Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > ভার্চুয়া টেনিস ২০০৯
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সৈয়দ হাসান মাহমুদ
মোট লেখা:১৪৩
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - নভেম্বর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
গেম
তথ্যসূত্র:
গেমের জগৎ
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
ভার্চুয়া টেনিস ২০০৯



রাকেট নিয়ে টেনিস বলের পেছনে ছোটাছুটি করার দৃশ্য টিভির স্পোর্টস চ্যানেলগুলোতে হরহামেশাই দেখা যায়। নামকরা সব টেনিস তারকার ট্রফি হাতে হাস্যোজ্জ্বল চেহারা পত্রিকার খেলার পাতায় প্রায়ই চোখে পড়ে। টিভিতে টেনিস খেলা দেখতে দেখতে অনেকেরই মনে আশা জাগে, আহা আমিও যদি খেলতে পারতাম। ভার্চুয়াল জগতে টেনিস খেলার ব্যবস্থা করে দিয়েছে বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান সেগা। তাদের পাবলিশ করা ভার্চুয়া টেনিস সিরিজের গেমগুলো এককথায় অসাধারণ। এ সিরিজের গেমের মধ্যে থাকে অনেক নতুন চমক, যা গেমারদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। এ সিরিজের যাত্রা শুরু হয় ভার্চুয়া টেনিস গেমের মধ্য দিয়ে, তারপর একে একে দিবতীয় ও তৃতীয় পর্ব পার করে এসে পৌঁছেছে ভার্চুয়া টেনিস ২০০৯-এ। গেমটি ডেভেলপ করেছে সুমো ডিজিটাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান। নতুন বের হওয়া এ গেমে বর্তমানের সেরা খেলোয়াড়দের চেহারা দেখা যাবে এবং সেই সাথে রয়েছে অনেক কাল্পনিক চরিত্রের সমাগম।

গেমটিতে প্রথমে আপনাকে বেছে নিতে হবে একটি টেনিস প্লেয়ারের চরিত্র, ছেলে অথবা মেয়ে। তারপর আসবে দেশ বাছাইয়ের পালা, সেখানে অনেক দেশের মাঝে খুঁজে পাবেন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকেও। দেশ ও প্লেয়ার নির্বাচনের পর আসবে প্লেয়ারের মেকআপ পর্ব। এখানে আপনি প্লেয়ারকে নিজের মতো করে সাজাতে পারবেন। উচ্চতা বাড়ানো-কমানো, স্বাস্থ্য মোটা বা চিকন, ওজন বাড়ানো-কমানো, চুলের স্টাইল, গায়ের রং, চুলের রং, দাড়ি-গোফের রং, চোখের রং সবই বদলানো যাবে। এছাড়া কিভাবে প্লেয়ার সার্ভ করবে, দাঁড়ানোর ভঙ্গি কেমন হবে এবং কোন ভঙ্গিমায় বলের ওপরে র্যাংকেট চালাবে এসবও নির্ধারণ করে দেয়া যাবে।

এতে রয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্যুর মোড- যাতে খুব সুন্দরভাবে অনলাইনে গেমারের র্যা ঙ্কিং করা হবে। এতে প্রায় ৪০টির মতো ভিন্ন ভিন্ন টেনিস কোর্ট দেয়া হয়েছে। দুবাই, সাংহাই, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি আরো অনেক স্থানে গেম খেলা যাবে। কিছু মিনি গেমও রয়েছে এতে। যার মধ্যে রয়েছে- পটশট, পাইরেট ওয়ার, ব্লক বাস্টার, কাউন্ট মেনিয়া, জু ফিডার, শপিং ড্যাশ ইত্যাদি। পটশট গেমে বোলিং খেলার পটগুলো প্লেয়ারের সামনে সাজানো থাকবে বল দিয়ে আঘাত করে তা ফেলতে হবে। পাইরেট ওয়ার গেমে জলদস্যু জাহাজ থেকে কামানের গোলা ছুড়ে দেবে, তার হাত থেকে বেঁচে বলের আঘাতে জাহাজ ধ্বংস করতে হবে। ব্লক বাস্টার গেমে ব্রিক গেমের মতো করে বলের আঘাতে রং মিলিয়ে ব্লক ভাঙতে হবে। শপিং ড্যাশে কোর্টে ছড়িয়ে থাকা জিনিসপত্র দ্রুততার সাথে সংগ্রহ করতে হবে। এভাবে বাকিগুলো খেলার ধরনে রয়েছে দারুণ বৈচিত্র্য ও আলাদা স্বাদ। মিনি গেমের লেভেল খেলে শেষ করতে পারলে পাবেন ফ্যান্সি কস্টিউম, যা কিছু চ্যারিটি ম্যাচ খেলার জন্য লাগবে। গেমে প্রতিম্যাচ খেলার পর প্লেয়ারের স্ট্যামিনা কমে যাবে তা আবার পূরণ করার জন্য এনার্জি ড্রিঙ্ক পান করতে হবে, ১ সপ্তাহের জন্য ঘরে বিশ্রাম নিতে হবে বা ২ সপ্তাহের জন্য কোথাও ছুটি কাটাতে যেতে হবে। কম স্ট্যামিনা নিয়ে কোনো ম্যাচ খেলতে গেলে ম্যাচে ইনজুরিতে পড়ার সম্ভাবনা আছে। টুর্নামেন্ট খেলার সময় সিঙ্গেল মোডে একাই সব ম্যাচ বা ডবল মোডে পার্টনারকে সাথে নিয়ে খেলা যাবে। পার্টনার লিস্টে কিছু প্লেয়ারকে যুক্ত করে তাদের সাথে যখন ইচ্ছে প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলে নিজের দক্ষতা বাড়ানো যাবে। নিজের নামের সাথে পদবী যুক্ত করার জন্য টেনিস একাডেমীতে গিয়ে কোচের সাথে বিশেষ কিছু খেলার কৌশল শিখতে হবে। প্রতি ম্যাচ বা টুর্নামেন্ট খেলার পর হাত থেকে একটি করে সপ্তাহ কাটা যাবে। কিছু সপ্তাহে কোনো খেলা থাকবে না তখন ঘরে বিশ্রাম করে বা ছুটি কাটিয়ে নিজের স্ট্যামিনা বাড়িয়ে নিতে হবে বা প্র্যাকটিস ম্যাচ বা মিনি গেম খেলে সময় কাটাতে হবে।



নতুন এ গেমে আগের গেম ভার্চুয়া টেনিস ৩-এর বেশ কিছু ফিচার পরিমার্জন করা হয়েছে। পরিমার্জিত ফিচারগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্লেয়ারের জন্মদিন এবং ফার্স্ট নেম ও লাস্ট নেম দেয়ারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; বল বয় ও বল গার্লের আবির্ভাব ঘটেছে; পরিবেশের শব্দ, দর্শকদের শোরগোল, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ইত্যাদি শব্দশৈলী যুক্ত করা হয়েছে। আরো দেয়া হয়েছে তিনরকমের ক্যামেরা ভিউ-নরমাল, ক্রাউড ভিউ ও লো-ভিউ ক্যামেরা। রোদ ঝলমলে দিনে টেনিস কোর্টে বর্ণিল আলো কচ্ছটা, মেঘাচ্ছন্ন দিনে মেঘের ছায়া ও গোধূলিবেলায় ফ্লাডলাইটের আলোতে প্লেয়ারের ছায়া সব কিছু বেশ জীবন্ত করে তোলা হয়েছে। গেমে ব্যবহার করা হয়েছে সারাউন্ডিং সাউন্ড যা দিয়ে দর্শকদের চিৎকার আলাদা আলাদাভাবে চারদিক থেকে শোনা যাবে। ক্লে-কোর্টে বলের গতি কমে যাবে আবার শক্ত মাটির কোর্টে গতি বেড়ে যাবে এবং ঘাসের ওপর বল কম উঁচুতে উঠবে। এতে তিনরকমের শট দেয়া হয়েছে- টপ স্পিন, স্লাইস ও লব। প্রত্যেক রকমের শটের আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে যা ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারলে জয়ের মুকুট সহজেই করায়ত্ত করা যাবে। নানা ক্ষমতার র্যাশকেট, ক্যাপ, টি-শার্ট, শর্টস, টেনিস কোর্ট পাস, সানগ্লাস, স্পোর্টস কেডস ইত্যাদি অনেক কিছুই কিনতে পাওয়া যাবে স্পোর্টস শপে। গেমে প্রায় এগারো জন পুরুষ ও নয় জন নারী চরিত্র নিয়ে খেলা যাবে। পুরুষ টেনিস প্লেয়ারদের তালিকায় রয়েছেন- রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল, অ্যান্ডি রডিক, অ্যান্ডি মুর, নোভাক ডকোভিচ, জেমস ব্লেক, জুয়ান কার্লোস ফেরেরো, ডেভিড ফেরার, টমি হাস, মারিয়ো অ্যানিকিক ও ডেভিড নালবানডিয়ান। নারী চরিত্রের মধ্যে রয়েছেন- আনা ইভানোভিচ, মারিয়া শারাপোভা, ড্যানিয়েলা হান্তুচোভা, লিন্ডসে ডেভেনপোর্ট, ভেনাস উইলিয়ামস, অ্যামেলি মরেসমো, আনা চাকভেতাদজে, নিকোল ভাইদিসোভা, সেভেতলানা কুজনেতসোভা। এছাড়াও এতে আনা হয়েছে টেনিসের তিনজন লিজেন্ড বরিস বেকার, স্টিফেন এডবার্গ ও টিম হেনম্যান (হেনম্যান প্লেয়ারের কোচ হিসেবে থাকবে, তাকে নিয়ে খেলা যাবে না)।

গেমের সবচেয়ে মজার দিক হচ্ছে এটি উইই কনসোলের জন্য বানানো উইই মোশন প্লাস কন্ট্রোলার সমর্থন করে। এ কন্ট্রোলারটিকে র্যািকেট যেভাবে ধরতে হয় সেভাবে ধরে সঠিক বক্রতায় টেনিস বলে আঘাত করে খেলা যাবে গেম প্যাড বা কীবোর্ডের সহায়তা ছাড়াই। গেমের ত্রুটি খুঁজে পাবেন খুবই কম। গেমের ত্রুটির তালিকায় রয়েছে- গেমপ্লে প্রথমদিকে কিছুটা নিরস মনে হবে, ক্যারেক্টারগুলোর চেহারা অনেক সময় একই মনে হবে, অনলাইন গেমিং অপশনের অনুপস্থিতি, সহজ গেমপ্লে ও বারবার জেতার পর একই ধরনের অঙ্গভঙ্গির পুনরাবৃত্তি। গেমটি খেলার জন্য ইন্টেল ডুয়াল কোর ২.৮ গিগাহার্টজের প্রসেসর, ১ গিগাবাইট র্যািম, পিক্সেল শ্রেডার ৩.০ সমর্থিত গ্রাফিক্স কার্ড (ন্যূনতম এনভিডিয়া জিফোর্স ৬৬০০ বা সমমানের এটিআই কার্ড) ও ৪ গিগাবাইট হার্ডডিস্ক স্পেস।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : shmt_21@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস