Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > নীতিমালার পরিমার্জন, পরিবর্ধন ও নবায়ন
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মোস্তাফা জব্বার
মোট লেখা:১২৮
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১০ - এপ্রিল
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
ফিচার
তথ্যসূত্র:
নীতিপ্রসঙ্গ
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
নীতিমালার পরিমার্জন, পরিবর্ধন ও নবায়ন

অবশেষে সরকার তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা ২০০৯-এর পরিমার্জন, পরিবর্ধন ও নবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। মার্চ ২০১০-এ বর্তমান সরকার বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালককে সভাপতি করে এ উদ্দেশ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। এ নতুন কমিটি এরই মাঝে একটি সভা করেছে এবং চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ৬ তারিখে সরকারি কর্মকর্তাদের (মন্ত্রণালয়সমূহের আইসিটি ফোকাল পয়েন্ট) নিয়ে একটি সফল কর্মশালাও পরিচালনা করেছে।

স্মরণযোগ্য, গত ৫ মার্চ ২০১০ ঢাকার বঙ্গবন্ধু নভো থিয়েটারে আয়োজিত ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার একটি সেমিনারে আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এই কথাটি বলেছিলাম, সরকারের বিদ্যমান আইসিটি নীতিমালাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণার সত্যিকারের প্রতিফলন ঘটেনি এবং নীতিমালাটি যেহেতু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রস্ত্তত করা এবং যেহেতু নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই নীতিমালাটিতে দুয়েক স্থানে ডিজিটাল বাংলাদেশ শব্দটি যোগ করেই সেটি অনুমোদন করা হয়েছে সেহেতু এর পরিমার্জন, পরিবর্ধন এবং নবায়ন করা দরকার। আমি আনন্দিত, সরকারের বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আমার সেই কথাগুলো গ্রহণ করেছে এবং অত্যন্ত দ্রম্নততম সময়েই আমার সুপারিশটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

আইসিটি নীতিমালার ইতিহাসের সূচনা ২০০০ সালে। ওই বছর মে মাসে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার একটি কমিটি গঠন করে এবং সেই কমিটির সুপারিশ অনুসারে ২০০২ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার একটি আইসিটি নীতিমালা অনুমোদন করে। কিন্তু সেই নীতিমালাটি শুধু কাগুজে নীতিমালা হবার ফলে ২০০৮ সালের মে মাসে ফখরুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি কমিটি করে সেই নীতিমালাটি পর্যালোচনা করে একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই কমিটির সুপারিশকে একটু ঘষেমেজে বর্তমান সরকার আইসিটি পলিসি-২০০৯ নামের নীতিমালাটি অনুমোদন করে। ২০০৯ সালের জুলাইয়ে নীতিমালা অনুমোদিত হয়। পরে এ নীতিমালাটি মুদ্রিত আকারেও প্রকাশ করা হয়। গোড়া থেকেই আমি এই নীতিমালাটির কিছু কিছু বিষয় নিয়ে ক্ষোভ বা ভিন্নমত প্রকাশ করে এসেছি। আমার ভিন্নমত হচ্ছে নীতিমালার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কৌশলগত বিষয় ইত্যাদি নিয়ে। নীতিমালায় দেশটিকে একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করার যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে সেটি কোনোভাবেই ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা বা আওয়ামী লীগের দিন বদলের ইশতেহারের সাথে পরিপূর্ণভাবে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আমি আবারও এই বিষয়টি স্পষ্ট করে বলতে চাই, নীতিমালা প্রণয়নের সময় আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কথা নীতিমালায় উল্লেখ করতে চেয়েছিলাম, যা নীতিমালার প্রভাবশালী প্রণেতারা গ্রহণ করেননি। ফলে বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বললেও নীতিমালায় এর পরিপূর্ণ ধারণাই প্রতিফলিত হয়নি।


তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালাটি বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিল তথা বিসিসির ওয়েবসাইটের http://www.bcc.net.bd/Bangla/Acts/ICTPolicy/ICTBooklet.pdf লিঙ্কে সার্চ করলেই দেখা যাবে


বস্ত্তত নীতিমালাটিতে ডিজিটাল বাংলাদেশ শব্দগুলো যোগ করেছে বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিল। আমার নিজের ধারণা বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিল বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে উপলব্ধি করেনি, এমনকি কারও পরামর্শ নিয়ে একে আপডেট করার কথাও ভাবেনি। নীতিমালার অনেক তথ্যও সঠিক বা আপডেটেড নয়। দুয়েকটি দৃষ্টান্ত দেয়া যেতে পারে- নীতিমালায় আমাদের জাতীয় আয় ৬০০ ডলার বলা হয়েছে, সেটি ২০০৯ সালে আসলে ৬৯০ ডলার ছিল। নীতিমালায় দীর্ঘমেয়াদের মেয়াদ হিসেবে ১০ বছরের কথা বলা হয়েছে। নীতিমালা অনুমোদনের সময় থেকে সেটি ২০১৯ সালকে বোঝায়। সেটি প্রকৃতার্থে ২০২১ সাল হওয়া উচিত ছিলো। কারণ ২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কথা ১০ বছরে নয়।

আমি নীতিমালা প্রণয়নের সময় এটি বলেছিলাম, শত শত আইটেমকে তালিকাভুক্ত করে একটি কাঠামো দাঁড় করালেই আমরা আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব না। তার চাইতে সবকিছুতেই একটা ছিমছাম ভাব রাখা যেত এবং কর্মপরিকল্পনা, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও কৌশলগত বিষয়াদির বিন্যাস ভিন্নতর হতে পারতো।

আমার মতে, ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাকারী সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালার সংক্ষিপ্ত ও উদ্দেশ্য হতে পারে এমন :

০১.
ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহসহ আইনগত অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। একই সাথে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য দেশজুড়ে সংযুক্তির অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

০২.
২০২১ সালে একটি পেপারলেস ডিজিটাল সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর ফলে সরকারের প্রচলিত কাজ করার পদ্ধতি সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হবে। সরকার একটি নেটওয়ার্কড একক ইউনিট হিসেবে ইন্টারঅ্যাকটিভ পদ্ধতিতে কাজ করবে এবং সরকারের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ নীতিনির্ধারকরা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সরকার পরিচালনা করবেন। সরকারের আমত্মঃ ও বহির্যোগাযোগসহ জনগণের সাথে সম্পর্ক স্থাপন সম্পূর্ণভাবে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিনির্ভর হবে। রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন, প্রতিরক্ষা বাহিনী, স্থানীয় সরকার, সরকারের প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, বিচার বিভাগ ও সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সহযোগী সংস্থা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি নিরঙ্কুশভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করবে। এই নীতিমালা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য হবে জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করা এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে জনগণের সাথে সরকারের সব ধরনের যোগাযোগ নিশ্চিত করা। এ ব্যবস্থায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাসহ গণতন্ত্র ও জাতীয় সংসদকে আরও কার্যকর করা হবে।

০৩.
এই নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০২১ সালে একটি ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর হাতে কমপিউটার পৌঁছাবে, প্রাথমিকসহ সব স্তরে কমপিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে এবং দেশের সব শিক্ষার্থী তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন হবে। দেশের শিক্ষার মান ব্যাপকভাবে উন্নিত করাসহ বিপুল পরিমাণ তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি করা হবে, যা দেশের চাহিদা পূরণ করে বিশ্ববাজারে ব্যাপকভাবে প্রবেশ করতে পারবে। এই নীতিমালা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য হবে তথ্যপ্রযুক্তিকে শিক্ষার বাহন হিসেবে প্রচলন করা এবং ডিজিটাল যন্ত্রকে শিক্ষার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার নিশ্চিত করা। এই নীতিমালা বাস্তবায়নের ফলে দেশে বিজ্ঞানচর্চার ব্যাপক উন্নতি হবে এবং সব পর্যায়ে গবেষণার জন্য তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এই নীতিমালার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করাও অন্যতম উদ্দেশ্য হবে। উপরন্তু এই নীতিমালা বাস্তবায়নের ফলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে জ্ঞানসম্পন্ন হবে।

০৪.
২০২১ সালে প্রতিটি ঘরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছাবে এবং প্রতিটি মানুষ মোবাইল বা টেলিকম প্রযুক্তিসহ তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সমভাবে, সমপর্যায়ে ব্যবহারের জন্য সমান সুযোগ পাবে। এতে গ্রামগুলোকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ব্যবহার ও তাদের কাছে এসব প্রযুক্তিলভ্যতাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এই নীতিমালা বাস্তবায়নের ফলে শহর ও গ্রাম এবং ধনী ও গরিবের মাঝে ডিজিটাল ডিভাইড সম্পূর্ণ দূর করা হবে। এর ফলে সামাজিক সাম্য, নারী-শিশু ও প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তাদের জন্য তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির সুযোগসুবিধা সহজলভ্য করা এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ব্যবহারের সাহায্যে সমাজের অনগ্রসর শ্রেণীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করাসহ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাও এই নীতিমালার উদ্দেশ্য হবে।

০৫.
এই নীতিমালা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য হবে সরকারি-বেসরকারি কৃষি-শিল্প ও ব্যবসায়-বাণিজ্যসহ সব ধরনের উৎপাদন, বিপণন, বিক্রিসহ সব পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা। এসব খাতের সব তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাওয়া নিশ্চিত করাও এই নীতিমালার অন্যতম উদ্দেশ্য হবে। এই নীতিমালার আওতায় এমনসব ব্যবস্থা নেয়া হবে, যার সাহায্যে মেধাসম্পদ রফতানি ব্যাপকভাবে বাড়বে এবং দেশের ভেতরে মেধাসম্পদের সৃজন, সংরক্ষণ ও উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। এই নীতিমালার অন্যতম উদ্দেশ্য হবে জাতীয় গড় উৎপাদনে মেধাজাত আয়ের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বাড়ানো।

০৬.
এই নীতিমালার উদ্দেশ্য হবে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যসেবাসহ তাকে প্রদত্ত সব সেবায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করা। এই নীতিমালার অন্যতম উদ্দেশ্য হবে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি, সামাজিক সম্পর্ক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনধারাকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করা।

০৭.
এই নীতিমালার উদ্দেশ্য হবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলাভাষার উন্নয়ন, বিকাশ এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে এই ভাষার ব্যবহারকে নিশ্চিত করা। এই নীতিমালার উদ্দেশ্য হবে বাঙালির সাহিত্য সংস্কৃতির উন্নয়ন ও বিকাশকে তথ্যপ্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করা।

এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলোকে সামনে রেখে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের সময় উদ্দেশ্যগুলো আরও স্পষ্ট করা যেতে পারে। এরপর সেখান থেকে কৌশলগত বিষয়বস্ত্ত নির্ধারণ করা যেতে পারে। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য এই নীতিমালার সাথে প্রদত্ত কর্মপরিকল্পনাগুলোকে অর্থবছরভিত্তিক বিন্যস্ত করা যেতে পারে। অনুমোদিত নীতিমালায় অগ্রাধিকারও চিহ্নিত করা হয়নি, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

যাহোক, আমি এর আগেই বলেছি, এই নীতিমালার কর্মপরিকল্পনার সাথে কার্যত নীতিগত কোনো বিরোধ খুঁজে পাই না। একে সাজানোর দিক থেকে ভিন্ন করা গেলে বা স্পষ্ট করে আরও কিছু কথা বলা হলে বিষয়টি অনেক ভালো হতে পারতো। নীতিমালার প্রণেতারা সেদিকে না গিয়ে তাদের মতো করে নীতিমালাটিকে সাজিয়েছেন। আমি মনে করি, যারা এটি প্রণয়নের সাথে জড়িত ছিলেন তাদের যদি স্পষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকতো তবে নীতিমালার ভাষা ও সাংগঠনিক পরিবেশনা অন্যরকম হতো।

যেহেতু তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা ২০০৮-কেই তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা ২০০৯-এ রূপান্তর করা হয়েছে সেহেতু আগের নীতিমালার দুর্বলতম দিকগুলো এতে বিদ্যমান রয়ে গেছে। আমার মতে দুর্বলতাগুলো নিমণরূপ :

ক.
নীতিমালাটি একটি অরাজনৈতিক অঙ্গীকারবিহীন সরকারের আমলে প্রতিশ্রম্নত নয় এমন লোকদের প্রাধান্য দিয়েই তৈরি করা। ওরা সমাজের খুব গুণী মানুষ হলেও তাদের কোনো ধরনের লার্জ কমিটমেন্ট নেই জনগণের কাছে। তারা জনগণকে প্রতিনিধিত্বও করেন না। বরং এই প্রণেতা দলটি ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণাটিকেই প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণায় জাতির প্রতি যে অঙ্গীকারটুকু করা হয়েছে নীতিমালায়, তার পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন নেই। একটি এনজিও ঘরানার এই নীতিমালা একটি রাজনৈতিক সরকার পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারে না। একে পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক সরকারের অঙ্গীকারের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করা উচিত ছিল।

খ.
নীতিমালাটি জনগণের কাছে উপস্থাপিত হয়নি। প্রণেতারা ছাড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের আগে এই নীতিমালাটি দেশের কোনো পর্যায়ের মানুষের সামনে পেশ করা হয়নি বা তাদের কোনো মতামত নেয়া হয়নি। ফলে এর পেছনে কোনো ধরনের জনসমর্থন নেই। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের মাধ্যমে এর পেছনে জনসমর্থন আরোপ করা হচ্ছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষই সেটি জনগণের দলিল হয়নি।

গ.
নীতিমালার কৌশলগত বিষয়গুলোর আধিক্য ও কর্মপরিকল্পনায় পুনরুক্তি রয়েছে।

এটি অত্যন্ত আনন্দের যে, নীতিমালাটি অনুমোদনের কিছুটা আগে ও পরে বিশেষত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সামনে একে বেশ কয়েকবার উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রথমে গত ১৬ জুন ২০০৯ বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিল একটি অর্ধবেলার কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় বলা হয়নি যে এটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে নীতিমালা বাস্তবায়নে করণীয় কী সেটি নির্ধারণ করার জন্য এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে ১১ জন সচিবসহ ৭১ জন সরকারি কর্মকর্তা অংশ নেন। কর্মশালার উদ্বোধনী ও সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব নাজমুল হুদা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছয়জন সচিবসহ বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখে। ঢাকার এই সেমিনারের পর বিসিসি খুলনা (২২ জুন), চট্টগ্রাম (২৮ জুন) ও বরিশালে (২৯ জুন) আরও তিনটি সেমিনারের আয়োজন করে। এসব সেমিনারেও কিছু সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়। অন্য বিভাগীয় শহরেও একই ধরনের অভিজ্ঞতা হতে পারে। ৬ এপ্রিল যে কর্মশালাটি হয় তাতেও অনেক প্রস্তাবনা এসে থাকবে। এই কর্মশালাটি গুরুত্বপূর্ণ এজন্য যে, এতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের যারা আইসিটি ফোকাল পয়েন্ট তারা অংশ নিয়েছেন।

সার্বিকভাবে এই কথাটি বলা যায়, এবার আইসিটি পলিসি ২০০৯ যখন পর্যালোচনা করা হবে তখন যেন এর বিদ্যমান ত্রম্নটিগুলো না রাখা হয়। সেমিনার ও কর্মশালার মতামতের পাশাপাশি যেন জনগণেরও মতামত নেয়া হয়। এটি যেন সত্যি সত্যি একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচিতে পরিণত হয়। কমিটির একজন সদস্য হিসেবে আমি সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখবো। কামনা করবো বাকি সদস্যরা এ বিষয়ে সচেতনতার সাথেই পা ফেলবেন।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : mustafajabbar@gmail.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস