Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > ভারত এগিয়েছে আমরাও পারবো
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: গোলাপ মুনীর
মোট লেখা:২০২
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - জুলাই
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
আইটি শিল্প
তথ্যসূত্র:
বিপিও
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
ভারত এগিয়েছে আমরাও পারবো

বিপিও। পুরো কথায় ‘বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং’। বিভিন্ন কোম্পানির সামনে বিপিও সুযোগ এনে দিয়েছে তাদের আসল ব্যবসায়ে মনোযোগ দেয়ার। আজ বিশ্বব্যাপী বিপিও’র প্রবৃদ্ধি ঘটছে ব্যাপকভাবে। কারণ আজকের অনেক কোম্পানি দেখছে বাইরে থেকে কিছু কাজ করিয়ে আনলে যেমনি খরচ কমছে, তেমনি অনেক ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকা যায়। ফলে মূল ব্যবসায়ে মনোযোগ দেয়ার সুযোগও বাড়ে। বিপিও’র আওতায় প্রতিদিনের অনেক কাজই সম্পাদিত হয় ব্যাক অফিসের দায়িত্বে।

বিপিও’র সুবিধা অনেক। প্রথমত, এটি খরচ কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে প্রশাসনিক ও উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আসে। জনবল ও বেতন বাবদ খরচ কমে। দ্বিতীয়ত, কোম্পানি আসল ব্যবসায়ে মনোযোগ দেয়ার সুযোগ পায় বেশি করে। তখন কোম্পানির প্রতিদিনের অনেক কাজে দায়িত্ব পড়ে ব্যাক অফিসের ঘাড়ে। তৃতীয়ত, বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ সেবা পাওয়া যায়। ফলে কোম্পানি মোটা বেতনে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়ার ঝামেলা থেকে রক্ষা পায়। কোম্পানি এর মাধ্যমে বাইরের বিশেষজ্ঞ দিয়ে নিজেদের লোকের প্রশিক্ষণের কাজও সম্পাদন করতে পারে। চতুর্থত, গ্রাহকদের চাহিদা মোকাবেলার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং পঞ্চমত, রাজস্ব আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও রয়েছে বিপিও’র সহায়ক ভূমিকা। অনেক কাজ এর মাধ্যমে অন্য প্রতিষ্ঠানের ঘাড়ে চাপিয়ে কোম্পানি বিক্রি ও বাজার সম্প্রসারণের কাজে বেশি মনোযোগী হতে পারে। সুযোগ পায় নতুন নতুন পণ্য উৎপাদনের। গ্রাহকদের প্রতি নজর বাড়িয়ে গ্রাহকসন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে। ফলে কোম্পানির আয় স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।

বিপিও’র বিশ্ববাজার

বিশ্বে বিপিও বাজারের দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটে চলেছে। বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানি তাদের বিপিও খাতে খরচ বাড়িয়ে যাচ্ছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিশ্বের বেশিরভাগ শীর্ষসারির কোম্পানি কৌশলগত ব্যবসায়িক সমাধান হিসেবে বিপিও অবলম্বন করছে। বিপিও শিল্প খুবই বৈচিত্রময়। এর রয়েছে নানা উপখাত। প্রতিটি উপখাতই প্রদর্শন করছে নিজস্ব অনন্য বৈশিষ্ট্য।

গার্টনার নামের বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ২০০৭ সালে বিপিও’র বিশ্ববাজারের আকার ছিল ১৭৩০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ২৪৩৩ কোটি ডলারের কাজ আউটসোর্স হয় বিদেশী কনট্রাক্টরদের কাছে। এর মধ্যে ভারতের অবদান ১১০০ কোটি ডলার। ২০০৯ সালে ৩৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হারে তা ১৪৭০ কোটি ডলারে পৌঁছবে। ভারতের বিপিও সার্ভিস প্রোভাইডার, ভারতে নিয়োজিত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ক্যাপটিভ অপারেশনগুলো, থার্ড পার্টি সার্ভিস প্রোভাইডার ও সহযোগী আইটি সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলো এক্ষেত্রে অবদান রাখছে।

উত্তর আমেরিকা আইটিইএস-বিপিও সার্ভিসের প্রধান বাজার। বিশ্বের আইটিইএস-বিপিও বাজারের ৬০ শতাংশই রয়েছে উত্তর আমেরিকায়। উত্তর আমেরিকার আইটিইএস-বিপিও বাজারের মূল ভরকেন্দ্র রয়েছে টেলিযোগাযোগ, অর্থায়ন সেবা, স্বাস্থ্যসেবা ও জ্বালানি খাতে। সেখানে সাধারণত যেসব কাজ আউটসোর্স করা হয় তার মধ্যে আছে : ইন্টারনাল অডিটিং, পেরোল, হিউম্যান রিসোর্সেস, বেনিফিটস, ম্যানেজমেন্ট, কন্টাক্ট সেন্টারস/কাস্টমার কেয়ার, পেমেন্টস/ক্লেইমস প্রসেসিং, রিয়েল এস্টেট ম্যানেজমেন্ট ও সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট।

পশ্চিম ইউরোপের আইটিইএস-বিপিও মার্কেটের আকার বিশ্ববাজারের ২০ শতাংশ। ফিন্যান্সিয়েল সার্ভিস খাত হচ্ছে ইউরোপের সবচেয়ে বড় কনজুমার বিপিও-আইটিইএস সার্ভিস খাত। তারপরেই রয়েছে টেলিযোগাযোগ, মানবসম্পদ, অর্থায়ন ও হিসাব খাত।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর আইটিইএস-বিপিও বাজারের আকার মোট বিশ্ববাজারের ১৮ শতাংশের মতো। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো ঐতিহ্যগতভাবেই শুধু উৎপাদন সম্পর্কিত কাজ আউটসোর্স করে আসছে। এ অঞ্চলের বিপিও মার্কেট এখনো শৈশব পর্যায়ে। তবে আগামী কয়েক বছরে এ অঞ্চলের বিপিও মার্কেটের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। প্রবৃদ্ধিটা প্রধানত ঘটবে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ সূত্রে ও সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে। মানবসম্পদ, ফিন্যান্স ও অ্যাকাউন্টিং সম্ভবত হবে আউটসোর্সের প্রধান প্রধান খাত।

সফল ভারত

গত মাসের একটি খবর। খবরটি গত ৯ জুন প্রকাশ করেছে সিলিকন ইন্ডিয়া নিউজ ব্যুরো। এতে বলা হয়, ভারতীয় বিপিও রাজস্ব আয় ২০০৯ সালে ১৪৭০ কোটি ডলারে পৌঁছবে। ভারত যে আউটসোর্সের ক্ষেত্রে একটা ‘ফেভারিট ডেস্টিনেশন’ হিসেবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কাজ করেছে, তার প্রতিফলন মিলেছে এর বিপিও খাতের প্রবৃদ্ধির মধ্যে। এ খাতের ‘কম্পাউন্ড অ্যানুয়েল গ্রোথ রেট’ তথা সিএজিআর ২০০৯ সালে পৌঁছেছে ৩৭ শতাংশেরও বেশি। এ প্রবৃদ্ধি হার নিয়ে বিপিও খাতে ভারতের আয় ২০০৮ সালের ১১০০ কোটি ডলার থেকে ২০০৯ সালে ১৪৭০ কোটি ডলারে পৌঁছবে। এ সময়ে এ খাতে সরাসরি চাকরিরতদের সংখ্যা ৭ লাখ থেকে বেড়ে ৯ লাখ পৌঁছেছে। ন্যাসকমের মতে, চরম অর্থনৈতিক মন্দা পরিবেশ বিরাজ করা সত্ত্বেও আশা করা হচ্ছে ২০১০ সালেও ভারতের এ খাতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।

‘‘বিপিও সেক্টর ইতোমধ্যেই ‘বেসিক ভয়েস বেজড সার্ভিস’ থেকে উত্তরণ ঘটিয়েছে ‘হাইটেক নলেজ বেজড সার্ভিস’-এ। এবং এ খাতে ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রবৃদ্ধিতে সৃষ্টি করেছে অসমান্তরাল প্রভাব।’’- বলেছেন ন্যাসকমের চেয়ারম্যান ও জেনপ্যাক্টের প্রেসিডেন্ট ও সিইও প্রমোদ বাসিন। গত জুনের প্রথমদিকে ব্যাঙ্গালোরে অনুষ্ঠিত একাদশ বার্ষিক ‘ন্যাসকম বিপিও স্ট্র্যাটেজি সামিট’-এ তিনি একথা বলেন। প্রমোদ বাসিনের মতে, এ খাতের রাজস্ব আয় ভারতের জিডিপিতে ১ শতাংশ অবদান রাখে। ২০০৯ সালে ভারত যে রফতানি আয় করেছে, তার ৪ শতাংশই এসেছে বিপিও খাত থেকে এবং এ খাতে অপ্রত্যক্ষভাবে ৪০ লাখ মানুষ নিয়োজিত।

NASSCOM McKensey Perspective 2020 Study মতে, এ সময়ের মধ্যে ভারতের বিপিও শিল্পের বাজার ৬৩ হাজার কোটি ডলারে গিয়ে পৌঁছতে পারে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ভারতের বিপিও খাতকে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এখন জোরদার পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আজকের ভারতের বিপিও শিল্পখাতকে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে ফিলিপাইন, চীন, ভিয়েতনাম, ব্রাজিল ও মিসরের বিপিও শিল্পখাতের সাথে। এসব দেশ বিশ্ব বিপিও বাজার আকর্ষণের জন্য চমৎকার সব সুযোগসুবিধা নিয়ে এগিয়ে আসছে। তা সত্ত্বেও বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ব্যাপকভাবে প্রাথমিক বিপিও বাজারে ধীরগতি এনে দিয়েছে। এ শিল্পের সামনে এখন বহু চ্যালেঞ্জ। বিশ্ব মন্দার প্রভাবে আউটসোর্সিং খাতে ব্যয় কমেছে। দর কমেছে। বিভিন্ন দেশ যেমনি প্রতিযোগিতায় নামছে, তেমনি অনেক দেশে কাজ করছে সংরক্ষণবাদিতা। এসব মোকাবেলা করে বিপিও খাতের প্রবৃদ্ধির জন্য নতুন নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে হবে। অবলম্বন করতে হবে কৌশল। বাড়াতে হবে পরিচালনাগত দক্ষতা। এ উপলব্ধি প্রমোদ বাসিনের।

ন্যাসকম ও এভারেস্ট ইন্ডিয়া সম্প্রতি ভারতীয় বিপিও খাতের ওপর সমীক্ষা চালিয়েছে। এ সমীক্ষায় এ খাতে ভারতের অবস্থান মূল্যায়নের পাশাপাশি ২০১২ পর্যন্ত একটা রোডম্যাপ প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে। এ সমীক্ষা মতে, দ্রুত বেড়ে চলা বিজনেস প্রসেস অফশোর মার্কেটে ভারতের অবস্থান এখন সামনের সারিতে। ভারত এক্ষেত্রে নিজেকে পরিণত করেছে ‘a destination of choice’-এ। এ খাত আকারে বহুগুণে বেড়েছে। সার্ভিস ডেলিভারি ক্যাপাবিলিটি বিবেচনায় অর্জন করেছে পরিপক্বতা। বিগত দশকে ভারত বিপিও খাতে সাফল্যের ছাপ ফেলতে সক্ষম হয়েছে। এবং এটি এখন ভারতের ইনফ্লেক্সন পয়েন্টে।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বর্তমান গতিতে ভারতীয় বিপিও এগিয়ে গেলে ২০১২ সালের মধ্যে এ খাতে ভারতের রফতানি ৩০০০ কোটি ডলারে গিয়ে পৌঁছতে পারে। তা সত্ত্বেও ভারত এক্ষেত্রে এর বর্তমান রফতানির মাত্রার প্রায় পাঁচ গুণ বাড়িয়ে ২০১২ সালের জন্য ৫০০০ কোটি ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে পারে। ভারতীয় বিপিও মার্কেটের ৫ গুণ প্রবৃদ্ধি ঘটলে বিপিও খাতের জিডিপিতে সরাসরি অবদান মাত্রা পৌঁছবে আড়াই শতাংশে। তখন এ খাতে সরাসরি চাকরি করবে ভারতের ২০ লাখ লোক।

সমীক্ষা রিপোর্ট মতে, বিগত ৩ বছর ধরে ভারতীয় বিপিও খাত ৩৫ শতাংশেরও বেশি হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করে আসছে। সেখানে সার্বিক বিদেশী-বাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিপিও হচ্ছে সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধির খাত। বর্তমানে এর অনুমিত আকার ২৬-২৯ শ’ কোটি মার্কিন ডলার। এ প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সস্তা শ্রম সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। অন্যান্য নিয়ামকের মধ্যে আছে : মেধাবীদের প্রাপ্যতা, সেবার মান, উৎপাদনশীলতা ও টাইম-টু-মার্কেট।

ন্যাসকম-এভারেস্ট সমীক্ষায় আরো অনেক তথ্যই বেরিয়ে এসেছে, যা ভারতীয় বিপিও শিল্পকে কার্যত আশাবাদী করে তোলে। সমীক্ষা মতে, এ খাতে নিয়োজিত রয়েছে ৭ লাখ ভারতীয়। বিশ্ব বিপিও বাজারের ৩৫ শতাংশেরও বেশি এখন ভারতের দখলে। বিপিও সরবরাহ সক্ষমতা ভারতের বাড়ছে। বেশিরভাগ হরাইজন্টাল বিপিও সেগমেন্টেই ভারত পরিপক্বতা অর্জন করেছে। ভারতের ৭০ শতাংশ বিপিও খাতই পরিপক্ব। সিআইএস তথা ‘কাস্টমার ইন্টারেকশন অ্যান্ড সাপোর্ট’ এবং এফঅ্যান্ডএ তথা ‘ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং’ ছিল প্রতিনিধিত্বকারী হরাইজন্টাল মার্কেট সেগমেন্ট। নলেজ সার্ভিসের মতো অন্যান্য সার্ভিস সেগমেন্টও ক্রমবর্ধমান হারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বায়ার ও প্রোভাইডার উভয়ই প্রতিটি হরাইজন্টালের আওতায় ক্রমবর্ধমান হারে যোগাচ্ছে ‘এন্ড-টু-এন্ড’ সার্ভিস। প্রোভাইডাররা গড়ে তুলছে ভার্টিক্যাল স্পেশিয়ালাইজেশন, যাতে সব দিক থেকে সরবরাহ বাড়ে। যুক্তরাজ্য, ইউরোপ ও এশিয়া-প্রশাস্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো থেকে বর্ধিত হারে বিপিও কাজ আসছে ভারতে। অভ্যন্তরীণ বিপিও কাজও বেড়ে চলেছে উল্লেখযোগ্যভাবে এবং ২০০৮ সালে এর অনুমিত পরিমাণ হবে ১৬০ কোটি ডলার।

ভারত আরো এগিয়ে যেতে চায়

ন্যাসকম-এভারেস্ট সমীক্ষা মতে, ভারতের বিপিও খাত যুগোপযোগী হলে এ খাতের উন্নয়নের আরো সুযোগ রয়েছে। দেশে-বিদেশে এর বাজার বাড়ানো সম্ভব। ভারতীয় বিপিও খাতের একটি বটম-আপ বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, ২০১২ সালের মধ্যে এর আকার ২২০-২৮০ শতকোটি ডলারে পৌঁছানো যাবে। ভবিষ্যত প্রবৃদ্ধির কথা বিবেচনা করে ভারতীয় বিপিও খাতের দ্রুত বিকাশের জন্য নানা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বর্তমান মাত্রায় এর প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলে বিপিও খাতে ২০১২ সালেই রফতানি রাজস্ব ব্যাপকভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে।

বিপিও মানচিত্রে শ্রীলঙ্কা

বিশ্ব আউটসোর্সিং গন্তব্যের তালিকায় শ্রীলঙ্কার অবস্থান এখনো নিচের দিকে হলেও এর নতুন গড়ে ওঠা আউটসোর্সিং ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন মনে করে শ্রীলঙ্কা এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের ধারক, যার মাধ্যমে এ দেশটি হতে পারে একটি শীর্ষস্থানীয় বিপিও কেন্দ্র। ভারতের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশটি এর নিজস্ব শক্তিমত্তা প্রতিষ্ঠিত করেছে ইতোমধ্যেই। অবশ্য একথা ঠিক, শ্রীলঙ্কা বিকাশমান বিপিও শিল্প প্রতিবেশী ভারতের জন্য অনেকটা ম্লান হয়ে আছে। গত দশকে ভারতই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সোর্সিং হাব। তা সত্ত্বেও বাজার পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কায় এখন আগের তুলনায় অনুকূলে। এখন শ্রীলঙ্কার ভেন্ডরেরা আরো বেশি মাত্রায় বিভিন্ন স্থান থেকে সেবা সরবরাহের সুযোগ দিচ্ছে। কখনো ভারতকে এরা ব্যবহার করছে সেন্ট্রাল হাব হিসেবে। শ্রীলঙ্কা পূর্ব ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার উপগ্রহ সুবিধা কাজে লাগিয়েও সেবা সরবরাহ করছে।

ভারতের সেবা ও আকর্ষণীয় সোর্সিং হাব হয়ে ওঠার পেছনে যেসব বৈশিষ্ট্য কাজ করে শ্রীলঙ্কারও তা রয়েছে। শ্রীলঙ্কায় কম বেতনে জনবল পাওয়া যায়। তার প্রচুরসংখ্যক ইংরেজি জানা লোক রয়েছে। শ্রীলঙ্কার শিক্ষার হার খুবই উঁচু। সেখানকার আইনব্যবস্থা পাশ্চাত্যের অনুরূপ। শ্রীলঙ্কা ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে Nasscom-এর আদলে গড়ে তুলেছে Slasscom। শ্রীলঙ্কা খুব কমসংখ্যক বিপিও ক্ষেত্র বেছে নিয়েছে। এগুলো হচ্ছে : ফিন্যান্স ও অ্যাকাউন্টিং বিপিও এবং নলেজ প্রসেস আউটসোর্সিং তথা কেপিও।

পাকিস্তানে বিপিও

পাকিস্তানের সম্ভাবনা রয়েছে বছরে সাড়ে ৪ হাজার কোটি ডলারের বিপিও বাজার দখলে আনার। যদিও বিপিও বাজারে পাকিস্তানের প্রবেশ তুলনামূলকভাবে নতুন। এর রয়েছে উঁচু মেধার অধিকারী জনবল। দক্ষ যুবশক্তিকে পাকিস্তানের টেকসই বিপিও খাতে নিয়োগ করা হবে একটি সর্বোত্তম সমাধান। অবশ্য এখনো পাকিস্তানের বিপিও শিল্পের সামনে বিরাজ করছে নানা চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সাথে মোকাবেলা করে পাকিস্তানের রিসার্চ গ্রুপ টিআরজি মার্কেট লিডার হতে পেরেছে। টিআরজি একটি বহুজাতিক ও কেএসই তালিকাভুক্ত কোম্পানি, যা উন্নত ধরনের কোম্পানিতে বিপিও যোগান দেয়। এসব কোম্পানির মধ্যে আছে আমেরিকা ও ইউরোপের ফরচুন-১০০০ এবং এফটিএসই-১০০-ভুক্ত কোম্পানিসমূহ। টিআরজির সার্ভিস পোর্টফোলিওতে অন্তর্ভুক্ত আছে কনট্রাক্ট সেন্টার সার্ভিস, সফটওয়্যার তৈরি, ফিন্যান্স ব্যাক অফিস ও ডাটা এন্ট্রি। টিআরজি পাকিস্তানের বড় বড় সফটওয়্যার প্রস্ত্ততকারক কোম্পানিগুলোর একটি। টিআরজি কাজ শুরু করে ২০০২ সালে। শুরুতে এর জনবল ছিল ৮০ জন। বর্তমান এর জনবল পাকিস্তানের ভেতরে ১০০০ জনেরও বেশি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫০০০ জন। পাকিস্তানের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ব্রাজিল, সেনেগাল ও ফিলিপাইনে রয়েছে টিআরজির বড় ধরনের ব্যাক অফিস। বিশ্বের বৃহত্তম বিদেশভিত্তিক বিপিও কোম্পানির সমান্তরাল মর্যাদা এই টিআরজির। এটি পাকিস্তানের প্রথম বিপিও কোম্পানি। পাকিস্তানকে বিশ্ববাজারে মর্যাদার আসনে বসাবার জন্য টিআরজি সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। টিআরজি কাজ করছে টেলিকম, ফিন্যান্সিয়েল সার্ভিস, হেলথকেয়ার, কনজ্যুমার গুডস, মিডিয়া ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে। টিআরজির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মানসম্মত সেবা যোগানোর ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিশীল। এ সংগঠনের শক্ত কাঠামো গড়ে উঠেছে উঁচুমানের প্রশিক্ষিত জনবল, বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ, সুনিপুণ প্রযুক্তির সমন্বয়ে। এর বার্ষিক রাজস্ব আয় ৯০০ কোটি রুপি। বিপিও খাতে বিশ্বসেরা কোম্পানি হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে টিআরজি। পাকিস্তানে এটি একদিন হতে পারে সর্বোচ্চসংখ্যক জনবলের কোম্পানি। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ কনজ্যুমার মার্কেট সম্প্রসারিত হচ্ছে। টিআরজি স্থানীয় বাজারেও সেবা যোগানদাতা কোম্পানি হতে চলেছে। পাকিস্তানের বিপিও শিল্প বিভিন্ন ধরনের আউটসোর্সিং সার্ভিস যোগায়। যেমন কাস্টমার কেয়ার, পেরোল প্রসেসিং ও অন্যান্য বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফাংশন। প্রাথমিক থেকে বড়মাপের কাজও করে পাকিস্তানের বিপিও কোম্পানিগুলো। সেবাভিত্তিক সংস্থা, যেমন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও টেলিযোগাযোগ কোম্পানির কাজও এরা করে।

ভুটানেও বিপিও

ছোট্ট দেশ ভুটানেও চলছে বিপিও তৎপরতা। দেশটির রয়েছে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ। খুব শিগগিরই সেখানে চালু হবে আইটি পার্ক। গত ৮ জুন ভুটান বিপিও প্রতিষ্ঠান ভারতের Genpact-এর সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ভুটান সরকারের মতে, এটি ভুটানের জন্য একটি বড় ধরনের কাজ সম্পন্ন করলো। সরকারের একটি নীতির অংশ হচ্ছে আইটিভিত্তিক বেসরকারি খাত গড়ে তোলা, যাতে করে ভুটানকে একটি বড় ধরনের আইটি হাবে রূপ দেয়া যায়।

চুক্তি অনুসারে জেনপ্যাক্ট প্রতিবছর ভুটানের ২০০ গ্র্যাজুয়েটকে প্রশিক্ষিত করবে ভারতে চাকরিতে নিয়োজিত করার জন্য। দুই বছর পর এরা ফিরে আসবে ভুটানে প্রশিক্ষণজ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নিয়ে। এরা বিপিও অভিজ্ঞতা অর্জন করবে কলসেন্টার থেকে ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস পর্যন্ত বিষয়ে। প্রতিটি ব্যাচ চিহ্নিত করবে রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ভুটান। প্রতিটি ব্যাচের গ্র্যাজুয়েটরা ভারতে একই সাথে যোগাযোগ এবং অ্যানলাইটিক্যাল ও রিজনিং স্কিল অর্জন করবে। ভুটানের বিপিও খাতকে সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গ

বিপিও হচ্ছে এক ধরনের আউটসোর্সিং। এর সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে একটি বিজনেস ফাংশন বা প্রসেসের অপারেশন ও রেসপনসিবিলিটির কাজ তৃতীয় কোনো পক্ষকে দেয়া। আর এই তৃতীয় পক্ষ নিয়োজিত রয়েছে কোনো সেবা যোগানোর কাজে। প্রথমদিকে এ ধরনের আউটসোর্সিং সংশ্লিষ্ট ছিল বৃহদাকার উৎপাদক কোম্পানিগুলোর সাথে- যেমন কোকা-কোলা এর সরবরাহ জালকের বা নেটওয়ার্কের একটি বড় অংশ আউটসোর্স করতো। আজকের দিনের সময়ের প্রেক্ষাপটে এই বিপিও বুঝতে আমরা প্রধানতও বুঝি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সেবা আউটসোর্সিং করা। এ জন্যই এই বিপিও-কে আইটিইএস তথা ‘ইনফরমেশন টেকনোলজি এনাবলড সার্ভিসেস’ নামেও আখ্যায়িত করে থাকেন।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান McKensey পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০১০ সালে বিশ্ব বিপিও বিজনেসের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৮ হাজার কোটি ডলার। এক্ষেত্রে সেরা অবস্থানটি থাকবে ভারতের। ভারতের পরপরই আসবে চীন, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার অবস্থান। বাংলাদেশ যদি বিশ্বের বিপিও বাজারের ১ শতাংশ ধরার লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করে, তাহলে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ পাবে। এ খাতটি অন্য খাতগুলোর তুলনায় লাভজনক। কারণ, এ খাত থেকে সেবার যোগানোর মাধ্যমে যে আয় হবে, এর সবটুকুই বাংলাদেশে থেকে যাবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিটা কেমন? আমরা কি এই লাভজনক খাতটি থেকে সর্বোচ্চ মাত্রায় মুনাফা অর্জনের জন্য প্রস্ত্তত? এর জবাবে বলা যায়, আমরা হয়তো এর জন্য প্রস্ত্ততি নিচ্ছি? বিটিআরসি তথা ‘বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন’ ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে কলসেন্টারের লাইসেন্স দিতে শুরু করেছে। ৩ থেকে ৫ বছর মেয়াদি এসব লাইসেন্স ফি মাত্র ৫ হাজার টাকা। কলসেন্টার উদ্যোক্তাদেরকে বিটিসিএল ছাড়হারে ইন্টারনেট কানেকশন দিচ্ছে। বাংলাদেশে বিপিও’র সর্বোত্তর উদাহরণ হচ্ছে এ কলসেন্টার। এগুলো বিভিন্ন সেলফোন অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টার হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশে অন্যান্য ধরনের বিপিও’র উদাহরণ রয়েছে। বর্তমানে সীমিত পরিমাণ হলেও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজ আউটসোর্স করছে বাংলাদেশ। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা সরাসরি কিংবা যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে লোকাল অফিস খুলছেন। এসব লোকাল অফিস স্থানীয় লোকদের ভালো বেতন দিয়ে নিয়োগ করছে। এখন পর্যন্ত এক্ষেত্রে বাংলাদেশে রেকর্ড খুবই ভালো। লক্ষ করা গেছে, সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রোগ্রামারেরা খুবই দক্ষ। অন্যান্য দেশের তুলনায় সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের খরচ আমাদের এখানে কম। গ্রাফিক্স ডিজাইন ও অ্যানিমেশনও হতে পারে বাংলাদেশে দুটি লাভজনক বিপিও খাত। একটি তথ্যমতে, বাংলাদেশে ৫ মিনিটের একটি অ্যানিমেশন চিত্র তৈরি করতে যা খরচ হয়, ভারতে সে খরচ এর পাঁচ গুণ। যদিও মনে হয় বিপিও খাতটি অতিমাত্রায় প্রযুক্তিনির্ভর, তবুও আইএসপি অ্যাসোশিয়েশন সূত্রমতে অতি সম্ভাবনাময় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিপিও খাতে প্রয়োজন ১০ শতাংশ কারিগরি বিশেষজ্ঞ, ৫০ শতাংশ বিপণন বিশেষজ্ঞ এবং বাকিটুকু নির্ভর করে সফলতার সাথে কাজ সম্পাদন করার সক্ষমতার ওপর।

বাংলাদেশের রয়েছে পর্যাপ্ত জনবল। এখন শুধু প্রয়োজন এ জনবলকে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এমনভাবে তৈরি করা, যাতে এরা গ্রাহকসেবা সফলভাবে যোগাতে পারে। বাংলাদেশ আইটিইএস সরবরাহ করে প্রচুর পরিমাণে বিদেশী মুদ্রা অর্জনের সমূহ সম্ভাবনা ধারণ করে। এর একটি কারণ, উত্তর আমেরিকাসহ প্রধান প্রধান আউটসোর্সিং দেশের সাথে আমাদের সময় ব্যবধান সর্বোচ্চ অর্থাৎ ১২ ঘণ্টা। এর ফলে এসব দেশে সহজেই তাদের চাহিদামতো সময়ে সহজেই সেবা সরবরাহ করতে পারি। এখানে রয়েছে বিপুলসংখ্যক ইংরেজি জানা ও কমপিউটার প্রশিক্ষিত জনবল। এদের বেতন কম। বিপিও’র ক্ষেত্রে আমাদের সম্ভাবনা খাত হতে পারে : কলসেন্টার, মেডিক্যাল ট্রান্সক্রিপশন, ডাটাএন্ট্রি, ব্যাক অফিস প্রসেসিং, সেলারি প্রসেসিং, ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন, ট্র্যানস্লেশন, অ্যানিমেশন, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও আরো কিছু খাত। কলসেন্টার সারাবিশ্বের এক জনপ্রিয় প্রপঞ্চ। এটি একটি আধুনিক তথ্য সরবরাহ সেবা। ইন্টারনেট ও টেলিফোনের মাধ্যমে এ সেবা যোগানো হয়। বর্তমান বিশ্বে কলসেন্টার সার্ভিসের বাজার মূল্য ৬০ হাজার কোটি ডলার। এক বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার কোটি ডলার। আমাদের বর্তমান সক্ষমতা দিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিলে আমরা এ বাজারের ১ শতাংশ দখল করতে পারি। তাহলে এ খাতে আমাদের আয়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৬০০ কোটি ডলার। কমনওয়েলথ সচিবালয়ে বাংলাদেশের আইসিটি খাত উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ব্যবস্থাপক রাম বেনুপ্রসাদ মনে করেন, বাংলাদেশের আইসিটিসংশ্লিষ্ট সেবা খাত খুবই সম্ভাবনাময়। বিদ্যমান সম্ভাবনা সূত্রে বাংলাদেশ বিপিও খাত থেকে বছরে ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলার আয় করতে পারে। অথচ বর্তমানে এ খাতে বাংলাদেশের বর্তমান আয়ের পরিমাণ মাত্র ৩০ লাখ ডলার থেকে ৪০ লাখ ডলার। তবে তিনি উল্লেখ করেন, কার্যকর বিপণন পরিকল্পনার অভাবে বাংলাদেশ এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হচ্ছে।

আসলে আমাদের এখন ভাবতে হবে বিপিও মার্কেটে ভারত কেনো এতটা এগিয়ে যেতে পারলো। কেনো এক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে ফিলিপাইন, চীন, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানের মতো দেশ। কেনো ভুটানের মতো দেশও এ ব্যাপারে অতিরিক্ত মাত্রায় আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে সফলতা অর্জনকারী দেশগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে বিপিও বাজারে সফলতা নিশ্চিত করতে হবে।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : jagat@comjagat.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
পাঠকের মন্তব্য
১৭ আগস্ট ২০০৯, ৯:০৮ AM
আর বিপিও, আমাদের মালকোচা (কাছা) বাঁধতে বাঁধতে সুযোগ চলে যাবে।
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস