Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > ফারাও
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: অনিমেষ ‍আহমেদ
মোট লেখা:১৬
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - জুন
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
গেম
তথ্যসূত্র:
গেমের জগৎ
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
ফারাও



জিউস গেমটির কথা মনে আছে? কনস্ট্রাকশন তৈরির মাধ্যমে ট্রুপ তৈরি করে এগুতে হয় এমন একটি আসাধারণ গেম। জিউস গেমটি ছিল সেই সময়ের সেরা পৌরাণিক রিয়েল টাইম স্ট্র্যাটেজিক গেম যেটি তৈরি করে সিয়েরা গেমস। তবে এই পৌরাণিক কাহিনীভিত্তিক গেম কিন্তু সরাসরি তৈরি করা হয়নি। সিয়েরা গেমসের আরেকটি জনপ্রিয় গেম ফারাও এর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে তার ধারাবাহিকতায় জিউস তৈরি করা হয়। এরই মধ্যে কমপিউটার জগৎ পত্রিকায় আপনারা জিউস গেমের সম্পর্কে জেনেছেন। এই সংখ্যায় পুরনো গেম বিভাগে ফারাও গেম সম্পর্কে আমরা জানবো।

যেহেতু ফারাও গেমের জনপ্রিয়তায় জিউস তৈরি করা হয়েছে তাই জিউস এবং ফারাও গেমের মধ্যে মিল থাকাটা খুব স্বাভাবিক। অনেক ধরনের স্ট্র্যাটেজিক গেমের মধ্যে এই গেমটি হচ্ছে একটি রিয়েল টাইম স্ট্র্যাটেজিক গেম। রিয়েল টাইম স্ট্র্যাটেজিক গেমের আসল কাজ হচ্ছে কনস্ট্রাকশন তৈরি করার মাধ্যমে প্রতিপক্ষের চেয়ে শক্তিশালী একটি সৈন্যবাহিনী তৈরি করে নির্দিষ্ট মিশনে জয়লাভ করা। কিন্তু রিয়েল টাইম ট্যাকটিকস ধরনের গেমে কোনো কনস্ট্রাকশন তৈরি করতে হয় না। আগে থেকেই তা তৈরি করা থাকে। এখানে শুধু দিয়ে দেয়া কনস্ট্রাকশন বা সৈন্যবাহিনী দিয়ে মিশন সম্পন্ন করতে হয়। শুধু যুদ্ধকৌশল নিজেকেই নির্ধারণ করতে হয়।



আজকাল বাজারে অনেক ঐতিহাসিক এবং পৌরাণিক গেম পাওয়া যায়। এ সব গেমের মাধ্যমে এমন অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিতে পারেন যা হয়তো কোনো দিনও আপনার পক্ষে সম্ভব হতো না। একই কথা প্রযোজ্য যে কোনো অ্যাডভেঞ্চার বা কোনো অভিযানের ক্ষেত্রেও। সেইসাথে ইতিহাস জানার সুযোগ করে দেয় এধরনের ঐতিহাসিক এবং পৌরাণিক গেম। আসলে সব ধরনের গেমের ক্ষেত্রেই এই কথা প্রযোজ্য। সিয়েরা এমন একটি গেম তৈরির প্রতিষ্ঠান যারা এমন প্রচুর পৌরাণিক গেম তৈরি করে সফল হয়েছে। তারা রোমান সভ্যতা, মিসরীয় সভ্যতা, গ্রিক সভ্যতা প্রভৃতি নিয়ে গেম তৈরি করেছে। নাম শুনেই হয়তো বুঝতে পারছেন যে এই গেমটি মিসরীয় সভ্যতা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

ফারাও রিয়েল টাইম স্ট্র্যাটেজিক গেম বলে এই গেমে আপনাকে বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন তৈরি করতে হবে। কনস্ট্রাকশন তৈরির পাশাপাশি আপনাকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নগরায়নের বিভিন্ন ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। আপনার কাজের ওপর নির্ভর করবে দেবদেবীদের খুশি অখুশি থাকার বিষয়টি। শুধু সাধারণ প্রজাদের খুশি রাখলেই চলবে না, দেবদেবীদেরকেও খুশি রাখতে হবে। তা না হলে আপনার ওপর নেমে আসবে অভিশাপ। আর শুধু জনগণ বা দেবদেবী নয়। আপনার শক্তি যতটা সম্ভব অর্জন করতে হবে। তা না হলে বৈদেশিক শক্তি এবং দস্যুদের আক্রমণ তো আছেই।

এসবের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ব্যবসায় বাণিজ্যের পাশাপাশি বৈদেশিক বাণিজ্যও আপনাকে পরিচালনা করতে হবে। অনেকটা সরকার চালানোর মতো। আর এসব চালাতে ব্যর্থ হলে নেমে আসবে বিদেশী সৈন্যদের আক্রমণ। অনেক লেভেলে বন্য ও হিংস্র পশুদের আক্রমণও সহ্য করতে হবে। সেইসাথে এই গেমে মিসরীয় দেবদেবীদের প্রভাব অনেক বেশি। নিয়মিত উৎসব এবং ধর্মীয় আচার ব্যবস্থা পালন করে তাদের খুশি রাখতে হবে। তা না হলে নেমে আসবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

এই গেম খেললে বোঝা যাবে কিভাবে মিসরীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছে। মূলত নীল নদের পাড়ে নানা স্থানে আপনাকে প্রতিটি লেভেলে শহর গড়ে আপনাকে সভ্যতার ভিত্তি তৈরি করতে হবে। সফল হলে মিশরের গ্রেট ফারাওদের বংশের নামের পাশে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে আপনার বংশের নাম। আর নীল নদের উর্বরকে কাজে লাগিয়ে কৃষির মাধ্যমে আপনাকে শুরু করতে হবে সভ্যতার গোড়াপত্তন। গেমের মূল ক্যাম্পেইনে আপনাকে শুরুতেই একটি শহর দেয়া হবে। শহর বলতে শুধু উন্মুক্ত আকাশ আর খোলা ময়দান। অবশ্যই তা নদীর পাড়ে। এই গেমে জিততে হলে লোকেদের থাকার জায়গা তৈরি করুন পানির কাছাকাছি এবং নগরায়ন করতে হবে আধুনিক উপায়ে খোলামেলাভাবে। কোনোভাবেই যেন ঘিঞ্জি এলাকাতে শহর পরিণত না হয়। আর এই খোলা ময়দানে আছে কৃষির জন্য আবাদি আর আবাসস্থলের জন্য অনাবাদি জমি। এখানে আপনাকে নিজের ইচ্ছেমতো ফারাওদের নগরী তৈরি করে নিতে হবে।

এই গেম খেলার জন্য আপনাকে মিসরীয় সভ্যতা কিছুটা জানতে হবে। ভালো হয় যদি মিসরীয় সভ্যতা পড়ে কিছুটা ধারণা নিয়ে নিতে পারেন। আর ধারণা না থাকলেও সমস্যা নেই, ধারণা করে নিতে পারবেন এই গেম থেকে। এখনকার যুগে গেম খেলেও যে ইতিহাস জানা যায় তার খুব চমৎকার নিদর্শন হচ্ছে এই গেম।

এই গেমে একাধারে আপনাকে রাজনীতি, অর্থনীতি, শহরায়ন, ধর্মীয় ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি নানাদিকে লক্ষরাখতে হবে। তাই সময় নিয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে গেম চালাতে হবে। আর ঠান্ডা মাথায় না খেললে এই গেমের প্রতিটি মিশনে জেতার সম্ভাবনা খুব কম থাকবে। তাই খেলার সময় খুব ধীরেসুস্থে এই গেম খেলুন। সময় যত লাগুক তা গেমে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তাড়াহুড়া করলে হিতে বিপরীত হবে।

গেমের একটি প্রধান সমস্যা হচ্ছে এই গেমে লেভেলভিত্তিক ভিডিওর ব্যবস্থা না রাখা। ভিডিও থাকলে এই গেম আরো জীবন্ত হয়ে উঠতো এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তবে অনেক বিশেষ ইভেন্টে ভিডিও রাখা হয়েছে। আর গেমের অডিও এবং মিউজিক সময়ের তুলনায় বেশ ভালোই বলতে হবে। তাছাড়া এই গেমের ক্যাম্পেইনগুলো ইন্টারলিঙ্কড। প্রতিটি ক্যাম্পেইনের সাথে প্রতিটির সংযোগ রাখা হয়েছে। ফলে ঐতিহাসিক ঘটনার ধারাবাহিকতা রাক্ষা করা হয়েছে নিপুণভাবে। তবে লেভেলভিত্তিক ভিডিওর ব্যবস্থা না থাকলেও গ্রাফিক্স এবং গেম ইউনিটগুলো দিয়ে এই গেমের সীমাবদ্ধতাগুলো চমৎকারভাবে দূর করে দেয়া হয়েছে।

পুরনো গেমগুলোর সুবিধা হচ্ছে যেকোনো সিস্টেমে এসব গেম চালানো যায়। এই গেমটিও এমন। এর রিকোয়ারমেন্টস খুবই কম। পেন্টিয়াম ২ বা সমমানের সিস্টেমেও এই গেম চমৎকার চলবে। এই গেম এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম যার সাহায্যে বিনোদনের পাশাপাশি এমন সব অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায় যা বাস্তব জীবনে সবার পক্ষে অর্জন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। মিসরীয় ইতিহাস সম্পর্কে এই গেম প্রায় সবটুকু ধারণা দেবার জন্য যথেষ্ট।

যা যা প্রয়োজন

প্রসেসর : পেন্টিয়াম ২ বা এএমডি কে ৭
গ্রাফিক্স কার্ড : ১৬ মে.বা.
র‌্যাম : ৬৪ মেগাবাইট

কজ ওয়েব
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস