Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > ডেড ম্যানস হ্যান্ড ও ‍আর্মিস ‍অব ‍এক্সিগো
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সৈয়দ হাসান মাহমুদ
মোট লেখা:৫৪
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - জানুয়ারী
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
গেমকমপিউটার গেম, 
তথ্যসূত্র:
গেমের জগৎ
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
ডেড ম্যানস হ্যান্ড ও ‍আর্মিস ‍অব ‍এক্সিগো
ডেড ম্যানস হ্যান্ড

বুনো পশ্চিম বা ওল্ড ওয়াইল্ড ওয়েস্ট নিয়ে বানানো গেমের সংখ্যা নিতান্তই সামান্য এবং এধরনের গেমের অনেকাংশই দখল করে আছে ডেসপারাডো সিরিজের স্ট্রাটেজি গেমগুলো। ওয়াইল্ড ওয়েস্ট নিয়ে বানানো শুটিং গেমের মধ্যে রেড ডেড রিভলভার, আউট-লস, গান, ডেড ম্যানস হ্যান্ড ইত্যাদি খুবই নাম করা। ডেড ম্যানস হ্যান্ড গেমটি তৈরি করা হয়েছে ফাস্ট পারসন শূটিং গেম হিসেবে, যেখানে গেমারকে এল টেজন নামের একজন মেক্সিকান আউট-ল -এর চরিত্রে খেলতে হবে। গেম শুরুর মুভিতে দেখনো হবে এল টেজন দ্য নাইন সংঘের সদস্য এবং এই সংঘের কাজ হচ্ছে বড়লোকদের এবং ব্যাংক লুট করা। এধরনের কাজ করার জন্য নিরীহ জনসাধারনকে হত্যা করতেও তাদের হাত কাপেনা। এল টেজন নিরীহ ব্যক্তিদের হত্যার ব্যাপারটি মেনে নিতে পারেনা এবং সে এই সংঘ ত্যাগ করে সাধারন জীবন যাপন করতে চায়। কিন্তু দলের অন্যান্য সদস্যদের টেজনের এই সিদ্ধান্ত মনঃপূত হয়না, তাই এক পর্যায়ে দ্য নাইন দলের লিডার টেজনকে গুলি করে এবং মরার জন্য ফেলে রেখে যায়। টেজনকে মৃতপ্রায় অবস্থায় পেয়ে এক জেনারেল তার চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করে কিন্তু টেজন আউট-ল হওয়ায় তাকে জেলে বন্দী করে রাখে। জেলে টেজন তার সেলমেট লাগোর সহায়তায় জেল থেকে পালাতে সক্ষম হয়। জেল থেকে বের হয়েই তার মাথায় প্রতিশোধের আগুন জ্বলতে থেকে। গেমারকে এল টেজনের ভূমিকায় খেলতে হবে এবং এক এক করে দ্য নাইন -এর সব সদস্যদের খুজে বের করে হত্যা করতে হবে।


গেমে টেজনকে নিয়ে গেমারকে অনেকগুলো ধারাবাহিক মিশন খেলতে হবে। এক মিশন শেষ না করা পর্যন্ত পরবর্তী মিশন আনলক হবে না। গেমটির কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পোকার খেলা, ছুটন্ত ঘোড়ায় চেপে গুলি করা। গেমে প্রতি মিশনের আগে টেজনকে নিয়ে পোকার খেলতে হবে এবং খেলায় জিততে পারলে এক্সট্রা লাইফ ও গুলি পাওয়া যাবে। ধারাবাহিক মিশন-প্লের পাশাপাশি কিছু বোনাস লেভেলও আছে সেগুলো খুব আকর্ষণীয়। গেমে ব্যবহার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে আছে শটগান, পিস্তল ও রাইফেল। এছাড়া ছুরি, মদের বোতল, ডিনামাইট ইত্যাদিও ব্যবহার করা যাবে। গেমে শত্রুর হ্যাটে গুলি করলে ও হেড শট করতে পারলে আলাদা পয়েন্ট পাওয়া যাবে। এছাড়া জানালার কাচ ও মদের বোতল গুলি করে ভাংতে পারলে পারলেও পয়েন্ট অর্জন করা যাবে। গেমারের হেলথ বা লাইফ দেখানোর ব্যাপারটিও বেশ আলাদা ধাচের। গেমে টেজনের লাইফ থাকবে ১০০ পয়েন্ট এবং তা দেখানো হবে কয়েকটি তাসের পাতার নম্বর দিয়ে। শত্রুর গুলিতে লাইফ পয়েন্ট কমে গেলে তা আবার রিকভার করা যাবে ফাস্ট-এইড বক্স দিয়ে, যা স্টেজের বিভিন্ন এলাকায় খুজে পাওয়া যাবে। মিশন-প্লের পাশাপাশি গেমটিতে অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার মোডেও গেম খেলার ব্যবস্থা আছে। মাল্টিপ্লেয়ার মোডে স্ট্যান্ডার্ড ডেথম্যাচ ও টিম ডেথম্যাচ সংযোজন করা হয়েছে। মাল্টিপ্লেয়ার মোডে একসাথে ৮ জন গেমার গেমটি খেলতে পারবেন। এছাড়া আরো দুটি মোডে গেমটি খেলা যাবে, তা হলো বাউন্টি মোড ও পসি মোড। বাউন্টি মোডে গেমার একজন আউট-ল হিসেবে আইনের হাত থেকে পালিয়ে বাচবে এবং কমপিউটার নিয়ন্ত্রিত প্লেয়াররা আইনের রক্ষক হিসেবে আপনাকে ধাওয়া করে বেড়াবে। পসি মোডটি হচ্ছে বাউন্টি মোডের উলটো, এখানে গেমারকে কমপিউটার নিয়ন্ত্রিত কিছু আউট-লদের ধরার জন্য আইনের রক্ষক হিসেবে খেলতে হবে।
........................................................................

আর্মিস অব এক্সিগো

ফ্যান্টাসিনির্ভর স্ট্র্যাটেজি গেমের কথা ভাবলেই প্রথমে Warcraft ও Rise of Ligend ইত্যাদি গেমের নাম মনে পড়ে। Warcraft -এর মতোই আরো একটি রিয়েল টাইম স্ট্র্যাটেজি গেম হচ্ছে আর্মিস অব এক্সিগো। গেমটি ডেভলপ করছে ব্লাক হোল এন্টারটেইনমেন্ট এবং গেমটি পাবলিশ হয়েছে ২০০৪ সালে ইলেকট্রনিক্স আর্টের ব্যানারে। গেমে তিনটি আলাদা আর্মি বা সৈন্যদল নিয়ে খেলা যাবে, এগুলো হচ্ছে দ্য এম্পায়ার, দ্য ফলেন ও দ্য বিস্ট। এম্পায়ার আর্মি হচ্ছে মানুষ জাতি এবং এদের দলে আছে নাইট, উইজার্ড, এলভ ইত্যাদি। ফলেন আর্মিরা হচ্ছে ভূ-গর্ভস্থ প্রাণীদের সৈন্যদল এবং এদের দলে আরো আছে ফলেন নাইট ও ডার্ক এলভরা। বিস্ট আর্মি হচ্ছে বৃহদাকার জন্তু-জানোয়ারদের সৈন্যদল এবং এদের দলে আরো আছে ওর্গ, ট্রল ও লিজার্ডম্যান। অন্যান্য জাতির তুলনায় বিস্ট জাতিটি সবচেয়ে শক্তিশালী। গেমে তিনটি জাতি নিয়ে খেলার স্বাদও আলাদা, কারণ একেক জাতির উদ্দেশ্য ভিন্ন।



অন্যান্য রিয়েল টাইম স্ট্র্যাটেজি গেমের মতো এই গেমেও রিসোর্স বা সম্পদ আহরণ করতে হবে। রিসোর্সের মধ্যে আছে স্বর্ণ, কাঠ ও চকমকি পাথর বা জেমস্টোন এবং এগুলো ব্যবহার করে ঘাটি তৈরি করে সৈন্য সংখ্যা বাড়াতে হবে। গেমে সৈন্যদের নিয়ে বিপরীত পক্ষের সৈন্যদের মারতে পারলে আপনার সৈন্যদের লেভেল বৃদ্ধি পাবে যার ফলে তারা আরো শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান হয়ে যাবে। এছাড়া গেমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর ডাবল লেয়ার ম্যাপ যা সার্ফেস ম্যাপ ও আন্ডারগ্রাউন্ড ম্যাপ নিয়ে গঠিত। গেমে মাটির উপরে যুদ্ধ করার পাশাপাশি মাটির নিচের সুরঙ্গ পথেও খেলা যাবে। উপরিভাগে সৈন্যদল নিয়ে চলার পথে কোন বাধা থাকলে মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ দিয়ে মাটির নিচে গিয়ে সুরঙ্গ পথে গন্তব্যে পৌছানো যাবে এবং সুরঙ্গ পথে চলার সময় নানান হিংস্র জন্তু জানোয়ারের সাথে লড়াই করতে হবে। আন্ডারগ্রাউন্ড প্যাসেজ বা সুরঙ্গ পথ ব্যবহার করে শত্রুর অগোচরে তাদের ঘাটিতে অতর্কিতে হামলা করা যাবে। তবে নিজের ঘাটির সুরক্ষা ব্যবস্থাও পরিপূর্ণ রাখার নিকে নজর দিতে হবে কেননা শত্রুপক্ষও সুরঙ্গ পথ ব্যবহার করে আপনার ঘাটিতে আক্রমন করতে পারে। গেমের প্রতিটি ইউনিটের গ্রাফিক্স খুবই উন্নতমানের এবং একেক ইউনিটের মারামারির কৌশলও ভিন্ন। গেমের আরেকটি সুবিধা হচ্ছে এতে একসাথে অনেক সৈন্য তৈরি করা যাবে এবং একসাথে প্রায় ২০০ ইউনিট সৈন্য নিয়ে বিপরীত পক্ষকে আক্রমণ করা যাবে। গেমের শুরুতে টিউটোরিয়াল অপশন দেয়া হয়েছে যার ফলে নতুন গেমারদের গেমটি খেলতে কোন সমস্যা হবে না। গেমে অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার মোড আছে যা দিয়ে অনলাইনে অন্যান্য প্লেয়ারদের সাথে গেম খেলা যাবে। তবে সেই ক্ষেত্রে গেমারের একটি গেমস্পাই (GameSpy) অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। এছাড়া ক্যাপচার দ্য ফ্ল্যাগ ও স্কিরমিশ মোডেও গেম খেলার ব্যবস্থা আছে।



গেমের গ্রাফিক্স খুবই চমৎকার ও মনোমুগ্ধকর। এছাড়া সাউন্ড ইফেক্টও খুব উন্নত মানের। প্রতিটি ইউনিট সিলেক্ট করলে তারা ভিন্ন ভিন্ন ডায়ালগ দেবে এবং এক ইউনিটের গলার স্বর অন্য ইউনিট থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। গেম খেলার সময় সাউন্ড ইফেক্টগুলো বেশ উপভোগ্য। গেমটি খেলতে ১.৫ গিগাহার্জ প্রসেসর, ২৫৬ মে.বা. র‌্যাম, ডাইরেক্ট-এক্স ৯.০ সি সাপোর্টেড ৬৪ মেবা ভিডিও মেমোরি সম্পন্ন ভিডিও র্কাড ও ১.৫ গিগা হার্ডডিস্ক স্পেস লাগবে।

ফিডব্যাক : shmt_15@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
২০০৯ - জানুয়ারী সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস