Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > ২০১১ সালের আলোচিত ২০ গেম
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: সৈয়দ হাসান মাহমুদ
মোট লেখা:১৪৪
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১২ - ফেব্রুয়ারী
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
গেম
তথ্যসূত্র:
গেমের জগৎ
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
২০১১ সালের আলোচিত ২০ গেম
নতুন বছরের এখনো তেমন কোনো গেম বাজারে আসেনি, যা নিয়ে গেমার মহল ব্যস্ত থাকবে। কিন্তু ২০১১ সালে বের হয়েছিল অনেকগুলো সাড়া জাগানো গেম। অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চার, স্ট্র্যাটেজি, রোল প্লেয়িং, রেসিং, সিমুলেশন, শুটিং, স্পোর্টিং, ফাইটিং ইত্যাদি অনেক ধরনের গেম বের হয়েছে গত বছর। নতুন কোনো গেম বের হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরনো গেমগুলোর মধ্যে কোনটি খেলা বাদ পড়েছে তা দেখার জন্য গেমারদের জন্য গত বছরের আলোচিত কিছু গেমের কথা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

ক্রিড-ব্রাদারহুড



এসাসিনস ক্রিডের মূল নায়ক ডেসমন্ড মাইলস নামের এক বারটেন্ডার, যে কি না বহু পুরনো আততায়ী গোষ্ঠীর ৭২তম বংশধর, যার ধারা শুরু হয়েছিল অলতেয়ার ও মারিয়ার মাধ্যমে। তার জিনে রয়েছে সেই আততায়ীদের বহু অজানা ইতিহাস। রহস্যময় আর্টিফ্যাক্ট পিস অব ইডেন ধারণ করে আছে অকল্পনীয় শক্তি, যার লোভে সেই পুরনো যুগ থেকে এখন পর্যন্ত টেম্পলাররা তা খুঁজে বেড়াচ্ছে। এসাসিন বা আততায়ী গোষ্ঠী যুগ যুগ ধরে পিস অব ইডেনকে সুরক্ষিত রেখেছে। ডেসমন্ডের স্মৃতির আড়ালে লুকিয়ে আছে পিস অব ইডেনের সন্ধান, তাই তাকে অত্যাধুনিক এনিমাস নামের এক মেশিনে রেখে তার জিন থেকে পুরনো কাহিনীগুলো ঘেঁটে দেখে পিস অব ইডেনের সন্ধান চায় টেম্পলাররা। প্রথম গেমে ডেসমন্ড এনিমাস মেশিনের সাহায্যে ক্রুসেডের সময়কালে জেরুজালেম, আক্রে ও দামাস্কাসে বিচরণ করে বেড়ায় তার পূর্বপুরুষ অলতেয়ার ইবনে লা-আহাদের বেশে। দ্বিতীয় পর্বে সে বিচরণ করে তার আরেক পূর্বপূরুষ ইজিও অদিতোরে দা ফিরেঞ্জের বেশে রেনেসাঁ যুগের ইউরোপে। দ্বিতীয় গেমের কাহিনীর ধারাবাহিকতায় গেমের সমাপ্তি টানা হবে নতুন গেম ব্রাদারহুডে। এসাসিন ক্রিড রেভল্যুশন নামের নতুন গেমে তুলে ধরা হয়েছে পুরো গেম সিরিজের মূল কাহিনী। গেম সিরিজটি অন্যান্য গেমের তুলনায় বেশ ব্যতিক্রমী, তাই যারা এ সিরিজের গেম খেলে দেখেননি তারা প্রথম গেমটি থেকে খেলা শুরু করে দেখতে পারেন।

....................................................................................................................................................................................................................................

ক্রাইসিস ২



ফার্স্ট পারসন শুটিং গেমভক্তদের মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয় গেমের তালিকাগুলোর একটি যে ক্রাইসিস, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একঘেয়ে যুদ্ধভিত্তিক গেমগুলোর মাঝে নতুনত্ব যোগ করে গেমের রোমাঞ্চ এবং উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছিল এ সিরিজের প্রথম গেম। ব্যাপক সাফল্যের কারণ ছিল গেমের মূল ফিচার ন্যানো স্যুট, যা প্লেয়ারকে কিছু অস্বাভাবিক ক্ষমতা দিয়ে গেম খেলার স্বাদ আরো বাড়িয়ে তুলেছিল। গেমের জগতে এ গেম তুলকালাম ঘটানোয় গেমারদের চাহিদা মেটানোর জন্য বের হয়েছিল ক্রাইসিস ওয়ারহেড নামের এক্সপানশন। গেমটির প্রথম গেমের সিক্যুয়াল হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছে ক্রাইসিস ২ গেমটি। গেমের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে গেমটি ক্রাইটেকের নতুন গেম ইঞ্জিন ক্রাইইঞ্জিন ৩-এ বানানো প্রথম গেম। গেমের পটভূমি সাজিয়ে তোলা হয়েছে নিউইয়র্ক সিটিতে। শহরে ভিনগ্রহবাসীদের আক্রমণ ঠেকাতে হবে এবং মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষা করতে হবে। ন্যানো স্যুট আরো উন্নত এবং গেমের পরিবেশ আরো আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। ফার্স্ট পারসন মোডে গেমটি খেলার সময় থার্ড পারসন মোডে খেলার সময় যেসব সুবিধা পাওয়া যায় তার অনেকটাই পুরো করে দেয়া হয়েছে। গেমের প্রধান চরিত্রে রয়েছে অরিজিনাল ক্রাইসিস গেমের জেক ডান এবং তার সঙ্গীরাও রয়েছে গেমে। যারা এখনো খেলে দেখেননি এ শ্বাসরুদ্ধকর গেমটি, তারা গেমটি সংগ্রহ করে আজই যাত্রা শুরু করে দিন রোমাঞ্চকর অভিযানে।

....................................................................................................................................................................................................................................

ড্রাগন এজ ২



ছোটবেলায় দাদা-দাদির কোলে শুয়ে আমরা অনেকেই শুনেছি ভূত-প্রেত, রাক্ষস-খোক্ষস, দৈত্য-দানো, জাদুকর-ডাইনি, পিশাচ-নরখাদক ইত্যাদি আরও কত কিছুর কাহিনী। কাহিনী শুনতে শুনতে কেউ ভয়ে জড়োসড়ো, আবার কেউ ঘুমের অতলে তলিয়ে গেছি। সেই কল্পকাহিনী এখন আর দাদা-দাদির মুখের বুলি বা ঠাকুরমার ঝুলির ভেতরে নেই, প্রযুক্তির কল্যাণে তা উঠে এসেছে চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে মনিটরের স্ক্রিনে। কাল্পনিক কাহিনী বা ফ্যান্টাসিনির্ভর এ গেমগুলো মনে করিয়ে দেয় ছোটবেলায় শোনা নানা গল্পের কথা। ফ্যান্টাসিনির্ভর গেমগুলোর মাঝে ড্রাগন এজ সিরিজের গেম বেশ ভালোই নাম করেছে। সিরিজের দ্বিতীয় গেমটিতে প্রথম পর্বের মিথিক্যাল বা কাল্পনিক জগৎটিই রাখা হয়েছে। গেমে প্লেয়ারকে কন্ট্রোল করতে হবে হাউকে নামের চরিত্রকে। গেমে ওয়ারিওর, মেজ ও রৌগ নামের তিনটি ক্লাস রয়েছে। পৈশাচিক শক্তির হাতে নিজ শহর ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পরিবারসহ হাউকে রিফুজি হিসেবে যাত্রা করবে সিটি অব ক্রিকওয়ালের উদ্দেশে। পরে সে ভাগ্যের সূত্রের গতিপথ বদলে রাজনৈতিক ও সামাজিক বাধা ঠেলে হয়ে উঠবে লিজেন্ডারি চ্যাম্পিয়ন। গেমে তার সহযোগী হিসেবে থাকবে ভেরিক ও কাসান্ড্রা। গেমটি নন-লিনিয়ার ধাঁচের। এতে গেমের কাহিনীর নির্দিষ্ট ধারা বজায় রাখা হয়নি, তাই বদলে নেয়া যাবে গেমারের মর্জিমতো। তাই গেমটি সবার কাছে বেশ ভালো লাগবে। যারা রোল প্লেয়িং গেম পছন্দ করেন না তারাও গেমটি পছন্দ করবেন।

....................................................................................................................................................................................................................................

ডার্কসাইডারস



ডার্কসাইডারস গেমটির সাবটাইটেল হচ্ছে রেথ অব ওয়ার। এটি একটি দুর্ধর্ষ অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার গেম। অ্যাঞ্জেল ও ডিমনডের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এক পৌরাণিক কাহিনীর আধাঁরে গেমের পটভূমি সাজানো হয়েছে। যারা গড অব ওয়ার গেমটি খেলেছেন তারা আবার প্রস্ত্তত হয়ে নিন আরেকটি অসামান্য অ্যাডভেঞ্চারের জন্য। যাদের গেমিং কনসোল নেই এবং গড অব ওয়ারের মতো অসাধারণ অ্যাকশন গেম খেলা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তাদের আশা মেটানোর জন্য এ গেমটি শতভাগ কাজ করবে, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। ক্রিশ্চিয়ান বাইবেলের বুক অব রেভল্যুশনে বর্ণিত স্বর্গ ও নরকের বাহিনীর মধ্যে চূড়ান্ত লড়াইয়ের কাহিনী নিয়ে বানানো হয়েছে গেমের কাহিনী। গেমটিতে গেমারকে খেলতে হবে ওয়ার নামের এক গার্ডিয়ানের চরিত্রে, যে কি না ফোর হর্সম্যান অব দ্য অ্যাপোক্যালিপসের এক ঘোড়সওয়ার। ওয়ারকে নিয়ে দেবতা ও দানব দুই পক্ষের সাথেই ঘোরতর লড়াইয়ে লিপ্ত হতে হবে। গেমে কিছু স্থানে সে তার ভৌতিক আগুনে লাল ঘোড়া রুইনকে লড়াইয়ের কাজে ব্যবহার করতে পারবে। থার্ড পারসনভিত্তিক এ গেমের ফাইটিং স্টাইল, ওয়েপন পাওয়ার, মুভমেন্ট, কম্বো স্ট্রাইক, ক্যারেক্টার ভয়েস, সাউন্ড ইফেক্ট অন্যান্য গেমের চেয়ে অনেক আলাদা এবং বেশ অভিনব। গেমটির গ্রাফিক্স বেশ প্রাণবন্ত ও নজরকাড়া। গেমটির কাহিনী একটু জটিল হলেও গেমটি খেলতে বেশ মজা লাগবে, কারণ এরকম অ্যাকশন ধাঁচের গেম খুব কমই আছে বাজারে।

....................................................................................................................................................................................................................................

ডেড স্পেস ২



গা ছমছমে অন্ধকার ঝড়ের রাত। আপনি একা দুরুদুরু বুকে করিডোর ধরে এগিয়ে চলেছেন। থেকে থেকে চমকে উঠছেন আচমকা বিজলীর চমকানি ও বজ্রপাতের শব্দে। হঠাৎ চারদিক থেকে ভেসে আসে পৈশাচিক গোঙ্গানির মতো শব্দ, যেনো কেউ আপনাকে ডাকছে। পিলে চমকে দিয়ে অন্ধকার থেকে সামনে এসে দাঁড়ালো রক্তমাখা, শুকনো শরীরের, ভূতুড়ে চেহারার এক পিশাচ। সে ক্রমেই সামনে আসছে তার ধারালো দাঁত কিড়মিড় ও তীক্ষ্ণ নখ দিয়ে থাবা দেয়ার ভঙ্গিতে। এখন আপনি কী করবেন, ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যাবেন, পেছনে ঘুরে দৌড় দেবেন, নাকি রুখে দাঁড়াবেন পিশাচের মোকাবেলা করার জন্য? ডেড স্পেস ২ গেমটি খেলার সময় এমন অবস্থার সম্মুখীন হবেন অনেকবার। পালিয়ে বাঁচা নয়, পিশাচদের মেরে নিজেকে টিকে থাকতে হবে। গেমের পটভূমি চাঁদের উপগ্রহ টাইটানকে ঘিরে। গেমারকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে আইজ্যাক ক্লার্ক নামের চরিত্র। ভিনগ্রহ থেকে আগত কিছু পরজীবী ক্লার্কের বন্ধু ফ্রাঙ্কোর শরীরে আক্রমণ করে তাকে পরিণত করবে নেক্রোমরফে এবং পরজীবী প্রাণী নিয়ন্ত্রণ করবে তার দেহ। ধীরে ধীরে অন্যান্য মানব শরীরে মিউটেশন ঘটিয়ে তারা দিন দিন তাদের স্বত্তাকে আরো গ্রাস করতে থাকবে। গেমে আইজ্যাককে পরজীবীদের হাত থেকে বেঁচে থাকতে হবে, তা না হলে সেও যোগ দেবে নেক্রোমরফদের দলে। গেমের পাঁচটি আলাদা ডিফিকাল্টি লেভেলের কারণে গেমের স্বাদ বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই হরর সারভাইভাল গেমভক্তরা গেমটি না খেলে থাকলে দারুণ একটি গেম মিস করবেন।

....................................................................................................................................................................................................................................

বুলেটস্টর্ম



সায়েন্স ফিকশনভিত্তিক এ অ্যাকশন গেমটির পটভূমি রচিত হয়েছে ২৬ শতককে ঘিরে। গেমে কনফেডারেশন অব প্লানেটসকে রক্ষার দায়িত্ব পালন করে একটি গোপন ব্ল্যাক-অপস আর্মি, যার নাম ডেড ইকো। গেমের মূল নায়ক হচ্ছে স্পেস পাইরেট বা মাহাকাশের দস্যু গ্রেসন হান্ট এবং তার সাথে তার পার্টনার সাইবোর্গ (আধাযন্ত্র ও আধামানব) ইশি সাতো। ডেড ইকোর কমান্ডিং অফিসার জেনারেল সেরানোর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে গ্রেসন ও সাতো ডেড ইকো থেকে বহিষ্কৃত হয়। ১০ বছর পর নিজেদের দল ভারি করে ও শক্তি সঞ্চয় করে তারা দুইজন ফিরে আসে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য। মহাকাশে যুদ্ধ করার সময় হান্ট ও জেনারেলের শিপ স্টাইজিয়া নামের এক গ্রহে ক্রাশ ল্যান্ডিং করবে এবং সেখানেই তাদের মাঝে শুরু হবে ঘোরতর লড়াই। জেনারেলের সৈন্যবাহিনীর পাশাপাশি হান্টদের মোকাবেলা করতে হবে গ্রহের মানুষখেকো গাছ, জিনগতভাবে পরিবর্তিত আদিবাসী সন্ত্রাসী ও গডজিলার মতো বড় আকারের কিছু দানবের সাথে। গোলাগুলির পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে ঠেলে দেয়া যাবে নরমাংসভোজী গাছের দিকে, লাথি ও ঘুষি মেরেও পরাস্ত করা যাবে এবং সেই সাথে নানারকম ফাঁদ পেতে শত্রুর ভবলীলা সাঙ্গ করার ব্যাপারটি বেশ মজার ও নতুন এক সংযোজন। গেমে প্লেয়ারের হাতে থাকা এনার্জি ল্যাশ বা চাবুকের মতো অস্ত্র বেশ আনকোরা ও মোক্ষম হাতিয়ার। অ্যাকশনপ্রিয় গেমারদের কাছে গেমটি বেশ উপভোগ্য হবে।

....................................................................................................................................................................................................................................

পোর্টাল ২



নতুন ধরনের গেমপ্লে এবং অধিকতর বাস্তবসম্মত মুভমেন্টের কারণে গেমটি অনেক ফার্স্ট পারসন শুটার গেমভক্তদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। গেমটি ডেভেলপ করেছে জনপ্রিয় হাফ লাইফ ও কাউন্টার স্ট্রাইক গেম সিরিজের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভাল্ব করপোরেশন। পোর্টাল গেমটি একটি সায়েন্স ফিকশন ধাঁচের ফার্স্ট পারসন শুটিং এবং পাজল গেম। গেমে জেনেটিক লাইফ ফর্ম অ্যান্ড ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম বা সংক্ষেপে গ্লাডস নামের এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কমপিউটারের বিরুদ্ধে এবং মানবজাতির সভ্যতা রক্ষা করার লড়াইয়ে চেল নামের এক মানব চরিত্রে গেমারকে গেমে আবির্ভূত করা হবে। গেমারকে পোর্টাল গান নিয়ে খেলতে হবে। পোর্টাল গান ছাড়াও নতুন এ গেমে যুক্ত হয়েছে আরো কিছু অস্ত্র। এগুলো হচ্ছে- ট্র্যাক্টর বিম, লেজার রিডাইরেকশন, পেইন্ট-জেল ইত্যাদি। নানারকমের পোর্টালের ভেতর দিয়ে এক প্লাটফর্ম থেকে আরেক প্লাটফর্মে যাতায়াত করতে হবে এবং সেই সাথে সমাধান করতে হবে বিভিন্ন ধরনের পাজল। সিঙ্গেল প্লেয়ার ক্যাম্পেইন বা কো-অপারেটিভ মোডে চেল বা দুটি রোবটের যেকোনো একটিকে নিয়ে খেলতে হবে। রোবট দুটির নাম হচ্ছে অ্যাটলাস ও পি-বডি। গেমটিতে লড়াইয়ের চেয়ে বেশি বুদ্ধি খাটানোর কাজ করতে হবে। কোন পথে এবং কিভাবে গেলে সবচেয়ে সহজে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়, তাই গেমের মূল প্রতিপাদ্য। যারা এখনো এ সিরিজের গেম খেলেননি তারা অবশ্যই খেলে দেখুন, কারণ ভাল্ব করপোরেশনের বানানো গেমগুলো অন্যান্য গেমের চেয়ে আলাদা।

....................................................................................................................................................................................................................................

শিফট ২ আনলিশড



এনএফএস সিরিজের ১৫তম গেমটি ছিল শিফট এবং সেই গেমটির ধারাবাহিকতা ও গেমপ্লের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আরো উন্নত করে বানান হয়েছে শিফট ২। হট পারসুইট গেমটি বানানো হয়েছিল এ সিরিজের ষষ্ঠ গেমের সাথে মিল রেখে। যাতে রেসার এবং পুলিশ হিসেবে খেলার সুযোগ ছিল এবং রেস খেলার স্থান ট্র্যাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। কিন্তু শিফট গেমটি ট্র্যাক রেসিংভিত্তিক, যার সাথে এ সিরিজের প্রোস্ট্রিট গেমটির মিল আছে। শিফট গেমটিতে নতুন কিছু রেসিং স্টাইল এবং বাস্তবসম্মত গ্রাফিক্স ও গেমপ্লে বেশ নাম কামিয়েছিল। কোডমাস্টারের বানানো ডার্ট ও রেস ড্রাইভার গ্রিডকে টেক্কা দেয়ার মতো গেম হিসেবে শিফটের আবির্ভাব ঘটেছিল। গেমটির সাফল্যই গেমটির দ্বিতীয় পর্ব বের করার প্রেরণা জোগায় গেম নির্মাতাদের। গেমটি সিঙ্গেল প্লেয়ার মোডের পাশাপাশি একসাথে ১২ জন অনলাইনে খেলার সুযোগ রয়েছে। সহজ কন্ট্রোলিংয়ের পরিবর্তে গেমে দেয়া হয়েছে রিয়েল টাইম ড্রাইভিং কন্ট্রোলিং, যা নতুন গেমারদের কাছে বেশ কষ্টের মনে হতে পারে। তবে যারা প্রফেশনাল গেমার বা দক্ষ গেমার তাদের জন্য গেমটি অসাধারণ। অনলাইনে গেমটি খেলার সময় রেসিং গেমার হিসেবে নিজের যোগ্যতা ও অবস্থান যাচাই করার সুযোগ রয়েছে। গেমে ৩৬টি আলাদা রেসিং ট্র্যাক এবং ৩৭টি কার ম্যানুফ্যাকচারারের প্রায় ১৪৫টি গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। মাথায় হেলমেট লাগিয়ে ও কষে সিট বেল্ট বেঁধে নেমে পড়ুন চার চাকার বাহনের যুদ্ধে।

....................................................................................................................................................................................................................................

ডেওস ইএক্স



ডেওস ইএক্স হিউম্যান রেভল্যুশন গেমের প্রধান চরিত্র হচ্ছে ৩৪ বছর বয়সের লম্বা ও সুঠামদেহী এক্স সোয়াট টিম মেম্বার অ্যাডাম জেনসেন। শত্রুপক্ষের আক্রমণে জেনসেন মারাত্মকভাবে আহত হবে। তার বাঁচা-মরা নিয়ে প্রশ্ন জাগবে ডাক্তারদের মনে। তখন তারা ঠিক করে তাকে মেকানিক্যাল বডি পার্টস যুক্ত করে নতুন জীবনদান করবে। বায়োনিকম্যান হিসেবে তাকে গড়ে তোলা হবে। পূর্বের দক্ষতার পাশাপাশি বায়ো-মেকানিক্যাল টেকনোলজির ফলে সে হয়ে উঠবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ফার্স্ট পারসন শুটিং গেমের পাশাপাশি গেমটিতে সন্নিবেশিত হয়েছে অসাধারণ এক অ্যাকশন গেম ও রোল প্লেয়িং গেমের ধাঁচ। কমব্যাট, স্টিলথ, হ্যাকিং ও সোশ্যাল-এ চার ধরনের কাজ করতে হবে গেমারকে। নানা রকমের অস্ত্রের সাহায্যে মোকাবেলা করতে হবে শত্রুর, গোপনে শত্রুর চোখ ফাঁকি দিয়ে হানা দিতে হবে শত্রুশিবিরে, চলতি পথে বাধা পার করতে পাসওয়ার্ড হ্যাক ও তালা খোলার কাজ করতে হবে এবং বিভিন্ন ধরনের লোকের সাথে মেলামেশা করে তাদের সাথে সম্পর্কে জেনে তাদের নিজের মিশনের কাজে ব্যবহার করতে হবে। গেমের শুরুর দিকে গেমটি সাদামাটা মনে হলেও পরের দিকে গেমটি বেশ দুর্ধর্ষ হয়ে উঠবে। উত্তেজনায় গেমারের ঘাড়ের রোম খাড়া করে দেয়ার মতো একটি গেম এ ডেওস ইএক্স। গেমের গ্রাফিক্স ও সাউন্ড সিস্টেমের মান ভালোই বলা চলে।

....................................................................................................................................................................................................................................

ডার্ট ৩



ইলেকট্রনিক আর্টসের নিড ফর স্পিডের সাথে টেক্কা দেয়ার জন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠান মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে, যার নাম কোডমাস্টারস। কোডমাস্টারের ডেভেলপ করা গেমগুলোতে রয়েছে প্রাণবন্ততা ও বাস্তবধর্মী গেমপ্লে, যা অন্যান্য গেমে খুব কমই দেখা যায়। তবে এনএফএস সিরিজের নতুন গেমগুলোর মধ্যে এখন দেখা যাচ্ছে এ ধরনের গেমপ্লে। কলিন ম্যাকরে ডার্ট সিরিজের তৃতীয় সংযোজন হিসেবে যোগ হয়েছে ডার্ট ৩। রিয়ালিটি বেইজড রেসিং গেমগুলো বানানো হয় প্রফেশনাল রেসিং গেমারদের জন্য, তাই তাতে গেম কন্ট্রোলিং কিছুটা কঠিন হয়ে থাকে। রেসিং গেমের জগতে যারা নতুন তাদের কাছে এ ধরনের গেমগুলো একটু কঠিন মনে হতে পারে। তবে তারা যাতে এ গেমগুলো খেলতে পারে সেজন্য কিছু বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয় এ ধরনের গেমগুলোতে। গাড়ি চালনা সহজ করার লক্ষ্যে অটোমেটিক ড্রাইভিং অ্যাসিস্ট্যান্ট যোগ করা হয়েছে এ গেমে। যাতে নতুন গেমারের পক্ষে গেমটি খেলা সহজ হয়ে উঠবে। গেমে প্রায় ৫০টির মতো র্যা লি কার ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু একটি নির্দিষ্ট জায়গাকে কেন্দ্র করে নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নামকরা সব রেসিং ট্র্যাকে অংশগ্রহণ করতে হবে গেমারকে। গেমারের রেপুটেশন অনুযায়ী সে বিভিন্ন কোম্পানির স্পন্সর পাবে এবং সাথে নতুন গাড়ি। রেস খেলার মাধ্যমে প্রফেশনাল রেসিং ড্রাইভারদের মধ্যে শীর্ষের দিকে নিজের স্থান দখল করে নিতে হবে।

....................................................................................................................................................................................................................................

দ্য উইচার ২



গেমে গেমারকে কন্ট্রোল করতে হবে জেরাল্ট অব রিভিয়া নামের এক উইচারকে। সে সীমিত সংখ্যক উইচারের মধ্যে একজন। উইচাররা মানুষ, তবে তাদের ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন কঠিন ট্রেনিং ও জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে অনেক শক্তিশালী ও মজবুত করে গড়ে তোলা হয়, যাতে তারা দৈত্য-দানবের মোকাবেলা করতে পারে। বিভিন্ন যুদ্ধে রাজারা উইচারদের ভাড়া করে নিয়ে যায় তাদের পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করার জন্য। ব্যাপারটা অনেকটা আধুনিক যুগের ভাড়াটে যোদ্ধা বা মার্সেনারির মতো। গেমে জেরাল্টকে টেমেরিয়ার রাজা ফোল্টেস্টকে খুনের দায়ে বন্দিশালায় বন্দি করা হবে। জেরাল্টের বন্দিদশায় টেমেরিয়ানের স্পেশাল ফোর্স ব্লু স্ট্রাইপসের কমান্ডার রোচে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আসে। জেরাল্টের কথায় সে জানতে পারে জেরাল্ট প্রকৃত খুনি নয়, খুনি ছদ্মবেশী এক কানা সন্ন্যাসী। সে খুন করে পালিয়ে যায় এবং ষড়যন্ত্রের শিকার হয় জেরাল্ট। জেরাল্টের কথায় রোচে বিশ্বাস করে এবং তাকে জেলখানা থেকে পালানোর সুযোগ করে দেয় যাতে প্রকৃত খুনি ধরা পড়ে। তারপর দুজনে মিলে যাত্রা করে রাজার আসল খুনিকে পাকড়াও করার অভিযানে। গেমটির কাহিনী, গেমপ্লে, অ্যাডভেঞ্চার, অ্যাকশন ও পাজল বেশ উন্নতমানের এবং রোমহর্ষক। জেরাল্টকে মুখোমুখি হতে হবে বিভিন্ন ধরনের শত্রুপক্ষের এবং চালতে হবে কুটিল চাল। গেমটি অনেকভাবে খেলার সুযোগ রয়েছে, তাই গেমটির সমাপ্তি টানা যাবে বিভিন্নভাবে। গেমটি বারবার খেলা যাবে নতুন ধরনের সমাপ্তি দেখার জন্য।

....................................................................................................................................................................................................................................

ডানজেওন সীজ ৩



প্রথম গেমের প্রায় ১৫০ বছর পরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে নতুন এ গেমের কাহিনী। গেমে বেশ কয়েকটি ক্যারেক্টার রয়েছে। গেমারের ক্লাস অনুযায়ী এ ক্যারেক্টারগুলো দেয়া হবে। গেমের উল্লেখযোগ্য কিছু চরিত্রের মধ্যে প্রথমে রয়েছে- লুকাস মন্টব্যারন, যার এক হাতে তলোয়ার ও অপর হাতে ঢাল নিয়ে বা দুই হাতে ভারি এক তলোয়ার নিয়ে খেলা যাবে। দ্বিতীয় চরিত্রটি হচ্ছে আনজালি নামের বহুরূপী নারী চরিত্র, যার হাতে থাকবে বর্শা এবং সে জাদুবিদ্যায় পারদর্শী। তৃতীয় চরিত্রটি হচ্ছে রেইনহার্ট ম্যানক্স নামের জাদুকর, যে দূর থেকে লড়াই করতে পারদর্শী। চতুর্থ চরিত্রটি হচ্ছে ক্যাটারিনা নামের এক আগ্নেয়াস্ত্র চালানোয় পারদর্শী নারী, সে দূরপাল্লার রাইফেল ও শটগান নিয়ে খেলবে। যার যেমন ক্যারেক্টার পছন্দ, তাকে নিয়ে খেলা শুরু করতে হবে। গেমে অন্যান্য কিছু চরিত্রের মধ্যে রয়েছে- ওডো, মার্টিং গুইসকার্ড, জেয়নে ক্যাসিন্ডার, হিউ মন্টব্যারন, রাডিয়ান্ট ইয়োথ ও কুইন রোসলাইন। গেমের গ্রাফিক্স বেশ ভালোমানের, তবে শব্দশৈলী কিছুটা দুর্বল। গেমপ্লে ও অন্যান্য দিক বিবেচনা করে গেমটিকে মোটামুটি মানের বলা চলে। গেমে বেশ কিছু নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তা সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয়নি। গেমের ক্যামেরা কন্ট্রোলিং বেশ ঝামেলার, তাই অনেকের কাছে তা বেশ বিরক্তিকর মনে হতে পারে। সব মিলিয়ে গেমটি ভালোই লাগবে সবার কারণ গেমটি তো আর এমনি এমনি সেরা গেমগুলোর তালিকায় উঠে আসেনি।

....................................................................................................................................................................................................................................

দ্য সিমস মেডিয়েভাল



দ্য সিমস গেমের নাম জানেন না এমন গেমার খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন ব্যাপার। সিমস সিরিজের গেমগুলো মূলত লাইফ সিমুলেশন বা সোস্যাল সিমুলেশন ধাঁচের গেম। এই গেমে সিমস বলতে গেমের প্রতিটি ভার্চুয়াল ক্যারেক্টারকে বুঝানো হয়। গেমে এই সিমসদের নিয়ে খেলতে হয়, তাদের নিত্যদিনের কাজকর্ম, আচার-ব্যবহার, চাহিদা সবকিছুর খেয়াল রাখতে হয়। এ পর্যন্ত সিমস সিরিজের প্রচুর গেম বের হয়েছে। সাধারণত এ সিরিজের গেমগুলোতে আধুনিক যুগের শহরে বসবাসকারী চরিত্রদের নিয়ে বানানো হয়। কিন্তু নতুন এ গেমে নির্মাতারা আধুনিক যুগের বদলে গেমের পটভূমি হিসেবে বেছে নিয়েছেন মধ্যযুগকে। এখানে গেমারকে সিমসদের নিয়ে রাজ্য গঠন করতে হবে, সিমসদের বিভিন্ন মিশনে পাঠাতে হবে। প্রতিটি মিশন ভালোভাবে শেষ করতে পারলে পুরস্কার হিসেবে কিংডম পয়েন্ট পাওয়া যাবে। এই কিংডম পয়েন্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন আইটেম ও বিভিন্ন ক্যারেক্টার আনলক করা যাবে। অন্যান্য রোল প্লেয়িং গেমে গেমারকে বিভিন্ন চরিত্র থেকে পছন্দের একটি চরিত্র নিয়ে গেম শুরু করতে হয়। কিন্তু এই গেমে গেমারকে বিভিন্ন ধরনের সিমসদের নিয়ে গেম খেলতে হবে। এদের মধ্যে অন্যতম কিছু চরিত্র হচ্ছে-রাজা, জাদুকর, গুপ্তচর, কামার, ডাক্তার, ব্যবসায়ী, যোদ্ধা ইত্যাদি। গেমটি খেললে মধ্যযুগের লোকদের জীবনযাপন ও তাদের বিভিন্ন রীতি-রেওয়াজ, ধর্মকর্ম, যুদ্ধের কৌশল সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা পাওয়া যাবে। সিমসভক্তদের জন্য এ গেমটি খুবই উপভোগ্য হয়েছে।

....................................................................................................................................................................................................................................

লিম্বো



‘লিম্বো’ গেমের জগতের একটি মাস্টারপিস, এটি আমার কথা নয় দুনিয়ার সেরা সব গেম রিভিউয়ারদের কথা। অনেক ধরণের গেমই খেলেছেন কিন্তু এ গেমটি সবার থেকে আলাদা। সাদাকালো পটভূমিতে এতো চমৎকার একটি গেম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যার সামনে অন্য গেমের চোখ ধাঁধানো গ্রাফিক্সও ফিকে হয়ে যাবে। গেমটি বেশিরভাগ গেম রিভিউ সাইট ও সমালোচকদের দৃষ্টিতে শতভাগ পয়েন্ট অর্জন করার গৌরব অর্জন করেছে। শুধু তাই নয় গেমটি গেম ইনফরমারের বেস্ট ডাউনলোডেবল, গেমস্পটের বেস্ট পাজল গেম, কোটাকুর বেস্ট ইন্ডি গেম, গেম-রিএ্যাক্টরের ডিজিটাল গেম অব দ্য ইয়ার, স্পাইক টিভির বেস্ট ইন্ডিপেন্ডেন্ট গেম, এক্স-প্লের বেস্ট ডাউনলোডেবল গেম, আইজিএনের বেস্ট হরর গেম হিসেবে পুরস্কার পাওয়া ছাড়াও মোট ৯০টি পুরস্কার লাভ করেছে। গেমটি একটি গা ছমছমে হরর গেমের পাশাপাশি বেশ ভালোমানের একটি পাজল গেমও বটে। ভিডিও গেমও যে একটা আর্ট হতে পারে তা এ গেমের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এটি এক্সবক্স লাইভ আর্কেডের তৃতীয় শীর্ষ স্থানীয় বেশি বিক্রয়কৃত গেমের তালিকায় রয়েছে, যা প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। গেমটি টুডি ও থ্রিডি উভয় ভার্সনেই খেলা যায়। টুডি ভার্সনে খেলার সময় শিফট+৩+ডি চাপলে থ্রিডি মোডে গেম চালু হয়। গেমটি সাদাকালো হলেও গেমটি বেশ ভয়ানকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। গেমটি নামকরা হরর গেমের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।

....................................................................................................................................................................................................................................

ব্যাটলফিল্ড ৩



শুটিং গেমের জগতে কল অব ডিউটি সিরিজের প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে ব্যাটলফিল্ড সিরিজের গেম। ব্যাটল ফিল্ড সিরিজের গেম বের হলো তিনটি এবং এক্সপানসনসহ সর্বমোট ৮টি। প্রথম পর্বের ২ দুটি এক্সপানশন হচ্ছে দ্য রোড টু রোম ও সিক্রেট ওয়েপনস অব ওয়ার্ল্ড ওয়ার ২ এবং দ্বিতীয় পর্বের এক্সপানশন তিনটি হচ্ছে স্পেশাল ফোর্সেস, ইউরো ফোর্সেস ও আর্মোরড ফিউরি। ব্যাটলফিল্ড ৩ গেমটি বের হবার প্রথম সপ্তাহে ৫ মিলিয়ন কপির বেশি বিক্রি হয়েছে। গেমটির শুরু হয়েছে ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া ব্যাটলফিল্ড ২ গেমের কাহিনীর সূত্র ধরে। ক্যাম্পেইন মোডে গেমটিতে কিছু আলাদা পারসোনা সিলেক্ট করে খেলার সুবিধা রাখা হয়েছে। বিভিন্ন মিলিটারি পারসোনাগুলো মধ্যে রয়েছে- ইউএসএমসি রিকোনাইসেন্স অফিসার, এফ-১৮ সিস্টেমস অফিসার, এমওয়ানএটু অ্যাব্রামস ট্যাঙ্ক অপারেটর ও স্প্যেটসন্যাজ অপারেটিভ। গেমে ব্যবহৃত লোকেশনগুলো হচ্ছে- তেহরান, প্যারিস, সুলাইমানিয়া, নিউইয়র্ক, ওয়েক আইল্যান্ড, ওমান এবং আরো কিছু এলাকা। মূলত গেমের পটভূমি টানা হয়েছে ২০১৪ সালের ইরান-ইরাকের বর্ডারের যুদ্ধ নিয়ে, যে যুদ্ধের রেশ প্যারিস হয়ে নিউইয়র্ক পর্যন্ত গড়াবে। গেমের শুরু হয়েছে সার্জেন্ট ব্ল্যাকবার্নের কাহিনী দিয়ে যা শেষের দিকে ডিমিত্রি মায়াকোভস্কির দিকে ধাবিত হয়েছে। আলাদা আলাদা ইউনিটের কম্বিনেশনে গেমটি খেলার ব্যবস্থা রাখায় গেমটি সিঙ্গেল প্লেয়ার, কো-অপারেটিভ ও মাল্টিপ্লেয়ার সব মোডেই বেশ চমৎকারভাবে খেলা সম্ভব হয়েছে।

....................................................................................................................................................................................................................................

ব্যাটম্যান - আর্কহাম সিটি



২০০৯ সালে বের হওয়া এ সিরিজের প্রথম গেম আর্কহাম অ্যাসাইলাম গেমের দারুণ সফলতার পর নতুন গেম আর্কহাম সিটিও সবার মন জয় করে নিয়েছে। অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার, স্টিলথ ও ক্লোজ কমব্যাটের অসাধারণ সংমিশ্রণের ফসল এ গেমটি। গেমে হুগো স্ট্রেঞ্জ নামের এক ডাক্তার ব্যাটম্যানের গোপন পরিচয় জেনে যাবে এবং তাকে অপহরণ করবে ব্রুস ওয়েন রূপে থাকা অবস্থায় এবং আর্কহাম সিটি নামের বিশাল কারাগারে বন্দি করে রাখবে। আর্কহাম সিটিতে সে বন্দিদশা হতে মুক্ত হয়ে বাটলার আলফ্রেডের সহায়তায় এয়ারড্রপের মাধ্যমে ব্যাটস্যুট ও গ্যাজেট আনিয়ে নিয়ে ব্যাটম্যান সেজে প্রটোকল ১০ এর রহস্য উদঘাটন করার কাজে নামতে হবে যার পরিচালনা করছে হুগো স্ট্রেঞ্জ। গেমে ব্যাটম্যানকে মোকাবিলা করতে হবে জোকার, টুফেস, পেঙ্গুইন, ড. ফ্রিজ, রাস আল গল, বেন, জেসাইস, ডেডশটসহ আরো অনেকের সাথে। গেমের মজার ব্যাপার হচ্ছে গেমে মেইন প্লট একই কিন্তু প্রতিটি সাইড মিশন আলাদা আলাদা প্লটে সাজানো। গেমে সারা শহরে ছড়ানো রিডলারের ধাঁধাঁর সমাধান করতে হবে এবং সংগ্রহ করতে হবে ট্রফি। গেম শেষে সাইড মিশন খেলার জন্য ব্যাটম্যান ও ক্যাটওম্যানের মাঝে পালা বদল করে নেয়া যাবে। দুইজনকে নিয়ে খেলার কৌশল আলাদা, তাই গেমে আগের গেমের তুলনায় ব্যাপক বৈচিত্র্যের দেখা মিলবে। গেমটি কিছুটা ধীরগতির কিন্তু বেশ ভালোমানের গেম যা খেললেই নয়।

....................................................................................................................................................................................................................................

হোমফ্রন্ট



গেমের পটভূমি হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতের অর্থাৎ ২০২৭ সালের আমেরিকার সীমান্ত এলাকা, যেখানে দেখানো হয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কোরিয়ান সৈন্যবাহিনী আমেরিকার মিসিসিপি নদী তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত সবগুলো স্টেট দখল করে নিয়েছে। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে গেমে প্রথমে কোরিয়ার বদলে চীনকে শত্রুপক্ষ বানানো হয়েছিল, কিন্তু গেমের এই কাহিনীর ফলে বাস্তবেই আমেরিকার সাথে চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের অবনতি হতে পারে, সেই আশঙ্কায় পরে উত্তর কোরিয়াকে শত্রুপক্ষ করা হয়েছে। ২০১১ থেকে শুরু করে ২০২৭ পর্যন্ত ঘটা কিছু ঘটনার ভিত্তিতে এ যুদ্ধের ঘোষণা করা হবে। সিঙ্গেল প্লেয়ার মোডটি গেমের পুরনো ভার্সন ফ্রন্টলাইন্স-ফুয়েল অব ওয়ারের চেয়ে আরও সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। গেমের ডিজাইন ডিরেক্টর ডেভিড ভোটাইপকা গেমটি সাজিয়েছেন হাফ-লাইফ ২ গেমের সজ্জার সাথে মিল রেখে। গেমে বায়োশক ও আনরিয়েল টুর্নামেন্ট গেমগুলোর ছাপও দেখা যাবে। মাল্টিপ্লেয়ার মোডে গাড়ি নিয়ে যুদ্ধ করার প্রবণতা বেশি লক্ষ করা যাবে। মিশন সম্পন্ন করার ফলে প্লেয়ার পয়েন্ট পাবে, যা কর্মদক্ষতা বাড়াবে। অর্থের বিনিময়ে ছোটখাটো অস্ত্র কেনার পাশাপাশি হেলিকপ্টার ও ট্যাঙ্কও কেনা যাবে। মাল্টিপ্লেয়ার মোডে ৩২ জন খেলা যাবে। গেমে প্রায় ৭টি ম্যাপ আছে পিসি ভার্সন ও প্লেস্টেশন ভার্সনের জন্য। অন্যান্য গেমের তুলনায় এ গেমে বেশ কিছু নতুন ফিচার যোগ করা হয়েছে, যা গেমটিকে আরও উপভোগ্য করে তুলেছে।

....................................................................................................................................................................................................................................

স্কাইরিম



রোল প্লেয়িং গেমের মধ্যে দ্য এল্ডার স্ক্রোলস সিরিজের গেম বেশ জনপ্রিয়। এ বছরের অ্যাকশন রোল প্লেয়িং গেমের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছিলো উইচার ২। কিন্তু দ্য এল্ডার স্ক্রোলস সিরিজের পঞ্চম পর্ব স্কাইরিম উইচারের একক আধিপত্য ভেঙ্গে সেরা স্থান দখল করে নিয়েছে খুব সহজেই। গেমটি বের হবার ২৪ ঘন্টার মাথায় ৩.৫ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে। গেমে খেলা শুরু করার আগে কয়েকটি জাতি থেকে নিজের প্লেয়ার বেছে নিতে হবে। একেক জাতির ক্ষমতা একেক রকম তাই প্রতিটি জাতির প্লেয়ার নিয়ে কেমন খেলা যায় তা পরখ করে দেখতে পারেন। গেমে প্রায় ৭৩১ জাদুমন্ত্র, হাজার খানেক বর্ম, অসংখ্য অস্ত্রশস্ত্র ও আরো অনেক কিছু দেয়া হয়েছে। গেমের গ্রাফিক্স ও শব্দশৈলী এতটাই প্রাণবন্ত হয়েছে যে গেমটি মিথিক্যাল যুগের কাহিনী নির্ভর কোনো মুভি বলে মনে হবে। নানা রকম দৈত্য-দানো, জীব-জন্তু, ড্রাগন ইত্যাদির সাথে মোকাবিলা করে সম্পন্ন করতে হবে অসংখ্য মিশন। প্লেয়ার নিজেই বানাতে পারবে তার জন্য পোশাক, বর্ম, অস্ত্র, খাবার ইত্যাদি। তাই গেমটিতে শুধু মারামারিই নয় আরো অনেক কিছু করতে হবে যা অন্যান্য গেমে সাধারণত থাকে না। অনেকের কাছে গেমটি ধীরগতির মনে হতে পারে, কিন্তু যারা রোল প্লেয়িং গেম খেলে অভ্যস্ত তারা বেশ ভালোভাবে টের পাবেন গেমটির মাহাত্ম্য।

....................................................................................................................................................................................................................................

ফেয়ার ৩



ভয় কে না পায়? সবাই কমবেশি ভয় পায়। অনেকে বলে সে খুব সাহসী, সে কোনো কিছুকেই ভয় পায় না। হতে পারে সে সাহসী, কিন্তু আচমকা তাকে ভয় দেখালে সেও ভয় পেয়ে বসবে। কেউ কেউ নির্দিষ্ট কিছু বস্তু বা বিষয়কে ভয় পায়। কেউ ভূতে ভয় পায় কেউ বা আবার অন্ধকার। হরর গেমগুলোতে ভূতের ভয়ের পাশাপাশি গেমের পরিবেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন করে তুলে ভয়ে তা আরো ভয়াবহ করে তোলা হয়। হরর ফার্স্ট পারসন শুটার ধাঁচের কিছু গেম ও গেম সিরিজের মধ্যে রয়েছে- অ্যালান ওয়েক, অ্যামনেশিয়া, ক্লক টাওয়ার, কনডেমনেড ক্রিমিনাল, ডেডলি প্রিমোনিশন, ফ্যাটাল ফ্রেম, কিলার সেভেন, ম্যানহান্ট, পেনুমব্রা, সাইলেন্ট হিল, সাইরেন, দ্য ডার্কনেস ইত্যাদি অনেক গেম। ফেয়ার ৩ গেমটি এ বছরের হরর গেমগুলোর মাঝে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে এতগুলো গেমের মাঝে যে গেমে ভীতির মাত্রা বেশি তা হচ্ছে ফেয়ার নামের গেম সিরিজ। সাউন্ড সাউন্ডসহ স্পিকার সিস্টেম বা ভালোমানের হেডফোন কানে দিয়ে এসব হরর গেম খেলার মজাই আলাদা। তবে যারা দুর্বলচিত্তের তাদের এসব গেম থেকে দূরে থাকাই ভালো। গেমগুলোতে বয়স অনুযায়ী গেম রেটিং দেয়া থাকে তাই তা অমান্য করে গেম খেলা উচিত নয়। অভিভাবকদের এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে যে তার বাচ্চারা কি ধরনের গেম খেলছে এবং তা তাদের উপযুক্ত কিনা তা খেয়াল রাখতে হবে।

....................................................................................................................................................................................................................................

মর্ডান ওয়ারফেয়ার ৩



ফাস্ট পারসন শুটার গেমের মধ্যে কল অব ডিউটি সিরিজের নাম আসে সবার প্রথমে। দূর্দান্ত অ্যাকশন ও অ্যাডভেঞ্চারে ভরা এ সিরিজের গেমগুলো শুটিং গেমভক্তদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। মর্ডান ওয়ারফেয়ার ৩ গেমটি কল অব ডিউটি গেম সিরিজের অষ্টম গেম। গেম সিরিজটির সাব সিরিজ হচ্ছে মর্ডান ওয়ারফেয়ার। এ সাব সিরিজে এ নিয়ে বের হলো তিনটি গেম। গেম তিনটিই একটি কাহিনীর ধারাবাহিকতায় রচনা করা হয়েছে। গেমটি মুক্তি পাওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বাজারে গেমটির ৬.৫ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে যার মূল্যমান প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। নতুন গেমটি পূর্ববর্তী গেম মডার্ন ওয়ারফেয়ার ২ এর সিক্যুয়াল। যারা আগের গেম খেলেননি তাদের জন্য কাহিনী বুঝতে সমস্যা হবে। মূলত গেমের কাহিনী বোঝার জন্য এ সাব সিরিজের প্রথম থেকেই খেলে আসতে হবে। ক্যাম্পেইন মোডে আসলে তেমন একটা জোর না দিয়ে গেমটি ডেভেলপ করা হয়েছে মাল্টিপ্লেয়ার মোড ও কো-অপারেটিভ মোডকে জোর দিয়ে। কো-অপারেটিভ মোডটি নতুন সংযোজিত হয়েছে সারভাইভাল মোড নামে। মাল্টিপ্লেয়ারে দুটি নতুন মোড দেয়া হয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে কিল কনফার্মড যাতে মৃত শত্রু সৈন্যের লাশ থেকে ডগ ট্যাগ সংগ্রহ করতে হবে এবং অপরটি হচ্ছে টিম ডিফেন্ডার যাতে ফ্ল্যাগ সংগ্রহ করা নিয়ে যুদ্ধ করতে হবে। গেমটির ভালো দিকের মধ্যে রয়েছে রোমহর্ষক গেমপ্লে, দুর্দান্ত অ্যাকশন, প্রাণবন্ত গ্রাফিক্স ও শব্দশৈলী এবং বেশ কয়েকটি মাল্টিপ্লেয়ার মোডের উপস্থিতি।

উপরোল্লিখিত গেমগুলো ছাড়াও আরো কিছু নামকরা গেমের মাঝে রয়েছে- স্টার ওয়ারস-দ্য ওল্ড রিপাবলিক, ডার্ক স্পোর, স্পেকস ওপস-দ্য লাইন, এক্সকম, টোটাল ওয়ার-শোগান ২, অপারেশন ফ্ল্যাশপয়েন্ট-রেড রিভার, এসাসিন’স ক্রিড রেবেলেশনস, ড্রাইভার-সান ফ্রান্সিসকো, ওয়ারহ্যামার ৪০০০০ স্পেস মেরিন, রেজ, হান্টেড, ব্রিঙ্ক, ডিমনস ফোর্জ, ফিফা সকার ১২, সেইন্টস রো দ্য থার্ড, এল.এ. নোইরে, বাসশন, অ্যামনেশিয়া, ট্রাইন ২, স্ট্রিট ফাইটার ৪ আর্কেড এডিশন, এনএফএস দ্য রান ইত্যাদি।



কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : shmt_21@yahoo.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস