Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > ফটোশপে ম্যানিপুলেশন করা
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী
মোট লেখা:৪২
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১০ - নভেম্বর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
অ্যাডোবি ফটোশপ
তথ্যসূত্র:
গ্রাফিক্স
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
ফটোশপে ম্যানিপুলেশন করা

গ্রাফিক্স সফটওয়্যারের কল্যাণে এখন কোনো দিনের সময় তোলা ছবিকে রাতে তোলা ছবিতে রূপান্তর করা সম্ভব। ছবিগুলো এমনভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব যা দেখে কখনই বোঝা সম্ভব নয় দৃশ্যটি প্রকৃতপক্ষে দিনের সময় তোলা। এরই ধারাবাহিকতায় ফটো ম্যানিপুলেশনের জন্ম। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ছবিকে একই ছবির ভেতর সন্নিবেশ করাকে ফটো ম্যানিপুলেশন বলে। এর মাধ্যমে অনেক অবাস্তব দৃশ্যের অবতারণা করা সম্ভব, যা মানুষকে হতভম্ব করে ফেলে। কিন্তু এর মাধ্যমে এমন অনেক নৈসর্গিক দৃশ্য তৈরি করা সম্ভব যা কল্পনায় আনা যায়, কিন্তু বাস্তবে হয়ত সেটা আনা যায় না। একটি পাহাড়ী রাস্তায় জোছনার আলো অনেক সুন্দর দৃশ্যের অবতারণা করে। কিন্তু অনেকে হয়ত এ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করতে পারেন না বিভিন্ন কারণে। এ পর্বে এমন একটি দৃশ্য ফটো ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে তৈরি করে দেখানো হয়েছে, যেখানে ছবির মূল এলিমেন্টগুলো ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তোলা। এখানে অ্যাডোবি ফটোশপ সিএস ফোরের মাধ্যমে জোছনাস্নাত রাতে পাহাড়ী পথ দিয়ে চলা একটি গাড়ির দৃশ্যপট তৈরি করা হয়েছে।

প্রথমেই ছবি ম্যানিপুলেশনের জন্য ছবি নির্বাচন করতে হবে। এখানে মোট ৪টি ছবি ডাউনলোড করতে হয়েছে। যথাক্রমে গাড়ির ছবি, পাহাড়ের ছবি, রাস্তার ছবি এবং চাঁদের ছবি।


চিত্র-১


চিত্র-২

চিত্র-১-এ ছবিগুলো দেখতে পারছেন। নিজের সংগ্রহে ছবি না থাকলে গুগলে সার্চ করলে খুঁজে পেতে পারেন। তবে ভালো রেজ্যুলেশনের ছবির প্রয়োজন। প্রতিটি ছবির প্রয়োজন অনুযায়ী ব্রাইটনেস-কন্ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণ করে নিন। এখন কাজে নামার পালা। প্রথমেই একটি নতুন ডকুমেন্ট ওপেন করুন Ctrl+N চেপে। পিক্সেল ডাইমেনশন থেকে Width 2856 পিক্সেল এবং Height 1888 পিক্সেল নিন। রেজ্যুলেশন ৩০০ ডিপিআই করে দিলে এর সূক্ষ্মতা বাড়বে। Resample Image থেকে Bicubic রাখুন। এটি ছবির স্মুথনেস বাড়িয়ে দেয়। এরপর প্রথমে Car Imageটি Import করুন। এটি প্রয়োজনমাফিক Resize করতে Ctrl+T চাপুন। সিলেকশনের কর্নার থেকে এর Aspect Ratio ঠিক রেখে বড় বা ছোট করুন। এবার গাড়ির ছবিটি ক্যানভাসের বামে অবস্থান করান। কম্পোজিশন রুল অনুযায়ী ছবির সাবজেক্টের গতিমুখ সামনে ফাঁকা থাকবে যাতে বস্ত্তর গতিময়তা বোঝানো যায়। এবার রাস্তার ছবিটি Import করতে হবে। এজন্য ছবিটি ফটোশপে ওপেন করে পুরো ছবিটি Ctrl+A চেপে সিলেক্ট করে কপি করুন। এরপর বেজ ছবির ওপর পেস্ট করুন। দেখবেন নতুন লেয়ার হিসেবে রাস্তাটি চলে এসেছে। এই লেয়ারটি রিনেম করে Road দিন। এবার দেখা যাচ্ছে রাস্তাটি গাড়ির তুলনায় ছোট। তাই গাড়িটি রিসাইজ করতে আবার Ctrl+T চাপুন। এটি ফ্রি ট্রান্সফরম করার জন্য ব্যবহার হয়। রাস্তাটি ছবিজুড়ে ছড়িয়ে দিতে একটু পারস্পেকটিভভাবে রিসাইজ ট্রান্সফরম করতে হবে। চিত্র-২-এ ট্রান্সফরমেশন স্ট্রাকচার দেখানো হয়েছে। এবার Road লেয়ারটি ড্রাগ করে Car Layer-এর নিচে নিন। এতে গাড়ির ছবি রোডের ওপর চলে আসবে। লক্ষ রাখবেন, রোড এবং গাড়ির পারস্পেকটিভ ভিউ যেন একই রকম হয়। নয়তো পুরো ব্যাপারটি অসামঞ্জস্য লাগবে। যেমন রাস্তাটি যেদিকে মুখ করা গাড়িটিও যেন সেদিকে মুখ করা থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী ছবি Flip করে নিতে পারেন, যাতে পারস্পেকটিভ ভিউ সঠিক থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী রিসাইজিং টুল ব্যবহার করে গাড়ি বা রাস্তা সামঞ্জস্য করতে হবে।

এবার পেন সিলেকশন টুল ব্যবহার করে গাড়িটি তার পারিপার্শ্বিক অবস্থান থেকে আলাদা করতে হবে। অন্য যেকোনো সিলেকশন টুলের সাহায্যেও এটি করা সম্ভব, কিন্তু পেন সিলেকশন ভালোভাবে সাবজেক্টকে ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এক্সট্রাক্ট করতে পারে। সিলেকশন শেষে ডান বাটন ক্লিক করে Inverse Section করুন। এরপর Delete চাপুন। এতে গাড়ির ব্যাকগ্রাউন্ড ক্লিয়ার হয়ে যাবে। এবার গাড়ির কিছু ড্রপ শ্যাডো তৈরি করতে হবে। রোড লেয়ারের ওপর একটি নতুন লেয়ার নিতে হবে। এর নাম Primary Shadow করুন। এবার রোডের পারসপেক্টিভের মতো করে একটি Rectangular সিলেকশন নিন। এটি করতে পেন টুলের সাহায্য নিন। এবার সিলেকশনটি কালো রং দিয়ে পূর্ণ করুন, যা গাড়ির ড্রপ শ্যাডো হিসেবে কাজ করবে। এবার এই লেয়ারটিকে একটু ব্লার করতে হবে। এজন্য Filter>Blur>Gaussian Blur সিলেক্ট করুন। ব্লার করার জন্য ১০ পিক্সেল রেডিয়াস ব্যবহার করুন।

এবার গাড়ির নিচের অংশে ছায়া পড়েছে, কিন্তু চাকার দিকগুলোতে একটু বাড়তি ভাবে ছায়া পড়বে। এবার ৬০ পিক্সেলের ব্রাশ সিলেক্ট করুন। ব্রাশের Hardness 20% করতে হবে। এবং কালো রং সিলেক্ট করতে হবে। কালার কোড হিসেবে #000000 দিলে কালো রং সিলেক্ট হবে। এবার চাকার নিচের অংশগুলোতে হালকা শ্যাডো তৈরি করুন। এবার এই অংশগুলো একটু ব্লার করতে হবে। এ পর্যায়ে একটু বেশি এরিয়া অর্থাৎ ২৫ পিক্সেল রেডিয়াস রাখুন। এবার গাড়ির পাশে শ্যাডো তৈরি করতে হবে। এজন্য বার্ন টুল ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে গড়ির বাম দিকের নিচের অংশটুকু বার্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে চাঁদের অবস্থান কল্পনা করে নিলে ভালো করবেন। এই ছবিতে আলোর উৎস চাঁদ ডান দিকের উপরে থাকবে। তাই গাড়ির ওপর আলো ডান দিকে কোণায় পড়বে এবং বামের কোণায় কিছু অংশজুড়ে ছায়ার প্রভাব পড়বে, যা গাড়ির পেছন দিকে বেশি অংশজুড়ে পড়বে। এখন রাস্তাকে আরো গাঢ় করে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে করে গাড়ির সাথে রাস্তার ডার্কনেস ম্যাচ করে। এজন্য Ctrl+L চেপে লেভেলস উইন্ডো ওপেন করুন। এর মিডভ্যালু কমিয়ে 25 থেকে 30-এ রাখুন। এতে রাস্তার ডার্কনেস একটু বাড়বে।

এবার রাস্তাকে আরো দীর্ঘ করে দেখাতে হবে। অর্থাৎ রাস্তা গাড়ির পেছনের দিকে একটু বাড়াতে হবে। এজন্য প্রথমে রোড লেয়ারটি কপি করুন। এবার Ctrl+T চেপে এটি রিসাইজ করুন। এবার ডান বাটন চেপে ড্রপডাউন মেনু থেকে ফ্রি ট্রান্সফরম সিলেক্ট করুন। এবার বাকি অংশটুকু ভরাট করার জন্য যথাযথভাবে ড্র্যাগ করে মার্জ করুন। এটি অবশ্য ক্লোন করেও কাজ চালানো যায়, তবে একই টেক্সচার বার বার আসাতে পূর্ণতা পেত না। এবার ব্যাকগ্রাউন্ড যোগ করার পালা। পাহাড়ের যে ছবিটি সংগ্রহে রয়েছে তা ওপেন করে রোড লেয়ারের পেছনে স্থাপন করতে হবে। এবার এটিকে আগের মতো Ctrl+T চেপে রিসাইজিং মোডে নিয়ে যান। পাহাড়ের পারস্পেকটিভ ভিউ ঠিক রেখে নিচে এবং ডান পাশে সম্প্রসারণ করুন। মনে রাখবেন Aspect Ratio অনুযায়ী রিসাইজ না করলে ছবিটি প্রাকৃতিক হবে না। এবার এই লেয়ারকে রিনেম করে Mountain নাম দিন। এবার লেয়ারটি সিলেক্ট রেখে একে Desaturate করে দিন। কারণ রাতে কখনো রংয়ের অস্তিত্ব বোঝা যায় না। তাই দূরের ব্যাকগ্রাউন্ড Desaturate করতে হবে প্রথমেই।


চিত্র-৩

এবার গাড়ির কাঁচের ভেতর দিয়ে আগের গাড়ির ব্যাকগ্রাউন্ড দেখা যেত তা মুছে দিতে হবে। কারণ এখন ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে পাহাড়কে প্রকাশ করতে হবে। গাড়ির ভেতরের কাঁচের অংশগুলো সিলেক্ট করতে ম্যাজিক ওয়ান্ড টুল ব্যবহার করতে পারেন। একটি অংশ সিলেক্ট হবার পর অন্য অংশ সিলেক্ট করার আগে শিফট কি চেপে ধরে রাখুন। এই ছবির ক্ষেত্রে টলারেন্স ১০ পিক্সেল রাখা হয়েছে। এবার সব জানালা সিলেক্ট হবার পর ডিলিট চাপুন। এতে ব্যাকগ্রাউন্ড মুছে যাবে। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, সিলেকশন পর্ব চলাকালে কার লেয়ারটি যেন সিলেক্ট অবস্থায় থাকে। নয়তো অন্য লেয়ারের প্রভাব পড়বে না। এবার রাস্তার ধারের ঘাসগুলো আরো ক্লোন করে ছবির বাকি ফাঁকা অংশ পূরণ করতে হবে। রাস্তার পারস্পেকটিভ ট্রান্সফরমেশনের কারণে বাম কোণায় খালি ছিল। এখন ক্লোন স্ট্যাম্প টুলের সাহায্যে বাকি অংশ ক্লোন করে মিলিয়ে দিন। এবার ছবিটি দেখতে নিশ্চয়ই চিত্র-৩-এর মতো হয়েছে।


চিত্র-৪

এবার গাড়িটি সাদাকালো করতে হবে। এজন্য কার লেয়ারটি সিলেক্ট করে Image>Adjustments>Desaturate-এ ক্লিক করুন। সাদাকালোতে ছবি চলে আসার পর এর লেভেল অ্যাডজাস্ট করুন। এটি করতে Ctrl+L চাপুন। এর থেকে হাইলাইট বার এবং ডার্ক পয়েন্ট মাঝামাঝি রাখতে চেষ্টা করুন, যা ছবির মাঝে গভীরতা সৃষ্টি করবে। এজন্য গাড়িটি অনেকটা গাঢ় হয়ে পড়বে, যা রাতের আবহ তৈরি করতে সহায়ক হবে। এবার নতুন একটি লেয়ার খুলুন, যার নাম দিন Black Shade। এই লেয়ারের মাধ্যমে গাড়ির বডি অন্ধকারাচ্ছন্ন করা যাবে। বেশ বড় ব্রাশ (1400PX) ব্যবহার করতে হবে। ব্রাশের হার্ডনেস 0%-এ রেখে রং কালো বেছে নিতে হবে। এবার ব্রাশটি দিয়ে গাড়ির সম্মুখভাগ বাদ রেখে বাকি অংশে পেইন্ট করুন। এই ব্ল্যাক শেড হলো গাড়ির হেডলাইটের কারণে সৃষ্ট আঁধার বলয় যা পরবর্তী ধাপেই স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারবে। গাড়ির সামনের কাঁচ থেকে শুরু করে একটি বড় এরিয়া এই ব্রাশের আওতামুক্ত রাখুন। এবার এই লেয়ারটির অপাসিটি কমিয়ে 60%-এ নামিয়ে আনুন। এতে এই ব্ল্যাক শেড খুব হালকা রাতের অন্ধকার প্রকাশ করবে। কতটুকু এরিয়ায় এই আঁধার হবে তা চিত্র-৪ দেখে বোঝা সম্ভব হবে।

এবার গাড়ির লাইট ইফেক্ট তৈরি করতে হবে। প্রথমে একটি নতুন লেয়ার খুলুন। এটিকে Base Light নাম দিন। এবার Brush টুলের মাধ্যমে আলোর উৎস হিসেবে গাড়ির হেডলাইট আলোকিত করতে হবে। ব্রাশ সাইজ ৬০ পিক্সেল করে এর হার্ডনেস 0% করতে হবে এবং এর কালার কোড সাদা করার জন্য #ffffff দিন। এবার এই সফট ব্রাশ দিয়ে গাড়ির হেডলাইটের ওপর পেইন্ট করুন। এবার এটিকে চারপাশে ছড়িয়ে দিতে Gaussian Blur প্রয়োগ করুন এবং অপাসিটি লেভেলকে 60%-এ নামিয়ে আনুন যাতে হেড লাইটের ভেতরের অংশ দেখা যায়। এবার গাড়ির আলো ছড়িয়ে পড়ার জন্য নতুন আরেকটি লেয়ার ওপেন করুন। এর নাম দিন EXtended Light-1। এতে আগের মতো করেই 330 PX-এর ব্রাশ, 0% হার্ডনেস সিলেক্ট করুন। আলো সোজা চলে তাই এর এরিয়া একটি নির্দিষ্ট রেখা অবলম্বন করবে। আগের মতো কালার কোড প্রয়োগ করে সাদা রং করে নিন। এবার আলো ছড়িয়ে দিতে আগের মতো করে Gaussian Blur প্রয়োগ করুন। লেয়ার প্রপার্টিজ থেকে এর অপাসিটি অনেক কমিয়ে দিতে হবে। এখানে 35% অপাসিটি রাখা হয়েছে।

এবার লাইটের আলোকরশ্মিকে আরো জোরালো করতে হবে। এজন্য প্রথমে একটি নতুন লেয়ার খুলতে হবে। পেন সিলেকশন টুলের সাহায্যে লাইট বরাবর রাস্তার দিকে মুখ করে একটি ফনেল মতো সিলেকশন আঁকতে হবে। দুটি হেডলাইটের সামনেই এমন সিলেকশন তৈরি করতে হবে। এবার আগের মতো কালার কোড ব্যবহার করে সাদা রং সিলেক্ট করুন। এবার ওই সিলেকশন পাথকে সাদা রং দিয়ে ভরাট করতে হবে। মনে রাখবেন, এ পর্যায়ে গাড়ির হেডলাইটের ফোকাসড আলো আঁকতে যাচ্ছেন। তাই এতে একটু মোটা আলো রাস্তায় প্রতিফলিত হচ্ছে তা দেখাতে হবে। এখানে 200PX-এর ব্রাশ, যার Hardness একদম Nil করা হয়েছে যা দিয়ে লাইট বিম কোণ তৈরি করে নেয়া সম্ভব হবে। যারা একটু অ্যাডভান্সড লেভেলে কাজ করতে চান তারা পেন টুল দিয়ে রশ্মির রেখা আঁকার পর মাউসের ডান বাটন ক্লিক করে ড্রপডাউন মেনু থেকে Stroke Path Select করতে পারেন। তাহলে আর কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না।


চিত্র-৫

এবার রশ্মিকে একটু সফটভাবে উপস্থাপন করার জন্য Gaussian Blur-এর ব্যবহার করতে হবে। এরপরও আলোকরশ্মি অনেক গাঢ় দেখাবে যাকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। এর জন্য অপাসিটি কমিয়ে ২০% রাখা হলো। এবার চাঁদকে যোগ করতে হবে। প্রথমেই নতুন লেয়ার খুলে নিন Moon নামে। এখন চাঁদের বলয় আলো দিয়ে ভরাট করার পালা। এজন্য ব্রাশ প্যালেট থেকে 200PX-এর সফট ব্রাশ সিলেক্ট করতে হবে, যার হার্ডনেস 0% থাকবে। এবার Foreground Color হিসেবে সাদা অর্থাৎ #ffffff কোডের রং বেছে নিন। ছবির ঠিক উপর কর্নারে চাঁদের অবস্থান করাতে হবে। চিত্র-৫-এ চাঁদের অবস্থান দেখতে পাচ্ছেন। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আলোর উৎস চাঁদের আলোর বলয় তৈরি করুন। আর এই চাঁদের চারপাশে এর আলো ছড়িয়ে দিতে Gaussian Blur ব্যবহার করুন। এখানে 18PX ব্লার করা হয়েছে। এতে করে চাঁদের আলোর সফট বলয় তৈরি হবে যা পরিবেশকে প্রাকৃতিক করবে।


চিত্র-৬

এবার কিছু সূক্ষ্ম কাজ করার পালা। অর্থাৎ চাঁদের রিফ্লেকশন তৈরি করা। রাস্তায়, গাড়িতে এবং পাহাড়ের ওপর চাঁদের আলোর প্রতিফলন তৈরি করতে হবে। এর জন্য প্রথমে একটি নতুন লেয়ার খুলুন, যার নাম দিন লাইট লাইন। এবারও পেন সিলেকশন টুলের সাহায্যে পাথ তৈরি করতে হবে। চিত্র-৬-এ দেখতে পারবেন গাড়ির কোন অংশে পাথলাইন তৈরি করা হয়েছে। এবার Brush Settings থেকে 4PX-এর ব্রাশ যার হার্ডনেস 100% রেখে সাদা রং নির্বাচিত করুন। পাথ তৈরির পর মাউসের ডান বাটন ক্লিক করে Stroke Path-এ ক্লিক করুন। Stroke Path Window থেকে ব্রাশের Window পাবেন সহজেই। এবার লাইন বরাবর একটু শাইনিং এরিয়া তৈরি করুন। এবং সবশেষে একেবারে দুই মাথার লাইন মুছে দিন যাতে শাইনিংটা আরো পারফেক্ট হয়। আরো কিছু জায়গায় যেখানে আলো প্রতিফলিত হতে পারে সেখানে একই প্রক্রিয়া প্রয়োগ করতে পারেন। এবার Layer Blending Mode থেকে Overlay সিলেক্ট করুন। পাহাড়ের চূড়ায় যেসব জায়গায় আলো পড়বে বলে মনে করেন, সেসব স্থানে একইভাবে আলোর প্রয়োগ করুন।

এবার রাতের আবহ আরো বেশি তৈরি করতে কিছু Smoky Effect তৈরি করতে হবে। নতুন লেয়ার খুলে গাড়ির হেডলাইটের আলোর এরিয়াটুকু সিলেক্ট করতে হবে। এর জন্য Lasso টুল যথেষ্ট। এবার Paint Bucket টুল দিয়ে পুরো সিলেকশন কালো রং-এ ভরে দিন। এবার কিছু মেঘের ইফেক্ট দিতে Filter>Render>Clouds-এ ক্লিক করুন। এবার লেয়ার ব্লেন্ডিং মোডকে Overlay করে দিন এবং অপাসিটি লেভেল 40%-এ নামিয়ে আনুন। এবার ইরেজার টুল দিয়ে বেশি ঘন বা গাঢ় মেঘ মুছে দিন। আশা করছি হালকা ধোঁয়াটে তৈরি হয়েছে। এবার চাঁদকে নিয়ে কাজ করতে হবে। চাঁদের ইমেজটা প্রথমে ওপেন করতে হবে। চাঁদের আলোর ওপর নিয়ে রিসাইজ করে বসান। একটু সাইড করে বসাবেন যাতে এক কোণা দিয়ে বেশি আলো আসে। প্রয়োজন অনুযায়ী Elliptical Marquee টুল ব্যবহার করে চাঁদের চারদিকে সিলেকশন তৈরি করুন। এবার আগের মতো আলোর আভা তৈরি করে নিন। এবার সবশেষ কাজ হিসেবে চাঁদের জোছনার আরো আভা তৈরি করতে পারেন। চাঁদের আশপাশে হালকা করে সাদা রংয়ের ব্রাশের মাধ্যমে লাইট করে নিতে পারেন। তবে লক্ষ রাখবেন, অতিমাত্রায় যেন হার্ডটোন না পড়ে। পড়লেও অপাসিটি কমিয়ে সামঞ্জস্য করুন।


চিত্র-৭

আশা করছি আপনাদের ছবি চিত্র-৭-এর মতোই নৈসর্গিক হয়ে উঠেছে। এমন আরো গ্রাফিক্স ম্যানিপুলেশন শিখতে চোখ রাখুন কমপিউটার জগৎ-এর গ্রাফিক্স বিভাগে।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : ashraf.icab@gmail.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস