Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > কমপিউটার পরিপাটি রাখা
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: তাসনুভা মাহমুদ
মোট লেখা:১০৩
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১০ - মে
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
রক্ষনাবেক্ষন
তথ্যসূত্র:
পাঠশালা
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
কমপিউটার পরিপাটি রাখা

কমপিউটারকে পরিপাটি রাখা বলতে আমরা অনেকেই সিস্টেমকে ভেতরে ও বাইরে ধূলাবালিমুক্ত, পরিষ্কার ও পরিপাটি রাখা বুঝে থাকলেও আসলে এ লেখায় সিস্টেমকে পরিষ্কার রাখা বলতে অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম, স্বেচ্ছাচারিতাপূর্ণ সেটিং, ভাইরাস ফর্মে ক্ষতিকর কোড ও স্পাইওয়্যারমুক্ত রাখাকে বোঝানো হয়েছে। কমপিউটার সিস্টেমকে পরিষ্কার রাখতে যেসব বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং যা যা করতে হবে, তা অভিজ্ঞ ব্যবহারকারীরা জানলেও সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে অজানা। তাই কমপিউটার জগৎ-এর নিয়মিত বিভাগ পাঠশালায় এবার উপস্থাপন করা হয়েছে সিস্টেমকে পরিপাটি রাখার জন্য করণীয় কাজসমূহ।

প্রথম যা করতে হবে

কমপিউটারের মেইনটেনেন্সের যেকোনো কাজ শুরু করার আগে আপনার প্রয়োজনীয় ডাটা ব্যাকআপ করে নিন, যাতে কোনো অবস্থাতে ডাটা হারিয়ে না যায়। এজন্য সেট করুন সিস্টেম রিস্টোর পয়েন্ট।

উইন্ডোজ এক্সপিতে সিস্টেম রিস্টোর পয়েন্ট তৈরি করার জন্য Start®All Programs® Accessories®System Tools-এ নেভিগেট করে পরিশেষে ক্লিক করুন System Restore-এ। সিস্টেম রিস্টোর পয়েন্ট স্ক্রিনে সিলেক্ট করুন Create a Restore Point। এরপর Next বাটনে ক্লিক করে রিস্টোর পয়েন্টের জন্য একটি নাম এন্টার করুন এবং Create বাটনে ক্লিক করুন। রিস্টোর পয়েন্ট তৈরি হবার পর ক্লোজ বাটনে ক্লিক করুন।

উইন্ডোজ ভিসতায় Start-এ ক্লিক করে সার্চবারে System Restore টাইপ করুন। এরপর পরবর্তী উইন্ডোতে সিস্টেম রিস্টোরে ক্লিক করে Open System Protection লিঙ্কে ক্লিক করুন। এর ফলে যে উইন্ডো আবির্ভূত হবে, সেখানে Create বাটনে ক্লিক করুন রিস্টোর পয়েন্ট তৈরি করার জন্য। এবার রিস্টোর পয়েন্টের নাম দিয়ে সেভ করুন।



এবার পরিকল্পনা করুন যেসব ফাইল অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম হার্ডডিস্কে পূর্ণ হয়ে সিস্টেমকে ধীর গতিসম্পন্ন করেছে সেগুলো অপসারণ করে উইন্ডোজ সিস্টেমকে অধিকতর গতিশীল করার। এরপর নিশ্চিত করুন, সিস্টেমে যেন কোনো রকম ক্ষতিকর অ্যাপ্লিকেশন রানিং না থাকে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত প্রোগ্রাম লোডিং ও উইন্ডোজ আত্তীকরণ প্রোগ্রাম যেন বন্ধ থাকে।

পরিষ্কার করার জন্য যা দরকার

অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম হার্ডডিস্কে যত্রতত্র এমনভাবে থাকে যেন গ্যারেজের ময়লা আবর্জনার সত্মূপ। আমাদের প্রয়োজন পুরনো প্রোগ্রাম ও ফাইল, ফোল্ডার ও অ্যাপ্লিকেশন, প্রোগ্রামের ধ্বংসাবশেষকে ঝেঁটিয়ে পরিষ্কার করা এবং পরিশেষে উইন্ডোজের বিল্ট-ইন টুল ডিফ্র্যাগমেন্টেশন ব্যবহার করে সিস্টেমকে সুবিন্যস্ত করা।

এ উদ্দেশ্য হাসিল করা যায় দু’ভাবে-হয় ম্যানুয়ালি, নয়তো স্পেসিয়ালিস্ট ইউটিলিটি ব্যবহার করে। উইন্ডোজ ব্যবহার করে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রোগ্রাম যেভাবে অপসারণ করা যায় তা নিচে উপস্থাপন করা হয়েছে :

উইন্ডোজ এক্সপিতে Start®Settings® Control Panel-এ ক্লিক করুন। এরপর Add বা Remove Programs বাটনে ক্লিক করুন। এরপর প্রদর্শিত লিস্ট থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রোগ্রামসমূহ সিলেক্ট করে Remove বাটনে ক্লিক করুন। উইন্ডোজ ভিসতায় এই টুলটি পাওয়ার জন্য Start®Control Panel-এ ক্লিক করুন। কন্ট্রোল প্যানেলে প্রোগ্রাম হেডারের অন্তর্গত সিলেক্ট করুন Uninstall a Programs। এরপর অনাকাঙ্ক্ষিত প্রোগ্রাম সিলেক্ট করে Uninstall বাটনে ক্লিক করুন রিমুভাল প্রসেস শুরু করার জন্য। লক্ষণীয়, যদি আপনি পিসিকে অন্যদের সাথে শেয়ার করেন, তাহলে এক ইউজার অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো অ্যাপ্লিকেশন রিমুভ করলে অন্য সব ইউজার থেকেও তা রিমুভ হবে।



রিমুভাল প্রসেস সম্পন্ন করার জন্য অনেক প্রোগ্রাম পিসি রিস্টার্ট করার জন্য রিকোয়েস্ট করে। তবে যদি অল্প কয়েকটি প্রোগ্রাম রিমুভ করতে হয়, তাহলে ভালো হয় কাঙ্ক্ষিত সব প্রোগ্রাম রিমুভ করার পর সিস্টেম রিস্টার্ট করা।

প্রাসঙ্গিক সব প্রোগ্রাম রিমুভ করার পর পিসি রিস্টার্ট করুন। এরপরের রিমুভ প্রসেসের কাজটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ যা বাজে কাজে সময় নষ্ট করার মতো।

পরিষ্কার করা

উইন্ডোজ এক্সপিতে পুরনো প্রোগ্রামের যেকোনো বাকি অংশ অপসারণ করার জন্য প্রথমে My Computer ওপেন করুন। এবার বার মেনু থেকে Tools®Folder Options সিলেক্ট করে মেনু থেকে ভিউ লেবেল করা ট্যাব বেছে নিন। এবার লিস্টে স্ক্রল ডাউন করে ‘Show hidden files and folders’ অপশন সিলেক্ট করা আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন। এরপর Apply বাটনে ক্লিক করে OK-তে ক্লিক করুন। আর ভিসতায় এ কাজটি করার জন্য Start®Control Panel-এ ক্লিক করুন। এরপর বামদিকের ‘Classic View’ লিঙ্কে ক্লিক করে Folder Options আইকন বেছে নিন। Folder Options উইন্ডোতে View ট্যাবে ক্লিক করুন এবং ‘Hidden files and folders’ অপশনের অন্তর্গত ‘Show Hidden files and folders’ অপশনে ক্লিক করুন। এবার Apply-তে ক্লিক করে Ok-তে ক্লিক করুন।

যখন সব ফাইল ও ফোল্ডার দৃশ্যমান হবে, তখন C: ড্রাইভ থেকে My Computer-এ ব্রাউজ করুন। ভিসতায় যা শুধু Computer হিসেবে থাকে। এরপর Program Files ফোল্ডার ব্রাউজ করে রিমুভ করা প্রোগ্রামের রয়ে যাওয়া বাকি ফোল্ডারকে ডিলিট করুন। যেসব প্রোগ্রাম আপনার দরকার নেই কেবল সেগুলো নিশ্চিত হয়ে ডিলিট করুন। আর যদি সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন, তাহলে এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এবার Desktop-এ গিয়ে Recycle Bin আইকনে ডান ক্লিক করুন এবং সিলেক্ট করুন Empty Recycle Bin। কাজ শেষে কমপিউটার রিস্টার্ট করুন।

এবার আসা যাক, অপ্রয়োজনীয় ফাইল প্রসঙ্গে যা পুঞ্জীভূত হতে থাকে ইন্টারনেট সার্ফিংয়ের সাথে সাথে। এই অপ্রয়োজনীয় ফাইলসমূহ অপসারণ করার জন্য ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ৭-এর Internet Options-এর Tools মেনুতে ক্লিক করতে হবে। এরপর General ট্যাবের Browsing হিস্টোরির অন্তর্গত Delete বাটনে ক্লিক করুন। পরবর্তী উইন্ডোতে Temporary Internet Files-এর অন্তর্গত Delete Files-এ ক্লিক করুন।

ফায়ারফক্স থ্রি ব্যবহারকারীরা মেনু বারের টুলস-এ ক্লিক করে Options-এ ক্লিক করুন। এরপর Options উইন্ডোর Privacy বাটনে ক্লিক করে Private Data-এর অন্তর্গত Settings বাটনে ক্লিক করতে হবে। তারপর Clear Private Date উইন্ডোতে নিশ্চিত করুন Cache and Offline Web Site Data সিলেক্ট করা আছে কি না। পরিশেষে Ok-তে ক্লিক করুন।

উইন্ডোজ টুল ‘ডিস্ক ক্লিনআপ’ অপ্রয়োজনীয় ফাইল শনাক্ত ও অপসারণ করতে পারে। এই টুল টেম্পোরারি উইন্ডোজ ফাইল নিরাপদে রিমুভ করার জন্য বিশেষভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। উইন্ডোজ এক্সপিতে ডিস্ক ক্লিনআপ টুল ব্যবহার করে কাজ করতে চাইলে Start® Programs®Accessories®System Tools-এ ক্লিক করে Disk Cleanup-এ ক্লিক করুন। এর ফলে ডিস্ক ক্লিনআপ হিসেব করে দেখবে হার্ডডিস্কে কোন ফাইলটি রয়ে গেছে রিমুভ করার জন্য। ডিস্ক ক্লিনআপের মাধ্যমে অ্যানালাইজ হবার পর Temporary files অপশনে টিক দিয়ে ওকে করুন।

উইন্ডোজ ভিসতায় ডিস্ক ক্লিনার রান করানোর জন্য Start-এ ক্লিক করে টাইপ করুন ‘Clean’ এবং আবির্ভূত লিঙ্কে ক্লিক করুন। যখন Disk Cleaning Options উইন্ডো আবির্ভূত হবে।

ডিফ্র্যাগমেন্টেশন

অপ্রয়োজনীয় ফাইল বা প্রোগ্রাম দূর করার সাথে সাথে সিস্টেমকে ভাইরাসমুক্ত রাখলেই যে সিস্টেম পরিপাটি হয় তা নয়। উপরোল্লিখিত কাজ শেষে সিস্টেমের বাকি ফাইলগুলো সুবিন্যাস্ত করা দরকার। এজন্য উইন্ডোজের ডিস্ক ডিফ্র্যাগমেন্ট টুল ব্যবহার করে ডিস্কের ফাইলসমূহ সুবিন্যস্ত করা যায়। উইন্ডোজ এক্সপিতে Start®Programs®Accessories® System Tools-এ ক্লিক করে সবশেষে Disk Defragmenter বেছে নিন। এরপর যে ড্রাইভকে পরিপাটি করতে হবে তা সিলেক্ট করে Defragment বাটনে ক্লিক করলেই ডিস্ক ডিফ্র্যাগমেন্টেশন প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভিসতায় এ কাজটি করার জন্য Start-এ ক্লিক করে Defrag টাইপ করতে হবে। এবার প্রোগ্রাম লিঙ্কে ক্লিক করে ওকেতে ক্লিক করতে হবে যেকোনো User Account Control মেসেজে। ডিস্ক ডিফ্র্যাগমেন্টার উইন্ডোতে আনসিলেক্ট করতে হবে Run on a schedule অপশন এবং সবশেষে Defragment now বাটনে ক্লিক করতে হবে।

এরপর সিস্টেমকে ভাইরাস ও স্পাইওয়্যারমুক্ত করতে হবে। ফলে সব অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম ও ফাইল হার্ডডিস্ক থেকে অপসারিত হয়ে সিস্টেমে নতুন সাজে সজ্জিত হবে। হবে অপটিমাম স্পিডসম্বলিত।

সবশেষে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রোগ্রাম স্টার্টআপের সময় যাতে লোড হতে না পারে, তার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। এ কাজটি করার জন্য পিসির স্টার্টআপ প্রসেস সম্পন্ন হবার পর নোটিফিকেশন এরিয়ার প্রোগ্রামগুলোর দিকে খেয়াল করে দেখুন। তবে অবশ্যই ম্যানুয়ালি কোনো অ্যাপ্লিকেশন ওপেন করার আগে। প্রতিটিতে ডান ক্লিক করলে একটি কনটেন্ট মেনু আবির্ভূত হবে যেখানে থাকবে পুরো প্রোগ্রাম ওপেন বা রিস্টোর করার অপশন।

Options বা Preferences মেনু লোকেট করার জন্য ব্যবহার করুন Toolbar মেনু। এটি সাধারণত সফটওয়্যার অন্তর্গত Edit বা Tools মেনুতে থাকে। উদাহরণস্বরূপ এক্সপিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উইন্ডোজ মেসেঞ্জার স্টার্ট হওয়াকে বন্ধ করা যায়। এজন্য Notification Area-র আইকনে ডান ক্লিক করুন এবং মেনু থেকে Open-এ ক্লিক করুন। এরপর মেনু থেকে Tools-এ ক্লিক করুন এবং Preferences ট্যাবে সুইচ করে Run Windows Messenger When Windows starts অপশন আনটিক করুন যাতে লোড হতে না পারে।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : mahmood_sw@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস