Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > ৩য় মত
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: কজ
মোট লেখা:১০৪১
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১০ - জুলাই
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
মতামত
তথ্যসূত্র:
৩য় মত
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
৩য় মত



পাইর্যানসিতে তৃতীয় বাংলাদেশ বিষয়টি লজ্জাকর

আমাদের প্রতিদিনের কমপিউটিং জীবনের গতিধারা সহজতর হয়েছে মূলত বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সিস্টেম, অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম ও হার্ডওয়্যারের সমন্বিত কর্মকান্ডের ফলে। কমপিউটিংয়ের জন্য শুধু ভালো মানের হার্ডওয়্যার হলেই হবে না, এজন্য চাই সঙ্গতিপূর্ণ ভালোমানের সফটওয়্যারও। কিন্তু দুঃখের বিষয় এ বিষয়টি আমাদের দেশের বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই জানেন না বা উপলব্ধি করেন না। তাদের উপলব্ধিতে নেই একটি সফটওয়্যার ডেভেলপ করতে কতটুকু মেধা, অর্থ ও শ্রম দিতে হয়। আমরা বুঝতে চেষ্টা করি না সফটওয়্যার ডেভেলপারদের মেধা শ্রমসাধনার পথ ধরেই আমরা আমাদের কাজে গতিশীলতা ও যথার্থতা আনতে পারছি। অবশ্য এজন্য আমাদের মানসিক প্রবণতা, অর্থনৈতিক অবস্থার সাথে হার্ডওয়্যার পণ্য বিক্রেতাসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দায়ী করা যেতে পারে।

হার্ডওয়্যার পণ্য বিক্রেতাদের দায়ী করা যেতে পারে এ কারণে যে, এরা কখনোই ক্রেতাকে জানায় না সফটওয়্যারটি লাইসেন্স করা, এটি ইনস্টল করতে বাড়তি খরচ বহন করতে হবে। তাদের কমপিউটারে লাইসেন্স করা সফটওয়্যার ইনস্টল দরকার, পাইর্যা্টেড সফটওয়্যার নয়। পাইর্যা টেড সফটওয়্যার ব্যবহার করা আইনগত ও নৈতিক দিক থেকে অন্যায়। তাছাড়া কমপিউটারে অযথা বিভিন্ন সফটওয়্যার ইনস্টল করলে হার্ডডিস্কের মূল্যবান স্পেস যেমন নষ্ট হয়, তেমনি কমপিউটারের গতিও কমে যায় ব্যাপকভাবে। শুধু তাই নয়, এতে ভাইরাস আক্রান্ত হবার সম্ভাবনাও থেকে যায় বেশি। এমন তথ্য বিক্রেতাদের উচিত ক্রেতাকে জানানো। তেমনটি হলে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবার মতো সফটওয়্যার পণ্য প্যাইরেসিতে আমাদের তৃতীয় স্থান দখল করার মতো দুর্নামের ভাগীদার হতে হতো না।

আমাদের সবার মনে থাকা উচিত, দেশী-বিদেশী যেকোনো ধরনের সফটওয়্যার ডেভেলপ করা মূলত একটি মেধাভিত্তিক কাজ। আমরা যদি সবাই পাইরযাীয়টেড সফটওয়্যার ব্যবহার করি, তাহলে এই মেধাভিত্তিক কাজের প্রসার ঘটবে না। ফলে আমরা ক্রমেই পিছিয়ে পড়ব অন্যান্য দেশ থেকে। আর আমরা আইসিটি খাতের এই লজ্জার ও দুর্নামের হাত থেকে রেহাই পাব না।

প্রয়োজনে ফ্রি সফটওয়্যার ব্যবহার করা যেতে পারে আমাদের কমপিউটিং চাহিদা মেটাবার জন্য। তবু পাইর্যাাটেড সফটওয়্যার নয়।

রমিজউদ্দীন

খাকডহর, ময়মনসিংহ

...........................................................................................................................

নীতিনির্ধারকদের বোধোদয় কবে হবে?

প্রিয় পত্রিকা মাসিক কমপিউটার জগৎ মাঝে-মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইসিটিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রের উল্লেখযোগ্য ঘটনা, অবদান, কর্মকান্ড তুলে ধরে, যা আমাদের দেশের নীতিনির্ধারক ও উদ্যোক্তাদের জন্য দিকনির্দেশক বা অনুসরণীয় হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। এমনই একটি লেখা জুন ২০১০-এ কমপিউটার জগৎ-এ প্রকাশিত হয়েছে। এর শিরোনাম ছিল ‘আইসিটি উন্নয়নে শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা’।

শ্রীলঙ্কা আইসিটি খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড হাতে নিয়ে বেশ সফলতা পেয়েছে, তা নেটওয়ার্ক রেডিনেস ইনডেক্স দেখেই বুঝা যায়। এরা আইসিটিকে পুঁজি করে দেশের অর্থনীতির উন্নতির চাকাকে করছে আরো বেগবান। এরা কথার সাথে কাজের সঙ্গতি রেখেই এগিয়ে চলছে। তারা যা বলে তা বাস্তবায়ন করে দেখায়। জনগণের হাততালি বা সস্তা বাহবা পাবার জন্য কোনো কিছু বলে না। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েই শ্রীলঙ্কা সরকার বাস্তবতার নিরিখে ঘোষণা দেয় ‘ইয়ার অব আইসিটি অ্যান্ড ইংলিশ’। শুধু ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত নয়, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয় এবং এর যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য নজরদারিও অব্যাহত ছিল। এর ফলে শ্রীলঙ্কা সরকার আশা করছে, ২০১২ সালের মধ্যে আইসিটি খাতে ২০০ কোটি ডলার আয় করতে পারবে এবং আইসিটি খাতে এক লাখের বেশি তরুণের কর্মসংস্থান করতে পারবে।

আমাদের দেশের সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা জনসাধারণের মাঝে এক নতুন উদ্দীপনা ও প্রেরণা সৃষ্টি করেছে। এ ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করলে এ লক্ষ্য অর্জন নিঃসন্দেহে সফল হবে। তবে কিছু কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো উপেক্ষিত হলে এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না এবং ব্যর্থ হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। সম্প্রতি সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের কিছু কর্মকান্ড এমনি ইঙ্গিত বহন করছে।

আরেকটি বিষয় সরকারের কিছু শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা প্রায়ই বলে থাকেন, দেশে কলসেন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে কর্মসংস্থান হবে বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণের এবং এ লক্ষ্যে এরা কাজও করে যাচ্ছেন। কিন্তু কলসেন্টারে যারা কাজ করবেন, তাদের হতে হবে ইংরেজিতে দক্ষ। ইংরেজিতে দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার ব্যাপারে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাছাড়া যে কলসেন্টার গড়ে তোলা হবে তার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা অবকাঠামো গঠন করা হয়নি এখন পর্যন্ত।

কলসেন্টার গড়ে তুলে শিক্ষিত তরুণ বেকারদের কর্মসংস্থান করতে চাইলে শ্রীলঙ্কার মতো এদেশেও সরকারকে ইংরেজি শিক্ষার ওপর জোড় দিতে হবে বিশেষ করে যারা কলসেন্টারে কাজ করবেন তাদের জন্য। গঠন করতে হবে প্রয়োজনী অবকাঠামো। শুধু সরকারই যে এসব কাজ করবে তা নয়, বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের উদ্যোগী হতে হবে।

সুতরাং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সবার কাছে আমাদের আবেদন দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞতাকে দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে বিদেশে বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং তদানুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে আন্তরিকতার সাথে।

প্রীয়মত্মী
মিরপুর, ঢাকা

...........................................................................................................................

কমপিউটার জগৎ-ডি.নেট-স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মহৎ উদ্যোগ

কমপিউটার জগৎ তার জন্মলগ্ন থেকে দেশের আইসিটি খাতের উন্নয়নে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে অব্যাহতভাবে তার দৃষ্টান্ত এদেশে বিরল, এতে কারো দ্বিমত নেই বলেই আমার দৃঢ়বিশ্বাস। সম্প্রতি কমপিউটার জগৎ তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সেবা প্রতিষ্ঠান ডি.নেট ও এদেশের অন্যতম ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সাথে মিলে দেশব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কমপিউটার লার্নিং সেন্টার’ তথা সিএলসি খোলার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠান তিনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ইনস্টিটিউটে একটি কমপিউটার লার্নিং সেন্টার উদ্বোধন করে।

শুধু তাই নয় এ আরো প্রশংসনীয় উদ্যোগ হলো প্রতিষ্ঠান তিনটি দেশের বিভিন্ন স্থানের ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মাঝে কমিপউটার প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু করেছে। কমপিউটার জগৎ-ডি.নেট-স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগ দেশের আইসিটি শিক্ষা বিস্তারে তা অনন্য ভূমিকা রাখবে।

আমরা এই প্রতিষ্ঠান তিনটির যৌথ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। সেই সাথে প্রত্যাশা করি এই শিক্ষা কার্যক্রম যেনো অব্যাহত থাকে এবং তার জন্য নিয়মিত তদারকিও যেন অব্যাহত থাকে। সেই সাথে আশা করি, বড় বড় প্রতিষ্ঠান যেন কমপিউটার জগৎ-এর এ উদ্যোগে শামিল হয়।

মোশারফ হোসেন
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস