Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > অনলাইনে বাংলা লিখন পদ্ধতি ও প্রয়োগের আধুনিক মাধ্যম
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: অনিমেষ চন্দ্র বাইন
মোট লেখা:১৬
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১১ - আগস্ট
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
গুগল
তথ্যসূত্র:
সফটওয়্যার
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
অনলাইনে বাংলা লিখন পদ্ধতি ও প্রয়োগের আধুনিক মাধ্যম

ডেস্কটপ, মোবাইল ও অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন সেবা রয়েছে গুগলের। এর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় যে সেবাটি আমরা প্রতিদিন ব্যবহার করে থাকি তাহলো সার্চ ইঞ্জিন। এছাড়াও গুগলের আরো অনেক সেবা রয়েছে যা আমরা খুব অল্প জানি। এমন একটি সেবা হচ্ছে গুগল ট্রানসিলটারেশন। এর আভিধানিক অর্থ হলো অক্ষরীকরণ। এর সাহায্যে রোমান হরফে লেখা শব্দগুলো ভিন্ন বর্ণমালায় প্রকাশিত হয়। গুগল ট্রানসিলটারেশনের এই সেবা অনলাইন ও অফলাইন উভয় ভার্সনে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে রাখা হয়েছে। জাভাস্ক্রিপ্টভিত্তিক গুগলের ইনপুট মেথড এডিটর তথা আইএমই-র সাহায্যে খুব সহজে বিশ্বের ২২টি ভাষায় লেখা সম্ভব।



গুগল আইএমই এমন একটি ইনপুট মেথড এডিটর যার সাহায্যে রোমান কীবোর্ড ব্যবহার করে ২২টি ভাষার বর্ণমালায় যেকোনো শব্দ লেখা অধিকতর সহজ হয়েছে। এই পদ্ধতিতে লেখার সময় শব্দগুলোকে উচ্চারণ অনুসারে রোমান হরফে লিখতে হবে। আর গুগল ট্রানসিলটারেশন আইএমই এটি ব্যবহারকারীর নিজস্ব ভাষায় পরিবর্তন করে দেয়। এই পদ্ধতি কিন্তু ট্রানসেলশন তথা এটি ভাষান্তরের মতো নয়। এটি কোনো শব্দের উচ্চারণকে এক বর্ণমালা থেকে অন্য বর্ণমালায় রূপান্তর করে তবে শব্দের অর্থকে নয়। আর এই পরিবর্তিত কনটেন্ট সব সময় ইউনিকোড হবে।

গুগল ট্রানসিলটারেশন আইএমই-এ বর্তমানে যে ২২টি ভাষা ব্যবহার করা সম্ভব সেগুলো হলো- আমারিয় (ইথিপিয়ান), আরবি, বাংলা, ফারসি, গ্রিক, গুজরাটি, হিব্রু, হিন্দি, কান্নদা, মালয়ালাম, মারাঠি, নেপালি, উড়িয়া, পাঞ্জাবি, রুশ, সংস্কৃত, সার্বিয়, সিংহলী, তামিল, তেলেগু, তিগ্রিনিয়া ও উর্দু।

উপরের ২২টি ভাষার মধ্যে বেশিরভাগই ভারতীয়। এর কারণ হলো, গুগল ট্রানসিলটারেশন আইএমই-র উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারতীয়রা প্রথম ও সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে। এর আগের নাম ছিল গুগল ইন্ডিক ট্রানসিলটারেশন যা ভারতীয় ভাষায় টাইপিং সার্ভিস নামে পরিচিত।

এই টুলটি প্রথম গুগলের জনপ্রিয় ব্লগিং প্লাটফরম ব্লগারে প্রয়োগ করা হয়। পরে এটি একটি স্বাতন্ত্র্য টুল হিসেবে অনলাইনে পরিচিতি লাভ করে। খুব কম সময়ের মধ্যে এটি ব্যবহারকারীদের কাছে জনপ্রিয়তা পেতে সক্ষম হয়। প্রসারের পাশাপাশি জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে এটি জি-মেইল ও অর্কুটে সংযোজন করা হয়। গুগল আইএমই নামে ট্রানসিলটারেশনের অফলাইন ভার্সন উন্মুক্ত করা হয় ২০০৯ সালে। এর আগে ট্রানসিলটারেশন শুধু অনলাইনে কাজ করত।



গুগল ট্রানসিলটারেশনের অনলাইন আইএমই ব্যবহার করতে প্রথমে google.com/transliterate-এ অ্যাক্সেস করতে হবে। ডিফল্ট হিসেবে হিন্দি ভাষা নির্বাচিত থাকে। বাম দিকের ড্রপডাউন থেকে বাংলা ভাষা নির্বাচন করে নিতে হবে (চিত্র-১)। এরপর সহজে আপনার প্রত্যাশিত শব্দ লিখতে পারবেন। ধরুন, আপনি ‘শুভক্ষণ’ শব্দটি লিখতে চান, তাহলে ইংরেজিতে এটি হবে shubhokshon বা shuvokhon বা shubhokhon লিখে স্পেসবার চাপলেই রোমান হরফ পরিবর্তিত হয়ে কাঙ্ক্ষিত শব্দ রূপান্তরিত হয়ে যাবে। যদি আপনার লেখা যাচাই বা শুদ্ধ করতে চান বা এর সমকক্ষ অন্য শব্দ ব্যবহার করতে চান, তবে ব্যাকস্পেস চাপুন। এছাড়াও কোনো লেখার ভুল সংশোধন করতে ব্যাকস্পেস চাপলে ওই লেখার জন্য কী কী শব্দ রূপান্তর হতে পারে তার একটি নির্দেশনা দেখতে পাবেন। সেখানে প্রত্যাশিত শব্দ থাকলে সেটি নির্বাচন করে নিতে পারেন (চিত্র-২)।

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে সর্বপ্রথম ট্রানসিলটারেশন অন্তর্ভুক্ত করা হয় blogger.com প্লাটফরমে হিন্দি ভাষায়। বর্তমানে এর প্রসার ও ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ ব্লগারে নির্ধারিত ভাষায় ট্রানসিলটারেশন ব্যবহার করতে হলে কয়েটি সহজ ধাপ অতিক্রম করতে হবে। প্রথমে ব্লগারে লগইন করে Dashboard থেকে ব্লগের Settings-এ ক্লিক করুন। এরপর Basic ট্যাবের transliteration option থেকে enable নির্বাচন করে দিতে হবে (চিত্র-৩)। এরপর ব্লগারের পোস্ট এডিটরে ভাষার একটি আইকন দেখা যাবে (চিত্র-৪)। এখান থেকে নির্ধারিত ভাষা নির্বাচন করে সহজে লেখা সম্ভব হবে।

২০০৯ সালের নভেম্বরে জি-মেইলে ট্রানসিলটারেশন ব্যবহার করে গুগল। এর ফলে সহজেই বাংলাসহ বিভিন্ন দেশের নিজস্ব ভাষায় ইন্টারনেটে লেখা ও ই-মেইল পাঠানোর সুযোগ হয়। এক্ষেত্রে ট্রানসিলটারেশন সক্রিয় করতে কয়েটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। মেইলে লগইন করে Mail Settings-এ ক্লিক করুন। এবার General ট্যাবের Language অপশন থেকে Enable Transliteration নির্বাচন করে সেভ দিতে হবে। এরপর মেইল এডিটরে শুরুতে বাংলা বর্ণমালার প্রথম অক্ষর ‘অ’ দেখা যাবে । এটি সক্রিয় করে খুব সহজে ফোনেটিক পদ্ধতিতে বাংলা লেখা যাবে।

গুগল ট্রানস্লিটারেশনের অফলাইনভিত্তিক আইএমই-র ডেস্কটপ ভার্সন মুক্ত হওয়ার পর ফোনেটিক পদ্ধতিতে ইউনিকোডে বাংলা লেখার আরেকটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে এবং যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। এটি কোনোরকম ইন্টারনেটের সহায়তা ছাড়াই বাংলা লেখা সম্ভব হয়।

অফলাইনভিত্তিক আইএমই ডাউনলোড করতে গুগলের httpwww.google.com/ime/ transliteration/ লিঙ্কে ঢুকে অপারেটিং সিস্টেম সমর্থিত ভার্সন সংগ্রহ করে পিসিতে ইনস্টল করে নিতে হয়। এই আইএমই সক্রিয় করতে Alt+Left Shift চাপলে বাংলা লেখা যাবে।

পিসিতে কোনো রকম আইএমই সক্রিয় না করে ইন্টারনেটে বাংলা লেখার ক্ষেত্রে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যদিও অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের নিজের প্রয়োজনে নিজেরাই আইএমই তৈরি করে নিয়েছে। এছাড়াও ইন্টারনেটে বাংলা লেখার দুয়েকটি আইএমই থাকলেও সেগুলো ততটা উন্নত নয়। কিন্তু গুগলের অনলাইনভিত্তিক এপিআই যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য ও নির্ভুল পদ্ধতিতে লেখা সম্ভব। ডেভেলপাররা খুব সহজে নিজস্ব ওয়েবসাইটে এটি সংযোজন করে নিতে পারেন। এর প্রথম সংস্করণ code.google.com/apis/language/ transliterate/ overview.html ওয়েব লিঙ্ক থেকে ধারাবাহিক নির্দেশনাসহ ডাউনলোড করার সুবিধা রয়েছে।

এত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এতে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যেমন- দাড়ি (।) চিহ্ন আপনি দিতে পারবেন না। যদিও পাইপলাইন কী দিয়ে দাড়ি দেয়া সম্ভব। কিন্তু এটি বাংলা বর্ণমালার সাথে মানানসই নয়। তবে ডেস্কটপ সংস্করণ ব্যবহারকারীরা ম্যাক্রো পদ্ধতি ব্যবহার করে এটি নির্ধারণ করে নিতে পারবেন। একই সাথে ওয়েব ডেভেলপাররা কী ম্যাপিং করেও এটি পুনর্বিন্যাস করে নিতে পারেন। আর এর সব নির্দেশনা দেয়া আছে গুগল ওয়েবসাইটে।

কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : animesh@letbd.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস