Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > রাউটার
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সাদাফুজ্জামানী তুলী
মোট লেখা:৪
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০০৯ - ডিসেম্বর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
রাউটার
তথ্যসূত্র:
হার্ডওয়্যার
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
রাউটার

রাউটার একটি কমপিউটার নেটওয়ার্কিং ডিভাইস, যা বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে ডাটা কোন পথে যাবে তা নির্ধারণ করে। এক নেটওয়ার্ককে অন্য নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করা এবং ডাটা প্যাকেট নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্কে রাউট করার কাজে ব্যবহার হয়। এক্ষেত্রে ডিভাইসকে বলা হয় রাউটার। রাউটার সম্প্রচার অঞ্চলকে (Broadcast Domain) এমনভাবে ভেঙ্গে ফেলে যাতে একটি নেটওয়ার্ক অংশের অধীনে থাকা সব ডিভাইস ওই নেটওয়ার্ক অংশের জন্য প্রেরিত সম্প্রচার পড়তে ও প্রক্রিয়াজাত করতে পারে।



রাউটার দুই বা ততোধিক লজিক্যাল সাব-নেটকে সংযোজন করে। এর নেটওয়ার্ক হাব কোনোপ্রকার রাউটিং করে না। বরং এটি নেটওয়ার্ক লাইন থেকে গ্রহণ করা প্রতিটি প্যাকেট অন্যান্য নেটওয়ার্ক লাইনে পাঠিয়ে দেয়।

রাউটার দুটি ভিন্ন প্লেন (Plane)-এ অপারেট হয়ে থাকে-

* কন্ট্রোল প্লেন (Control Plane) : যেখানে রাউটার উপযুক্ত বহির্গামী ইন্টারফেস নির্বাচন করে যা নির্দিষ্ট প্যাকেজকে নির্দিষ্ট স্থানে পাঠায়।

* অগ্রগামী প্লেন (Forwarding Plane) : যা একটি লজিক্যাল ইন্টারফেস গৃহীত প্যাকেটের প্রেরণকে নির্ধারণ করে। প্রথমদিকে রাউটার গেটওয়ে নামে পরিচিত ছিল। সর্বপ্রথম এর ধারণা দেয় ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্কিং গ্রুপ (INWG) নামের একটি কমপিউটার নেটওয়ার্ক গবেষণাভিত্তিক আন্তের্জাতিক গ্রুপ।

বর্তমানে সবরকম নেটওয়ার্কিংয়ে নেটওয়ার্ক লেয়ারে আইপি (IP) ব্যবহার হয়, যেখানে মাল্টিপ্রোটোকল রাউটার একেবারেই অপচলিত হয়ে পড়েছে।



রাউটিংয়ের সূচনালগ্নে সাধারণ উদ্দেশ্যে ব্যবহার হওয়া মিনি কমপিউটারগুলো রাউটার হিসেবে ব্যবহার হতো। যদিও এরা রাউটিং করতে পারে এবং আধুনিক হাই-স্পিড রাউটারগুলোও বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন।

রাউটার দুই ধরনের হয়ে থাকে-

০১. ওয়্যারলেস রাউটার :

এটি এমন একটি নেটওয়ার্কিং ডিভাইস যা একটি রাউটারের সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি ওয়্যারলেস এক্সেস পয়েন্ট হিসেবেও কাজ করতে পারে। এটি ব্যবহার হয় ইন্টারনেট এক্সেস দিতে বা কোনো কমপিউটার নেটওয়ার্কে, কোনো তারের সংযোগ ছাড়াই। এটি ওয়্যারড ল্যান, ওয়্যারলেস ল্যান অথবা সমন্বিত ওয়্যারড/ওয়্যারড নেটওয়ার্কে ব্যবহার হয়।

সম্প্রতি ব্যবহার হওয়া রাউটারগুলোয় নিম্নলি­খিত বৈশিষ্ট্য থাকে-

* ল্যান পোর্ট, যা একটি নেটওয়ার্ক সুইচের পোর্টের সব সুবিধা দেয়।

* ওয়্যান পোর্ট, একটি বড় এরিয়া নেটওয়ার্ক সংযোজনে ব্যবহার হয়। এই পোর্ট ব্যবহার করে রাউটিং ফাংশন ফিল্টার করা হয়। এই পোর্ট ব্যবহার করা না হলে রাউটারের অনেক ফাংশনই বাইপাস হতে পারে।

* ওয়্যারলেস অ্যান্টেনা : এটি অন্যান্য ওয়্যারলেস ডিভাইস-এনআইসি (Network Interface Cards), ওয়্যারলেস রিপিটার, ওয়্যারলেস এক্সেস পয়েন্ট এবং ওয়্যারলেস ব্রিজ ইত্যাদিতে সংযোগ প্রদান করে।

০২. ওয়্যারড রাউটার :

ওয়্যারড রাউটার ইথারনেট ক্যাবল দিয়ে অন্যান্য নেটওয়ার্ক ডিভাইসের সাথে সংযোজন করা হয়। এটি মানসম্মত এবং সহজ সংযোগের সুবিধা দিয়ে থাকে ১০ মে.বা. পার সে. ব্যান্ডউইডথ। স্বতন্ত্র ইথারনেট ক্যাবলের রান লেন্থ (Run Length) মোটামুটি ১০০ সি.-এর মধ্যে সীমিত, কিন্তু ইথারনেটকে সহজেই স্কুল কিংবা অফিসে নেটওয়ার্কে ব্যবহার করা সম্ভব। রাউটারের আরও কিছু ধরন :

* এজ রাউটার (Edge Router) : আইএসপি নেটওয়ার্কের একপ্রান্তে এটি স্থাপিত হয়, যা এক্সটারনাল বিজিপি ((eBGP) দিয়ে অন্য প্রোভাইডার অথবা বৃহৎ কোনো এন্টারপ্রাইজের অটোনোমাস সিস্টেম-এর সাথে যুক্ত থাকে।

* সাবস্ক্রাইবার এজ রাউটার : একটি সাবস্ক্রাইবার নেটওয়ার্কের এক প্রান্তে এটি স্থাপিত হয়। এটিও এক্সটারনাল বিজিপি দিয়ে প্রোভাইডারের এএস-এর সাথে যুক্ত থাকে।

* ইন্টার-প্রোভাইডার বর্ডার রাউটার : এটি হলো আমত্মঃসংযুক্ত আইএসপি। এটি এমন এক বিজিপি স্পিকিং রাউটার, যা বিজিপি সেশনগুলোর সামঞ্জস্যতা রক্ষা করে প্রোভাইডারের এএস-এর অন্তের্বর্তী অন্যান্য বিজিপি স্পিকিং রাউটারগুলোর সাথে।

কোর রাউটার (Core Router) : এটি এমন এক রাউটার যা এর সীমার বাইরের তুলনায় অভ্যন্তেরীণ ল্যান নেটওয়ার্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

রাউটার প্রস্ত্ততকারক

রাউটার প্রস্ত্ততকারকদের মধ্যে সিসকো, নেটগিয়ার, আসুস ইত্যাদিসহ নিচে বিভিন্ন রাউটার প্রস্ত্ততকারকের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয়া হলো :

সিসকো : বর্তমানে রাউটিংয়ের জগতে সিসকো খুবই জনপ্রিয় এবং এরা বিশ্বমানের রাউটার প্রস্ত্ততকারক। এদের রাউটারগুলোর কিছু সুবিধা এবং বৈশিষ্ট্য হলো :

* উন্নতমানের মিডিয়া সার্ভিস যা টেলিপ্রেজেন্স, সার্ভিস ভিজ্যুয়ালাইজেশন এবং খুবই কম টিসিও এনার্জি ক্ষমতাসম্পন্ন।

* সিকিউরিটি, মোবিলিটি, WAN অপটিমাইজেশন, ইউনিফায়েড কমিউনিকেশন, ভিডিও ইত্যাদি সুবিধাসম্পন্ন।

* এদের কিছু কিছু রাউটারে ৩ আরইউ এবং ১-২ আরইউ (RU) মডুলার ফর্ম ফ্যাক্টর রয়েছে।

নেটগিয়ার : নেটগিয়ারের প্রস্ত্তত করা রাউটারগুলো যেমন কর্মক্ষমতা দিয়ে থাকে তেমনই আকর্ষণীয়। এদের কিছু ডিভাইস বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো :

* বর্তমান সময়ের চাহিদা মেটানোর মতো সীমা এবং কভারেজ দিয়ে থাকে এদের ওয়্যারলেস রাউটারগুলো।

* এগুলো সহজে ব্যবহার করা যায়, গুণগত মানসম্পন্ন, সিকিউরিটি এবং বিশ্বাসযোগ্য।

* এদের ওয়্যারলেস রাউটারগুলো ১৫০ এমবিপিএস স্পিডের সাথে সাথে সহজ ডাউনলোডিং সুবিধা দিয়ে থাকে।

আসুস : আসুস রাউটার প্রস্ত্ততকারকদের মধ্যে অন্যতম। এদের প্রস্ত্তত করা রাউটারগুলোর মধ্যে ওয়াই-ফাই রাউটার জনপ্রিয়। এর সুবিধাসমূহ :

* ই-জেড (Ez) অল-ইন-ওয়ান প্রিন্টার শেয়ারিং, যা সার্ভারের সাহায্য ছাড়াই নেটওয়ার্ক প্রিন্টার চালানোর সুবিধা দেবে।

* কিছু স্টোরেজ ডিভাইস এবং প্লাগ-ইন সুবিধা থাকলে এই রাউটারের সাহায্যে পিসি ছাড়াই ডাউনলোড করা যাবে।

থ্রি-কম : থ্রি-কম রাউটারগুলো উঁচুমানের ফিচারসম্পন্ন, বিশ্বাসযোগ্য এবং ত্রুটিমুক্ত। এদের সুবিধাগুলো :

* উঁচুমানের ক্ষমতা এবং কর্মদক্ষতাসম্পন্ন বড় ধরনের এন্টারপ্রাইজ থেকে শুরু করে ছোটখাটো অফিসে ব্যবহার করা সম্ভব।

* এটি ওপেন সার্ভিস নেটওয়ার্কিং (OSN) সুবিধা দিয়ে থাকে।

* ল্যান, ওয়্যান ও ভয়েস কানেকটিভিটিও সম্ভব।

নেটস্টার : নেটস্টার রাউটারগুলো ফায়ারওয়াল, ভিপিএন এবং ইথারনেট সুইচিংবিশিষ্ট। এদের সুবিধাগুলো :

* এরা ভি.ল্যান (VLAN), Qos, ফিল্টারিং, ভিপিএন সাপোর্ট সর্বোচ্চ ১৬টি টানেল এবং ইউএসবি প্রিন্টার পোর্ট সাপোর্ট করে থাকে।

* ম্যাসেজ বা বার্তা, ফাইল শেয়ারিং ইত্যাদি ব­ক করার সুবিধা এতে বিদ্যমান।

* উঁচুমানের স্পিড এবং সিকিউরিটি ও কিছু কিছু মডেম/মোবাইল ফোনে ইউএসবি কানেকটিভিটির মাধ্যমে সরাসরি ইন্টারনেট সুবিধা দিয়ে থাকে।

বিভিন্ন ধরনের রাউটারের বিভিন্ন সুবিধা বিবেচনা করে রাউটার কেনা উচিত। বিভিন্ন এন্টারপ্রাইজ অফিস কিংবা বাসায় ব্যবহারের জন্য ভিন্ন ভিন্ন সুবিধা থাকে। সব বিষয় মাথায় রেখেই রাউটার বেছে নেয়া উচিত।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : zamani_cse@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস