Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > এক্স-মেন অরিজিনস উলভরাইন
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সৈয়দ হাসান মাহমুদ
মোট লেখা:১৪৩
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - অক্টোবর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
গেম
তথ্যসূত্র:
গেমের জগৎ
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
এক্স-মেন অরিজিনস উলভরাইন



মুভির কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে বানানো গেমগুলোর বাজারে বেশ কাটতি রয়েছে। মূল কাহিনীতে সামান্য কিছু রদবদল করে বানিয়ে নেয়া যায় গেমের কাহিনী। নতুন করে আলাদা কোনো কাহিনী বানাতে হয় না বলেই হয়তো মুভি বের হবার সাথে সাথেই রিলিজ দেয়া হয় গেমগুলো। জনপ্রিয় মুভি সিরিজ এক্স-মেনের অন্যতম চরিত্র উলভরাইনকে নিয়ে বানানো একটি গেম এক্স-মেন অরিজিনস উলভরাইন। এক্স-মেন সিরিজের ৩টি পর্ব বের হয়েছে। সিরিজটির জনপ্রিয়তার কারণে নতুন আরেকটি মুভি বানানো হয়েছে যার নাম এক্স-মেন অরিজিনস উলভরাইন। এতে উলভরাইনের উৎপত্তির কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। এক্স-মেন সিরিজের ওপরে বানানো কয়েকটি গেমের মধ্যে রয়েছে-দ্য ফল অব দ্য মিউটেন্ট, ক্লোন ওয়ারস, চিলড্রেন অব দ্য অ্যাটম, গেম মাস্টারস লিজেসি, দ্য রেভেঞ্জ অব অ্যাপোক্যালিপস, মিউটেন্ট ওয়ারস, রাইজ অব অ্যাপোক্যালিপস, এক্স-মেন লিজেন্ডস, দ্য অফিশিয়াল গেম ইত্যাদি। শুধু উলভরাইন চরিত্রের ওপরে বানানো গেমগুলোর মধ্যে রয়েছে-উলভরাইন, অ্যাডাম্যান্টিয়াম রেজ, উলভরাইনস রেজ, উলভরাইনস রেভেঞ্জ ইত্যাদি।

উইন্ডোজ, প্লেস্টেশন ৩ ও এক্সবক্স ৩৬০ এই তিন প্লাটফর্মের জন্য গেমটি ডেভেলপ করেছে র?¨vভেন সফটওয়্যার। তারা গেমটির প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় করার জন্য ব্যবহার করেছে শক্তিশালী আনরিয়েল গেম ইঞ্জিন। কনসোলের ভিন্নতায় গেমের গ্রাফিক্সে আনা হয়েছে অনেক তফাৎ এবং খেলার ধরনেও আনা হয়েছে অনেক পার্থক্য।

গেমের মূল চরিত্রে রয়েছে জেমস লোগান হাউলেট, যার কোডনেম হচ্ছে উলভরাইন। উলভরাইন নামকরণের পেছনে রয়েছে লোগানের অস্বাভাবিক শারীরিক শক্তি ও নেকড়ের ক্ষিপ্রতা ও নেকড়ের মতো নখ। লোগান জীনগতভাবে অন্যদের চেয়ে আলাদা। সে এক মিউটেন্ট যার হাতের আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে আসে হাড়ের তৈরি লম্বা ধারালো নখ , যা দিয়ে সে শক্রকে দারুণভাবে জখম করতে পারে এবং সাধারণ মানুষের চেয়ে তার শারীরিক শক্তি অনেক বেশি এবং চলাফেরায় রয়েছে দারুণ ক্ষিপ্রতা। সেই সাথে রয়েছে অতিমাত্রার ইন্দ্রিয় শক্তি ও নিজের জীবনীশক্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা, যার বলে সে তার দেহের ক্ষত খুব দ্রুত সারিয়ে নিতে পারে। গেমের আরেকটি অন্যতম চরিত্র হচ্ছে লোগানের ভাই ভিক্টর ক্রিড, যার কোডনেম স্যাবোরটুথ। তারও রয়েছে ক্ষত সারানোর ক্ষমতা, বাঘের মতো শক্তি ও ক্ষিপ্রতা, ধারালো নখ ও বাঘের মতো স্বদন্ত। তাই আদিম যুগের বাঘের (স্যাবোর) নামে তার নামকরণ করা হয়েছে।



গেমের প্রধান বিপরীত চরিত্রে রয়েছে মিলিটারির কর্নেল উইলিয়াম স্ট্রাইকার। সে কিছু দুর্ধর্ষ মিউটেন্টের সহায়তায় গড়ে তোলে টিম এক্স নামের এক বাহিনী এবং পরিচালনা করে উইপন এক্স নামের একটি প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামে তার কাজ হচ্ছে নানা রকমের মিউটেশন এক করে নতুন মিউটেন্ট বানানো, যাদের ক্ষমতা হবে অনেক বেশি। মিউটেন্টদের জীন যোগাড় করে তা দিয়ে সে নানারকম পরীক্ষানিরীক্ষা চালায়। উলভরাইনের ওপরেও সে পরীক্ষা চালায় এবং তাকে আরো শক্তিশালী এক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা চালায়। পরীক্ষা সম্পন্ন হবার পর লোগানের স্মৃতিশক্তি মুছে ফেলার চেষ্টা করে সে ব্যর্থ হয়। লোগানের কঙ্কালের সাথে যুক্ত করা হয় অ্যাডাম্যান্টিয়াম নামের প্রচ শক্ত ধাতব বস্তু যা অনেকটা স্টিলের মতো (রাসায়নিক পর্যায় সারণিতে এর অস্তিত্ব নেই)। এতে তার হাড়ের গঠন হয়ে ওঠে অনেক মজবুত। তার হাত থেকে হাড়ের মতো যে নখ বের হতো তা প্রতিস্থাপন করা হয় অ্যাডাম্যান্টিয়ামের তৈরি বিশাল, তীক্ষ্ণ, খুবই ধারালো ব্লেড দিয়ে। এতে সে হয়ে ওঠে অপরাজেয় এবং স্ট্রাইকারের দেয়া এই উপহারকেই সে ব্যবহার করবে তার অসাধু পরীক্ষানিরীক্ষার সমাপ্তি ঘটানোর কাজে। ক্ষমতালোভী স্ট্রাইকারের ইতি ঘটানোর জন্য পুরো গেমে আপনাকে লোগানের ভূমিকায় খেলতে হবে এবং মোকাবেলা করতে হবে নানারকম শত্রুর সাথে। সেই সাথে রয়েছে জটিল কিছু ধাঁধার সমাধান করার কাজ এবং দারুণ অ্যাডভেঞ্চার। মুভির বিখ্যাত অভিনেতা হিউ জ্যাকম্যানের আদলে বানানো হয়েছে গেমের চরিত্রটিকে।

গেমের অন্যান্য চরিত্র হচ্ছে-লোগানের প্রেমিকা কায়লা সিলভারফক্স, টেলিপোর্ট হবার ক্ষমতাসম্পন্ন মিউটেন্ট জন রেইথ, অস্ত্রবিদ্যায় দারুণ দক্ষ স্ট্রাইকারের ডান হাত ডেভিড নর্থ বা এজেন্ট জিরো, অক্ষয় ত্বকের অধিকারী ফ্রেড ডিউকস বা ব্লব, কাইনেটিং এনার্জি ম্যানিপুলেট করার ক্ষমতাসম্পন্ন রেমি লেবেউ বা গ্যামবিট, ওয়েড উইলসন নামের মার্সিনারি (ভাড়াটে খুনী), আকার বদল করতে পারা (শেপ শিফটার) র্যা ভেন ডার্কহোম এবং উইপন এক্সআই (এগার) বা ডেডপুল। উইপন এক্সআই হচ্ছে গেমের অন্যতম আরেকটি ভিলেন চরিত্র। কৃত্রিমভাবে বানানো এই মিউটেন্টের কাজ হচ্ছে স্ট্রাইকারের নির্দেশে অবাধ্য মিউটেন্টদের খতম করা। অনেক ধরনের ক্ষমতার মধ্যে তার রয়েছে- হিলিং ফ্যাক্টর, টেলিপোর্টেশন, অপটিক ব্লাস্ট পাওয়ার ও অ্যাডাম্যান্টিয়াম ব্লেড। এগুলো ছাড়াও আরো কয়েকটি চরিত্রে রয়েছে-ড. বলিভার ট্রাস্ক, সেন্টিনেলস নামের রোবট, লেভিয়ান্থাস, ওয়েন্ডিগো প্রটোটাইপ ইত্যাদি।

এটি মূলত অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চারে ঠাসা দারুণ গেম। এতে রয়েছে গড অব ওয়ার, ডেভিল মে ক্রাই, প্রিন্স অব পারসিয়া, টম্ব রাইডার ইত্যাদি গেমের ছাপ। গেমে রক্তারক্তি ও বীভৎতার পরিমাণ অনেক বেশি। গেমের গ্রাফিক্সের কাজ অসম্ভব সুন্দর, যা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল। উলভরাইনের পেশীবহুল শরীর, তার ব্লেডের ঝলকানি, চেহারার অঙ্গভঙ্গি, মারামারির কৌশল সব কিছুই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নিখুঁতভাবে। এই প্রথম এ সিরিজের গেমে দেয়া হয়েছে উলভরাইনের ক্ষত সারানোর ক্ষমতা। শত্রুর আঘাতে লোগানের শরীরে নানারকম ক্ষতের সৃষ্টি হবে এবং সেগুলো খুবই সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরা হয়েছে। গুলি লেগে ছিদ্র হওয়া, ম্যাচেটির কোপে কেটে যাওয়া, আগুনে পুড়ে যাওয়া, বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হওয়া সব ধরনের ক্ষত ধীরে ধীরে সেরে উঠবে এবং মাংস, পেশী ও চামড়া আবার নতুন করে উৎপন্ন হয়ে অক্ষত দেহে পরিণত হবে। এতে মারামারির কৌশলে আনা হয়েছে অনেক বৈচিত্র্য। দেয়া হয়েছে অনেক ধরনের কম্বো, যা চোখ ধাঁধানো ও বেশ আকর্ষণীয়। শত্রুপক্ষকে কেটে টুকরো করে ফেলা, আর্তচিৎকার ও মারার যাবার আগে ছটফট করার ব্যাপারগুলো খুবই বীভৎসতার সাথে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই গেমের রেটিং করা হয়েছে ১৮ বছরের গেমারদের জন্য। গেমে স্পেশ্যাল ইফেক্টের ব্যবহার বেশ লক্ষণীয়। সবদিক থেকে বিবেচনা করলে বেশ উপভোগ্য ও রোমাঞ্চকর গেমের তালিকায় এ গেমের নামটি উঠে আসবে নিঃসন্দেহে। তাই উলভরাইনের ব্লেডে শান দিয়ে শত্রুপক্ষকে কচুকাটা করার জন্য এবং স্ট্রাইকারের চাল ব্যর্থ করার জন্য কীবোর্ড ও মাউস নিয়ে বসে পড়ুন মনিটরের সামনে এবং উপভোগ করুন অসাধারণ গেমটি, যার নাম এক্স-মেন অরিজিনস উলভরাইন।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : shmt_21@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস