Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > রেন্ট-এ-কোডার এখন ভি-ওয়ার্কার
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মো: জাকারিয়া চৌধুরী
মোট লেখা:৩৫
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১০ - জুলাই
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
ফ্রিল্যান্স
তথ্যসূত্র:
ঘরে বসে ‍আয়
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
রেন্ট-এ-কোডার এখন ভি-ওয়ার্কার

ফ্রিল্যান্সিং জগতে রেন্ট-এ-কোডার (RentACoder) বহুল পরিচিত একটি নাম। বিশেষ করে প্রোগ্রামারদের কাছে এটি খুবই জনপ্রিয় একটি মার্কেটপ্লেস। গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে রেন্ট-এ-কোডারের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ভি-ওয়ার্কার (vWorker) বা ভার্চুয়াল ওয়ার্কার। সাইটের নতুন ঠিকানা হচ্ছে www.vWroker.com। নামের পাশাপাশি সাইটের লোগো, ডিজাইন এবং অভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্যে আনা হয়েছে উল্লেখযোগ্য নানা পরিবর্তন।

২০০১ সালে রেন্ট-এ-কোডার যখন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তাদের মূল লক্ষ্য ছিল প্রোগ্রামার বা কোডারদের জন্য একটি মার্কেটপ্লেসের ব্যবস্থা করা। ২০১০ সালে এসে সাইটটি এখন আর শুধু কোডারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বরং গ্রাফিক্স ডিজাইনার, লেখক, অনুবাদক, ডাটাএন্ট্রি অপারেটর এবং আরো অসংখ্য পেশাজীবীর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। তাই আজ এসব ফ্রিল্যান্সারকে আর কোডার না বলে ওয়ার্কার হিসেবে অভিহিত করা হয়। ঠিক একইভাবে ক্রেতাদের (Buyer) নাম পরিবর্তন করে তাদেরকে এমপ্লয়ার (Employer) হিসেবে ডাকা হয়।

সাইটের নতুন ডিজাইনটি খুবই দৃষ্টিনন্দন হয়েছে এবং তা ওয়েব ২.০ ধারা অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। আগের সব লিঙ্ক যেখানে বাম দিকের কলামে ছিল সেগুলোকে উপরে Employers, Workers এবং Affiliates মেনুতে নিয়ে আসা হয়েছে। সাইটে নতুন ৭১টি প্রজেক্টের বিভাগ যুক্ত করা হয়েছে। পছন্দের বিভাগের নতুন নতুন প্রজেক্ট দেখতে হলে Project Filter নামের একটি সেটিং ঠিক করে নিতে হবে। এজন্য লগইন করার পর উপরের মেনুতে এই ক্রমানুযায়ী ক্লিক করতে হবে- WorkersMy AccountMy registration/settingsMy filters। যাদের নতুন মেনু পছন্দ হয়নি তারা ইচ্ছে করলে আগের মতো একটি কলামে সব লিঙ্ক দেখতে পারবেন। এজন্য WorkersMy AccountSite layout Move menu তে ক্লিক করতে হবে।

অনেকেই হয়ত জানেন না, এ সাইটে oDesk বা অন্যান্য সাইটের মতো ঘণ্টা হিসেবে কাজের জন্য Pay-for-time নামের একটি আলাদা পেমেন্ট পদ্ধতি রয়েছে। নতুন সাইটে এ পদ্ধতিতেও অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে এমপ্লয়ারদের কাছে পদ্ধতিটিকে আরো গুরুত্বপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা, ওয়েবক্যামকে ঐচ্ছিক করা এবং আরো নানা পরিবর্তন। যার উদ্দেশ্য হচ্ছে সাইটে এ ধরনের কাজের সংখ্যা বাড়ানো।

ঘণ্টা হিসেবে কাজ করার জন্য AccuTimeCard নামের একটি টাইমকার্ড সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হয়। সফটওয়্যারটি সাইটের যেকোনো পৃষ্ঠার নিচে একটি লিঙ্কের মাধ্যমে পাওয়া যায়। প্রজেক্ট চলার সময় এ সফটওয়্যারটি চালু করে রাখতে হয়, যা একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর ওয়ার্কারের ডেস্কটপের ছবি এমপ্লয়ারকে পাঠাতে থাকে। আরো নিশ্চয়তার জন্য সফটওয়্যারটি ওয়ার্কারের ওয়েবক্যাম থেকেও ছবি পাঠাতে পারে। Pay-for-time পদ্ধতিতে কাজের প্রক্রিয়া হচ্ছে নিম্নরূপ-

০১.
প্রথমে এমপ্লয়ার একজন ওয়ার্কারকে তার প্রজেক্টে কাজ করার জন্য নির্ধারণ করবে এবং প্রজেক্টের টাকা সাইটে জমা রাখবে, যা এস্ক্রো (Escrow) নামে পরিচিত।

০২.
কাজ শুরু করার আগে ওয়ার্কার তার কমপিউটারে টাইমকার্ড সফটওয়্যারটি চালু করবে, যাকে Punch in বলা হয়।

০৩.
সফটওয়্যারটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর ওয়ার্কারের ওয়েবক্যামের ছবি এবং ডেস্কটপের স্ক্রিনশট এমপ্লয়ারকে পাঠাবে। ফলে ওই সময় ওয়ার্কার কোন কোন কাজ করেছেন, তা এমপ্লয়ার নিশ্চিতভাবে জানতে পারবেন।

০৪.
কাজ চলার সময় এমপ্লয়ার এবং ওয়ার্কার উভয়েই কাজের সাপ্তাহিক ও দৈনিক অবস্থা দেখতে পারবেন।

০৫.
কাজ করার আগে ওয়ার্কার যদি কখনো টাইমকার্ড চালু করতে ভুলে যান তাহলে পরে একটি ম্যানুয়াল এন্ট্রি দেয়া যাবে। তবে এমপ্লয়ার ইচ্ছে করলে সেই সময়টি গ্রহণ নাও করতে পারেন।

০৬.
এভাবে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ওয়ার্কার কাজ করতে পারবেন। টাইমকার্ডে উল্লিখিত সময় শেষ হবার পর কাজ যাচাই করার জন্য এমপ্লয়ার ৩ দিন সময় পাবেন। এ সময়ের মধ্যে কাজ যাচাই না করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গৃহীত হবে। এর পর এস্ক্রোতে জমা থাকা টাকা ওয়ার্কারের অ্যাকাউন্টে চলে আসবে।

০৭.
এমপ্লয়ার যদি মনে করে ওয়ার্কার কাজ না করে শুধু শুধু সময় নষ্ট করেছেন, সেক্ষেত্রে সে সাইটের কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে পারবেন যা Arbitration নামে পরিচিত। সাইটের কর্তৃপক্ষ অভিযোগের সত্যতা পেলে এমপ্লয়ারকে টাকা ফেরত দিয়ে দেবে এবং ওয়ার্কারকে একটি বাজে রেটিং দেবে।

সাইট থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রে একটি ছোট পরিবর্তন করা হয়েছে। যারা ইতোমধ্যে Payoneer-এর ডেবিট মাস্টারকার্ড ব্যবহার করছেন, তাদেরকে নতুন সাইটের জন্য নতুন লোগোসম্বলিত একটি কার্ড সরবরাহ করা হয়েছে। কার্ডটিতে রেন্ট-এ-কোডার শব্দের পরিবর্তে ভি-ওয়ার্কার ব্যবহার করা হয়েছে।

ভি-ওয়ার্কার সাইটের এ নতুন পরিবর্তনগুলো নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার উদ্যোগ। তবে বিড করার পদ্ধতি, কাজ জমা দেবার পদ্ধতি, অর্থ তোলার ক্ষেত্রে তেমন কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। সাইটের এ বিষয়গুলো নিয়ে এর আগে ‘কমপিউটার জগৎ’-এ ‘রেন্ট-এ-কোডার’ শিরোনামে আলোচনা করা হয়েছে, যা http://freelancerstory.blogspot.com সাইটে গিয়ে পাওয়া যাবে। ভি-ওয়ার্ক সাইটে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সাইটকে উন্নত করার কাজ চলছে এবং পর্যায়ক্রমে আরো ৫০০ নতুন পরিবর্তন আনা হবে।

সংশোধনী :
গত সংখ্যায় ‘মাইক্রোওয়ার্কার্স’ লেখায় ভুলক্রমে কাজের মূল্য ডলারের পরিবর্তে টাকায় প্রকাশ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, মূল্য ০.১০ টাকার পরিবর্তে হবে ০.১০ ডলার। এ অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : zakaria.cse@gmail.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস