Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > আইপিভি৬ : সমস্যা ও অগ্রগতি
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: প্রকৌশলী মর্তুজা আশীষ আহমেদ
মোট লেখা:২২
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১০ - নভেম্বর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
কারিগরী দিক
তথ্যসূত্র:
নতুন প্রযুক্তি
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
আইপিভি৬ : সমস্যা ও অগ্রগতি

ইদানীং আইপিভি৬-এর প্রশংসা বেশ শোনা যাচ্ছে। যারা ইন্টারনেট বেশি ব্যবহার করেন, তাদের কাছে এই টার্মটি খুব একটা অপরিচিত নয়। কিন্তু অনেকেই জানেন না, কী এই আইপিভি৬ এবং কেনো এটি নিয়ে এত মাতামাতি। ইন্টারনেটসহ সব নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা চলে বিভিন্ন প্রটোকল দিয়ে। আইপিভি৬ একটি প্রটোকল ছাড়া আর কিছুই নয়। এর পুরো নাম ‘ইন্টারনেট প্রটোকল ভার্সন ৬’।

বর্তমানে ইন্টারনেট চলছে আইপিভি৪ দিয়ে, যা অতিসত্বর আইপিভি৬ দিয়ে প্রতিস্থাপিত হবে। এই প্রতিস্থাপনের কারণ খুব সহজ। ইন্টারনেট ব্যবস্থা হচ্ছে ওয়েবসাইটের বাহারি সমন্বয়। প্রত্যেক ওয়েবসাইটের একটি নিজস্ব আইপি অ্যাড্রেস থাকে, যা ওয়েবসাইট তৈরি করার সময় কিনে নিতে হয়। এই আইপি অ্যাড্রেসই হচ্ছে ওয়েবসাইটের ঠিকানা, যার সাহায্যে এক ক্লিকেই কোনো নির্দিষ্ট সাইটে পৌঁছানো যায়। এটি একটি অনন্য সংখ্যা, যার একটির সাথে আরেকটির মিল থাকে না। আইপিভি৪ভিত্তিক বর্তমান বিশ্বে ওয়েবসাইটের এই সংখ্যা এখন শেষের পথে। তাই আইপিভি৬ হতে যাচ্ছে এককথায় আগামী দিনের ইন্টারনেট ব্যবস্থার মূল ভিত্তি।

প্রটোকল

দৈনন্দিন কমপিউটিংয়ে প্রটোকল (কমিউনিকেশন প্রটোকল) হচ্ছে ডিজিটাল মেসেজ ফরমেট এবং ডাটা কিভাবে চলাচল করবে তার কিছু নিয়মের সমষ্টি। ডাটা বা প্যাকেট এই নিয়ম মেনেই চলাচল করে। ধরা যাক, কোনো নেটওয়ার্কে একটি পিসি থেকে আরেকটি পিসিতে কোনো ফাইল পাঠানো হবে, এই ফাইল অবশ্যই কোনো না কোনো প্রটোকলের নিয়মকানুন মেনে সেই অনুসারে যাবে। এই কমিউনিকেশন প্রটোকল হার্ডওয়্যারভিত্তিক বা সফটওয়্যারভিত্তিকও হতে পারে। এমনকি আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহারের মোবাইল ফোনের কথা ও ডাটা দেয়া-নেয়াও কোনো না কোনো প্রটোকল ব্যবহার করেই করা হয়। ইন্টারনেট প্রটোকল বা আইপি এর ব্যতিক্রম কিছু নয়। ইন্টারনেট যে প্রটোকলের মাধ্যমে চলে তাকেই আইপি বলে।

আইপিভি৬ ও আইপিভি৪

আইপিভি৪ হচ্ছে প্রথম পাবলিক ইন্টারনেট প্রটোকল, যা ১৯৮১ সাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। মূলত ইন্টারনেটের জন্মলগ্ন থেকেই আইপিভি৪ ব্যবহার হয়ে আসছে। এখন সময় এসেছে এই প্রটোকল পরিবর্তন করার। আইপিভি৬ প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে। এর ধারণা প্রথম পাওয়া যায় ইন্টারনেট ইঞ্জিনিয়ারিং টাস্কফোর্স (আইইটিএফ)-এর কাছ থেকে। এই প্রটোকল এর পূর্ববর্তী আইপিভি৪ থেকে নিরাপত্তা ইস্যুতে বেশি কার্যকর। কারণ, এতে প্যাকেট সুইচিং ব্যবস্থা রয়েছে। আইপিভি৪ অ্যাড্রেসিং ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ৪০০ কোটি অ্যাড্রেস তৈরি করা সম্ভব, যা বর্তমানে শেষের পথে। এজন্যই মূলত আরো আধুনিক ও কার্যকর ইন্টারনেট প্রটোকলের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, যা আইপিভি৬ দিয়ে প্রতিস্থাপিত হবে।



আইপিভি৬-এর গভীরে

আগেই বলা হয়েছে, আইপিভি৪ সর্বোচ্চ ৪ ১০০ কোটি অ্যাড্রেস জেনারেট করতে পারে। আইপিভি৬ দিয়ে ৩.৪ X ১০৩৮ অ্যাড্রেস জেনারেট করা সম্ভব। তাই আইপিভি৪ভিত্তিক ইন্টারনেট অ্যাড্রেস যেখানে শেষের পথে, সেখানে এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অ্যাড্রেস তৈরি করতে পারবে আইপিভি৬। আইপিভি৪ যেখানে একটি ৩২ বিটের অ্যাড্রেসিং প্রটোকল, সেখানে আইপিভি৬ হচ্ছে ১২৮ বিটের। এই প্রটোকলে প্যাকেট সুইচিং থাকার কারণে নেটওয়ার্কে সিকিউরিটি বেড়েছে। আইপিভি৬ আর্কিটেকচারের সাথে বিশেষভাবে সংযুক্ত রয়েছে নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি, কারণ ইন্টারনেট প্রটোকল সিকিউরিটি (আইপিএসইসি) প্রকৃতপক্ষে আইপিভি৬-এর জন্যই তৈরি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কোন আইপি থেকে কোন আইপিতে প্যাকেট গিয়েছে তার ট্র্যাক রাখা যায় এই প্রটোকলে।

আইপিভি৬ অ্যাড্রেসিং

আইপিভি৬ অ্যাড্রেসিং নিয়ে কথা বলার আগে প্রথমেই জানতে হবে আইপিভি৪ অ্যাড্রেসিং কিভাবে কাজ করে। যেকোনো নেটওয়ার্কে যখন একটি হোস্ট যুক্ত হয়ে অপর কোনো হোস্টের সাথে ডাটা বিনিময় করতে চায়, তখন তার ২টি অ্যাড্রেসের মাধ্যমে করা হয়। এই দুটি অ্যাড্রেসের একটি হচ্ছে হার্ডওয়্যার অ্যাড্রেস বা ম্যাক অ্যাড্রেস। আরেকটি হলো সফটওয়্যার অ্যাড্রেস, যা লজিক্যাল অ্যাড্রেস। সাধারণত এই ম্যাক অ্যাড্রেস দেয়া হয় ল্যান কার্ড (নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড)-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। এটি একটি ইউনিকসংখ্যা। অবশ্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যখন প্রয়োজন পড়ে, তখন ব্যবহারকারী বা নেটওয়ার্ক অ্যাডমিন এই ম্যাক পরিবর্তন করে দিতে পারে। আর লজিক্যাল অ্যাড্রেস হচ্ছে এর সফটওয়্যার অংশ, যেটি দেয় নেটওয়ার্ক অ্যাডমিন। এই লজিক্যাল অ্যাড্রেস হচ্ছে আইপি অ্যাড্রেস বা ইন্টারনেট প্রটোকল অ্যাড্রেস।



ব্যাপারটি ভালোভাবে বোঝার জন্য প্রাইভেট আইপির কনসেপ্ট বুঝতে হবে। লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের জন্য যে আইপি অ্যাড্রেসগুলো ব্যবহার হয়, সেগুলোই প্রাইভেট আইপি অ্যাড্রেস। তিন ধরনের নেটওয়ার্কের মধ্যে 10.XXX, 192.168.XX, 172.16.0.0 - 172.31.255.255 এই রেঞ্জে পাবলিক আইপি অ্যাড্রেস দিয়ে নেটওয়ার্ক কনফিগার করা হয়। এর বিশেষত্ব হলো এগুলো দিয়ে কোনো ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ড ওয়াইড বানানো যাবে না এবং একই প্রাইভেট আইপি অ্যাড্রেস একাধিক ল্যানে ব্যবহার করা হয়। এর বাইরের আইপি অ্যাড্রেসগুলোকে আমরা ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেবার জন্য অর্থাৎ ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করে থাকি, এগুলোকে পাবলিক আইপি অ্যাড্রেস বলে। এই আইপি অ্যাড্রেসগুলো কোনো নেটওয়ার্কে ব্যবহার করা যায় না এবং গ্লোবাল কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে পাবলিক আইপি অ্যাড্রেস একাধিক হোস্টকে দেয়া যায় না। অর্থাৎ পাবলিক আইপি অ্যাড্রেস সীমিত। এই সীমিত অ্যাড্রেস এখন শেষের পথে। এজন্যই আইপিভি৬ নিয়ে মাতামাতি চলছে।

আইপিভি৪-এর একটি আইপি’র ধরন হতে পারে ১৭৩.১৯৪.৩৭.১০৪। এটি হচ্ছে গুগলের আইপি। ৮ বিটের চারটি অকটেট আছে। প্রতিটি অকটেটের সর্বোচ্চ সংখ্যা হতে পারে ডেসিমেলে ২৫৫। তবে অবশ্যই এর মধ্য থেকে প্রাইভেট আইপি বাদ দিতে হবে। এভাবেই প্রায় চারশ’ কোটি অ্যাড্রেস তৈরি করা সম্ভব। নতুন নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করে এভাবেই শেষ হতে চলেছে এই চারশ’ কোটি অ্যাড্রেস।

আইপিভি৬ অ্যাড্রেসগুলো সাধারণত লেখা হয় হেক্সাডেসিমেল ডিজিট দিয়ে এবং সেপারেটর হিসেবে ফুলস্টপের পরিবর্তে কোলন (:) ব্যবহার করা হয়। একটি আইপিভি৬-এর উদাহরণ দেখলে বিষয়টি বোঝা যাবে। যেমন 2001:0DB8:AC10:FE01:0000:0000: 0000:0000। আইপিভি৬ অ্যাড্রেসকে সাধারণত দুইভাগে ভাগ করা যায়- ৬৪ বিট (সাব) নেটওয়ার্ক অংশ এবং ৬৪ বিট হোস্ট অংশ। এর আরো কয়েকটি বৈশিষ্ট্য আছে। এগুলোর মধ্যে ইউনিকাস্ট, গ্লোবাল ইউনিকাস্ট অ্যাড্রেস, মাল্টিকাস্ট ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

ইউনিকাস্ট : সিঙ্গেল ইন্টারফেস প্যাকেট ট্রান্সফারের জন্য এই অ্যাড্রেস ব্যবহার করা হয়। ডাটা বা প্যাকেট ট্রান্সমিট করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

গ্লোবাল ইউনিকাস্ট অ্যাড্রেস : মূলত পাবলিক আইপি’র পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় গ্লোবাল ইউনিকাস্ট অ্যাড্রেস।

লিঙ্ক লোকাল অ্যাড্রেস : আইপিভি৪-এ আমরা ল্যান (লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক)-এর জন্য কিছু আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করি, যেগুলো রাউট করানো যায় না। এদের বলা হয় প্রাইভেট আইপি অ্যাড্রেস, আর আইপিভি৬-এ এদেরকে বলে লিঙ্ক লোকাল অ্যাড্রেস।

ইউনিক লোকাল অ্যাড্রেস : এই অ্যাড্রেসগুলোও নন-রাউটেবল পারপাসে ব্যবহার করা হয়।

মাল্টিকাস্ট : ডাটা বা প্যাকেট একাধিক লোকেশনে পাঠানোর জন্য মাল্টিকাস্টিং ব্যবহার করা হয়।

এনিকাস্ট : এই অ্যাড্রেসগুলো একটি গ্রুপ অব ইন্টারফেস আইডেনটিফাই করার জন্য ব্যবহার হয়। এর একটি বিশেষত্ব হলো এক্ষেত্রে একটি অ্যাড্রেস একাধিক ইন্টারফেসে ব্যবহার করা যায়।

এছাড়া আইপিভি৬ অ্যাড্রেসগুলো কিছু বিশেষ উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়। যেমন- লুপব্যাক অ্যাড্রেস, সলিসাইটেড-মোড মাল্টিকাস্ট অ্যাড্রেস।

রাউটিং প্রটোকল

রাউটিং প্রটোকলের ক্ষেত্র আইপিভি৬, আইপিভি৪-এর মতোই। তবে এই রাউটিং প্রটোকলের অনেক উন্নয়ন করা হয়েছে। আগের প্রটোকলগুলোর উন্নত ভার্সন আইপিভি৬-এ ব্যবহার করা হয়। এগুলোর মধ্যে রিপএনজি (RIPNG-রিপ নিউ জেনারেশন), ইআইজিআরপিভি৬ (EIGRPv6- ইআইজিআরপি ভার্সন ৬), ওএসপিএফভি৩ (OSPFv3-ওএসপিএফ ভার্সন ৩) ইত্যাদি।



রিপএনজি : এটি একটি ডিসটেন্ট ভেক্টর প্রটোকল। এই রাউটিং প্রটোকল মাল্টিকাস্টিং করে কাজ করে। এটি একটি ডাইনামিক প্রটোকল। নেটওয়ার্ক ডিজাইনের সময় এটি খুব সহজে কনফিগার করা যায়।

ইআইজিআরপিভি৬ : এটি একটি অ্যাডভান্সড ডিসটেন্স ভেক্টর প্রটোকল যার কিছু লিঙ্ক স্টেট ফিচার রয়েছে। এটি রাউটিং আপডেটের জন্য মাল্টিকাস্ট পলিসি ব্যবহার করে থাকে।

ওএসপিএফভি৩ : এটি একটি লিঙ্ক স্টেট রাউটিং প্রটোকল, যা সব ইন্টারনেট নেটওয়ার্ককে কয়েকটি অঞ্চলে বিভক্ত করে নেয়। অন্যদের মতো ওএসপিএফভি৩ ও রাউটিং আপডেটের জন্য মাল্টিকাস্ট ট্রাফিক ব্যবহার করে।

ডুয়েল স্ট্যাকিং : এই পলিসির মাধ্যমে একটি ডিভাইস একই সাথে আইপিভি৪ এবং আইপিভি৬ প্রটোকল স্টেক রান করে রাখতে পারে। যার জন্য এটি তার বর্তমান নেটওয়ার্কের সাথেও যোগাযোগ রাখতে পারবে। পাশাপাশি আইপিভি৬ কমিউনিকেশনসের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হবে না। একই সাথে দুটি প্রটোকলের সহাবস্থান করবে।

৬ টু ৪ টানেলিং : ৬ টু ৪ টানেলিং সহজ কথায় আইপিভি৬-এর টানেলিং। তবে এক্ষেত্রে দুটি আইপিভি৬-এর নেটওয়ার্ক একটি আইপিভি৪ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কানেক্টেড থাকবে। এই কালেক্টিং নেটওর্য়াকের মাধ্যমে ৬ টু ৪ টানেলিং করা হবে।

ন্যাট পিটি : এটি হলো ন্যাট প্রটোকল ট্রান্সলেশন। এক্ষেত্রে কোনো এনক্যাপসোলেশনের দরকার হয় না। এক্ষেত্রে এক ধরনের আইপি টাইপের সোর্স প্যাকেটের ডাটা প্রথমে রিমুভ করে আবার নতুন ডেস্টিনেশন আইপি টাইপের সাথে রি-প্যাক করা হয়।

আইপিভি৪ থেকে আইপিভি৬-এর বাধা

আইপিভি৪ থেকে আইপিভি৬-এ যাওয়াটা এখন আমাদের সময়ের দাবি। কারণ আইপিভি৪-এর মাধ্যমে আমরা যে অ্যাড্রেস স্পেস পাচ্ছি, তা প্রায় শেষের পথে। ভারতে প্রকাশিত একটি লেখায় বলা হয়েছে, আগামী ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমরা হয়তো আর কোনো আইপিভি৪ অ্যাড্রেস ব্যবহারের জন্য খালি পাব না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, মাইগ্রেশন ব্যাপারটি এত সহজ নয়।

আর আমরা চাইলেও আইপিভি৪-এ ব্যবহার ডিভাইসগুলো এই মুহূর্তেই ফেলে দিতে পারি না। অন্যদিকে আমাদের বর্তমান আইপিভি৪ নেটওয়ার্ক আর বেশিদিন হয়তো আমাদের গ্লোবাল কমার্সের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সমর্থ হবে না। সেক্ষেত্রে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ চাহিদা আইপিভি৬ দিয়ে মেটাতে পারি। যেহেতু হঠাৎ করেই আইপিভি৪ বাদ দেয়া সম্ভব নয়, তাই বর্তমানে আইপিভি৪-কে সাথে নিয়েই আমাদের আইপিভি৬-এ পথচলা শুরু করতে হবে। আর এভাবেই তথ্যসমুদ্রের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উপহার দিতে পারি এমন একটি পৃথিবী, যাকে আটকে রাখা যাবে হাতের মুঠোয়।

আইপিভি৪ শেষের দিকে

শুরুতেই বলা হয়েছে, আইপিভি৪ অ্যাড্রেস শেষের দিকে। সম্প্রতি এ সম্পর্কিত কিছু খবর আইটি বিশেষজ্ঞদের নতুন করে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনেট প্রটোকল বা আইপি ঠিকানা শেষ হচ্ছে আগামী বছরই। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিকম বিভাগের সূত্রমতে, বর্তমান আইপি ঠিকানা শেষ হয়ে যাওয়ায় দেশটিতে আইপি ঠিকানার আধুনিক সংস্করণ আইপি সংস্করণ-৬ আইপিভি৬ চালু করা হবে।

বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্যে অ্যাকসেস করার জন্য কমপিউটার একটি নির্দিষ্ট আইপি ঠিকানা ব্যবহার করে। যে কমপিউটার থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে, কমপিউটার প্রথমে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সে কমপিউটারের আইপি ঠিকানার সাথে সংযুক্ত হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট আইপি ঠিকানার অ্যাকসেস নিয়ে ওই কমপিউটার থেকে তথ্য সংগ্রহ করা যায়। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী আইপিভি৪ প্রযুক্তির মাধ্যমে আইপি ঠিকানা বণ্টন করে ইন্টারনেট করপোরেশন ফর অ্যাসাইন নেমস অ্যান্ড নাম্বারস বা আইসিএএনএন। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য প্রশাসন বিভাগের প্রধান লরেন্স স্ট্রিকলিং জানান, নতুন প্রযুক্তি আইপিভি৬-এর মাধ্যমে ৩৪০ ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন (এক ট্রিলিয়ন সমান এক লাখ কোটি) আইপি বরাদ্দ করা যাবে। তখন আইপি ঠিকানা নিয়ে কোনো সঙ্কট থাকবে না।

আইপিভি৬-এর প্রস্তুতি

আইপিভি৬-এর জন্য কিছু বিশেষ প্রস্তুতির দরকার রয়েছে। এটি হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার দুই ধরনেরই প্রস্তুতি প্রয়োজন। হার্ডওয়্যারগত দিক থেকে প্রয়োজন পড়বে আইপিভি৬ কম্প্যাটিবল নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি আলাদাভাবে সংযুক্ত করতে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন প্রজন্মের রাউটার, সুইচ, হাব ইত্যাদি। আর সফটওয়্যারগত দিক থেকে রয়েছে নতুন প্রজন্মের অপারেটিং সিস্টেম। এসব প্রস্তুতির ব্যাপারে আমাদের দেশসহ বিশ্বের অনেক দেশই যে পিছিয়ে আছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ

আইপিডি৬ চালু করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সমস্যায় পড়বে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো। এই দেশগুলো দুই ধরনের সমস্যাতে পড়বে। একটি হচ্ছে হার্ডওয়্যারগত সমস্যা ও অন্যটি সফটওয়্যারগত সমস্যা।

হার্ডওয়্যারগত দিক থেকে বলতে হবে আইপিভি৬ চালু করার জন্য বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে হবে। কারণ, বেশিরভাগ নেটওয়ার্ক সেটআপের রাউটার, হাব, সুইচ ইত্যাদি যন্ত্রাংশ আইপিভি৬ সাপোর্ট করে না। ফলে এগুলোর সব নতুন যন্ত্রাংশ দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে হবে, যা বেশ দূরূহ।

সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে বলা যায় একটি বড় ধরনের বিপর্যয় অপেক্ষায় আছে। কারণ, আমরা যেসব অপারেটিং সিস্টেম (যেমন উইন্ডোজ এক্সপি) ব্যবহার করি সেগুলো আইপিভি৬ সাপোর্ট করে না। উইন্ডোজ এক্সপি দেশে বহুল ব্যবহার হলেও এর বেশিরভাগ ভার্সন আইপিভি৬ সাপোর্ট করে না। উইন্ডোজের পরবর্তী ভাসর্নগুলো আইপিভি৬ সাপোর্ট করে। তবে সমস্যা হচ্ছে নতুন এই ভাসর্নগুলো পাইরেসি করা যায় না। কারণ লাইসেন্সড সফটওয়্যার ব্যবহারের চেয়ে পাইরেটেড সফটওয়্যারের দিকেই সবার ঝোঁক বেশি। আর যেসব ফ্রি অপারেটিং সিস্টেম যেমন লিনআক্স আইপিভি৬ সাপোর্ট করে, সেগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করতে চান না। তাই সবাইকে বিশাল অর্থ খরচ করতে হবে আইপিভি৬-এর সুবিধা পাবার জন্য।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : mortuzacsepm@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস