Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > ফটোশপে ডিজিটাল মেকআপ
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী
মোট লেখা:৪২
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১০ - জুলাই
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
অ্যাডোবি ফটোশপ
তথ্যসূত্র:
গ্রাফিক্স
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
ফটোশপে ডিজিটাল মেকআপ

অনেক পাঠক অভিযোগ করেছেন মডেলদের কিছু কিছু অংশ মেকওভার না দেখিয়ে একেবারে পুরো একটি চেহারা ডিজিটাল মেকআপ দেখানোর জন্য। তাই এ পর্বের সূচনা। ডিজিটাল মেকআপ বলতে একটি মডেলের পরিপূর্ণভাবে মেকআপ ডিজিটালি করে দেয়া বোঝায়। যেহেতু মডেল ফটোগ্রাফি একটু অ্যাডভান্সড লেভেলের এডিটিং কাজ দাবি করে, তাই এখানে কিছু বেসিক এডিটিং এড়ানো হয়েছে।


চিত্র-১

প্রথমেই ছবি নির্বাচন। যারা গ্ল্যামার ফটোগ্রাফি করেন, তাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ছবি থাকে। যারা সাধারণভাবে নিজেদের ছবি তুলে থাকেন, তাদের তোলা বেশি রেজ্যুলেশনের ছবি নির্বাচন করতে হবে। কারো পোর্ট্রেট ছবি থাকলে ভালো। তবে ছবিতে অবাঞ্ছিত ছায়া যেনো না থাকে সেদিকে লক্ষ রাখবেন। ছবিতে স্পট ফোকাস এবং পরিমিত আলো দরকার। সঠিক এক্সপোজার থাকলে সব জায়গায় ভালোভাবে এডিট করা সম্ভব হয়। ছবিটি সামনের দিক থেকে তোলা হলে ভালো হয়। প্রতিটি অংশ স্পষ্ট হলে প্রয়োজনমতো এডিট করা যাবে। যাদের কাছে এরকম ছবি নেই তারা ইন্টারনেট থেকে সার্চ দিয়ে খুঁজে নিতে পারেন। এখানে চিত্র-১-এ একটি মডেলের ছবি দেয়া হয়েছে।

এবার কাজের কথায় আসা যাক। প্রয়োজনীয় ছবিটিকে প্রথমে অ্যাডোবি ফটোশপ সিএসথ্রি বা পরের ভার্সনে ওপেন করুন। কারণ, কিছু টুলের ব্যবহার এখানে দেখানো হয়েছে, যা আগের ভার্সনে নাও থাকতে পারে। এখানে একটি বিদেশী মডেলের ছবিতে কাজ করে দেখান হয়েছে। মডেলের ছবিতে ভালোভাবে তাকালে বোঝা যাবে ত্বকে অনেক স্পষ্ট দাগ রয়েছে, যা ত্বকের সৌন্দর্য প্রকাশে বাধা দিচ্ছে। এগুলো দূর করার জন্য ছবির নিজস্ব কিছু প্রিপারেশন সম্পন্ন করতে হবে।

প্রথমেই লেয়ারটির একটি ডুপ্লিকেট কপি তৈরি করে নিতে হবে। Layer ট্যাব থেকে Duplicate Layer-এ ক্লিক করুন। লেয়ারটি কপি হলে আগের কপি মুছে দিন। ছবিটিতে একটু উজ্জ্বলতা নিয়ে আসতে Level সমন্বয় করে নিতে হবে। Input Levels-এর ঘরে মান বসিয়ে অথবা সাইড বার সরিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ উজ্জ্বলতা নিয়ে আসুন ছবিতে। এখানে Input level 23, 1.34, 233 রাখা হয়েছে। তবে লেভেল নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো স্লাইডগুলোকে গ্রাফের মাঝের দিকে নিয়ে আসা। আর মাঝের মিডটোন বারটি বামে চাপালে মিডটোন একটু উজ্জ্বল দেখাবে। এবার পুরো ছবিকে এক নজর দেখার পর মনে হবে কপালের দিকটা বেশি চোখে পড়ছে, কিন্তু চোখ-নাক যেখানে বেশি আকর্ষণীয় থাকার কথা। তাই এখানে ছবিটির কিছু অংশ রেখে বাকিটুকু ট্রিমিং করা হয়েছে। এর জন্য ক্রপ টুল ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ছবিতে মুখটুকু প্রাধান্য পাবে বেশি।


চিত্র-২


চিত্র-৩

এখন মুখের দাগ তুলে ফেলতে হবে। এর জন্য পুরো জুম করে Patch tool-এর সাহায্যে স্পট রিমুভ করে নিন। Patch tool-এর মাধ্যমে প্রথমে দাগ বা স্পটের জায়গা সিলেক্ট করুন। এবার সিলেকশনটিকে ড্র্যাগ করে পাশের কাছাকাছি টোনের স্কিমে নিয়ে ছেড়ে দিলে সহজেই দাগটি মিলিয়ে যাবে। এভাবে যত স্পট আছে মুছে দিন যত্নসহকারে। চিত্র-২-এ Patch Selection-এর মাধ্যমে স্পট রিমুভ করা হয়েছে। এবার চেহারার কিছু কিছু অংশ পরিবর্ধন-পরিমার্জন করতে হবে। চেহারার যে জিনিসটি প্রথম দৃষ্টি কাড়ছে তা হলো ঠোঁট এবং চোখ। ঠোঁটকে আরো আকর্ষণীয় করতে উপরের ঠোঁটকে একটু মোটা করে দিতে হবে। এর জন্য Liquify tool ব্যবহার করতে হবে। এর জন্য Ctrl+Shift+X চাপুন। Liquify tool ব্যবহার করে উপরের ঠোঁট একটু উঁচু করে দিন। একইভাবে অন্য পাশের ঠোঁট উঁচু করে দিন। চিত্র-৩ Liquify tool-এর মাধ্যমে ঠোঁট কারেকশন করে দেয়া হচ্ছে। ব্রাশ সেটিং থেকে Turbulence filter বাড়িয়ে রাখুন তাতে অসামঞ্জস্যতা যা হবে তা ঠিক হয়ে যাবে।

এবার চেহারার চোখ অংশ এডিট করার পালা। চোখের ভ্রূ যদি একটু উঁচু করে দেয়া যায় তাহলে চোখটাকে আরো গ্ল্যামারাস লাগবে। ঠিক আগের মতো করে চোখের ভ্রূর প্রান্তগুলো আরো একটু উঁচু করে নিতে পারেন। এর জন্য Liquify Filter-এর Brush Size বড় করে নিতে হবে। চোখের পাপড়ি বা অন্য কোনো অংশে যেন চাপ না পড়ে তার দিকে লক্ষ রাখুন। অসামঞ্জস্যতা যেন না চলে আসে তার জন্য Turbulence tool ব্যবহার করুন। খুব সতর্কতার সাথে ব্লার মোশন কন্ট্রোল করুন এর সাহায্যে।

এখন নাকের কিছু অংশ মোডিফাই করতে হবে। একটু লক্ষ করলে দেখা যাবে এই মডেলের নাকের উপরিভাগ একটু মোটা। এতে একটু চিকন ভাব আনার জন্য আবার Liquify tool ব্যবহার করতে হবে। এ টুলের জন্য ব্রাশ সাইজ সফট করে নেবেন। চোখের নিচ থেকে একটু নাকের অংশ মাঝের দিকে চাপিয়ে দিন। বেশি করতে যাবেন না, যতটুকু দেখতে মোহনীয় লাগে ততটুকুই করলে ভালো। এবার ব্রাশ সাইজ একটু বাড়িয়ে নিন। এখানে ২৩০ রাখা হয়েছে, যা দিয়ে মুখমন্ডলের সাইজ রিশেপ করা হবে। প্রথমে থুঁতনি থেকে জামির নিচ পর্যন্ত চোয়ালের অংশ চওড়া করতে হবে। এর জন্য Liquify tool যথেষ্ট। চেহারার আকার একটু ওভাল বা ডিম্বাকৃতি করে তুলতে পারলে অনেক সুন্দর দেখাবে। চোয়ালের দিকটা পুশ করা হয়েছে বলে একটু গোলাকার যদি লেগে থাকে তবে Free transform-এর মাধ্যমে প্রয়োজন মাফিক স্ক্রিনকে ছোট-বড় করে নিন। এ ছবির মডেলের মুখ এমনিতে লম্বাটে। এটিকে একটু চাপিয়ে দিলে মুখটা ডিম্বাকৃতি ধারণ করবে। Free transform করতে শর্টকাট Ctrl+t চাপলে লেয়ারটি সিলেক্ট হবে এবং তারপর প্রয়োজন মতো রিশেপ করতে পারবেন। উপরে বা নিচে যে অংশ এই রিসাইজ করার জন্য বাড়তি রয়ে গেল তা ক্রপ টুল ব্যবহার করে ফেলে দিন।

এবার স্কিন রিকনস্ট্রাকশনের পালা। একটি চেহারা মসৃণ গ্ল্যামারাস তখন হয়ে উঠবে, যখন এটি দাগছোপহীন মসৃণ হয়ে যাবে। এ মডেলের স্কিনে অসংখ্য ছোট ছোট র্যারশ রয়েছে, যা এর সৌন্দর্যকে বিকশিত করতে বাধা দিচ্ছে। এর জন্য চেহারার উজ্জ্বলতা ও কোমলতা বাড়াতে হবে। চোখ, ঠোঁট, ভ্রূ বাদে চেহারা এবং হাত সিলেক্ট করুন। সিলেকশনের জন্য Polygonal lasso tool ব্যবহারে ভালো ফল পাবেন। একেবারে সীমানা ধরে সিলেকশন না টেনে একটু ভেতর থেকে সিলেক্ট করুন। কারণ, feathering করার সময় চারদিকে বেশ কিছু এরিয়া সফটভাবে সিলেক্ট করবে। চিত্র-৩-এ দেখতে পাচ্ছেন সিলেকশন এরিয়া কতটুকু হওয়া উচিত। এবার অন্তত 5 pixel feather করুন। এখন সিলেকশনটি কপি করে পেস্ট করুন। অর্থাৎ এই লেয়ারের ওপর নতুন লেয়ার ওপেন করুন। এবার নতুন লেয়ারটি সিলেক্ট করে Gaussian Blur-এর মাধ্যমে স্কিনটি ব্লার করে দিতে হবে যাতে মুখমন্ডল আরো মসৃণ এবং স্পষ্ট হয়। এটি করতে Filter >Blur > Gaussian Blur-এ ক্লিক করুন। কতটুকু ব্লার হবে তা নির্ভর করে স্কিনের Smoothness-এর ওপর। এ মডেলের স্কিনের ক্ষেত্রে 4.1 Pixel Gaussian Blur ব্যবহার করা হয়েছে। এবার এ লেয়ারটির Opacity একটু কমিয়ে ৭০%-এ রাখা হয়েছে যাতে নিচের স্কিনও ভেসে ওঠে এবং আলাদা করে ব্লার এরিয়া না বোঝা যায়। পুরোপুরি মিলে গেলে দুটো লেয়ার একত্রে মার্জ করে দিন। দুটো লেয়ার একসাথে সিলেক্ট করে ডান বাটন ক্লিক করে অপশন থেকে মার্জ লেয়ার বা শর্টকাট হিসেবে Ctrl+E চাপুন। পুরো ছবিটার দিকে একবার তাকিয়ে দেখলে চুলের হলদে রঙটি অন্যরকম লাগবে। তাই এর হলদে ভাব দূর করতে Selective Color Option থেকে হলুদ রং কমাতে হবে। যেহেতু এ ছবিটি CMYK মোডে আছে তাই এর চ্যানেলগুলো আলাদাভাবে দেখাবে।

এবার ড্রপডাউন থেকে Yellow Channel সিলেক্ট করে নিতে হবে। Selective Color আনতে Image >Adjustment > Selective Color-এ ক্লিক করুন। এবার Yellow tab থেকে Cyan বাড়িয়ে +40% করা হয়েছে। Magenta পরিবর্তন না করে Yellow কে -77%-এ নামিয়ে আনা হয়েছে। আর Black ইচ্ছে করলে হালকা কমাতে পারেন। এখানে -15% রাখা হয়েছে যাতে চুলটি উজ্জ্বল দেখায়।


চিত্র-৪

এ কারেকশনের ফলে পুরো ছবিতে কিছুটা ফ্যাকাশে ভাব চলে এসেছে। যার জন্য কিছু কালার কারেকশন প্রয়োজন। এখানে কালার কারেকশনের Curvesকে ব্যবহার করা হয়েছে। RGB কার্ভ একটু উপরের দিকে ঠেলে দিন। Red Channel-এর Input 74 ও Output 85 রাখা হয়েছে এবং Blueকে একটু প্রাধান্য দিতে Input 73 এবং Output 103 রাখা হয়েছে। কার্ভগুলো দেখতে চিত্র-৪-এর মতো হবে। ছবির কালার কারেকশনের জন্য একেক রকম সেটিংয়ের প্রয়োজন। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত রঙ সমন্বয় সন্তুষ্টিজনক না হচ্ছে ততক্ষণ কার্ভের Input, Output সমন্বয় করুন। এবার চোখের মণির রঙ এডিট করার পালা। এর জন্য প্রথমেই একটি নতুন লেয়ার খুলতে হবে। এবার সফট ব্রাশের সাহায্যে চোখের মণি বরাবর কমলা রঙ ব্যবহার করে পেইন্ট করতে হবে। কমলা রঙ চোখের মণির ভেতরের রঙকে একটু আকর্ষণীয় করে তুলবে। এবার এ পেইন্টকে একটু সফট করতে 1.5 Pixels Gaussian Blur করুন। এবার লেয়ার টাইপ থেকে Soft Light Select করে দিন। যাতে এ লেয়ারটি ব্যাকগ্রাউন্ডে চোখের মাঝে হালকা কমলা রঙের একটু উজ্জ্বলতা তৈরি করে। লেয়ার Properties থেকে এর Opacity কমিয়ে 70% করে দিন।

এবার ঠোঁট নিয়ে কাজ শুরু করা যাক। মডেলের ঠোঁটে লিপগ্লস থাকাতে খুব একটা ঝামেলা পোহাতে হবে না। রঙটা একটু গাঢ় করে দিতে পারলে সুবিধা হতো। তাই একটি নতুন লেয়ার খুলতে হবে। লেয়ারটির নাম Lips দিন। এবার সাবধানে ম্যাজেনটা রঙ দিয়ে ঠোঁটের ওপর পেইন্ট করুন। পুরো জুম করে কাজটি সম্পন্ন করুন। এবার ঠিক আগের মতো Gaussian Blur প্রয়োগ করে ঘোলা করে দিন। প্রয়োজনে feathering করতে পারেন, তবে 0.5 Pixel-এর বেশি করবেন না। ঘোলা করার ক্ষেত্রে এখানে 2 Pixel Gaussian Blur প্রয়োগ করা হয়েছে। এবার লেয়ার টাইপ থেকে Soft Light নির্বাচন করুন। মনে রাখবেন, যখন কোনো Layer কে Soft Light মোডে নিয়ে যাবার কথা ভাববেন তখন সেই লেয়ারে হালকা রঙ ব্যবহার করবেন না। গাঢ় রঙ Soft Light-এর প্রভাবে হালকা রঙে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়ে আসে। এবার এর Opacity কমিয়ে আনতে হবে। এখানে 60% Opacity রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে আরো কমিয়ে নিতে পারেন।


চিত্র-৫


চিত্র-৬

এবার ডিজিটাল মেকআপের আরো কিছু ডিটেইল কাজ করতে হবে। এ পর্যায়ে চোখের ওপরের Eye Shadow এবং Eye Liner দিয়ে নিতে হবে। প্রথমে Eye Liner-এর জন্য টুলবক্স থেকে Eye dorpper tool নিতে হবে। এর সাহায্যে চোখের সবচেয়ে কালো জায়গা থেকে রঙ বেছে নিন। এবার নতুন লেয়ার নিয়ে চোখের পাপড়ির লাইনিং বরাবর আঁকুন। এ ক্ষেত্রে যত ছোট সফট ব্র্যাশ বেছে নেবেন তত ভালো। চোখের পাপড়ির লাইনিং অনুযায়ী সাবধানে পেইন্ট করুন। এখানে 3 Pixel ব্রাশ ব্যবহার করা হয়েছে। এবার শুধু লেয়ারটির টাইপ Soft Light করে দিলেই চলবে। Gaussian Blur এবং Opacity কমাবার প্রয়োজন নেই। এবার Eye Shadow তৈরি করতে নতুন করে একটি লেয়ার নিন। প্রতিটি লেয়ার তার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী নামকরণ করলে ভালো হয়। তাতে অনেক Layer-এর ভিড়ে প্রয়োজনীয় লেয়ার খুঁজে পাওয়া যায় দ্রুত। নতুন লেয়ারটিতে Eye Shadow-এর জন্য প্রয়োজনীয় অংশগুলো পেইন্ট করুন। এখানে নিজের ইচ্ছেমতো রঙ বেছে নিতে পারেন। Eye Shadow-এর বিস্তৃতি চোখের পাতার উপরিভাগটুকু হবে এবং রাউন্ড হয়ে কিছুটা চোখের নিচ পর্যন্ত আসবে। চিত্র-৫-এ দেখতে পাচ্ছেন কতটুকু জায়গাজুড়ে Shadow-র বিস্তৃতি নেয়া হয়েছে। লক্ষ রাখবেন, চোখের পাপড়ির ভাঁজের বাইরে যেন না যায়। এবার আগের মতো করে এটিকে সফটভাব নিয়ে আসতে Gaussian Blur ব্যবহার করতে হবে। এখানে আগের মতো 4 Pixel ব্লার করা হয়েছে। লক্ষ রাখবেন, চোখের এই মেকআপের ক্ষেত্রে Feathering-এর প্রয়োজন নেই। এ Eye Shadow-এর ক্ষেত্রে Layer Type ‘Color Burn’ সিলেক্ট করুন। এবার প্রয়োজনমতো এর Opacity হালকা কমিয়ে নিন যাতে Shadow সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। কিন্তু এর ফলে আগের যেসব লেয়ার অর্থাৎ ঠোঁট, চোখের মণির রঙগুলো একটু পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। এটি ঠিক করতে Hue/Saturation নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এর জন্য Image >Adjustment > Hue/Saturation-এ ক্লিক করুন। এ ছবির ক্ষেত্রে Hueকে +65, Saturationকে +100 এবং Lightnessকে -46-এ রাখা হয়েছে। মনে রাখবেন, এ সেটিংস ঠোঁট এবং চোখ উভয় লেয়ারে প্রয়োগ হবে। এবার লেয়ার Opacity 75%-এ নামিয়ে আনুন। এখন আরো কিছু ডিটেইল কাজ করা প্রয়োজন, যেমন চেহারায় যদি কিছুটা Blushon দেখা যায়, তাহলে আরো সুন্দর দেখা যাবে। এর জন্য নতুন একটি লেয়ার খুলুন। বড় সফট ব্রাশের সাহায্যে Blushing পয়েন্টগুলোতে পেইন্ট করুন। এখানে হলদে কমলা রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। চিত্র-৬-এ দেখতে পাচ্ছেন কোন অংশগুলো ব্রাশ পয়েন্ট হিসেবে পেইন্ট করা হয়েছে। এখন এ ব্রাশকে অনেক সফট এবং হালকাভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। এর জন্য অনেক বেশি পিক্সেল Gaussian Blur করতে হবে। এ ছবির ক্ষেত্রে 40 Pixel Gaussian Blur করা হয়েছে, যা এ রঙকে অনেক হালকাভাবে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করবে। এবার Eraser tool দিয়ে চেহারার বাইরে কোনো রঙ চলে আসলে তা মুছে দিন। এবার লেয়ার টাইপ Linear Burn মোডে নিয়ে আসুন। সব শেষ হলে এর Opacity কমিয়ে 42%-এর কাছাকাছি নিয়ে আসুন।


চিত্র-৭


চিত্র-৮

এখন শেষ পর্যায়ে সব লেয়ারকে একত্রিত করে নিন। এটি করতে Layer ট্যাব থেকে Merge Visible-এ ক্লিক করুন। ফিনিশিং টাচ হিসেবে লেভেলস নিয়ন্ত্রণ করে নিন। এটি নিজের পছন্দমতো সেটিংয়ে করে নিন। কালার অ্যাডজাস্টমেন্ট দরকার হলে কার্ভের সাহায্য নিন। এখন নিশ্চয়ই আপনাদের মডেলের ছবি আগের থেকে অনেক গ্ল্যামারাস এবং আকর্ষণীয় হয়েছে, যা চিত্র-৭-এর মতো দেখতে হয়েছে। এই রকম আরো আকর্ষণীয় গ্রাফিক্সের কারুকাজ এবং ট্রিকস জানতে চোখ রাখুন কমপিউটার জগৎ-এর গ্রাফিক্সের পাতায়।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : ashraf.icab@gmail.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
পাঠকের মন্তব্য
০২ মার্চ ২০১১, ১১:০৩ PM
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস