Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > নিড ফর স্পিড-শিফট
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সৈয়দ হাসান মাহমুদ
মোট লেখা:১৪৪
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - নভেম্বর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
গেম
তথ্যসূত্র:
গেমের জগৎ
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
নিড ফর স্পিড-শিফট



রেসিং গেম বানানোয় ইলেকট্রনিক আর্টসের যতটা নাম-ডাক ছিল এখন তা আর নেই। তাদের বানানো নিড ফর স্পিড সিরিজের গেম একসময় এতটাই জনপ্রিয় ছিল যে ছেলেবুড়ো সবাই ছিল এ সিরিজের রেসিং গেমভক্ত। কিন্তু কালের বিবর্তনে মানুষের রুচির পরিবর্তন হয়, তাই একই আদলে বানানো এ সিরিজের গেমগুলোর চাহিদা আগের তুলনায় অনেকাংশে কমে গেছে। এনএফএস সিরিজের গেমগুলোর জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে অন্যান্য ভালো কিছু রেসিং গেমের আগমন। এ সিরিজের গেমগুলোকে মাত করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট সংখ্যক গেম বাজারে রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে- গ্রান টুরিজমো, ফোরজা মোটরস্পোর্টস, জিটি লিজেন্ডস, প্রজেক্ট গোথাম রেসিং, কলিন ম্যাক-রে র্যাতলি, ফর্মুলা ওয়ান, টোকা টুরিং কারস, রেস ড্রাইভার-গ্রিড, বার্ন আউট, জুইসড, মিডনাইট ক্লাব ইত্যাদি। এত রেসিং গেমের ভিড়ে এনএফএস সিরিজের গেমগুলোর জনপ্রিয়তা যখন মিটে যাবার পথে তখন ইএ গেমস রেসিং গেমের দুনিয়ায় আবার নিজেদের হারানো স্থান দখল করে নেবার জন্য মুক্তি দিয়েছে এনএফএস-শিফট। এ সিরিজের কার্বন, প্রো-স্ট্রিট, আন্ডারকভার গেমগুলোর ব্যর্থতার কালিমা মুছে দিয়ে রেসিং গেমারদের মন জয় করে গেমটি অন্যান্য রেসিং গেমের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে শীর্ষের দিকে নিজের স্থান করে নিয়েছে।

নিড ফর স্পিড সিরিজে শিফট-এর সংযোজন ইলেকট্রনিক আর্টসের জন্য বিশাল এক সাফল্য বয়ে এনেছে। গেমের গ্রাফিক্সে বাস্তবতার ছোঁয়া, নানারকমের গাড়ির সমাহার, গেমপ্লে, মেনুর ডিজাইন, নতুন কিছু রেসিং স্টাইল সবকিছু মিলিয়ে গেমটি আগের তুলনায় বেশ ভালোমানের ও অন্যান্য রেসিং গেমকে টেক্কা দেবার মতো করে বানানো হয়েছে। এ সিরিজের ১৫তম সংযোজন যৌথভাবে ডেভেলপ করেছে স্লাইটলি ম্যাড স্টুডিও ও ইএ ব্ল্যাক বক্স। এর সাথে আরো দুটি গেম আসার কথা, সেগুলো হচ্ছে- নাইট্রো ও ওয়ার্ল্ড অনলাইন। নাইট্রো মুক্তি দেয়া হবে শুধু উইই ও নিনটেন্ডো ডিএস কনসোলের জন্য। ওয়ার্ল্ড অনলাইন আন্ডারকভারের পরের কাহিনীর রেশ ধরে ম্যাসিভলি মাল্টিপ্লেয়ার অনলাইন রেসিং গেম হিসেবে মুক্তি পাবে। পুরনো গেমগুলোর মতো আর্কেড রেসিং স্টাইলের জগত থেকে বের হয়ে সিমুলেশন রেসিং গেম হিসেবে শিফট তার আবির্ভাব ঘটানোয় তা বেশি আকর্ষণীয় হয়েছে।

গাড়ি কাস্টমাইজেশন করার ব্যাপারে বেশ নতুনত্ব আনা হয়েছে। গেমে গাড়ি টিউন করার পর তা বেশ কার্যকর ফল দেখাবে। টিউন করে গাড়ির পারফরমেন্স বাড়ানোর জন্য অ্যালাইনমেন্ট, অ্যারোডায়নামিক্স, টায়ার, ব্রেক, ডিফারেনশিয়াল, গিয়ার, নাইট্রাস ইত্যাদির পরিবর্তন করা যাবে। গাড়ির তালিকায় রয়েছে পুরো ৭২টি গাড়ি, যার মধ্যে রয়েছে- বুগাত্তি ভেয়রন, মার্সিডিস-বেঞ্জ এসএলআর ম্যাকলারেন, কোয়েনিগসেগ সিসিএক্স, পাগানি জোন্ডা, করভেট জেড০৬, ফোর্ড জিটি, হোন্ডা এস২০০০, মাজডা আরএক্স-৭, নিশান স্কাইলাইন জিটি-আর ৩৪, টয়োটা এই৮৬, বিএমডব্লিউ এম৩ জিটি২ ইত্যাদি। সত্যিকারের ট্র্যাকের আদলে ও কিছু কাল্পনিক ট্র্যাকের সমন্বয়ে প্রায় ১৮টির মতো বাস্তবসম্মত রেসিং ট্র্যাক দেয়া হয়েছে। গেমের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বেশ ভালো করে গড়ে তোলা হয়েছে। পোরশে আনলিশডের পর আবার শিফটে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ইন-কার ভিউ অর্থাৎ গাড়ি ভেতর থেকে দেখার অপশন। ইন-কার ভিউতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বেশ বাস্তবতা, যা উল্লেখ না করলেই নয়। এ মোডে খেলার সময় ড্রাইভারকে গিয়ার বদল করতে দেখা যাবে, ভালো করে দেখার জন্য আয়নার দিকে মাথা সরিয়ে তাকাতে দেখা যাবে, গাড়ি ক্র্যাশ করলে ড্রাইভারের ওপরে তার প্রভাব পড়বে, যেমন- কিছুক্ষণের জন্য তার দৃষ্টি ঘোলা হয়ে যাবে, শ্বাস-প্রশ্বাস বেড়ে যাবে ইত্যাদি। এছাড়া একেক গাড়ির একেক রকম ইঞ্জিনের শব্দ, গিয়ার চেঞ্জ হবার পর শব্দের পরিবর্তন, টায়ারের ঘর্ষণের তীক্ষ্ণ আওয়াজ সবকিছু একেবারে অবিকল আসলের মতো করে তোলা হয়েছে।



গেমের নতুন কিছু সংযোজনের মধ্য রয়েছে রেসে পয়েন্ট অর্জন করে তার বিনিময়ে স্টার পাওয়া। রেস খেলার সময় ড্রিফটিং, ড্রাফটিং, ল্যাপে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকা, অন্য প্রতিযোগীকে ধাক্কা দিয়ে ট্র্যাক থেকে বের করে দেয়া, ওভারটেকিংয়ের সময় প্রতিপক্ষকে ঠেলে সরিয়ে দেয়া, স্লাইডিং না করে গতি কমিয়ে সুন্দরভাবে বাক নেয়া ইত্যাদির বিনিময়ে পয়েন্ট পাওয়া যাবে। নির্দিষ্টসংখ্যক পয়েন্ট অর্জন করার পর পাওয়া যাবে স্টার যা আপনাকে পরের টিয়ার লেভেল ও রেসিং ইভেন্ট আনলক করতে সহায়তা করবে। রেস খেলার সময় রাস্তার ওপরে রঙিন দাগ দেয়া থাকবে। সবুজ লাইন দিয়ে চলতে পারলে পাওয়া যাবে পয়েন্ট, হলুদ লাইনের ওপরে এসে গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং লাল লাইনের স্থানে গতি কমিয়ে বাক নেবার প্রস্তুতি নিতে হবে সঠিকভাবে। গেমে গাড়িগুলোকে এতটাই নিখুঁত করা হয়েছে যে দেখে বিশ্বাস হতে কষ্ট হবে তা আসল নয়। গেমের পরিবেশ এতটাই জীবন্ত করে তোলা হয়েছে, যা দেখলে মুভি দেখছেন বলে ভুল হতে পারে। উঁচু কনফিগারেশনের কমপিউটারে গেমটি খেলার সময় গেমটির গ্রাফিক্সের প্রাণবন্ততা সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা পেতে পারেন। কার মেনুফ্যাকচারিং কোম্পানিভেদে তাদের কোম্পানির গাড়ির মধ্যে রাখা রেসগুলো বেশ প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে।

গেমের ত্রুটিগুলোর মধ্যে রয়েছে ড্রিফট রেসিংয়ের কাঠিন্য, ইচ্ছেমতো গাড়ি পছন্দ না করতে পারা, গাড়ি কন্ট্রোলের সময় বেশিমাত্রার সেনসিটিভিটি ইত্যাদি। গেমের ক্যারিয়ার মোড তেমন একটা আকর্ষণীয় হয়নি। ড্রিফট রেসিংয়ের সময় বেশি পয়েন্ট তোলা বেশ কষ্টকর, কারণ গাড়ির বাক নেবার সময় গতি কমানো ও ব্রেক করার সময় ঠিক না থাকলে গাড়ি ট্র্যাকে রাখাটা মুশকিল হয়ে পড়ে। আর গাড়ি ট্র্যাকে না থাকলে পয়েন্ট পাবার প্রশ্নই আসে না। কিছু গেমে রেস খেলার সময় নির্দিষ্ট দুটি গাড়ি থেকে একটি বেছে নিতে হবে বা একটি নির্দিষ্ট গাড়ি নিয়েই খেলতে হবে। গেমে গাড়ির ক্ষমতা অনুযায়ী তা ৪টি টিয়ারে ভাগ করা হয়েছে কিন্তু উঁচু টিয়ারের গাড়ি নিয়ে নিচু টিয়ারের গাড়ির সাথে রেস খেলার ব্যবস্থা রাখা হয়নি। অর্থাৎ টিয়ার ৩ মানের গাড়ি নিয়ে টিয়ার ১ বা ২ মানের গাড়ির সাথে আপনি রেসে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : shmt_21@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস