Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > জনগণের দোরগোড়ায় তথ্যসেবা : চ্যালেঞ্জ ও অগ্রাধিকার
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মানিক মাহমুদ
মোট লেখা:২৪
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - অক্টোবর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
আইসিটি
তথ্যসূত্র:
তৃর্ণমূলে তথ্যপ্রযুক্তি
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
জনগণের দোরগোড়ায় তথ্যসেবা : চ্যালেঞ্জ ও অগ্রাধিকার


সরকারি উদ্যোগে জনগণের দোরগোড়ায় তথ্যসেবা পৌঁছে দিতে দেশে বিভিন্ন নামে তথ্যকেন্দ্র, তথ্যসেবা কেন্দ্র বা টেলিসেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। যেমন : স্থানীয় সরকার বিভাগ গড়ে তুলেছে ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র (ইউআইএসসি), কৃষি মন্ত্রণালয় গড়ে তুলেছে কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র (এআইসিসি) এবং মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয় গড়ে তুলছে মৎস্য তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র (এফআইসিসি)। এগুলো গড়ে উঠেছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়, ইউনিয়ন পরিষদে, তৃণমূল পর্যায়ে বাজারে, গ্রামে এবং উপজেলা সদরে। ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র শুরু হয়েছে ৩০টি ইউনিয়নে। এগুলো দেশের ৩০টি জেলার ৩০টি উপজেলার ৩০টি ইউনিয়নে। এআইসিসি গড়ে উঠেছে দেশের ১০টি তৃণমূল বাজার এলাকায়। এফআইসিসি গড়ে উঠেছে মোট ২০-১০টি গ্রামে এবং ১০টি উপজেলা সদরে মৎস্য অফিসে।

বেসরকারি উদ্যোগে টেলিসেন্টার গড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা আগে হলেও সরকারি উদ্যোগে টেলিসেন্টার গড়ে তোলার উদ্যোগ শুরু হয়েছে বেশি দিন নয়। সরকারি এ উদ্যোগের উৎস হলো প্রধানমন্ত্রীর দফতরে চলমান ‘একসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রাম’। এ প্রকল্পের উদ্যোগেই গত বছর সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় প্রতিটি মন্ত্রণালয় থেকে কমপক্ষে একটি করে সেবা চিহ্নিত করতে হবে, যা আইসিটির মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাবার ব্যবস্থা করা হবে। সচিবদের এই সিদ্ধান্তের আলোকে মোট ৫৩টি সেবা চিহ্নিত করা হয়। এর সবই প্রায় স্বল্প সময়ের প্রকল্প। যেমন ৩ মাস, ৬ মাস। এসবের অর্থায়নও হয়েছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব বাজেট থেকে। শুধু ১০টি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের সাথে এটুআই’র অর্ধেক অংশীদারিত্ব রয়েছে। উপরে উল্লিখিত তিনটি মন্ত্রণালয় এই ১০টির মধ্যে অন্তভুর্ক্ত। এই তিনটিই ছিল এক বছরকালের প্রজেক্ট।

সরকারি উদ্যোগে চলমান এসব টেলিসেন্টার ইতোমধ্যে বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। টেলিসেন্টারগুলোকে টেকসই করার প্রশ্নে সেখানে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তবে এরই মধ্যে একাধিক অগ্রাধিকার চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে, এর মধ্য দিয়ে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার পথ কিছুটা সহজতর হয়েছে। এই অভিজ্ঞতার বিশ্লেষণ করাই আজকের এই নিবন্ধের আলোচনার প্রধান বিষয়।

তথ্যসেবা কেন্দ্রের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ

সরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা টেলিসেন্টারগুলো একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। মোটাদাগে বললে চ্যালেঞ্জগুলো সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই হওয়া সম্পর্কিত। আইসিটির সুবিধা যদি তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হয়, অন্যভাবে বললে জনগণের দোরগোড়ায় তথ্যসেবা পৌঁছে দিতে হলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পথ খুঁজে বের করতেই হবে।

চ্যালেঞ্জ-১ : তথ্যসেবা কেন্দ্রের শতভাগ সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা :

সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হলে সাদামাটাভাবে বলার সুযোগ নেই যে মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ছে। নিজেদের সন্তুষ্টির দিকে তাকিয়ে কথা বলে লাভ নেই। এতে বিপদ বাড়ে। দেখতে হবে সমালোচকের দৃষ্টিতে। আসলে দরকার হলো, মানুষ নিজে থেকেই যেনো বলতে শুরু করবে এই তথ্যসেবা কেন্দ্র তাদের একটি প্রতিষ্ঠান, এটি টিকেয়ে রাখার তাদের দায়িত্ব। কিন্তু চ্যালেঞ্জটি বলা যত সহজ তার বাস্তবায়ন ঘটানো তত সহজ নয়। টেলিসেন্টার শুরু করার জন্য এনআইএলজি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজন করেছিল। সে প্রশিক্ষণে কি করে মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনার সূত্র ধরে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে তথ্যসেবা কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটি গড়ে তোলা হয়েছে- যেখানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে প্রধান করে প্রতিটি ওয়ার্ডের গণ্যমান্য প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। প্রতিনিধিদের মধ্যে সব পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যেমন- শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, কৃষক, নারী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, সংগঠক, সরকারি-বেসরকরি প্রতিনিধি। এর ফলে তথ্যকেন্দ্র জনসম্পৃক্ত একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ শুরু করার সুযোগ পেয়েছে। তবে তথ্যসেবা কেন্দ্রে সব স্তরের মানুষের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবার জন্য যে স্বতঃস্ফূর্ততা দরকার, তা এখনো দেখা যাচ্ছে না। অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, এটা তখনই সম্ভব যদি তথ্যসেবা কেন্দ্র, সরকারি সেবা সম্পর্কে এলাকায় যথেষ্ট পরিমাণে সচেতনতা তৈরি হয় এবং এর সূত্র ধরে স্থানীয় মানুষের চাহিদার ভিত্তিতে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়। বিষয়ভিত্তিক এ ধরনের আলোচনা হতে হবে পূর্ণ অংশগ্রহণমূলক এবং গবেষণাকেন্দ্রিক। প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে এই ধরনের গবেষণাকেন্দ্রিক আলোচনার চাহিদা তৈরি হলেও সব তথ্যসেবা কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা কমিটি স্থানীয় মানুষের মধ্যে একইভাবে চাহিদা তৈরি করতে পারছে না। এর অনেক কারণ। একটি কারণ হলো এনআইএলজির এ ব্যাপারে আগের কোনো অভিজ্ঞতা নেই।

চ্যালেঞ্জ-২ : তথ্যসেবা কেন্দ্রের অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা :

তথ্যসেবা কেন্দ্রের আয়ের প্রধান উৎস্য হলো বাণিজ্যিক সেবা থেকে আসা আয়। এ আয় দিনে দিনে বাড়বে তা সত্য। যদিও তা নির্ভর করে কি কি বাণিজ্যিক সেবা থাকবে, তা কতটা সুলভ মূল্যে এবং তথ্যসেবা কেন্দ্রের অবস্থান কোথায় তার ওপর। অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের একটি সহজ পথ হলো স্থানীয় মানুষের এই তথ্যসেবা কেন্দ্র পরিচালনায় অর্থনৈতিক মালিকানাভিত্তিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এটা তখনই ঘটে যখন মানুষ মনে করে এই তথ্যকেন্দ্র তাদের নিজস্ব একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এর জন্য দরকার নিবিড় মবিলাইজেশন। এই মবিলাইজেশনের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হবে, তথ্য অধিকারবোধ তৈরি হবে, তথ্যসেবা কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হবে, তথ্যসেবা কেন্দ্রের ওপর মালিকানা তৈরি হবে। সিরাজগঞ্জের মাধাইনগর ইউনিয়নে স্থানীয় জনগণের মধ্যে এই মালিকানাবোধ তৈরি হয়েছিল। ফলে সেখানে ইউনিয়ন পরিষদ সমন্বিত সিদ্ধান্তের আলোকে পারিবারিক তথ্যসেবা কার্ড তৈরির মতো সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়েছিল। এক জরিপে দেখা যায়, সেখানকার বেশিরভাগ মানুষ মনে করে, এই পারিবারিক তথ্যসেবা কার্ড তথ্যকেন্দ্রকে টেকসই করার একটি সমন্বিত উদ্যোগ। এই কার্ড এরা কিনে সদস্য হবার জন্য এবং সদস্য হয় তথ্যকেন্দ্রের তহবিল গড়ে তোলার জন্য। কার্ডের মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করে ইউনিয়নবাসী আলোচনার মাধ্যমেই। এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো জরুরি। একটি ইউনিয়নে কমপক্ষে ৩০০০-৫০০০ পরিবারের বসবাস। এক বছরে ইউনিয়নের অর্ধেক পরিমাণ পরিবারও যদি সদস্য হয়, তবে যে তহবিল গড়ে উঠবে তা দিয়ে শুধু তথ্যসেবা কেন্দ্রকে লাভজনকই করে তোলা সম্ভব হবে না, তার যে উদ্বৃত্ত হবে তা এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবে।

চ্যালেঞ্জ-৩ : ইন্টারনেটের অধিক বিল :

তথ্যসেবা কেন্দ্রগুলো ইন্টারনেট কানেক্টিভিটির জন্য গ্রামীণের এডজ মডেম ব্যবহার করে। তাদের কয়েক মাসের অভিজ্ঞতা হলো ইন্টারনেট ব্যবহারে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। কারণ মাস শেষে বিল আসে প্রায় ১০০০ টাকা। কিন্তু প্রাথমিক অবস্থায় গ্রামের মানুষ এত ইন্টারনেট ব্যবহার করে না বা ব্যবহার করার জন্য যে পরিমাণ সচেতনতা দরকার, তা তৈরিই হয়নি। ফলে প্রতি মাসে এই বাড়তি ব্যয় বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

চ্যালেঞ্জ-৪ : তাৎক্ষণিক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিশ্চিত করা :

ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের নিয়মিত বসার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু এরা সেখানে বসেন না। কেউ কেউ নামমাত্র অনিয়মিতভাবে ইউনিয়ন পরিষদে এসে মুখ দেখিয়ে চলে যান। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের দিক থেকে চাপ থাকলেও এর কোনো সুরাহা হচ্ছে না। এসব কর্মকর্তা বসেন উপজেলা অফিসে। সাধারণ মানুষের প্রয়োজন হলেও উপজেলায় তাদের সাথে দেখা করার জন্য কেউ সাধারণত যান না। কারণ, সেখানে মানুষ গেলেও ওইসব কর্মকর্তাকে পাওয়া কঠিন। গবেষণা থেকে দেখা যায়, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইউনিয়নে খুবই একজন দরকারী মানুষ। কৃষকরা তাকে খোঁজে তার সাথে পরামর্শ করার জন্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো কৃষকরা তার দেখা পান না বললেই চলে। ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে ওঠার পর এই কৃষি কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। কারণ, অনেক মানুষ কৃষি, স্বাস্থ্য প্রভৃতি বিষয়ে তথ্যসেবা কেন্দ্র থেকে তথ্য জানার পাশাপাশি এসব কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করতে চান। অনেক সমস্যা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করে নিজেদের লোকজ জ্ঞান ব্যবহার করে অন্যভাবে এর কোনো সমাধান আছে কি না তা যাচাই করতে চান। কিন্তু এখানে না বসার কারণে তা হয়ে ওঠে না।

চ্যালেঞ্জ-৫ : জেলায় জেলায় প্রশিক্ষণ আয়োজন :

আগেই উল্লেখ করেছি, স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে ১০০০ ইউনিয়নে তথ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের নামও আসতে শুরু করেছে। নাম আসাটাই এখানে যথেষ্ট নয়। এখানে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সঠিক উদ্যোক্তা বাছাই করা। শুধু আন্তরিক আর দক্ষ ছেলেমেয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে পেলেই হবে না, তাদের ন্যূনতম ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করার সামর্থ্যও থাকতে হবে। কারণ, এখানে শর্ত হলো, উদ্যোক্তা বিনিয়োগ করবে এবং এই তথ্যসেবা কেন্দ্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে যে আয় হবে, তা তারা পাবে। এভাবেই তাদের কর্মসংস্থান হবে। উদ্যোক্তার বিনিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে তারা বেতনভুক্ত কর্মী হয়ে উঠবে, যা তথ্যসেবা কেন্দ্রকে অর্থনৈতিকভাবে টেকসই করে তোলার প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

চ্যালেঞ্জ-৬ : নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ :

ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা ৩০টি তথ্যসেবা কেন্দ্রের বেশিরভাগেই দিনের অর্ধেকের বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এতে তথ্যসেবা পাওয়া যেমন বাধাগ্রস্ত হয়, তেমনি ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ না পাওয়ায় আয়ও কমে যায়। যদিও ওইসব তথ্যসেবা কেন্দ্রে জেনারেটর আছে, কিন্তু এর জন্য তো ডিজেল পোড়াতে হয়।

চ্যালেঞ্জ-৭ :

স্থানীয় ট্রাবলশূটিং সাপোর্ট : সরকারি উদ্যোগে যেসব তথ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে প্রাথমিক অবস্থায় থাকায় এখনো তাদের সামনে মেরামত জাতীয় বড় কোনো সমস্যা আসেনি। এ ব্যাপারে তাদের বেশিরভাগেরই অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু এ সমস্যা তো আসবে। তখন কি হবে?

অগ্রাধিকার

বিদ্যমান এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয় বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে।

অগ্রাধিকার-১ : জেলায় জেলায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা :

স্থানীয় সরকার বিভাগ যে ১০০০ ইউনিয়নে তথ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, এর জন্য উদ্যোক্তাদের যে প্রশিক্ষণ দরকার তা সংখ্যায় অনেক হওয়ায় ঢাকা থেকে দেয়া সম্ভব নয়। তা হতে হবে অবশ্যই জেলা বা উপজেলা থেকে। কিন্তু জেলায় বা উপজেলায় উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ দেবার মতো অবকাঠামো এখনো তৈরি হয়নি। ফলে এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার হলো জেলায় বা উপজেলায় কোথায় কোন বিকল্প ব্যবহার করে এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যায়, তা নিশ্চিত করা। এই বিকল্প খুঁজে পেলে ঢাকা থেকে একদল মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করে দেয়া হবে। এই মাস্টার ট্রেইনারদের হতে হবে ডিসি ও ইউএনও অফিসের স্টাফ।

অগ্রাধিকার-২ : কৃষি, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ইউনিয়ন পরিষদে বসার ব্যবস্থা :

কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা প্রভৃতি কর্মকর্তার ইউনিয়ন পরিষদে বসার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। কারণ, এসব কর্মকর্তার কাছে সাধারণ মানুষের যে সেবা পাবার কথা, তা তখনই সম্ভব হবে তারা যদি পরিষদে বসেন। জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে দেখা গেছে এসব কর্মকর্তার ইউনিয়ন পরিষদে বসার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত বসা কষ্টকর তাই বসেন না। আবার এজন্য জেলা-উপজেলা থেকে কোনো চাপও নেই। এই পুরো পরিস্থিতিটাই পাল্টে যেতে পারে যদি ইউনিয়নবাসীর দিক থেকে চাপ তৈরি হয়, যা এর আগে কোথাও ঘটেনি। জেলা প্রশাসকগণ পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে চিঠি ইস্যু হলে বিষয়টির বাস্তবায়ন ঘটানো সহজ হয়ে উঠবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ও বিভিন্ন এআইসিসিতে যাতে করে কৃষি কর্মকর্তারা যান সেজন্য উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

অগ্রাধিকার-৩ : জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মনিটরিং ব্যবস্থা :

ডিজিটাল বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে এখন পরিকল্পনা চলছে ডিজিটাল জেলা গঠনের। ডিজিটাল জেলার নেতৃত্ব দেবেন জেলা প্রশাসক এবং তাকে উপজেলার হয়ে সহায়তা করবেন ইউএনওরা। ডিজিটাল জেলার একটি বড় কাজ হলো তৃণমূল মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেবার মাধ্যম হিসেবে আইসিটিকে ব্যবহার করা। ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র, এআইসিসি, এফআইসিসি এক্ষেত্রে সবচেয়ে সঠিক ইউনিট হিসেবে কাজ করতে পারে। কিন্তু এসব তথ্যসেবা কেন্দ্র যথাযথভাবে কাজ করতে পারছে কি-না, কোনো সমস্যা হলে তা সমাধান করার জন্য সরকারি সহযোগিতা যতখানি পাওয়া দরকার, তা পাচ্ছে কি-না তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব জেলা-উপজেলার প্রশাসনের ওপরও খানিকটা বর্তায়। সেজন্য তাদের দিক থেকেও এক ধরনের মনিটরিং থাকা দরকার, তবে তা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় নয়। নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে তথ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে যে স্বাধীন মালিকানার এক ধরনের চর্চা তৈরি হয়েছে তা ভেঙ্গে পড়বে, যা হবে ঝুঁকিপূর্ণ।

অগ্রাধিকার-৪ : লোকাল ট্রাবলশূটিং ব্যবস্থা :

এখনো তথ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে কমপিউটারে বড় কোনো অসুবিধা তৈরি হয়নি। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, ছোটখাটো সমস্যার সমাধান তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজেরা কিংবা আশপাশের সহযোগিতা নিয়ে ঠিক করতে পারে। কিন্তু বড় জটিলতা দেখা দিলে কি হবে? বিশেষ করে ল্যাপটপের বেলায় কি হবে? স্থানীয়ভাবে হার্ডওয়্যার মেরামতের ব্যবস্থা তৈরি না হলে কেবল সরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা তথ্যসেবা কেন্দ্রই নয়, বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা টেলিসেন্টার হুমকির মুখে পড়বে। সরকার ভাবছে এ সমস্যা সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে যৌথভাবেই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : manikswapna@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস