Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > উইন্ডোজ সেভেন অপারেটিং সিস্টেমে নতুন চমক
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সৈয়দ হাসান মাহমুদ
মোট লেখা:১৪৩
লেখকের নাম: সৈয়দ হাসান মাহমুদ
মোট লেখা:৫৪
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - ডিসেম্বর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
অপারেটিং সিস্টেম
তথ্যসূত্র:
প্রচ্ছদ প্রতিবেদন ২
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
উইন্ডোজ সেভেন অপারেটিং সিস্টেমে নতুন চমক



অপারেটিং সিস্টেমের বাজারে মাইক্রোসফটের পদচারণা শুরু সেই আশির দশকে। এমএস-ডস দিয়ে এরা আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হয় খুব সহজেই। বিল গেটস ও তার বন্ধু পল অ্যালেনের সমন্বিত চেষ্টায় গড়ে ওঠে মাইক্রোসফট। দ্রুত তা কমপিউটার বাজারে জনপ্রিয়তা পায়। এমএস-ডস হচ্ছে মাইক্রোসফটের প্রথম সফল পদক্ষেপ। কমপিউটার অপারেট সহজ করার লক্ষ্যে মাইক্রোসফট গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস সহযোগে বাজারে প্রথম আনে MS-DOS (MicroSoft-Disk Operating System) নামের অপারেটিং সিস্টেমের। ১৯৮৫ সালের নভেম্বরে আসা এই সিস্টেমটি তখনকার বাজারে চলমান অপারেটিং সিস্টেম ম্যাক ওএস-এর একক আধিপত্যের বাঁধ ভেঙ্গে দিয়েছিল। মাইক্রোসফটের এই অপারেটিং সিস্টেম সবার সামনে নতুন এক জানালা খুলে কমপিউটিংয়ের জগতে দৃশ্য অবলোকনে সহায়তা করায় বিল গেটস এই অপারেটিং সিস্টেমের নাম রাখেন উইন্ডোজ। ধীরে ধীরে মাইক্রোসফটের এই সফল অগ্রযাত্রায় মাইলফলক হিসেবে পাওয়া যায় উইন্ডোজ ৯৫, উইন্ডোজ ৯৮, উইন্ডোজ ২০০০, উইন্ডোজ মিলেনিয়াম (এমই), উইন্ডোজ নিউ টেকনোলজি (এনটি), উইন্ডোজ এক্সপি (এক্সপেরিয়েন্স), উইন্ডোজ ভিসতা ও উইন্ডোজ সেভেন।

নামকরণ

আগে উইন্ডোজ যে বছরে বের করা হয়েছিল সে বছরের নামানুসারে তার নাম রাখা হয়েছিল। যেমন- উইন্ডোজ ৯৫ বের হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। একইভাবে নামকরণ করা হয়েছে ৯৮, ২০০০ ও মিলেনিয়ামের। এক্সপি নামটি এসেছে এক্সপেরিয়েন্স থেকে। কারণ, এক্সপির ইউজার ইন্টারফেস নতুন এক অভিজ্ঞতার জন্ম দেবে বলে মনে করা হয়েছিল। হয়েছেও তাই। ভিসতা বানানো হয়েছিল খুবই আকর্ষণীয় করে। তাই তার নাম দেয়া হয়েছিল ভিসতা, যার অর্থ হচ্ছে দীর্ঘ, সঙ্কীর্ণ দৃশ্য। যেমন- দুই পাশে বৃক্ষশোভিত বীথি। কিন্তু হঠাৎ করে উইন্ডোজ সেভেন নামটা বেছে নিল কেনো মাইক্রোসফট? এই প্রশ্নটা সবার মনে জাগাটাই স্বাভাবিক। অনেকেই হয়ত ভাবছেন, এটি মাইক্রোসফটের রিলিজ দেয়া ৭ম উইন্ডোজ। তাই এর নাম দেয়া হয়েছে উইন্ডোজ সেভেন। আসুন দেখা যাক, আসলে কিসের ভিত্তিতে উইন্ডোজটির এই নাম রাখা হয়েছে। যদি উইন্ডোজের সিরিজের কথা চিন্তা করে সাজানো হয় তবে তালিকাটি হওয়া উচিত- ০১. উইন্ডোজ, ০২. উইন্ডোজ ২, ০৩. উইন্ডোজ ৩, ০৪. উইন্ডোজ ৯৫, ০৫. উইন্ডোজ ৯৮, ০৬. উইন্ডোজ এমই, ০৭. উইন্ডোজ এক্সপি, ০৮. উইন্ডোজ ভিসতা ও ০৯. উইন্ডোজ সেভেন। নাহ! তাহলে তো এই আদলে নামকরণটা ঠিক হচ্ছে না। কারণ এই তালিকা অনুযায়ী উইন্ডোজ সেভেনের নাম উইন্ডোজ নাইন হবার কথা! আসলে উইন্ডোজের ভার্সনের তালিকা করা হয়েছে তাদের NT Kernel-এর ভার্সনের ওপরে ভিত্তি করে। উইন্ডোজ বানানোর প্রথম কারনেলটি ছিল এনটি ৩.৫১। এ কারনেলের ওপর ভিত্তি করে প্রথমদিকের কয়েকটি অপারেটিং সিস্টেম বানানো হয়েছিল। এরপর এনটি ৪.০-এর ওপর ভিত্তি করে বানানো হয়েছিল উইন্ডোজ ৯৮ এবং এভাবে উইন্ডোজ ২০০০, এক্সপি, ভিসতা ও সেভেন বানানো হয়েছে যথাক্রমে এনটি ৫.০, এনটি ৫.১, এনটি ৬.০ এবং এনটি ৭.০ কারনেলের ওপর। এভাবেই এনটি বা নিউ টেকনোলজি কারনেল ভার্সন ৭.০-এর কারণে নতুন এ উইন্ডোজের নাম দেয়া হয়েছে উইন্ডোজ সেভেন।

উইন্ডোজ সেভেনের আবির্ভাব



মাইক্রোসফটের একটি অপারেটিং সিস্টেমভিত্তিক প্রজেক্ট, যার নাম ব্ল্যাককম্ব। এর উন্নয়ন করা হচ্ছিল তৎকালীন বাজারে বিদ্যমান উইন্ডোজ এক্সপি ও উইন্ডোজ সার্ভার ২০০৩-কে আরো উন্নত রূপ দিতে। ব্ল্যাককম্বের কাজ বেশ ভালোই এগিয়ে ছিল, কিন্তু তার মাঝে রিলিজ করা হয় নতুন আরেকটি উইন্ডোজ, যার নাম ছিল লংহর্ন। লংহর্নকে বলা হয় ভিসতার প্রি-রিলিজ ভার্সন। এতে ব্ল্যাককম্বের বেশ কিছু ফিচার ছিল। ২০০৬ সালে ব্ল্যাককম্ব প্রজেক্টটির কোডনেম বদলে রাখা হয় ভিয়েন্না এবং ২০০৭ সালে ভিয়েন্নার নাম রাখা হয় উইন্ডোজ সেভেন। উইন্ডোজ সেভেন প্রথম রিলিজ হয় ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে, যার Build নম্বর ছিল ৬৫১৯। এটি ছিল একটি বেটা ভার্সন, যাতে অনেক ফিচার ছিল না। গত ২২ অক্টোবর বের হয়েছে এর ফাইনাল ভার্সন ৬.১ যার বিল্ড নাম্বার হচ্ছে ৭৬০০। হাইব্রিড কারনেলের ওপরে বানানো নতুন এ উইন্ডোজটি IA-32, x86-64 প্লাটফর্ম সাপোর্ট করে। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, তাদের পরবর্তী অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ এইট বের হবে ২০১২ সালে।

উইন্ডোজ সেভেনের নতুন ফিচারগুলো

উইন্ডোজ সেভেনের নতুন ফিচারগুলোর মধ্যে রয়েছে- ম্যাক্সিমাম ফিজিক্যাল মেমরি, ৩২-বিট ও ৬৪-বিট ভার্সন, অনেক ফিজিক্যাল সিপিইউ সাপোর্ট, ব্যাকআপ ও রিস্টোর সেন্টার, রিমোট ডেস্কটপ, হোম গ্রুপ, মাল্টিপল মনিটর সাপোর্ট, ফাস্ট ইউজার সুইচিং, অ্যানিমেটেড ডেস্কটপ ওয়ালপেপার, ডেস্কটপ উইন্ডো ম্যানেজার, উইন্ডোজ মোবিলিটি সেন্টার, উইন্ডোজ অ্যারো, ক্যালকুলেটর, ডিরেক্টএক্স ১১, ডোমেইন জয়েন, গ্যাজেট, গেমস এক্সপ্লোরার, ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ৮, ইন্টারনেট টিভি, জাম্প লিস্ট, লাইব্রেরি, লাইভ টাস্কবার প্রিভিউ, মাল্টিপ্লেয়ার গেমস, পেইন্ট, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, পিক, পিন, শেক, স্লিপ অ্যান্ড রিজুউম, স্ন্যাপ, স্নাইপিং টুলস, স্টিকি নোটস, ট্যাবলেট পিসি, এনিটাইম আপগ্রেড, ফায়ারওয়াল, ডিফেন্ডার, কানেক্ট নাউ, ইজি ট্রান্সফার, এক্সপেরিয়েন্স ইনডেক্স, লাইভ অ্যাসেনসিয়ালস, মাল্টি-টাচ, প্রিমিয়াম গেমস, উইন্ডোজ মিডিয়া সেন্টার, উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার ১২, রিমোট মিডিয়া এক্সপেরিয়েন্স, এনক্রিপ্টিং ফাইল সিস্টেম, লোকেশন অ্যাওয়ের প্রিন্টিং, প্রেজেন্টেশন মোড, উইন্ডোজ সার্ভার ডোমেইন মিডিয়া জয়েনিং, উইন্ডোজ এক্সপি মোড, সফটওয়্যার রেস্ট্রিকশন পলিসি, অ্যারো গ্লাস রিমোটিং, মাল্টিমিডিয়া রিডিরেকশন, অডিও রেকর্ডিং, মাল্টি-ডিসপ্লে, টার্মিনাল সার্ভিস, ফেডেরেটেড সার্চ, অ্যাপলকার, বিটলকার, ড্রাইভ এনক্রিপশন, ব্রাঞ্চক্যাশ ডিস্ট্রিবিউটেড ক্যাশ, ডিরেক্ট অ্যাকসেস, ইউনিক্সভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশনের জন্য সাবসিস্টেম, মাল্টিলিঙ্গুয়াল ইউজার ইন্টারফেস, ভার্চুয়াল হার্ডড্রাইভসহ আরো অনেক কিছু। বোঝার সুবিধার্থে উল্লেখযোগ্য ফিচারগুলো ক্যাটেগরিতে ভাগ করে আলোচনা করা হলো। এতে কোনটি কী কাজের জন্য ব্যবহার করা যাবে, তা অনুধাবন করা সহজ হবে।

উইন্ডোজ সেভেনের ফিচার

কমিউনিকেশন ফিচার

ডোমেইন জয়েন বা ডোমেইন যোগ করা :

কোনো কোম্পানি যদি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে থাকে এবং আপনি সেই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হয়ে সেই নেটওয়ার্কে নিজের পিসি সংযুক্ত করতে চান, তবে এ অপশনটি আপনার দারুণ কাজে লাগবে। অনেকটা টেলিকমিউনিকেটিং ব্যবস্থার মতো ব্যাপার এটি। এক্ষেত্রে অফিসে যে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়, তার ডোমেইনের সাথে আপনার পিসিকে সংযুক্ত করতে হবে। এ কাজ উইন্ডোজ সেভেনে নিমেষেই করা সম্ভব ডোমেইন জয়েন ফিচারের সাহায্যে। খুব সহজেই নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া যাবে এবং সাথে পাওয়া যাবে সুরক্ষা ব্যবস্থা ও দ্রুতগতির সেবা।

ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ৮ :



মাইক্রোসফট তাদের ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের নতুন এ সংস্করণটিকে সবচেয়ে দ্রুততর, সহজতর ও সুরক্ষিত ব্রাউজার বলে মনে করছে। আগের ভার্সনগুলোর তুলনায় এতে আনা হয়েছে বেশ কিছু পরিবর্তন, যা বেশ লক্ষণীয়। নতুনভাবে যোগ করা হয়েছে ইনস্ট্যান্ট সার্চ। সার্চ করার গতি আগের তুলনায় অনেকাংশে বাড়ানো হয়েছে সেই সাথে ইন্টারনেট থেকে আসা ক্ষতিকর কিছু ওয়ার্ম থেকেও সুরক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে যুক্ত করা হয়েছে এক্সেলারেটর নামের এক সুবিধা, যাতে করে কোনো ঠিকানাকে খুব দ্রুত ম্যাপিং, ডিফাইনিং বা ফরওয়ার্ড করা সম্ভব হবে। ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে দেয়া আছে বিং নামের নতুন সার্চ ইঞ্জিন, তবে ইচ্ছে করলেই তা বদলে গুগল, ইয়াহু, আস্ক, উইকিপিডিয়া ইত্যাদি যুক্ত করা যাবে।



হোম-গ্রুপ :

ঘরে রাখা অন্য কমপিউটারগুলো থেকে ডাটা শেয়ার করার জন্য বিশেষ সুবিধা দেবে হোম গ্রুপ নামের এ ফিচার। ঘরে, সাইবার ক্যাফেতে, নেটওয়ার্কে যুক্ত বন্ধুর সাথে বা অফিসের কাজে ও এক পিসি থেকে অন্য পিসিতে ডাটা ট্রান্সফার করার ক্ষেত্রে এ ফিচারটি দারুণ কাজে দেবে। এ ফিচারের সাহায্যে ইউএসবিতে কানেক্ট করা প্রিন্টারও শেয়ার করা যাবে। হোম গ্রুপে কানেক্ট করা পিসিগুলোতেও উইন্ডোজ সেভেন ইনস্টল করা থাকতে হবে।

এছাড়া উইন্ডোজ কানেক্ট নাউ ফিচারের সাহায্যে খুব সহজেই পিসিকে তারবিহীন নেটওয়ার্কের আওতায় আনা যাবে।

যেমন কোন ওয়াইফাই রাউটার সংযোগ করতে গেলে তা সংযুক্ত করার পদ্ধতি খুব সহজভাবে পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হবে এবং রাউটারটি উইন্ডোজের সাথে কম্পাটিবল কি না, তা পরীক্ষা করে দেখবে নিজ থেকেই। টাস্কবারে থাকা আইকনে দেখা যাবে সব নেটওয়ার্ক যেমন- ওয়াইফাই, মোবাইল ব্রডব্যান্ড, ডায়াল-আপ বা করপোরেট ভিপিএন। তাই নেটওয়ার্কিংয়ের ক্ষেত্রে উইন্ডোজের সেভেনের কোনো জুড়ি নেই। মিডিয়া সেন্টারের বদৌলতে অনায়াসে দেখা যাবে ইন্টারনেট টিভি, যা যোগাযোগের নতুন এক মাধ্যম সৃষ্টি করেছে।

ডেস্কটপ অ্যানহ্যান্সমেন্ট ফিচার

নতুন আকর্ষণীয় ওয়ালপেপার :



উইন্ডোজ সেভেনের সাথে মানানসই হাই রেজ্যুলেশনের কিছু ওয়ালপেপার দেয়া আছে, যার প্রতিটিই চমৎকার। মনোরম সব প্রাকৃতিক দৃশ্য, পশুপাখি ও অন্যান্য বিষয়ের যেসব ওয়ালপেপার দেয়া আছে, তার বাইরে আরো ওয়ালপেপার চাইলে তা মাইক্রোসফটের ওয়েবসাইট থেকে নামিয়ে নেয়া যাবে। অন্যান্য সাইট থেকেও পছন্দমতো ওয়ালপেপার নামানো যাবে। কিন্তু সেভেনের ওয়ালপেপারগুলোর সবই ভালোমানের। এগুলো অতিরঞ্জিত নয়, যাতে চোখের ক্ষতি হয় বা দেখতে একঘেয়ে লাগে।

সাইডবার গ্যাজেট :

ডেস্কটপে সাইডবার রাখার ব্যবস্থা উইন্ডোজ ভিসতাতেও ছিল, তবে সেভেনে কিছুটা পরিবর্তন করে তা আরো সুন্দর ও হাল্কা করা হয়েছে। সেভেনের ডিফল্ট গ্যাজেটগুলোর মাঝে রয়েছে- ক্যালেন্ডার, অ্যানালগ ক্লক, সিপিইউ মিটার, কারেন্সি, ফিড হেডলাইনস, পিকচার পাজল, স্লাইডশো, ওয়েদার ইত্যাদি। তবে গ্যাজেট গ্যালারির নিচের লিঙ্ক থেকে ব্রাউজ করে আরো অসংখ্য গ্যাজেট নামানো যাবে, যেমন- ইন্টারনেটের গতি দেখার জন্য নেটওয়ার্ক মিটার, হার্ডডিস্কের ড্রাইভগুলোর অবস্থা দেখার জন্য ড্রাইভ ইনফো, নামাজের সময়সূচি জানার জন্য প্রেয়ার টাইমার, ডিকশনারি, এক্সট্রা সার্চবার, ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ক্লক ইত্যাদি।

ভিন্নধর্মী টাস্কবার :

এক্সপিতে ব্যবহার করা ক্যুইক লাঞ্চ অপশনটি টাস্কবারে বাদ দেয়া হয়েছে। টাস্কবারে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, ফ্লোডার বা প্রোগ্রাম উইন্ডো, মিডিয়া প্লেয়ারের আইকন দেয়া আছে। এখানে ক্লিক করা মাত্রই এ প্রোগ্রাম চালু হবে। টাস্কবারে অন্যান্য প্রোগ্রাম যেমন- নেরো, লাইভ মেসেঞ্জার, এমএস ওয়ার্ড, অন্য ব্রাউজারের আইকন যোগ করা যাবে। টাস্কবারের ডানপাশে ইন্টারনেট কানেকশনের অবস্থা, নোটিফিকেশন, আপডেট সেন্টার, ভলিউম কন্ট্রোলার, সময় ও তারিখ ইত্যাদি দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। একদম ডানে দেয়া হয়েছে শো ডেস্কটপ নামের আইকন। এ আইকনের ওপরে কার্সর রাখলে ওপেন করা সব উইন্ডো ট্রান্সপারেন্ট হয়ে ডেস্কটপ দেখা যাবে ও ক্লিক করলে সব প্রোগ্রাম মিনিমাইজ হয়ে যাবে এবং ডেস্কটপ চলে আসবে।

ড্র্যাগ ফিচার :

ড্র্যাগ করার অর্থ হচ্ছে মাউসের কার্সরের বাটন চেপে রেখে কোনো কিছুকে টেনে আনা বা সরিয়ে নেয়া। এটি অনেক আগে থেকেই সব উইন্ডোজ ভার্সনেই আছে, কিন্তু সেভেনে তাকে দেয়া হয়েছে অন্য এক রূপ। এখানে কোনো ছোট আকারের উইন্ডোকে ম্যাক্সিমাইজ বা পর্দাজুড়ে আনতে হলে ম্যাক্সিমাইজ বাটনে ক্লিক করার পরিবর্তে উইন্ডোটিকে ড্র্যাগ করে মনিটরের উপরের অংশ পর্যন্ত নিয়ে গেলেই হবে। আবার পাশাপাশি দুটি উইন্ডো আধাআধি করে উলম্বভাবে দেখতে হলে কোনো উইন্ডোকে মনিটরের যেকোনো পাশে টেনে আনলেই তা নিমেষেই হয়ে যাবে, একে বলা হয় স্ন্যাপ। অনেক উইন্ডো খোলা থাকা অবস্থায় যদি কারো নির্দিষ্ট একটিকে অ্যাকটিভ রেখে বাকিগুলো মিনিমাইজ করতে হয়, তবে নির্দিষ্ট উইন্ডোটিকে ধরে একটু নাড়া বা ঝাকুনি দিলে অন্য সব প্রোগ্রাম মিনিমাইজ হয়ে যাবে।



থিম :

ওয়ালপেপার বান্ডলের সাথে মিল রেখে হাল্কা রঙের কিছু থিম দেয়া হয়েছে, যা সহজেই নজর কাড়ে। নিজের ইচ্ছেমতো থিমগুলোর রঙের পরিবর্তন এবং উইন্ডোর ট্রান্সপারেন্সি নির্ধারণ করা যাবে। অ্যারো থিম বান্ডলের অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি থিম হচ্ছে- উইন্ডোজ সেভেন, আর্কিটেকচার, ক্যারেক্টার, ল্যান্ডস্কেপ, নেচার, সিন ইত্যাদি। কয়েকটি থিম উইন্ডোজ সেভেনে লুকানো থাকে, যা উইন্ডোজ ফোল্ডার থেকে খুঁজে বের করে অ্যাকটিভ করে নিতে হয়। হিডেন থিমগুলো হচ্ছে- অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সাউথ এশিয়া, ইউএসএ ও ইউকে।

এন্টারটেইনমেন্ট ফিচার

গেমস এক্সপ্লোরার :



সাধারণমানের গেমার থেকে শুরু করে হার্ডকোর গেমার পর্যন্ত সবার জন্য রয়েছে গেম ব্রাউজ করার সুন্দর ব্যবস্থা। এতে সার্চ বক্সে গেমস টাইপ করলেই সব গেমের তালিকা পাওয়া যাবে, তা থেকে পছন্দমতো গেমটি বেছে নেয়া যাবে সহজেই। সেই সাথে গেমগুলোর রেটিং, সিস্টেম রিকোয়ারমেন্ট ও আপডেট দেখার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কোনো গেম পিসিতে ইনস্টল করার সাথে সাথেই তা এ তালিকায় সংযুক্ত হবে। উইন্ডোজ সেভেনের নিজস্ব কিছু গেমের মধ্যে রয়েছে- ফ্রি সেল, হার্টস, মাইনসোয়েপার, পার্পল প্লেস, সলিটেয়ার, স্পাইডার সলিটেয়ার, মাহজং টাইটানস, চেস টাইটানস ইত্যাদি।

মাল্টিপ্লেয়ার গেম :

সাধারণ গেমের পাশাপাশি উইন্ডোজ সেভেনে রয়েছে অনলাইন গেমের ব্যবস্থা। এতে আপনি অন্যান্য গেমারের সাথে অনলাইনে গেম খেলার সুযোগ পাবেন এবং নিজের জন্য আলাদা স্কোর বানিয়ে তা সংরক্ষণ করতে পারবেন। এছাড়া দারুণ সুন্দর ত্রি-মাত্রিক এ গেমগুলো ছোটদের কাছে যতটা ভালো লাগবে, বড়দের কাছেও তার চেয়ে কম লাগবে না। অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার গেমের তালিকায় রয়েছে ইন্টারনেট ব্যাকগ্যামমোন, চেকারস, স্পেডেস ইত্যাদি, তবে তা ভিসতা আল্টিমেট, প্রফেশনাল ও হোম প্রিমিয়াম ভার্সনে পাওয়া যাবে।

উইন্ডোজ মিডিয়া সেন্টার :

উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে মিডিয়া সেন্টারের সংযোজন মাইক্রোসফটের বিশাল এক অবদান। মিডিয়া সেন্টার ব্যবহার করে পাওয়া যাবে দারুণ বিনোদন। এতে লাইভ টিভি দেখা যাবে। শুধু তাই নয়, এতে টিভি থেকে অনুষ্ঠান রেকর্ড করার ব্যবস্থাও আছে, সেই সাথে রয়েছে লাইভ টিভি পজ করার সুবিধা। অনলাইনে বিনোদনের পাশাপাশি এতে রয়েছে ফটো অ্যালবাম ব্রাউজ করার অভিনব পদ্ধতি। টাচ স্ক্রিন মনিটর ব্যবহার করলে এ প্রোগ্রাম রিমোট, কীবোর্ড বা মাউসের সাহায্য ছাড়া হাত দিয়েই অপারেট করা যাবে। এতে রয়েছে ডিজিটাল ও হাই ডেফিনিশন মুভি দেখার সুবিধা ও সেই সাথে থ্রিজিপি, এএসি, এভিসি, এইচডি, ডিআইভিএক্স, এমওভি, এক্সভিড ইত্যাদি আরো অনেক ফরমেট চালানোর ব্যবস্থা। ইন্টারনেট টিভি দেখার ব্যবস্থাটাও বেশ চমৎকার। মিডিয়া সেন্টার সাপোর্টেড মনিটর হলে তবেই মিডিয়া সেন্টারের আসল মজা উপভোগ করা যাবে, নতুবা কিছু অপশন ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। হোম থিয়েটার হিসেবে কাজ করার জন্য এ প্রোগ্রামের কোনো জুড়ি নেই।

উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার ১২ :

সঙ্গীতপ্রেমীদের কথা মাথায় রেখে গান শোনার জন্য ও মুভি দেখার জন্য বিশেষভাবে এ মিডিয়া প্লেয়ারের উন্নতি সাধন করা হয়েছে। মিডিয়া প্লেয়ারের নতুন এ সংস্করণ আগের চেয়েও অনেক বেশি অডিও ও ভিডিও ফরমেট সাপোর্ট করে। বিভিন্ন ফরমেট সাপোর্টের পাশাপাশি এতে রয়েছে আরো অনেক সুবিধা। এতে অডিও সিডি অনেক ফরমেটে রিপ করার ব্যবস্থা রয়েছে। তাই আলাদা অডিও রিপার সফটওয়্যার ইনস্টল করার ঝামেলা নেই। এতে রয়েছে ডিভিডি প্লেব্যাক। তাই আলাদা ডিভিডি প্লেয়ারের প্রয়োজন নেই। প্লেলিস্ট বানানো ও মিউজিক লাইব্রেরি বানানোর দারুণ ব্যবস্থা রয়েছে এতে। এ প্লেয়ার দিয়ে অডিও সিডি বা ডিভিডি বার্ন করা যাবে খুব সহজে কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমেই।

রিমোট মিডিয়া স্ট্রিমিং :

রিমোট মিডিয়া স্ট্রিমিং সুবিধার ফলে নিজের পিসির গান শোনার জন্য পিসির সামনে না থাকলেও চলবে। অন্য কোন পিসি, যা নিজ পিসির সাথে হোমগ্রুপে যুক্ত আছে তার সাহায্যে নিজের পিসির মিডিয়া প্লেয়ার ১২-এর প্লেলিস্ট থেকে সহজেই গান বাজানো যাবে। এজন্য নিজ পিসির প্লেয়ারে গানের তালিকা বানিয়ে নিতে হবে, যাতে তা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।

ডিভিডি মেকার :

নানা ফরমেটের ভিডিও ফাইল থেকে ডিভিডি বার্ন করার জন্য বেশ প্রয়োজনীয় এ ফিচারটি। হ্যান্ডিক্যামে ধারণ করা ভিডিও থেকে বা ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবির স্লাইড-শো মুভি নিয়ে ডিভিডি বানানোর জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে এতে। ডিভিডি মেনু বানানো ও তা আরো আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করার জন্য রয়েছে বেশ কিছু টেমপ্লেট।

এন্টারটেইনমেন্টের ক্ষেত্রে উইন্ডোজ সেভেনে আরো যুক্ত করা হয়েছে প্লে টু নামের ফিচার, যার সাহায্যে রাইট ক্লিক করে নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা অন্য পিসি, টিভি, স্টেরিও ডিভাইস বা এক্সবক্স কনসোলে গান শোনা যাবে বা মিডিয়া প্লেয়ারের প্লে লিস্টে থাকা ট্র্যাকগুলো চালানো যাবে। সহজ কথায় এ ফিচারটির সাহায্যে নিজেকে ডিসকো জকি বা ডিজে হিসেবে আবিষ্কার করা যাবে।

পারফরমেন্স ফিচার

ডিরেক্টএক্স ১১ :



ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ও গ্রাফিক্স প্রসেসিং হার্ডওয়্যারের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ডিরেক্টএক্সের জুড়ি নেই। উইন্ডোজে গেমের পরিপূর্ণ স্বাদ পাবার জন্য একে আরো শক্তিশালী করা হয়েছে। গেমের পরিবেশে নিখুঁত বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে অসাধারণ এ গ্রাফিক্স টেকনোলজি। গেমিং ছাড়া অন্যান্য কাজেও পাওয়া যাবে দারুণ ভিজ্যুয়াল পারফরমেন্স।

৬৪-বিট সাপোর্ট :

উইন্ডোজ এক্সপি ও ভিসতার মতো উইন্ডোজ সেভেনে ৩২-বিট ও ৬৪-বিট উভয় ভার্সনই পাওয়া যায়। অনেকেই ৩২-বিট ও ৬৪-বিট অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে বিপাকে পড়েন, আবার অনেকে মনে করেন ৩২-বিট থেকে ৬৪-বিট অনেকগুণ ভালো পারফরমেন্স ও দ্রুতগতিসম্পন্ন হয়। মূলত এ দুটোর মধ্যে তেমন কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। যখন পিসির রাম ৪ গিগাবাইট বা তার বেশি হয় তখন ৩২-বিট অপারেটিং সিস্টেম তা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এছাড়া ৩২-বিট অপারেটিং সিস্টেমে একসাথে অনেক অ্যাপ্লিকেশন চালু করে কাজ করলে পিসি অনেক স্লো হয়ে যায়। কিন্তু ৬৪-বিট অপারেটিং সিস্টেম ৪ গিগাবাইটের অধিক র্যা ম নিয়ন্ত্রণ ও একসাথে অনেক অ্যাপ্লিকেশন চালাতে বেশ কার্যকর।

অ্যাকশন সেন্টার :

উইন্ডোজে মাঝে মাঝে বিভিন্ন পারফরমেন্স ও সিকিউরিটি সমস্যা দেখা দেয়, তা ব্যবহারকারীকে প্রদর্শন করার জন্য উইন্ডোজের নিজস্ব একটি ব্যবস্থা রয়েছে। উইন্ডোজ সেভেনে সেই ব্যবস্থার নাম রাখা হয়েছে অ্যাকশন সেন্টার। উইন্ডোজ এক্সপি ও ভিসতাতেও এধরনের ব্যবস্থা ছিল, কিন্তু তা বেশ বিরক্তিকর ছিল। কারণ, যখন তখন সেটি নোটিফিকেশন দেখাতো। এতে করে ব্যবহারকারীর মনে বিরক্তির উদ্রেক হতে বাধ্য, কিন্তু অ্যাকশন সেন্টারকে এমনভাবে বানানো হয়েছে যাতে করে এটি ব্যবহারকারীকে বার বার নোটিফিকেশন দেখিয়ে বিরক্ত না করে এবং শুধু খুবই প্রয়োজনীয় ব্যাপারে নোটিফিকেশন দেখাবে। এছাড়া এটির নোটিফিকেশনগুলো টাস্কবারের ডানে একটি ছোট্ট ফ্ল্যাগ চিহ্নিত আইকনে জমা থাকবে, ব্যবহারকারী যখন ইচ্ছে তখন সেখানে ক্লিক করে সেগুলো দেখতে পারবে। সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারবে। এতে করে নিয়মিত সমস্যাগুলো সমাধান করে রাখলে পিসি খুবই কার্যক্ষম ও মসৃণ গতিতে চলবে।

পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট :

উইন্ডোজ সেভেনের মতো এতো ফিচার সম্বলিত অপারেটিং সিস্টেম ল্যাপটপের ব্যাকআপ ব্যাটারি পাওয়ারের সাহায্যে চালাতে গেলে ব্যাটারির চার্জ যে খুব দ্রুত ফুরিয়ে যাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এই ব্যাপারটি মাথায় রেখে উইন্ডোজ সেভেনে পাওয়ার মানেজমেন্ট নামে একটি ফিচার রাখা হয়েছে। এর ফলে উইন্ডোজ ডিভিডি চালানোর সময় বেশি পাওয়ার ব্যবহার করবে না, যখন ল্যাপটপ ব্যবহার করা হচ্ছে না তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিসপ্লে স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমে যাবে, ল্যাপটপের যেসব পোর্টগুলো ব্যবহার হচ্ছে না, সেগুলো উইন্ডোজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে দেবে, যার ফলে পাওয়ার সেভ হবে। এছাড়া এতে সংযোজন করা হয়েছে আগের তুলনায় আরো কার্যকরি ও নির্ভুল ব্যাটারি লাইফ ইন্ডিকেটর। সেই সাথে পাওয়ার সেভ করার জন্য আছে দু’টি ডিফল্ট পাওয়ার প্ল্যান। ব্যবহারকারী ইচ্ছে করলে তার পছন্দ ও প্রয়োজন মতো যেকোনো একটি পাওয়ার প্ল্যান ব্যবহার করতে পারবেন।

এছাড়া উইন্ডোজ সেভেনের পারফরমেন্স উন্নত করা হয়েছে, যাতে করে- উইন্ডোজ স্লিপ, রিজ্যুম ও ওয়্যারলেস ইন্টারনেটের সাথে খুব দ্রুত সংযুক্ত হতে পারে। উইন্ডোজের সার্চ অপশন ও আগের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর ও দ্রুততর। এছাড়া উইন্ডোজ সেভেনে ইউএসবি পোর্টে কোনো ডিভাইস সংযোজন করলে, তা খুব দ্রুত ব্যবহারের উপযোগী হয়ে যায়। যদি কোনো ডিভাইস প্রথম বারের মতো লাগানো হয় তাহলে এর ড্রাইভার ও খুব দ্রুত ইনস্টল হয়ে যায়। পারফরমেন্স ক্যাটেগরিতে উল্লেখ করার মতো আরো কিছু ফিচার হচ্ছে রেডি বুস্ট, স্টার্ট-আপ রিপেয়ার, সিস্টেম রিপেয়ার এবং রিস্টোর, উইন্ডোজ এনিটাইম আপডেট, উইন্ডোজ এক্সপেরিয়েন্স ইন্ডেক্স ও উইন্ডোজ ট্রাবলশূটিং।

সেফটি ও সিকিউরিটি ফিচার

ব্যাকআপ ও রিস্টোর :



উইন্ডোজ সেভেনে ব্যাকআপ রাখার প্রক্রিয়াকে আরো সহজ ও কার্যকর করা হয়েছে। এখন ব্যবহারকারী ইচ্ছে করলে নির্দিষ্ট কোনো ফাইল বা ফোল্ডারের ব্যাকআপ রাখতে পারবে। ধরুন কোনো ব্যবহারকারীর ডকুমেন্ট ও পিকচার ফোল্ডারের ফাইলগুলো একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর ব্যাকআপ রাখতে হবে। এক্ষেত্রে উইন্ডোজের এই ফিচারটি ব্যবহার করে সেই ফোল্ডারে লোকেশন দেখিয়ে দিলে ও সেই ফোল্ডারের ব্যাকআপ কোথায় রাখা হবে, তার জায়গা ঠিক করে দিলে একটি বেঁধে দেয়া সময় পর পর উইন্ডোজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই ফোল্ডারটির ব্যাকআপ নিতে থাকবে। এ ব্যাকআপ ইচ্ছে করলে ম্যানুয়ালিও নেয়া যাবে, সেই সাথে ব্যাকআপ লোকেশন হিসেবে হার্ডডিস্কে অন্যান্য ড্রাইভ, পোর্টেবল হার্ডডিস্ক, পেনড্রাইভ ও নেটওয়ার্কের কোনো ফোল্ডারও সিলেক্ট করা যাবে। তবে নেটওয়ার্কে ব্যাকআপ রাখতে চাইলে উইন্ডোজ সেভেন প্রফেশনাল বা আল্টিমেট প্রয়োজন পড়বে। কেননা উইন্ডোজ সেভেনের অন্য ভার্সনগুলোতে এই সুবিধাটি নেই।

বিটলকার :

বিটলকার উইন্ডোজ সেভেনের নতুন এক আকর্ষণীয় ফিচার। এটি ব্যবহার করে ব্যবহারকারী তার পিসির এক বা একাধিক হার্ডড্রাইভকে এনক্রিপ্টেড করে রাখতে পারবেন। এর ফলে ড্রাইভটি রিড-ওনলি হয়ে যাবে এবং অন্য কোনো ব্যক্তি সে ড্রাইভের ফাইল ও তথ্যের কোনো ধরনের পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও ধ্বংস করতে পারবে না। এই ফিচারটি ব্যবহার করে ইউএসবি পোর্টে যুক্ত করা যায় এমন ধরনের ফ্ল্যাশড্রাইভ ও এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক সংযোজন ও সীমাবদ্ধ করে দেয়া যাবে। এ ফিচার সবচেয়ে কাজে দেবে যখন পিসি কোনো নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত থাকবে।

উইন্ডোজ ডিফেন্ডার :

উইন্ডোজ ডিফেন্ডার মূলত কোনো অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম নয়, বরং এটি স্পাইওয়্যার ও অন্যান্য ক্ষতিকর প্রোগ্রাম থেকে পিসিকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য প্রাথমিক সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। উইন্ডোজ সেভেনে এর ব্যবহারকে বেশ সহজ করা হয়েছে বিভিন্ন লোকেশনে স্ক্যান করার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে যোগ করা নতুন ফিচার ‘ক্লিন সিস্টেম’ অপশনটি ব্যবহার করে একটিমাত্র ক্লিক করে পিসিতে বিদ্যমান সব অনাকাঙ্ক্ষিত ও ক্ষতিকর প্রোগ্রামগুলো শনাক্ত করা যাবে।

উইন্ডোজ ফায়ারওয়াল :

ফায়ারওয়াল হচ্ছে এক ধরনের সিস্টেম, যা ইন্টারনেট বা নেটওয়ার্কের থেকে আসা সব তথ্য ব্লক করে। অপরদিকে যেসব তথ্য পিসির জন্য ক্ষতিকর নয় তাদের ঢুকতে দেয়। এটি মূলত হ্যাকার, ওয়ার্ম ও স্পাইওয়্যারের হাত থেকে বাঁচার জন্য উইন্ডোজের নিজস্ব একটি বেষ্টনী। কোনো প্রোগ্রাম যদি ইন্টারনেটে তথ্য পাঠাতে চায়, তাহলে সেটিকেও এই ফায়ারওয়ালের ভেতর দিয়ে যেতে বাধ্য করে এটি। তা যদি ক্ষতিকর হয় তাহলে ফায়ারওয়াল তা ব্লক করে ফেলবে। উইন্ডোজ সেভেনে ফায়ারওয়াল কোনো নতুন সংযোজন নয়। কারণ, উইন্ডোজ এক্সপিতেও ফায়ারওয়াল অপশন ছিল। তবে বর্তমানে একে আরো সমৃদ্ধ করে উইন্ডোজ সেভেনের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

প্যারেন্টাল কন্ট্রোল :

এই ফিচারটি ব্যবহার করে ছোট ছেলেমেয়েদের কমপিউটার ব্যবহার সীমিত করে দেয়া যাবে। এর ফলে বাবা-মা বা বড়রা ছোটদের অতিরিক্ত সময় ধরে কমপিউটার ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে পারবে। প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহার করতে চাইলে ছোটদের জন্য আলাদা একটি ইউজার অ্যাকাউন্ট খুলে তাকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এটি দিয়ে ছোটদের জন্য খোলা অ্যাকাউন্টের টাইম লিমিট করে দেয়া যাবে, যার ফলে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ছোটরা পিসিতে লগ-অন করতে পারবে এবং নির্দিষ্ট সময় পরে পিসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগ-অফ হয়ে যাবে ছোটরা ইচ্ছে করলেই দিনে একটি বেঁধে দেয়া সময়ের বেশি পিসি ব্যবহার করতে পারবে না। উইন্ডোজ মিডিয়া সেন্টার ব্যবহার করে টিভি দেখার ক্ষেত্রেও এই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং কিছু নির্দিষ্ট টিভি চ্যানেল ও অনুষ্ঠানও ব্লক করে দেয়া যাবে। এতে করে ছোটরা সেগুলো দেখা থেকে বিরত থাকবে।

অন্যান্য ফিচার

আক্সেসিবিলিটি :

পিসিতে কাজ করা আরো সহজ করার লক্ষ্যে দেয়া ফিচারটিতে রয়েছে স্পিচ রিকগনিশন, স্ক্রীন ন্যারেটর, ফেক্সিবল স্ক্রিন ম্যাগনিফাইয়ার ও অন-স্ক্রিন কীবোর্ড। স্পিচ রিকগনিশন সিস্টেমটি আগের চেয়ে আরো বেশি উন্নত ও বেশি প্রোগ্রাম সমর্থন করতে পারে। তাই কীবোর্ডে টাইপ না করে শুধু মাইক্রোফোনের সাহায্যে কথা বলে মেইল করা, ইন্টারনেট ব্রাউজ করা, মিউজিক প্লেয়ার নিয়ন্ত্রণ করা বা কোনো ডকুমেন্ট লেখা যাবে খুব সহজেই। যাদের পিসিতে ডিসপ্লেতে সমস্যা বা কোনো কারণে ডিসপ্লে বন্ধ করে কাজ করার প্রয়োজন হয়, তাদের জন্য রয়েছে ন্যারেটর নামের ফিচার। এতে কোনো কিছুর ওপরে মাউস নিয়ে গেলে তা উচ্চারণ করে বলে দেবে তাতে কি লেখা আছে বা সে জিনিসটি কি? যারা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী তারা এ থেকে বেশি সুবিধা লাভ করতে পারবেন।

ক্যালকুলেটর :

উইন্ডোজের সব সংস্করণেই ক্যালকুলেটর ফিচারটি বিদ্যমান, তবে উইন্ডোজ সেভেনে এ ফিচারটি বানানো হয়েছে অনেক ফাংশন সংযুক্ত করে। উইন্ডোজ সেভেনে ক্যালকুলেটর চালু করলে আপত দৃষ্টিতে কোনো পরিবর্তন চোখে পড়বে না, কিন্তু এর মেনুবার থেকে ভিউ অপশনটি সিলেক্ট করলেই দেখা যাবে এর নতুন সংযুক্ত ফাংশনগুলো। এটিতে মোট চারটি মোড রাখা হয়েছে, এগুলো হলো- স্ট্যান্ডার্ড, সায়েন্টিফিক, প্রোগ্রামার ও স্ট্যাটিসটিকস মোড। এছাড়া এতে আরো আছে ইউনিট কনভার্সন, ডাটা ক্যালকুলেশন ও ওয়ার্কশিটস অপশন। ইউনিট কনভার্সন অপশনে গিয়ে দৈর্ঘ্য, কোণ, ক্ষেত্রফল, এনার্জি, পাওয়ার, প্রেসার, তাপমাত্রা, সময়, গতিবেগ, শব্দ ও ওজনের সব ধরনের এককের মান বের করা যাবে। ডাটা ক্যালকুলেশন অপশনে গিয়ে দুটি সময়ের মধ্যে পার্থক্য বের করা যাবে। ওয়ার্কশিট অপশনে গিয়ে নানান ব্যবসায়িক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় হিসেব করা যাবে।

জাম্প লিস্ট :

এ ফিচারের সাহায্যে টাস্কবারে মিনিমাইজ করে রাখা মিডিয়া প্লেয়ার, ইন্টারনেট ব্রাউজার, ওয়ার্ড ডকুমেন্টের ওপরে রাইট ক্লিক করে তার হিস্টোরি দেখতে পারবেন। এতে আগে কাজ করা বা চালানো ফাইলগুলো খোঁজার ঝামেলার হাত থেকে বেঁচে যাবেন।


লাইব্রেরি :

উইন্ডোজ সেভেনে ডকুমেন্ট, মিউজিক, পিকচার ও ভিডিও ফাইল লাইব্রেরিতে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে করে বিভিন্ন স্থানে রাখা ফাইলগুলোকে একসাথে একটি ফোল্ডারে দেখা যাবে। এতে কোথায় কোন ফাইল রাখা হয়েছে, তা চট করেই হাতের কাছে পাওয়া যাবে।

পেইন্ট :

পেইন্ট প্রোগ্রামটি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের একটি অতিপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম। কোনো সংস্করণেই এ প্রোগ্রাম বাদ দেয়া হয়নি। তবে উইন্ডোজ সেভেনে একে আরো সুন্দর ও সাবলীল করে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথমত নতুন পেইন্টের আউটলুক বেশ আকর্ষণীয়ভাবে বানানো হয়েছে। এতে সংযোজন করা কিছু নতুন ফিচারের মধ্যে রয়েছে- ট্রান্সপারেন্ট সিলেকশন, পিকচার রিসাইজ, প্রায় ২৬টি আলাদা আকার-আকৃতির ব্রাশ। যেখানে আগের সংস্করণগুলোয় মাত্র একটি ব্রাশ ছিল সেখানে নতুনটিতে নরমাল ব্রাশ, ২টি ক্যালিওগ্রাফি ব্রাশ, এয়ার ব্রাশ, অয়েল ব্রাশ, ওয়াটারকালার ব্রাশ, ক্রেয়ন ব্রাশ, মার্কার ও পেন্সিলসহ মোট ৯টি ব্রাশ বিদ্যমান। তবে নতুন পেইন্টে একটি অপশন বাদ দেয়া হয়েছে সেটি হচ্ছে পিকচারের কালার ইনভার্সন।

স্নাইপিং টুলস :

স্নাইপিং টুলের সাহায্যে ডিসপ্লেতে থাকা যেকোনো কিছুর পুরো বা আংশিক ছবি তুলে নেয়া যাবে। যেমন- যদি কারো ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট অংশের কোনো তথ্য সংগ্রহ করার প্রয়োজন পড়ে, তবে স্নাইপিং টুল চালু করে প্রয়োজনীয় অংশ মাউসের সাহায্যে সিলেক্ট করে তা ছবির আকারে সংরক্ষণ করা যাবে।

স্টিকি নোটস :

স্টিকি নোট হচ্ছে কোনো কিছু মনে রাখার জন্য শর্ট নোট বানিয়ে ডেস্কটপে বা ডিসপ্লেতে রাখা অনেকটা কাগজের চিরকুটের মতো করে। ভিসতাতেও এ ফিচারটি ছিল। তবে সেভেনে তা আরো উন্নত করা হয়েছে। এতে স্টিকি নোটে কিছু পরিবর্তন করার সুযোগ দেয়া হয়েছে, যেমন- রঙের পরিবর্তন, আকার- আকৃতির পরিবর্তন ইত্যাদি। একসাথে অনেক স্টিকি নোটও রাখা যাবে।

ট্যাবলেট পিসি :

অনেকেই ট্যাবলেট পিসি ও লাইটপেনের সাথে পরিচিত নন। এ ডিভাইসের সাহায্যে লাইটপেন দিয়ে ইলেকট্রনিক প্যাডের ওপরে লিখলে তা কমপিউটারের পর্দায় ভেসে ওঠে। সেগুলো আলাদা করে কিনে নিতে হয়। কিন্তু উইন্ডোজ সেভেনে তা বিল্ট-ইনভাবে দেয়া আছে। মাউস এক্ষেত্রে লাইটপেনের কাজ করবে এবং ট্যাবলেট পিসি ইনপুট প্যানেল কাজ করবে প্যাডের। মাউস দিয়ে কিছু লেখা হলে তা হাতের লেখা থেকে কমপিউটারের ডিফল্ট ফন্টে পরিণত হবে। এতে করে গণিতের জটিল সমীকরণ, চিহ্ন, ‍আকিঁবুকি করা অনেক সহজ। হাতের লেখা চেনার জন্য এতে রয়েছে বিশেষ হ্যান্ড রাইটিং রিকগনিশন ব্যবস্থা।

উইন্ডোজ লাইভ অ্যাসেনসিয়াল :

লাইভ অ্যাসেনসিয়াল প্যাকেজের আওতায় রয়েছে মেসেঞ্জার, ফটো গ্যালারি, মেইল, রাইটার, মুভি মেকার, ফ্যামিলি সেফটি ও টুলবার নামের ফিচার। এ বিশেষ প্যাকেজটি মাইক্রোসফটের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে নেয়া যাবে। মেসেঞ্জার দিয়ে চ্যাট করার পাশাপাশি রিমোট পিসি কন্ট্রোল করা যায়। মুভি মেকার ভিডিও ফাইল কনভার্সন করতে পারে। অনেক ধরনের ভিডিও ফাইল এডিট করতে পারে। ফটো গ্যালারিতে ছবি খুব সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখা যায়। স্লাইড-শো করা যায়।

উইন্ডোজ টাচ :

এ ফিচারটি টাচ স্ক্রিণ ডিভাইসের জন্য বিশেষভাবে বানানো হয়েছে। এতে মাউসের সাহায্য ছাড়া শুধু হাত দিয়ে স্পর্শ করে কমপিউটারের যাবতীয় কাজ করা যাবে। এমনকি পেইন্টে আঙ্গুলকে তুলি হিসেবে ব্যবহার করে ছবি ‍আকাঁ যাবে। এছাড়া অনলাইন নিউজপেপার নেভিগেশন, কোনো কিছু জুম করা বা জুম-আউট করা, ঘোরানো ইত্যাদি আরো অনেক কিছু করা যাবে।

উইন্ডোজ সার্চ :

স্টার্ট মেনুর সার্চবক্সে কোনো কিছু খোঁজার জন্য তারা নাম টাইপ করার সাথে সাথেই তা পেয়ে যাবেন, কারণ, খুব দ্রুত সে কাজটি সম্পাদন হবে উইন্ডোজ সেভেনে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সার্চ রেজাল্ট বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে ভাগ হয়ে আসবে যা থেকে বেছে নেয়া খুব সহজ হয়।

উইন্ডোজ এক্সপি মোড :

যারা এক্সপি ব্যবহারে অভ্যস্ত বা উইন্ডোজ এক্সপি সমর্থিত বিজনেস সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকেন, তাদের জন্য রয়েছে এক্সপি মোড। এতে এক্সপি সমর্থিত সফটওয়্যারগুলো কোনো সমস্যা ছাড়াই চালানো যাবে। এটি আদালাভাবে ডাউনলোড করে নিতে হবে। শুধু প্রফেশনাল ও আলটিমেট এডিশনে ব্যবহার করা যাবে।

ওয়ার্ড প্যাড :

ওয়ার্ডপ্যাডে আনা হয়েছে নতুন চমক। কারণ, এতে যুক্ত হয়েছে অফিস ২০০৭-এর মতো রিবন মেনু। একে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের সংক্ষিপ্ত রূপ বলে চালানো যাবে খুব সহজেই। ওয়ার্ডের চেয়ে কিছু অপশন কম রয়েছে, তবে যে পিসিতে ওয়ার্ড নেই তাতে ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের কাজ মোটামুটি ভালোই চালানো যাবে ওয়ার্ডপ্যাডের সাহায্যে।

এডিশন ও পার্থক্য

উইন্ডোজ সেভেনের ৬টি ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণ রয়েছে। তবে বাজারে হোম প্রিমিয়াম, প্রফেশনাল ও আল্টিমেট এ তিনটি সংস্করণ পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য সংস্করণ গরিব ও উন্নয়নশীল দেশ ও বিশেষ কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য বানানো হয়েছে। সংস্করণগুলো নাম পর্যায়ক্রমে- স্টার্টার, হোম বেসিক, হোম প্রিমিয়াম, প্রফেশনাল, এন্টারপ্রাইজ ও আল্টিমেট। স্টার্টার খুবই সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য সংবলিত এবং খুবই হালকা করে বানানো। স্পেশাল ফিচারগুলোর এতে দেয়া হয়নি। এটি শুধু ৩২-বিট সমর্থন করে। হোম বেসিক বানানো হয়েছে উন্নয়নশীল দেশের দ্রুত বেড়ে ওঠা বাজার দখল করার লক্ষ্যে। হোম প্রিমিয়ার ঘরে ব্যবহার করার জন্য প্রায় সব ফিচারযুক্ত করে বানানো হয়েছে। এতে প্রাধান্য পেয়েছে মিডিয়া সেন্টার ফিচারটি। নেটওয়ার্কের কাজ, রিমোট ডেস্কটপ শেয়ারিংয়ের কাজ, ফাইল ট্রান্সফার, এক্সপি মোডসহ যোগাযোগের বিপুল ফিচার সমন্বয়ে অফিসের কাজে সহায়ক করে বানানো হয়েছে উইন্ডোজ সেভেন প্রফেশনাল। এন্টারপ্রাইজ এডিশনটি বানানো হয়েছে সেইসব বড় আকারের প্রতিষ্ঠানের জন্য, যারা একসাথে অনেক পিসি ব্যবহার করে থাকেন।

তাদের জন্য মাইক্রোসফট এ সংস্করণে যুক্ত করেছে বাড়তি কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা, বহুভাষিক ব্যবহারকারী ইন্টারফেস ও ইউনিক্স কম্প্যাটিবিলিটি। উইন্ডোজ আল্টিমেটে সব সংস্করণের সব সুবিধা রয়েছে।

সিস্টেম রিকোয়ারমেন্ট

উইন্ডোজ সেভেনের জন্য ন্যূনতম হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন হচ্ছে- ১ গিগাহার্টজ প্রসেসর, ৩২-বিট ওএস-এর জন্য র্যা মের দরকার হবে ১ গিগাবাইট ও ৬৪-বিট ওএস-এর জন্য ২ গিগাবাইট, উভয় ওএস-এর জন্যই ডিরেক্টএক্স ৯ সাপোর্টেড গ্রাফিক্স কার্ড থাকতে হবে। সেই সাথে গ্রাফিক্স কার্ডে WDDM Driver Model 1.0 থাকতে হবে, তা নাহলে উইন্ডোজ সেভেনের অ্যারো থিম ঠিকমতো কাজ করবে না। এছাড়া হার্ডডিস্কে ১৬ গিগাবাইট ও ২০ গিগাবাইট জায়গা দরকার হবে যথাক্রমে ৩২-বিট ও ৬৪-বিট উইন্ডোজ সেভেনের জন্য।

উইন্ডোজ সেভেন আল্টিমেটের পুরো স্বাদ নিতে হলে আরো কিছু ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে। সেগুলো হচ্ছে- ০১. বিটলকার সফটওয়্যারটি ব্যবহারের জন্য একটি ইউএসবি ফ্ল্যাশড্রাইভ ব্যবহার করতে হবে। ০২. উইন্ডোজ এক্সপি মোডসহ উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহার করতে চাইলে অতিরিক্ত ৫১২ মেগাবাইট, ১ গিগাবাইট র্যাডম ও প্রায় ১৫ গিগাবাইট হার্ডডিস্ক স্পেসের প্রয়োজন হবে।

০৩. ট্যাবলেট পিসি ও উইন্ডোজ টাচের স্বাদ পেতে হলে সাধারণ মনিটর নিয়ে বসে থাকলে চলবে না, সেক্ষেত্রে টাচ স্ক্রিন মনিটর কিনতে হবে। ০৪. উইন্ডোজ এক্সপি মোডসহ উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহার করতে চাইলে অতিরিক্ত ৫১২ মেগাবাইট ১ গিগাবাইট র্যাইম ও প্রায় ১৫ গিগাবাইট হার্ডডিস্ক স্পেসের প্রয়োজন পড়বে। ০৫. উইন্ডোজ মিডিয়া সেন্টার ব্যবহার করতে হলে টিভি কার্ড বা টিভি টিউনারের এবং সেই সাথে কেবল কানেকশনের ও প্রয়োজন পড়বে, তাহলে টিভির অনুষ্ঠান রের্কড করে রাখা যাবে। তবে ইন্টারনেট টিভি দেখার জন্য প্রয়োজন পড়বে হাই স্পীড ইন্টারনেট কানেকশনের।

শেষ কথা

অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের সাথে বাজারে সেভেনকে টিকিয়ে রাখার জন্য মাইক্রোসফট অনেক কম দামে তাদের অপারেটিং সিস্টেমটি বাজারজাত করার ঘোষণা দিয়েছে। পাইরেসি রোধ ও লিনআক্স অপারেটিং সিস্টেমের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে উইন্ডোজের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে নিয়ে আসা হবে খুব শিগগিরই। অসাধারণ সব ফিচার ও মনোরম ইউজার ইন্টারফেসের এ নতুন উইন্ডোজটি সবার মাঝে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। উইন্ডোজ সেভেন দেখেই শুধু সে কৌতূহল মেটানো যেতে পারে।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : shmt_21@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস