Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > বাজেটে ডিজিটাল বাংলাদেশের যথার্থ দিকনির্দেশনা নেই
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: এম. এ. হক অনু
মোট লেখা:২৪
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - জুলাই
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
বাজেট
তথ্যসূত্র:
রির্পোট
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
বাজেটে ডিজিটাল বাংলাদেশের যথার্থ দিকনির্দেশনা নেই

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ শব্দটি এরই মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের জনগণও অপেক্ষায় আছে ডিজিটাল বাংলাদেশ দেখার জন্য। সেই আশা থেকেই সবাই মনে করেছিলেন, এই সরকারের প্রথম বাজেটে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি তথা আইসিটি নিয়ে কার্যকর পরিকল্পনার কথা থাকবে। একটা দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। কিন্তু ২০০৯-২০১০ অর্থবছরের বাজেটে আইসিটির ব্যবহার, এ খাতের উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে ইতিবাচক পদক্ষেপ খুব একটা চোখে পড়েনি।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় আইসিটি খাতে যেসব প্রস্তাব দেখা গেছে, সেগুলোর বেশিরভাগই গতানুগতিক। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাজেটে প্রস্তাব হচ্ছে : ২০১৩ সালের মধ্যে মাধ্যমিক স্তরে এবং ২০২১ সালের মধ্যে প্রাথমিক স্তরে কমপিউটার ও কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, ২০১৪ সালের মধ্যে ই-গভর্নেন্স ও ২০১২ সালের মধ্যে ই-কমার্সের সূচনা করা, বছরে ৪ হাজার কমপিউটার প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানী তৈরি করা, ফাইলভিত্তিক প্রশাসনকে ডিজিটাল প্রশাসনে রূপান্তর করা, বিজ্ঞানচর্চা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গবেষণার সুযোগ বাড়ানো, আইটি খাত সম্পর্কিত বিভিন্ন জরুরি কর্মসূচী অর্থায়নে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, আইটি খাতে উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য বিদ্যমান সমমূলধন তহবিলের পরিমাণ ১০০ কোটি থেকে ২০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা। ডাক ও টেলিযোগাযোগ অধ্যায়ে বলা হয়েছে, ক্রমান্বয়ে ইন্টারনেটের সুবিধা গ্রামাঞ্চলে সম্প্রসারণ করা, ৫ বছরের মধ্যে সব উপজেলাকে ইন্টারনেট সংযোগ সুবিধার আওতায় আনা, দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া, দেশব্যাপী ফাইবার সংযোগ স্থাপনের কাজ আগামী বছরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া, দেশের ৬টি বিভাগীয় শহরসহ অন্য ২৩টি জেলাশহরকে অন্তর্ভুক্ত করে এক্সেস নেটওয়ার্ক তৈরি করা।

অর্থমন্ত্রীর চমৎকার উদ্যোগের কথাগুলো জানা গেল। কিন্তু ২০১৩ সালের মধ্যে মাধ্যমিক স্তরে কমপিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে গেলে এর জন্য এখন থেকে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং লার্নিং সিডি ও পাঠ্যপুস্তক তৈরি করতে হবে। তার কোনো বাজেট বা পরিকল্পনা দেখা যায়নি।

২০১২ সালের মধ্যে ই-কমার্স কেনো, কেনো নয় ২০০৯ অথবা ২০১০ সালের মধ্যে- তা বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে না। আবার ২০১৪ সালের মধ্যে ই-গভর্নেন্সের সূচনা কেনো? ইতোমধ্যে সরকারের বহু প্রতিষ্ঠান ই-গভর্নেন্সের সুবিধা দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন, চট্টগ্রাম ও ঢাকা কমার্স হাউস, পরীক্ষার ফল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিশোধ ইত্যাদি ই-গভর্নেন্সের আওতায় আনা হয়েছে। তাই আমাদের কেনো আবার পেছনের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে ২০১৪ সাল পর্যন্ত, তা বুঝা গেল না। কিন্তু অর্থমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেছেন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এবং বাজেট প্রণয়নে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে বলেছিলেন, আমাদের বছরে ১০ হাজার প্রোগ্রামার চাই। কিন্তু এবার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে কেনো বছরে ৪ হাজার কমপিউটার প্রকৌশলী বের করার আশা প্রকাশ করলেন অর্থমন্ত্রী তা বুঝা গেল না। ইতোমধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইনস্টিটিউট থেকে বছরে প্রায় ৪ হাজার কমপিউটার প্রকৌশলী বের হচ্ছে।

আইটি খাতে ১০০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এটা কিভাবে ব্যয় করা হবে, তার পরিকল্পনা অনুপস্থিত। অতীতে ইকুইটি ফান্ড ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আমাদের ভালো নয়। এবার যাতে প্রকৃত ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তারা ফান্ড পায় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি মূল্য দিয়ে আমাদের ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার করতে হয়। ১ এমবিপিএস-এর মূল্য প্রায় ৩১ হাজার টাকা। অথচ খবর নিয়ে জানা গেছে তার প্রকৃত বাজার খরচ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা। কেনো বাজেটে এর মূল্য কমানো হলো না, বিষয়টি প্রযুক্তিপ্রেমী মানুষদের হতবাক করেছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে শিক্ষার্থীদের হাতের নাগালে ইন্টারনেট সার্ভিসের ওপর থেকে মূল্য সংযোজন কর অর্থাৎ মূসক প্রত্যাহার শুধুই নয়, শিক্ষা খাতে বিনামূল্যে ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করাটা হবে যুক্তিযুক্ত। সেই সাথে সাধারণ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ওপর থেকে মূসক প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করতে হবে।

ইতোমধ্যে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের কারণে ইন্টারনেট সেবা গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। সব উপজেলাকে পাঁচ বছরের মধ্যে ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আনার বিষয়টিও বাস্তববিবর্জিত।

এবার আসা যাক বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ২০০৯-২০১০ অর্থবছরের বরাদ্দ নিয়ে। এ মন্ত্রণালয়ের বাজেট হচ্ছে ৩৮১ কোটি টাকা। তার মধ্যে অনুন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ২৩৯ কোটি টাকা। আর উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ১৪২ কোটি টাকা। অনুন্নয়ন খাত বলতে বুঝায় মন্ত্রণালয় ও তার অধীনস্থ সংস্থার নিজস্ব খরচ। আর উন্নয়ন খাত বলতে বুঝায় রাষ্ট্রের অবকাঠামো উন্নয়ন। উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ১৪২ কোটি টাকার আওতায় ১৬টি প্রকল্প উল্লেখ করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মাত্র ১৪২ কোটি টাকা দিয়ে কিভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় সম্ভব, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা শঙ্কিত।

কিছুদিন আগে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া আইসিটি নীতিমালায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে জাতীয় বাজেটের ৫ শতাংশ আইসিটি খাতে ব্যয় করতে হবে। তার অনুপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে এবং মহাখালীতে অবস্থিত ৪৭ একর জমিতে আইটি পার্কের ব্যাপারে কোনো দিকনির্দেশনার উল্লেখ নেই এবারের বাজেটে।

অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া তথা বাংলাদেশের সার্বিক আইসিটি খাতের উন্নয়নের স্বার্থে কতিপয় যৌক্তিক সংশোধনীর অনুরোধ জানায়। কিন্তু চূড়ান্ত বাজেট পাসের সময় এই যৌক্তিক সংশোধনীগুলো কোনোরূপ আমলে নেয়া হয়নি। বিষয়টি আইসিটি খাতের সংশ্লিষ্টজনসহ প্রযুক্তিপ্রেমী মানুষকে পীড়া দিয়েছে। প্রাসঙ্গিক বলে এই সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিচে উপস্থাপিত হলো :

ডিজিটাল ক্যামেরা এবং ওয়েবক্যাম ব্যবহার করে সারাদেশের ব্যাপক তরুণগোষ্ঠী জীবিকা নির্বাহ করছে, সৃষ্টি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থানের। তাই ডিজিটাল ক্যামেরা এবং ওয়েবক্যাম তরুণদের স্বাবলম্বীকরণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে বিধায় শুল্ক, কর ও মূসক নির্ধারণের ক্ষেত্রে এ দু’টি যন্ত্রকে অনিবার্যভাবে কমপিউটার সামগ্রীর সমতুল্য বিবেচনা করা। স্থানীয়ভাবে প্রস্ত্তত করা সফটওয়্যার ও আইটিইএস-এর ক্ষেত্রে মূসক অব্যাহতি দেয়ার ব্যবস্থা করা। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আইসিটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। সরকারের সব ওয়েবপেজ/পোর্টাল বাংলায় করার জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা। সাধারণ মানুষ যাতে স্বল্প সুদে (শতকরা ৫ ভাগ) কমপিউটার কিনতে পারে তার জন্য কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমপিউটার ল্যাব তৈরি করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি তহবিল গঠন করা। এর পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে। এ তহবিল থেকে ঘূর্ণায়মান ঋণ দেয়া যেতে পারে। ২৪ কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করে যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের কমপিউটার ল্যাব গড়ে তুলবে। ইন্টারনেটে পেমেন্ট ও ই-পেমেন্ট গেটওয়ে এখনই চালু করা। ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণার সাথে সঙ্গতি রেখে আইন সংস্কারের জন্য আইন কমিশন গঠন করে তার জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা। প্রশ্ন হচ্ছে- এসব দাবিগুলো কি অযৌক্তিক ছিল?

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : anu@comjagat.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস
অনুরূপ লেখা