Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > গেমিং পিসির বায়িং গাইড
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সৈয়দ হাসান মাহমুদ
মোট লেখা:১৪৩
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১০ - জুলাই
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
গেম
তথ্যসূত্র:
প্রচ্ছদ প্রতিবেদন
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
গেমিং পিসির বায়িং গাইড

গেমিং পিসি ও সাধারণ পিসির মাঝে রয়েছে বেশ পার্থক্য। সাধারণ পিসিতে যেসব হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা হয় তার সবই গেমিং পিসিতেও থাকে। হার্ডওয়্যারের তালিকায় গেমিং পিসিতে যেসব হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা হয় তা সাধারণ পিসিতে ব্যবহার করা হার্ডওয়্যারের তুলনায় অনেক শক্তিশালী ও কার্যক্ষম। তাই গেমারদের জন্য বেশ যাচাই বাছাই করে গেমিং পিসির উপকরণ কিনতে হয়। তা নাহলে নতুন বের হওয়া গেমগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়। গেমারদের জন্য ভালো মানের গেমিং পিসির যন্ত্রাংশ বাছাই ও কেনার ব্যাপারে গাইডলাইন নিয়ে এবারের প্রচ্ছদ প্রতিবেদন লিখেছেন সৈয়দ হাসান মাহমুদ।



গেমারের নেশা গেমিং। নিত্যনতুন গেম খেলাটাই তার শখ। নতুন বের হওয়া গেমগুলোর সিস্টেম রিকোয়ারমেন্টের দিকে তাকালে সাধারণ গেমারদের চেহারায় ফুটে ওঠে বিষাদের ছায়া। পিসি কেনার সময় কিছু ব্যাপার খেয়াল রাখলে এ ঝামেলা পোহাতে হতো না। দু-একটা যন্ত্রাংশ আপগ্রেড করেই সহজে এ বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যেত। সাধারণ গেমারদের কথা না হয় বাদই দিলাম, উচ্চক্ষমতার গেমিং পিসি নিয়েও অনেক গেমার সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। হার্ডওয়্যারগুলো একে অপরের সাথে মিলে ঠিকভাবে কাজ করে কি না তা দেখে না কেনার ফলে আপগ্রেড করার সময় ভালো গেমারদেরও সমস্যা হয়।

এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে দুটি উপায় অবলম্বন করা যায়। এক হচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানির বানানো ব্র্যান্ড গেমিং পিসি কেনা যাতে হার্ডওয়্যারগুলোর মাঝে ভালো সামঞ্জস্য ঘটানো হয়েছে। আরেকটি হচ্ছে যাচাই করে আলাদা আলাদা কমপিউটার পার্টস কিনে তা নিজ হাতে সংযোজন করা। ব্র্যান্ড গেমিং পিসিগুলোর সব যন্ত্রাংশ আপনার মনমতো নাও হতে পারে। যেমন- আপনি পছন্দ করেন এনভিডিয়া জিফোর্স সিরিজের গ্রাফিক্স কার্ড আর তাতে দেয়া আছে এটিআই রেডিওন সিরিজের কার্ড। কেসিং পছন্দসই হবার ব্যাপারটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই সবচেয়ে ভালো হয় নিজেই যন্ত্রাংশগুলো কিনে তা নিজ হাতে সংযোজন করা। এতে যেসব সুবিধা পাবেন তা নিম্নরূপ :

০১. কম খরচে সবচেয়ে ভালো পারফরমেন্স পাওয়ার নিশ্চয়তা,
০২. পিসির হার্ডওয়্যার সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ,
০৩. কমপিউটারের কাজ করার পদ্ধতি ও যন্ত্রাংশগুলোর মাঝে যোগসাজশ সম্পর্কে ভাল ধারণা,
০৪. কমপিউটার পণ্যগুলোর মানের পার্থক্য নির্ণয় এবং দাম সম্পর্কেও পাওয়া যাবে ভালো ধারণা এবং
০৫. সবশেষে অর্জন করা যাবে নতুন এক অভিজ্ঞতা এবং সেই সাথে পাওয়া যাবে মনমতো একটি গেমিং পিসি।

কমপিউটার কেনার আগে করণীয়

পিসি কেনার আগে কিছু যাচাই বাছাইয়ের প্রয়োজন, কারণ পিসির যন্ত্রাংশের মাঝে সামঞ্জস্য না থাকলে তা পরে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। চাহিদা ও বাজেট অনুযায়ী ক্রেতাকে ঠিক করতে হবে কোন ধরনের পিসি তিনি কিনবেন? বাজেটের ঝামেলা চুকে যাবার পর আপনার উচিত হবে গেমিং পিসি বানাতে কি কি লাগবে তার একটি তালিকা বানিয়ে নেয়া। প্রাথমিকভাবে যেসব যন্ত্রাংশ অবশ্যই লাগবে সেগুলো হচ্ছে : উচ্চক্ষমতার প্রসেসর, প্রসেসরের সাথে মানানসই গেমিং মাদারবোর্ড, উচ্চগতি ও বেশি ধারণক্ষমতার র্যা ম, হাই স্পিডযুক্ত ও বেশি ধারণক্ষমতার হার্ডডিস্ক, ভালোমানের গ্রাফিক্স কার্ড, ভালো কুলিং সিস্টেমসহ ক্যাসিং বা চ্যাসিস, ভালোমানের ও বেশি ওয়াটযুক্ত পাওয়ার সাপ্লাই, বাজারের সেরা ডিভিডি রাইটার, গেমিং মনিটর, গেমিং কীবোর্ড ও গেমিং মাউস।

যন্ত্রাংশের তালিকায় আরো কিছু আনুষঙ্গিক উপকরণ যোগ করতে পারেন, যদি বাজেট ভালো হয়ে থাকে। সেগুলো হচ্ছে- সাউন্ড কার্ড, সিপিইউ কুলার, সারাউন্ড স্পিকার সিস্টেম, ব্লু-রে ড্রাইভ, সলিড স্টেট হার্ডড্রাইভ, গেমিং হেডফোন, কমপিউটার গেমিং ডেস্ক, গেমিং চেয়ার, জয়স্টিক বা গেমপ্যাড, নেটওয়ার্ক কার্ড বা মডেম এবং বেশিক্ষণ ব্যাকআপ দিতে সক্ষম ইউপিএস।

যন্ত্রাংশ পরিচিতি ও কেনার ব্যাপারে পরামর্শ

গেমিং পারফরমেন্স বাড়ানোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রসেসর, মাদারবোর্ড, র্যাাম ও গ্রাফিক্স কার্ড। তাই নিচে এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

প্রসেসর



বাজারে দুই রকমের কোম্পানির প্রসেসর পাওয়া যায়। তার একটি হচ্ছে ইন্টেল ও অপরটি হচ্ছে এএমডি (অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইস)। আমাদের দেশের বেশিরভাগ লোকই প্রসেসর বলতে ইন্টেলের বানানো প্রসেসরকেই বুঝে থাকেন। প্রসেসর কেনার আগে ক্রেতার প্রসেসরের কিছু বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জ্ঞান থাকা ভালো।

ক্লক স্পিড :
সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট বা সিপিইউ প্রতি সেকেন্ডে কতগুলো ক্যালকুলেশন বা গণনা সম্পন্ন করতে পারে তা পরিমাপ করার জন্য ব্যবহার করা হয় ক্লক স্পিড। তাই ক্লক স্পিড যত বেশি হবে প্রসেসরের গতি ও ক্ষমতাও তত বেশি হবে। এখনকার প্রসেসরগুলোর গতি অনেক বেশি, তাই এদের গতি মাপা হয় গিগাহার্টজ এককে, যেমন- ২ গিগাহার্টজ বা ৩.০৬ গিগাহার্টজ ইত্যাদি।

ফ্রন্ট সাইড বাস স্পিড :
এফএসবি (FSB-Front Side Bus) বলতে সিপিইউ ও মাদারবোর্ডের চিপসেট কম্পোনেন্টের যোগাযোগের গতির হার বোঝানো হয়। ফ্রন্ট সাইড বাস স্পিড যত বেশি হবে সিপিইউ তত তাড়াতাড়ি মাদারবোর্ড তথা অন্যান্য যন্ত্রাংশের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে। তাই বেশি বাস স্পিডযুক্ত প্রসেসরের ক্ষমতা বেশি। এফএসবির গতি মাপার কাজে ব্যবহার করা হয় মেগাহার্টজ একক।

ইন্টারফেস :
প্রসেসরের ক্ষেত্রে ইন্টারফেস বলতে প্রসেসর মাদারবোর্ডের সাথে কানেকশন দেয়া উপায়টিকে বোঝানো হয়। প্রসেসরকে মাদারবোর্ডের সাথে যুক্ত করা হয় সকেটের মাধ্যমে। প্রসেসরের মডেলের সাথে খাপ খায় এমন সকেটের মাদারবোর্ডের সাথেই তা যুক্ত করা যায়। ইন্টেলের প্রসেসরের ক্ষেত্রে সেলেরন, পেন্টিয়াম, পেন্টিয়াম ডি, পেন্টিয়াম ডুয়াল কোর, কোর টু ডুয়ো ও কোর টু কোয়াড সিরিজের প্রসেসরগুলো সাপোর্ট করে যে সকেটটি তা হচ্ছে LGA 775 (Land Grid Array 775)/Socket T। তাই এ কম বাজেটের পিসি কেনার সময় এই ইন্টারফেসযুক্ত প্রসেসর কিনতে হবে। সর্বোচ্চ পারফরমেন্সের জন্য কোর আই সেভেন ব্যবহার করার জন্য লাগবে অন্য ধরনের সকেট। কোর আই থ্রি, কোর আই ফাইভ ও কোর আই সেভেন সাপোর্ট করে LGA 1156। কোর আই সেভেনের জন্য আরেকটি আলাদা ইন্টারফেস রয়েছে যার নাম LGA 1366/Socket B। আমাদের দেশে LGA 1156 ইন্টারফেসটির প্রচলন বেশি। এএমডির ক্ষেত্রে এথলন ৬৪, এথলন ৬৪ এক্সটু ও ফেনমের জন্য AM2 এবং ফেনম ২ ও এথলন ২ সিরিজের প্রসেসরের জন্য AM3 সকেটটি ব্যবহার করা হয়।

কোর :
বাজারে সিঙ্গেল কোর ও মাল্টিকোর উভয় ধরনের প্রসেসর পাওয়া যায়। মাল্টিকোরের প্রসেসরে কাজগুলো সুষমভাবে বণ্টিত হয়ে যায়, ফলে কাজের গতি অনেক বেড়ে যায় এবং একসাথে অনেক প্রোগ্রাম চালানো যায়।

ক্যাশ :
ক্যাশ হচ্ছে সিপিইউর সাথে সংযুক্ত মেমরি। এ মেমরিতে ডাটা সংরক্ষিত থাকে যখন প্রসেসরে কাজ চলে। ক্যাশের সাথে সিপিইউ দ্রুততার সাথে ডাটা আদানপ্রদান করতে পারে, কারণ তা প্রসেসরের সাথেই যুক্ত থাকায়। তাই ক্যাশের পরিমাণ যত বেশি হবে প্রসেসরের কাজের গতি এবং পারফরমেন্সও তত ভালো হবে। ক্যাশ তিন রকমের হয়ে থাকে, যথাক্রমে- L1, L2 ও L3। L1 ক্যাশটি সবচেয়ে ছোট কিন্তু খুবই দ্রুততার সাথে কাজ করে এবং সে তুলনায় L3 ক্যাশ আকারে বড় ও ধীরগতির হয়ে থাকে। L2 ক্যাশ মাঝারি আকৃতির ও গতির হয়ে থাকে। সাধারণত প্রসেসরের প্যাকেট বা পণ্যের বিবরণীতে L2 ক্যাশের পরিমাণ দেয়া থাকে।

হাইপার থ্রেডিং :
হাইপার থ্রেডিং বা এইচটি হচ্ছে ইন্টেল প্রসেসরের একটি টেকনোলজি, যা সিঙ্গেল কোরের প্রসেসরকে দুই কোরের সমতুল্য কাজ করার ক্ষমতা প্রদান করে। এর ফলে একসাথে অনেক প্রোগ্রাম চালু করা যায় তবে সিস্টেমের গতি ধীর হয় না। এএমডির প্রসেসরগুলোতে এ টেকনোলজির নাম হচ্ছে হাইপার-ট্রান্সপোর্ট। তাই এইচটি সাপোর্টেড প্রসেসরগুলোর কার্যক্ষমতা সাধারণ প্রসেসরগুলোর চেয়ে অনেকটা ভালোমানের হয়।

মডেল :
প্রসেসর কেনার সময় পণ্যের প্যাকেটের গায়ে বা মডেলের বর্ণনায় যে লেখাটি থাকে তা দেখেই প্রসেসরের কি কি ফিচার রয়েছে তা সহজেই বোঝা যায়। যেমন- ইন্টেলের প্রসেসরের ক্ষেত্রে যদি লেখা থাকে Intel Core 2 Duo E8200 Dual-Core Processor, 2.66 GHz, 6M L2 Cache, 1333MHz FSB, LGA775 তবে বুঝতে হবে-

মডেল : Intel Core 2 Duo E8200

কোর সংখ্যা : ডুয়াল বা ২টি

ক্লক স্পিড : ২.৬৬ গিগাহার্টজ

ক্যাশ : ৬ মেগাবাইট L2 ক্যাশ

ফ্রন্ট সাইড বাস স্পিড : ১৩৩৩ মেগাহার্টজ

ইন্টারফেস বা সকেট টাইপ : LGA775 (Land Grid Array 775)

এক্ষেত্রে E8200 লেখাটুকু প্রসেসরের বিস্তারিত তথ্য বহন করে অনেকটা বারকোডের মতো। এই কয়েক অক্ষরের নামের পেছনে লুকিয়ে থাকে প্রসেসরের সব ফিচার। এ নাম নির্দেশ করে এটি কোর টু ডুয়ো সিরিজের প্রসেসর, তার গতি ২.৬৬ গিগাহার্টজ, বাস স্পিড ১৩৩৩, কোর সংখ্যা ২টি ও ক্যাশ মেমরির পরিমাণ ৬ মেগাবাইট। মডেলভেদে মূলত গতির পরিবর্তন বেশি লক্ষ করা যায়।

Core i5 750 এবং Core i7 860 বলতে যথাক্রমে ২.৬৬ ও ২.৮ গিগাহার্টজ গতির কোর আই ফাইভ ও কোর আই সেভেনের প্রসেসর বোঝানো হয়। ইন্টারনেটে প্রসেসরের মডেল খোঁজার সময় এ মডেলের নামটুকু লিখলেই প্রসেসরের পুরো বিবরণী পাওয়া যাবে। তাই কোনো প্রসেসর পছন্দ হলে তার মডেল নাম্বারটি বিক্রেতার কাছে বলতে হবে বা তা কত ক্লক স্পিডসম্পন্ন তা বলতে হবে।

এএমডির ক্ষেত্রে Athlon II X2 240 AM3 2.8GHZ 2MB 4000MHZ বলতে বোঝানো হবে-

মডেল : Athlon II X2 240

ইন্টারফেস বা সকেট টাইপ : AM3

কোর সংখ্যা : X2 বলতে ২টি বোঝানো হয়

ক্লক স্পিড : ২.৮ গিগাহার্টজ

ক্যাশ : ২ মেগাবাইট

ফ্রন্ট সাইড বাস স্পিড : ৪০০০ মেগাহার্টজ

গেমিং প্রসেসর

হাই এন্ড প্রসেসরগুলোর দাম চড়া কিন্তু সেগুলোই গেম খেলার জন্য উপযুক্ত। তাই ইন্টেলের ক্ষেত্রে গেমিং প্রসেসরের তালিকায় পড়ে কোর টু কোয়াড, কোর আই ফাইভ ও কোর আই সেভেন। তবে বাজেটের তারতম্যের জন্য কম থেকে বেশি বাজেটের প্রসেসর হিসেবে তিনটি ভাগ করা যায়।

০১. কম বাজেটের গেমিং প্রসেসর :
কম বাজেটের গেমিং প্রসেসর হিসেবে কোর টু ডুয়ো পরিবারে রয়েছে E4xxx থেকে শুরু করে E8xxx মডেলের মোট পাঁচটি সিরিজ। ৪ মেগাবাইট ক্যাশযুক্ত E4xxx বা ৬ মেগাবাইট মেমরির E4xxx সিরিজের প্রসেসরগুলো কম বাজেটের গেমিং পিসির জন্য ভালো কাজে দেবে। শুধু ক্যাশ মেমরি নয়, প্রসেসরের ক্লক স্পিড ও ফ্রন্ট সাইড বাস স্পিডও যাতে বেশি হয় তা দেখে নিতে হবে। কম বাজেটের মধ্যে কোর আই থ্রি সিরিজের প্রসেসরও পড়ে, তবে তার চেয়ে কোর টু ডুয়োর হাই ক্লক স্পিড ও বেশি ক্যাশযুক্ত প্রসেসর কিছু ক্ষেত্রে ভালো।

০২. মাঝারি বাজেটের গেমিং প্রসেসর :
মাঝারি বাজেটের গেমিং পিসির জন্য কোর টু কোয়াড বা কোর আই ফাইভ সিরিজের চার কোরের প্রসেসর নেয়া ভালো। কোর টু কোয়াড পরিবারের প্রসেসরগুলোর মডেল শুরু হয়েছে Q6xxx থেকে এবং শেষ হয়েছে Q9xxx-এ গিয়ে (এখানে Q6xxx-এ x দিয়ে সংখ্যা বোঝানো হয়েছে যা মডেলভেদে ভিন্ন হবে, যেমন- Q6600)। কোর আই ফাইভ চার কোরের প্রসেসরের পরিবারের সদস্য দুটি হচ্ছে i5-6xx ও i5-7xx। তবে গেমিংয়ের জন্য আমাদের দেশে i5-750 মডেলটি বেশি বাজারজাত করা হচ্ছে। এ মডেলটিতে যুক্ত করা হয়েছে ইন্টেলের টারবো বুস্ট, হাইপার-থ্রেডিং, স্মার্ট ক্যাশ, ইন্টিগ্রেটেড মেমরি কন্ট্রোলার, এইচডি গ্রাফিক্স টেকনোলজিসহ আরো বেশ কিছু সুবিধা। তাই মাঝারি বাজেটের জন্য এটি একটি আদর্শ প্রসেসর।

০৩. বেশি বাজেটের গেমিং প্রসেসর :
গেম খেলার সময় সর্বোচ্চ পারফরমেন্স পাওয়ার জন্য ব্যবহার করতে হবে কোর আই সেভেন সিরিজের প্রসেসর। কোর আই সেভেন পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে i7-8xx ও i7-9xx। এ সিরিজের প্রসেসরগুলোতে রয়েছে ৮ মেগাবাইট ক্যাশ মেমরি, ৪টি কোর, ৮টি থ্রেড এবং ৩২ ন্যানোমিটার ম্যানুফ্যাকচারিং প্রসেসিং টেকনোলজি। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে i7-9xx সিরিজের প্রসেসরগুলোর সকেট টাইপ হচ্ছে LGA 1366 এবং i7-8xx সিরিজের জন্য LGA 1156 সকেট ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কোর আই সেভেন এক্সট্রিম সিরিজের প্রসেসরকে বলা হয় এখন পর্যন্ত বানানো সবচেয়ে হাই-এন্ড প্রসেসর। যাতে রয়েছে ৩.৩৩ গিগাহার্টজ ক্লক স্পিড যা টারবো বুস্ট টেকনোলজির সাহায্যে ৩.৬ গিগাহার্টজ উন্নীত করা সম্ভব। সেই সাথে আরো রয়েছে ৬টি কোর, ১২টি থ্রেড ও ১২ মেগাবাইট ক্যাশ মেমরি। তবে তা আমাদের বাজারে পাওয়া দুষ্কর। শীঘ্রই বাজারে আসছে কোর আই নাইন নামের নতুন প্রসেসর। যার পারফরমেন্স হবে আরো শক্তিশালী।

এএমডির প্রসেসরের তালিকায় কম থেকে বেশি বাজেটের প্রসেসরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে রয়েছে- এথলন X2 বা এথলন ২ X2, ফেনম X3 বা X4 এবং ফেনম ২ X2 বা X4 সিরিজের প্রসেসর।

প্রসেসর কেনার সময় লক্ষণীয় কিছু বিষয়

* প্রসেসরের ফ্রন্ট সাইড বাস স্পিড যত বেশি হবে প্রসেসরের পারফরমেন্সও তত ভালো হবে। তাই বেশি বাস স্পিডের প্রসেসর কেনা উচিত।

* ইন্টেলের ক্ষেত্রে হাইপার থ্রেডিং ও এএমডির ক্ষেত্রে হাইপার ট্রান্সপোর্ট টেকনোলজিসম্পন্ন প্রসেসর কেনার চেষ্টা করতে হবে।

* বেশি ক্যাশযুক্ত প্রসেসর বেশি দ্রুত কাজ করতে সক্ষম, তাই কেনার আগে ক্যাশ মেমরির পরিমাণ দেখে নিতে হবে।

* বেশি ক্লক স্পিড ও কম ক্যাশ বা বাস স্পিডের প্রসেসরের চেয়ে কম ক্লক স্পিডের ও বেশি ক্যাশ বা বাস স্পিডের প্রসেসরের পারফরমেন্স ভালো হয়। তাই কেনার সময় এ তিনটি বিষয়ের মাঝে সামঞ্জস্য রেখে প্রসেসর বাছাই করা ভালো।

* প্রসেসরের আর্কিটেকচার যত ক্ষুদ্র মানের হবে তা তত কম বিদ্যুৎশক্তি ব্যয় করে। যেমন- ৬৫ ন্যানোমিটারের প্রসেসরের চেয়ে ৪৫ ন্যানোমিটারের প্রসেসর কম বিদ্যুৎ নষ্ট করে।

* গেমিং প্রসেসরে ভবিষ্যতে ওভারক্লকিং করতে হতে পারে, তাই ওভারক্লকিং সাপোর্ট করে এমন প্রসেসর বেছে নিন। কিছু প্রসেসর পাওয়া যায় যা আগে থেকেই ওভারক্লক করা থাকে তবে সেগুলোর দাম একটু বেশি। এগুলোকে সাধারণত ব্ল্যাক এডিশন বা ওভারক্লকড এডিশনের প্রসেসর বলা হয়।

সর্বোপরি, প্রসেসর কেনার আগে কয়েকটি মডেল বাছাই করে নিন। তারপর সেগুলোর পারফরমেন্স কার কেমন তা তুলনা করে দেখুন ইন্টেল (www.intel.com) বা এএমডির (www.amd.com) ওয়েবসাইটে। বাছাই করা প্রসেসরটি সম্পর্কে ইন্টারনেটে কেমন রিভিউ রয়েছে তা দেখে নিতে পারলে বেশ ভালো হয়।

মাদারবোর্ড



মাদারবোর্ডটি মূলত একটি প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড যার সাথে প্রসেসর, মেমরি ও এক্সপানশন কার্ডগুলো সংযুক্ত করা হয় বিভিন্নরকমের পোর্ট ও সকেটের মাধ্যমে। ভালোমানের মাদারবোর্ড কেনাটা ভালো প্রসেসরের চেয়ে বেশি জরুরি। তার কারণ হচ্ছে ভালো মাদারবোর্ড থাকলে পরে প্রসেসর আপগ্রেড করে নেয়া যায় কিন্তু মাদারবোর্ড আপগ্রেড করতে হলে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়।

মাদারবোর্ড বাছাইয়ের সময় কিছু ব্যাপার জানতে হবে, সেগুলো হচ্ছে-

সিপিইউ ইন্টারফেস বা সকেট :
আগেই বলা হয়েছে প্রসেসরকে মাদারবোর্ডে সংযুক্ত করতে হয় সকেটের মাধ্যমে। সকেট বা ইন্টারফেসগুলোর আলাদা আলাদা নাম হয়ে থাকে। একেক রকমের সকেট একেক রকমের প্রসেসর সাপোর্ট করে।

চিপসেট :
কমপিউটার চিপ হচ্ছে ছোট আকারের ইলেকট্রনিক সার্কিট যা ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট নামেও পরিচিত। বেশিরভাগ ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসে চিপ ব্যবহার করা হয়। সিলিকন দিয়ে বানানো সেমিকন্ডাক্টর ও ট্রান্সজিস্টরের সাথে একসাথে মিলে এগুলো ইলেক্ট্রনিক ডাটা সিগন্যাল পরিবহনের কাজ করে। চিপসেট হচ্ছে বিশেষ কিছু চিপের সমষ্টি যা মাদারবোর্ডে বা এক্সপানশন কার্ডগুলোতে থাকে। চিপসেট অনেকরকমের হয়ে থাকে এবং তাদের নামও ভিন্ন হয়। চিপসেটের নাম দেখে র্যাশম ও এক্সপানশন স্লটগুলোর কার্যক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

ইন্টেলের ক্ষেত্রে চিপসেট শব্দটি মাদারবোর্ডে অবস্থিত নির্দিষ্ট এক জোড়া চিপকে বোঝায়। চিপ দুটির একটি হচ্ছে নর্থব্রিজ (মেমরি কন্ট্রোলার হাব) ও অপরটি হচ্ছে সাউথব্রিজ (আই/ও বা পেরিফেরাল কন্ট্রোলার হাব)। নর্থব্রিজের সাথে উচ্চগতির ডিভাইসগুলো যুক্ত থাকে। প্রসেসর, মেইন মেমরি (র্যাএম) ও গ্রাফিক্স কন্ট্রোলার (এজিপি/পিসিআই এক্সপ্রেস) মূলত যুক্ত থাকে নর্থব্রিজের সাথে, তাই এ অংশটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সাউথব্রিজের সাথে কম গতিসম্পন্ন ডিভাইস, যেমন- পিসিআই, ইউএসবি, বায়োস, আইডিই, লিজেসি, আইএসএ ইত্যাদি যুক্ত পোর্ট ও স্লটে যুক্ত ডিভাইসগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। নতুন মাদারবোর্ডগুলোতে নর্থব্রিজে ইন্টিগ্রেটেড বা সংযুক্ত অবস্থায় গ্রাফিক্স ডিভাইস ও সাউথব্রিজে ইথারনেট, ইউএসবি, অডিও ডিভাইস যুক্ত করা থাকে। সহজ কথায় বিল্ট-ইনভাবে প্রয়োজনীয় কিছু ডিভাইস দেয়া থাকে।

মাদারবোর্ড ম্যানুফ্যাকচার কোম্পানির বানানো চিপসেট তাদের মাদারবোর্ডে নাও থাকতে পারে। মাদারবোর্ড কোম্পানিগুলো তাদের একেক মডেলের মাদারবোর্ডে আলাদা কোম্পানির চিপসেট ব্যবহার করতে পারে। তাই ইন্টেলের মাদারবোর্ডে ইন্টেল চিপসেট, আবার আসুস বা গিগাবাইটের মাদারবোর্ডেও ইন্টেলের চিপসেট ব্যবহার দেখে চিন্তার কিছু নেই। কমপিউটার মাদারবোর্ডের জন্য চিপসেট বানানো কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- NVIDIA, AMD, VIA technologies, SiS, Intel এবং Broadcom অ্যাপল ও ইউনিক্স ওয়ার্কস্টেশনের মাদারবোর্ডের জন্য চিপসেট বানিয়ে থাকে Sun, NeXt, SGI।

বায়োস :
মাদারবোর্ডে বায়োসের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বায়োস অর্থ হচ্ছে বেসিক ইনপুট আউটপুট সিস্টেম। বায়োসে পিসির সব ডিভাইসের তথ্য সংরক্ষিত থাকে, যেমন- প্রসেসরের মডেল ও স্পিড, হার্ডডিস্কের স্টোরেজ স্পেস, র্যাডমের পরিমাণ, অপটিক্যাল ড্রাইভ, ফ্লপি ড্রাইভ ইত্যাদি। আগের বায়োসগুলোতে আপনার পিসিতে কি কি ডিভাইস সংযুক্ত আছে তার তালিকা ম্যানুয়ালি বায়োসে লিখে দিতে হতো, কিন্তু বর্তমানে নতুন বায়োস অটোমেটিক্যালি ডিভাইসগুলোর তালিকা তৈরি করে নেয়। কিছু বায়োসে সিপিইউ, র্যা ম ও গ্রাফিক্স কার্ডের ওভারক্লকিং করার ব্যাপারে সহায়তা করে। নতুন কিছু বায়োসে রয়েছে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এতে কমপিউটারের তাপমাত্রা উচ্চসীমা পার করলে কমপিউটারের কাজ বন্ধ করে দেয়। ডুয়াল বায়োসের মাদারবোর্ডগুলোতে একটি বায়োস প্রাইমারি ও অপরটি সেকেন্ডারি হিসেবে কাজ করে। প্রথমটি নষ্ট হলে পরেরটি কমপিউটারকে চালু রাখে।

মাদারবোর্ড কেনার সময় লক্ষণীয় কিছু বিষয়

* প্রসেসরের সকেটের সাথে মাদারবোর্ডের সকেটের মিল আছে কিনা তা দেখতে হবে।

* নতুন অপটিক্যাল ডিভাইসগুলোর মাঝে এখন সাটা কানেক্টরের ব্যবহার বেশ লক্ষণীয়, তাই এমন মাদারবোর্ড বেছে নিতে হবে যাতে বেশি সংখ্যক সাটা কানেক্টর রয়েছে। বর্তমানের সাটা ইন্টারফেসের ভার্সন হচ্ছে ৩.০, যা প্রতি সেকেন্ডে ৬ গিগাবিট গতিতে ডাটা ট্রান্সফার করার ক্ষমতা রাখে।

* কোন ধরনের র্যাগম ব্যবহার করবেন সে অনুযায়ী ডিডিআর২ বা ডিডিআর৩ স্লটযুক্ত মাদারবোর্ড বেছে নিতে হবে। কিছু মাদারবোর্ড রয়েছে যাতে ডিডিআর২ ও ডিডিআর৩ উভয় ধরনের স্লট দেয়া থাকে তবে সেগুলোর দাম কিছুটা বেশি।

* বেশি গ্রাফিক্স কার্ড স্লটযুক্ত মাদারবোর্ডের ক্ষেত্রে একসাথে একাধিক গ্রাফিক্স কার্ড সংযুক্ত করে দারুণ গ্রাফিক্স পারফরমেন্স পাওয়া যায়। এনভিডিয়ার গ্রাফিক্স কার্ডের ক্ষেত্রে ২-৪টি গ্রাফিক্স কার্ড একসাথে করে এসএলআই টেকনোলজিতে সংযুক্ত করা সম্ভব আর এটিআই গ্রাফিক্স কার্ডের ক্ষেত্রে ২-৪টি গ্রাফিক্স কার্ডের সমন্বয়ে ক্রসফায়ার টেকনোলজি ব্যবহার করা যায়। এ টেকনোলজি ব্যবহার করে অসাধারণ গ্রাফিক্স পারফরমেন্স পাওয়া সম্ভব। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ২ বা ৪টি পিসিআই এক্সপ্রেস স্লটসহ মাদারবোর্ড কিনতে হবে।

* পিসিআই এক্সপ্রেস ১৬এক্সযুক্ত মাদারবোর্ড কিনুন। এতে গ্রাফিক্স কার্ডের গতির পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। নতুন মাদারবোর্ডগুলোতে পিসিআই এক্সপ্রেস ২.০ স্লট দেয়া থাকে যা আরো বেশি গতিসম্পন্ন। গেমারদের জন্য পিসিআই এক্সপ্রেস ২.০ স্লটের মাদারবোর্ডগুলো বেশ কাজে দেবে।

* ডুয়াল চ্যানেল সাপোর্টেড স্লটের মাদারবোর্ড কি না দেখে কিনুন, কারণ ডুয়াল চ্যানেলে র্যা মের কাজের গতি বেড়ে যাবে ও ভালো ফল পাওয়া যাবে।

* বেশিসংখ্যক ইউএসবি, ফায়ারওয়্যার পোর্টসহ মাদারবোর্ড কিনুন, এতে বেশি ডিভাইস সংযুক্ত করতে পারবেন।

* ডুয়াল বায়োসের মাদারবোর্ড কেনার চেষ্টা করুন, কারণ এতে একটি বায়োসে সমস্যা হলে অপর বায়োসটি কমপিউটারকে সচল রাখবে। আর সিঙ্গেল বায়োস মাদারবোর্ডের ক্ষেত্রে বায়োসে সমস্যা হলে তা দোকানে নিয়ে ঠিক করিয়ে না আনা পর্যন্ত কমপিউটার ব্যবহার করা যাবে না। তাই সাবধানতা অবলম্বনের জন্য ডুয়াল বায়োস সমৃদ্ধ মাদারবোর্ড কিনুন।

* নিজে মাদারবোর্ড কেনার ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্ত হলে বিক্রেতার কাছে প্রসেসরের জন্য উপযুক্ত মাদারবোর্ড দিতে বললেই হবে।

* পরিশেষে দেখে নিন মাদারবোর্ডের সাথে ড্রাইভার ডিস্ক, ম্যানুয়াল বা ইউজার গাইড, আইডি ক্যাবল বা সাটা ক্যাবল দেয়া আছে কি না।

ক্যাসিং বা চ্যাসিস



কেসিং বা চ্যাসিসের কাজ হচ্ছে কমপিউটারের যন্ত্রাংশগুলোকে সুরক্ষা প্রদান করা। ক্যাসিংয়ের মধ্যে মাদারবোর্ড স্থাপন করতে হয় এবং অন্যান্য ডিভাইস আটকে রাখতে হয়। ক্যাসিংয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে-

ফর্ম ফ্যাক্টর :
ফর্ম ফ্যাক্টর বিষয়টি ক্যাসিংয়ের সাথে যুক্ত হওয়া ডিভাইসগুলোর পরিমাপের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। ফর্ম ফ্যাক্টরের ওপরে নির্ভর করে ক্যাসিংগুলোকে এটিএক্স, মাইক্রো এটিএক্স, ডব্লিউটিএক্স, বিটিএক্স ইত্যাদি ভাগে ভাগ করা হয়। এটিএক্স ক্যাসিংগুলোকে স্ট্যান্ডার্ড ক্যাসিং হিসেবে গণ্য করা হয় ডেস্কটপ পিসির ক্ষেত্রে। ব্রিফকেস সাইজের ছোট আকারের ক্যাসিংগুলোকে মাইক্রো এটিএক্স বলা হয়। ডব্লিউটিএক্স ক্যাসিংগুলো আকারে বেশ বড় এবং এগুলো সার্ভার কমপিউটারগুলোতে ব্যবহার করা হয়। ভালোমানের কুলিং ব্যবস্থার জন্য ব্যবহার করা হয় বিটিএক্স ক্যাসিংগুলো।

কুলিং ফ্যান :
ক্যাসিংয়ের ভেতরের তাপমাত্রা ঠিক রাখার জন্য ক্যাসিংয়ের ভেতরে ফ্যানের ব্যবস্থা থাকে। কিছু ক্যাসিংয়ে একাধিক ফ্যান থাকে এবং কিছু ক্যাসিংয়ে থাকে নেটযুক্ত ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা।

পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট (পিএসইউ) :



ক্যাসিংয়ের সাথেই পাওয়ার সাপ্লাই বক্স দেয়া থাকে যা মাদারবোর্ড ও অন্যান্য ডিভাইসে বিদ্যুৎশক্তি সরবরাহ করে থাকে। ভালোমানের ক্যাসিংয়ের সাথে ভালোমানের ও উচ্চক্ষমতার পাওয়ার সাপ্লাই দেয়া থাকে। প্রসেসর ও গ্রাফিক্স কার্ডের ক্ষমতার ওপরে ভিত্তি করে পাওয়ার সাপ্লাই নির্বাচন করতে হয়। পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ক্ষমতা ওয়াট দিয়ে পরিমাপ করা হয়। গেমারদের জন্য ৬০০ থেকে ১০০০ ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পাওয়ার সাপ্লাইয়ের দরকার হবে। তাই ভালোমানের ক্যাসিংয়ের দাম বেশি হলে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট ছাড়া ক্যাসিং কিনতে হবে এবং আলাদাভাবে পিএসইউ কিনে তা ক্যাসিংয়ের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। প্রয়োজন বুঝে পিএসইউ নির্বাচন করা উচিত। শুধু বেশি পাওয়ারের ইউনিট কিনে বাড়তি ইলেক্ট্রিসিটি বিল বাড়ানোর কোনো মানে হয় না।

বাজারে বেশ কিছু ব্র্যান্ডের আকর্ষণীয় ও ভালোমানের গেমিং পিসির ক্যাসিং পাওয়া যায়। ভালো ফল পেতে সার্ভারের ক্যাসিংগুলোও ব্যবহার করা যেতে পারে।

ক্যাসিং কেনার সময় লক্ষণীয় কিছু বিষয়

* আকারে বড় ক্যাসিংগুলো কেনার চেষ্টা করুন, কারণ এতে ভেতরের যন্ত্রাংশ বেশি গরম হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে। বাজারে ছোট ব্রিফকেসের মতো ক্যাসিং পাওয়া যায়, ভুলেও তা নিতে যাবেন না। এগুলোর কুলিং সিস্টেম মোটেও সুবিধাজনক নয়।

* ক্যাসিংয়ের সাথেই পাওয়ার সাপ্লাই ও কুলিং ফ্যান দেয়া থাকে। অনেকের আরো একটি কুলিং ফ্যানের দরকার হতে পারে, সেজন্য ক্যাসিংয়ে আলাদা ফ্যান লাগানোর ব্যবস্থা আছে কি না তা দেখে নিন।

* ক্যাসিং আপনার পিসির যন্ত্রাংশের সুরক্ষা দেবে, সেগুলোকে গরম ও ধুলোবালির হাত থেকে রক্ষা করবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ বিদ্যুৎ যোগান দিয়ে সঠিকভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা দেবে, তাই ক্যাসিং কেনার সময় বেশ ভেবেচিন্তে নিন। টাকা একটু বেশিই খরচ হোক তবুও পিসির সঠিক সুরক্ষা নিশ্চিত করুন।

রাম



রাম (RAM-Random Access Memory) হচ্ছে কমপিউটারের অস্থায়ী স্মৃতি। অপারেটিং সিস্টেম রান করার সময় রাম বেশ কিছু প্রোগ্রাম সংরক্ষণ করে অপারেটিং সিস্টেমকে চলতে সাহায্য করে, তাই একে কমপিউটারের প্রাইমারি মেমরি বলা হয়ে থাকে। তথ্য এতে অস্থায়ীভাবে থাকে অর্থাৎ বিদ্যুচেলে গেলে বা কমপিউটার বন্ধ করে দিলে র্যাবমে থাকা তথ্য মুছে যায়, তাই একে ভোলাটাইল মেমরিও বলা হয়ে থাকে। র্যা মের পরিমাণ বেশি হলে একইসাথে অনেক কাজ করা যায়, ফলে সিস্টেমের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। বাজারে SD (Synchronous Dynamic), DDR (Double Data Rate), DDR2 ও DDR3 এই কয়েক ধরনের র্যা ম পাওয়া যায়। গেমিং পিসির জন্য ব্যবহার করা হয় DDR2 ও DDR3 র্যা ম। DDR3 র্যা মের কর্মদক্ষতা ও কাজ করার গতি DDR2 র্যা মের তুলনায় বেশি, কিন্তু এর দামও বেশি। DDR2 ও DDR3 র্যা মের ধরন, তাদের বাস স্পিড ও মড্যুউল লেবেলের তালিকা নিচে দেয়া হলো-

ডিডিআর২ মেমরি

Memory I/O Bus Speed Module

DDR2-400 200 MHz PC2-3200
DDR2-533 266 MHz PC2-4200
DDR2-667 333 MHz PC2-5300
DDR2-800 400 MHz PC2-6400
DDR2-1066533 MHz PC2-8500

ডিডিআর৩ মেমরি

Memory I/O Bus Speed Module

DDR3-800 400 MHz PC3-6400
DDR3-1066 533 MHz PC3-8500
DDR3-1333 667 MHz PC3-10600
DDR3-1600 800 MHz PC3-12800
DDR3-1866 933 MHz PC3-14900
DDR3-2133 1066 MHz PC3-17000

র্যা মের মড্যুউলের নাম থেকে র্যাsমের ব্যান্ডউইডথ ও ধরন বোঝা যায়, যেমন- PC2-4200 থেকে বোঝা যায় এটি ডিডিআর২ র্যা ম ও এর ব্যান্ডউইডথ হচ্ছে ৪.২ গিগাবাইট/সেকেন্ড (৪২০০ মেগাবাইট/সেকেন্ড)। তাই র্যাঝমের গায়ে তার ধরন বা বাস স্পিড লেখা না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই, মড্যুউলের নাম দেখে র্যাসম সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন।

র্যা ম কেনার সময় লক্ষণীয় কিছু বিষয়

* গেমারদের জন্য ন্যূনতম ২ গিগাবাইট র্যা/ম প্রয়োজন। তবে আদর্শ গেমারদের জন্য ৬-৮ গিগাবাইট র্যাযম থাকা উচিত।

* বাজারে ২ গিগাবাইট মেমরির র্যা মগুলোর কাটতি বেশি, তবে ভালোভাবে খোঁজ করলে ৪ গিগাবাইটের র্যা মও পেয়ে যেতে পারেন।

* মাদারবোর্ড যতটুকু পর্যন্ত র্যােমের বাস স্পিড সাপোর্ট করতে পারে ততটুকু বাস স্পিডসমৃদ্ধ র্যাাম কিনুন। অর্থাৎ আপনার মাদারবোর্ড যদি ডিডিআর২, ১০৬৬ মেগাহার্টজ বাস স্পিডের র্যাতম সাপোর্ট করে তবে তাই কিনুন। এখানে আপনি যদি ৮০০ মেগাহার্টজ বাসের র্যা ম কিনে থাকেন তবে পুরো পারফরমেন্স পাবেন না।

* ৮০০ মেগাহার্টজ বাস স্পিড সাপোর্টযুক্ত মাদারবোর্ডে আপনি ১০৬৬ মেগাহার্টজ বাস স্পিডের র্যাাম লাগান তবে তা কাজ করবে ৮০০ মেগাহার্টজ বাস স্পিডে। তাই আপনি কাজের গতি ততটা পাবেন না যতটা ১০৬৬ বাস স্পিডে পাওয়ার কথা ছিলো। তাই অযথা টাকা খরচ হবে কিন্তু পারফরমেন্স বৃদ্ধি হবে না।

* কম ল্যাটেন্সির র্যাযম কেনার চেষ্টা করুন, কারণ ল্যাটেন্সি যত কম হবে র্যা৬মের কাজ করার দ্রুততা তত বেশি হবে। ল্যাটেন্সি হচ্ছে র্যারম ডাটা এক্সেস করার সময়ের পরিমাণ। ল্যাটেন্সির মান কম হওয়া মানে হচ্ছে তথ্য র্যা মে খুব কম সময় থাকবে, তাই তা খুব দ্রুততার সাথে ট্রান্সফার হবে।

* র্যা মের ক্ষেত্রে ডুয়াল চ্যানেলের কাজ হচ্ছে একই মানের দুটি র্যাামের মধ্যে যোগসাজশ রক্ষা করে ডাটা ট্রান্সফারের গতি দ্বিগুণ করে নেয়া। এই কাজ করার জন্য আপনার মাদারবোর্ডে ডুয়াল র্যাটম সাপোর্ট থাকতে হবে এবং দুই স্লটে দুটি একই মডেল ও মেমরির র্যাজম বসাতে হবে।

হার্ডডিস্ক



হার্ডডিস্কে আমরা যাবতীয় ফাইল জমা করে রাখি, তাই একে সেকেন্ডারি মেমরি বলা হয়। বর্তমানে সব সফটওয়্যার, গেমস এমনকি অপারেটিং সিস্টেমও হার্ডডিস্কে বিশাল জায়গা দখল করে থাকে, তাই বাজারে বিশাল ধারণক্ষমতার হার্ডডিস্কের বেশ প্রসার রয়েছে। গেম খেলায় ভালো পারফরমেন্স পাওয়ার জন্য উচ্চগতির সাটা পোর্ট বা এসএসডি ইন্টারফেসের হার্ডড্রাইভ ব্যবহার করতে হবে।

হার্ডডিস্ক কেনার আগে কয়েকটি ব্যাপারের সাথে পরিচিত হওয়া প্রয়োজন, তা হচ্ছে-

রোটেশন পার মিনিট :
বেশি স্পিন্ডল স্পিডযুক্ত বা বেশি RPM (Rotation Per Minute)-এর হার্ডডিস্ক কিনুন। পুরনো হার্ডডিস্কের আরপিএম ছিলো ৫৪০০ এবং নতুন হার্ডড্রাইভগুলোর আরপিএম হচ্ছে ৭২০০। RPM (Rotation Per Minute)-এর অর্থ হচ্ছে হার্ডড্রাইভের ভেতরে সংরক্ষিত ডিস্কটি মিনিটে ৭২০০ বার ঘুরে। ডিস্ক যত তাড়াতাড়ি ঘুরবে তত দ্রুত সে ডাটা পড়তে পারবে। বাজারে ১০,০০০ আরপিএমের হার্ডডিস্কও পাওয়া যায়, তবে তার দাম অন্যগুলোর তুলনায় বেশি।

ক্যাশ :
হার্ডডিস্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে ক্যাশ, যার পরিমাণ হার্ডডিস্কে ডাটা ট্রান্সফারের গতি নির্ধারণ করে থাকে। পুরনো হার্ডডিস্কের ক্যাশ ছিলো ২ মেগাবাইট। বর্তমানের হার্ডড্রাইভের ক্ষেত্রে ৮ মেগাবাইট ক্যাশ হচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড এবং ভালোমানের হার্ডড্রাইভে ১৬ মেগাবাইট ক্যাশ থাকে। এর চেয়ে বেশি ক্যাশের হার্ডডিস্কও পাওয়া যায় তবে তার দাম অনেক বেশি। ক্যাশ হচ্ছে স্পেশাল স্টোরেজ এবং তা খুব দ্রুত ডাটা পড়তে পারে। তাই হার্ডডিস্কে ক্যাশ যত বেশি হবে তা তত বেশি কার্যকরী হবে।

গ্রাফিক্স কার্ড



গ্রাফিক্স কার্ডকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়, যেমন- ভিডিও কার্ড, গ্রাফিক্স এক্সেলারেটর কার্ড, ডিসপ্লেল¬ কার্ড ইত্যাদি। গ্রাফিক্স কার্ডের কাজ হচ্ছে ইমেজ জেনারেট করা এবং তা ডিসপ্লেলল¬তে প্রদর্শন করা। গেমারদের গ্রাফিক্স কার্ড কেনার সময় সবচেয়ে বেশি ঝামেলায় পড়তে হয়, কারণ কোনটা ছেড়ে কোনটা নেয়া উচিত তাই ঠিক করা মুশকিল হয়ে ওঠে।

গ্রাফিক্স কার্ডের বাজারে রাজত্ব করে যাচ্ছে দুটি কোম্পানি। তারা হচ্ছে এনভিডিয়া ও এটিআই। দুটি কোম্পানির অনেক মডেলের কার্ড বাজারে পাওয়া যায়। এক মডেল থেকে অন্য মডেলের কার্ডকে ভিন্ন করে তুলেছে তাদের চিপসেট, মেমরি টাইপ, মেমরির পরিমাণ, ক্লক স্পিড ইত্যাদি। এনভিডিয়ার জিফোর্স সিরিজের গ্রাফিক্স কার্ডগুলো বেশ জনপ্রিয়। এনভিডিয়ার বিপরীতে এটিআই কোম্পানির জনপ্রিয় সিরিজের মধ্যে রয়েছে রাডেওন।

গ্রাফিক্স কার্ড কেনার সময় যাতে তেমন একটা সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয় সেজন্য গ্রাফিক্স কার্ড সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেয়া ভালো-

ক্লক স্পিড :
প্রসেসরের সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটের (সিপিইউ) মতো গ্রাফিক্স কার্ডেও রয়েছে গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) যা পিক্সেল প্রসেস করে থাকে। ক্লক স্পিড বলতে জিপিইউর প্রতি চক্রে কতগুলো পিক্সেল প্রসেস করতে পারে তার পরিমাণকে বোঝায়। এর একক হচ্ছে মেগাহার্টজ।

অনবোর্ড মেমরি :
গ্রাফিক্স অপারেশনের সময় কিছু মেমরির প্রয়োজন হয়, তাই গ্রাফিক্স কার্ডের সাথেই থাকে অনবোর্ড মেমরি। এ মেমরির পরিমাণ কম হলে এবং গেম খেলার সময় আরো বেশি মেমরির প্রয়োজন হলে গ্রাফিক্স কার্ড র্যাডম থেকে কিছু মেমরি শেয়ার করে। তাই গ্রাফিক্স কার্ডের অনবোর্ড মেমরি হিসেবে ৫১২ মেগাবাইট মেমরি থাকলে যথেষ্ট। তবে কিছু গেমের বিশাল আকারের গ্রাফিক্স টেক্সচার প্রসেস করার জন্য আরো বেশি মেমরির প্রয়োজন হয়। তাই হার্ডকোর গেমারদের জন্য নিত্যনতুন গেম চালাতে ১ গিগাবাইট মেমরির গ্রাফিক্স কার্ড কেনা ভালো।

মেমরি ব্যান্ডউইডথ :
মেমরি ব্যান্ডউইডথ হচ্ছে জিপিইউর অনবোর্ড মেমরির সাথে যোগাযোগ করার গতির পরিমাণ। তাই ব্যান্ডউইডথ যত বেশি হবে তত ভালো। গ্রাফিক্স কার্ডের বিভিন্ন রকম মেমরির ক্লক রেট ও ব্যান্ডউইডথ এখানে উল্লে¬খ করা হলো। তা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন কোন মেমরি টাইপ কতটা কার্যকরী।

মেমরি টাইপ মেমরি ক্লক রেট ব্যান্ডউইডথ
(MHz) (GB/s)

DDR 166-950 1.2-30.4
DDR2 533-100 8.5-16
GDDR3 700-1800 5.6-54.4
GDDR4 1600-2400 64-156.6
GDDR5 3000-3800 130-230

ফিল রেট :
ফিল রেট হচ্ছে পিক্সেল দিয়ে মনিটরের পর্দা ভরাট করার গতির হার। সাধারণত গ্রাফিক্স কার্ডের ফিল রেটের গতি মাপা হয় মিলিয়ন পিক্সেল পার সেকেন্ড হিসেবে। কিন্তু সেরা গ্রাফিক্স কার্ডগুলোতে ১৫ বিলিয়ন পিক্সেল পার সেকেন্ডের বেশি হয়ে থাকে।

রেন্ডারিং ফিচার :
থ্রিডি গেমস ও কিছু হাই লেভেল সফটওয়্যার ত্রিমাত্রিক রেন্ডারিং ইফেক্ট ব্যবহার করে থাকে, যেমন- অ্যান্টি-অ্যালাইসিং, অ্যানাইসোট্রপিক ফিল্টারিং, বাম্প-ম্যাপিং, পিক্সেল শ্রেডার ইত্যাদি। সবধরনের গেম খেলার জন্য বেশিসংখ্যক থ্রিডি রেন্ডারিং টেকনোলজি সাপোর্টেড গ্রাফিক্স কার্ড কিনতে হবে।

ডিসপ্লে আউটপুট :
ডিসপ্লেলল¬ ডিভাইসের সাথে গ্রাফিক্স কার্ডের সংযোগ দেয়ার জন্য VGA connector, DVI, Video In Video Out (VIVO), HDMI, DMS-59, Display Port ইত্যাদি পোর্ট গ্রাফিক্স কার্ডে থাকে।

অন্যান্য সুবিধা :
কিছু গ্রাফিক্স কার্ডে বিশেষ কিছু সুবিধা দেয়া থাকে, তার মধ্যে রয়েছে- ভিডিও ক্যাপচার, টিভি টিউনার অ্যাডাপ্টার, MPEG-2 ও MPEG-4 ডিকোডিং, ফায়ারওয়্যার, লাইট পেন, টিভি আউটপুট এবং অনেক মনিটর একসাথে সংযোগের ব্যবস্থা।

গ্রাফিক্স কার্ড কেনার সময় লক্ষণীয় কিছু বিষয়

* ক্যাসিংয়ের পাওয়ার সাপ্লাইয়ের কথা খেয়াল রেখে গ্রাফিক্স কার্ড কিনুন। বেশি পাওয়ারের গ্রাফিক্স কার্ড কিনতে চাইলে সে অনুযায়ী পাওয়ার সাপ্লাই থাকা প্রয়োজন।

* ডাইরেক্ট এক্স ১০/১১ বা ওপেন জিএল ৩/৪ সমর্থিত কার্ড গেম খেলার জন্য বেশ ভালো।

* ন্যূনতম পিক্সেল শ্রেডার ৪.০ সাপোর্টেড গ্রাফিক্স কার্ড কেনা উচিত।

* হার্ডকোর গেমাররা ডুয়েল কোর জিপিইউসমৃদ্ধ কার্ড কিনতে চেষ্টা করুন।

* কম বিদ্যুৎ খরচ করে এমন কার্ড কিনুন তা নাহলে বিদ্যুৎ বিল দেয়ার সময় মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হবে ।

মনিটর



কম বিদ্যুৎশক্তি খরচ, ছোট আকার, পাতলা গড়ন ও সুদৃশ্য পিকচার কোয়ালিটির জন্য সিআরটি (CRT-Cathode Ray Tube) মনিটরের চেয়ে এলসিডি (LCD-Liquid Crystal Display) মনিটরগুলো বেশি জনপ্রিয়। চোখের ওপরে তেমন একটা প্রভাব না ফেলার জন্য বেশিক্ষণ ধরে গেম খেলার জন্য এলসিডি মনিটরগুলো গেমারদের জন্য উপযুক্ত। এলসিডি মনিটরের কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা নিচে তুলে ধরা হলো-

নেটিভ রেজ্যুলেশন :
এলসিডি মনিটরগুলো একটি নির্দিষ্ট মাপের রেজ্যুলেশনের ওপরে ভিত্তি করে বানানো হয়, যেমন- ১৭ ইঞ্চির মনিটরের রেজ্যুলেশন ১০২৪x৭৬৮ এবং ১৯ ইঞ্চি মনিটরের ক্ষেত্রে তা ১২৮০x১০২৪ হয়ে থাকে। গেমারদের জন্য ২২-২৭ ইঞ্চি মাপের মনিটর ভালো কাজে দেয়।

ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল :
পুরনো এলসিডি মনিটরে পাশ থেকে দেখতে গেলে রঙ জ্বলা বা ছবির উজ্জ্বলতা কম মনে হতো। যার কারণ কম ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল। নতুন মনিটরগুলো সর্বোচ্চ ১৭৮.৫ ডিগ্রি ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল প্রদান করে থাকে, তাই পাশ থেকে দেখার সময় ছবির কোনো হেরফের হয় না।

রেসপন্স রেট :
মনিটরের ক্ষেত্রে রেসপন্স রেট বলতে কত দ্রুততার সাথে পর্দায় দৃশ্যমান পিক্সেল রঙ পরিবর্তন করতে পারে তার পরিমাণ বোঝায়। ফাস্ট পারসন গেম খেলার ক্ষেত্রে এ ব্যাপারটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

আসপেক্ট রেশিও :
এটি দিয়ে মনিটরের স্ক্রিনের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাতকে বোঝায়। ১৬:৯ অনুপাতের মনিটরগুলোকে বলা হয় ওয়াইড স্ক্রিন মনিটর যা মুভি দেখার জন্য বেশ ভালো। গেমারদের জন্য ১৬:১০ বা ৪:৩ আকারের মনিটর যুতসই।

প্যানেল টাইপ :
এলসিডি মনিটরের প্যানেল তিন ধরনের হয়ে থাকে :

• TN (Twisted Nematic)
• VA (Vertical Alignment)
• IPS (In Plane Switching)

আইপিএস প্যানেলের পিকচার কোয়ালিটি টিএন প্যানেলের চেয়ে অনেক ভালো এবং তা দামেও বেশি। ভিএ প্যানেলের মনিটরগুলো মাঝারি কোয়ালিটি প্রদান করে অন্য দুটির তুলনায়।

এছাড়াও মনিটরের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে কন্ট্রাস্ট রেশিও, ব্রাইটনেস, কালার সাপোর্ট, ডিসপ্লেলল¬ টাইপসহ আরো কিছু, তবে সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় তাই আলোচনায় আনা হলো না।

মনিটর কেনার সময় লক্ষণীয় কিছু বিষয়

* বড় মাপের মনিটর নিলে গ্রাফিক্স কার্ড উচ্চমানের হতে হবে।

* যথাসম্ভব কম রেসপন্স রেটযুক্ত মনিটর নেয়া উচিত।

* গেমারদের জন্য আইপিএস প্যানেলের মনিটর আদর্শ।

* কম বিদ্যুৎ খরচ করে এমন মনিটর নিতে হবে, যাতে ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেলে আইপিএস ব্যাকআপেও চালাতে সমস্যা না হয়।

অপটিক্যাল ড্রাইভ



অপটিক্যাল ড্রাইভ বলতে সিডি/ ডিভিডি/ব্লু-রে ড্রাইভকে বোঝানো হয়। এ ড্রাইভগুলো দু’ ধরনের হয়ে থাকে- ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল। গেম ডিভিডি রাইট করে রাখার জন্য গেমারদের জন্য অবশ্যই ডিভিডি রাইটার থাকা উচিত। ভবিষ্যতের কথা খেয়াল রেখে ব্লু-রে ড্রাইভ কেনাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অপটিক্যাল ড্রাইভগুলোর রিড করার স্পিড ডিভিডির ক্ষেত্রে ১৬-২৮এক্স এবং ব্লু-রে ড্রাইভের ক্ষেত্রে তা ৪এক্স পর্যন্ত হয়ে থাকে।

মাউস/কীবোর্ড



যোদ্ধার হাতের ঢাল-তলোয়ারের মতো গেমারের হাতিয়ার হচ্ছে মাউস ও কীবোর্ড। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের গেমিং মাউস ও কীবোর্ড পাওয়া যায়। সাধারণ মাউস এবং কীবোর্ডও পাওয়া যায়। সাধারণ মাউস ও কীবোর্ডের চেয়ে এগুলোর দাম বেশি। গেমিং মাউসগুলোর গতি অনেক বেশি এবং তাতে কিছু আলাদা বাটন থাকে, যা গেম খেলার সময় বেশ সুবিধা দেয়। গেমিং কীবোর্ডগুলোতে মাল্টিমিডিয়া কীবোর্ডের চেয়ে কিছু বেশি কী ও অপশন যুক্ত হয়ে থাকে।

শেষ কথা

পিসির যন্ত্রাংশগুলো নিজে সংযোজন করতে না পারলে দোকান থেকে বা পিসি অ্যাসেম্বলিং কাজে দক্ষ এমন কাউকে দিয়ে সংযোজন করে নিতে হবে।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : shmt_21@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
পাঠকের মন্তব্য
০২ সেপ্টেম্বর ২০১০, ৮:০৯ AM
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস