Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > আইসিটি মন্ত্রণালয়ের রুলস অব বিজনেস এখনো অসম্পূর্ণ
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: কারার মাহমুদুল হাসান
মোট লেখা:৬
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - জুলাই
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
সরকার
তথ্যসূত্র:
সরকার ও তথ্যপ্রযুক্তি
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
আইসিটি মন্ত্রণালয়ের রুলস অব বিজনেস এখনো অসম্পূর্ণ

বিশ্বের উন্নত ও দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাফল্যের মূলে রয়েছে আর্থ-সামাজিকসংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে বিজ্ঞান ও আইসিটির সফল প্রয়োগ এবং ক্রমবর্ধমান হারে আইসিটি-শিক্ষিত ও দক্ষ জনবল সৃষ্টি। বাংলাদেশের মতো অমিত সম্ভাবনাময় ও উন্নয়নশীল দেশে পরিকল্পিতভাবে যথাসম্ভব দ্রুত দারিদ্র্য বিমোচন, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান এবং দেশটিকে সম্পদশালী করে তুলতে বিভিন্ন ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ দরকার। বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি সব স্তরে বিজ্ঞান ও আইসিটির কার্যকর প্রয়োগ অপরিহার্য। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিকে উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনায় এনে ২৪ মার্চ, ২০০২ ঢাকায় কমপিউটারসংশ্লিষ্ট একটি প্রদর্শনী উদ্বোধনকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঘোষণা দেন, সময়ের পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বিদ্যমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পুনর্গঠিত নতুন নাম হলো ‘বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়’। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার অনুসরণে পুনর্গঠিত মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিসর ক্রমান্বয়ে দ্রুত বাড়ানোর পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেয়ার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। মন্ত্রণালয়ের নতুন নামকরণের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে এ নিবন্ধের লেখক সচিব হিসেবে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন। প্রথম থেকেই মন্ত্রণালয়ের তথা সরকারের পক্ষ থেকে আইসিটি বিষয়ে অভিজ্ঞ পন্ডিতরা ও বেসরকারি খাতসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গুণীজনদের সর্বাত্মক সহযোগিতা নেয়া হয়। দেশবাসীকে এ অসীম সম্ভাবনাময় খাতের বহুমাত্রিক কর্মকান্ডে সক্রিয় অংশ নেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ ও সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা চালানো হয়। এ প্রচেষ্টায় ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায় এবং শুরু থেকেই বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, বেসিস, আইএসপিএবি, বিসিএস ইত্যাদির আইসিটিসংশ্লিষ্ট শিক্ষক এবং জ্ঞানী-গুণীজনদের নিয়ে প্রতি সপ্তাহে কিংবা পাক্ষিক/মাসিকভিত্তিতে আলোচনা-পরামর্শ সভা করে সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হয়। যেসব সুপারিশ জরুরিভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা দরকার, সেসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সীমিত বাজেট এবং লোকবলের ওপর নির্ভর করে বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়।

বিজ্ঞান ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অতীত কার্যক্রম পর্যালোচনায় দেখা যায়, সর্বপ্রথম ১৯৭২ সালের মার্চ মাসে শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা ও আণবিক শক্তি বিভাগ সৃষ্টি করা হয়। একই বছরের এপ্রিল মাসে এ বিভাগটি শিক্ষা ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক করে শক্তি, প্রাকৃতিক সম্পদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা এবং আণবিক শক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে রূপান্তর করা হয়। এরপর ১৯৭৬ সালে এ বিভাগ থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে আলাদা করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যা বিভাগ হিসেবে একে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতির সরাসরি নিয়ন্ত্রণে ন্যস্ত করা হয়। এরপর ১৯৮৪ সালের ৮ মার্চ একে একটি পৃথক বিভাগ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আবারো ন্যস্ত করা হয়। ১৯৯০-এর দশকের প্রথম দিকে তৎকালীন বিএনপি সরকার আমলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রসারকে সামনে রেখে এ বিভাগটিকে ১৪ আগস্ট ১৯৯৩ সালে একটি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয়ে রূপান্তর করা হয়।

২০০২ সালের মার্চে ওই মন্ত্রণালয়কে বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় হিসেবে পুনর্গঠনের পর এ মন্ত্রণালয় অক্টোবর ২০০২ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে প্রণীত প্রস্তাবিত জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি নীতিমালা কতিপয় সংশোধনসহ মন্ত্রিপরিষদে গৃহীত হয়।

আইসিটি নীতিমালার লক্ষ্য তথা ভিশন নির্ধারণ করা হয়েছিল যে, ২০০৬ সালের মধ্যে বিজ্ঞান ও আইসিটিভিত্তিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে দেশব্যাপী একটি সমৃদ্ধ আইসিটি অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে সব নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ ও তথ্য ব্যবহারে কার্যকর সুযোগ নিশ্চিত করার সার্বিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রস্তাবিত আইসিটিভিত্তিক অবকাঠামোর মাধ্যমে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চতর পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নীতিমালা এবং প্ল্যান অব অ্যাকশন প্রণয়ন করে আইসিটি শিক্ষা কার্যক্রমকে সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইসিটিবিষয়ক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে। পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রশাসন, ইলেক্ট্রনিক বাণিজ্য, ব্যাংকিং, জনহিতকর সেবা এবং অন্যান্য সব ধরনের ‘অনলাইন’ আইসিটিসংশ্লিষ্ট সেবাসমূহ যোগানোর সুযোগ সৃষ্টি করে জনসাধারণের ক্ষমতায়ন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আদর্শগত উৎকর্ষ বাড়ানোর মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনসহ স্থায়ী অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জন করাকে মূল লক্ষ্য ধরে নিই।

এসব কর্মকান্ড বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় লক্ষ করা যায়, ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশোধন করা Allocation of Business Among the Ministries and Division (Schedule-1 of the Rules of Business 1975) নির্দেশিকায় বেশ কিছু বিষয় অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের (যেগুলো সাধারণ বিবেচনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আইসিটির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার কথা) কার্যপরিধিতে উল্লেখ দেখা যায়। উল্লিখিত মন্ত্রণালয়সমূহের (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মন্ত্রণালয়সহ) নিজ নিজ কার্যপরিধি ছাড়াও সার্বিকভাবে আইসিটির আওতায় কমপিউটিংসংশ্লিষ্ট শিক্ষাসহ যা উল্লেখ আছে তা নিম্নরূপ :

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়

ক. জাতীয় লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতি সূত্রায়ন ও পর্যালোচনা।

খ. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক জাতীয় কমিটি (এনসিএসটি) সুপারিশ বাস্তবায়ন করা।

গ. ইলেকট্রনিক্স পণ্যের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন ব্যবহারকারীর মধ্যে এর সমন্বয় সাধন।

ঘ. অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের আগ্রহ ও সক্ষমতা আছে, এমন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন।

ঙ. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নতুন নতুন ক্ষেত্রের উন্নয়ন।

চ. কমপিউটার কাউন্সিল।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধি পর্যালোচনায় দেখা যায়, উক্ত মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধিতে কমপিউটার কিংবা আইসিটিসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ের কথা উল্লেখ নেই। তবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় শুধু কারিগরি শিক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত মর্মে উল্লেখ আছে। কারিগরি শিক্ষা বলতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজ, টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট ইত্যাদিতে প্রকৌশল/কারিগরি শিক্ষার কথাই বোঝানো হয়েছে। কমপিউটার শিক্ষার বিষয়ে কার্যপরিধিতে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়

উল্লিখিত মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধি পর্যালোচনা করেও দেখা যায় আইসিটি বিষয়ে কোনো কার্যাদি সম্ভবত সঙ্গত কারণেই এর কোথাও উল্লেখ নেই।

তথ্য মন্ত্রণালয়

তথ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আইসিটিবিষয়ক কোনো কার্যাদি সম্ভবত বাস্তব কারণেই কোথাও উল্লেখ নেই। এখানে উল্লেখ্য, ১৯৮০-র দশকের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ নামে একটি আলাদা বিভাগ গঠন করা হয়েছিল। এই বিভাগ ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতিমালা প্রকাশ করে। উক্ত নীতিমালায় তদানীন্তন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে যে দায়িত্বসমূহ নির্ধারণ করা হয় তার মধ্যে ছিল :

ক. বৈজ্ঞানিক ও প্রাযুক্তিক সক্ষমতা ও স্ব-নির্ভরতা অর্জন;

খ. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেধাবীদের খুঁজে বের করে তাদের স্বীকৃতি দান;

গ. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা;

ঘ. ইনফরমেশন ও ডকুমেন্টেশন সার্ভিস, কমপিউটার সার্ভিস ও সফটওয়্যার প্যাকেজ, প্রমিতকরণ ও মান নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদির মতো সহায়ক সুযোগ সৃষ্টি নিশ্চিত করা;

ঙ. প্রকৌশল বিজ্ঞানের গবেষণার অগ্রাধিকার ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করা;

চ. যোগাযোগ;

ছ. প্রতিষ্ঠান, গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পখাতের মধ্যে আমত্মঃক্রিয়া ও সমন্বয় সাধনসহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিক্ষা;

জ. সব গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তুলে বৈজ্ঞানিক ও প্রাযুক্তিক তথ্যের ভিত্তি শক্তিশালী করে তোলা;

ঝ. কমপিউটার সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং কমপিউটার সিস্টেমের টাইম শেয়ারিং নেটওয়ার্কের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা।

এছাড়াও এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এনসিএসটি) নামের বিদ্যমান নীতিনির্ধারণী ফোরামের বিভিন্ন কাজের মধ্যে নিচে বর্ণিত বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল :

ক. জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতি সুপারিশ;

খ. সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার গবেষণা কর্মসূচী সুপারিশ, বিভিন্ন সংস্থার পরিচালিত গবেষণা কর্মসূচীর মূল্যায়ন, মান ও কার্যকারিতা নির্ণয় এবং কোন গবেষণা ফল আসলে কাজে লাগানো হবে তা নির্ধারণ করা;

গ. বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মকান্ডের সমন্বয় সাধনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের পরামর্শ দান;

ঘ. গবেষণা পরিকল্পনা ও কর্মসূচীর অনুমোদনের সুপারিশ তৈরি।

উল্লেখ্য, ওই সময় এ কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন তৎকালীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব। সম্প্রতি সংশোধিত কমিটিতেও মন্ত্রণালয়ের সচিব হচ্ছেন কমিটির সদস্য সচিব।

প্রায় এক দশক আগে থেকে কমপিউটার শিক্ষাদান কার্যক্রমে উচ্চতর শিক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে এই মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট) প্রতিটিকে ৩ কোটি টাকা করে মোট ১৫ কোটি টাকা রাজস্ব খাত থোক বরাদ্দ দেয়। উল্লেখ্য, এই প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বল্প সময়ের মধ্যে এবং ৩ বছরে দেশে আন্তর্জাতিক মানের ৯শ’ কমপিউটার প্রোগ্রামার/প্রশিক্ষক তৈরি করা, যারা দেশের আইসিটি খাতের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় ব্যাপকতর অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিলসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের সাথে ব্যাপক পরামর্শ করে একটি আধুনিক ও মানসম্মত সিলেবাস প্রণয়ন করে উল্লিখিত উচ্চতর আইটি শিক্ষা কোর্স/কার্যক্রম অত্যন্ত সাফল্যের সাথে পরিচালনা করছে। এ কোর্স পরিচালনার কাজ শুরু হয়েছিল নববইয়ের দশকের শেষ ভাগে আওয়ামী লীগ শাসনামলে।

আইসিটিবিষয়ক কার্যক্রম সুনির্দিষ্টভাবে কোন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন, সে বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সর্বশেষ ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বর মাসে সংশোধন করা নির্দেশিকায়ও উল্লেখ করা হয়নি। ধারণা করা যায়, ওই সময় সরকারি-বেসরকারি কোনো অঙ্গনেই আইসিটি বিষয়টি তেমন গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় আনা হয়নি। তবে একবিংশ শতাব্দী শুরুর প্রথম থেকেই বলা যায় পৃথিবীর অন্য উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহের পাশাপাশি বাংলাদেশেও আইসিটি বিষয়ে প্রবল আগ্রহ শুরু হয়েছে সর্বত্র। আইসিটির গুরুত্ব অনুধাবন করে বর্তমান মেয়াদে সরকার ক্ষমতায় আরোহণের শুরু থেকেই এ খাতকে থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে বিবেচনা করে চলেছে। আর আইসিটিবিষয়ক এ খাতকে দেশের মানুষের কল্যাণে তথা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সিঁড়ি হিসেবে উন্নয়নে ব্যবহার করতে হলে কমপিউটারবিষয়ক কার্যক্রমকে যুগপোযোগী ও ঢেলে সাজানোর সর্বাত্মক ও প্রধান পূর্বশর্ত হিসেবে গ্রহণ করে পরিকল্পিত ত্বরিত ও কার্যকর প্রোগ্রাম তথা কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনেকটা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মতো ব্যবস্থা নিতে হবে।

যেহেতু কমপিউটিং শিক্ষা কার্যক্রমসহ আইসিটি সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে কোন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন থাকবে, তা সরকারের রুলস অব বিজনেসের কোথাও উল্লেখ নেই এবং যেহেতু কমপিউটিং শিক্ষা বিষয়টি বিশেষায়িত কার্যক্রম এবং মন্ত্রণালয়ের নতুন নামকরণ (২০০২) ও সে অর্থে আইসিটিবিষয়ক দায়িত্বসমূহ যথাযথ ও কার্যকরভাবে পালনার্থে বর্ণিত প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞান ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সচিবের স্বাক্ষরে ১৫ জুন ২০০২-এ মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবরে পাঠানো একটি আধাসরকারি চিঠিতে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলো বিজ্ঞান ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অ্যালোকেশন অব বিজনেসে অন্তর্ভুক্ত তথা সংযোজন করার জন্য অনুরোধ করা হয় :

ক. আইসিটিসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি;

খ. সব স্তরের আইসিটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পাঠক্রম প্রমিতকরণ;

গ. অন্যান্য দেশ ও আইসিটি কর্মকান্ডে নিয়োজিত অন্যান্য আন্তর্জাতিক কমিটির সাথে যোগাযোগ;

ঘ. আইসিটি ও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি করা;

ঙ. আইসিটি অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং আইসিটি ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদের প্রশিক্ষণ;

চ. দেশের সব পর্যায়ে আইসিটির উন্নয়ন ও প্রয়োগ।

উল্লিখিত আধাসরকারি চিঠিতে এটি উল্লেখ করা হয়, উপরোল্লিখিত বিষয়গুলো অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধিতে অন্তর্ভুক্ত নেই। এরপর এ মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মধ্যে বছরব্যাপী চিঠিপত্র লেনদেনের কাজ যথারীতি চলতে থাকে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এর মধ্যে প্রায় ছয় বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। এ অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি এখনও ঝুলে আছে অমীমাংসিত অবস্থায়। ফলে কাজে-অকাজে, সময়ে-অসময়ে এই মন্ত্রণালয়ের আইসিটিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রম ২০০২ সালের শুরু থেকে আজো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কথিত হস্তক্ষেপ ও ‘বাগড়া’ দেয়ার কারণে দেশে আইসিটিবিষয়ক শিক্ষা কার্যক্রম এখনও মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। ৮ আগস্ট, ২০০২ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইসিটি টাস্কফোর্সের সভায় বিজ্ঞান ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব এ মর্মে সভার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, আইসিটিবিষয়ক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ একটি বিশেষায়িত ও ব্যতিক্রমধর্মী বিষয় হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় উক্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করা সমীচীন হবে। এ প্রেক্ষিতে সভার সভাপতি ও সরকারপ্রধান তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত দেন, আইসিটিসংশ্লিষ্ট সব শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে। দুঃখজনক হলো, প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা পরে প্রকাশিত/প্রস্ত্তত করা সভার কার্যবিবরণীতে প্রতিফলিত হয়নি। এ ইচ্ছেকৃত ‘বিচ্যুতি’র বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিবের ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০২ তারিখের চিঠিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে জানানো হয়। তবে কোনো কাজ হয়নি।

উল্লিখিত প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞান ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রীকে অনুরোধ করবো, সরকারের রুলস অব বিজনেস অবিলম্বে পরিবর্তন ও পরিমার্জন করে প্রস্তাবিত আইসিটিবিষয়ক যাবতীয় বিষয়াদি জনস্বার্থে, আইসিটিকে দেশের উন্নয়নে কার্যকরভাবে ব্যবহারের স্বার্থে বিজ্ঞান ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের রুলস অব বিজনেসে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে মন্ত্রিসভার বিবেচনা ও অনুমোদনের জন্য যেন অবিলম্বে পেশ করার সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এরপর এ মন্ত্রণালয়ের কাজ হবে অতি দ্রুততার সাথে প্রয়োজনীয় লজিসটিকস্ এবং ব্যাপকভাবে প্রয়োজনের তাগিদে দক্ষ-সমৃদ্ধ লোকবল অনধিক ছয় মাসের মধ্যে নিয়োগের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পূরণে যথাবিহিত কার্যকর ব্যবস্থাদি নেয়া এবং নিশ্চিত করার কাজে সর্বক্ষণিক সহযোগিতা করা।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : karar.hossan@gmail.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস