Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > নয়েজলেস কমপিউটিং পারফরমেন্স যেভাবে পাবেন
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: তাসনুভা মাহমুদ
মোট লেখা:১০০
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১০ - আগস্ট
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
কমপিউটার
তথ্যসূত্র:
পাঠশালা
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
নয়েজলেস কমপিউটিং পারফরমেন্স যেভাবে পাবেন

পিসি ব্যবহারকারীরা প্রায়শই বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন ধরনের বিরক্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, যেমন দুর্বল পারফরমেন্স, অস্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ, দুর্বল ধরনের সফটওয়্যার বা বাগযুক্ত সফটওয়্যার ইনস্টল ও ব্যবহার করার জন্য। এছাড়াও অভিজ্ঞ ব্যবহারকারীরা কমপিউটারে কাজ করতে গিয়ে প্রচন্ডভাবে বিরক্ত বোধ করেন কমপিউটার চলার সময় উদ্ভূত নয়েজ বা শব্দের কারণে।



এ লেখায় কমপিউটারে সংযুক্ত স্পিকার থেকে উদ্ভূত নয়েজ বা শব্দের কথা বলা হচ্ছে না বরং কমপিউটারের পাওয়ার সুইচ অন করার পর যে শব্দে কাজ করতে আমরা সচরাচর অভ্যস্ত হয়ে পড়ি তার আলোকেই বলা হয়েছে। নয়েজ বা গোলমেলে শব্দের উৎস হচ্ছে কমপিউটার কেসের ভেতরের মুভিং বা চলমান বিভিন্ন কম্পোনেন্ট, যেমন ফ্যান যা সিস্টেম কুলিংয়ের কাজে ব্যবহার হয়, পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের রয়েছে নিজস্ব ফ্যান এবং মুভিং ড্রাইভ- যেমন, হার্ডড্রাইভ, সিডি/ডিভিডি ড্রাইভ। এসব কম্পোনেন্ট কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশ বিরক্তিকর শব্দের সৃষ্টি করে। তবে শব্দ কমানোর উপায়ও আমাদের রয়েছে, যা এবারের পাঠশালা বিভাগে উপস্থাপন করা হয়েছে।

যেসব কারণে বিশ্রী শব্দ সৃষ্টি হয়

কমপিউটার যে শব্দ সৃষ্টি করে তা মূলত সিস্টেমকে কুলিং করার প্রয়োজনীয়তার কারণেই উদ্ভূত হয়। ইদানীং প্রসেসর ও গ্রাফিক্স কার্ডের গতি দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছে, ফলে সৃষ্টি হচ্ছে অনেক বেশি তাপ। তাই সিস্টেমকে ঠান্ডা রাখার জন্য দরকার বাড়তি কুলিং সিস্টেম। বেশিরভাগ পিসিতে ন্যূনতম তিনটি কুলিং ফ্যান সম্পৃক্ত থাকে, যার মধ্যে একটি থাকে প্রসেসরের ওপর, একটি পাওয়ার সাপ্লাইয়ে বিল্ট-ইন এবং একটি গ্রাফিক্স কার্ড কুলিংয়ের জন্য। এ ফ্যানগুলোর প্রতিটিই সৃষ্টি করে বাজে নয়েজ এবং ভলিউম বাড়তে থাকে যখন সব কম্পোনেন্ট যুগপৎভাবে একসাথে রান করে। আর এ কারণেই হার্ডডিস্কের স্পিনিং এবং অপটিক্যাল ড্রাইভ যেমন সিডি/ডিভিডি রাইটার কেসের ভেতরে কম্পন সৃষ্টি করে, যা এ নয়েজের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তাপ বিকীর্ণ হওয়া

পিসিটি যদি হয় পুরনো কিংবা কমশক্তির প্রসেসরবিশিষ্ট, তাহলে এ পিসি ঠান্ডা রাখার জন্য দরকার হতে পারে ন্যূনতম একটি কুলিং ফ্যান। যাই হোক, ফ্যানের কুলিং কার্যক্রমকে কমানো যায় অধিকতর কার্যকর হিট সিঙ্ক ইনস্টল করার মাধ্যমে। হিট সিঙ্কের কাজ হলো প্রসেসর থেকে তাপকে স্থানান্তর করা। সিস্টেমে তুলনামূলকভাবে বড় হিট সিঙ্ক ইনস্টল করা হলে তাপ দ্রুতগতিতে ট্রান্সফার করতে পারবে। অর্থাৎ বড় ফ্যান মুভ করাতে পারে বেশি বায়ুপ্রবাহ। এর সাথে যদি ইনস্টল করা থাকে বড় হিট সিঙ্ক, তাহলে ফ্যান ধীরে ধীরে ঘুরবে এবং কম শব্দ বা নয়েজ সৃষ্টি করবে। প্রসেসর এবং হিট সিঙ্কের মাঝখান থেকে যেন সর্বোত্তমভাবে তাপ ট্রান্সফার করা যায় সেজন্য প্রয়োগ করা উচিত একটি থার্মাল লেয়ার পেস্ট কন্ডাকটিভিটিকে উন্নত করার জন্য।

নয়েজলেস ফ্যান

ফ্যানের নয়েজ কমানোর বেশ কয়েকটি সহজ উপায় রয়েছে। ইতোমধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে বড় ফ্যানগুলো সাধারণত ছোট ফ্যানগুলোর তুলনায় কম নয়েজ সৃষ্টি করে। তবে সিল করা মোটর ধুলোবালিকে বেশি করে সস্থানে ফিরে আনতে পারে। ফলে কিছুদিন পর ফ্যানের শব্দ বাড়াতে পারে যথেষ্ট মাত্রায়। মানুষের বচনশক্তি সাধারণত হয়ে থাকে ৬০ ডেসিবল শব্দের, পক্ষান্তরে শহরের ব্যস্ত রাস্তাঘাটে এ মাত্রা হয়ে থাকে ৯০ ডেসিবল। সুতরাং খুব সহজে বলা যায় নয়েজ সৃষ্টির ক্ষেত্রে কম রেটিংয়ের ফ্যানই ভালো।



লক্ষণীয়, কাজের ক্ষেত্রে যেমন দরকার বড় ফ্যান, তেমনই দরকার কম নয়েজ সৃষ্টিকারী ফ্যান। এছাড়াও আরেকটি অপশন হিসেবে রয়েছে বাড়তি ফ্যান ইনস্টল করার সুযোগ। এর ফলে পিসির ক্যাসিংয়ের অভ্যন্তরে বাড়তি বায়ুপ্রবাহ হয় এবং প্রতিটি স্বতন্ত্র ফ্যানের কাজের মাত্রা যথেষ্ট কমিয়ে দেয়। আধুনিক কমপিউটারে ফ্যানের যে সেন্সর সম্পৃক্ত করা হয়, তা নির্দিষ্ট করে সার্বিক তাপমাত্রা এবং সেভাবে ফ্যানের স্পিডকে সমন্বয় করে। যদি তাপমাত্রা বেশি হলে ফ্যানের স্পিড বেড়ে যায়, যাতে ক্ষতি না হয়। কয়েকটি শান্তপ্রকৃতির ফ্যান ব্যবহার করে নয়েজে আউটপুট লেবেল কমানো যায়।

বায়ুপ্রবাহ

বড় ও শান্ত ধরনের ফ্যান ইনস্টল করা মানেই এই নয়, কাঙ্ক্ষিত মানের পারফরমেন্স পাবেন। কেননা, কমপিউটার ক্যাসের মধ্যে বায়ুপ্রবাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। বায়ুপ্রবাহ যথাযথভাবে পরিবেষ্টন না করলে ফ্যান শুধু চারদিকে গরম বাতাস মুভ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ বায়ুপ্রবাহ সঞ্চালনের জন্য দু’টি ধাপ রয়েছে। প্রথমটি ফ্যানের সঠিক অবস্থান এবং দ্বিতীয়টি প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা। এছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ ইউনিটসহ কমপিউটারে তিনটি ফ্যান থাকতে হবে। একটি ফ্যান থাকবে ফ্যানের সামনের দিকে যা বাইরের বাতাস টেনে ভেতরে নিয়ে যাবে এবং প্রসেসরের দিকে বাহিত করবে, একটি থাকবে প্রসেসরের ওপরে, যা গরম বাতাস শুষে নেবে এবং আরেকটি ফ্যান থাকবে ক্যাসের পাশে যা গরম বাতাসকে বাইরের দিকে ঠেলে বের করে দেবে। দ্বিতীয় ধাপের কাজটি হলো ক্যাবলের কোনো লুজ কানেকশন থাকলে তা টাইট করা।

প্রসেসর স্পিড

কমপিউটারের ফ্যানের নয়েজ কমানোর আরেকটি উপায় হলো প্রসেসরের স্পিড কমানো, যাতে কম তাপ সৃষ্টি হয়। এতে কুলিংও কম দরকার হবে। এ কাজটি ব্যবহারকারীকে অত্যন্ত যত্নসহকারে করতে হয়। এজন্য স্টার্ট-আপ প্রসেসের সময় Del বা F2 চাপতে হবে বায়োসে এন্টার করার জন্য। এরপর ব্যবহারকারীকে মনোনিবেশ করতে হবে প্রসেসর বা সিপিইউর সেটিংয়ের ওপর। প্রসেসরের অপারেটিং স্পিড অর্থাৎ ফ্রন্টসাইড বাস (FSB) এবং মাল্টিপ্লায়ার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দুইটি সেটিং ব্যবহার করা যায়। ফ্রন্ট সাইড বাস স্পিড সামান্য কমিয়ে পার্থক্য বুঝার চেষ্টা করে দেখুন ফ্যান কেমন নয়েজ সৃষ্টি করছে। তবে এ কাজ করার সময় মূল সেটিংটি অবশ্যই নোট করে রাখতে হবে।

প্রসেসরের সেটিং সমন্বয় করার সময় আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে প্রসেসরের স্পিড যাতে বেড়ে না যায়। কেননা, এ কাজের মূল লক্ষ্য হলো কুল এবং নয়েজবিহীন কমপিউটিং। ওভারক্লকিং নয়। মাদারবোর্ড ও প্রসেসর প্রস্ত্ততকারীদের অনুমোদনবিহীন সেটিং সিস্টেমের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, যার ফলে ওয়ারেন্টিও বাতিল হয়ে যেতে পারে।

কম্পন সমস্যা

লক্ষণী, কমপিউটার যে কম্পন সৃষ্টি করে তা শুধু ক্যাসের ভেতরে অ্যামপ্লিফাই না হয়ে অন্যান্য কঠিন সারফেসেও সম্প্রসারিত হয় এবং আরো বেশি করে অ্যামপ্লিফাই বা বিবর্ধিত হয়।

এর সমাধান হিসেবে প্রথমে কমপিউটারকে কার্পেট আবৃত মেঝেতে সেট করুন। এর ফলে কম্পন বা ভাইব্রেশন যথেষ্ট মাত্রায় শুষে নেয় বা কমিয়ে দেয়। যদি এটি সম্ভব না হয়, তাহলে কমপিউটারের ক্যাসের নিচে রাবার জাতীয় উপাদান সেট করুন।

আমরা অনেকেই জানি, অনাকাঙ্ক্ষিত কমপিউটার নয়েজ সৃষ্টি হয় মুভিং কম্পোনেন্ট থেকে। এদের মধ্যে কোনো কোনো কম্পোনেন্টের মুভমেন্ট হবে অবধারিত, যেমন কুলিং ফ্যান, ড্রাইভের মুভমেন্ট এড়ানো সম্ভব নয় কোনোভাবেই। তবে লুজ কানেকশনের জন্য যে নয়েজ সৃষ্টি হয়, এর পরিণাম মারাত্মক হতে পারে। সুতরাং সব কম্পোনেন্টকে সঠিকভাবে এবং দৃঢ়ভাবে লাগানো উচিত। নয়েজ কমানোর আরেকটি উপায় হলো বিভিন্ন কম্পোনেন্ট জুড়ে দেয়ার সময় রাবার ওয়াশার ব্যবহার করা। যার কারণে কম্পন বা ভাইব্রেশন কম হবে।

হার্ডডিস্ক ও অপটিক্যাল ড্রাইভের মুভমেন্টকেও কমানো যায় উল্লেখযোগ্যভাবে অ্যান্টিভাইব্রেশন ড্রাইভ ব্যবহারের মাধ্যমে। সঠিক ও ভালো মানের ইন্টারনাল ফ্যান ব্যবহারের মাধ্যমেও পেতে পারেন নয়েজবিহীন কমপিউটিং পারফরমেন্স। ভালো মানের ফ্যান শুধু চমৎকার কুলিং ব্যবস্থাই করে না বরং স্পিডকেও নিয়ন্ত্রণ করে, যার কারণে সিস্টেম আরো কম নয়েজ সৃষ্টি করে। নয়েজবিহীন কম্পোনেন্ট তুলনামূলকভাবে বেশি দামী।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : mahmood_sw@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস