Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > ল্যাপটপের দিন ফুরাল!
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সুমন ‍ইসলাম
মোট লেখা:৮৭
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১১ - মে
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
ল্যাপটপ
তথ্যসূত্র:
দশদিগন্ত
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
ল্যাপটপের দিন ফুরাল!

দ্রুত এগিয়ে চলেছে প্রযুক্তিবিশ্ব। সবার পকেটেই এখন থাকছে মোবাইল ফোন। সেটের ধরনও পাল্টে যাচ্ছে নিত্যদিন। ক্রমেই ক্ষুদ্র হয়ে আসছে এই যন্ত্রটি। একই সাথে বাড়ছে কার্যক্ষমতা। সর্বশেষ এমন মোবাইল ফোন এসেছে যে কি না ল্যাপটপ হিসেবেও কাজ করতে পারে। অর্থাৎ আপনার ল্যাপটপে কাজ করা প্রয়োজন হলে ওই মোবাইল ফোনটি দিয়েই তা করা যাবে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেই মোবাইল ফোন ‘অ্যাট্রিক্স’ সম্প্রতি অবমুক্ত করেছে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান মটোরোলা। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের এই মোবাইল ফোন পাল্টে দেবে ডিজিটাল প্রযুক্তির ধরন। আরেক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটও পিছিয়ে থাকতে রাজি নয়। তাই তারা এখন ‘অসাধারণ’ পিসি তৈরির কাজ শেষ করছে। তাদের নতুন প্রসেসর এ কাজটিকে সম্ভব করে তুলেছে। কর্তৃপক্ষ মনে করে, ব্যবহারকারীরা নতুন ফ্যাশনেবল ডিজাইনের এবং অনেক বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন কমপিউটার পছন্দ করেন। তাই তারা তৈরি করেছে ‘দ্য কালেকশন’ নামের অসাধারণ পিসি। এতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যন্ত ক্ষমতাশালী প্রসেসর।

মাইক্রোসফট কর্তৃপক্ষ এক জরিপে দেখেছে, ৭২ শতাংশ পিসির মালিক পিসি কিনতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। কারণ তাদের সামনে থাকে এত বিকল্প যে তারা কোনটা রেখে কোনটা কিনবেন। আর ২৭ শতাংশ লোক পিসি কিনতে গিয়ে এতটা সময় নেন, যতটা সময় নেন নতুন বাড়ি কিনতে গিয়ে। পিসি মালিকদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৩৫ শতাংশ টিভি সেটে টিভি না দেখে কমপিউটারে টিভি দেখেন। অন্যদিকে ২৯ শতাংশ ব্যবহারকারী অন্য যন্ত্র বাদ দিয়ে পিসিতে চলচ্চিত্র দেখেন এবং ২৩ শতাংশ রেডিও শোনেন। কর্তৃপক্ষ তাই নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির পিসি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে করে ক্রেতারা তাদের চাহিদা ও বাজেট অনুযায়ী পিসি কিনতে পারেন।

কমপিউটারে ডুয়াল কোর প্রসেসর আগে থেকে ব্যবহার হলেও এখন মোবাইল ফোনেও ব্যবহার হচ্ছে ডুয়াল কোর প্রসেসর। এ কাজে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ইন্টেল। দশকেরও বেশি সময় ধরে তারা চিপের বাজারে রাজত্ব করছে। মোবাইল ফোনের মতো ক্ষুদ্র যন্ত্রের পাশাপাশি এখন সব কিছুতেই ব্যবহার হচ্ছে অত্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন চিপ। তাই মোবাইল ফোন হয়েছে এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গতিসম্পন্ন। মূলত এই চিপের অগ্রগতিই প্রযুক্তিপণ্যে অসম্ভব গতি সঞ্চার করেছে। যার ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে আমাদের সামনে হাজির হবে এমন সব যন্ত্র, যা হয়তো ছিল আমাদের কল্পনার অতীত।



আমাদের পকেটে থাকা মোবাইল ফোনের সাথে যে ছোট স্ক্রিন রয়েছে সেটিকে এখন যথার্থ মনে হলেও একটা সময় এসে তাকে অপ্রয়োজনীয় মনে হবে। মটোরোলা যে মোবাইল ফোনটি এনেছে সেটি কাজ করছে ডিজিটাল হাব হিসেবে। কারণ মোবাইল ফোনটি টেলিভিশনের সাথে সংযুক্ত করলেই সেটি কাজ করে চলচ্চিত্র, টিভি এবং মিউজিক সার্ভার হিসেবে।

ল্যাপটপের ক্ষেত্রে ওয়্যারলেস বা তারহীন ব্লুটুথ কীবোর্ড এখন সবখানেই রয়েছে। ফলে বেডসাইড টেবিলে রেখেও যথেষ্ট আরামে ল্যাপটপ চালানো সম্ভব হচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে ল্যাপটপের নকশায় যে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে তা প্রায় নিশ্চিতই বলা যায়।

এদিকে পিসি প্রস্ত্ততকারকরা তাদের পণ্যকে আরও আকর্ষণীয় এবং ক্ষমতাসম্পন্ন করতে ক্রমাগত চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। রীতিমতো গবেষণা করে তারা বের করতে চাইছেন কী করলে তাদের পণ্য ব্যবহারকারীদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।

ব্যবহারকারীদের যতটা প্রয়োজন তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতাই আসলে থাকে পিসিতে। তারপরও তারা সব সময় চান আরও বেশি ক্ষমতার কমপিউটার। অব্যবহৃত ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে কিছু একটা করার অংশ হিসেবেই ক্লাউড কমপিউটিংয়ের বিষয়টি এসেছে।

গুগলের প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট সুন্দর পিচাই বলেছেন, আমরা কমপিউটার ব্যবহারকারীদের প্রচুর কথা শুনেছি। তাদের বক্তব্য অত্যন্ত পরিষ্কার। আর তা হচ্ছে, কমপিউটারকে আরও কার্যকর হতে হবে। ডিজাইনের চেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে কার্যক্ষমতার ওপর। নতুন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করতে হবে সেভাবেই।

যুক্তরাজ্য মাইক্রোসফটের ভোক্তা ও অনলাইন বিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাসলে হাইফিল্ড বলেছেন, বহুমুখী যন্ত্রকে একই সুতায় গাঁথার জন্য এখনও পিসি জরুরি। কারণ একটি পিসিই পারে বহুমুখী একাধিক যন্ত্রকে একটি স্থানে এনে সমন্বয় সাধন করতে। অর্থাৎ যন্ত্রসমূহের কেন্দ্রে থাকছে একটি পিসি। তবে বিভিন্ন বিষয়ের ক্ষেত্রে এই প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই কমে আসছে। যদিও পিসি যুগের অবসান হতে চলেছে বলে আমরা মনে করি না। বিশ্বে এখনও পিসি বিক্রি অব্যাহত রয়েছে এবং স্পেসিফিকেশন লাইনও বাড়ছে। যেমনটা ঘটতে দেখা যাচ্ছে মোবাইল ফোনের বেলায়। মোবাইল ফোনেও এখন গ্রাহকেরা নিত্যনতুন ফিচার চাইছেন।

মাইক্রোসফটের যুক্তরাজ্য উইন্ডোজের প্রধান লাইলা মার্টিন বলেছেন, আমরা কী প্রযুক্তি ব্যবহার করছি তা নয়, বরং কী সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার ব্যবহার হচ্ছে সেটাই বড় কথা। পিসির দামও যে ক্রমেই কমে আসছে সেটাও কিন্তু একটা অগ্রগতি বটে। তাই আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি সমৃদ্ধ কমপিউটার অনেক কম দামে ব্যবহারকারীরা কিনতে পারছেন।

মটোরোলার অ্যাট্রিক্স একটি শীর্ষ গুগল অ্যান্ড্রয়িড ফোন। এটি এমন একটি ফোন যে কি না হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে ল্যাপটপকে। যাদের এই ফোন থাকবে তাদের পৃথক ল্যাপটপ কেনার কোনো প্রয়োজন হবে না। কারণ ল্যাপটপে যে কাজ করা যায় তার প্রায় সবই করা যাবে অ্যাট্রিক্সে।

সম্প্রতি টিথ্রি ম্যাগাজিন যখন ২০১১ সালের ‘হট ১০০ গেজেট’ ঘোষণা করে তখন সবার শীর্ষে যে নামটি ছিল সেটি হলো অ্যাট্রিক্স। অ্যাপলের আইপ্যাডকে পিছে ফেলে সে এগিয়ে যায়। অ্যাট্রিক্সে ব্যবহার করা হয়েছে ডুয়াল কোর প্রসেসর। অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এটি কাজ করতে পারে। ১৮ মাস আগেও এ গতির কথা চিন্তা করা যেত না।

এদিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিপ প্রস্ত্ততকারক প্রতিষ্ঠান ইন্টেল বলেছে, ট্যাবলেট পিসিতে ব্যবহার উপযোগী তাদের প্রসেসরগুলো এখন চলবে গুগলের মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়িড। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী পল ওটেলিনি সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন, তারা অ্যান্ড্রয়িড সর্বশেষ সংস্করণ হানিকম্বের প্রোগ্রামিং সঙ্কেত গ্রহণ করেছেন। স্মার্টফোনগুলোতে আগামী ১২ মাসের মধ্যেই ইন্টেলের চিপ ব্যবহার করা হবে। চলতি বছরের প্রথম ৪ মাসে ইন্টেল যা আয় করেছে তা গত বছরের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি।

পল ওটেলিনি বলেন, তারা ট্যাবলেট পিসিতে ইন্টেল চিপের বাজার পাওয়ার জন্য গুগল, মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ সিস্টেম ও নোকিয়ার মিগো প্লাটফর্মের সাথে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ট্যাবলেট পিসির অন্যতম বাজার ছিল জাপান। কিন্তু ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামি আঘাত হানার পর আপাতত সেখানে আর ট্যাবলেট পিসি রফতানি হচ্ছে না। তা সত্ত্বেও এ বছরের প্রথম চার মাসে গত বছরের তুলনায় ব্যবসায় ভালো হয়েছে। পরবর্তী মাসগুলোতেও ব্যবসায় ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞেরা একটি বিষয়ে একমত- বর্তমান মোবাইল ফোন এবং কমপিউটারকে বিলুপ্তির হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে অ্যাট্রিক্স। বেশিরভাগ ক্রেতাই ল্যাপটপ কেনেন পণ্যটির কার্যক্ষমতার জন্য নয়, বরং তার বড় স্ক্রিন এবং কীবোর্ডের জন্য। টেক্সট এডিটিং এবং ওয়েব ব্রাউজিংয়ের জন্যই মূলত ল্যাপটপ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কাজটি যদি মোবাইল ফোনেই করা যায় তাহলে ল্যাপটপের প্রয়োজনীয়তা হবে প্রশ্নবিদ্ধ। তবে একথা সত্য, ল্যাপটপের যাবতীয় কাজ অত্যাধুনিক মোবাইল ফোনে করা সম্ভব হবে না। তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজই কিন্তু করা সম্ভব হবে। টেলিভিশন ও মিউজিক প্লেয়ারের সাথে যুক্ত করে চলচ্চিত্র দেখা ও মিউজিক শোনা যাবে স্বাচ্ছন্দ্যে।

তাই এখনই না হলেও শিগগিরই হয়তো বলা যাবে ল্যাপটপের দিন শেষ হয়ে আসছে।


কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : sumonislam7@gmail.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
পাঠকের মন্তব্য
২৫ জুন ২০১১, ৭:০৬ AM
চমৎকার লেখার জন্য লেখক কে ধন্যবাদ।
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস