Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > জমজমাট বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো ২০০৯ অনুষ্ঠিত
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মইন উদ্দীন মাহমুদ স্বপন
মোট লেখা:১৪১
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - এপ্রিল
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
‘বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো ২০০৯কমপিউটার মেলা, 
তথ্যসূত্র:
মেলা
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
জমজমাট বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো ২০০৯ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতি (বিসিএস) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ২৫ থেকে ২৮ মার্চ আয়োজন করে ‘বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো ২০০৯’। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর প্রসার, ব্যবহার ও শিল্প বিকাশ হতে পারে এ দেশের অর্থনীতির উন্নতির চাবিকাঠি। সেজন্য ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ নির্মাণের সূচনা করতেই বিসিএস এ মেলার আয়োজন করে।



২৫ মার্চ বিকেল ৩টায় এ এক্সপো উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতির সভাপতি মোস্তাফা জববার। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল ফারুক খান এবং বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। ধন্যবাদ জানান মেলার আহবায়ক মো: শাহিদ-উল-মুনীর।



মোস্তাফা জববার সরকারি বিভিন্ন অফিস, আদালত, ভূমি রেকর্ড, রাজস্ব বোর্ড, প্রতিরক্ষা বিভাগসহ সবস্তরে কমপিউটার ব্যবহারের ব্যবস্থা করার দাবি করেন। স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, বাঙালির বিশ্বাস ডিজিটাল শক্তি এনে দেবে আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি। ফারুক খান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে যত প্রতিবন্ধকতা দেশে আছে, তার সব দূর করা হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কমপিউটার শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১০ হাজার প্রোগ্রামার তৈরির জন্য সরকার সবধরনের ব্যবস্থা নিতে প্রস্ত্তত। ২০১৩ সালে মাধ্যমিক স্তরে এবং ২০১৫ সালে প্রাথমিক স্তরে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। তিনি বলেন, অচিরেই দেশের সবধরনের ই-টিকেট, ই-বিল, ই-টেন্ডারসহ ই-গভর্নেন্স চালু হবে।



উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিসিএসের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে একটি সনি ভায়ো ল্যাপটপ কমপিউটার উপহার দেয়া হয়। এছাড়া বিসিএসের সাবেক আট সভাপতিকে সম্মাননা দেয়া হয়।

বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো ২০০৯-এ সহযোগিতা করেছে বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযাগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণায়ের অধীনস্থ আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল। এ মেলার স্পন্সর ছিল একটেল, লেনোভো, মাইক্রোসফট, স্যামসাং এবং অফিশিয়াল আইএসপি ছিল বাংলালায়ন কমিউনিকেশন্স লিমিটেড। এছাড়া ই-টিকেটের স্পন্সর ছিল ডেফোডিল কমপিউটারস এবং স্যামসাং।



এবারের প্রদর্শনীতে সরকারি, দেশী-বিদেশী, বহুজাতিক এবং স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রদর্শন করেছে তাদের পরিবেশিত আকর্ষণীয় প্রযুক্তিপণ্য, সেবা ও উন্নয়ন কর্মকান্ড।

লেনোভো : বাংলাদেশে লেনোভোর পরিবেশক থাকরাল ইনফরমেশন সিস্টেমস লি. এ মেলার উন্নত ফিচারসমৃদ্ধ বিভিন্ন মডেলের ও দামের নোটবুক প্রদর্শন ও বিক্রি করে আকর্ষণীয় দামে। সঙ্গে ছিল আকর্ষণীয় গিফট বক্স।

একটেল : একটেল জিপিআরএস প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে স্বল্প মূল্যে পোস্টপেইড ও প্রিপেইড সিম অফার করে। প্রিপেইডে সারাদিন ৫৫ টাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারের বিশেষ অফার ছিল গ্রাহকদের জন্য।

মাইক্রোসফট : মাইক্রোসফট এ মেলায় তাদের আনলিমিটেড পটেনশিয়াল প্রোজেক্ট সম্পর্কে দর্শকদের অবহিত করে।

স্যামসাং : স্যাসমাং তাদের প্যাভিলিয়নে প্রদর্শন করে স্যামসাংয়ের বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য। এসব প্রযুক্তিপণ্যের মধ্যে ছিল বিভিন্ন মডেল, কনফিগারেশন ও কম দামের এলসিডি মনিটর, ডিজিটাল ক্যামেরা, লেজার প্রিন্টার, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও ডিজিটাল ফটোফ্রেম। স্মার্ট টেকনোলজিস এ মেলায় স্যামসাংয়ের হ্যান্ডি ক্যামেরার প্রদর্শন করে।

বাংলালায়ন : বাংলালায়ন এ মেলায় তাদের দুটি পণ্যকে বিশেষভাবে উপস্থাপন করে, যার একটি হলো ওয়াইম্যাক্স এবং অপরটি হলো সানটেল। বাংলালায়নই এদেশে প্রথম ওয়াইম্যাক্স সেবা নিয়ে আসছে।

ফ্লোরা : ফ্লোরা লি. ডিজিটাল এক্সপো ২০০৯ উপলক্ষে এইচপি কম্প্যাক ও ডেল ব্র্যান্ডের বিভিন্ন মডেল ও কনফিগারেশনের নোটবুক আকর্ষণীয় দামে বিক্রি করে। তাদের স্টলে এপসনের পার্সোনাল ফটোল্যাব ও মাল্টিফাংশনাল প্রিন্টার, এইচপির বিভিন্ন মডেলের ডেস্কজেট, লেজারজেট, স্ক্যানার, এইচপি কালার লেজারজেট প্রিন্টার, অলিম্পাস ও নিকন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন মডেলের ডিজিটাল ক্যামেরা প্রদর্শন করে।

ইন্টেল : ইন্টেলের স্টলের আকর্ষণ ছিল ইন্টেলের নতুন প্রসেসর কোরআই ৭-এর পারফরমেন্স প্রদর্শনসহ ইন্টেল অ্যাটম প্রসেসরসমৃদ্ধ বিভিন্ন মডেলের সাশ্রয়ী মূল্যে কাসমেট পিসি, যা এদেশে বাজারজাত করা হচ্ছে ব্র্যাকনেট কাসমেট পিসি।

জেএএন অ্যাসোসিয়েটস : এদের স্টলের প্রধান আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন কনফিগারেশন ও মডেলের ডিজিটাল ক্যামেরা, ক্যাননের ইঙ্কজেট, মাল্টিফাংশনাল প্রিন্টার, লেজার প্রিন্টার ও ফ্যাটবেট স্ক্যানার।

ডেফোডিল : ডেফোডিল গ্রুপের পক্ষে মেলায় অংশ নেয় তাদের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলো। তারা ডেফোডিল পিসি, নোটবুক, মাল্টিমিডিয়া সিডি, সফটওয়্যার ও বিভিন্ন কোর্সে ২৫ শতাংশ ছাড় ঘোষণা করেছে।

ডি.নেট : এ পর্যন্ত ডি.নেট যত গবেষণা করেছে সেগুলো পিডিএফ আকারে ইলেক্ট্রনিক্স ম্যাটেরিয়ালে রূপান্তর করা হয়েছে। মেলায় তা প্রদর্শন করা হয়।

সোলিনফো : এটি একটি এনজিও, যারা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করে। এরা শিশুদের বিনামূল্যে কমপিউটার শিক্ষা দেয়।

এসআইসিটি : দেশের আইসিটি খাতের উন্নয়নে সাপোর্ট টু আইসিটি টাস্ক ফোর্স (এসআইসিটি) একটি সরকারি প্রকল্প। এ পর্যন্ত সরকারের ৪০টি আইটি প্রকল্প নিয়ে তারা কাজ করেছে। মেলায় তারা ই-গভর্নেন্স সম্পর্কে ধারণা ও তথ্য দেয়।

সিডিডি : সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি) মূলত প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করে। তারা প্রতিবন্ধীদের জন্য বেশ কিছু সফটওয়্যার তৈরি করেছে। এই সব সফটওয়্যার মেলায় প্রদর্শন করেছে তারা।

রায়নেস আর্কাইভ : এরা সব ধরনের মিডিয়া আর্কাইভের কাজ করে। ১৯৯৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত সব পত্রিকার কিপিং এবং ২০০৬ থেকে সব টিভি ভিডিও কিপিং তারা সংগ্রহে রেখেছে।

সিএইচটিডিবি : দেশের পার্বত্য এলাকার উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড (সিএইচটিপিবি) সরকারের একটি প্রকল্প। তারা ১ম থেকে ৫ম শ্রেণীর সব বই সফটওয়্যারে রূপান্তর করেছে। মেলায় ওইসব সফটওয়্যার প্রদর্শিত হয়।

ডাটাসফট : ডাটা সফট চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ অটোমেশন প্রজেক্টের সফটওয়্যার উদ্ভাবন এবং সংস্থাপন করেছে। তারা বিভিন্ন সলিউশনও দিয়ে থাকে। বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো ২০০৯-এর নেভিগেশন সাইট উন্নয়ন ও পরিচালনা করছে তারা।

অরেঞ্জ সিস্টেমস : ডিজিটাল এক্সপো উপলক্ষে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানটি দেশে আনে অত্যাধুনিক এক প্রযুক্তিপণ্য, যার সাহায্যে হাতে লেখা যেকোনো বিষয় কমপিউটারে সংরক্ষণ করা যায়। পরবর্তীতে কমপিউটারের ফন্টে এনে তা সম্পাদনাও করা যাবে।

এপল : ডিজিটাল এক্সপোতে এপলের থিনোভেটিভ ম্যাকবুক প্রদর্শন করেছে পরিবেশকরা। এ নোটবুকগুলোর প্রধান আকর্ষণ হলো এগুলো দেখতে পাতলা বইয়ের মতো। তাছাড়া অন্যান্য ফিচার তো রয়েছেই।

সেইফ আইটি সার্ভিসেস : প্রদর্শনীতে অত্যাধুনিক এক পণ্য এনেছে সেইফ আইটি সার্ভিসেস লি.। এটি হলো ডিজিটাল ফটো ফ্রেম। তাছাড়া তাদের নতুন পণ্যের মধ্যে ছিল পিসিআইয়ের মুভিং ওয়েবক্যাম।

এক্সেল টেকনোলজিস : জিনিয়াসের ডিজিটাল ভিডিও ক্যামেরা প্রদর্শনীতে উন্মোচন করেছে এক্সেল টেকনোলজিস লি.।

কম ভ্যালী : বেনকিউ ব্র্যান্ডের নতুন নোটবুক জয়বুক লাইট প্রদর্শন করেছে কম ভ্যালী লি.। নীল রঙের এ নোটবুকটি ইন্টেল অ্যাটম প্রসেসরসমৃদ্ধ।

‘ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ওয়াইম্যাক্স’

প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিন সকালে বাংলালায়নের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ওয়াইম্যাক্স’ শীর্ষক সেমিনার। বাংলালায়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন আইসিটি সংক্রান্ত সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হাসানুল হক ইনু। বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের এমডি আ.ন.ম. গোলাম সারোয়ার, বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতির সভাপতি মোস্তাফা জববার এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং আবেদ খান ।

অনুষ্ঠানে ওয়াইম্যাক্সপ্রযুক্তির ওপর চমৎকার একটি উপস্থাপনা করেন বাংলালায়নের কনসালট্যান্ট পারভেজ আহমেদ শামীম। এতে ওয়াইম্যাক্সের মাধ্যমে দেশের সর্বত্র যোগাযোগ উন্নত করার পদ্ধতি দেখানো হয়।

মোস্তাফা জববার বলেন, জনগণের কাছে তথ্যপ্রযুক্তির সুফল পৌঁছাতে হলে অবশ্যই ইন্টারনেট ব্যবহারের দাম কমাতে হবে।

‘স্যামসাং থিন ক্লায়েন্ট মনিটর’

বিকেলে স্যামসাংয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্যামসাং থিন ক্লায়েন্ট মনিটর’ শীর্ষক সেমিনার। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন স্যামসাং ভারত থেকে আসা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অনিকেত জলতা। তিনি স্যামস্যাংয়ের অত্যাধুনিক এই মনিটরটির ওপর একটি প্রেজেন্টেশন দেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন স্যামস্যাংয়ের সিনিয়র ম্যানেজার লোকেশ নাগপাল, তাদের বাংলাদেশে পরিবেশক প্রতিষ্ঠানদ্বয় ইনডেক্স আইটির এমডি আজিজ রহমান এবং স্মার্ট টেকনোলজিসের এমডি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

‘ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা : জনগণের দ্বারপ্রামেত্ম নাগরিক সেবা’


ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ‘ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা : জনগণের দ্বারপ্রামেত্ম নাগরিক সেবা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকটি ২৭ মার্চ সকালে অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনডিপি বাংলাদেশ কৌশলগত সহযোগী হিসেবে সহায়তা দেয়। বৈঠকের প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। বিশেষ অতিথি মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইকবাল মাহমুদ।

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের মিডিয়া বাজারে অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল বৈঠকে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন মোস্তাফা জববার। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ছিলেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কে এ এম মোর্শেদ। প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন সংসদ সদস্য ড. আকরাম চৌধুরী, বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান, নারী নেত্রী শিরিন আখতার, বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতির সাবেক সভাপতি মো: সবুর খান ও মো: ফয়েজউল্যাহ্ খান, সাবেক মহাসচিব আলী আশফাক, ডাটা সফট সিস্টেমস লি-এর এমডি মাহবুব জামান, ইউএনডিপির নন্দিতা দত্ত, ড. মতিউর রহমান, ড. আব্দুস সাত্তার।

কে এ এম মোর্শেদ তার মূল প্রবন্ধে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্নপূরণে প্রথমেই সব ধরনের সেবা জনগণের দ্বারপ্রামেত্ম পৌঁছাতে অবিলম্বে ই-গভর্ননেন্স চালু করতে হবে। এজন্য সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে।

এইচ টি ইমাম বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করতে হলে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোল’ এমন একটি আন্দোলন দরকার।

সংসদ সদস্য ড. আকরাম চৌধুরী টেলিকনফারেন্স, টেলিমেডিসিন, প্রতিগ্রামে তথ্যকেন্দ্র তৈরি এবং সর্বপরি ই
গভর্নমেন্ট ব্যবস্থা প্রচলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আব্দুল আজিজ বলেন, যারা ই-গভর্নেন্স চালুর আন্দোলন করছে, যারা ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন তাদের উদ্যোগ ও আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু যাদের জন্য এ উদ্যোগ তারা এ বিষয়ে কতটুকু সচেতন তা জানা দরকার।

শিরিন আখতার বলেন, অটোমেশন পরবর্তী সংকটগুলো কীভাবে মোকাবেলা করা যায় সে বিষয়ে আগাম পদক্ষেপ নিতে হবে।

মো: সবুর খান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে অবশ্যই সরকারি চাকরিতে আইটি ক্যাডার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মো: ফয়েজউল্যাহ্ খান প্রত্যেক গ্রামগঞ্জে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সাইবার কিয়স্ক স্থাপনের আহবান জানান। মো: আলী আশফাক অবিলম্বে জবাবদিহিমূলক ই-গভর্নমেন্ট ব্যবস্থা চালুর অনুরোধ জানান। মাহবুব জামান সরকারি প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস অটোমেশনে বাধাগুলোর কথা তুলে ধরেন।

‘শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি : ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি’

‘শিক্ষায় তথ্যপ্রযুক্তি : ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ২৭ মার্চ বিকালে বিসিএস আয়োজিত গোলটেবিলে ইউএনডিপি বাংলাদেশ কৌশলগত সহযোগী হিসেবে সহায়তা দেয়। এতে প্রধান ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান এবং বিশেষ অতিথি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান। প্যানেল আলোচক ছিলেন- সংসদ সদস্য ড. আকরাম চৌধুরী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবু সাইদ খান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড- রাঙ্গামাটির ভাইস চেয়ারম্যান এস. এম. আশরাফুল ইসলাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপিউটার বিভাগের প্রধান অধ্যাপক নাসের মাহমুদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপিউটার কেন্দ্রের পরিচালক মমিনুল ইসলাম, ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়- জার্মানি’র অধ্যাপক ড. বিভূতি রায়, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস, বাংলাদেশ-এর কমপিউটার বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. আকতার হুসেইন এবং ইউনিসেফের সাইদুল হক । মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ছিলেন ডি.নেটের নির্বাহী পরিচালক ড. অনন্য রায়হান।

ড. অনন্য রায়হান উল্লে¬খ করেন, সব শিক্ষকের জন্য আইসিটি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

ড. মশিউর রহমান বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে, আইসিটির ব্যবহারে অনেক অসুবিধা আছে, সেসব বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে, তা দূর করতে হবে। ড. আকরাম চৌধুরী বলেন, দেশে ই-পার্লামেন্ট ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

ড. আতিউর রহমান বলেন, আগামী দিনে যা দেখতে চাই এখনই তেমন শিক্ষা দিতে হবে। অধ্যাপক ড. আবু সাইদ খান বলেন, শিক্ষায় আইসিটি ব্যবহারের বাধা হলো প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদের অভাব।

সাইদুল হক বলেন, মোবাইল প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষা উপকরণ বিনামূল্যে প্রকাশে বাধ্য করতে হবে।

এস. এম. আশরাফুল ইসলাম, ৩-৬ বছর বয়সের শিশুদের শিশু শিক্ষা প্রকল্প চালু করার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। অধ্যাপক ড. বিভূতি রায় বলেন, শিক্ষকদের আইসিটি বাধ্যতামূলক করে তারপর অধ্যাদেশ পাস করতে হবে।

ড. আকতার হুসেইন বলেন, শিক্ষায় হতদরিদ্রতা কেন তা দেখতে হবে। অধ্যাপক নাসের মাহমুদ বলেন, ই-লার্নিং ও ই-কনটেন্ট ডেভেলপ করতে হবে।

‘জনগণের সংযুক্তি : ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রাধিকার’

‘জনগণের সংযুক্তি : ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রাধিকার’ শিরোনামে ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় এক গোলটেবিল বৈঠক। এতে সভাপতিত্ব করেন বিসিএস সভাপতি মোস্তাফা জববার। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তওফিক-ই-এলাহি চৌধুরী বীরবিক্রম। বিশেষ অতিথি বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: নাজমুল হুদা খান এবং বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়া আহমেদ। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের কনসালট্যান্ট মুনির হাসান। আলোচক হিসেবে অংশ নেন বিসিএসের সাবেক সভাপতি এস. এম. ইকবাল, সাবেক সহ-সভাপতি আহমেদ হাসান জুয়েল, আমাদের গ্রামের রেজা সেলিম, বাংলালায়নের কনসালট্যান্ট পারভেজ আহমেদ।

মূল প্রবন্ধে মুনির হাসান ডিজিটাল দেশের ধারণা, ডিজিটাল প্রযুক্তির বহুমুখিতা ও সার্বজনীনতা, বিশ্বজনীন প্রবেশাধিকার, জনগণের জন্য জনগণের প্রযুক্তি ও একে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দিশা সম্পর্কে আলোচনা করেন।

ড. তওফিক-ই-এলাহি চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে ক্রিটিক্যাল এলিমেন্টগুলো নির্ধারণ করে আপনারা (প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ, প্রাইভেট সেক্টর) সরকারকে দিন, সরকারের অপেক্ষায় থাকবেন না। মো: নাজমুল হুদা খান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ কোনো একটি বিষয়ের ডিজিটালাইজেশন নয়, সব কিছুর সম্মিলিত ডিজিটালাইজেশন। অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়া আহমেদ আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, বিটিআরসি ছড়িয়ে দাও, খুলে দাও নীতি নিয়েছে।

এস. এম. ইকবাল বলেন, আমাদের মেধার ঘাটতি নেই, প্রয়োজন এর যত্ণআত্মির ও নার্সিংয়ের। আহমেদ হাসান জুয়েল বলেন, নিঃসন্দেহে মুনির হাসানের মূল প্রবন্ধটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। পারভেজ আহমেদ বলেন, সরকারকে সফটওয়্যার সার্টিফিকেশন প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে, যাতে মান নিয়ন্ত্রণ করা যায়। রেজা সেলিম বলেন, আইসিটি নীতিমালা যুগোপযোগী করতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্ব ইনফরমেশন সোসাইটি সামিট-এ বাংলাদেশের অংশ নেয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

সমাপনী

বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো ২০০৯-এর সমাপ্তি ঘোষণা করেন তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতির সভাপতি মোস্তাফা জববার এবং ধন্যবাদ জানান ‘বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো ২০০৯’-এর আহবায়ক মো: শাহিদ-উল-মুনীর।

তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রদর্শনীর নানা আয়োজন থেকে যেসব বিষয় উঠে এসেছে, যেমন- তথ্য প্রযুক্তি নীতিমালা যুগোপযোগীকরণ, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণে আইন (কপিরাইট আইন ২০০০) ও বিধি (কপিরাইট রুলস ২০০৬) সংশোধন, পরিমার্জন, প্রযুক্তিবান্ধবকরণ ইত্যাদি বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। মোস্তাফা জববার তার বক্তব্যে সরকারের কাছে চারটি দাবি জানান। ০১. সরকারের প্রথম কাজ হবে তার নিজের শতবর্ষী পুরনো কাজের পদ্ধতি পরিবর্তন করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর করা, ০২. শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন ও শিক্ষাদানের পদ্ধতি পরিবর্তন করা, ০৩. সহজে ব্যবহার করা যায় এমন ই-কমার্স ব্যবস্থার প্রবর্তন করা এবং ০৪. তথ্য নীতিমালা পরিবর্তন করা।

প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, বিসিএস সভাপতি মোস্তাফা জববারের দাবি ও চাহিদার সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং সরকার এসব বিষয়ে কমপিউটার সমিতিকে যথাসম্ভব সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেন।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : mahmood_sw@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস