Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > গুগল ক্যালেন্ডার
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: এস.এম. গোলাম রাব্বি
মোট লেখা:৭২
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১১ - মার্চ
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
গুগল
তথ্যসূত্র:
ইন্টারনেট
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
গুগল ক্যালেন্ডার

ক্যালেন্ডার সফটওয়্যারগুলো বেশ সহায়ক। ব্যস্ত নির্বাহী যারা এক কাজ থেকে অন্য কাজে দৌড়াদৌড়ি করেন, তারা তাদের কাজের সুবিধার জন্য ক্যালেন্ডার প্রোগ্রাম ব্যবহার করতে পারেন। জনপ্রিয় সামাজিক ব্যক্তিরা তাদের বিভিন্ন পার্টি কিংবা অন্যান্য অনুষ্ঠান বুকিংয়ের কাজে এগুলো ব্যবহার করতে পারেন। আবার অনেক অগোছালো লোকজন আছেন যারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপয়েন্টমেন্টও মিস করে থাকেন। তাদের এ অ্যাপয়েন্টমেন্টগুলোর কাজ তারা ক্যালেন্ডার প্রোগ্রাম ব্যবহারের মাধ্যমে করতে পারেন। বাজারে অনেক ধরনের ক্যালেন্ডার প্রোগ্রামই পাওয়া যায়। এরকমই একটি অ্যাপ্লিকেশন হচ্ছে গুগল ক্যালেন্ডার, যার জনপ্রিয়তা ক্রমশ বেড়েই চলছে।



বহু বিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান গুগল তৈরি করেছে এই ক্যালেন্ডার। গুগল ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত বা পাবলিক ক্যালেন্ডার তৈরি করতে পারেন। গুগল অ্যাকাউন্ট ফ্রি এবং গুগল তার ক্লাউড কমপিউটিং সিস্টেমে এই ক্যালেন্ডারগুলো জমা করে রাখে। অর্থাৎ এই কোম্পানি গুগল ক্যালেন্ডার অ্যাপ্লিকেশন এবং ব্যবহারকারীদের তথ্য তার নিজস্ব সার্ভারে জমা করে রাখে। গুগল ক্যালেন্ডার ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীদেরকে কোনো বিশেষ সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে হয় না। শুধু একটি ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমেই গুগল ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা যায়। গুগল ক্যালেন্ডার মাইক্রোসফট ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ৬.০ বা তার ওপরের সংস্করণসমূহ, মজিলা ফায়ারফক্স ২.০ বা তার পরবর্তী সংস্করণসমূহ, সাফারি ৩.১ বা তার পরের সংস্করণসমূহ এবং গুগল ক্রোম ব্রাউজাসমূহ সমর্থন করে। গুগল ক্যালেন্ডার ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীকে অবশ্যই তার ব্রাউজারের জাভাস্ক্রিপ্ট এবং কুকিং অপশন সক্রিয় করতে হবে।

গতানুগতিক ডেস্কটপ ক্যালেন্ডার সফটওয়্যার ব্যবহারকারীরা তথ্য তাদের নিজস্ব কমপিউটারের হার্ডড্রাইভে কিংবা অন্যান্য স্টোরেজ ডিভাইসে জমা রাখেন। অর্থাৎ তারা যদি ওই তথ্যসমূহের অ্যাকসেস পেতে চান, তাহলে সবসময় তাদেরকে একই কমপিউটার ব্যবহার করতে হবে। যেহেতু গুগল ক্যালেন্ডারে তথ্যগুলো ওয়েবে থাকে, আর তাই ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেট সংযুক্ত যেকোনো কমপিউটার থেকে সেগুলো দেখতে এবং তাতে পরিবর্তন আনতে পারেন।



ইন্টারনেটে ক্যালেন্ডার ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্যগুলো অন্যের সাথে ভাগাভাগি করা সহজতর হয়। অন্যদিকে ইভেন্ট সিডিউল করা এবং ইনভাইটেশন তৈরি করাও সহজতর হয়।

গুগল ক্যালেন্ডারের বৈশিষ্ট্যসমূহ :

গুগল ক্যালেন্ডারের ডিজাইন খুবই সাধারণ। পর্দার বাম পাশে একটি কলামে ক্যালেন্ডারটির ক্ষুদ্র উপস্থাপন থাকে। এটি বর্তমান মাস দেখায় এবং আজকের তারিখটি হাইলাইট করে। পর্দার বাকি অংশের পুরোটাজুড়েই থাকে ক্যালেন্ডারটির একটি বড় প্রদর্শনী। গুগল ক্যালেন্ডার প্রদর্শনীর অনেক অপশন থাকে। দিন, সপ্তাহ কিংবা মাসের ভিত্তিতে ক্যালেন্ডারটি দেখতে পারবেন। একটি ‘এজেন্ডা’ ভিউও পছন্দ করতে পারবেন, যার মাধ্যমে ক্যালেন্ডার ভিউয়ের পরিবর্তে আপনার সব সিডিউল তালিকাবদ্ধ আকারে দেখা যাবে।

ক্যালেন্ডারটি যে অবস্থাতেই দেখুন না কেনো, সব অবস্থাতেই ক্যালেন্ডারের সময় ব্লক করতে পারবেন। বেশিরভাগ ভিউতে একটি সাধারণ ক্লিক-অ্যান্ড-ড্র্যাগ ইন্টারফেসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট কিংবা ইভেন্ট সিডিউল করতে পারবেন। একই সাথে ওই অ্যাপয়েন্টমেন্টের বিস্তারিত বিবরণও যোগ করতে পারবেন।

গুগল ক্যালেন্ডারের বাড়তি বৈশিষ্ট্যসমূহ :

গুগল ক্যালেন্ডার ওয়েব সার্ভিসের সুবিধা নিয়ে থাকে। এ ক্যালেন্ডারের বাড়তি বৈশিষ্ট্যগুলো এই ওয়েব সার্ভিস ধারণার ওপরই প্রতিষ্ঠিত। অন্যান্য ক্যালেন্ডার সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার কমপিউটারের হার্ডড্রাইভ বা লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে রক্ষিত কোনো জায়গা থেকে এ প্রোগ্রাম অ্যাকসেস করতে পারবেন। কিন্তু গুগল ক্যালেন্ডারে পুরো অ্যাপ্লিকেশন এবং এর সব কন্টেন্ট ওয়েবে থাকে।

যেসব ওয়েব সার্ভিসের সুবিধা গুগল নিয়ে থাকে তার মধ্যে একটি হলো সর্ট মেসেজ সার্ভিস (এসএমএস)। ব্যবহারকারীরা গুগল ক্যালেন্ডারকে এমনভাবে সেট করতে পারেন যাতে তাদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে রিমাইন্ডার যায়।



গুগলের রয়েছে একটি বিশাল ডেভেলপার কমিউনিটি, যারা গুগল টেকনোলজির ওপর ভিত্তি করে এর অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস তথা এপিআই ব্যবহার করে নতুন নতুন প্রোগ্রাম তৈরি করে। গুগলের এরকমই একটি অ্যাপ্লিকেশন হচ্ছে গুগল গ্যাজেট। অনেক ডেভেলপার গুগল গ্যাজেট এমনভাবে তৈরি করেন যাতে এটি গুগল ক্যালেন্ডারের সাথে কাজ করতে পারে। গ্যাজেটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বিশেষ ইভেন্টগুলো ক্যালেন্ডারে যোগ করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, একটি ফটোগ্রাফ থেকে শুরু করে গুগল ম্যাপে আপনার ইভেন্টের লোকেশন যোগ করা পর্যন্ত সবই যোগ করা যাবে গুগল ক্যালেন্ডারে। গুগল ক্যালেন্ডার ব্যবহারের মাধ্যমে খুব সহজেই যেকোনো প্রোগ্রামে লোকজনকে দাওয়াত দেয়া যায়। এজন্য প্রথমে আপনাকে নিজস্ব ক্যালেন্ডারে একটি ইভেন্ট তৈরি করতে হবে এবং এর বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরতে হবে। এরপর ‘add guests’ অপশনটি ক্লিক করে যেসব লোকজন আপনি ওই ইভেন্টে দাওয়াত দিতে চান তাদের ইমেইল অ্যাড্রেসগুলো লিখুন। ইভেন্টটি সেভ হওয়ার পর গুগল ক্যালেন্ডার ওই সব লোকজনের কাছে ইমেইল পাঠাবে।

গুগল ক্যালেন্ডার সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার :

গুগল ক্যালেন্ডার সিস্টেম একটি ক্লায়েন্ট/সার্ভার সিস্টেম। ক্লায়েন্ট হলো একটি এনটিটি (entity), যা কোনো সার্ভিসের জন্য রিকোয়েস্ট করে। আর সার্ভার হলো ওই সিস্টেমের একটি অংশ, যা কোনো না কোনো সার্ভিস সরবরাহ করে। ক্লায়েন্ট এবং সার্ভার উভয়েরই কিছু বিশেষ সফটওয়্যার থাকে যার মাধ্যমে তারা একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে।

গুগল ক্যালেন্ডারের সার্ভারে গুগল অ্যাপ্লিকেশন তৈরির জন্য জাভা প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করে। জাভার মাধ্যমে গুগল ক্যালেন্ডার সব ডাটা হ্যান্ডেল করে।

গুগল ক্যালেন্ডার ব্যবহারকারীরা এই সিস্টেমের ক্লায়েন্ট অংশটি দেখতে পারেন। ক্লায়েন্ট অংশে থাকে একটি ওয়েব পেজ, যা জাভাস্ক্রিপ্টের মাধ্যমে বাড়ানো হয়। জাভাস্ক্রিপ্ট এবং জাভা একই জিনিস নয়। জাভা ভাষার মাধ্যমে প্রোগ্রামাররা একটি সম্পূর্ণ অ্যাপ্লিকেশন থেকে শুরু করে ক্ষুদ্রতর অ্যাপলেট তৈরি করতে পারেন। জাভাস্ক্রিপ্টের মাধ্যমে ডেভেলপাররা ওয়েব সার্ভিস ব্যবহার করেন। জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে তারা ওয়েব ব্রাউজারে ব্যবহৃত জিনিস ছাড়া আর কোনো প্রোগ্রাম তৈরি করতে পারেন না।

শেষ কথা :

গুগল ক্যালেন্ডার একটি ফ্রি সার্ভিস। এটি ব্যবহার করে আপনার প্রতিদিনের কাজের তালিকা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সিডিউল তৈরি করে সঞ্চার করতে পারবেন এক নতুন ওয়েব অভিজ্ঞতা, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : rabbi1982@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস