Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > আইজিএফের চতুর্থ বার্ষিক সভা উপলক্ষে বাংলাদেশকেন্দ্রেক ‍আলোচলা অনুষ্ঠিত
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মো: সাইফুদ্দিন খালিদ
মোট লেখা:২
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - নভেম্বর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
বাংলাদেশ
তথ্যসূত্র:
রির্পোট
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
আইজিএফের চতুর্থ বার্ষিক সভা উপলক্ষে বাংলাদেশকেন্দ্রেক ‍আলোচলা অনুষ্ঠিত

আগামী ১৫-১৮ নভেম্বর ২০০৯-এ মিসরের শার্ম আল শেখ-এ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ইন্টারনেট গর্ভনেন্স ফোরাম তথা আইজিএফের চতুর্থ বৈঠক। জাতিসংঘ এ বৈঠক আয়োজন করছে। এ বৈঠক উপলক্ষে গত ৩১ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় আইজিএফের ‘বাংলাদেশকেন্দ্রিক আলোচনা’। বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিল মিলনায়তনে এ আলোচনাসভার আয়োজন করে মাসিক কমপিউটার জগৎ, বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন তথা বিএনএনআরসি, সেন্টার ফর ই-পার্লামেন্ট স্টাডিজ এবং জেএএন অ্যাসোসিয়েটস।

এ আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন- বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহার ও বিপণন ব্যবস্থার মূল চাবিকাঠি আমেরিকা তথা আমেরিকার অর্থায়নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টারনেট করপোরেশন ফর অ্যাসাইন্ড নেমস অ্যান্ড নাম্বারস’ তথা আইসিএএনএন-এর একচ্ছত্র আধিপত্য থেকে রক্ষা করতে হবে। এজন্য ‘বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড’ তথা বিটিসিএল-কে শক্তিশালী করতে হবে, আইজিএফের ২০০৯ সালের মিসর বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি পাঠাতে হবে, .bd ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন বেসরকারিকরণের মাধ্যমে বিপণন ও বিক্রয় নিশ্চিত করতে হবে, স্থানীয়ভাবে তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইডথ ব্যবহারের চার্জ কমাতে হবে।

উল্লেখ্য, আইজিএফ মূলত সবার ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সৃষ্ট। কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের ওপর খবরদারি করার জন্য আইজিএফ সৃষ্টি হয়নি। ২০০৯ সালের আইজিএফের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘সবার জন্য ইন্টারনেট’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সংসদ সদস্য ডক্টর আকরাম হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন দোহাটেক নিউ মিডিয়ার চেয়ারম্যান এ কে এম শামসুদ্দোহা, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক-শিক্ষার্থী ফারোহা সুহ্রাওয়ার্দী, সোম কমপিউটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা হক রিনা, ডেফোডিল কমপিউটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: সবুর খান, টেলনেট কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী এসএম আলতাফ হোসেন, ঢাকাকমের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম, এইচআরসি টেকনোলজিসের ডিজিএম মাকতুবুর রহমান, নভোটেলের প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা তানভীর এহসানুর রহমান, গেটকো টেলিকমিউনিকেশন্সের ডিজিএম (অপারেশন) মো: মাহফুজুর রহমান, নেক্সটিভিটি বিডি-র প্রধান নির্বাহী সমিত আশফাকুল হক, ডি.নেটের নলেজ ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের প্রধান মুহাম্মাদ আতিকুর রহমান, ক্রিকইনফোর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর সোহেল আওরঙ্গজেব, বিডিকম অনলাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুমন আহমেদ সাবির, বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ এনামুল কবীর, এএআইটি’র নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর লুৎফর রহমান, ফাইবার এট হোমের জেনারেল ম্যানেজার ফেরদৌস আলামীন প্রমুখ।

বিএনএনআরসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমান স্বাগত বক্তব্যে ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের করণীয় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, .bd ডোমেইন ইন্টারনেটে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার মতো। কিন্তু বিটিসিএলের কারণে এর বিপণন ব্যবস্থা এতটাই বিপর্যস্ত যে, সবাই অন্যত্র গিয়ে ৩-৪ মিনিটের মধ্যে ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করে।

অনুষ্ঠানে আইজিএফের বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির সামগ্রিক অবস্থার ওপর তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রথমে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) প্রভাষক মো: সাইফুদ্দিন খালিদ আইজিএফের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ দেন। তিনি বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও করণীয় কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা দেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ বছর তড়িঘড়ি করে হলেও বাংলাদেশ অংশ নেবে এবং দেশের জনমতের ভিত্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান থেকে বিভিন্ন প্রস্তাবনা পেশ করবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ২০১০ সালে আইজিএফের পরিকল্পনা অনুযায়ী সবশেষ সভা এবং ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য চাওয়া-পাওয়ার হিসেব মেলানোর সময় রয়েছে মাত্র এক বছর।

দ্বিতীয় প্রবন্ধ উপস্থাপনে বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট তারিক বরকতুল্লাহ্ বাংলাদেশে আইসিটি আইন, প্রক্রিয়া ও ব্যবহারের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন এবং আইজিএফের আলোকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ মতামত উপস্থাপন করেন।

তৃতীয় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্পিনোভিশনের প্রধান নির্বাহী টিআইএম নুরুল কবির। তিনি সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমকে যুগপৎভাবে দায়িত্ব এবং কর্তব্য সুনির্দিষ্ট করে স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা নিতে গুরুত্বারোপ করেন।

মো: সবুর খান বলেন, ২০০৬ সালে ইন্টারনেট সোসাইটি তৈরি করার যে প্রত্যয় ছিল, তার কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি। ২০০৪-২০০৫-এ সংসদীয় কমিটিতে যা-ই আলোচিত হয়েছে, তারও কিছু বাস্তবায়িত হয়নি। ১৯৯৮ সালে আইসিটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, কিন্তু অগ্রগতি ও সাফল্য জানা যায়নি। বিসিসি’র আশানুরূপ কর্মকান্ড নেই। বাংলাদেশের পেমেন্ট গেটওয়ে না থাকায় অতি পুরনো এবং জনপ্রিয় munshiji.com বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি অতিসত্বর পেমেন্ট গেটওয়ে তৈরির ওপর জোর দেন।

ফারোহা সুহরাওয়ার্দী বলেন, আমার কাছে এক সময় মনে হতো ই-গভর্নেন্স, ইন্টারনেট গভর্নেন্স এসব বিষয়ে আমাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের মাইন্ডসেট দায়ী। কিন্তু আসলে এ প্রক্রিয়া শুরু হলে ব্যবহারকারীরা সুবিধা পাবে, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হবে তারা, যারা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এতদিন সুবিধা ভোগ করত। তাই আমলাদের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। এতে রাজনীতিবিদদের অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে নীতিমালা তৈরি করতে হবে, যাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ঢুকতে না পারে।

এ কে এম শামসুদ্দোহা বলেন, ভারত বিপুল পরিমাণ অর্থ ই-গভর্নেন্সে ব্যয় করে এবং এর সুফল নিশ্চিত করে। বাংলাদেশেরও এর সুফল নিশ্চিত করতে অধিক পরিমাণে বিনিয়োগ করতে হবে। কমপিউটার, ক্যামেরা এবং অন্য সব প্রযুক্তি আজ ইন্টারনেটে এবং কে, কখন, কিভাবে ব্যবহার করছে, তা জেনে যাওয়া সম্ভব। এ কারণে ব্যক্তিগত সব প্রযুক্তি ব্যবহারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এসএম আলতাফ হোসেন বলেন, ৩৩০টি কলসেন্টারের সব যন্ত্রপাতি সহায়তা দেবে আইএসপিগুলো। কিন্তু আমদানি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে, সরকার যথাযথ সহায়তা না দিলে এ ক্ষেত্রটি দ্রুত কাজ শুরু করা যাবে না।

ফেরদৌস আল-আমিন বলেন, সুউচ্চ ভবনগুলোতে ৮ ফুট বাই ৮ ফুটের জায়গা রাখতে হবে, যাতে ২টি টাওয়ার বসানো যায় এবং পুরোভবনে ফাইবার ক্যাবল লেআউট করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। রাজউকের নকশা অনুমোদনে সুউচ্চ ভবন নির্মাণে এ নিয়ম সংযুক্ত করতে হবে।

প্রফেসর লুৎফর রহমান বলেন, আমরা এখনো সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইসিটি বিশেষজ্ঞ তৈরি করতে পারছি না। এক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য ইউজিসি’র চেয়ারম্যানের সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা প্রয়োজন।

সুমন আহমেদ সাবির বলেন, আমাদেরকে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট রিসোর্স, লোকাল কনটেন্ট ও ইন্টারনেট পেমেন্ট গেটওয়ে সিদ্ধান্ত প্রদানকারী একটি দল গঠন করতে হবে। অনেকে আমেরিকা বা বৈদেশিক সার্ভারে ওয়েবসাইট হোস্ট করে বলে গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ বেশি খরচ হয়। কিন্তু দেশে হলে স্থানীয়ভাবে দ্রুতগতিতে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের মাধ্যমেই পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, বিটিসিএলের অবদান টেলিফোন ব্যবহার বাড়ানোর চেয়ে ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে অনেক বেশি, তাই গুরুত্ব অনুযায়ী কাজ করতে হবে। আইজিএফের সব বৈঠক ইন্টারনেটে লাইভ দেখা যায়, কিন্তু কমপিউটার জগৎ-এর অবদানে দেরিতে হলেও আজ আমাদের আলোচনা সরাসরি ইন্টারনেটে সম্প্রচারিত হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী বিটিসিএল-কে ৮০টি পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট বন্ধ করতে বলেছে, কিন্তু বিটিসিএল বললেই আমরা এভাবে তা বন্ধ করতে পারি না। এর জন্য দিকনির্দেশনা দিতে হবে। সরকার আইটিইউ-কে গুরুত্ব দেয়, কিন্তু আইজিএফ-কে গুরুত্ব দেয়নি। গত বছর ১৩৯টি দেশ আলোচনায় অংশ নেয়, কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিনিধি ছিল না। আইজিএফে বাংলাদেশের বিষয়গুলো প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করতে বিটিসিএলের মাধ্যমে ২-৩ দিন সময় লাগে। এজন্য গ্রাহক নিতে চায় না। দেখতে হবে, এই প্রক্রিয়াটি বেসরকারি খাতে করে ফেলা যায় কি না? তাহলে একদিনে এক বেলায় করা যেত।

ডি.নেটের আতিক বলেন, সরকার ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইডথের চার্জ কমানোর ঘোষণা দিলেও মোবাইল অপারেটররা এখনো অনুরূপভাবে মূল্য কমায়নি, কিন্তু আইএসপিসমূহ চার্জ কমিয়ে এনেছে। সরকারের নির্দেশনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য অলাভজনক প্রতিষ্ঠান যেন কম খরচে ইন্টারনেট সেবা নিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, আগামী জানুয়ারির মধ্যে আইটিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল হামাদান তুরে ডিজিটাল বাংলাদেশ কিভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা দেখতে আসবেন।

e-translation অ্যাক্ট বানাতে সময় লাগলে পেমেন্ট গেটওয়ের জন্য আইসিটি নীতিমালার আওতায় করা যেতে পারে। ডোমেইন নেম বাংলায় করতে হবে। প্রতিটি ভবনে ৪ ফুট বাই ৮ ফুটের একটি ফাইবার ল্যান্ডিং এবং ডিস্ট্রিবিউশন করার স্থান রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস বা আইপিআর-এর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তুলনামূলক ঐকমত্যের ধারণাপত্র সরকার দেবে। ২০১৪ সালের মধ্যে প্রতিটি স্কুলে ডিজিটাল এডুকেশন করার পরিকল্পনা আছে। কার্যকর করার কনটেন্ট বাংলায় কে করবে? প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্ট করার কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। যদি জানুয়ারিতে মধ্যমেয়াদী বাজেট পর্যালোচনা করার আগে এই কাজ করা না হয়, তাহলে প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়বে।

আলোচনাসভার সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন ইন্টারনেট গভর্নেন্সবিষয়ক বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপের সেক্রেটারি জেনারেল এবং কমপিউটার জগৎ-এর সহকারী সম্পাদক এম. এ. হক অনু। এ অনুষ্ঠানটির ভিডিও কমপিউটার জগৎ-এর নিজস্ব ওয়েবসাইটের (www.comjagat.com) মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এতে হাজারো প্রযুক্তিপ্রেমী অংশ নেন।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : professorkhalid@gmai.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস
অনুরূপ লেখা