Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > এক্সপ্লোর ডিজাইন
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সুমন ‍ইসলাম
মোট লেখা:৮৭
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১০ - জানুয়ারী
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
প্রযুক্তি
তথ্যসূত্র:
দশদিগন্ত
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
এক্সপ্লোর ডিজাইন

প্রোযুক্তিপণ্যের ক্ষেত্রে ডিজাইন বা নকশাটা এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটা সময় ছিল যখন যেকোনো পণ্যের আকৃতি হতো ঢাউস। এখন সেই প্রবণতা নেই। এখনকার লড়াইটা হচ্ছে, কে কত ক্ষুদ্র আকৃতির পণ্য তৈরি করতে পারে তা নিয়ে। পণ্যের বাহ্যিক আকৃতির পাশাপাশি ভেতরের যন্ত্র বিন্যাসও পাল্টে যাচ্ছে। ফলে যন্ত্র প্রকৌশলীদের নব উদ্ভাবিত পণ্যের নকশা নিয়ে রীতিমতো মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে। আর তাদের এই নিরলস প্রচেষ্টার কারণে আমরা পাচ্ছি নিত্যনতুন তাক লাগানো সব প্রযুক্তিপণ্য।

বিশিষ্ট ডিজাইনার টিম ব্রাউন টেড ডট কমে আলোচনায় বলেছেন, প্রযুক্তিপণ্যের নকশা হতে হবে আকর্ষণীয় এবং সেখানে থাকতে হবে প্রযুক্তির সব সুবিধা। সর্বপরি পণ্যটি হতে হবে ব্যবহারবান্ধব। অথচ আজকের দিনে বহু ডিজাইনার রয়েছেন, যাদের পণ্যের নকশা কেবল প্রদর্শনীর এবং আর্ট গ্যালারিতে রেখে দেয়ার জন্য। বাস্তবে সে পণ্য নিয়ে আসা সম্ভব নয়।



টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক রজার মার্টিন বলেছেন, প্রযুক্তিপণ্যের নকশার ক্ষেত্রে সমন্বিত চিন্তাভাবনার প্রতিফলন থাকাটাও জরুরি। মনে রাখা দরকার, বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিপ্রবাহে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন চিন্তাধারা। তাই পণ্যকে হতে হবে ক্রেতাদের চাহিদা অনুকূল, কারিগরি সক্ষমতাসম্পন্ন এবং অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী।

ডিজাইনার পল সন্দীপ মনে করেন, ক্রমবর্ধমান বিশ্ববাজারে প্রয়োজন নতুন পণ্য এবং নতুন ডিজাইন, যা পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নতুন বাজারে পণ্যটিকে সেই এলাকার সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা ও অন্যান্য আর্থ-সামাজিক বিষয়ের সঙ্গেও ঐক্য বজায় রাখতে হবে।

বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পণ্যের নকশা কেবল সংস্কৃতির বিষয়ই নয়, এর সঙ্গে নতুন নতুন বাজারে কোম্পানির কৌশলগত বাজারজাতকরণের বিষয়টিও জড়িত। বাজারে কোনো পণ্যের টিকে থাকার বিষয়টি আসলে কোনো একক বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। এখানে জড়িত রয়েছে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা।

সিসকোতে ইউরোপিয়ান ডিজাইন সেন্টারের প্রধান এসকিলড হ্যানসেন বলেছেন, যে যাই বলুক না কেনো ডিজাইন বা নকশা হলো বড় ব্যবসা ফাঁদার পথ উন্মোচনের সমন্বিত এবং কৌশলগত রূপরেখা।

পল সন্দীপের মতে, নকশা ভালো হলো কি মন্দ সে বিষয়টি আপেক্ষিক। একজনের কাছে একটি পণ্যের নকশা ভালো মনে হলেও অন্যের কাছে তা মন্দ লাগতে পারে। তাই প্রথমেই পণ্যের নকশা করতে গিয়ে ভাবতে হবে এটি সবচেয়ে বেশি গ্রাহকের কাছে কিভাবে আকর্ষণীয় করা যায় তা নিয়ে। অর্থাৎ প্রথম মূল নীতি হবে পণ্যের আকৃতিগত দিককে সবার কাছে প্রিয় করে তোলা। তার পর দেখতে হবে রঙয়ের বিষয়টি। পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ডিজাইন ফার্ম আইডিইও মনে করে ভবিষ্যৎ পণ্যের নকশা হতে হবে সবচেয়ে সহজ, যাতে সবাই ব্যবহার করতে পারে। নষ্ট হলে যাতে মেরামত করা যায় সে সুবিধাসম্বলিত। থাকতে হবে মোবাইল এবং ওয়্যারলেস সব কিছু। কনটেক্সট অ্যাওয়ারনেস, সেন্সর, স্মার্ট সারফেস, ডাটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন, ওপেনসোর্স ব্যবহারের সুযোগ, বডি হ্যাকিং, স্বচ্ছতা, সমন্বিত উদ্ভাবনাসম্পন্ন হবে।

ইতোমধ্যেই এমন বহু প্রযুক্তিপণ্য উদ্ভাবন করা হয়েছে যা কাজ করছে মানুষের প্রায় কাছাকাছি। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে একসময় যন্ত্র হয়ত অধিকার করবে মানুষের স্থান। আবেগ অনুভূতিসম্পন্ন রোবট আমরা ইতোমধ্যেই পেয়ে গেছি। মানুষের কণ্ঠ নির্দেশনা কিংবা স্পর্শে নির্দেশনা পাচ্ছে বহু যন্ত্র, যা প্রতিনিয়ত ব্যবহার হচ্ছে মানুষেরই কল্যাণে। একটা বিষয় মনে রাখা দরকার, প্রযুক্তিপণ্য যদি হয় ব্যবহারবান্ধব তাহলে মানবদেহের ওপর চাপ বহুমাত্রায় কমে যায়। নতুন পণ্যের নকশার ক্ষেত্রে এই বিষয়টার দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রকৌশলী ও ডিজাইনাররা।

অ্যাডবি ইন্ডিয়ার ভিপি ইঞ্জিনিয়ারিং অজিত পান্ডে বলেছেন, আজকের দিনে যেসব পণ্য ব্যবহার হচ্ছে তার বেশিরভাগই বিদ্যুৎচালিত। তাই পণ্যের ইন্টারফেসের নকশাও করতে হয় সে বিষয়টি মাথায় রেখে। কমপিউটারে থাকছে মাল্টি কোর এবং মাল্টি চিপ কনফিগারেশন। তাই প্রয়োজন হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমন্বয়। এটি ভালোভাবে করতে পারলেই ভবিষ্যতে গ্রাহকের হাতে তুলে দেয়া যাবে আকর্ষণীয় প্রযুক্তিপণ্য।

ডিজাইনার সন্দীপ বলেন, পণ্য উৎপাদনকারীদের দিক থেকে বিবেচনা করলে নকশা হচ্ছে অভিন্ন প্রযুক্তি প্লাটফর্মে একাধিক কোম্পানির পণ্যের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারক। গ্রাহক প্রথমে পণ্যের নকশা দেখেই পণ্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। তার পক্ষে বাছাই করে পণ্য কেনারও সুযোগ তৈরি হয়।

ব্যাঙ্গালোরের সিপিডিএমের পণ্য ডিজাইনার হিমাংশু মিশ্র বলেছেন, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছে একই ধরনের বহু প্রযুক্তিপণ্য। এক কোম্পানির পণ্য থেকে অন্য কোম্পানির পণ্যকে আলাদা করার অন্যতম প্রধান উপায় হচ্ছে পণ্যের আকৃতিগত পরিবর্তন। তাই পণ্যের নকশাকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। তবে একই সঙ্গে পণ্য নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে তা মেরামতের উপায়ও থাকতে হবে। নইলে সেটা ক্রেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

পণ্যের স্বাভাবিক বিবর্তন ঘটে ধীরে। বাজারে কারোরই একচ্ছত্র নেতৃত্ব নেই। তার পরও সময়ের দাবিতে প্রতিবছরই বাজারে আসছে নিত্যনতুন প্রযুক্তিপণ্য। পেশাজীবী ডিজাইনার নিতিন ডেভিড মনে করেন এই সব পণ্যের বাজারে টিকে থাকার বিষয়টি নির্ভর করছে ক্রেতাদের আর্থিক সামর্থ্যর ওপর। পণ্যের দাম বেশি হলে তা ক্রেতাদের আকর্ষণে বেশিরভাগ সময়ই ব্যর্থ হয়, নকশা যতই আকর্ষণীয় হোক না কেনো। নতুন পণ্যের নকশা যারা করবেন তাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জই হলো পণ্যের নকশা এমনভাবে করা যাতে সেটি ব্যয়সাশ্রয়ী হয়। অথচ সেখানে থাকতে হবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি।

আর্থ ফ্রেন্ডলি মুভিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং উদ্ভাবক স্পেন্সার ব্রাউন বলেছেন, বেশিরভাগ ডিজাইনার পণ্যের নকশা করার সময় বাজারজাতকরণ, কপি করা, ব্র্যান্ডিং এবং প্যাকেজিংয়ের বিষয়টি মাথায় রাখেন না। তারা একটি পণ্যের নকশা তৈরি করেন এবং প্রাথমিক সংস্করণ করে অল্প কিছু লোকের মধ্যে সেটি ব্যবহার করে ফিডব্যাক পাওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে পণ্যের আসল সমস্যা তারা অবগত হতে পারেন না। তাই ডিজাইনারকে কেবল পণ্যের নকশা করলেই চলবে না, পণ্যটি ভোক্তাদের চাহিদা মেটাতে পারবে কি না সেটিও দেখতে হবে। সর্বোপরি পণ্যটি হতে হবে পরিবেশবান্ধব। মনে রাখতে হবে এখন গ্রিন প্রডাক্টের যুগ। তার মতে, পণ্যের ক্ষেত্রে প্রথমেই দৃষ্টি দেয়া দরকার পণ্যটি যাতে স্বয়ংক্রিয় হয় সেদিকে। পরে গতি এবং শেষ পর্যায়ে নকশার দিকে মন দিতে হবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেমন হবে ভবিষ্যৎ পণ্যের নকশা, যা কি না ব্যবহার করবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চ থেকে সাধারণ মানুষ। বাজার বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে একমত পোষণ করে বলেছেন, নতুন উদ্ভাবিত পণ্যের প্রকৌশল হবে সহজ সরল। জটিল পণ্য ক্রেতাবান্ধব হয় না। পণ্য নষ্ট হলে বা ত্রুটি দেখা দিলে তা মেরামতের সুযোগ থাকতে হবে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকতে হবে পণ্যটি। একই সঙ্গে থাকতে হবে আধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ। তাহলেই সেই পণ্য বাজারজাতকরণ সহজ হবে এবং পণ্যটি বহুদিন ধরে বাজারে টিকে থাকবে।

প্রকৌশলীরা এর সঙ্গে যোগ করে বলেছেন, আসলে সবচেয়ে প্রথম দরকার প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো। যে পণ্যটি তৈরি করা হবে তার উদ্দেশ্য, ব্যবহার এবং লক্ষ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই ডিজাইনারদের পণ্যের নকশা করতে হবে। কেবল আকৃতিগত আকর্ষণ বিবেচনা করাই যথেষ্ট নয়। অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের বিষয়টিও নকশা করার সময় তাদের মাথায় থাকতে হবে।

ডিজাইনাররা বলছেন, কোম্পানির নির্দেশনা অনুযায়ীই তারা সাধারণত পণ্যের নকশা করে থাকেন। কিছু স্বতন্ত্র উদ্ভাবনা অবশ্য হয় যা একান্ত ডিজাইনারের। প্রযুক্তির সমন্বয় যদি কোনো পণ্যে ঘটানো সম্ভব হয় তাহলে সেটির স্থায়িত্ব নিঃসন্দেহে বেশি হবে।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : sumonislam@gmail.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস