Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > অনলাইনে গ্রামীণ নারীদের স্তন ক্যান্সার চিকিৎসা
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সেলিনা আক্তার
মোট লেখা:৫
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৭ - নভেম্বর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
অন-লাইন তথ্য
তথ্যসূত্র:
দেশ ও প্রযুক্তি
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
অনলাইনে গ্রামীণ নারীদের স্তন ক্যান্সার চিকিৎসা

গ্রাম পর্যায়ে বাস্তবধর্মী ও টেকসই তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র, ইন্টারনেটভিত্তিক স্তন ক্যান্সার চিকিত্সা কর্মসূচি এবং গ্রামের তথ্যভাণ্ডার অর্থাৎ ডাটাবেজ গড়ে তোলার জন্য ৩ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ এডুকেশন সোসাইটি (বিএফইএস)-এর আমাদের গ্রাম উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্প৷ এ বিষয়ে সম্প্রতি খুলনার রয়েল ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে একটি কৌশলগত পরিকল্পনা কর্মশালার আয়োজন করা হয়৷ কর্মশালায় ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত গ্রাম পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্প কীভাবে বাস্তবায়ন করা হতে পারে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে৷ কর্মশালায় অংশ নেন বাগেরহাট, খুলনা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম এলাকায় কর্মরত আমাদের গ্রামের কর্মীরা৷ পরিচালনা করেন আমাদের গ্রামের পরিচালক রেজা সেলিম ও কর্মসূচি পরিচালক রাশিদুজ্জামান৷ খুলনা মেডিক্যাল কলেজের শল্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেনও কর্মশালায় অংশ নেন৷

দেশে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে যে কার্যক্রম রয়েছে তার প্রায় পুরোটাই নগরকেন্দ্রিক৷ ফলে পিছিয়ে পড়ছে গ্রামের মানুষ৷ তাদেরকে বাদ দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি প্রসার ও দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়৷ আমাদের গ্রাম উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি ফর ডি) প্রকল্প তাই তাদের ভিত্তিস্থাপন করেছে গ্রামকে কেন্দ্র করেই৷ ২০০২ সালের আগস্টে বিএফইএসের আমাদের গ্রাম প্রকল্প তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করে৷ আয়োজন করা হয় কর্মশালার৷ ২০০৩ সালের ৪ আগস্ট শুরু হয় কমপিউটার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম৷ এতে অংশ নেয় ২৪ জন প্রশিক্ষণার্থী৷ গ্রামকেন্দ্রিক এ উদ্যোগের যাত্রা অবশ্য আরো আগে ১৯৯৬ সালে৷ সে সময় বাগেরহাটের রামপাল ও তার আশপাশের অঞ্চলে তৃণমূল জরিপ (বেইজলাইন সার্ভে) করা হয়৷

তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বেশ কয়েক বছর ধরে কাজ করছে আমাদের গ্রাম প্রকল্প৷ জ্ঞানমেলার মাধ্যমে সচেতনতা ছাড়াও স্কুল-কলেজ ও মাঠ পর্যায়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে৷ স্কুলের কমপিউটার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে৷

শ্রীফলতলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২০০৪ সাল থেকে প্রতি বছর আয়োজন করা হচ্ছে জ্ঞানমেলার৷ তথ্যপ্রযুক্তি কি, কমপিউটার শিক্ষার গুরুত্ব কতটুকু, সুফল কি ইত্যাদি সম্পর্কে অবহিত করাই এ মেলার উদ্দেশ্য৷

মেলার পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রী এবং গ্রামবাসীর মধ্যে চালানো হয় সচেনতামূলক কার্যক্রম৷ আয়োজন করা হয় কর্মশালার৷ শিক্ষকদের দেয়া হয় উচ্চতর কমপিউটার প্রশিক্ষণ৷ গ্রামে গ্রামে রাস্তায় রাস্তায় মাইকের মাধ্যমে কমপিউটার শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে৷ কমপিউটার শিক্ষার প্রসারে দেয়া হচ্ছে লিফলেট বা প্রচারপত্র৷ ব্যানার টানিয়েও বাড়ানো হচ্ছে সচেতনতা৷

আমাদের গ্রাম প্রকরে এরিয়া ম্যানেজার মো: রিজাউল করিম বলেছেন, বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ এডুকেশন সোসাইটি (বিএফইএস)-এর আমাদের গ্রাম প্রকরে আওতায় ১৯৯৬ সালে ৫টি গ্রামের ১০০০ পরিবারের বেইজলাইন জরিপের মাধ্যমে উন্নয়নমুখী কার্যক্রম শুরু করি৷ ১৯৯৭ সালে শ্রীফলতলা, তালবুনিয়া, ইসলামাবাদ, শোলাকুড়া, গাববুনিয়া, কামরাঙা ও বেতকাটা গ্রামে ৩৬০ জন সদস্য বা পরিবার নিয়ে ৩৬টি দল গঠন করা হয়৷ দল গঠনের পর প্রতিনিয়ত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, বাড়ির আ িঙ্গনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, শাকসবজির বাগান করা, বিশুদ্ধ পানি পান করা, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করা, গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ, এইডস, হাঁস-মুরগি পালন, মাছ চাষ, সেলাই প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৩৬০টি পরিবারকে আমরা উত্সাহিত করেছি৷ আমাদের গ্রাম প্রকল্প সদস্যদের প্রশিক্ষণটা বাস্তবায়ন করার জন্য ঋণ বিতরণ ও গরিব মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সহায়তার জন্য বৃত্তি দেয়া হচ্ছে৷ আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল জ্ঞানকে একজন থেকে অন্যজন, এক পরিবার থেকে অন্য পরিবার, এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামের লোকজনের মধ্যে প্রচার ও জ্ঞানদান করা৷ ২০০৪ সালে রামপাল ও পাইকগাছায় এবং ২০০৫ সালে বাগেরহাটে কমপিউটার ট্রেনিং সেন্টার চালু করি৷ ইন্টারনেটের ওপরও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়৷ এই পর্যন্ত রামপাল, বাগেরহাট ও পাইকগাছায় মোট ৪টি কেন্দ্রে ২৫০ জন ছেলে-মেয়ে এবং স্কুলের কমপিউটার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে৷ কমপিউটার ব্যবহারে শহর ও গ্রামের মধ্যে বৈষম্য এখন অনেকটা দূর হতে চলেছে৷ বর্তমানে গ্রামের স্কুল-কলেজের ও বেকার বহু ছেলেমেয়ে কমপিউটার ব্যবহার করতে শিখেছে৷ এছাড়াও আমাদের গ্রাম প্রকরে আওতায় জ্ঞানমেলা, বিনামূল্যে স্তন ক্যান্সার, মা ও শিশু স্বাস্থ্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে৷

স্তন ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিত্সা : স্তন ক্যান্সার যেকোনো নারীর যেকোনো সময়ই হতে পারে৷ এজন্য সচেতনতা ও সুচিকিত্সা প্রয়োজন৷ বাগেরহাটে স্তন ক্যান্সার নিরীক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে গ্রামীণ মহিলাদের স্তন পরীক্ষা ও চিকিত্সার ব্যবস্থা করেছে আমাদের গ্রাম৷ এই কেন্দ্রে অনলাইরে মাধ্যমে বাগেরহাট, খুলনা, ঢাকা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটির স্তন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে৷ এখানকার কমপিউটারে তৈরি তথ্যভাণ্ডারে থাকে রোগীর পূর্ণ বিবরণ, রোগের ইতিহাস ইত্যাদি৷ রোগ নিরাময়ের পাশাপাশি প্রয়োজনে বিনামূল্যে চিকিত্সারও সুযোগ দেয়া হয় এখানে৷ বাগেরহাট ও রামপালে জানুয়ারি থেকে যে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু হয়েছে তাতে চিকিত্সা নিয়েছেন ৪০১ জন৷ এদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার রোগী রয়েছেন ৪৩ জন, স্ক্রিনিং রোগী ২৪১ জন এবং অন্যান্য রোগী ১৬০ জন৷

একটি জরিপ : কমপিউটার শিক্ষার হালচাল নিয়ে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সব মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কমপিউটার শিক্ষা নিয়ে আমাদের গ্রাম উন্নয়রে জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্প সম্প্রতি একটি জরিপ করেছে৷ জরিপে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে কমপিউটার শিক্ষার বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে৷

৫৫টি বিদ্যালয়ে পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে মাত্র ১৯টি স্কুলে ব্যবহার করার মতো কমপিউটার রয়েছে৷ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কমপিউটার শেখার প্রবল আগ্রহ এ জরিপের ফলাফলে বেরিয়ে এসেছে৷ কমপিউটার শিক্ষা বিষয়টির অনুমোদন পেয়েছে ২০টি স্কুল৷ তবে ২৩টি স্কুলে কমপিউটার শিক্ষক আছে বলে জানা গেছে৷ ৫৫টি স্কুলের মধ্যে ১৯টিতে কমপিউটার থাকলেও ১৫টি স্কুলের ছেলেমেয়েরা কমপিউটার শিখতে পেরেছে৷ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৮৬ জন এমএস ওয়ার্ড, ৩১৫ জন এক্সেল, ১৬২ জন উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এবং ১৯৫ জন পাওয়ারপয়েন্ট সফটওয়্যার শিখেছে স্কুল থেকে৷ তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কমপিউটার শিক্ষকদের যথাযথ শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের অভাব দেখা গেছে জরিপের ফলাফলে৷ উপজেলার ২৩ জন কমপিউটার শিক্ষকের মধ্যে ১১ জনই কলা শাখায় স্নাতক ডিগ্রিধারী (বিএ)৷ কমপিউটারে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী শিক্ষকের সংখ্যা দুই৷ কৃষিবিজ্ঞানে ডিপ্লোমাধারী শিক্ষকও কমপিউটার শিক্ষক হিসেবে একটি স্কুলে কাজ করছেন৷ শিক্ষকদের সবাই স্বল্পমেয়াদী (এক মাস থেকে ছয় মাস) প্রশিক্ষণ নিয়েছেন৷ জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ শিক্ষকই (৪৯ জন) আরো উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী৷ যারা এখন কমপিউটার শিক্ষা পড়াচ্ছেন, সেই ২৩ জনের মধ্যে ২০ জন শিক্ষকই মনে করেন, শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য পাওয়া প্রশিক্ষণ যথেষ্ট নয়৷

তাছাড়া ৫৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কমপিউটার শাখার অনুমোদন আছে মাত্র ২০টির৷ ফলে ছাত্রছাত্রীরা তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছে না৷
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
২০০৭ - নভেম্বর সংখ্যার হাইলাইটস
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস