Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > পিসির ঝুটঝামেলা
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: কজ
মোট লেখা:১০৪১
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১১ - সেপ্টেম্বর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
সমস্যা ও সমাধান
তথ্যসূত্র:
ট্রাবলশুটার টিম
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
পিসির ঝুটঝামেলা






কমপিউটার জগৎ ট্রাবলশূটার টিম

কমপিউটার ব্যবহারকারীদের নিত্যনতুন সমস্যায় পড়তে হয়। কিন্তু আমাদের এই নতুন বিভাগ ‘পিসির ঝুটঝামেলা’তে পিসির হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক, ভাইরাসজনিত সমস্যা, ভিডিও গেম সম্পর্কিত সমস্যা, পিসি কেনার ব্যাপারে পরামর্শ ইত্যাদিসহ যাবতীয় সব ধরনের কমপিউটারের সমস্যার সমাধান দেয়া হবে। আপনাদের সমস্যাগুলো আমাদের এই বিভাগের মেইল অ্যাড্রেসে (jhutjhamela@comjagat.com) বা কমপিউটার জগৎ, কক্ষ নম্বর-১১, বিসিএস কমপিউটার সিটি, রোকেয়া সরণি, আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭ ঠিকানায় চিঠি লিখে জানান প্রতিমাসের ২০ তারিখের মধ্যে। উলে¬খ্য, মেইলের মাধ্যমে পাঠানো সমস্যার সমাধান যত দ্রুত সম্ভব মেইলের মাধ্যমেই জানিয়ে দেয়া হবে এবং সেখান থেকে বাছাই করা কিছু সমস্যা ও তার সমাধান প্রেরকের নাম- ঠিকানাসহ ম্যাগাজিনের এই বিভাগে ছাপানো হবে। সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের সমস্যা পাঠানোর সময় পিসির কনফিগারেশন, অপারেটিং সিস্টেম, পিসিতে ব্যবহার হওয়া অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম, পিসি কতদিন আগে কেনা এবং পিসির ওয়ারেন্টি এখনো আছে কি না- এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উলে¬খ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।


ট্রাবলশূটার টিম
সমস্যা : আমার পিসির কনফিগারেশন হচ্ছে- প্রসেসর : Intel Pentium 4 2.66 GHz, মাদারবোর্ড : Intel D865GSA LGA 775 socket, র্যােম : 512 MB DDR 400, গ্রাফিক্স : 96 MB Built in, হার্ডডিস্ক : 80 GB SATA 7200 rpm এবং অপটিক্যাল ড্রাইভ : ASUS DVD ROM 16X। আমি যখন পিসি স্টার্ট করি তখন তিনটি বিপ শুনতে পাই এবং মনিটরে কালো স্ক্রিন দেখায়, যার নিচে লেখা থাকে Press F4 to resume। আমি F4 চাপলে বায়োস আসে, যাতে লেখা থাকে Date and Time are not correct। F10 চেপে বায়োস থেকে বের হলেই পিসি রিস্টার্ট নেয় এবং একই স্ক্রিন আবার আসে। এবার একটি বিপ দেয় এবং ওয়েলকাম স্ক্রিন দেখিয়ে ডেস্কটপ আসে। কিছুক্ষণ পর পিসি কাজ করার উপযুক্ত হয়ে যায়। এরপর সবকিছুই ঠিকমতো চলে। কোনো রকমের সমস্যা দেখা দেয় না, শুধু সিস্টেমের টাইম ঠিক থাকে না। কন্ট্রোল প্যানেল থেকে টাইম সেটিং ঠিক করে দিলে তা ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু আবার পিসি নতুন করে চালু করলে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। বারবার F4 চেপে কমপিউটার চালু করার ব্যাপারটা বেশ বিরক্তিকর এবং সেই সাথে বারবার কমপিউটারের টাইম পাল্টানোর ব্যাপারটা তো আছেই। আমি সমস্যাটার কারণ ও সমাধান জানতে চাই। আমি আশা করি কমপিউটার জগৎ আমাকে এ সমস্যার উপযুক্ত সমাধান দেবে। আমি আমার কমপিউটারের সমস্যার স্ক্রিনশট মেইলে অ্যাটাচ করে পাঠালাম। ছবিটি ভালোভাবে দেখে সমাধান তাড়াতাড়ি জানাবেন। ধন্যবাদ।

-অপূর্ব মালাকার



সমাধান :
পিসির সিমোস ব্যাটারিতে সমস্যা বলে মনে হচ্ছে। পিসি বেশ পুরনো হয়ে যাওয়ায় ব্যাটারির ক্ষমতা কমে গেছে বা তা নষ্ট হয়ে গেছে। এটি ঠিক করা তেমন কোনো কঠিন কাজ নয়। আপনি যদি কখনও অ্যাসেম্বলিংয়ের কাজ নাও করে থাকেন তাহলেও কোনো সমস্যা নেই। ক্যাসিংয়ের পাল্লা খুলে মাদারবোর্ডের ওপরে কোনো গোলাকার চ্যাপ্টা ব্যাটারি খুঁজে পান কিনা দেখুন। ব্যাটারিটি খুলে তাতে নতুন আরেকটি ব্যাটারি লাগিয়ে দিলেই কাজ হয়ে যাবে। কমপিউটার যখন সচল থাকে তখন সিমোস (CMOS) মেমরি বিদ্যুতে চলে, কিন্তু যখন কমপিউটার বন্ধ করে দেয়া হয় তখন তা এই ব্যাটারির সাহায্যে চলে। এ কারণে কমপিউটার বন্ধ করা হলেও সিস্টেম টাইম ঠিক থাকে। এ ছোট্ট লিথিয়াম কয়েন সেল বা ব্যাটারির স্থায়িত্ব মাদারবোর্ডভেদে ২-১০ বছর হতে পারে। সহজে এটি নষ্ট হয় না। তবে অত্যধিক গরম বা পাওয়ার সাপ্লাইতে সমস্যা থাকলে এটি তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। বাজারে গিয়ে সিমোস ব্যাটারি বা মাদারবোর্ড ব্যাটারি বললেই হবে। কোম্পানিভেদে দাম ২০-৫০ টাকা হতে পারে। কেনার পর ব্যাটারির গায়ে লিথিয়াম ব্যাটারিসেল, CR2032 এবং ৩ ভোল্ট (3V) লেখা আছে কিনা দেখে নিন। ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এ ধরনের এরর আসছে এবং সিস্টেম টাইম ম্যানুয়ালি সেট করতে হচ্ছে। নতুন ব্যাটারি কিনে লাগালে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে আশা করি।



সমস্যা : আমি একটি ল্যাপটপ কিনতে চাই। ল্যাপটপের মডেল HP Compaq CQ 42-403AX। এতে বিল্ট-ইন যে গ্রাফিক্স কার্ড রয়েছে তা ডেডিকেটেড। ডেডিকেটেড গ্রাফিক্স কার্ডের কথাটির অর্থ কি? এটি দিয়ে কি বাজারের মোটামুটি সব গেম খেলা যাবে? আমি কি ল্যাপটপে এনএফএস হট পারসুইট খেলতে পারব? এটিআই রাডেওন এইচডি ৬৩৭০এম গ্রাফিক্স কার্ডটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন।

-মো. শামস ওয়াদুদ আবীর



সমাধান :
আপনি যে ল্যাপটপ কিনতে চাচ্ছেন তাতে ২.৩ গিগাহার্টজের এএমডি এথলন টু ডুয়াল কোরের পাশাপাশি এতে ৫১২ মেগাবাইট ডেডিকেটেড এএমডি রাডেওন এইচডি ৬৩৭০ মোবাইল জিপিইউ দেয়া আছে। এটিআই এখন এএমডির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে যোগদান করায় নতুন গ্রাফিক্স কার্ড ও চিপসেটগুলো এখন এএমডির ব্যানারে বাজারে আসবে। ডেডিকেটেড গ্রাফিক্স কার্ড বলতে বোঝানো হচ্ছে এটির জন্য ৫১২ মেগাবাইট মেমরি আলাদাভাবে দেয়া আছে সিস্টেমের মেমরি বা র্যােম থেকে তা কোনো অংশ শেয়ার না করেই নিজস্ব ৫১২ মেগাবাইট মেমরিতে কাজ করতে পারবে। এছাড়াও এ মোবাইল জিপিইউয়ের আরেকটি গুণ হচ্ছে এটি মেমরি শেয়ার করে ১ গিগাবাইট পর্যন্ত হতে পারবে। মডেলের শেষে লেখা এম দিয়ে মোবাইল বোঝানো হয়। এ গ্রাফিক্স কার্ডের কোর স্পিড ও শেডার স্পিড ৭৫০ মেগাহার্টজ। এতে ৮টি পাইপলাইন রয়েছে। এর কোডনেম রবসন এক্সটি, মেমরি স্পিড ৮০০ মেগাহার্টজ, বাস উইডথ ৬৪ বিট, মেমরি টাইপ ডিডিআর৩, ম্যাক্সিমাম মেমরি ১ গিগাবাইট, ডিরেক্টএক্স ১১ ও পিক্সেল শেডার ৫.০ সাপোর্টেড এবং ৪০ ন্যানোমিটার টেকনোলজি ব্যবহার করে এটি বানানো হয়েছে। নতুন এ চিপসেটটির ক্ষমতা এইচডি ৫৪৭০ গ্রাফিক কার্ডের সমান, কারণ পুরনো এ গ্রাফিক্স কার্ডটির রূপান্তরিত রূপ হচ্ছে এইচডি ৬৩৭০এম। কিছু হাই-এন্ড গেম ছাড়া বাকি সব ক্যাজুয়াল গেম এতে চালানো যাবে লো সেটিংসে, যেমন- ফিফা ১১, সিমস ৩, নিড ফর স্পিড হট পারসুইট, ভার্চুয়া টেনিস ৪ ইত্যাদি। হাই-এন্ড গেমগুলো যেমন- ক্রাইসিস ২, এসাসিন’স ক্রিড ব্রাদারহুড, কল অব ডিউটি ব্ল্যাক অপস ইত্যাদি চলার কথা নয়, তবে চলতেও পারে একেবারেই লো ডিটেইলসে বা ঠেকে ঠেকে। এভাবে জোর করে গেম না খেলাই ভালো। এতে গ্রাফিক্স কার্ডের সাথে সাথে পুরো ল্যাপটপ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ল্যাপটপে গেম খেলার ইচ্ছে থাকলে গেমিং ল্যাপটপ কিনে নিতে পারেন, যাতে আরো শক্তিশালী গ্রাফিক্স কার্ড লাগানো থাকে। এগুলোর গঠন ও কুলিং সিস্টেমও বেশ ভালো, তাই গেমিংয়ের সময় কোনো সমস্যা হয় না।



সমস্যা : এজিপি ও পিসিআই- এ দুটির মধ্যে পার্থক্য কি? কোনটি বেশি ভালো?

-রফিকুল ইসলাম



সমাধান :
এজিপি আগে গ্রাফিক্স কার্ড লাগানোর জন্য ব্যবহার করা হতো। পুরনো মাদারবোর্ডগুলোতে এজিপি পোর্ট ছিল যাতে এজিপি স্লটের গ্রাফিক্স কার্ড লাগাতে হতো। এজিপি অর্থ হছে এক্সেলারেটেড গ্রাফিক্স পোর্ট। এখনো বাজারে এজিপি স্লটের গ্রাফিক্স কার্ড পাওয়া যায় তবে তা বেশ সীমিত। পোর্টটির রঙ সাধারণত খয়েরি হয়ে থাকে। পিসিআই পোর্টের রঙ সাদা হয়ে থাকে। পিসিআই অর্থ হচ্ছে পেরিফেরাল কম্পোনেন্ট ইন্টারকানেক্ট। পিসিআইয়ের চেয়ে এজিপির ডাটা ট্রান্সফার স্পিড বেশি। নিচে কার স্পিড কত তার তালিকা দেয়া হলো-

PCI 2.2 = 133mb/sec
AGP 1.0 = 266mb/sec
AGP 2X = 533 mb/sec
AGP 4X = 1.06 gb/sec
AGP 8X = 2.1 gb/sec

এজিপি শুধু গ্রাফিক্স ইউনিট ট্রান্সফার করতে পারে আর পিসিআই গ্রাফিক্সের পাশাপাশি সাউন্ড ও নেটওয়ার্ক ট্রান্সফার করার ক্ষমতা রাখে। তাই অনেকে পিসিআই পোর্ট ব্যবহার করে থাকেন বাড়তি সুবিধা পেতে। এজিপির চেয়ে আরো বেশি শক্তিশালী ও গতিশীল পোর্ট হচ্ছে পিসিআই এক্সপ্রেস যা এখন গ্রাফিক্স টেকনোলজির বাজার মাতিয়ে রেখেছে। এখনকার সব গ্রাফিক্স কার্ডই পিসিআই এক্সপ্রেস স্লটের হয়ে থাকে। ডাটা ট্রান্সফার স্পিডের দিক থেকে বিচার করলে স্লটগুলোর ক্রম হবে পিসিআইএজিপিপিসিআই এক্সপ্রেস।



সমস্যা : আমার ল্যাপটপের মডেল আসুস কে৪২এফ। এতে এইচডিএমআই পোর্ট আছে। কিন্তু এটি দিয়ে কি করে বা এর কাজ দয়া করে জানাবেন?

-রাকিবুল হাসান



সমাধান :
এইচডিএমআই অর্থ হচ্ছে হাই ডেফিনেশন মাল্টিমিডিয়া ইন্টারফেস। এ পোর্টের কাজ হচ্ছে হাই ডেফিনেশন অডিও ও ভিডিও বহন করা। অন্যান্য পোর্টের বেশিরভাগ শুধু ভিডিও সিগন্যাল বহন করে, কিন্তু এটি ভিডিও ও অডিও সিগিন্যাল একইসাথে বহন করে তাও আবার হাই ডেফিনেশন ফরমেটের। আপনার যদি হাই ডেফিনেশন হ্যান্ডি ক্যাম বা ভিডিও ক্যামেরা থাকে তবে তাতে রেকর্ড করা ভিডিও এ পোর্টের সাহায্যে দেখার সুযোগ পাবেন। এ কাজ করার জন্য আপনাকে ব্যবহার করতে হবে একটি এইচডিএমআই টু এইচডিএমআই ক্যাবল। ল্যাপটপে থাকা কোনো হাই ডেফিনেশন মুভির আউটপুট অন্য ডিভাইসে, যেমন- বড় ফুল এইচডি মনিটর, হাই ডেফিনেশন টিভি বা এইচডি সাপোর্টেড প্রজেক্টরে ডিসপ্লে করতে চাইলে এ পোর্ট ব্যবহার করতে পারবেন।



সমস্যা : আমার কেনা নতুন পিসির মাদারবোর্ডে ৪টি সাটা পোর্ট আছে এবং একটি আইডিই পোর্ট আছে। আইডিই পোর্টে আমার পুরনো হার্ডডিস্ক লাগানো আছে। কিন্তু অপটিক্যাল ড্রাইভটি আইডিই ক্যাবলের। কিন্তু ক্যাসিংয়ের ভেতরের স্পেস এমনভাবে সেট করা যাতে আমি এক আইডিই ক্যাবলে দুটি ডিভাইস যুক্ত করতে পারছি না। দুটি এক ক্যাবলে লাগাতে হলে হার্ডডিস্কটি স্ক্রু দিয়ে র্যা মকে না লাগিয়ে অপটিক্যাল ড্রাইভের ফাঁকা স্থানে রাখতে হয়, যা বেশ বিপজ্জনক। তাই শুধু হার্ডডিস্ক ব্যবহার করছি আইডিই ক্যাবলের সাহায্যে, অপটিক্যাল ড্রাইভটি খুলে রেখেছি। এমন কোনো ব্যবস্থা আছে কি যার সাহায্যে আমি অপটিক্যাল ড্রাইভটি ব্যবহার করতে পারি।

-শিহাব



সমাধান :
আপনি বাজারে আইডিই টু সাটা বা সাটা টু আইডিই কনভার্টার ব্যবহার করতে পারেন। আইডিই টু ইউএসবি কনভার্টারও বাজারে পাওয়া যায়। এগুলোর দাম ৪০০-৫০০ টাকার মধ্যে। তবে কনভার্টার দিয়ে চালানোর চেয়ে সাটা পোর্টের ডিভাইস কিনে তা সাটা পোর্টের সাথে ব্যবহার করা উত্তম। নিতান্তই অপারগ না হলে কনভার্টার ব্যবহার করাটা এড়িয়ে চলুন।



সমস্যা : গ্রাফিক্স ট্যাবলেট কি জিনিষ? এটা দিয়ে কি করা যায়? এটা কি গেম খেলার সময় কোনো কাজে লাগে?

-সালমান রহমান, মগবাজার



সমাধান :
কমপিউটারের মাউসের বিকল্প হিসেবে গ্রাফিক্স ট্যাবলেট বা প্যাড ব্যবহার করা হয়। এতে পাতলা একটি ডিজিটাল স্লেটের ওপরে ডিজিটাইজার বা গ্রাফিক্স পেন দিয়ে আকাঁ ছবি বা লেখা কমপিউটারের পর্দায় দেখা যায়। যারা গ্রাফিক্স ডিজাইনার তাদের জন্য এ ডিভাইসটি বেশ উপকারী, কারণ মাউস দিয়ে আকাঁআকিঁর ততটা ভালো করা যায় না যতটা এ ডিভাইস দিয়ে করা যায়। গেম খেলার সময় এর কোনো কাজ নেই। ফন্ট বানানোর কাজেও গ্রাফিক্স ট্যাবলেট ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বাজারে গুটিকয়েক কোম্পানির গ্রাফিক্স ট্যাবলেট রয়েছে যার দাম ৫০০০-১০০০০ টাকার মধ্যে।



সমস্যা : কমপিউটার জগতে লেখা ট্রাবলশূটিং বিভাগ থেকে জানতে পারলাম কম দামের মধ্যে ভালো একটি গ্রাফিক্স কার্ড হচ্ছে এটিআই রাডেওন এইচডি ৫৬৭০। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম ১ গিগাবাইট মেমরির একই মডেলের দুটি গ্রাফিক্স কার্ড রয়েছে, যাদের দাম ভিন্ন। কিন্তু সব ফিচার একইরকম। একটির দাম ৭৭০০ টাকা ও অন্যটি ৬৯০০ টাকা। এ দুটোর মাঝে দামের এরকম পার্থক্যের কারণ কি? গ্রাফিক্স কার্ডটি চালানোর জন্য ন্যূনতম কত ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাই প্রয়োজন? আমার ক্যাসিংয়ে ৪৫০ ওয়াট পাওয়ার সাপ্লাই রয়েছে। এতে কি এটি চলবে?

-নিলয়, মালিবাগ



সমাধান :
গ্রাফিক্স কার্ড দুটির দামের পার্থক্য তাদের মেমরি টাইপের জন্য। আপনি হয়তো ভালো করে খেয়াল করেননি। গ্রাফিক্স কার্ড দুটোর সব ফিচার এক হলেও একটির মেমরি টাইপ ডিডিআর৩ ও আরেকটির জিডিডিআর৫। মেমরি টাইপের পার্থক্যের কারণে গ্রাফিক্স কার্ডের ক্ষমতা কিছুটা বেশি, তাই তার দামও বেশি। গ্রাফিক্স কার্ড দুটির জন্যই ৪০০ ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাই প্রয়োজন, তবে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ৪৫০ ওয়াট বা ৫০০ ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট ব্যবহার করা উচিত। আপনার ক্যাসিংয়ের সাথে যে ৪৫০ ওয়াটের পিএসইউ দেয়া আছে তা যদি নন-ব্র্যান্ড হয়ে থাকে অর্থাৎ তা ক্যাসিংয়ের সাথেই দেয়া ছিল এবং ক্যাসিং সাধারণ মানের হয়ে থাকে তবে আপনার পিএসইউ বদল করতে হবে। কারণ এসব পিএসইউতে যত ওয়াট লেখা থাকে ততটুকু সাপ্লাই করতে পারে না। এজন্য নতুন পাওয়ার সাপ্লাই কিনে নিতে পারেন থার্মালটেক, এক্সএফএক্স, গিগাবাইট, আসুস, এ-ডাটা, ফরটেক্স, ডিলাক্স ইত্যাদি ব্র্যান্ড থেকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী বাছাই করে। দাম পড়বে ৪০০০-৫০০০ টাকার মতো।



সমস্যা : আমার মাদারবোর্ডের বক্সে লেখা এটি ডিডিআর২ র্যা ম সাপোর্ট করে। এতে আমি ২ গিগাবাইট ডিডিআর২ র্যা ম চালাচ্ছি। আমি এটিআই রাডেওন এইচডি ৫৬৭০ গ্রাফিক্স কার্ডটি কিনতে চাই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এ গ্রাফিক্স কার্ডের কনফিগারেশনে লেখা এটি ডিডিআর৩। এটি কি আমার মাদারবোর্ড সাপোর্ট করবে?

-রুপক, ধানমন্ডি



সমাধান :
ডিডিআর২ সাপোর্টেড বলতে তা র্যা/ম মেমরি টাইপ বুঝিয়েছে, তাই তাতে ডিডিআর৩ র্যা ম সাপোর্ট করবে না, কিন্তু গ্রাফিক্স কার্ডের মেমরি ভিন্ন, তার সাথে এটি গুলিয়ে ফেলবেন না। মাদারবোর্ড ডিডিআর৩ র্যা ম সাপোর্টেড না হলেও ডিডিআর৩ বা ডিডিআর৫ মেমরি টাইপের গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করা যায়। কিন্তু সব মাদারবোর্ডের ক্ষেত্রে তা করা যাবে না। আপনার পুরো পিসির কনফিগারেশন বা শুধু মাদারবোর্ডের মডেলের নাম লিখে দিলে আরো সুবিধা হতো। তাহলে সঠিক করে বলা যেত গ্রাফিক্স কার্ডটি আপনার মাদারবোর্ড সাপোর্ট করবে কিনা। গ্রাফিক্স কার্ড কেনার আগে বিক্রেতার কাছে আপনার মাদারবোর্ডের মডেল বলে তারপর তাতে নতুন গ্রাফিক্স কার্ড সাপোর্ট করবে কিনা জেনে নিন।



সমস্যা : আমার মুভি কালেকশন করার শখ। মুভি আর্কাইভ করার জন্য বেশি ধারণক্ষমতার হার্ডডিস্ক কিনতে চাই। কিন্তু পোর্টেবল হার্ডডিস্কের দাম অনেক বেশি। ইন্টারনাল হার্ডডিস্কের দাম তুলনামূলক কম। সাটা পোর্টের হার্ডডিস্কগুলোকে কি পোর্টেবল হার্ডডিস্কের মতো ব্যবহার করার কোনো উপায় রয়েছে? যদি এমনটি করা সম্ভব হয় তবে সে পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন।

-ইলিয়াস, মোহাম্মদপুর



সমাধান :
মুভি কালেকশন করার জন্য কম খরচে পোর্টেবল হার্ডডিস্কের পরিবর্তে ইন্টারনাল হার্ডডিস্ক ব্যবহার করতে পারবেন। এজন্য আপনার প্রয়োজন হবে পোর্টেবল হার্ডডিস্ক ক্যাসিং, যার দাম ৪৫০ টাকার মতো। এটি ব্যবহার করে অর্থাৎ ইন্টারনাল হার্ডডিস্কটি এ ক্যাসিংয়ের ভেতরে স্থাপন করে তা পোর্টেবল হার্ডডিস্কের মতো ব্যবহার করা সম্ভব। ক্যাসিংয়ের সাথে ইউএসবি ক্যাবল দেয়া আছে, তাই চিন্তার কোনো কারণ নেই। ডিভাইসটি টেকসই হবে ঠিকই, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তার ডাটা ট্রান্সফার স্পিড কিছুটা কম হবে। কারণ সাটা টু ইউএসবি কনভার্টারের সাহায্যে চালানোতে ডাটা ট্রান্সফার স্পিডে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটতে পারে।



সমস্যা : আমার পুরনো মাদারবোর্ড নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন মাদারবোর্ড কিনতে চাচ্ছি। নতুন মাদারবোর্ডগুলোর বেশিরভাগই ডিডিআর৩ সাপোর্টেড। ডিডিআর৩ র্যা ম কেনার ইচ্ছে আপাতত নেই, তাই আমি কি এতে আগের ডিডিআর২ র্যা ম চালাতে পারব?

-জুবায়ের আলী, শ্যামলী



সমাধান :
মাদারবোর্ডের ডিডিআর২ ও ডিডিআর৩ র্যা ম স্লটের মাঝে গঠনের পার্থক্য রয়েছে। তাই ডিডিআর৩ স্লটে ডিডিআর২ র্যা ম লাগানো যাবে না। নতুন র্যা3ম কেনার ইচ্ছে না থাকলে এমন মাদারবোর্ড কিনতে পারেন যাতে ডিডিআর২ ও ডিডিআর৩ উভয় রকমের র্যা3ম স্লট রয়েছে। আপাতত এ ধরনের মাদারবোর্ডে ডিডিআর২ দিয়েই কাজ করুন, পরে সময়মতো ডিডিআর৩ কিনে তা লাগিয়ে পারফরমেন্স বাড়াতে পারবেন। একটু খোঁজ করলেই এ ধরনের মাদারবোর্ড পেয়ে যাবেন।

সমস্যা : আমি সাভারে থাকি। আমাদের এখানে গ্রামীণফোন ও সিটিসেল জুমের ইন্টারনেটের সিগন্যাল ভালোই। কিন্তু একেকজন একেক কথা বলছে। কেউ বলছে গ্রামীণফোন ভালো স্পিড দিচ্ছে, আবার কেউ বলছে সিটিসেল। আবার কেউ কেউ বলছে মোবি ডাটা এডজ মডেম কিনতে। আমি বেশ দ্বিধার মধ্যে পড়ে গেছি। কোনটা কিনব বুঝতে পারছি না। মোবি ডাটা এডজ মডেমের ব্যাপারে আমার তেমন একটা ধারণা নেই, তাই এটি সম্পর্কে জানালে ভালো হয় এবং কোন মডেম ব্যবহার করব সে ব্যাপারে পরামর্শ দিলে খুশি হব।

-ফারজানা আক্তার, সাভার



সমাধান :
এডজ মডেমের ক্ষেত্রে সঠিক ব্রাউজিং ও ডাউনলোড স্পিড বলা মুশকিল। কারণ সবসময় একই রকম স্পিড পাওয়া যায় না এবং স্থানভেদে বেশ তারতম্য ঘটে। সাভারের দিকে গ্রামীণফোন ও সিটিসেলের পারফরমেন্স ভালো। নির্দিষ্ট টেলিকম কোম্পানির মডেমে শুধু তাদের সিম ব্যবহার করেই ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু মোবি ডাটা এডজ মডেমে জিএসএম প্রযুক্তির যেকোনো সিমকার্ড ব্যবহার করার সুবিধা রয়েছে। মোবি ডাটা এডজ মডেমের দাম ৩০০০-৩২০০ টাকার মতো। সবচেয়ে ভালো হয় কারো কাছ থেকে একদিনের জন্য মডেম ধার নিয়ে আপনার বাসার কমপিউটারে তা কেমন স্পিড পায় তা যাচাই করে দেখা। এরপর সিদ্ধান্ত নিন কোনটি কিনবেন।



সমস্যা : এলসিডি মনিটর কিনতে চাই। বাজার ঘুরে দুটি মডেল পছন্দ হয়েছে। একটি হচ্ছে Asus MS228, আরেকটি হচ্ছে Viewsonic VX2250WM। কোনটি বেশি ভালো? কোনটি কেনা উচিত তা জানাবেন কি?

-শিশির, গাজীপুর



সমাধান :
দুটো মনিটরের সব ফিচারই একই। দুটিই ফুল এইচডি ও হাই কন্ট্রাস্ট রেশিও, এলইডি প্যানেল ব্যাকলিট। শুধু একটি ক্ষেত্রে Asus MS228 এগিয়ে আছে, তা হচ্ছে রেসপন্স টাইম। Asus MS228-এর রেসপন্স টাইম ২ মিলিসেকেন্ড এবং Viewsonic VX2250WM-এর রেসপন্স টাইম ৫ মিলিসেকেন্ড। এ দিকটা বিবেচনা করলে আপনি Asus MS228 কিনতে পারেন। কারণ গেম খেলার সময় বা অ্যাকশন মুভি দেখার সময় ঘোস্টিং ইফেক্ট এড়াতে রেসপন্স টাইম যত কম হয় তত ভালো। তবে ৫ মিলিসেকেন্ডেও তেমন একটা সমস্যা হবে বলে মনে হয় না। আসুসের মনিটরটির রিং স্ট্যান্ডটি ব্যতিক্রম, তাই তা যাচাই করে দেখুন আপনার কাজে কোনো সমস্যা হবে কিনা?



সমস্যা : আমার মনিটর Samsung B2030। আমি জানতে চাই এতে কি থ্রিডি মুভি দেখা সম্ভব? থ্রিডি মুভি দেখার জন্য কি কি লাগে? থ্রিডি মুভি দেখার জন্য কি হাই-এন্ড গ্রাফিক্স কার্ড কিনতে হবে? থ্রিডি চশমা কি বাজারে পাওয়া যায়?

-আমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম



সমাধান :
থ্রিডি মুভি দেখার জন্য ফুল এইচডি বা হাই ডেফিনেশন মনিটর প্রয়োজন, যা ১৯২০ বাই ১০৮০ রেজ্যুলেশন সাপোর্ট করে। তা না হলে থ্রিডির পূর্ণ স্বাদ উপভোগ করা যাবে না। থ্রিডি মুভি দেখার জন্য ফুল এইচডি মনিটরের পাশাপাশি প্রয়োজন হবে থ্রিডি ফরমেটের মুভি ও থ্রিডি গ্লাস। কোনো বিশেষ বা হাই-এন্ড গ্রাফিক্স কার্ডের প্রয়োজন পড়বে না থ্রিডি মুভি দেখার ক্ষেত্রে। এক পাশে লাল ও অপর পাশে নীল বা ম্যাজেন্টা ও সায়ান কালারের গ্লাসযুক্ত চশমা দিয়ে থ্রিডি মুভি দেখা যায়। নিজেই লাল ও নীল রঙের গ্লাস বা স্বচ্ছ প্লাস্টিক কেটে চশমার ফ্রেমে লাগিয়ে থ্রিডি চশমা বানিয়ে নিতে পারেন বা বাজার থেকে তা কিনতে পারেন। বাজারে এর দাম রাখা হছে ৫০০-৬০০ টাকা। বাজারে নতুন আসার কারণে দামটা একটু বেশি, তবে তা সহজলভ্য হলে দাম কমে যাবে কয়েক মাসের মধ্যেই। থ্রিডি ফরমেটের মুভি না পেলে পাওয়ার ডিভিডি ১১ আল্ট্রা থ্রিডিই প্লেয়ারটি ব্যবহার করতে পারেন। এতে সাধারণ মুভি থ্রিডি ফরমেটে এনকোড বা কনভার্ট করার সুবিধা রয়েছে।



সমস্যা : এলসিডি মনিটর কেনার সময় কন্ট্রাস্ট রেশিওর মান নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়েছিলাম। কমপিউটার জগতের ঝুটঝামেলা বিভাগ থেকে জানতে পেড়েছি টাইপিক্যাল ও ডাইনামিক কন্ট্রাস্ট রেশিও সম্পর্কে। এরপর থেকে এটি সম্পর্কে ভুল ধারণা ভেঙে গেছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে মনিটর কেনার সময় কোনটি দেখে কিনব- ডাইনামিক না টাইপিক্যাল?

-সাখাওয়াত হোসেন, তেজগাঁও



সমাধান :
এলসিডি মনিটরে স্বাভাবিক যে কন্ট্রাস্ট রেশিও থাকে, তা টাইপিক্যাল কন্ট্রাস্ট রেশিও বা টিসিআর এবং এর পরিমাণ বাড়তে বাড়তে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ হতে পারে তা হলো ডাইনামিক কন্ট্রাস্ট রেশিও বা ডিসিআর। দুটিরই গুরুত্ব আছে, তাই মনিটর কেনার আগে দুটোই দেখা প্রয়োজন। কিন্তু কিছু মনিটর টিসিআরের তথ্য প্রকাশ করে, আবার কোনটির ক্ষেত্রে ডিসিআরের তথ্য প্রকাশ করে। তাই কেনার আগে বিক্রেতার কাছ থেকে জেনে নিন তার ডিসিআর ও টিসিআর কত।



সমস্যা : ল্যাপটপে কুলার ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? কুলার ব্যবহার না করলে কি ল্যাপটপ নষ্ট হয়ে যায়, একথাটি কি সত্যি?

-ফাহিম



সমাধান :
ল্যাপটপ কুলার ব্যবহার না করলে ল্যাপটপ নষ্ট হয়ে যায় কথাটি পুরোপুরি সত্য নয়। ল্যাপটপকে অত্যধিক গরম
হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে ল্যাপটপ কুলার। আপনার ল্যাপটপ যদি বেশি গরম হয়ে যায় তবে ল্যাপটপ কুলার ব্যবহার করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। অত্যধিক গরমে ল্যাপটপের যন্ত্রাংশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই কুলার ব্যবহার করাটা ভালো। কুলার যে ব্যবহার করতেই হবে এমন কোনো বাধা ধরা নিয়ম নেই। শীতকালে তেমন একটা প্রয়োজন নেই, তবে গরমকালের কথা চিন্তা করে কুলার কিনে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ। সহজ কথায় কুলার ল্যাপটপের বাড়তি সুরক্ষার কাজ করবে।


কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : jhutjhamela@comjagat.com

পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস