Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > ফটোসংশ্লিষ্ট কার্যোপযোগী কয়েকটি টুল
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: লুৎফুন্নেছা রহমান
মোট লেখা:১৩৬
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১০ - জানুয়ারী
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
ফটো এডিটিং
তথ্যসূত্র:
সফটওয়্যার
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
ফটোসংশ্লিষ্ট কার্যোপযোগী কয়েকটি টুল

কমপিউটারের কার্যক্ষমতার ব্যাপক সম্প্রসারণ আমাদের দৈনন্দিন কাজের ধারা যেমন পাল্টে দিয়েছে তেমনি সৃষ্টি করেছে নিত্যনতুন কাজের চাহিদা। তেমনই এক চাহিদা যা আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। আর তাহলো ডিজিটাল ক্যামেরা। ডিজিটাল ক্যামেরার চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে ডেভেলপ করা হচ্ছে নতুন ফটোএডিটর টুল। ভালোমানের ফটোএডিটর টুলের কার্যকরী ক্ষমতা বা ফিচারের অভারের কারণে ডিজিটাল ক্যামেরার প্রকৃত ইফেক্ট বহুলাংশে প্রভাবিত হয়। বিভিন্ন ধরনের ও ক্ষমতার ফটোএডিটরের মধ্য থেকে ব্যবহারকারীর উদ্দেশে এবারের সফটওয়্যার বিভাগে ফোকাস ফটোএডিটর, ফটোম্যাটিক্স প্রো ৩.২ ও ফটোসিন্থ নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে।

ফোকাস ফটোএডিটর



ফটোএডিটরে যেসব বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার ফোকাস ফটোএডিটর টুলে প্রায় সব বৈশিষ্ট্যই রয়েছে। মূলত এসব বৈশিষ্ট্যের জন্যই ফোকাস ফটোএডিটর টুলটি ব্যয়বহুল ও ব্যাপক ব্যবহার হওয়া ফটোএডিটিং টুলের বিকল্প টুল হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। এই ফটোএডিটরের ইন্টারফেসটি বেশ ইউজার ফ্রেন্ডলি। অন্যান্য ব্যয়বহুল ফটোএডিটরের মতো এই টুলে যুক্ত করা হয়নি সেই সব জটিল ও ভারি ফিচার ও টুল। এই ফটোএডিটরকে অনেকেই বেছে নেবেন বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে, যেমন ফিল্টারের সংখ্যা, ইফেক্টের সাথে থাকা কালার কারেকশন অপশন। তবে এই টুলকে আমাদের অতিপরিচিত ও জনপ্রিয় প্রোগ্রাম ফটোশপ, ইউলিড ও কোরেল ড্র’র মতো কার্যকর ও ফিচারসমৃদ্ধ বা সমকক্ষ হিসেবে দাবি করা যাবে না কোনো অবস্থাতেই।



ফোকাস ফটোএডিটর প্রোগ্রামে রয়েছে এক সেট টুল। তা সত্ত্বেও ১০ মে.বা.-এর ওপর ফাইল সাইজ দেখে অভিভূত হবেন যেকেউ। এটি সাপোর্ট করে যেমন ‘অবজেক্ট টাইপ লেয়ার’ অপশন, তেমনি সাপোর্ট করে পুরোপুরি এডিটযোগ্য ‘টেক্সট লেয়ার’ অপশন- যা প্রতি স্টেপে টেক্সট লেয়ারকে ইমেজ লেয়ারে রূপান্ত অনুমোদন করে। ফোকাস ফটোএডিটর প্রোগ্রামকে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, এতে টুলের প্রাচুর্যের বাড়াবাড়ি লক্ষণীয়। যেমন এতে রয়েছে কালার কারেকশন থেকে শুরু করে এক্সপোজার অ্যাডজাস্টিংয়ের লেভেল, শার্পনেস ইত্যাদির চমৎকার টিউনিং সুবিধা। ডিজিটাল ফটো কারেক্ট করার অর্থাৎ সংশোধন করার সক্ষমতাসহ এই প্রোগ্রামের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে টুল ও ইফেক্ট, যা শুধু পাওয়া যায় পণ্যের কারিগরি বৈশিষ্ট্যের গুণে। এ ফিচারগুলোর সাথে আরো যুক্ত করা হয়েছে বহুমুখী কর্মশক্তিসম্পন্ন টুল, যা আপনাকে সহায়তা করবে এডিটিংয়ের ক্ষেত্রে। ফোকাস ফটোএডিটরে সম্পৃক্ত করা হয়েছে আরো একগুচ্ছ টুল। যেমন ক্যুইক উইজার্ড, ইফেক্টিভ অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট অটোমেটিক কারেকশন, স্মার্ট কালার রিপ্লেসমেন্ট, ওয়েব অ্যালবাম বিল্ডারসহ ব্যাচ প্রসেসিং টুল। ফোকাস ফটোএডিটর প্রোগ্রাম সাপোর্ট করে জনপ্রিয় গ্রাফিক্স এডিটিং টুল ফটোশপ প্লাগইন।



অন্যান্য প্রোগ্রামের মতো ফোকাস ফটোএডিটর তেমন ব্যাপকভাবে সিস্টেম রিসোর্স ব্যবহার করে না, মেমরি ব্যবহার করে খুবই কম। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, লেয়ার সংখ্যা বা ওপেন করা ছবির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে প্রোগ্রামের মেমরির ব্যবহার বাড়ে না। ফোকাস ফটোএডিটর টুল সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন www.nwspro.com সাইট থেকে।

মাইক্রোসফটের ফটোসিন্থ ২.০১

ফটোসিন্থ মাইক্রোসফটের তৈরি করা এমন এক অ্যাপ্লিকেশন, যা মাল্টিপল ফটোগ্রাফ বা একই ধরনের বিষয় বা দৃশ্য থেকে তৈরি করতে পারে একটি থ্রিডি ভিউ। কোনো বিষয়ের থ্রিডি মডেল তৈরি করতে ফটোসিন্থ অ্যাপ্লিকেশনটি ডিজিটাল ফটোগ্রাফকে অ্যানালাইজ করে। কোনো বিশেষ মুহূর্তের মাল্টিপল শুট গ্রহণ করলেন বা বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছবি নিলেন, তাহলে এই সফটওয়্যার বিভিন্ন ছবির মধ্যে সামঞ্জস্য বিশ্লেষণ করে একটি পরিপূর্ণ থ্রিডি ইফেক্ট দেয়ার জন্য নতুন করে তৈরি করে এক পরিবেশ। এই সফটওয়্যারটি ফ্রি ডাউনলোড করে লগ করুন হটমেইল বা উইন্ডোজ লাইভ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে। এরপর আপনাকে ফ্রি ফটোসিন্থ অ্যাকাউন্ট তৈরি করে কাঙ্ক্ষিত ফটোআপলোড করতে হবে থ্রিডি ফটোগ্রাফ তৈরি করার জন্য। ফাইল আপলোড হবে ফটোসিন্থ ওয়েবসাইটে। এবং আপনি অনলাইনে চূড়ান্ত Collage অনলাইনে ভিউ করতে পারবেন। এগুলো অনলাইনে শেয়ার বা ভিউ করতে পারবে আপনার প্রিয়জনরা। এই সফটওয়্যারের জন্য দরকার সিলভার লাইট টু প্ল্যাগইন আপনার ব্রাউজারের জন্য। একবার ফটোগ্রাফ দেখা গেলে সেই ছবি বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিউ করা যাবে শুধু মাউস ক্লিক করে। আপনি স্বয়ংক্রিয় মোডে ছবি ভিউ করতে পারবেন যেখানে সব ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হবে। এই টুল www.photosynth.net সাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে।

ফটোম্যাটিক্স প্রো ৩.২

ফটোম্যাটিক্স চমৎকার এইচডিআর ইমেজ তৈরির টুল। হাই-কনট্রাস্ট দৃশ্যে যথাযথ ছবি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কেননা, আদর্শ এক্সপোজার সেটিংয়েও ছবি হয় খুব ব্রাইট, নয়তো মলিন অর্থাৎ অস্পষ্ট ধরনের। যেসব পণ্য ফটোগ্রাফ নিয়ে কাজ করে সেগুলো একই দৃশ্য নিয়ে কাজ করলেও থাকে ভিন্ন এক্সপোজার লেভেল। ফটোম্যাটিক্স এ ধরনের সমস্যার সমাধান করেছে এইচডিআর টোন ম্যাপি বা এক্সপোজার ফিউশন নামের ফিচার ব্যবহার করে, যা মূলত ডিজাইন করা হয়েছে ইমেজ তৈরির জন্য, যা সার্বিক কন্ট্রাস্ট রেশিও বা অনুপাতকে উন্নত করে।



ফটোম্যাটিক্স প্রো ৩.২ অ্যাপ্লিকেশনটি যথেষ্ট ফিচারসমৃদ্ধ হলেও ব্যবহারবিধি বেশ সহজ। এতে রয়েছে চারটি বেসিক ফাংশন, যেমন ‘Generate HDR Image’, ‘Tone Mapping’, ‘Exposore Fusion’ ও ‘Batch Processing’। একটি শর্টকাট প্যানেলের এই চারটি ফাংশনকে একত্রিত করা হয়েছে, যেখানে বাকি ফাংশনে এক্সেস করা যায় মেনুবারের মাধ্যমে।

এক্সপোজার ফিউশনের মাধ্যমে যেসব ইমজে তৈরি করা হয়, সেসব ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে নয়েজ কমানো যায় যখন এইচডিআর এবং এগুলো অ্যামপ্লিফাই করে টোন ম্যাপি ফিচার। ফিউজ ইমেজ এবং সোর্স ইমেজের মধ্যে পার্থক্য খুবই কম হওয়ায় ছবিগুলো হয় দেখতে অধিকতর প্রাকৃতিক। এক্সপোজার ফিউশন খুব সহজ ও সাধারণ এবং সহজবোধ্য। আপনার কাজকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করার এক চমৎকার উপায় হলো ব্যান্ড প্রসেসিং ফিচার। এর ফলে একটি একটি করে ফাইলে কাজ করতে হবে না। সেটিং পরিবর্তন করলে তা প্রোগ্রামজুড়ে প্রভাবিত হয় এবং লিস্টে যুক্ত সব ছবিকে প্রভাবিত করে। ফটোম্যাটিক্সে তৈরি করা ফাইলকে ১৬/৮ বিট টিফ ফরমেটে বা জেপিইজি ফরমেটে সেভ করা যায়। ওয়েবসাইট www.hdrsoft.com থেকে আরো বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : swapan52002@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস