Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > দ্য হুইল ম্যান
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সৈয়দ হাসান মাহমুদ
মোট লেখা:১৪৩
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - জুন
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
গেম
তথ্যসূত্র:
গেমের জগৎ
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
দ্য হুইল ম্যান



হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং হুইল, নজর চোখের সামনের রাস্তার বাঁকে, বুকে জয়ী হবার আশা, মনে দুরন্ত বেগে ছুটে চলার আনন্দ, কানে বাজে টায়ারের ঘর্ষণ ও বাতাসের শব্দ, পেছনে প্রতিপক্ষ। কি পাঠকগণ! বুঝতে পারছেন কি ধরনের গেমের কথা হচ্ছে। হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন, রেসিং গেমের কথাই বলা হচ্ছে। রেসিং গেমের ভক্তের সংখ্যা অন্য গেমভক্তদের তুলনায় খুব একটা কম নয়। অনেক ধরনের রেসিং গেম রয়েছে, তার মধ্যে অন্তত একটি হলেও সবার পিসিতে খুঁজলে অবশ্যই পাওয়া যাবে। যার পিসিতে রেসিং গেম ইনস্টল করা নেই, এমন গেমার খুঁজে পাওয়া মুশকিল। অন্যান্য গেমের ক্ষেত্রে কয়েকবার গেম ওভার করার ব্যাপারটি খুব কমই হয়ে থাকে, কিন্তু রেসিং গেমের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি হরহামেশাই ঘটে থাকে। হাতে খেলার মতো কোনো গেম নেই, তখন কি খেলা যায়? এই প্রশ্নটি মাথায় আসলেই প্রথম যে উত্তরটি আসে তা হচ্ছে রেসিং গেম।



এখনকার গেমগুলো যাতে বার বার খেলা হয় সেদিকে খেয়াল রেখে গেম নির্মাতারা গেমে বেশ ভিন্নতা আনার চেষ্টা করেন। যেমন একটা উদাহরণের মাধ্যমে ব্যাপারটি সহজ করা যাক। নিড ফর স্পিড সিরিজের গেমভক্তদের সংখ্যা হাতে গুনে শেষ করা যাবে না। এই সিরিজের একটি গেম হচ্ছে কার্বন। এই গেমে গেমার যখন গেম খেলা শুরু করবেন তখন ৩ ধরনের গাড়ি থেকে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে। তার মধ্যে রয়েছে মাসল, টিউনার ও এক্সোটিক। মাসল ক্যাটেগরির গাড়িগুলোর ইঞ্জিনের ক্ষমতা বেশ ভালোমানের, তাই পথঘাট কাঁপিয়ে রাস্তায় ছুটে চলায় এর জুড়ি নেই। টিউনার ধাঁচের গাড়িগুলো হ্যান্ডলিং করা বেশ সহজ, তাই রাস্তায় চলার সময় কঠিন কিছু বাঁক নেয়া বা ড্রিফটিং করা বেশ সুবিধাজনক হয়। আর এক্সোটিক গাড়িগুলো হচ্ছে দারুণ গতিসম্পন্ন, তাই এই ধাঁচের গাড়ি নিয়ে রেস খেলার সময় প্রতিপক্ষকে পেছনে ফেলা কোনো ব্যাপারই নয়। প্রথমেই গেমারকে যেকোনো এক ক্যাটেগরির গাড়ি নিয়ে খেলতে হবে এবং সেই সাথে গেমে ওই ক্যাটেগরির গাড়িগুলো আনলক হবে। তাই গেম শেষ করার পর স্বাভাবিকভাবেই গেমারের সাধ জাগবে অন্য দুই ধরনের ক্যাটেগরির গাড়ি নিয়ে খেলার, তাই নয় কি? এখনকার গেমগুলোর গেমপ্লের সময়কাল বাড়ানোর জন্য দেয়া হয় সাইড মিশন, পাজল সলভ, কিছু খুঁজে বের করা, পয়েন্ট সংগ্রহ ইত্যাদি অপশন দিয়ে।

আজকের আলোচনার মূল বিষয় হচ্ছে রেসিং গেম। রেসিং গেম তো অনেক ধরনের খেলে থাকবেন। বেশিরভাগ রেসিং গেমের মধ্যে শুধু রেস আর রেস, তা ছাড়া আর কিছুই নেই। এমন যদি হতো রেসিং গেমেই থাকতো শূটিং বা অ্যাডভেঞ্চার গেমের ছায়া, তবে ব্যাপারখানা কেমন হতো? একবার ভেবে দেখেছেন কি? এমনি একটি শ্বাসরুদ্ধকর ড্রাইভিং ও একইসাথে দারুণ এক মিশনভিত্তিক অ্যাকশন গেম বানিয়েছে মিডওয়ে স্টুডিওস নিউক্যাসল, যার নাম হুইলম্যান। ইউবিসফটের ব্যানারে পাবলিশ হওয়া এই গেমের প্রধান চরিত্র হচ্ছে মাইলো বুরিক। এই চরিত্রটি বানানো হয়েছে অ্যাকশন মুভির বিখ্যাত অভিনেতা ভিন ডিসেলের আদলে এবং সেই সাথে দেয়া হয়েছে তার রাশভারি কণ্ঠ।

গেমে আপনাকে খেলতে হবে স্পেনের একটি শহর বার্সিলোনায়। ওপেন ওয়ার্ল্ড ম্যাপের ভিত্তিতে বানানো এই বার্সিলোনা শহরে আপনি সর্বত্র ঘুরে বেড়াতে পারবেন। গেমের শুরুটাই হবে দুর্দান্ত এক অ্যাকশন মিশনের মধ্য দিয়ে। প্রথমেই দেখা যাবে রাস্তার ধারে গাড়ি পার্ক করে মাইলো বুরিক অপেক্ষমাণ, তার গাড়ির পাশ দিয়ে পুলিশ কার টহল দিচ্ছে। হঠাৎ রাস্তার পাশের এক ব্যাংক থেকে ব্যাগ হাতে উদয় হবে এক সুন্দরী তরুণী, আর সাথে সাথে ব্যাংকের অ্যালার্ম বেজে উঠবে। মেয়েটি দৌড়ে এসে মাইলোর গাড়িতে ওঠার সাথে সাথে পুলিশের গুলিবর্ষণ শুরু হবে। তারপর গাড়ির কন্ট্রোল চলে আসবে গেমারের উপরে। তরুণীর নির্দেশমতো গাড়ি চালিয়ে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে হবে। পালানোর সময় মেয়েটি কোন পথ নির্দেশ করে তা ঠিকমতো খেয়াল করতে হবে এবং তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে হবে। মাইলো দক্ষ ড্রাইভার, তাই যেখানেই গাড়ি সম্পর্কিত কাজ দেখবে সেখানেই আগ্রহ দেখাবে এবং জড়িয়ে পড়বে কিছু সন্ত্রাসীচক্রের সাথে। সন্ত্রাসীচক্রের সদস্যরা তার গাড়ি চালনায় মুগ্ধ হয়ে তাকে নানারকম কাজ দেবে এবং মাইলো ড্রাইভিংয়ের পাশাপাশি সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে জড়িয়ে পড়বে। এভাবেই গেমের কাহিনী এগিয়ে চলবে। গেমের কাহিনীর ধারাবাহিকতায় মিশন রয়েছে ৩১টি, কিন্তু সাইড মিশন হিসেবে দেয়া হয়েছে প্রায় ১০৫টি মিশন। সাইড মিশনগুলোর মধ্যে রয়েছে ট্যাক্সিতে করে যাত্রীকে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেয়া, কাউকে ধাওয়া করা, কারো গাড়ি হাইজ্যাক করে তা নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেয়া, রাস্তায় ভাংচুর করা, রেস খেলা ইত্যাদি। গেমে গাড়ি চালানোর পাশাপাশি গোলাগুলি করতে পারবেন এবং থার্ড পারসন মুডে মাইলোকে নিয়ে শত্রুপক্ষের আস্তানায় হামলা চালাতে পারবেন ও নানারকম অস্ত্র ব্যবহার করে নিজের কাজ উদ্ধার করতে পারবেন। গেমে দেয়া হয়েছে নানারকমের যানবাহন। ট্রাক, পিকআপ, ভ্যান, সেডান, রেসিংকার, মোটরসাইকেল, স্পোর্টস বাইক কোনো কিছুই বাদ দেয়া হয়নি। আপনি মাইলোকে নিয়ে যেকোনো গাড়ি হাইজ্যাক করতে পারবেন। অনেকেই বলতে পারেন গেমটি তো গ্রান্ড থেফট অটো বা ড্রাইভার গেমের মতো। কিন্তু খেলার ধরনে কিছুটা মিল থাকলেও গেমটি অনেকক্ষেত্রে ওইসব গেমের চেয়ে আলাদা। গেমের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের মাঝে রয়েছে-পুলিশের গাড়ি বা প্রতিপক্ষের গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং একেবারে ধ্বংস করে ফেলা, প্রতিপক্ষের গাড়ির টায়ারে গুলি করে তাদের গতি কমানো বা চলন্ত গাড়িতে ড্রাইভারকে গুলি করে গাড়ি থামানো, চলন্ত অবস্থায় এক গাড়ি থেকে অন্য গাড়িতে লাফিয়ে পড়ে তা নিজের দখলে নেয়া বা এয়ারজ্যাক করা, পেছনের প্রতিপক্ষকে গুলি করার জন্য গাড়িকে স্লোমোশনে ৩৬০ ডিগ্রিতে ঘুরিয়ে আনার সময় প্রতিপক্ষকে গুলি করে ধরাশায়ী করা, স্পিড বুস্টের সাহায্যে দ্রুতবেগে গাড়ি চালানো ইত্যাদি কত কি?

গেমটি বানানো হয়েছে আনরিয়েল ইঞ্জিন ৩-এর ওপরে ভিত্তি করে, তাই গেমের গ্রাফিক্সের কোয়ালিটির ব্যাপারটি পাঠকরা নিশ্চয়ই ভালো ধারণা করতে পারছেন। আনরিয়েল ইঞ্জিন ব্যবহার করায় গেমের গ্রাফিক্স হয়ে উঠেছে খুবই নিখুঁত ও সাবলীল। গেমের শহরের রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, লাইটপোস্ট, বিলবোর্ড, টেলিফোন বুথ, পার্কের ধারে বেঞ্চ, পানির ফোয়ারা, গোলচত্বরের মাঝে ভাস্কর্য, নানারকমের যানবাহন ইত্যাদি খুবই সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।



গেমটি খেলার জন্য এক্সপি সার্ভিস প্যাক ২ বা ভিসতার প্রয়োজন হবে। প্রসেসরের ক্ষেত্রে ইন্টেলের ২ গিগাহার্টজের কোর টু ডুয়ো বা এএমডির ৬৪ এক্স ২ সিরিজের ৩৬০০+ প্রসেসর লাগবে। সেই সাথে লাগবে ২ গিগাবাইট র্যাাম, ৯ গিগাবাইট ফাঁকা স্থান ও ৫১২ মেগাবাইট মেমরির গ্রাফিক্স কার্ড (ন্যূনতম এনভিডিয়া জিফোর্স ৭৯০০ বা এটিআই রাডেওন এক্স ১৯৫০ সিরিজের গ্রাফিক্স কার্ড)।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : shmt_21@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস