Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে পাঠকের জিজ্ঞাসা
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মো: জাকারিয়া চৌধুরী
মোট লেখা:৩৫
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - অক্টোবর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
ফ্রিল্যান্স
তথ্যসূত্র:
ঘরে বসে ‍আয়
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে পাঠকের জিজ্ঞাসা

ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে ই-মেইলের মাধ্যমে প্রাপ্ত পাঠকদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসা নিয়ে ‘কমপিউটার জগৎ’-এর অক্টোবর ২০০৮ সংখ্যায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। গত এক বছরে আপনাদের কাছ থেকে আরো অনেক ই-মেইল পেয়েছি। তার মধ্য থেকে নির্বাচিত কয়েকটি ই-মেইল নিয়ে এবারের প্রতিবেদন। আশা করি তা থেকে সবাই উপকৃত হবেন।

অক্টোবর ২৫, ২০০৮

এলিন, মিরপুর, ঢাকা : আমি একজন সিআইএসের ছাত্র। আমি রেন্ট-এ-কোডার সাইটে অ্যাকাউন্ট করেছি। কিন্তু পেওনার মাস্টারকার্ড পেতে চাই। এখন কি করতে হবে। বিস্তারিত জানালে খুশি হবো। আমার কার্ডটি আগেই দরকার। যদিও কার্ডটি অ্যাকটিভ করবো পড়ে।

জাকারিয়া : যারা পেওনার কার্ডটি সম্পর্কে অবগত নন, তাদের জন্য বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করছি। বিভিন্ন ধরনের ফ্রিল্যান্সিং সাইট থেকে টাকা তোলার সহজ ও ঝামেলামুক্ত পদ্ধতি হচ্ছে Payoneer সাইটের দেয়া একটি ডেবিট মাস্টারকার্ড। এই পদ্ধতিতে মাস শেষে আপনি টাকা খুবই দ্রুত পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে এটিএমের মাধ্যমে তুলতে পারেন। এজন্য এককালীন খরচ পড়বে ২০ ডলার আর সাইটটির মাসিক ব্যবস্থাপনা ফি ৩ ডলার। এটিএম থেকে প্রতিবার টাকা তোলার জন্য খরচ পড়বে ২.১৫ ডলার + তোলা অর্থের তিন শতাংশ। এই কার্ড দিয়ে টাকা তোলার পাশাপাশি অনলাইনে কেনাকাটাও করতে পারবেন। এমনকি এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থিত আপনার কোনো আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধব তাদের মাস্টারকার্ড বা ভিসাকার্ড থেকে আপনাকে টাকা পাঠাতে পারবেন।

পেওনার সাইট থেকে সরাসরি এই কার্ডের জন্য আবেদন করা যায় না। এটি পেতে হলে ফ্রিল্যান্সিং যেকোনো একটি সাইট (রেন্ট-এ-কোডার, গেট-এ-ফ্রিল্যান্সার বা ওডেস্ক)-এ আপনার একটি অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। নিচে রেন্ট-এ-কোডার সাইট থেকে মাস্টারকার্ডটি পাওয়ার ধাপগুলো পর্যায়ক্রমে বর্ণনা করা হলো :

০১. রেন্ট-এ-কোডারে লগইন করে ডান দিকের কলাম থেকে Pay Options সিলেক্ট করুন। পরবর্তী পৃষ্ঠা থেকে Payoneer Prepaid Mastercard অপশনটি সিলেক্ট করে Next বাটনে ক্লিক করুন। এরপর দুটি অপশন দেখতে পাবেন, প্রথমটি (I have not yet registered ...) সিলেক্ট করে Next বাটনে ক্লিক করুন।

০২. আপনি এখন চলে আসবেন পেওনারের সাইটে, এখান থেকে Get Your Prepaid Mastercard Now! বাটনটি ক্লিক করুন।

০৩. কার্ডটি অর্ডার করার জন্য তিনটি বাটন দেখতে পাবনে। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকটি ক্লিক করুন এবং ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন।

০৪. প্রথম ধাপে আপনার নাম, জন্ম তারিখ, ই-মেইল, ঠিকানা ইত্যাদি তথ্য দিন। ই- মেইলের ক্ষেত্রে অবশ্যই রেন্ট-এ-কোডার সাইটে যে ই-মেইল দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছেন সেটি দিতে হবে। আপনার ঠিকানা লেখার সময় বিশেষ কোনো চিহ্ন (যেমন- , /) ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারবেন না, শুধু বর্ণ এবং সংখ্যা দিয়ে ঠিকানা লিখতে হবে।

০৫. দিবতীয় ধাপে আপনার ইউজার নাম (এখানে আপনার ই-মেইল ঠিকানাটি দিন), পাসওয়ার্ড ইত্যাদি দিন।

০৬. তৃতীয় ধাপে আপনার পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিন।

০৭. “I agree to the ...” নামের তিনটি চেকবক্স সিলেক্ট করে Finish বাটনে ক্লিক করুন।

অর্ডারটি ঠিকভাবে সম্পন্ন হলে একটি নিশ্চিতকরণ ই-মেইল পাবেন। তারপর ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আপনার ঠিকানায় একটি MasterCard পৌঁছে যাবে। কার্ডটি হাতে পাবার পর নির্দেশনা অনুযায়ী কার্ডটি সচল করতে হবে এবং যেকোনো চারটি সংখ্যার একটি গোপন পিন নাম্বার দিতে হবে। পরে এই নাম্বারের মাধ্যমে যেকোনো এটিএম থেকে (যেগুলো এই কার্ডটি সাপোর্ট করবে) টাকা সহজেই তুলতে পারবেন।

কার্ডটি সফলভাবে সচল করার পর রেন্ট-এ-কোডার সাইটের Pay Options > Payoneer Prepaid Mastercard অংশে এসে কার্ডটি পেয়েছেন কি না তা জানাতে হবে। এরপর প্রতি মাস শেষে বা মাসের মাঝামাঝি সময়ে রেন্ট-এ-কোডার স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্ডে টাকা লোড করবে।

নভেম্বর ২৫, ২০০৮

সুজন পাল, ফরিদপুর : আমি অনলাইন আউটসোর্সিং কাজের ব্যাপারে বেশ আগ্রহী। কিন্তু অনলাইন আউটসোর্সিং কাজ করার মতো আমার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা ট্রেনিং কিছুই নেই। আর এজন্যই আমি প্রথমে আপনার সহযোগিতায় ডাটা এন্ট্রির মতো কিছু কাজ করতে ইচ্ছুক।

জাকারিয়া : সত্যি কথা বলতে কি ডাটা এন্ট্রি কাজ পাওয়া খুব কঠিন। এক একটি প্রজেক্টে শত শত বিড করা হয়। তার মধ্য থেকে নতুনদের জন্য কাজ জেতা প্রায় অসম্ভব। তবে পূর্বপরিচিত ক্লায়েন্টের কাছ থেকে কাজ পেতে পারেন। এধরনের কাজ করার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। যেমন- ডাটা এন্ট্রি কাজগুলো একঘেয়ে হয়ে থাকে, এতে নিজের মেধাকে কাজে লাগানোর কোনো সুযোগ থাকে না, এধরনের কাজে পরিশ্রমের তুলনায় আয় অনেক কম। অন্যদিকে ওয়েবসাইট প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েবসাইটের টেম্পলেট তৈরি, থ্রিডি অ্যানিমেশন, ফ্ল্যাশের অ্যানিমেশন ইত্যাদি কাজের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা, যা দিন দিন বাড়ছে। তাই এই মুহূর্তে অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ের কথা চিন্তা না করে আগে নিজেকে যথাযথভাবে তৈরি করে নিন এবং যেকোনো একটি মাধ্যমে পুরোপুরি দক্ষ হয়ে নিন। শেখার জন্য বিভিন্ন ধরনের বই, ভিডিও টিউটরিয়াল সিডি এবং ইন্টারনেটে অসংখ্য টিউটরিয়াল সাইট পাবেন, যা থেকে ঘরে বসে একা একাই শিখতে পারবেন।

এপ্রিল ৪, ২০০৯

মো: মুসাবিবর হোসেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় : শুরুতেই আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের প্রিয় কমপিউটার জগৎ ম্যাগাজিনে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে চমৎকার লেখার জন্য। আপনার সর্বশেষ লেখা ছিল ওয়েবসাইট ডিজাইনিং নিয়ে, যা ছিল অসাধারণ। আমি আপনার লেখা পড়ে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত। ম্যানেজমেন্টের ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও আইটি প্রফেশনাল হতে আগ্রহী। আপনার লেখা আমাকে আশান্বিত করেছে। আপনার লেখা পড়ে আমি ঘরে বসে এইচটিএমএল শেখা শুরু করেছি এবং লেখক Jon Duckett-এর লেখা `Beginning web programming with HTML, XHTML and CSS বইটি ৪০% পড়ে ফেলেছি। আমি চিন্তা করছি, ঘরে বসে HTML, XHTML Ges CSS পড়া শেষ করে কোনো নামকরা প্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা করবো। আমি পিএইচপি, জুমলা ইত্যাদি বিষয়েও আগ্রহী। আমি কি অতিরিক্ত পরিকল্পনা করে ফেলেছি? অথবা এটা কি আমার পক্ষে সম্ভব হবে?

জাকারিয়া : জেনে খুব ভালো লাগল, আপনি আমার লেখা পড়ে ওয়েবসাইট ডিজাইনিংয়ে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। শিখতে থাকুন, আমার বিশ্বাস আপনি ভালো করতে পারবেন। ওয়েবসাইট ডিজাইনিং আপনি সম্পূর্ণ ঘরে বসেই শিখতে পারবেন, শুধু চাই ধৈর্য এবং একাগ্রচিত্তে অনুশীলন। পিএইচপি সম্পর্কে আমি বলব প্রোগ্রামিংয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া ঘরে বসে ভালোভাবে শেখা সম্ভব নয়। কোনো একটি প্রোগ্রামিংয়ের শুধু নিয়মকানুন জানলেই চলে না, সাথে প্রয়োজন হয় যথাযথ অনুশীলন। আমার পরামর্শ, ওয়েবসাইট প্রোগ্রামিং অথবা ওয়েবসাইট ডিজাইনিংয়ের মধ্যে যেকোনো একটিকে নির্বাচন করুন।

এপ্রিল ২০, ২০০৯

সাইদ, রাজশাহী : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ Freelancing/Outsourcing নিয়ে নিয়মিত লেখার কারণে। বেশ কিছুদিন ধরেই আপনার লেখা পড়ছি। আপনি সবাইকে উৎসাহিত করছেন freelance করার জন্য। খুবই ভালো একটা উদ্যোগ। আমি নিজেও বেশ কিছুদিন ধরে freelancing করি। আমি তিনটা সাইটে অনেক কাজও করেছি। আপনি জানেন, আমাদের দেশে এধরনের কাজ করার জন্য যে ধরনের কাঠামো থাকা দরকার, যেমন ভালো ইন্টারনেট স্পিড, দেশে টাকা আনার সুরক্ষিত এবং দ্রুত ব্যবস্থা, যার কোনোটাই আমাদের নেই। Paypal নেই, Moneybooker-এ টাকা আনতে প্রায় ১৫-২০ দিন বা কোনো কোনো সময় তারও বেশি লেগে যায়, যা শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের কালক্ষেপণের কারণে। আর অন্য যে ব্যবস্থা রয়েছে তা অনেক ব্যয়বহুল, যেমন Payoneer Card। আপনার লেখাগুলো আমাদেরকে আরো উৎসাহিত করবে যদি এই অসুবিধাগুলো নিয়ে লেখেন। তাহলে সরকারও এই সেক্টরটা নিয়ে ভাবতে বাধ্য হবে। আমার মনে হয়, যারা এই লাইনে নতুন কাজ করতে আসছে তারা খুব আগ্রহ নিয়েই কাজ শুরু করবে। কিন্তু একটা সময় আর কাজ করার আগ্রহ পাবে না, যখন তারা এই সমস্যাগুলোতে পড়বে। আশা করি, আপনার লেখার মাধ্যমে এই সমস্যা তুলে ধরবেন সরকারের কাছে।

জাকারিয়া : আপনার সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। আপনি ঠিকই বলেছেন, Paypal ছাড়া ফ্রিল্যান্সিং বেশ ঝামেলাপূর্ণ এবং ব্যয়বহুল। Paypal নিয়ে জুলাই ২০০৯ সংখ্যায় একটি প্রতিবেদন লিখেছি। তবে এই সমস্যার মধ্যেই কিন্তু অনেকে ভালোই ফ্রিল্যান্সিং করছে। আমার কথাই ধরা যাক, আমি ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিতভাবে অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করছি। টাকা তোলার ক্ষেত্রে আমার কাছে পছন্দের হচ্ছে যথাক্রমে- ১. Payonneers ২. Moneybookers ৩. Bank Transfer। আমি এই তিনটি পদ্ধতির সংমিশ্রণে অর্থ তুলে থাকি।

জুলাই ১৮, ২০০৯

আরমান আহমেদ : ফ্রিল্যান্সিংয়ে আমি নতুন। সম্প্রতি আমার প্রথম কাজটি পেয়েছি। কিন্তু একটি ভুল করে ফেলেছি, বায়ারের অনুরোধে আমার ই-মেইল ঠিকানাটি সাইটের ম্যাসেজ সিস্টেমের মাধ্যমে তাকে জানিয়েছি। এরপর আমি জানতে পারলাম এই কারণে ওই সাইটটি আমার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিতে পারে। এখন আমার করণীয় কি? আরেকটি বিষয়, আমরা দুই ভাই গেট-এ-ফ্রিল্যান্সার সাইটে একই IP অ্যাড্রেস থেকে দুটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছি। এটি কি ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা করতে পারে?

জাকারিয়া : ই-মেইলের ক্ষেত্রে আপাতত কিছু করার প্রয়োজন নেই। ওই ফ্রিল্যান্সিং সাইটটি আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিলে তাদের সাথে যোগাযোগ করে বলুন, আপনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। আশা করি তারা আপনাকে একটি সুযোগ দেবে। দুটি অ্যাকাউন্ট তৈরির ব্যাপারে বলব, অবশ্যই এটি সমস্যা করবে। গেট-এ-ফ্রিল্যান্সার মনে করবে একজন ব্যবহারকারীই দুটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছে এবং দুটি অ্যাকাউন্টই বন্ধ করে দেবে। আমার পরামর্শ হলো, যেকোনো একটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করুন অথবা দুটি ভিন্ন কমপিউটার থেকে দুটি ভিন্ন ইন্টারনেট কানেকশনের মাধ্যমে ব্যবহার করুন।

জুলাই ২৮, ২০০৯

ইশতিয়াক : আমাকে কি পরামর্শ দেবেন যে কিভাবে ডাটা এন্ট্রি বিজনেস শুরু করতে পারি? ডাটা এন্ট্রি কাজের জন্য নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত সাইট কোথায় পাব?

জাকারিয়া : ডাটা এন্ট্রির কাজগুলো সাধারণত ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেস সাইটেই পাওয়া যায়। অনেক ধরনের ওয়েবসাইট রয়েছে যাতে বিপুল পরিমাণে ডাটা এন্ট্রির কাজ পাওয়া যাবে। কিন্তু ওই সাইটে রেজিস্ট্রেশন করার জন্য একটি নির্দিষ্ট ফি দিতে হয়। যেহেতু রেজিস্ট্রেশন করার আগে আপনি জানতে পারছেন না সত্যিই ওই সাইটে কাজ পাওয়া যায় কি না, তাই এই ধরনের সাইটে রেজিস্ট্রেশন করা থেকে বিরত থাকাই ভালো। বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করে ডাটা এন্ট্রি কাজ পাওয়া যায় এরকম সাইট হচ্ছে- www.GetAFreelancer.com, www.oDesk.com, www.GetACoder.com, www.ScriptLance.com ইত্যাদি। এই সাইটগুলোতে ডাটা এন্ট্রি কাজের আলাদা বিভাগ রয়েছে। সাইটগুলোতে কয়েক শ’ ডলার থেকে কয়েক হাজার ডলারের প্রজেক্ট রয়েছে। সাধারণত প্রতি এক হাজার ডাটা এন্ট্রির জন্য একটি নির্দিষ্ট ডলারের ভিত্তিতে কাজ পাওয়া যায়। অনেকক্ষেত্রে সম্পূর্ণ কাজের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেয়া হয়।

জুলাই ৩১, ২০০৯

মনি : আমি ইন্টারনেট থেকে আয় করতে চাই। আপনি কি আমাকে সাহায্য করতে পারেন? আমার একটি কমপিউটার, আনলিমিটেড ইন্টারনেট কানেকশন এবং কমপিউটারে সামান্য জ্ঞান রয়েছে। সাথে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল মাস্টারকার্ড, কিন্তু ইন্টারনেট থেকে আয়ের কোনো রাস্তা পাচ্ছি না। আমি গত ৩ বছর থেকে আয়ের উপযুক্ত একটি পদ্ধতি খোঁজ করছি, কিন্তু পাইনি। এই মুহূর্তে আমি PTC (ক্লিক করে আয়)-এর মাধ্যমে চেষ্টা করছি, কিন্তু গত ৩ মাসে মাত্র ২ ডলার পেয়েছি এবং আরো ৫০ ডলার পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। আমাকে আয়ের যথাযথ একটি পদ্ধতি দেখান।

জাকারিয়া : এই ধরনের কাজ থেকে আয় অত্যন্ত সামান্য হয়ে থাকে। আমি আপনাকে পরামর্শ দেব, ফটোশপ বা ইলাস্ট্রেটর দিয়ে গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে নিন। শিখতে বেশি দিন লাগবে না। আর কাজ ভালো জানলে ইন্টারনেট থেকে আয়ের অভাব কখনও হবে না।

আগস্ট ২০, ২০০৯

হাসান : আমি কয়েকটি সাইটে রেজিস্ট্রেশন করেছি, যারা প্রতিদিন আমার ই-মেইলে বিভিন্ন লিঙ্ক পাঠায়। প্রতিটি মেইল থেকে ওই লিঙ্কগুলোতে ক্লিক করলে কিছু আয় হয়। সাইটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে depacco.com, sunflowerpts.com, bodaq.com, rolax-mail.com ইত্যাদি। এসব সাইট থেকে অর্থ তোলার জন্য আমি Moneybookers-এ অ্যাকাউন্ট করেছি। সমস্যা হলো bodaq.com-এ আমার ৩ হাজার ডলারের ওপর ব্যালেন্স হয়েছে। কিন্তু অর্থ তুলতে গেলে সাইটটি বলে- আমার অ্যাকাউন্টে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা হয়নি, অথবা প্রিমিয়াম ইউজার হলে অর্থগুলো তোলা যাবে। প্রিমিয়াম ইউজার হতে হলে অনেক টাকা লাগে, প্রকৃতপক্ষে বিষয়টা সত্যি কি না তা বুঝতে পারছি না। এখন কিভাবে অথবা কত টাকা হলে আমার ব্যালেন্স থেকে টাকা তুলতে পারব তা জানালে খুব কৃতজ্ঞ থাকব। এমন কয়েকটা সাইটে আমার ভালো ব্যালেন্স হয়েছে।

জাকারিয়া : আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি, এধরনের প্রত্যেকটি সাইটই প্রতারণামূলক। ই-মেইল দেখার জন্য অর্থ প্রদান সত্যি হাস্যকর। তারা আপনাকে কখনও এত বিশাল অর্থ প্রেরণ করবে না। তাদের মূল ব্যবসায় হচ্ছে বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রিমিয়ার ইউজার তৈরি করানো। গুগলে সার্চ দিয়ে এই সাইটগুলোতে প্রতারণার শিকার অসংখ্য ইউজারের মন্তব্য জানতে পারবেন। তাই এই সাইটগুলোতে আর অযথা সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকুন।

আগস্ট ২০, ২০০৯

মোহাম্মদ অলিউর রহমান, গাজীপুর : আমি পেপাল নিয়ে আপনার লেখাটি পড়েছি। আমার একজন কাজিন কানাডায় থাকেন। যদি তার কোনো পেপাল অ্যাকাউন্ট থাকে তাহলে আমি কিভাবে তা ব্যবহার করে অর্থ তুলতে পারব?

জাকারিয়া : প্রথমে আপনার কাজিনের সাথে যোগাযোগ করে তার অনুমতি নিন এবং সেই অ্যাকাউন্টের ই-মেইল ঠিকানাটি জেনে নিন। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে তারপর সেই ই-মেইলটি যোগ করে নিন। এরপর প্রতিবার অর্থ তুললে সেই পেপাল অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হবে। পরে আপনার কাজিন অন্য কোনো পদ্ধতি (যেমন ওয়্যার ট্রান্সফার, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন ইত্যাদি) ব্যবহার করে আপনাকে অর্থ পাঠাবে।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০০৯

সাইফুল্লাহ আরিফ : Desk-এর একজন ক্রেতা আমাকে আমন্ত্রণ করেছেন তার একটি প্রজেক্টে। তার gumtree.com-এর মতো একটি সাইট দরকার। কিন্তু দেখতে হতে হবে hmv.com-এর মতো। আমি পিএইচপি ও mysql মোটামুটি পারি। javascript ও css শিখছি। সাইটটি তৈরি করতে আর কি কি লাগতে পারে ?

জাকারিয়া : আপনার যদি সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট তৈরি করার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকে, তাহলে এই মুহূর্তে বড় কাজ না নেয়াই ভালো হবে। আগে কয়েকটি ওয়েবসাইট নিজে নিজে তৈরি করুন, তারপর বিড করুন। এই মুহূর্তে ছোট ছোট কাজের জন্য বিড করতে পারেন, বিশেষ করে কোনো ওয়েবসাইটে নতুন ফিচার যোগ করা বা বাগ ঠিক করা এরকম কাজগুলো।
একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট তৈরি করতে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ তা হলো :

• যেকোনো ধরনের প্রোগ্রামিং করতে পারার ক্ষমতা, বিশেষ করে লজিকে দক্ষতা।
• সঠিক নিয়মে ডাটাবেজ ডিজাইন।
• একটি ওয়েবসাইট পরিপূর্ণভাবে তৈরি করার অভিজ্ঞতা।
• HTML, Javascript ও CSS-এ ভালো দখল।
• ফটোশপে দক্ষতা।
• ডেডলাইনের মধ্যে কাজ শেষ করার ক্ষমতা।
• ক্লায়েন্টের চাহিদা পরিপূর্ণভাবে বোঝা এবং তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করা।

কমপিউটার জগৎ-এ প্রকাশিত আমার সব লেখা এবং সাথে আরো বিভিন্ন তথ্য জানতে পারবেন আমার ব্যক্তিগত ব্লগ থেকে। সাইটটি হলো www.FreelancerStory.blogspot.com।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : zakaria_cse@hmail.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস