Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো-২০১১
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মো : ফেরদৌস হোসেন
মোট লেখা:৬
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১১ - এপ্রিল
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো
তথ্যসূত্র:
মেলা
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো-২০১১



ক্রিকেট দুনিয়ার মহারথীদের রণহুঙ্কার, বাঙালি জাতির অহঙ্কার মহান স্বাধীনতার মাস মার্চ, ডিজিটাল দেশ গড়ার দৃপ্ত পদক্ষেপ বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো-২০১১ এই তিনের মেলবন্ধনে যেন তিলোত্তমা রাজধানী হয়ে উঠেছিল দেশী-বিদেশী সব বয়সী মানুষের স্বপ্নভূমি। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়নের পুরোধা বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতি ৯ থেকে ১৩ মার্চ ২০১১ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজন করেছিল বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো-২০১১। ডিজিটাল জীবনধারাভিত্তিক শিক্ষামূলক এ মেলার এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- ‘নতুন প্রজন্মের জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ’। বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতি আয়োজিত তথ্যপ্রযুক্তির এটি তৃতীয় আসর। বর্ণিল ও জমকালো এই আসরে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বশেষ সংস্করণ, বৈচিত্র্যময় অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রদর্শন, প্রকৃত ডিজিটাল বাংলাদেশের ভার্চুয়াল প্রজেক্ট, সভা-সেমিনার, দেশীয় সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবআবিষ্কৃত প্রকল্প, বিভিন্ন ক্যুইজ ও প্রতিযোগিতাসহ ছিল নানা আয়োজন। মেলায় আয়োজকেরা সত্যিকার অর্থেই তরুণদেরকে ডিজিটাল বাংলাদেশের গতিধারা দেখাতে পেরেছে। মেলায় উল্লেখ করার মতো ব্যতিক্রমী একটি বিষয় ছিল। তাহলো এবারই প্রথম তথ্যপ্রযুক্তির সাথে সম্পৃক্ত আছেন এমন মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দেয়া।

এবারের বিসিএস ডিজিটাল এক্সপোর আয়োজনে সহযোগিতা করেছে বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল। প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে কিউবি। এছাড়া গোল্ড স্পন্সর হিসেবে ছিল আসুস, স্যামসাং ও বাংলাদেশ ডিজিটাল ডিরেক্টরিজ। সিলভার স্পন্সর হিসেবে ছিল কণিকা মিনোলটা, ইকারাস ইনফোটেক লিমিটেড ও মাইক্রোসফট। প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেড। এছাড়া টিকেট ও ড্রেস স্পন্সর করেছে ইন্টারনেট সফটওয়্যার সিকিউরিটি শিল্ড। শিশুদের চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতার সার্বিক সহায়তায় ছিল আইপিএস ব্র্যান্ড অ্যাপেলো। এবারের আসরের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রেডিও টুডে, দৈনিক সমকাল ও এটিএন বাংলা পৃষ্ঠপোষকতা করেছে।



পাঁচদিনব্যাপী এই মেগা আসরে প্রায় পঞ্চাশ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে দেশী-বিদেশী ৬৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। প্রদর্শনীতে ছিল ৭৩টি স্টল ও ২৯টি প্যাভিলিয়ন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

পাঁচদিনব্যাপী এই আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর্দা ওঠে ৯ মার্চ বিকেল ৩টায়। জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান। এছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, বিশ্বায়নের এই যুগে তথ্যপ্রযুক্তিবিহীন কোনো দেশ সামনে এগিয়ে যেতে পারবে না। একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম চাহিদা তথ্যপ্রযুক্তি। তিনি আরো বলেন, আমাদের সীমিত জ্ঞানের কারণে একসময় আমরা সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ গ্রহণ করতে পারিনি। কিন্তু আজ পরিপূর্ণতা লাভ করছে। বর্তমানে আমাদের কৃষি গবেষণায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরাই বিশ্বে প্রথম সোনালি আশঁ পাটের জেনোম কোডের রহস্য উন্মোচন করেছি, যা তথ্যপ্রযুক্তিবিশ্বে বাংলাদেশের জন্য বিরল অবদান। তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে তরুণ সম্প্রদায়। দেশের তরুণ সম্প্রদায়ই আগামীতে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য এবং বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমান সরকার রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সরকার বেশকিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ সম্পন্ন করেছে। তার মধ্যে আইসিটি নীতিমালা, ডিজিটাল স্বাক্ষর, জেলাভিত্তিক ওয়েবসাইট জাতীয় ই-তথ্যকোষ ইত্যাদি। তিনি আরো বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিতে যত উন্নয়ন ঘটবে জনগণ তত সরকারের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবে, সাথে সাথে দুর্নীতিও কমবে। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও ইতিবাচক ব্যবহার মানুষের জীবনকে আরো গতিশীলতার দিকে নিয়ে যাবে। বর্তমানে উন্নতির প্রধান হাতিয়ারই হচ্ছে আইসিটি।

বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিকে এগিয়ে নেয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে সস্তায় ব্যান্ডউইডথ, যা আগের চেয়ে কয়েকগুণ কমিয়ে এনেছে সরকার। জনগণ যত প্রযুক্তির কাছে অবস্থান করবে দেশও তত এগিয়ে যাবে। কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন যেকেউ মাত্র ২ দিনে বা তারও কম সময়ে আমাদের দেশে ব্যবসায় সম্প্রসারণ করতে পারে। এটি সম্ভব হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে। তিনি আরো বলেন, আইসিটি খাত এক সময় গার্মেন্টস খাতকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক বিদেশী প্রতিষ্ঠান আইসিটি বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।



তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, আমরা যে প্রযুক্তি-দুনিয়ার সাথে তাল মিলিয়ে চলা শুরু করেছি তার প্রমাণ আউটসোর্সিংয়ে গার্টনারের প্রতিবেদন। গার্টনারের প্রতিবেদনে আমরা ৩০তম স্থান করে নিয়েছি। আউটসোর্সিংয়ে আমাদের তরুণেরা তাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। আইটি খাতে দক্ষ জনবল তৈরি করার জন্য সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কমপিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে, যা প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকবে। তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার জন্য সরকার ইউনিয়ন তথ্যসেবা চালু করেছে। যেখানে মানুষ সরকারি বিভিন্ন সেবা পাচ্ছে। এবারের আসরের প্লাটিনাম স্পন্সর কিউবি বাংলাদেশের সিইও জেরি মবস বলেন- সরকারের ডিজিটাল কার্যক্রমের সাথে আমরা থাকতে পেরে গর্ববোধ করছি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতির সভাপতি মোস্তাফা জববার। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ়প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতি সারাদেশে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতি ১৯৯৩ সালে প্রথম কমপিউটার মেলার আয়োজন করে, যা তথ্যপ্রযুক্তি জগতে একটি মাইলফলক। তিনি আরো বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে যদি তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ না ঘটানো যায় তবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া কঠিন হয়ে যাবে। তরুণদের জন্য প্রথমেই শিক্ষাক্ষেত্রে আইসিটিবিষয়ক ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো-২০১১-এর আহবায়ক মজিবুর রহমান স্বপনসহ বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতির উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এবারের মেলার আয়োজক কমিটি একই সাথে কেনাকাটা ও ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলা দেখার ব্যবস্থা করে। এ প্রসঙ্গে মেলার আহবায়ক মজিবুর রহমান স্বপন বলেন, খেলা আর মেলা যেহেতু একসাথে চলছে তাই দর্শকদের জন্য আমরা খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছি। সেই সাথে ক্রিকেট ক্যুইজেরও ব্যবস্থা। চোখ ধাঁধানো এই মেলায় আরেকটি ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য ছিল লাল-সবুজের রংয়ের খেলা। এ প্রসঙ্গে মজিবুর রহমান স্বপন বলেন, যেহেতু এটা ছিল মহান স্বাধীনতার মাস, তাই জাতীয় পতাকার রংয়ে আমরা পুরো আসরকে সাজিয়েছি। পাঁচদিনব্যাপী এই মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা ছিল। ২০ টাকা প্রবেশ মূল্যের বিনিময় ছাড়াও স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার ছিল।

মেলায় নানান ইভেন্ট

বর্ণিল ও জমকালো আসর ছিল নানান রকম ইভেন্টে ভরপুর। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বশেষ সংস্করণ থেকে শুরু করে শিশুদের বিনোদনের জন্য গেমিং, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ভার্চুয়াল প্রকল্প, মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, ক্যুইজ প্রতিযোগিতা, র্যা্ফেল ড্র, ফ্যাশন শো, বাঙালি ঐতিহ্যের বাউল-জারি-সারি গান প্রদর্শন, সফটওয়্যার ডেভেলপ প্রতিযোগিতাসহ প্রযুক্তিপণ্যের বিশাল রাজ্য। মেলায় ওয়াইম্যাক্স ব্যবহারের সুবিধা ছিল।

১১ মার্চ শুক্রবার শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বয়সভিত্তিক তিনটি গ্রুপে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতা উন্মুক্ত ছিল।



মেলায় ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহার এবং গেমিংজোন সবার নজর কেড়েছিল। মেলায় যেকেউ ওয়াইম্যাক্সের সহায়তায় ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহার করার পাশাপাশি গেম খেলার সুযোগ পেয়েছে। এছাড়াও ছিল ভিডিও স্ট্রিমিং আইপিটিভি, অনলাইন রেডিও ইন্টারনেট গেমিংসহ অনলাইনের যাবতীয় সুবিধা। মেলার বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রবেশ টিকেটের ওপর প্রতিদিন র্যা ফেল ড্রর মাধ্যমে ল্যাপটপসহ ১০টি করে আকর্ষণীয় পুরস্কার।

মেলায় যত সেমিনার

প্রতিটি কমপিউটার মেলাতেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সেমিনার-সভা থাকে। এবারের আসরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এই আসরের সেমিনারগুলোতে উল্লেখ করার মতো দেশী-বিদেশী ডেলিগেট, দর্শকসহ তথ্যপ্রযুক্তির উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ১০ মার্চ বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় ভবিষ্যতের ডিজিটাল ডিভাইস শিরোনামে একটি সেমিনার। সেমিনারে বক্তারা প্রযুক্তিবিশ্বের অবস্থান কোন দিকে যাচ্ছে, মানবসভ্যতার প্রযুক্তির বিকাশ মানুষের কল্যাণেসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী মতামত তুলে ধরেন।

ভবিষ্যতে ডিজিটাল ডিভাইস শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতির কার্যনির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিকের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য প্রস্ত্তত থাকা উচিত। তথ্যপ্রযুক্তিতে আমাদের আরও গবেষণাধর্মী কাজ করতে হবে। সেমিনারে বিডিকম অনলাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুমন আহমেদ বলেন, ভবিষ্যতের ডিভাইস হয়তো এমন হবে যেন সকালে মুখ ধোয়ার পর আয়নায় ভেসে উঠবে আবহাওয়ার তথ্য।

সেমিনারে আরএম সিস্টেমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী আশরাফ বলেন, ভবিষ্যতের ডিভাইস মানুষের প্রয়োজনের তাগিদেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজে লাগবে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতির সভাপতি মোস্তাফা জববার। তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের মানুষের প্রয়োজনে ডিভাইস কেমন হবে তা নিয়ে গবেষণার যথেষ্ট সময় হয়েছে। বর্তমানে কমপিউটার আর মোবাইল ফোন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভবিষ্যতে আরো কী কী ডিভাইস আসবে এবং মানবকল্যাণে কতটুকু কাজে লাগবে তা বিশ্লেষণ করা জরুরি।

২৩ মার্চ বিকেল সাড়ে ৩টায় মিডিয়া সেন্টারে আয়োজন করা হয় ফ্রিল্যান্সে আউটসোর্সিংয়ে সম্ভাবনা ও করণীয়বিষয়ক একটি সেমিনার। সেমিনারটি আয়োজন করে বাংলাদেশ কমপিউটার সমিতি। সেমিনারে বক্তারা বলেন, আউটসোর্সিংয়ে বাংলাদেশের জন্য অপার সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে। এক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষভাবে গড়ে তুলতে হবে।

একই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় সেন্টার ফর আইসিটি পলিসি রিসোর্সের আয়োজনে জাতীয় বাজেটে আইসিটি পলিসি শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপরোল্লিখিত সেমিনারগুলো ছাড়াও মেলায় এবারই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনের পন্থা নির্দেশক ভার্চুয়াল প্রকল্প প্রতিযোগিতায় তাদের বিভিন্ন প্রদর্শনী দর্শকদের সামনে তুলে ধরে। ভার্চুয়াল প্রকল্পে বাংলাদেশের ৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেয়। নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পটি ছিল মানবতার জন্য তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রদর্শন করে ২০১১ সালে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ কেমন দেখতে চাই, তার ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্রছাত্রী মিলে প্রকল্পটি তৈরি করে। এছাড়া সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ও দর্শকদের সামনে তাদের প্রকল্প তুলে ধরে।

মেলার দ্বিতীয় দিনে ১০ মার্চ বিশ্বের অন্যতম টেলিকমিউনিকেশন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে টেকনোলজিস কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশে তাদের ব্যবসায়কে আরো সম্প্রসারণের জন্য সমন্বিত আইসিটি বিজনেস সলিউশনের ওপর একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। হুয়াওয়ে কর্মকর্তারা জানান, তাদের সলিউশন, ডাটাকম, আইপি কলসেন্টার ইউনিফাইড কমিউনিকেশন, ডাটা সেন্টার, ভিডিও কনফারেন্সসহ সরকারি-বেসরকারি আর্থিক, শিক্ষা ও জ্বালানি খাতে কাজ করবে।

হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ওয়ান্ডার ওয়াং সংবাদ সম্মেলনে বলেন, হুয়াওয়ের এন্টারপ্রাইজ বিজনেস বাংলাদেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও সুবিধাজনক সেবা দেয়ায় বদ্ধপরিকর। তিনি আরো বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার দেশের তথ্য ও যোগাযোগ খাতের ব্যাপক উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। আমরা শুধু সরকারের উন্নয়নে কার্যকর অংশীদার হতে চাই।

পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান

পাঁচদিনব্যাপী তারুণ্যের এই মেলা শেষ হয় ১৪ মার্চ পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। শেষ দিনে মেলাতে রেকর্ডসংখ্যক দর্শকের সমাগম হয়। পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসন ও সংস্থাপনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তরুণেরাই জাতিকে নেতৃত্ব দেবে। তাই তরুণদেরকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিপ্লব ঘটাতে হবে। একদিন এই তরুণরাই বাংলাদেশকে বিশ্বে মর্যাদাপূর্ণ স্থানে নিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে বিসিএস সভাপতি মোস্তাফা জববার বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে না দিলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া কোনোদিনই সম্ভব হবে না। আর বিসিএস তথ্যপ্রযুক্তিকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। মেলার আহবায়ক মজিবুর রহমান স্বপন বলেন, তারুণ্যের ডিজিটাল জয়যাত্রাকে আমাদের সবার মাঝে ধরে রাখতে হবে। সামনের দিনগুলোতে মেলার আঙ্গিক আরো বড় পরিসরে ও বৈচিত্র্যময় করা হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ছিল জমজমাট পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ভার্চুয়াল প্রকল্পের প্রথম স্থান অধিকার করে পুরস্কার জিতে নেয় নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে যথাক্রমে ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়। সেরা স্টল হিসেবে নির্বাচিত হয় ইনডেক্স আইটি লিমিটেড এবং সেরা প্যাভিলিয়ন হিসেবে পুরস্কার জিতে নেয় কিউবি।


কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : ferdousbdvaga77@yahoo.com

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস