Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > পিসির ঝুটঝামেলা
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: কজ
মোট লেখা:১০৪১
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১১ - মে
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
সমস্যা ও সমাধান
তথ্যসূত্র:
ট্রাবলশুটার টিম
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
পিসির ঝুটঝামেলা


কমপিউটার জগৎ ট্রাবলশূটার টিম



কমপিউটার ব্যবহারকারীদের নিত্যনতুন সমস্যায় পড়তে হয়। কিন্তু আমাদের এই নতুন বিভাগ ‘পিসির ঝুটঝামেলা’তে পিসির হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক, ভাইরাসজনিত সমস্যা, ভিডিও গেম সম্পর্কিত সমস্যা, পিসি কেনার ব্যাপারে পরামর্শ ইত্যাদিসহ যাবতীয় সব ধরনের কমপিউটারের সমস্যার সমাধান দেয়া হবে। আপনাদের সমস্যাগুলো আমাদের এই বিভাগের মেইল অ্যাড্রেসে (jhutjhamela@comjagat.com) বা কমপিউটার জগৎ, কক্ষ নম্বর-১১, বিসিএস কমপিউটার সিটি, রোকেয়া সরণি, আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭ ঠিকানায় চিঠি লিখে জানান প্রতিমাসের ২০ তারিখের মধ্যে। উল্লেখ্য, মেইলের মাধ্যমে পাঠানো সমস্যার সমাধান যত দ্রুত সম্ভব মেইলের মাধ্যমেই জানিয়ে দেয়া হবে এবং সেখান থেকে বাছাই করা কিছু সমস্যা ও তার সমাধান প্রেরকের নাম- ঠিকানাসহ ম্যাগাজিনের এই বিভাগে ছাপানো হবে। সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের সমস্যা পাঠানোর সময় পিসির কনফিগারেশন, অপারেটিং সিস্টেম, পিসিতে ব্যবহার হওয়া অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম, পিসি কতদিন আগে কেনা এবং পিসির ওয়ারেন্টি এখনো আছে কি না- এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।






সমস্যা : আমার বর্তমান গ্রাফিক্স কার্ড হচ্ছে ১ গিগাবাইট মেমরির ডিডিআর৩ এটিআই রেডিওন এইচডি ৫৫৭০। আমি এইচডি ৫৭৫০ গ্রাফিক্স ১ গিগাবাইট কার্ড কিনতে চাচ্ছি। এজন্য কী আমার পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট বদল করতে হবে? পিসি কেনার সময় সাধারণ মানের ক্যাসিংয়ের সাথে আলাদা থার্মালটেকের ৫০০ ওয়াট পিএসইউ কিনেছিলাম। এ পিএসইউ কী নতুন গ্রাফিক্স কার্ডের জন্য যথেষ্ট? নাকি নতুন আরেকটি কিনতে হবে? আপনাদের পরামর্শ ছাড়া আমি নতুন গ্রাফিক্স কার্ড কিনতে পারছি না। দয়া করে তাড়াতাড়ি জানাবেন।

আমার পিসির কনফিগারেশন হচ্ছে-৩.০৬ গিগাহার্টজ ইন্টেল কোর আই থ্রি ৫৪০ প্রসেসর, এইচ৫৫এমএক্সভি মাদারবোর্ড, ৪ গিগাবাইট ডিডিআর৩ র্যা ম, ১ গিগাবাইট রেডিওন এইচডি ৫৫৭০ গ্রাফিক্স কার্ড, ৩২০+৮০ গিগাবাইট সাটা হার্ডডিস্ক, ১টি ডিভিডি রাইটার, ১টি ডিভিডি রম এবং থার্মালটেক ডব্লিউ০৩১৬ মডেলের ৫০০ ওয়াট পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট।


-আশিক রহমান



সমাধান : এইচডি ৫৭৫০ গ্রাফিক্স কার্ডের জন্য ৪৫০ ওয়াটের পিএসইউ দরকার পড়ে। ক্রসফায়ার করার জন্য ৬০০-৬৫০ ওয়াটের পিএসইউ দরকার পড়ে। আপনার পিএসইউ ৫০০ ওয়াটের, তাই নতুন গ্রাফিক্স কার্ডের সাথে তা মানিয়ে যাবে। আলাদা পিএসইউ কেনার দরকার পড়বে না। কিন্তু বাকি যন্ত্রাংশগুলোও কিছু না কিছু পাওয়ার নষ্ট করে। সে কথা বিবেচনা করে পিসির সুরক্ষার জন্য নতুন পিএসইউ কিনে নিতে পারেন। সাধারণত এ কনফিগারেশনের পিসির জন্য ৫০০ ওয়াটের পিএসইউই যথেষ্ট। কিন্তু আপনি একটি বাড়তি হার্ডডিস্ক ও অপটিক্যাল ড্রাইভ ব্যবহার করছেন, যা বর্তমান পিএসইউর ওপরে কিছুটা চাপ ফেলতে পারে। সাধারণ মানের ক্যাসিং হলে তাতে তাপমাত্রাজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই একটি আলাদা কুলিং ফ্যান লাগিয়ে নিলে ভালো হয়। ৫০০ ওয়াটের সাথে কাজ করতে তেমন সমস্যা হবে না, তবে ইউএসবিগুলোতে একাধিক ডিভাইস যুক্ত করলে, ফুল ডিডেইলসে গেম খেললে বা এইচডি মুভি দেখলে প্রসেসর ও পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের ওপরে চাপ পড়তে পারে। এতে পিসি হ্যাং বা শাটডাউন হয়ে যেতে পারে। যন্ত্রাংশের ক্ষতিও হতে পারে। তাই সাবধানতার জন্য ৬০০-৬৫০ ওয়াট ক্ষমতার পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট কেনা উচিত। সম্ভব হলে বাড়তি হার্ডডিস্ক ও অপটিক্যাল ড্রাইভটি ব্যবহার না করে বর্তমান পিএসইউ দিয়েই নতুন গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করে দেখতে পারেন।



সমস্যা : আমার পিসির কনফিগারেশন হচ্ছে-ইন্টেল কোর আই থ্রি, গিগাবাইট এইচ৫৫এম এস২ভি, ২ গিগাবাইট ডিডিআর৩ র্যা ম, স্যামসাং ৫০০ গিগাবাইট হার্ডডিস্ক, আসুস ইএএইচ৫৪৫০ ডিডিআর৩ ১ গিগাবাইট গ্রাফিক্স কার্ড। আমি উইন্ডোজ এক্সপি সার্ভিস প্যাক ২ ব্যবহার করলে গেম খেলার সময় প্রচুর স্লো হয়ে যায় ও অনেক সময় হ্যাং হয় এবং রিস্টার্ট নেয়। উইন্ডোজ এক্সপি সার্ভিস প্যাক ৩ স্টাইল এডিশন ব্যবহার করলে কিছুটা ভালো হয়। কিন্তু জিটিএ ৪ খেলার সময় হ্যাং করে এবং Out of Memory দেখিয়ে পিসি রিস্টার্ট নেয়। আমার পিসির গ্রাফিক্স কার্ডের তুলনায় র্যারম কী কম হয়েছে? যদি র্যারম বাড়াতে হয় তবে কোন ব্র্যান্ডের র্যাটম ভালো হবে এবং আমার গ্রাফিক্স কার্ড অনুযায়ী কত মাপের মনিটর ব্যবহার করলে ভালো হবে জানালে উপকৃত হব।

-জয়নাল



সমাধান : অনেকের মাঝে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে গ্রাফিক্স কার্ডের যত গিগাবাইট মেমরি থাকবে তা তত শক্তিশালী। নতুন গেমগুলোর সিস্টেম রিকোয়ারমেন্টে ২৫৬-৫১২ গিগাবাইট মেমরির গ্রাফিক্স কার্ড চাওয়া হয়, তাই অনেকে মনে করেন ১ গিগাবাইট মেমরির গ্রাফিক্স রয়েছে যা অনেক বেশি। তাই আমার পিসিতে গেম দ্বিগুণ বা চারগুণ ভালো চলার কথা। কিন্তু তারা ভুলে যান গ্রাফিক্স কার্ডের চিপসেট, ক্লকস্পিড, স্লট টাইপ, র্যারম টাইপ ও কিছু গ্রাফিক্স টেকনোলজির কথা। গ্রাফিক্স কার্ডের মূল পারফরমেন্স নির্ভর করে গ্রাফিক্স কার্ডের ক্লকস্পিডের ওপর। তাই সেটি দেখা বেশি জরুরি। বর্তমানের নতুন গেমগুলো খেলার জন্য ২ গিগাবাইটের ডিডিআর৩ ১৩৩৩ বাস স্পিডের র্যা মগুলোই যথেষ্ট। তবে হাই ডিটেইলসে খেলার জন্য ৪ গিগাবাইট র্যাাম থাকা ভালো।

আপনার গ্রাফিক্স কার্ডের পারফরমেন্সের কথা বিবেচনা করলে তাকে মাঝারি মানের গ্রাফিক্স কার্ডের তালিকাতেও ফেলা যায় না। এটির ক্ষমতা এনভিডিয়ার ৯৪০০ জিটি গ্রাফিক্স কার্ডের অনুরূপ। দুটোই দুর্বল গ্রাফিক্স কার্ড এবং যা নতুন গেমগুলো ভালোভাবে চালানোর উপযুক্ত নয়। এটি দিয়ে লো ডিটেইলে গেম চালাতে হবে এবং কিছু কিছু স্থানে গেম আটকে যেতে পারে। নতুন গেম খেলার শখ থাকলে কম দামের মধ্যে এটিআইয়ের ৫৬০০ বা ৫৭০০ সিরিজের গ্রাফিক্স কার্ড কিনতে পারেন। এনভিডিয়ার গ্রাফিক্স কার্ড কিনতে চাইলে ২০০ সিরিজের গ্রাফিক্স কার্ড কিনতে পারেন। মনিটর ১৯ ইঞ্চি ব্যবহার করা ভালো। আরও বড় আকারের মনিটরে এইচডি মুভি দেখার সময় অতটা ভালো মানের পাওয়া যাবে না। ৬০০০-৭০০০ টাকা খরচ করলেই আরও ভালো মানের গ্রাফিক্স কার্ড কিনতে পারবেন, যা দিয়ে হাই ডেফিনিশন মুভি ও নতুন নতুন গেমের স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন। আপাতত উইন্ডোজ এক্সপির বদলে উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহার করে দেখতে পারেন, এতে জিটিএ ৪ ভালো চলবে। কারণ আপনার পিসির কনফিগারেশন অনুযায়ী আপনার উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহার করা উচিত। উইন্ডোজ সেভেনে ডিরেক্টএক্স ১১ সাপোর্ট রয়েছে এবং আপনার গ্রাফিক্স কার্ডেও তার সমর্থন রয়েছে। এক্সপিতে গ্রাফিক্স কার্ডের পুরো ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না, তাই উইন্ডোজ বদল করা আবশ্যক। এরপরও যদি গেম আটকে যায় তবে নতুন গ্রাফিক্স কার্ড কেনা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। র্যা মের ব্যাপারে তেমন একটা চিন্তা না করলেও চলবে, তবে খরচের ব্যাপারে চিন্তা না থাকলে রেম ৪ গিগাবাইটে আপগ্রেড করে নিতে পারেন।



সমস্যা : আমি কিছুদিন আগে একটি কমপিউটার কিনেছি। যার কনফিগারেশন হলো-ইন্টেল কোর আই থ্রি ৩.০৬ গিগাহার্টজ প্রসেসর, ৪ গিগাবাইট ডিডিআর৩ র্যা ম, বায়োস্টার এইচ৫৫এইচডি মাদারবোর্ড, এক্সএফএক্স এটিআই রেডিওন ৫৪৫০ মডেলের ১ গিগাবাইট ডিডিআর৩ গ্রাফিক্স কার্ড ও ১ টেরাবাইট সাটা হার্ডডিস্ক। এতে আমি উইন্ডোজ সেভেন আল্টিমেট ৩২ বিট ভার্সন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করছি। প্রথমত, আমার পিসির মনিটর হলো আসুস এমএস২২৬এইচ এলইডি ২১.৫ ইঞ্চি। আমার গ্রাফিক্স কার্ড, মাদারবোর্ড ও মনিটর সবই এইডিএমআই সমর্থন করে। মনিটরের সাথে দেয়া এইচডিএমআই ক্যাবলটি আমি গ্রাফিক্স কার্ড ও মনিটরের এইচডিএমআই পোর্টে সংযুক্ত করেছি। কিন্তু কমপিউটার চালু করার সময় মনিটরে HDMI NO SIGNAL লেখাটি ভেসে ওঠে। মনিটরের রেজ্যুলেশন ১৯২০´১০৮০তে সেট করা থাকলেও মনিটরের চারপাশে প্রায় ১ ইঞ্চি খালি স্থান থেকে যায়। কিন্তু গেম খেলার সময় ওই খালি স্থানটি আর থাকে না। মাদারবোর্ড ও মনিটরের এইচডিএমআই পোর্ট একই রকমের। দ্বিতীয়ত, আমি একটি জুম আল্ট্রা মডেম কিনেছি। কিন্তু নেট ব্যবহার করতে গিয়ে দেখি গতি খুবই ধীর। অন্য কমপিউটারে মডেম লাগিয়ে দেখি খুব দ্রুততার সাথে নেট ব্যবহার করা যাচ্ছে। এভাবে আমি মোবাইল মডেম দিয়েও জিপি ও রবি ইন্টারনেট ব্যবহার করে দেখেছি, একই অবস্থা। তৃতীয়ত, পিসি চালু করার সময় ওয়েলকাম লেখাটি আসার পরপরই ডেস্কটপ চলে আসে। কিন্তু কিছুদিন আগে পিসি চালু করতে গিয়ে দেখি ওয়েলকাম লেখাটি প্রায় ৩ মিনিট প্রসেসিং হওয়ার পর আবার একই জায়গায় Preparing Your Desktop লেখাটি প্রায় আরও ৩ মিনিট প্রসেসিং হওয়ার পর ডেস্কটপ ওপেন হলো। কিন্তু দেখলাম My Computer ডেস্কটপে নেই, কিছু কিছু শর্টকাট মুছে গেছে, আইকন ও টেক্সটের আকার ছোট হয়ে গেছে। এককথায় পুরো পিসিই আমুল পরিবর্তিত হয়ে গেছে। আমি আবার সবকিছু ঠিক করে পিসি রিস্টার্ট দিয়ে দেখি একইভাবে পিসি অন হয়ে আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। পিসি অন হওয়ার পর একটি নোটিফিকেশন মেসেজ আসে, যা নিম্নরূপ-You have been logged on with a temporary profile. You cannot access your files and files created in this profile will be deleted when you log off. To fix this, log off and try logging on later. Please see the event log for details or contact your system administrator।

উল্লেখ্য, আমি একটি ইউজার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করি। গেম খেললে গেমের সেভ ফাইল ও ডেস্কটপে কোনো ডকুমেন্ট সেভ করলে সেগুলোও পিসি অফ করার পর ডিলিট হয়ে যায়। এ অবস্থা এখনও চলছে।


-মো. মামুনুর রহমান, চট্টগ্রাম



সমাধান : মনিটরটি চালু হওয়ার স্পিড অনেক বেশি, তাই পিসি স্টার্ট হয়ে মাদারবোর্ড থেকে গ্রাফিক্স কার্ডে সিগনাল পৌঁছানোর আগের তা চালু হয়ে যায় এবং গ্রাফিক্স পোর্টে সিগনাল না পাওয়ায় সে এ বার্তা প্রদর্শন করে। আগের সিআরটি মনিটর অনেক সময় নিয়ে স্টার্ট হতো ততক্ষণে গ্রাফিক্স পোর্টে সিগনাল পৌঁছে যেত, তাই তা বোঝা যেত না। কিন্তু এ মনিটরে সিগনাল না পেলে কালো হয়ে থাকার বদলে এ মেসেজ দেখানোর নির্দেশ দেয়। পিসি বন্ধ করে দেওয়ার পরও এ বার্তা প্রদর্শন করে সিগনাল না পাওয়ার কারণে। এটি কোনো সমস্যা নয়। মনিটরের চারপাশে ১ ইঞ্চি করে খালি জায়গা থাকতে পারে রেজ্যুলেশন সেটিংয়ের সমস্যার কারণে। তাই মনিটরের টাচ প্যানেল থেকে মেনু বাটন চেপে আসপেক্ট রেশিও এবং রেজ্যুলেশন সেটিং ঠিক করে নিন। যদি মেনুর অপশন বুঝতে না পারেন তবে মনিটরের সাথে দেয়া ম্যানুয়ালের সহায়তা নিন। গ্রাফিক্স কার্ড ড্রাইভের সাথে এটিআইর গ্রাফিক্স সেটিংসের একটি সফটওয়্যার থাকার কথা, যা দিয়ে মনিটরের প্যানেল ব্যবহার না করে মনিটরের স্ক্রিন অ্যাডজাস্টমেন্ট করা যাবে। তাই সেটি দিয়েও চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

মোবাইল ইন্টারনেটের কানেকশন স্পিড নির্ভর করে আপনি যে এলাকায় আছেন সে এলাকায় ওই মোবাইল অপারেটর কোম্পানির নেটওয়ার্কের অবস্থার ওপর। স্থানভেদে মডেমের ইন্টারনেট স্পিডের বেশ তারতম্য হবে এটাই স্বাভাবিক। আপনার রুম যদি খোলামেলা না হয় বা আপনার বাসার আশপাশে যদি ফাঁকা জায়গা না থাকে তবে আপনি নেটওয়ার্ক ঠিকভাবে পাবেন না, তাই আপনার মডেমে স্পিড কম আসছে।

আপনার ইউজার অ্যাকাউন্ট লিমিটেড বা টেম্পোরারি হিসেবে আছে, তাই এ সমস্যা হচ্ছে। আপনি কন্ট্রোল প্যানেল থেকে ইউজার অ্যাকাউন্ট অপশনে গিয়ে নতুন একটি অ্যাকাউন্ট খুলে তা লিমিটেড থেকে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বানিয়ে নিন। তারপর নতুন ইউজার অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগ-ইন করে দেখুন এ সমস্যা হয় কি না। যদি হয় তবে উইন্ডোজ বদল করে নিন। কারণ নতুন কেনা পিসিতে ফ্রেশ উইন্ডোজ ইনস্টল করে দেওয়ার বদলে এখন অনেকেই ব্যাকআপ উইন্ডোজ কপি করে হার্ডডিস্কে দিয়ে দেয় সময় বাঁচানোর জন্য। তাই নতুন পিসি কিনে আনার পর সম্ভব হলে নিজে বা অন্য কাউকে দিয়ে ভালো মানের একটি উইন্ডোজ ডিস্ক থেকে নতুন করে সেটআপ দিয়ে নিতে পারলে ভালো হয়।



সমস্যা : আমি কমপিউটার জগৎ-এর নিয়মিত পাঠক। আমার এক বন্ধুর পিসি হচ্ছে এএমডি এথলন ৬৪ বিট ২৮০০+, আসুস কে৮এন মাদারবোর্ড, ১ গিগাবাইট ডিডিআর র্যা ম, ৮০ গিগাবাইট হার্ডডিস্ক ও অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ সেভেন। বিটিসিএলের ৫১২ কেবিপিএস স্পিডের ইন্টারনেট কানেকশন ব্যবহার করায় কিছুদিন যাবৎ এ মেশিনের ব্রাউজিং স্পিড বেশ স্লো হচ্ছে। আমি তাকে পিসি ক্লিন করতে বলেছিলাম এবং সে ব্লোয়ার মেশন দিয়ে ভালো করে পিসি পরিষ্কার করে। এতে পিসির অন্যান্য কাজের গতি বেড়ে গেছে, কিন্তু আগের ইন্টারনেট স্লো হওয়ার যে সমস্যা ছিল তা রয়ে গেছে। ব্রাউজিং স্পিড হঠাৎ হঠাৎ স্লো হয়ে যায় এবং মাঝে মাঝে ডিসকানেক্ট হয়ে যায়। এর কারণ কী? সমাধান দিলে উপকৃত হব।

-শরিফ



সমাধান : পিসিটি পুরনো, তাই মাদারবোর্ডের বিল্ট-ইন ইথারনেট অ্যাডাপ্টার বা ল্যানকার্ড দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ASUS K8N Motherboard মাদারবোর্ডে Chipset built-in MAC with external PHY 10/100 Mbps Ethernet দেয়া আছে, যার ক্ষমতা কম নতুন মাদারবোর্ডের বিল্ট-ইন ল্যানকার্ডের চেয়ে। আবার এমনও হতে পারে ইন্টারনেট সেটিংসে সমস্যা আছে। সঠিকভাবে সমস্যার কথা বলা যাচ্ছে না। ইন্টারনেট সেটিংস ভালোভাবে পরখ করে দেখুন, তাতে কাজ না হলে ২৫০-৩০০ টাকা দিয়ে একটি ল্যানকার্ড বা ইথারনেট অ্যাডাপ্টার কিনে নিন। দেখুন এতে সমস্যার সমাধান হয় কি না। অনেক সময় পিসিতে থাকা অ্যান্টিভাইরাসের ফায়ারওয়ালও ইন্টারনেট স্পিড স্লো করে, তাই সেটিও খেয়াল রাখবেন। লাইনেও কোনো সমস্যা থাকতে পারে, তাই এ ব্যাপারে ইন্টারনেট কানেকশন প্রোভাইডারের সাথে কথা বলে দেখতে পারেন।




সমস্যা : আগে ওয়েব ব্রাউজারে ফেসবুক বা ফ্লিকারে কমেন্ট লেখার সময় বানান ভুল হলেই তা লাল আন্ডারলাইন দিয়ে নোটিফাই করা হতো এবং রাইট বাটন ক্লিক করার পর বানান শুদ্ধ করার অপশন দিত ঠিক যেমনটা মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে হয়। বর্তমানে উইন্ডোজ সেভেন ইনস্টল করার পর থেকে এ অপশনটি আর পাচ্ছি না। এমতাবস্থায় আমি দারুণ সমস্যায় পড়েছি। আমি এখন কীভাবে পূর্বের সেই অপশন ফিরে পেতে পারি, সে ব্যাপারে পরামর্শ দিলে কৃতজ্ঞ থাকব।

-ইমরোজ, পল্লবী



সমাধান : স্পেল চেকিং অপশনটি ব্রাউজারে দেয়া থাকে। আপনি কোন ব্রাউজার ব্যবহার করেছেন তা উল্লেখ করেননি। নতুন মজিলা ফায়ারফক্সে বিল্ট-ইন স্পেল চেকার দেয়া আছে এবং তা অ্যাকটিভ অবস্থায় থাকে। তাই এ ব্রাউজারে কাজ করার সময় কিছু কথা কিছু টাইপ করলে তার বানান ভুল হলে তা সঠিক করার অপশন পাবেন। অপশনটি ফিরে পেতে নতুন মজিলা ফায়ারফক্স ডাউনলোড করে তা ইনস্টল করে নিন। যদি অপশনটি এনাবল না করা থাকে তবে তা এনাবল করার জন্য ফায়ারফক্সের Tools®Options®Advanced : General: Browsing: ‘Check my spelling as I type’ নেভিগেট করুন।



সমস্যা : আমি নতুন একটি এলইডি এলসিডি মনিটর কিনি। কেনার পর দেখলাম মনিটরের পাশে কালো ফোঁটার মতো দেখা যাচ্ছে। ফোঁটা দেখে মনে হচ্ছে ওইখানে কালার মিল খাচ্ছে না। এছাড়া মনিটরে আর কোনো সমস্যা নেই। মনিটর ব্যবহার করার সময়ও কোনো সমস্যা হয়নি। আমার মনিটরের মডেল আসুস ভিএইচ১৯৭ডি ১৮.৫ ইঞ্চি।

-অর্ণব



সমাধান : কালো ফোঁটার মতো এ জিনিসটিকে ডেড পিক্সেল বলে। এ পিক্সেলটি আলোর তারতম্যের সাথে কোনো সাড়া দেবে না এবং সবসময় কালোই দেখাবে। এলসিডি মনিটরে দুয়েকটা ডেড পিক্সেল পড়াটা স্বাভাবিক। তবে বেশি পড়লে তা খারাপ দেখা যায়। কমপিউটার বিক্রেতারা নির্দিষ্টসংখ্যক ডেড পিক্সেল পড়া পর্যন্ত ওয়ারেন্টি দেয়। বিক্রেতার কাছে যোগাযোগ করে জানান যে আপনার মনিটরে ডেড পিক্সেল রয়েছে এবং এ সম্পর্কে তাদের ওয়ারেন্টি অপশন বিস্তারিত জেনে নিন।



সমস্যা : আমার পিসির কনফিগারেশন হচ্ছে ডুয়াল কোর ২.৭ গিগাহার্টজ, র্যা ম ২ গিগাবাইট ও ১ গিগাবাইট গ্রাফিক্স কার্ড। আমার পিসিতে আমি উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহার করলে কী পিসি স্লো হয়ে যাবে? গ্রান্ড থেফট অটো ইপিসোডস ফরম লিবার্টি সিটি গেমটি কী আমার পিসিতে চলবে?

-আরাফাত



সমাধান : আপনার পিসির কনফিগারেশন অনুযায়ী আপনি উইন্ডোজ সেভেন চালাতে পারবেন। তবে গ্রান্ড থেফট অটো সিরিজের এই নতুন গেমটি আপনার পিসিতে স্লো চলতে পারে বা নাও চলতে পারে। এ ব্যাপারে সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না, কারণ আপনি আপনার গ্রাফিক্স কার্ডের মডেলের কথা উল্লেখ করেননি এবং র্যা মের বাস স্পিডের কথাও উল্লেখ্য করেননি। গেমটি খেলার জন্য উইন্ডোজ সেভেন/ উইন্ডোজ বিসতা সার্ভিস প্যাক ১/ উইন্ডোজ এক্সপি সার্ভিস প্যাক ৩, ইন্টেল কোর টু ডুয়ো ১.৮ গিগাহার্টজ বা এএমডি এথলন এক্স২ ৬৪ ২.৪ গিগাহার্টজ প্রসেসর, ২ গিগাবাইট র্যাোম, ২৫৬ মেগাবাইট এনভিডিয়া ৭৯০০ বা এটিআই এক্স১৯০০ মডেলের গ্রাফিক্সকার্ড, হার্ডডিস্কে ১৬ গিগাবাইট ফাঁকা স্হানের প্রয়োজন পড়বে।


কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : jhutjhamela@comjagat.com

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস