Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > এনভিডিয়ার নতুন ধারার ওয়ার্কস্টেশন গ্রাফিক্স প্রসেসর
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: লুৎফুন্নেছা রহমান
মোট লেখা:১৩৫
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১০ - সেপ্টেম্বর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
গ্রাফিক্স কার্ড
তথ্যসূত্র:
হার্ডওয়্যার
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
এনভিডিয়ার নতুন ধারার ওয়ার্কস্টেশন গ্রাফিক্স প্রসেসর

এনভিডিয়া ১৯৯৯ সালে জিপিইউ তথা গ্রাফিক্স প্রসেসর ইউনিট আবিষ্কার করার পরই মূলত কমপিউটার বিশ্বে গ্রাফিক্সের শক্তির প্রসঙ্গটি জোরালো হয়। এরপর থেকে এনভিডিয়া অবিরত ভিজ্যুয়াল কমপিউটিং বিশ্বে সৃষ্টি করে আসছে নিত্যনতুন গ্রাফিক্স স্ট্যান্ডার্ড, যার ফলে ট্যাবলেট এবং পোর্টেবল মিডিয়া প্লেয়ার থেকে শুরু করে নোটবুক এবং ওয়ার্কস্টেশন পর্যন্ত সব ডিভাইসে ইন্টারেক্টিভ গ্রাফিক্সের নিবিড় ছোঁয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে। এনভিডিয়ার প্রোগ্রামেবল জিপিইউর অভিজ্ঞতা পথ দেখিয়েছে প্যারালাল প্রসেসিংয়ের, যা সুপারকমপিউটিংকে করেছে কম ব্যয়বহুল এবং ব্যাপক বিস্তৃতভাবে প্রবেশযোগ্য। এনভিডিয়া কোম্পানি ধারণ করছে ১১০০-এর বেশি ইউএস প্যাটেন্ট। এগুলোতে সম্পৃক্ত রয়েছে ডিজাইন, যা আধুনিক কমপিউটিংয়ের ফান্ডামেন্টাল বা ভিত্তিস্বরূপ।

এনভিডিয়ার মতে, প্রথম কোয়াড্র (Quadro) ওয়ার্কস্টেশন গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ)-এর আবির্ভাব ঘটে ফার্মি (Fermi) আর্কিটেকচার ভিত্তিতে, যা মূলত কমপিউটেশনাল ভিজ্যুয়ালাইজেশনের নতুন যুগের সূচনা বা সূত্রপাত ঘটানো ছাড়া আর কিছুই নয়। কোয়াড্র ওয়ার্কস্টেশন গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিটের পারফরমেন্স থ্রিডি অ্যাপ্লিকেশনের ক্ষেত্রে পাঁচগুণ বেশি দ্রুতগতি এবং কমপিউটেশনাল সিম্যুলেশনের ক্ষেত্রে আটগুণ বেশি দ্রুতগতিসম্পস্ন। এনভিডিয়ার মতে, নতুন কোয়াড্র ৬০০ প্রতি সেকেন্ডে ১.৩ বিলিয়ন ট্রায়াঙ্গেল রেটেট যার মাধ্যমে ডেস্কটপ ব্যবহারকারীরা পাঁচগুণ বেশি জটিল মডেল ও দৃশ্য নিয়ে ইন্টারেক্টিভ ভাবে কাজ করতে পারে।

নতুন কোয়াড্র জিপিইউগুলো হলো প্রথম এরর কারেকশন কোড (ECC) মেমরি এবং দ্রুতগতির IEEE ডাবল প্রিসেসন ফ্লটিং পয়েন্ট পারফরমেন্সসম্বলিত, যা অ্যাপ্লিকেশনগুলোর সর্বোচ্চ মাত্রার নিখুঁত চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম, যেমন মেডিক্যাল ইমেজিং এবং সসীম ইলিমেন্ট অ্যানালাইসিস। এটি ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড যেমন ওপেনজিএল ৪.১, ডিরেক্টএক্স ১১, ওপেনসিএল এবং ডিরেক্ট কমপিউটার সাপোর্ট করে। জিপিইউ সুবিধা পায় এনভিডিয়ার নিজস্ব অ্যাপ্লিকেশন এক্সেলারেশন ইঞ্জিন (AXE) এবং CUDA প্যারালাল আর্কিটেকচার ব্যবহারের।

ডেস্কটপ ওয়ার্কস্টেশনগুলোর মধ্যে কোয়াড্র ৬০০ কার্ড সবচেয়ে দামী এবং এটি ৬ গি.বা, GDDRS মেমরি এবং ৪৪৮ CUDA প্রসেসিং কোরসম্বলিত, কোয়াড্র ৫০০ ২.৫ গি.বা. GDDRS মেমরি এবং ৩৫২ CUDA প্রসেসিং কোরসম্বলিত আর কোয়াড্র ৪০০ ২ গি.বা. GDDRS মেমরি এবং ৩২০ CUDA কোর প্রসেসিং বৈশিষ্ট্যসম্বলিত। মোবাইল ওয়ার্কস্টেশনের জন্য কোয়াড্র ৫০০ প্যাকের রয়েছে ২ গি.বা. মেমরি ও ৩২০ CUDA প্রসেসিং কোর। এ বছরের তৃতীয় কিস্তিতে এইচপি ও ডেল তাদের সিস্টেমের জন্য এই কোর উন্মুক্ত করবে।

উচ্চতর পারফরমেন্সের কমপিউটিং ক্ষমতার সক্ষমতার সাথে অ্যাডভান্সড ভিজ্যুয়ালাইজেশন ক্ষমতা সমন্বিত করার মাধ্যমে এনভিডিয়া সর্বপ্রথম চালু করে প্রফেশনাল গ্রাফিক্স সলিউশন। ভালোমানের হাই-এন্ড ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের জন্য দরকার দ্রুতগতির পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ বা ফাংশন, যা পাওয়া যায় এই কোয়াড্র জিপিইউতে। এনভিডিয়ার কোয়াড্র জিপিইউ ব্যবহার করার মাধ্যমে আমরা প্রতিদিন আগুন, ডাস্ট ও বায়ু সিম্যুলেশনের সর্বোচ্চ ৮টি পুনরাবৃত্তি দেখতে পারি, এক্ষেত্রে গতি বাড়িয়ে ১০ থেকে ১৫ গুণ বাড়ানো যায়। জটিল ধরনের যেসব ভিজ্যুয়েল ইফেক্টের চ্যালেঞ্জের সমাধান অসম্ভব, তার সমাধান প্রক্রিয়া পুরোপুরি বদলে দিয়েছে এনভিডিয়ার এই CUDA এবং কোয়াড্র জিপিইউ।

এনভিডিয়ার শুধু উন্নত থেকে উন্নততর গ্রাফিক্স হার্ডওয়্যার তৈরির কাজে নিয়োজিত তাই নয়। এনভিডিয়া গ্রাফিক্সসংশ্লিষ্ট অ্যাডভান্সমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় চালিকাশক্তিসম্পন্ন সফটওয়্যার টুলও তৈরি হয়ে আসছে অব্যাহতভাবে, যা এই ইন্ডাস্ট্রির গতিধারাকে বদলে দিয়েছে। লক্ষণীয়, এনভিডিয়া তার পণ্যের ব্যবহারকারীর সন্তুষ্টি বিধানের জন্য গত এক দশক ধরে সময়োপযোগী টুলের পর টুল ডেভেলপ করে আসছে, যাতে করে গ্রাফিক্স কার্ডের বাজারে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার অব্যাহত থাকে।

এনভিডিয়ার ফার্মি আর্কিটেকচারভিত্তিক নতুন এনভিডিয়া কোয়াড্র জিপিইউ সুবিধা, ফিচার, প্রভাব এবং সক্ষমতা, এনভিডিয়া থ্রিডি ভিশন প্রো সলিউশন এবং এনভিডিয়া অ্যাপ্লিকেশন এক্সেলারেশন ইঞ্জিনের প্রভাবে যে বাস্তবতার ছোঁয়া পাওয়া যায় তা কল্পনার জগৎকে ছাড়িয়ে যায়।

এনভিডিয়ার থ্রিডি ভিশন প্রো

এনভিডিয়ার থ্রিডি ভিশন প্রো একটি নতুন থ্রিডি স্টেরিওস্কপিক সলিউশন যা ইঞ্জিনিয়ার, ডিজাইনার, আর্কিটেক এবং কমপিউটেশনাল কেমিস্টরা জটিল থ্রিডি ডিজাইন নিয়ে কাজ করতে পারেন। এর ফলে থ্রিডি ডিজাইনাররা তাদের কাজের আরো ডিটেইল ভিউ করতে পারে। থ্রিডি ভিশন প্রো সলিউশনের মাধ্যমে ডেস্কটপে পাওয়া যাবে প্রকৃত স্টেরিও থ্রিডি ইফেক্ট। এক্ষেত্রে এলসিডি প্যানেলের সাপোর্ট দরকার হবে। এর ফলে পাওয়া যাবে বিশ্বস্ত থ্রিডি ভিউয়িং অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে বিস্তৃত ক্ষেত্রজুড়ে ভিজ্যুয়ালাইজেশন পরিবেশ, যেমন ভিডিওওয়াল এবং কোলাবোরেটিভ ভার্চুয়াল এনভায়রনমেন্ট।

থ্রিডি ভিশন প্রো সলিউশন ডেলিভার করে সর্বোচ্চ মানের স্টেরিওস্কপিক এক্সপেরিয়েন্স এবং ব্যবহার করা যায় ব্যাপক বিস্তৃত পরিধিতে। যেমন-

* কোয়াড্র শক্তিসম্পন্ন ডেস্কটপ এবং মোবাইল ওয়ার্কস্টেশনের ক্ষেত্রে এলসিডি প্যানেলে থ্রিডি এক্সপেরিয়েন্স।

* ছোট গ্রুপ ভিউ করতে পারে একক বা মাল্টিপল প্রজেক্টরে থ্রিডি।

* বড় গ্রুপ এনভিডিয়ার স্কেলেবেল ভিজ্যুয়ালাইজেশন সলিউশন (SVS) চালিত থ্রিডি পাওয়ারওয়াল বা থিয়েটার কাজ করতে পারে।

থ্রিডি ভিশন প্রো সর্বোচ্চ ১৫০ ফুট পর্যন্ত সংযোগ সুবিধা দেয়, যার মাঝে মাল্টিপল সিস্টেমে ক্রশটক, ব্লাইন্ড স্পট বা অন্য কোনো ট্রান্সমিশন ইস্যু থাকে না।

আধুনিক ওয়ার্কস্টেশনের ক্ষেত্রে থ্রিডি স্টেরিও হয়ে উঠেছে এক গুরুত্বপূর্ণ বা কোর ইলিমেন্টে। থ্রিডি ভিশন প্রো এবং কোয়াড্র সলিউশন একত্রে সর্বোচ্চ মানের এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয়ভাবে থ্রিডি এক্সপেরিয়েন্স দিতে পারে।

এনভিডিয়া থ্রিডি ভিশন প্রোর বৈশিষ্ট্য

ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েশন (DCC) চিত্রশিল্প, পণ্যের ডিজাইনার ও চিকিৎসকরা তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রের বিশ্বকে থ্রিডিভাবে দেখতে পাচ্ছে দর্শনানুপাতে, যা গতানুগতিক টুডি ভিউ থেকে উন্নততর। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, চিকিৎসকরা ভিউ করে ভলিউম্যাট্রিক স্ক্যান, যেমন থ্রিডি আল্ট্রাসাউন্ড।

এনভিডিয়ার থ্রিডি ভিশন প্রো স্টেরিওস্কপিক সলিউশনে নিচে বর্ণিত মূল ফিচারগুলো রয়েছে :

* অ্যাক্টিভ শাটার গ্লাস টেকনোলজি, যা দেয় বাস্তব ইমেজ। এর মাধ্যমে মানের টেক্সচার ডিটেইল এবং টেক্সট পাওয়া যায়।

* টানা ২০ ঘণ্টা কাজ করার উপযোগী রিচার্জেবল ব্যাটারি।

* ব্যাপক বিস্তৃত পরিধির প্যানেল এবং প্রোজেক্টর সাপোর্ট।

* ব্যাপক বিস্তৃত পরিধির প্রফেশনাল অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট।


কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : swapan52002@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস