খেলতে উঁচুমানের গ্রাফিক্স কার্ড এবং শক্তিশালী র্যা মের দরকার হবে।

এ সিরিজের আগের গেমগুলোর মতোই এই গেমটিকে কাহিনীনির্ভর করে তৈরি করা হয়েছে। একই সিরিজের আগের গেমগুলোর ইভেন্টগুলোর পাশাপাশি নতুন যে ইভেন্টগুলো রাখা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে হাইওয়ে ব্যাটল, কপস অ্যান্ড রবার্স, কস্ট টু স্টেট ইত্যাদি। গেমটি তৈরি করেছে ইএ ব্ল্যাকবক্স এবং এটি রিলিজ করেছে ইলেকট্রনিক আর্টস। গেমটি রিলিজ পাবার পরপরই গুজব রটে যে ইএ ব্ল্যাকবক্স ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে এবং এই সিরিজের এটাই শেষ গেম। সাথে সাথে বিশ্বব্যাপী রেসারদের মধ্যে হতাশা নেমে আসে। আসলে ইএ ব্ল্যাকবক্সের বেশ কিছু কর্মী ছাঁটাই করার ফলে এমন গুজব রটে। তবে এই সিরিজের এটাই শেষ গেম নয়। এর পরবর্তী সংস্করণ বের হবে ২০১০ সালে।

বরাবরের মতো এবারের সংস্করণও প্রায় সব কয়টি প্লাটফর্মে বের করা হয়েছে। নতুন কিছু প্লাটফর্মেও এই গেম বের হয়েছে। নতুন বলতে এনগেজ (নকিয়া) এবং আইফোন প্লাটফর্মে এই গেম বের করা হয়েছে। তাছাড়া প্লে স্টেশন ২/৩, নিনটেন্ডো ডিএস, এক্সবক্স ৩৬০ এবং মোবাইল ফোনের গতানুগতিক প্লাটফর্মে তো বের করা হয়েছেই।

আগের সংস্করণের মতোই এবারের পর্বেও ওপেন ওয়ার্ল্ড কনসেপ্ট রাখা হয়েছে এই গেমে। তার প্রমাণ মেলে ১৩০ কিলোমিটারের ওপেন ওয়ার্ল্ড ম্যাপে। আর এই ওপেন ওয়ার্ল্ড সিটির নাম রাখা হয়েছে ট্রাই সিটি। এই সিটির আবার কয়েকটি ম্যাপে ভাগ করা হয়েছে। আমাদের চলতি কথায় আমরা একে মহল্লা বলতে পারি। এগুলো হচ্ছে পাম হারবার, পোর্ট ক্রিসেন্ট, গোল্ড কোস্ট মাউন্টেন এবং সানসেট হিলস।

একই সিরিজের আগের গেমগুলোর মতোই গেমারকে পুলিশের হাত থেকে বেঁচে বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিতে হবে। আপনি যাই করুন না কেন আপনাকে ট্রাই সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (টিসিপিডি) থেকে সাবধান থাকতে হবে। ধরা পড়লেই খবর আছে! আর পুলিশকে ধোঁকা দিতে পারলে তো কথাই নেই। আগের গেমগুলোর মতোই নির্ভয়ের ইভেন্ট সার্কেট, স্প্রিন্ট ইত্যাদি তো আছেই। গেমের পটভূমি শুরু হবে এক পুলিশের ক্রিমিনাল ধরার সময় কভার করার অফারের মাধ্যমে। সেই থেকে গেমের আন্ডারকভার নামকরণ করা হয়েছে। কিন্তু কভার দেয়ার পর থেকে আপনাকে দিয়েও নানারকম চুরি করানো হবে। সেই থেকে আপনিও হয়ে যাবেন একই গ্যাংয়ের সদস্য। তারপর নানা রকম ঘটনা এবং ইভেন্টের মধ্য দিয়ে গেমটি এগিয়ে যেতে থাকবে।

গেমের অডিও এবং ভিজ্যুয়াল কোয়ালিটি এককথায় অসাধারণ। বিশেষ করে এর ভিজ্যুয়াল কোয়ালিটি পুরোপুরি হলিউডি মুভি মানের। এতে অসংখ্য নতুন নতুন গাড়ি যুক্ত করা হয়েছে। নতুন-পুরনো মিলিয়ে প্রায় সোয়া শ’ গাড়ি পাওয়া যাবে। আর যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমিতা নিমেষেই দূর করে দেবে এই গেম- তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই দেরি না করে ঝাঁপিয়ে পড়ুন অত্যাধুনিক যুগের রেসে।
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
২০০৯ - জানুয়ারী সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস