Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > মোবাইল ফোন অ্যাক্সেসিবিলিটি
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: ভাস্কর ভট্টচার্য
মোট লেখা:১৯
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১১ - জুন
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
মোবাইল
তথ্যসূত্র:
টেলিকম-বিপ্লব
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
মোবাইল ফোন অ্যাক্সেসিবিলিটি
মোবাইল ফোন অ্যাক্সেসিবিলিটি বিষয়টি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ নিরক্ষর। প্রায় ৪০ লাখ মানুষ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী। এছাড়াও মোবাইল ব্যবহারকারী জনগোষ্ঠীর মোট ১০ শতাংশ ষাটোর্ধ ব্যক্তি বয়স্ক। এই ব্যাপকসংখ্যক মানুষকে মোবাইল সেবা দিতে গেলে মোবাইল ফোন এক্সেসিবিলিটি বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের মুঠোফোন সেবাদানকারী সংস্থাগুলো সবসময় সব চাহিদার ওপর দৃষ্টি রেখে সেবা দেয় না। অনেক সময় এ মোবাইল ফোন একটি ভোগান্তির কারণ হয়ে থাকে। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী নিরক্ষর জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক মানুষকে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়। এক্ষেত্রে মোবাইলপ্রযুক্তি ব্যবহারে নানা ভোগান্তি, বাধা ও সম্ভাবনার দিক তুলে ধরার প্রয়াস এ লেখায়।

এসএমএস :

এসএমএস বা ক্ষুদেবার্তা তথ্য দেয়া-নেয়ার জন্য একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। এক গবেষণায় দেখা গেছে, জাপানে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে তথ্য দেয়া-নেয়া করে। বাংলাদেশে ইশারাভাষী মানুষদের জন্য এসএমএস একটি অন্যতম যোগাযোগের মাধ্যম। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মোবাইল ট্যারিফ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কথা বলার চেয়ে এসএমএস বা ক্ষুদেবার্তার খরচ প্রায় দশগুণ কম। অর্থাৎ এক মিনিটের খরচ দিয়ে দশটি এসএমএস করা যায়। কিন্তু বাংলাদেশে এ চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে এসএমএসের খরচ অনেক। এখানে এক মিনিট কথা বলতে আপনাকে যে অর্থ দিতে হয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসএমএস বা ক্ষুদেবার্তায় তারচেয়ে দ্বিগুণ খরচ করতে হয়। ক্ষুদেবার্তার খরচ কম হলে এ মাধ্যমটি যোগাযোগের একটি অন্যতম ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে উঠতে পারত। এফএম রেডিও এবং বিভিন্ন মিডিয়া ও প্রতিযোগিতায় যেভাবে এসএমএস ব্যবহার হচ্ছে তাতে মানুষের যোগাযোগ ও মতামত দেয়া আরও সহজ হতে পারত। সবচেয়ে বড় কথা এসএমএসের মাধ্যমে ইশারাভাষী মানুষের যোগাযোগ বেড়ে যেত অনেকগুণ। বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানি কিছু টেক্সট ফোন বের করেছে, যার মধ্য দিয়ে ইশারাভাষী মানুষেরা সহজেই যোগাযোগ করতে পারে।

ভয়েস এসএমএস :

ভয়েস এসএমএস বা স্বরবার্তা বাংলাদেশের জন্য উপরে উল্লিখিত জনগোষ্ঠীর বিবেচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারত। শুধু মোবাইল কোম্পানিগুলোর অনীহার কারণে এ মাধ্যমটি কার্যকর হচ্ছে না। ইদানীং সরকারের পক্ষ থেকে কিছু ক্ষুদেবার্তা পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ে। যেমন : আগামীকাল জাতীয় টিকা দিবস, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুকে টিকা কেন্দ্রে নিয়ে যান। এই ক্ষুদেবার্তা কী করে একজন গ্রামের নিরক্ষর মানুষ অথবা একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি পড়তে পারবেন। অথচ একই সাথে যদি ভয়েস এসএমএস বা স্বরবার্তা পাঠানো যেত, তাহলে সবার পক্ষে তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত হতো। থাইল্যান্ডে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের কাছে ভয়েস এসএমএস একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। কেননা, এটি কম পয়সার মাধ্যমে অথবা বিনা পয়সায় সর্বাত্মক ব্যবহার করা যায়। অথচ আমাদের দেশে গ্রাহককে স্বরবার্তা পেতে সবচেয়ে বেশি খরচ দিতে হয়। তাছাড়া সব মোবাইল অপারেটর এই সুবিধা দেয় না। আরটিআই অ্যাক্ট অনুযায়ী তথ্য পাওয়ার ও ব্যবহার উপযোগিতা (এক্সেসিবিলিটি) নিশ্চিত করা হয়েছে। এ দিকটির প্রতি আমাদের দেশে মোবাইল সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর কোনো মনোযোগ আছে কী?



মোবাইল ফোনের গোলকধাঁধা :

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিকে এখন মানবাধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়। মানুষ যে মোবাইল গোলকধাঁধার মধ্যে পরে আবর্তিত হচ্ছে, তার কয়েকটি দিক এখানে তুলে ধরছি।

ট্যারিফ বা মূল্য :

কোন মোবাইল কোম্পানির সেবা কত মূল্যে, তা বুঝা একটি কঠিন কাজ। আবার কোনো কোনো ফোন কোম্পানির ৫টি রেট। যে কারণে সেরা গ্রহীতা যে কোনটি গ্রহণ করবে, তা বুঝা মুশকিল। তাছাড়া নানারকম প্যাকেজের আড়ালে গ্রাহককে ঘূর্ণিপাক খেতে হয়। দেশের সহজ-সরল মানুষ মোবাইলের চক্করে পড়ে আছে। সরকারও এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নির্বিকার। ভ্যালুয়েডেট সার্ভিসের নামে মানুষকে যে অর্থ দিতে হচ্ছে, তা মেনে নেয়া যায় না।

নেটওয়ার্ক :

মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জঙ্গল থেকে সমুদ্র সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় পুরো বাংলাদেশ। যেখানে এখনও বিদ্যুৎ যায়নি, সেখানেও পৌঁছে গেছে এই মোবাইল ফোন। তবে এ সার্ভিস সর্বত্রই নিরবচ্ছিন্ন নয়। কখনও কখনও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া গ্রাহককে বারবার ফোন করতে হয়। এতে সাধারণ গ্রাহকের অর্থ ও সময় উভয়ের অপচয় হয়। আশা করি, মোবাইল ফোন অপারেটরেরা এ বিষয়ে দৃষ্টি রাখবে।

জিপিএস সিস্টেম :

বাংলাদেশের এক অন্যতম বড় মোবাইল অপারেটর জিপিএস চালু করেছে। এতে সর্বসাধারণের অনেক উপকার হয়েছে বলা যায়। যেমন- অনেক রাতে আপনি সিএনজি করে ঢাকা শহরে একা যাচ্ছেন, এ শহরটা আপনি ভালো করে চেনেন না, আপনার মোবাইল স্ক্রিনটি আপনাকে সহায়তা করবে আপনি কোন জায়গায় অবস্থান করছেন। এই ব্যবস্থায় অনেকেরই উপকার হচ্ছিল, কিন্তু তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো জনগণের সুবিধা ও অসুবিধা এবং মতামতকে আরও গুরুত্ব দেবে তা আমাদের সবার প্রত্যাশা।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য মোবাইলপ্রযুক্তি :

বাংলাদেশে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরাও সবার মতো মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে ব্যাপক হারে। মোবাইল স্ক্রিন রিডিং সফটওয়্যার ইতোমধ্যে বাংলাদেশে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য মোবাইল ব্যবহার সহজ করে তুলেছে। এ সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে রয়েছে- টকস্, মোবাইল স্পিক। এই দুটো সফটওয়্যারের যেকোনো একটি ব্যবহার করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা সবার মতো মোবাইল ফোনে সব ধরনের কাজ করতে পারে। যেমন- এসএমএস করা ও পড়া, ফোনবুক পড়া, ইন্টারনেট ব্রাউজ করা, ভয়েস মেইল পড়া, ফেসবুক ইত্যাদি।

মোবাইল অ্যাক্সেসিবিলিটি গাইড

গত ১৭ মে পালিত হলো বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সংযুক্ত করাই ছিল এই দিবসের মূল প্রতিপাদ্য। ITU G3ict Mobile Accessibility Guideline মেনে চলা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের মোবাইল কোম্পানিগুলো এ গাইডলাইন বাস্তবায়নে উদ্যোগী হবে তা আমরা সবাই প্রত্যাশা করি।

পরিশেষে একটি বাস্তব ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরে শেষ করতে চাই। গত এক সপ্তাহ আগে এক বৃদ্ধ লোক আমাকে তার মোবাইল ফোনটি দেখিয়ে বললেন, বাবা আমার মোবাইলে কত টাকা আছে দেখেন তো? আমি বললাম দুঃখিত, আমি তো চোখে দেখতে পাই না। পরে আমার আরেক সহকর্মীর সহায়তা নিয়ে জানিয়েছিলাম, তার মোবাইলে কত টাকা ছিল। আমি বাংলাদেশের একটি অন্যতম মোবাইল ফোন সেবাদানকারী অপারেটরের কথা বলছি, যাদের ব্যালেন্স চেক করতে হলে একমাত্র এসএমএসের ওপর নির্ভর করতে হয়। আজকে আপনাদের সামনে যা তুলে ধরলাম এসব হচ্ছে সাধারণ মোবাইল ব্যবহারকারী জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতার সমন্বয় মাত্র।

International Telecommunication Union: Commited to connecting the world
www.itu.int
G3ict: The Global Initiative for Inclusive ICTs G3ict is dedicated to promoting the Digital Accessibility Agenda worldwide. g3ict.com
The e-Accessibility Policy Handbook for Persons with Disabilities is based upon the online ITU-G3ict e-Accessibility Policy Toolkit for Persons with Disabilities (www.e-accessibilitytoolkit.org)


কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : vashar79@hotmail.com

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস
অনুরূপ লেখা