Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > দেশের টেলিকম শিল্পে সম্ভাবনাময় নতুন এক দিগন্ত - মোবাইল ফোন নাম্বার পোর্টেবিলিটি
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মো: লাকিতুল্লাহ প্রিন্স
মোট লেখা:৩২
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - অক্টোবর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
মোবাইল
তথ্যসূত্র:
মোবাইল ফোন
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
দেশের টেলিকম শিল্পে সম্ভাবনাময় নতুন এক দিগন্ত - মোবাইল ফোন নাম্বার পোর্টেবিলিটি

মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি নিয়ে আলোচনার আগে আমাদের দেশের অতি পরিচিত দু’টি ঘটনা উল্লেখ করা যাক। ছুটিতে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন একজন, এমন আনন্দের মুহূর্তে কিছুটা দুশ্চিন্তাও সঙ্গী হয় তার। যে মোবাইল অপারেটরের সংযোগ তিনি ব্যবহার করছেন গ্রামে তার নেটওয়ার্ক পৌঁছায়নি। অন্য কোনো ফোন ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ আউটগোয়িং কলগুলো সেরে নিলেও প্রয়োজনীয় কলগুলো রিসিভ করতে পারছেন না তিনি। ফল- আনন্দের দিনগুলোতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা।



আবার দীর্ঘদিন ধরে কেউ একটি মোবাইল সংযোগ ব্যবহার করছেন। সংযোগটি এমন এক পরিস্থিতিতে তিনি নিয়েছিলেন, যখন কলচার্জসহ অন্যান্য সেবার দিক থেকে কোম্পানিটির অবস্থান খারাপ ছিল না। কিন্তু সময়ের প্রবাহে দেশে এসেছে নতুন নতুন অপারেটর, সেই সাথে যোগ হয়েছে বৈচিত্র্যময় সেবা। কিন্তু তিনি যে অপারেটরের সংযোগ ব্যবহার করছিলেন সেটির সুযোগসুবিধা তার কাছে সেকেলে ঠেকছে কিংবা সার্ভিস চার্জ বেশি হওয়ায় বর্তমানে তা খরচে কুলানো কষ্টসাধ্য। মোবাইল নাম্বার পরিবর্তন করবেন সেটিরও উপায় নেই। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের লোকজন, দেশে বিদেশে আত্মীয়স্বজন- সবাই নাম্বারটির সাথে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। তাই ইচ্ছে থাকলেও নাম্বারটি পরিবর্তন সম্ভব হচ্ছে না। ফল-ইচ্ছের বিরুদ্ধে ওই অপারেটরের সংযোগ ব্যবহার করে যাওয়া, সাথে মাসে মাসে বাড়তি বিল গুনতে থাকা।

এধরনের অনেক বিষয় বিবেচনায় এনে প্রায় একযুগ আগে থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মোবাইল ফোন ও ল্যান্ডফোনের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছে সেটি হলো ‘মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি’ বা সংক্ষেপে এমএনপি।

মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটির মূল ধারণা

পোর্টেবল শব্দটির অর্থ হলো সহজে বহনযোগ্য। তাই যেসব বস্ত্ত সহজে বহন করা যায় সেগুলোর নামের আগে পোর্টেবল শব্দটির বহুল ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়। বিভিন্ন পোর্টেবল ডিভাইসের সাথে আমরা ইতোমধ্যে সুপরিচিত। কিন্তু ফোন বা মোবাইল নাম্বার বহন করা যায় কিভাবে? বেশ অবাক করার মতোই একটি বিষয়! নাম্বারের ক্ষেত্রে পোর্টেবিলিটির বিষয়টি হলো-একই নাম্বার ব্যবহার করে বিভিন্ন অপারেটরের সার্ভিস নেয়ার সক্ষমতা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। আমাদের দেশের ফোন বা মোবাইল নম্বরগুলো দেখেই চেনা যায় কোনটি কোন অপারেটরের। কারণ, প্রতিটি অপারেটরের নিজস্ব প্রিফিক্স নাম্বার রয়েছে, যেমন- সিটিসেল ০১১, টেলিটক ০১৫, ওয়ারিদ ০১৬ ইত্যাদি। ল্যান্ডফোন অপারেটরের ক্ষেত্রেও তাই। কেউ যদি বর্তমানে একটেল ব্যবহার করেন তবে তিনি বর্তমান নাম্বারটি ঠিক রেখেই অন্য কোনো অপারেটরের সার্ভিস নিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে নাম্বারের প্রিফিক্সের ব্যাপারটি পুরোপুরি গৌণ হয়ে পড়ে। কে কোন অপারেটরের সার্ভিস নিচ্ছেন তার ফোন নাম্বার দেখে সেটি বোঝা যাবে না। গ্রাহকের দৃষ্টিকোণ থেকে এটিই হলো নাম্বার পোর্টেবিলিটি। এক্ষেত্রে এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে যাওয়ার প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় ‘পোর্টিং’। এতে সুবিধা হলো মোবাইল অপারেটর পরিবর্তন করলেও তাকে আগের নাম্বারটি পরিবর্তন করতে হবে না। ফলে তিনি আগের নাম্বারটি ঠিক রেখেই সুযোগসুবিধা, পরিষেবা, চার্জ বিবেচনা করে পছন্দমতো অপারেটরের সার্ভিস নিতে পারবেন। নাম্বার পরিবর্তন না করে তিনি পরিচিতজন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এড়াতে পারবেন।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলো এই সার্ভিস চালু করেছে তাদের টেলিকম সেবায় গতি আনার জন্য। মোবাইল অপারেটরের মনোপলি চক্র ভেঙ্গে দেয়া, সেই সাথে আন্তঃঅপারেটর প্রতিযোগিতা বাড়ানো উল্লেখযোগ্য কারণ। যেসব দেশে এমএনপি চালু হয়েছে সেখানকার মোবাইল অপারেটরের মধ্যে প্রতিযোগিতা তুলনামূলকভাবে বেশি। গ্রাহক ধরে রাখার জন্য প্রত্যেকে সেবার মানের দিকে সর্বোচ্চ নজর দিচ্ছে। এমন প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বেশি লাভবান হয় তৃণমূল গ্রাহক। দেশের সরকার কিংবা টেলিকম ওয়াচডগের দায়িত্ব হলো সার্ভিসটি চালু করতে মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দেয়া। তবে এমএনপি চালু করার ব্যাপারে বাস্তবে সংশ্লিষ্ট প্রায় সব দেশের মোবাইল অপারেটরদের মৃদু প্রতিবাদ ও অনীহা দেখা গেছে। তাই গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার জন্য সেসব দেশের সরকার কিংবা টেলিকম রেগুলেটর অথরিটি মোবাইল অপারেটরদের এই সেবা চালু করতে বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়ে থাকে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কোনো অপারেটর তুলনামূলক বেশি গ্রাহক ধরে রাখতে পারে। আমাদের দেশের ক্ষেত্রে এই ভূমিকা পালন করতে হবে বিটিআরসি’কে।

এমএনপি’র সূচনা

মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি সুবিধা প্রথম চালু হয় ১৯৯৭ সালে সিঙ্গাপুরে। নববইয়ের দশকের শেষভাগে ও একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে টেলিকমিউনিকেশনের দিক থেকে এগিয়ে থাকা দেশগুলো এমএনপি চালু করেছে। বর্তমানে বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে এমএনপি সার্ভিস চালু রয়েছে। শুরু থেকে প্রায় অর্ধযুগের মধ্যে যেসব দেশ এমএনপি সুবিধা চালু করেছে তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেয়া হলো।

সাল এমএনপি সুবিধাসম্পন্ন দেশ
১৯৯৭ সিঙ্গাপুর
১৯৯৯ হংকং, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস
২০০০ স্পেন, সুইজারল্যান্ড
২০০১ অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, সুইডেন, নরওয়ে, পর্তুগাল
২০০২ ইতালি, জার্মানি, বেলজিয়াম
২০০৩ ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, গ্রীস, আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ
২০০৪ ইউএসএ, দক্ষিণ কোরিয়া, স্লোভাকিয়া, লিথুনিয়া

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এমএনপি চালুর ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানে এমএনপি সার্ভিস চালু হয় ২০০৭-এর মার্চে। এমএনপি চালু করা ও ব্যবস্থাপনার জন্য পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন অথরিটি (পিটিএ) আলাদা একটি পরিচালনা পর্ষদ তৈরি করেছে, যাকে বলা হচ্ছে পিএমডি বা পাকিস্তান এমএনপি ডাটাবেজ। ভারত ও শ্রীলঙ্কা গত ক’বছর ধরে এমএনপি চালু করার উপযোগিতা ও কর্মকৌশল নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে। ভারত ইতোমধ্যে এমএনপি চালুর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেছে। তারা সেপ্টেম্বর ২০০৯ থেকে মার্চ ২০১০-এর মধ্যে ভারতজুড়ে পরিপূর্ণভাবে এমএনপি সার্ভিস চালু করবে। প্রাথমিকভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান যেমন- দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাই, অন্ধ্রপ্রদেশ ইত্যাদি জায়গায় এ সেবা চালু করবে। এমএনপি চালু করার দিক থেকে এশিয়া মহাদেশে ভারতের অবস্থান হবে ৮ম। মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব প্রথম এমএনপি চালু করে জুন ২০০৬-এ। আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা সেপ্টেম্বর ২০০৬-এ প্রথম এমএনপি চালু করে। এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানা যাবে http://en.wikipedia.org/wiki/Local_number_portability থেকে।

যেভাবে কাজ করে এমএনপি

কয়েকটি উপায়ে মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি চালু করা হয়। তবে যে উপায়ই অবলম্বন করা হোক না কেনো, সব ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটরদের অবকাঠামোগত কিছু প্রযুক্তি সংযোজনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এতে মূল বিষয় হলো একটি ‘নাম্বার পোর্টেবিলিটি ডাটাবেজ তৈরি’ এবং বিভিন্ন ধরনের কল ও মেসেজ রাউটিংয়ের জন্য সুবিধাজনক রাউটিং পদ্ধতি অবলম্বন করা। কল রাউটিংয়ের ক্ষেত্রে চার ধরনের রাউটিং পদ্ধতি রয়েছে। কল রাউটিং প্রধানত দুই ক্যাটেগরিতে বিবেচনা করা হয়- ডিরেক্ট রাউটিং এবং ইনডিরেক্ট রাউটিং। ডিরেক্ট রাউটিংয়ের অধীনে রয়েছে ‘অল কল কুয়েরি’ আর ইনডিরেক্ট রাউটিংয়ের অধীনে রয়েছে ‘অনওয়ার্ড রাউটিং’, ‘কল ড্রপ ব্যাক’ ও ‘কুয়েরি অন রিলিজ’। এসএমএস ও এমএমএস রাউটিংয়ের জন্য ভিন্ন রাউটিং পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।

নাম্বার পোর্টেবিলিটি ডাটাবেজ বা এনপিডিবি পোর্টেড নাম্বারগুলো এবং সেগুলো সংশ্লিষ্ট সার্ভিস প্রোভাইডারগুলোকে শনাক্ত করে রাখে। কোনো কল বা মেসেজ কোথায় যাবে, তা নির্ণয় করা হয় এনপিডিবি’র এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে। নাম্বার পোর্টেবিলিটি ডাটাবেজ হতে পারে সেন্ট্রালাইজড কিংবা ডিস্ট্রিবিউটেড। সেন্ট্রালাইজড ডাটাবেজ মডেলে একটি কেন্দ্রীয় রেফারেন্স ডাটাবেজ থাকে, এই ডাটাবেজ থেকে অপারেটরগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য তাদের অপারেশনাল ডাটাবেজে সমন্বয় ঘটায়। ডিস্ট্রিবিউটেড ডাটাবেজ মডেলে সম্পূর্ণ ডাটা সাবসেট হিসেবে অপারেটরগুলো নিজেদের মধ্যে শেয়ার করে নিয়ে কাজ করে। তবে বেশিরভাগ দেশেই সেন্ট্রালাইজড ডাটাবেজ মডেল অনুসরণ করা হয়। সাধারণত অপারেটরদের সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামের তত্ত্বাবধানে এই সিস্টেম পরিচালিত হয়।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কিছু দেশে এমএনপি’র প্রভাব

দেশের টেলিকম সেক্টরে সুষম প্রতিযোগিতা বাড়ানো, সেবার পরিধি বাড়ানো ও মানোন্নয়ন, সুবিধাজনক খরচে সেবা যোগান ইত্যাদি নিশ্চিত করার জন্য সরকার এমএনপি-কে গুরুত্বপূর্ণ একটি হাতিয়ার হিসেবে প্রয়োগ করে। গ্রাহকের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে পছন্দমতো অপারেটর ও সেবা বেছে নেয়ার। এ হিসেবে এমএনপি গ্রাহকদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।

এমএনপি’র বাস্তবায়ন ভালো কাজ দেয় যেসব দেশে মোবাইল ফোনের গ্রাহক-ঘনত্ব বেশি কিংবা সম্ভাবনা বেশি, যেসব দেশে অপারেটরদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র ও অপারেটরদের শক্তিশালী অবকাঠামো রয়েছে। কিন্তু অপারেটরগুলোর মধ্যে প্রায়শই এ শঙ্কা কাজ করে যে, এমএনপি সিস্টেম চালু করলে তারা গ্রাহক হারাবে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রভাব ভিন্নভাবে দেখা দিতে পারে। যারা ভালো সার্ভিস দেবে, তারা ভালো ব্যবসায় করবে। তবে এটা নিশ্চিত, এমএনপি চালু করার পর অপারেটরগুলো বাধ্য হয় উন্নততর ও অত্যাধুনিক সেবা দেয়ার প্রতি বেশি মনোযোগী হতে।

উক্ত রিপোর্ট অনুসারে এমএনপি’র সবচেয়ে ভালো প্রভাব দেখা গেছে দক্ষিণ কোরিয়া আর হংকংয়ে। কিন্তু তাইওয়ান, জাপান ও সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রে ততটা হয়নি। তবে এমএনপি বাস্তবায়নকারী প্রতিটি দেশেই এর সুফল লক্ষণীয়।

এমএনপি’র আরো কিছু বিষয়

এ বিষয়টি প্রশ্নাতীত যে, গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুবিধা দেয়ার জন্যই এমএনপিপ্রযুক্তি চালু হয়েছে। গ্রাহক ও টেলিকম অপারেটরের দিক থেকে এর সুবিধা-অসুবিধাগুলো দেখে নেয়া যাক।

এ সুবিধার ফলে গ্রাহক তার আগের নাম্বার পরিবর্তন না করেই পছন্দের অপারেটর সার্ভিস গ্রহণ করতে পারেন, সেই সাথে প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সুবিধাগুলো পাওয়া সহজ হয়ে যায়। টেলিকম অপারেটর গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে সচেষ্ট হয়। অপারেটরগুলো বিভিন্ন ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস বিনামূল্যে বা কমমূল্যে গ্রাহক ধরে রাখার চেষ্টা করে, ফলে চূড়ান্ত সুবিধা পান গ্রাহক। অন্যদিকে সমস্যা হলো কোনো কোনো ক্ষেত্রে পোর্টিংয়ের (অন্য অপারেটরে যাওয়া) জন্য চার্জ করা হয়। আবার পোর্টিংয়ের জন্য কিছু বাড়তি সময় প্রয়োজন হতে পারে। অবশ্য এ বিষয়গুলো নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিনির্ধারণের ওপর।

টেলিকম অপারেটরগুলো ব্যবসায়ের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পায়, যা তাদের সুষম প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করে। যে অপারেটরগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো সেবা দেবে, সেগুলো এগিয়ে থাকবে। এ ধরনের মনোভাব তাদের ভালো ব্যবসায়িক ভিত্তি তৈরিতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে কোনো অপারেটর গ্রাহক হারাতে পারে। এমএনপি চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে কিছুটা বিনিয়োগের প্রয়োজন। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গ্রাহকদের অনেক সেবা কম মূল্যে কিংবা বিনামূল্যে দিতে হতে পারে।


ফ্রস্ট অ্যান্ড সুলিভান, কীনোট ক্যাপিটাল রিসার্চ অনুসারে কয়েকটি দেশে এমএনপি’র প্রভাব নিচে উলে¬খ করা হলো-

দেশ এমএনপি চালু এমএনপি চালুর গ্রাহক বৃদ্ধির অপারেটরের চার্ন হার
করা হয় প্রাক্কালে গ্রাহক হার (ডিসেম্বর সংখ্যা (গ্রাহক
বৃদ্ধির হার ২০০৮) হারানো/
স্থানান্তর)
সিঙ্গাপুর এপ্রিল-৯৭ ১৫.৭% ১৩১.০% ৩ ০.৯%
হংকং মার্চ-৯৯ ৪৮.১% ১৬৪.১% ৬ ৪.৮%
অস্ট্রেলিয়া সেপ্টেম্বর-০১ ৬১.০% ১০০.৮% ৫ প্রযোজ্য নয়
দক্ষিণ কোরিয়া জানুয়ারি-০৪ ৭০.১% ৯০.৭% ৩ ২.৮-৩.৪%
তাইওয়ান অক্টোবর-০৫ ৯১.৭% ১০০.২% ৯ ১.২%
জাপান অক্টোবর-০৬ ৬০.০% ৮৮.১% ৫ ০.৫%
চীন এপ্রিল-০৯ ৬২.২% ৬২.২% ৩ প্রযোজ্য নয়

বিটিআরসি’র ভূমিকা

বেশ কিছুদিন আগে শোনা গিয়েছিলো, বাংলাদেশে মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি নিয়ে বিটিআরসি উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে এ বিষয়ে অগ্রগতি কিছু জানা যায়নি। বাংলাদেশে মোবাইল ফোন গ্রাহক বাড়ার হার এখনো সম্ভাবনাময়, যেহেতু প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে এখনো টেলিকম সেবা পৌঁছায়নি। টেলিকম অপারেটরগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ও অত্যাধুনিক সেবা দেয়ার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশ এ প্রযুক্তি চালু করেছে। যুগান্তকারী এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশেরও পিছিয়ে থাকা উচিত নয়। এ জন্য সরকার ও বিটিআরসিতে দায়িত্ব পালনকারী সংশ্লিষ্টদের বিজ্ঞতার পরিচয় দিতে হবে। গ্রাহকদের মঙ্গল নিশ্চিত করার দায়িত্ব যে তাদের ওপরই ন্যস্ত।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : hexprince@gmail.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস