Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > নেটবুক হবে নোটবুকের বিকল্প
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সাদাফুজ্জামানী তুলী
মোট লেখা:৪
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - অক্টোবর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
নোটবুক
তথ্যসূত্র:
হার্ডওয়্যার
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
নেটবুক হবে নোটবুকের বিকল্প
হার্ডওয়্যার বিভাগের এই সংখ্যায় নেটবুক এবং নেটবুক প্রসেসর নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নেটবুককে কখনও মিনি নোটবুক হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। এটি আকারে ল্যাপটপ কিংবা নোটবুকের চাইতেও ছোট, হালকা এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী। এটি সাধারণ কমপিউটিং ও ওয়েবনির্ভরশীল অ্যাপ্লিকেশনের জন্য ব্যবহারযোগ্য। মোবিলিটির এ যুগে ল্যাপটপের অসুবিধাগুলো ছাড়িয়ে নেটবুক এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ক্রমে ক্রমে।

ল্যাপটপের অন্যতম অসুবিধা ছিল ওজন, যার ফলে এটি বহনযোগ্য হলেও ছিল কষ্টসাধ্য যা নেটবুক সমাধান করেছে। নেটবুকের বিশেষত্বই হচ্ছে এটি ছোট, হালকা এবং দামে সস্তা। এটি ছোট স্ক্রিন এবং কীবোর্ডসম্পন্ন। নেটবুক কম বিদ্যুৎশক্তি ব্যবহার করে। এতে সাধারণত অপটিক্যাল ড্রাইভ থাকে না। বর্তমানে নেটবুকের আকার এবং ওজনের ওপর আরও বিশেষত্ব আনা হচ্ছে।



নেটবুক মূলত অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনের কথা বিবেচনা করেই তৈরি করা হয়েছে। নেটবুক অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। তাই এর জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হার্ডওয়্যারের প্রয়োজন নেই, যা সাধারণ কমপিউটারে প্রয়োজন হয়। কিছু কিছু নেটবুকে কোনো হার্ডড্রাইভও নেই। এসব নেটবুক ‘সলিড স্টেট স্টোরেজ ডিভাইস’ ব্যবহার করে, কেননা এতে কম শক্তির প্রয়োজন হয়। যেহেতু নেটবুকে কোনো অপটিক্যাল ড্রাইভ নেই, সেহেতু অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার সাধারণত ইউএসবি (USB) ডিভাইস থেকে স্থানান্তর করা হয় অথবা কোনো নেটওয়ার্ক থেকে রিড (Read) করে নেয়া হয় অথবা একটি এক্সটার্নাল হার্ডডিস্ক ইউএসবির সাহায্যে সংযুক্ত করা যায়।

বর্তমানে বাজারজাত করা সব নেটবুক ‘ওয়াই-ফাই ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কিং’ সমর্থন করে এবং অনেকগুলো ডাটা ক্যাপাবিলিটির মাধ্যমে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে ব্যবহার করা সম্ভব।

নেটবুক যেকোনো সফটওয়্যার এবং অপারেটিং সিস্টেম রান করে। এর হার্ডওয়্যার গঠন কাঠামো অনেকটা পার্সোনাল কমপিউটারের মতোই, ফলে এতে প্রধান এবং সাময়িক অপারেটিং সিস্টেম পোর্ট করা সহজ।

নেটবুকে বিভিন্ন ধরনের প্রসেসর ব্যবহার করা হয়। এদের মধ্যে ইন্টেলের অ্যাটম (Atom), ভাইআ (VIA)-এর ন্যানো (Nano), এনভিডিয়ার আইঅন (Ion) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

সম্প্রতি এএমডি (AMD) কিছু আলট্রাথিন নোটবুক বের করেছে, যা নেটবুক এবং নোটবুকের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করে। এই নোটবুকগুলো খুবই হালকা এবং সহজে বহনযোগ্য। এগুলোর মূল্যও সামর্থ্যের মধ্যে।



এতে প্রসেসর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এএমডি’র এথলন নিও। এই প্রসেসর সম্বলিত আলট্রাথিন নোটবুক পূর্ণরূপে পিসির সুবিধাসহ অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের সুবিধাগুলো দেবে। এর সাহায্যে সহজে ইন্টারনেট ব্রাউজ, ই-মেইল, অ্যাপ্লিকেশন রান করা, ভিডিও দেখা এবং গেম খেলাও সম্ভব।

এটি কম শক্তি অপচয় করে, ফলে দীর্ঘ সময় সচল থাকবে। মোবাইল ডিভাইসের ক্ষেত্রে তাপ একটি অন্যতম সমস্যা। তবে এএমডি’র এথলন নিও প্রসেসর একটি এনার্জি-এফিশিয়েন্ট প্রসেসর অর্থাৎ এটি তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।

এটি এএমডি’র ডিজিটাল মিডিয়া এক্সপ্রেস সম্বলিত যা ডিজিটাল বিনোদন যেমন- গেমিং, স্ট্রিমিং ভিডিও ও অডিও, ডিভিডি ইত্যাদির উন্নতমানের পারফরমেন্স এবং প্লেব্যাক গুণাগুণ দেবে।



এএমডি’র এথলন নিও প্রসেসর এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সিস্টেম যেমন- উইন্ডোজ এক্সপি প্রফেশনাল এক্স৬৪ এডিশন, মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এক্সপি প্রফেশনাল, উইন্ডোজ এক্সপি হোম এডিশন, উইন্ডোজ ৯৮, উইন্ডোজ এমই, উইন্ডোজ এনটি, উইন্ডোজ ২০০০, লিনআক্স, উইন্ডোজ ভিসতা ইত্যাদিসহ অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

১.৬ গি.হা.-এর প্রসেসরটি এটিআই মোবালিটি রেইভন হাই-ডেফিনেশন ৩৪১০ গ্রাফিক্স, এসআরএস, প্রিমিয়াম সাউন্ড, ৪ গি. র্যা ম, ব্লুটুথ ইত্যাদি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর কী-পোর্ট এবং স্লট ৩টি ইউএসবি, ভিজিএ, অপশনাল এইচডিএমআই (HDMI) এবং ফাইভ-ইন-ওয়ান মেমরি কার্ড রিডার পর্যন্ত সংযোজন সম্ভব।

তাছাড়া এএমডি’র টিউরিয়ন নিও এক্স২ নামের একটি মোবাইল প্রসেসর রয়েছে, যা আলট্রা থিন নোটবুক-এ ব্যবহার হয়। এই প্রসেসরটির বিশেষ দিক হচ্ছে বিনোদন যা দিচ্ছে ব্লু-রে মুভির উন্নতমানের রঙ ও এর অনলাইন ত্রিমাত্রিক গেমিংয়ের ক্ষেত্রে অডিও-এর বাস্তবতা।

এইচডি (HD) ভিডিও এবং অনলাইন ত্রিমাত্রিক গেমিংয়ের ক্ষেত্রে এটি নিয়ন্ত্রিত পারফরমেন্স দেখাবে এবং বর্তমানের চাহিদাপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশনগুলো খুবই সহজে ব্যবহার করা যাবে। এতে অ্যাপ্লিকেশন পারফরমেন্স ৫৮% বেশি, ফলে কম সময়ে একাধিক কাজ করা সম্ভব হবে। পিসি কনটেন্ট নোটবুকে প্রেরণ করা, ব্যাকগ্রাউন্ডে পোর্টেবল মিডিয়া প্লেয়ার চালানোর সাথে সাথে অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করার মতো কাজগুলোও দ্রুত এবং কম সময়ে করা সম্ভব।

এই প্রসেসর দিয়ে একই সাথে সরাসরি সম্প্রচারিত টিভি দেখা এবং অন্যান্য কনটেন্ট ম্যানেজ করা, রেকর্ড করা এবং টিভি প্লেব্যাক করা সম্ভব।

এএমডি টিউরিয়ন নিও এক্স২ মোবাইল প্রসেসর ৬৭% দ্রুততর ডাউনলোড ক্ষমতা দিয়ে থাকে মুভি, ইমেজ, মিউজিক ইত্যাদির ক্ষেত্রে।

এই প্রসেসরটিও তাপ নিয়ন্ত্রক ক্ষমতসম্পন্ন, ফলে প্রসেসর ঠান্ডা থাকে এবং দীর্ঘ সময় ধরে সচল থাকে। কেননা এতে শক্তির অপচয় কম হয়।

উল্লেখ্য, এথলন-নিও এবং টিউরিয়ন নিও এক্স২ প্রসেসর দুটিই ৬৪ বিট কমপিউটিং ক্ষমতাসম্পন্ন। ফলে এতে উইন্ডোজ ভিসতা ৬৪-বিট এডিশনের সব সুবিধা এবং বিশেষ দিকসমূহ উপভোগ করা যাবে।

নোটবুকের অসুবিধাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল এর ওজন, যা সহজ বহনের ক্ষেত্রে বেশ অসুবিধাজনক। নেটবুকের অন্যতম সমস্যা ছোট স্ক্রিন, ছোট কীবোর্ড। এএমডি এই দুই দিক বিবেচনা করেই আল্ট্রাথিন নোটবুক বের করে যা একদিক দিয়ে যেমন হালকা, বহনে সুবিধা, অন্যদিক দিয়ে এর কীবোর্ড এবং স্ক্রিন নেটবুকের তুলনায় বড়।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : zamani_cse@yahoo.com

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস