Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > পিসির ঝুটঝামেলা
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: কজ
মোট লেখা:১০৪১
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১২ - এপ্রিল
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
সমস্যা ও সমাধান
তথ্যসূত্র:
ট্রাবলশুটার টিম
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
পিসির ঝুটঝামেলা






কমপিউটার জগৎ ট্রাবলশূটার টিম

কমপিউটার ব্যবহারকারীদের নিত্যনতুন সমস্যায় পড়তে হয়। কিন্তু আমাদের এই নতুন বিভাগ ‘পিসির ঝুটঝামেলা’তে পিসির হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক, ভাইরাসজনিত সমস্যা, ভিডিও গেম সম্পর্কিত সমস্যা, পিসি কেনার ব্যাপারে পরামর্শ ইত্যাদিসহ যাবতীয় সব ধরনের কমপিউটারের সমস্যার সমাধান দেয়া হবে। আপনাদের সমস্যাগুলো আমাদের এই বিভাগের মেইল অ্যাড্রেসে (jhutjhamela@comjagat.com) বা কমপিউটার জগৎ, কক্ষ নম্বর-১১, বিসিএস কমপিউটার সিটি, রোকেয়া সরণি, আগারগাঁও, ঢাকা-১২০৭ ঠিকানায় চিঠি লিখে জানান প্রতিমাসের ২০ তারিখের মধ্যে। উল্লেখ্য, মেইলের মাধ্যমে পাঠানো সমস্যার সমাধান যত দ্রুত সম্ভব মেইলের মাধ্যমেই জানিয়ে দেয়া হবে এবং সেখান থেকে বাছাই করা কিছু সমস্যা ও তার সমাধান প্রেরকের নাম- ঠিকানাসহ ম্যাগাজিনের এই বিভাগে ছাপানো হবে। সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের সমস্যা পাঠানোর সময় পিসির কনফিগারেশন, অপারেটিং সিস্টেম, পিসিতে ব্যবহার হওয়া অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম, পিসি কতদিন আগে কেনা এবং পিসির ওয়ারেন্টি এখনো আছে কি না- এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।



সমস্যা :

আমার পিসির কনফিগারেশন ইন্টেল কোর আই থ্রি ৫৪০ ৩.০৬ গিগাহার্টজ প্রসেসর, ইন্টেল ডিএইচ৫৫পিজে মাদারবোর্ড, (২+২) = ৪ গিগাবাইট ডিডিআর৩ ১৩৩৩ মেগাহার্টজ র‌্যাম, ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল ৫০০ গিগাবাইট (১৬ মেগাবাইট ক্যাশ, ৭২০০ আরপিএম) হার্ডডিস্ক, ২২ এক্স স্যামসাং ডিভিডি রাইটার, স্যামসাং (বিএ ১৯৩০) ১৮.৫ ইঞ্চি এলসিডি মনিটর, গিগাবাইট এটিআই রাডেওন এইচডি ৬৬৭০ ডিডিআর ৩ গ্রাফিক্সকার্ড, থার্মালটেক লাইট পাওয়ার ৫০০ ওয়াট পাওয়ার সাপ্লাই। ব্যাটলফিল্ড ৩ এবং স্পেস মেরিন খেলতে গেলে APPCRASH মেসেজ দেখিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। অন্যান্য গেম খেলতে গেলে ক্র্যাক ফোল্ডারের কন্টেন্ট রিপ্লেস করে খেলার পর আবার অন্য প্রোগ্রাম চালালে আর ওই গেম চলে না। তবে ক্র্যাক ফোল্ডারের কন্টেন্ট রিপ্লেস করলে খেলা যায়। উল্লেখ্য, আমি মাঝখানে উইন্ডোজ ৭ ৬৪ বিট থেকে ৩২ বিট করে আবার ৬৪ বিট ব্যবহার করছি। সমাধান জানালে উপকৃত হব। আর এই কনফিগারেশনে নতুন সব গেম খেলতে পারব কি না? পারফরম্যান্স কেমন পাব?

রেজাউল করিম, পল্লবী, ঢাকা



সমাধান :
পিসির কনফিগারেশন অনুযায়ী গেম দুটো অনায়াসে চলার কথা। কারণ এর চেয়েও কম ক্ষমতার পিসিতে এটি চলে। পিসির কনফিগারেশন মাঝারি মানের গেমিংয়ের জন্য উপযুক্ত। শুধু গ্রাফিক্সকার্ড আপগ্রেড করলে গেমিংয়ে আরো ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে। অ্যাপ্লিকেশন ক্র্যাশ করার সঠিক কারণটি বলা যাচ্ছে না। পিসিতে কোনো অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ব্যবহার করছেন নাকি করছেন না তা উল্লেখ করলে ভালো হতো। কারণ অনেক সময় দেখা যায় গেমের ক্র্যাক ফাইলগুলোকে অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ডিলিট করে দেয় বা আটক করে রাখে। ডিরেক্টএক্স আপডেট, গ্রাফিক্সকার্ড ড্রাইভার আপডেট, ডট নেট ফ্রেমওয়ার্ক, মাইক্রোসফট ভিজ্যুয়াল সি++ ইত্যাদি কিছু প্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম ইনস্টল করা থাকা লাগে নতুন গেম কোনো সমস্যা ছাড়া চালানোর জন্য। সাধারণত গেমের ডিস্কগুলোতে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও প্রোগ্রাম দেয়া থাকে। তাই ডিস্কের মধ্যে খোঁজ করে দেখুন। অনেক কোম্পানি খুব তাড়াতাড়ি নতুন গেম বাজারে আনার জন্য তা ইনস্টল করে চেক করে দেখে না। তাই অনেক সময় গেমের ক্র্যাক কাজ করে না। ইন্টারনেট থেকে গেম দুটোর আলাদা ক্র্যাক নামিয়ে নিন। তারপর তা দিয়ে চেষ্টা করে দেখুন। স্কিডরো (SKIDROW) থেকে বের হওয়া ক্র্যাকগুলো বেশ ভালো কাজ করে। গ্রাফিক্সকার্ড ড্রাইভার আপডেট করার জন্য এএমডির ওয়েবসাইটে গিয়ে পিসির কনফিগারেশন ও উইন্ডোজ ভার্সনের বর্ণনা দিয়ে উপযুক্ত ও নতুন ড্রাইভার নামিয়ে নিন। পিসি আপগ্রেড করতে চাইলে প্রথমে গ্রাফিক্সকার্ড আপডেট করে নিতে পারেন এরপরও কোনো সমস্যা হলে প্রসেসর কোর আই থ্রির বদলে কোর আই ফাইভ নিতে পারেন, কারণ মাদারবোর্ড তা সাপোর্ট করবে। পিসির কুলিং সিস্টেমের দিকে নজর দিতে হবে। দরকার পড়লে বাড়তি কুলিং ফ্যান লাগিয়ে নিতে হবে।



সমস্যা :

২০০৩ সালে কেনা আমার পিসিটি এখনো ব্যবহার করে আসছি। পিসির কনফিগারেশন হচ্ছে : ইন্টেল পেন্টিয়াম ৪, ১.৭ গিগাহার্টজ প্রসেসর, ইন্টেল ডেস্কটপ বোর্ড ৮৫০এমভি, ম্যাক্সটর ৬০ গিগাবাইট হার্ডডিস্ক, ২৫৬ মেগাবাইট আরডি র‌্যাম ও আসুস ভি৭১০০ এনভিডিয়া জিফোর্স২ এমএক্স২০০ ৬৪ মেগাবাইট গ্রাফিক্স কার্ড। এখন আমি পিসিটি আপগ্রেড করতে চাই বা নতুন পিসি কিনতে চাই। সে লক্ষ্যে ইন্টেল কোর ফাইভ ২৫০০কে, ইন্টেল ডেস্কটপ বোর্ড ডিজেড৬৮বিসি মাদারবোর্ড, ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল ক্যাভিয়ার ব্ল্যাক ৫০০ গিগাবাইট (৬৪ ক্যাশ ও ৭২০০ আরপিএম) হার্ডডিস্ক, ১৬ গিগাবাইট ডিডিআর৩ ১৬০০ মেগাহার্টজ বাসস্পিড র‌্যাম ও আসুস এনভিডিয়া জিফোর্স ইএনজিটিএক্স ৫৬০ডিসি২ ১ গিগাবাইট ডিডিআর৫ ইত্যাদি সমন্বয়ে নতুন পিসি কিনতে চাই। আমার কিছু প্রশ্ন আছে? এগুলো হলো : মাদারবোর্ডটি কি ডুয়াল বায়োসের? সর্বোচ্চ কয়টি গ্রাফিক্সকার্ড ও র‌্যাম এ মাদারবোর্ডে সংযুক্ত করা যাবে? ফায়ারওয়্যার পোর্ট না থাকলে কি হয়? আমি অল্প অল্প গেম খেলি, তবে হার্ডকোর গেমার নই। আমি থার্মালটেকের কমান্ডার সিরিজের কেসিং এবং টিপিজি সিরিজের ৬৫০ ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট কিনতে চাচ্ছি। পৃথক সাউন্ডকার্ড কেনার দরকার আছে কি?

মহম্মদ আবদুর রহমান, কোর্টপাড়া, চুয়াডাঙ্গা



সমাধান :
পিসি কেনার আগে পিসির বাজেট এবং কি কাজে ব্যবহার করা হবে তা জানাটা আবশ্যক। আপনি শুধু উল্লেখ করেছেন কি কাজে ব্যবহার করবেন তা। মাদারবোর্ড কেনার আগে তার মধ্যে কি কি ফিচার আছে তা দেখে নেয়া উচিত। বাজারের সবচেয়ে ভালো বা সবচেয়ে দামি মাদারবোর্ডের দিকে নজর না দিয়ে এমনটা বাছাই করা উচিত যা আপনার প্রয়োজন মেটাবে। প্রথমে চিন্তা করুন কোন প্রসেসর কিনবেন এবং সে অনুযায়ী সকেটের মাদারবোর্ড নির্বাচন করুন। যেমন আপনি সিলেক্ট করেছেন ইন্টেলের দ্বিতীয় প্রজন্মের স্যান্ডিব্রিজ সিরিজের কোর আই ফাইভ ২৫০০কে (ওভারক্লক এডিশন)। এ প্রসেসরটি সাপোর্ট করে এলজিএ১১৫৫ সকেটের মাদারবোর্ড। তাই এর জন্য এ সকেটের মাদারবোর্ড কিনতে হবে। যদি এএমডি এথলন ২ বা ফেনম ২ সিরিজের মাদারবোর্ড হতো তাহলে এএমথ্রি সকেটের মাদারবোর্ড, এএমডি বুলডোজার সিরিজের মাদারবোর্ড হলে এএমথ্রি+ সকেটযুক্ত মাদারবোর্ড কিনতে হবে। আপনি গ্রাফিক্সকার্ড কয়টি ব্যবহার করবেন তা চিন্তা করার পর মাদারবোর্ড নির্বাচন করুন। কারণ যত বেশি পিসিআই এক্সপ্রেস স্লট থাকবে তত দাম বাড়বে, কিন্তু বাকি সব ফিচার প্রায় একই থাকবে। তাই অযথা টাকা নষ্ট করার দরকার নেই বাজারের সেরা মাদারবোর্ড কিনে। আপনি যেহেতু হার্ডকোর গেমার নন, তাই একটি পিসিআই এক্সপ্রেস স্লটের মাদারবোর্ড ভালো হবে। যদি ভবিষ্যতে ডুয়াল গ্রাফিক্সকার্ড লাগানোর ইচ্ছে থাকে তবে দুটি গ্রাফিক্স স্লট আছে এমন মাদারবোর্ড কিনতে পারেন। মাদারবোর্ড কত বাসস্পিডের র‌্যাম সাপোর্ট করে তা দেখাও জরুরি। ডিডিআর৩ র‌্যাম স্লটযুক্ত মাদারবোর্ডগুলোতে মডেলভেদে ১৩৩৩ থেকে ২৪০০ (ওভারক্লক) বাস স্পিডের র‌্যাম লাগানোর ব্যবস্থা থাকে। মাঝারি মানের গেমারদের জন্য ১৮৬৬ বাসস্পিডের র‌্যাম সাপোর্ট করে এমন মাদারবোর্ড হলেই যথেষ্ট। প্রসেসর কোর আই ফাইভ ২৫০০০কে বাজারে পাওয়া যাবে কি না তা ঠিক বলতে পারছি না। দাম ও পারফরম্যান্সের কথা বিবেচনা করলে এটি বেশ ভালোমানের গেমিং প্রসেসর। আর খরচ কমাতে চাইলে এএমডির প্রসেসর দেখতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে মাদারবোর্ড এএমডি সকেট সাপোর্টেড হতে হবে। এএমডির জন্য এমএসআই ও গিগাবাইট মাদারবোর্ড বাজারে বেশ জনপ্রিয়। ইন্টেল, আসুস ও গিগাবাইট তিনটি কোম্পানির একই সকেটের এবং প্রায় একই কোয়ালিটির মাদারবোর্ডের মধ্যে ভালোভাবে পার্থক্য করে এবং কোনোটির ফিচার বেশি ও ভালো তা বিবেচনা করে তারপর মাদারবোর্ড কিনুন। আপনার উল্লিখিত ইন্টেলের মাদারবোর্ডে ২টি গ্রাফিক্স স্লট বা পিসিআই এক্সপ্রেস স্লট ও ৪টি র‌্যাম স্লট রয়েছে যাতে ৩২ গিগাবাইট পর্যন্ত র‌্যাম লাগাতে পারবেন। স্লটগুলোতে ১৬০০+ বাসস্পিডের র‌্যাম লাগানো যাবে। ১৬ গিগাবাইট ডিডিআর৩ ১৬০০ বাসস্পিড র‌্যামের বদলে ৪ গিগাবাইটের দুটো ১৮৬৬ বাসস্পিডের মিলিয়ে ৮ গিগাবাইট হলে ভালো। হার্ডকোর গেমারদের বা গ্রাফিক্স ডিজাইনার বা ভিডিও এডিটরদের বা অ্যানিমেটরদের এতটা র‌্যামের দরকার হয়। আপনার জন্য ৮ গিগাবাইট যথেষ্ট। ফায়ারওয়্যার পোর্ট না থাকলে ফায়ারওয়্যার পোর্টের ডিভাইস কানেক্ট করতে পারবেন না। ফায়ারওয়্যার পোর্টের জায়গা দখল করে নিয়েছে ইউএসবি পোর্ট। তারপরও এখনো অনেক মাদারবোর্ডে এ পোর্ট দিয়ে থাকে। তাই ফায়ারওয়্যার পোর্ট নিয়ে চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। কমান্ডার সিরিজের এত দামি ক্যাসিং কিনে টাকা খরচ করার কোনো প্রয়োজন নেই। থার্মালটেকের ডক্কার বা আর্মোর এ৬০/এ৯০ সিরিজের ক্যাসিং কিনুন। ডক্কার পুরস্কারপ্রাপ্ত এবং কম দামে বেশ ভালোমানের ক্যাসিং। ক্যাসিংটি কেনার সময় আরো কয়েকটি কুলার ফ্যান কিনে নেবেন। ২-৩টি কিনলেই হবে, এতে ৭টি ফ্যান লাগানোর জায়গা রয়েছে। সাধারণ গেমার থেকে শুরু করে বড় বড় গেমারের পছন্দের তালিকায় রয়েছে এ ক্যাসিংটি। ৬৫০ ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাই হলেও চলবে। কারণ থার্মালটেকের টাফ পাওয়ার সিরিজের পিএসইউগুলো বেশ ভালো পারফরম্যান্স দেয়। গ্রাফিক্সকার্ড বেশি হাই পারফরম্যান্স হলে পাওয়ারে কিছুটা টান পড়বে। গ্রাফিক্সকার্ড বাছাই করার পর তার কতটুকু পাওয়ার সাপ্লাই প্রয়োজন তার ওপর ভিত্তি করে পিএসইউ কেনা ভালো। ৭৫০ বা ৮৫০ ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাই হলে সবচেয়ে ভালো। মাদারবোর্ডের সাথে যে বিল্ট-ইন সাউন্ডকার্ড দেয়া থাকে তা-ই যথেষ্ট। সাউন্ড এডিটিং বা মিউজিক কম্পোজিংয়ের কাজ না করলে আলাদা সাউন্ডকার্ড দরকার নেই।



সমস্যা :

হঠাৎ করেই আমার মনিটরে কোনো ডিসপ্লে আসছে না। মনিটরের পাওয়ার বাটন জ্বলে, কিন্তু মনিটর কালো হয়ে থাকে। ক্যাসিংয়ের বাতিগুলোও ঠিকমতো জ্বলে। আমার মনিটরের মডেল হচ্ছে Samsung Syncmaster 551S। অন্য পিসির সাথে লাগিয়ে দেখেছি তাতে কাজ করে এবং আমার পিসির সাথে অন্য মনিটর লাগালেও একই সমস্যা দেখা দেয়। এটি কি ধরনের সমস্যা?

জুয়েল, সিলেট



সমাধান :
মনিটরে কোনো সমস্যা নেই যেহেতু তা অন্য কমপিউটারে চলছে। সমস্যা আপনার পিসিতেই। এ ধরনের সমস্যা অনেক কারণে হয়ে থাকে। পাওয়ার ঠিকমতো অর্থাৎ পর্যাপ্ত পাওয়ার সাপ্লাই না পেলে, গ্রাফিক্সকার্ডের সমস্যার কারণে বা র‌্যামের সমস্যার কারণে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রাথমিকভাবে আপনি র‌্যাম খুলে তা টিস্যু দিয়ে আলতো করে মুছে ভালোভাবে র‌্যাম স্লটে লাগিয়ে দিন। এতেও যদি ঠিক না হয় তবে র‌্যামের স্লট বদল করে দেখতে পারেন। বিফলে গ্রাফিক্সকার্ড খুলে তাও আবার ভালোভাবে লাগিয়ে দেখুন। মনিটরে পর্যাপ্ত পাওয়ার সাপ্লাই রয়েছে কি না তা খেয়াল করুন। যদি কম ওয়াটের ইউপিএসে একসাথে মনিটর ও সিপিইউ (ক্যাসিং) যুক্ত করা থাকে তাহলে মনিটরের পাওয়ার কম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ক্যাসিংয়ের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট দুর্বল হলে এবং সেখান থেকে মনিটরে পাওয়ার দিলেও এ সমস্যা হতে পারে। সিআরটি মনিটরগুলো বেশি বিদ্যুৎ নষ্ট করে, তাই তার জন্য ভালোমানের পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা করা উচিত নতুবা সিস্টেমের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদি উপায়গুলোর কোনোটিই কাজ না করে তবে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের কাছে নিয়ে যেতে হবে।



সমস্যা :

গেমের জগতে লেখা গেম রিভিউতে গেমগুলোর জন্য দেয়া সিস্টেম রিকোয়ারমেন্টের তালিকায় গ্রাফিক্সকার্ডের মান লেখার ক্ষেত্রে পিক্সেল শেডার ভার্সন ব্যবহার করা হয়। আমার গ্রাফিক্সকার্ডের পিক্সেল শেডার ভার্সন কত তা কিভাবে দেখব?

শফিক, ঢাকা



সমাধান :
সাধারণত পিক্সেল শেডার ভার্সনের কথা গ্রাফিক্সকার্ডের প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকে। যদি গ্রাফিক্সকার্ডের প্যাকেট খুঁজে না পান তবে নিজ পিসির গ্রাফিক্সকার্ডের পিক্সেল শেডার ভার্সন দেখার জন্য আপনাকে গ্রাফিক্সকার্ডের মডেলের নাম জানতে হবে। গ্রাফিক্সকার্ডের মডেল জেনে ইন্টারনেটে সার্চ করে জেনে নিতে হবে তার ফিচারগুলো সম্পর্কে। গ্রাফিক্সকার্ডের মডেল জানার জন্য My Computer-এ রাইট ক্লিক করে Properties সিলেক্ট করতে হবে। এরপর Advanced system settingsHardwareDevice managerDisplay adapter-এ নেভিগেট করলেই আপনার গ্রাফিক্সকার্ডের মডেল দেখতে পারবেন।



সমস্যা :

আমার পুরনো সিআরটি মনিটরটি কিছুদিন হচ্ছে বেশ সমস্যা দিচ্ছে। তাই আমি এটি মেরামত না করে নতুন একটি এলসিডি মনিটর কেনার কথা ভাবছি। কিন্তু বাজারে বর্তমানে এলইডি মনিটর আসায় একটু সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছি। এলসিডি এবং এলইডি মনিটরের মধ্যে মূল পার্থক্য কি? কোনটি বেশি ভালো হবে?

মামুন, মোহাম্মদপুর



সমাধান :
সাধারণ লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে (এলসিডি) মনিটরে লাল, সবুজ ও নীল রঙের মধ্যে সামাঞ্জস্য করে তা পর্দায় চিত্র ফুটিয়ে তোলে। পর্দায় আলো ফেলার জন্য আলাদা একটি আলোক উৎসের প্রয়োজন পড়ে এবং সেই কাজ করে থাকে ফ্লুরোসেন্ট ল্যাম্প, যা অনেকটা টিউবলাইটের মতো কিন্তু আকারে ছোট। এ আলোক উৎসের জন্য মনিটরে কিছু বাড়তি বিদ্যুৎশক্তি অপচয় হয়। এলইডি এলসিডি মনিটরের ক্ষেত্রে আলোক উৎস হিসেবে লাইট ইমিটিং ডায়োড (এলইডি) ব্যবহার করা হয়। যার ফলে সাধারণ এলসিডি মনিটরের চেয়ে এলইডি এলসিডি মনিটর কম বিদ্যুৎশক্তি ব্যবহার করে থাকে। এ ছাড়া এলইডি এলসিডি মনিটরের ব্রাইটনেস ও কন্ট্রাস্ট রেশিও সাধারণ এলসিডির তুলনায় বেশ ভালো। এলইডি এলসিডি মনিটর সাধারণ এলসিডি মনিটরের চেয়ে বেশি টেকসই। এ কয়েকটি বিষয় ছাড়া সাধারণ এলসিডি ও এলইডি এলসিডি মনিটরের মধ্যে তেমন বড় ধরনের কোনো পার্থক্য নেই। সাধারণ এলসিডি মনিটরের বদলে একটু বেশি দাম পড়লেও নতুন টেকনোলজিতে বানানো এলইডি এলসিডি মনিটর কেনাই যুক্তিযুক্ত হবে।



সমস্যা :

ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের সময় কোনো ওয়েবপেজ সেভ করতে দিলে সিপিইউ থেকে শব্দ করে এবং ভারি কোনো কাজ করার সময় মাঝেমধ্যে পিসি হ্যাং করে। ভাইরাসের কারণে কি এ ধরনের সমস্যা হতে পারে? গেম খেলার সময় গেম লোড হতে বেশ সময় লাগে, কিন্তু আগে তা বেশ ভালোভাবেই চলত। আমি উইন্ডোজ সেভেন আল্টিমেট ব্যবহার করি। আমার পিসির কনফিগারেশন হচ্ছে এএমডি এথলন এক্সটু ৩৬০০+, ২ গিগাবাইট ডিডিআর২ র‌্যাম, এনভিডিয়া জিফোর্স ৮৫০০ জিটি ১ গিগাবাইট মেমরির গ্রাফিক্সকার্ড, ৫০০ ও ২৫০ গিগাবাইটের দুটি হার্ডডিস্ক।

সোহাগ, নারায়ণগঞ্জ



সমাধান :
আপনার সমস্যার কথা শুনে মনে হচ্ছে প্রসেসরের ফ্যানের শব্দ হচ্ছে যখন তা বেশ জোরে ঘুরে। যখন আপনি কোনো ওয়েবপেজ সেভ করছেন তখন তা সেভ করার সময় প্রসেসরের মধ্য দিয়ে বেশ দ্রুতগতিতে ডাটা ট্রান্সফার করে। তখন প্রসেসরের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায় সাধারণ অবস্থার চেয়ে। সে জন্য প্রসেসর গরম হয়ে ওঠে আর কুলিং ফ্যানের গতি আরো বেড়ে যায় প্রসেসর ঠান্ডা করার জন্য। ক্যাসিং খুলে প্রসেসরের ওপর রাখা হিটসিঙ্কটি চেক করুন। এতে হয়তো বেশ ময়লা জমে রয়েছে যার কারণে প্রসেসর ঠিকমতো ঠান্ডা হতে পারছে না এবং কুলিং ফ্যানের ওপরে চাপ বাড়াচ্ছে। প্রসেসর বেশি গরম হয়ে গেলে এবং তা ঠিকমতো ঠান্ডা না হলে হ্যাং হওয়া বা মেশিন স্লো হয়ে যাওয়া বা পিসি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। মাসে অন্তত একবার ক্যাসিং খুলে ভেতরের অংশ পরিষ্কার করার অভ্যাস করুন। দুই থেকে তিন মাস অন্তর কুলিং ফ্যান ও হিটসিঙ্ক পরিষ্কার করার চেষ্টা করুন। এতে কমপিউটারকে এ ধরনের সমস্যার হাত থেকে বাঁচাতে পারবেন। ধুলোবালি কমপিউটারের পার্টসের জন্য বেশ ক্ষতিকর। তাই পিসি এমন স্থানে রাখা উচিত যেখানে ধুলোবালি কম প্রবেশ করতে পারে। তা যদি সম্ভব না হয় তবে ডাস্ট কভার ব্যবহার করা আবশ্যক। তবে ডাস্ট কভার ব্যবহার করার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে কাজের সময় ডাস্ট কভার খুলে কাজ করতে হবে এবং কাজ শেষে পিসি বন্ধ করার সাথে সাথে কভার দিয়ে না ঢেকে কিছুক্ষণ পর তা ঢেকে দিতে হবে। কারণ পিসি ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ না দিলে গরমে পিসির যন্ত্রাংশের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সবচেয়ে ভালো হয় একটি ব্লোয়ার মেশিন কিনে নিলে। ৫০০-৬০০ টাকার মধ্যে ব্লোয়ার মেশিন পাওয়া যাবে, যা দিয়ে মাসে দুয়েকবার পিসির সব যন্ত্রাংশের ধুলোবালি পরিষ্কার করতে পারবেন।



সমস্যা :

আমার পিসির কনফিগারেশন কোর টু ডুয়ো ২.৫৩ গিগাহার্টজ প্রসেসর, আসুস পি৫জি৪১টি-এম মাদারবোর্ড, ৪ গিগাবাইট ডিডিআর৩ র‌্যাম ও ৩২০ গিগাবাইট হার্ডডিস্ক। কিছুদিন আগে আমি ২ গিগাবাইট র‌্যাম লাগিয়েছি। কেনার সময় এতে ২ গিগাবাইট র‌্যাম ছিল। গেম খেলার পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য আমি আরো ২ গিগাবাইট যোগ করে ৪ গিগাবাইট করার পর র‌্যামের প্রোপার্টিজে ৪ গিগাবাইট র‌্যাম দেখাচ্ছে না। ৪ গিগাবাইটের বদলে ৩.২৪ গিগাবাইট র‌্যাম দেখাচ্ছে। র‌্যাম দুটোই টুইনমসের ১০৬৬ মেগাহার্টজের, কিন্তু তারপরও এ সমস্যা হচ্ছে কেন? এ সমস্যা কি র‌্যামে, মাদারবোর্ডে না অন্য কোনো? উল্লেখ্য, র‌্যামের পরিমাণ কম দেখানো ছাড়া পিসির আর কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

সাইফুল, যাত্রাবাড়ী



সমাধান :
এ সমস্যা র‌্যামের নয়, সমস্যা অপারেটিং সিস্টেমের। আমার ধারণা আপনি ৩২ বিট অপারেটিং সিস্টেম চালাচ্ছেন। পিসির কনফিগারেশনের সাথে কোন অপারেটিং সিস্টেম এবং কোন অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ব্যবহার করছেন তা জানালে সমস্যার সমাধান দিতে সুবিধা হয়। ৩২ বিট অপারেটিং সিস্টেম ৪ গিগাবাইট র‌্যাম সাপোর্ট করে না। ৩২ বিট অপারেটিং সিস্টেমের র‌্যাম সাপোর্ট করার ক্ষমতা ৩ গিগাবাইটের কিছু বেশি। তাই ৪ গিগাবাইট র‌্যাম লাগানো থাকা সত্ত্বেও তা ৪ গিগাবাইট দেখাতে পারে না। আপনার মাদারবোর্ডের মডেল অনুযায়ী তা ১৬ গিগবাইট র‌্যাম সাপোর্ট করতে পারে। ৪ গিগাবাইট র‌্যামের সাপোর্ট পেতে চাইলে ৬৪ বিট অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করলে এ সমস্যার সমাধান হবে। প্রায়ই দেখা যায়, অনেকে ২ গিগাবাইট র‌্যামের সিস্টেমে ৬৪ বিট অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করে থাকেন। তাদের জন্য বলা, ৪ গিগাবাইট র‌্যাম ছাড়া ৬৪ বিট অপারেটিং সিস্টেমের পারফরম্যান্স পাওয়া যায় না। তাই ৪ গিগাবাইটের নিচে হলে ৩২ বিট অপারেটিং সিস্টেমে এবং ৪ গিগাবাইট বা তার চেয়ে বেশি র‌্যাম হলে অবশ্যই ৬৪ বিট অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা উচিত।



সমস্যা :

আমার পিসির মাদারবোর্ডে ডিডিআর২ ও ডিডিআর৩-এর জন্য দুটি করে মোট ৪টি স্লট আছে। আমি ডিডিআর২ ৮০০ মেগাহার্টজের দুটি ১ গিগাবাইটের র‌্যাম ব্যবহার করছি। আমি এর সাথে ডিডিআর৩ স্লটে আরো দুটি র‌্যাম লাগাতে পারব? কোনো সমস্যা হবে না তো?

রাকিব, মিরপুর



সমাধান :
একই সাথে দুই ধরনের র‌্যাম চালানো যায় না। যেকোনো একটি ব্যবহার করতে পারবেন। ডিডিআর২ কিনে তা ব্যবহার করতে পারেন অথবা আগের র‌্যামগুলো বিক্রি করে দিতে পারেন। পুরনো র‌্যামের ভালো চাহিদা রয়েছে এবং দামও বেশি। তাই কমপিউটার মার্কেটগুলোতে গিয়ে তা বিক্রি করে দিন বা অনলাইনে যেসব বেচাকেনার সাইট রয়েছে সেখানে র‌্যাম বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দিন। ডিডিআর২-এর চেয়ে আরো কম দামে এবং বেশি ক্ষমতাবান ডিডিআর৩ র‌্যাম কিনে তা লাগাতে পারবেন।



সমস্যা :

আমার পিসির কনফিগারেশন কোর টু ডুয়ো ২.৮ গিগাহার্টজ প্রসেসর, মাদারবোর্ড গিগাবাইট জিএ-জি৪১এমটি-ডি৩ভি, ২ গিগাবাইট ডিডিআর৩ র‌্যাম ও ৫০০ গিগাবাইট হার্ডডিস্ক। আমার মাদারবোর্ডের ম্যানুয়াল ও বক্সের গায়ে র‌্যাম সাপোর্টের পাশে ১৩৩৩ (ওসি) লেখা। এর মানে কি? সর্বোচ্চ কত গিগাবাইট র‌্যাম ব্যবহার করা যাবে? এতে কি ২ টেরাবাইট হার্ডডিস্ক যোগ করা যাবে? এটির বিল্ট-ইন গ্রাফিক্সকার্ড কতটুকু ভালো গেম খেলার জন্য? আমি কি আলাদা গ্রাফিক্সকার্ড কিনব? দশ হাজার টাকার মধ্যে কোন গ্রাফিক্সকার্ডটি গেম খেলার জন্য ভালো হবে?

সায়হাম, মোহাম্মদপুর



সমাধান :
ওসি হচ্ছে ওভারক্লকিংয়ের সংক্ষিপ্ত রূপ। ওভারক্লক করা র‌্যাম বিশেষভাবে তৈরি, যা নির্দিষ্ট গতিতে কাজ করে, কিন্তু যখন বেশি কার্যক্ষমতার প্রয়োজন পড়ে, তখন তা ১৩৩৩ মেগাহার্টজ স্পিডে উন্নীত হতে পারে। প্রতিটি স্লটে ৮ গিগাবাইট করে মোট ১৬ গিগাবাইট র‌্যাম ব্যবহার করা যাবে। তবে র‌্যামের পরিমাণ ৪ গিগাবাইটের বেশি হলে ৬৪ বিট অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে। আপনার পিসির মাদারবোর্ডের বায়োস ৩ টেরাবাইট সাটা হার্ডডিস্ক সাপোর্ট করবে, তাই নিশ্চিন্ত থাকুন। মাদারবোর্ডের সাথে থাকা বিল্ট-ইন গ্রাফিক্সকার্ডটি হচ্ছে ইন্টেল জিএমএ এক্স৪৫০০, যা হাই ডেফিনিশন মুভি ও সাধারণ গেমিংয়ের জন্য বেশ ভালো গ্রাফিক্স চিপসেট। কিন্তু নতুন গেমগুলো ভালোভাবে চালাতে হলে বাড়তি গ্রাফিক্সকার্ডের কোনো বিকল্প নেই। ১০ হাজার টাকার মধ্যে এএমডি রাডেওন এইচডি ৫৭৫০ বা ৬৭৭০ মডেলের গ্রাফিক্সকার্ড কিনতে পারেন।



সমস্যা :

ইন্টেল কোর আই সেভেন প্রসেসর নাকি গ্রাফিক্সকার্ড ছাড়া চলে না? এটা কি সত্য?

মাহিন, উত্তরা



সমাধান :
কোর আই সিরিজের প্রসেসরগুলো নতুন প্রজন্ম বা স্যান্ডিব্রিজ সিরিজের সিপিইউর সাথে ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট বা জিপিইউ দেয়া থাকে। তবে যা দেয়া থাকে তা দিয়ে আগের গেমগুলো ভালোভাবে খেলা যাবে। নতুন গেমগুলো লো ডিটেইলসে খেলতে হবে। পাওয়ারফুল প্রসেসরের সাথে যত ভালো গ্রাফিক্সকার্ড লাগানো যাবে গেমিং পারফরম্যান্স তত বাড়বে। একই প্রসেসরের সাথে আলাদা আলাদা ক্ষমতার গ্রাফিক্সকার্ড লাগালে বেঞ্চমার্কে বেশ ভালোই পার্থক্য দেখা যায়।



সমস্যা :

ইন্টারনাল হার্ডডিস্কের তুলনায় এক্সটারনাল হার্ডডিস্কের দাম বেশি। আমার অনেক ডাটা সংরক্ষণ করার দরকার। সে জন্য প্রায় ২-৪ টেরাবাইট জায়গা দরকার। পোর্টেবল স্টোরেজ কিনে তা করতে গেলে খরচ অনেক বেশি পড়বে। তাই আমি চাইছি তা ইন্টারনাল হার্ডডিস্কে স্টোর করতে। কিন্তু বারবার তা লাগানো ও খোলা বেশ সমস্যার এবং একসাথে এতগুলো হার্ডডিস্ক লাগিয়ে রাখাটাও ঝামেলার। এমন কোনো ব্যবস্থা রয়েছে কি যাতে ইন্টারনাল হার্ডডিস্ককে আমি পোর্টেবল হিসেবে ব্যবহার করতে পারি?

মিলন, সূত্রাপুর



সমাধান :
সাধারণত পোর্টেবল হার্ডডিস্কগুলোর ভেতরে ল্যাপটপে ব্যবহৃত ছোট আকারের সাটা হার্ডডিস্কগুলো সাটা টু ইউএসবি কনভার্টারের দিয়ে তা ক্যাসিংয়ের ভেতরে বসিয়ে পোর্টেবল বানানো হয়। ঠিক একই কাজ আপনিও করতে পারেন। বড় মাপের হার্ডডিস্কের জন্য পোর্টেবল হার্ডডিস্ক ক্যাসিং পাওয়া যায় ৪৫০-৫০০ টাকার মধ্যে, যার সাথে সাটা টু ইউএসবি কনভার্টার ও পাওয়ার সাপ্লাইয়ের জন্য ইউএসবি ক্যাবল দেয়া থাকে। এর জন্য ওয়াই বা এক পাশে একটি ও অপর পাশে দুটি ইউএসবি পোর্টযুক্ত ক্যাবল ব্যবহার করতে হবে। পাওয়ার সাপ্লাইয়ে যাতে ঘাটতি না হয় তার জন্য এ বাড়তি ইউএসবি ক্যাবল লাগাতে হবে। এভাবে বানানো পোর্টেবল হার্ডডিস্ক টেকসই হবে, কিন্তু হার্ডডিস্কে কনভার্টার লাগানোর ফলে গতি কিছুটা কমে যাবে। তবে আর্কাইভিং বা ডাটা স্টোরেজের কাজ ভালোভাবেই করতে পারবেন। ভালো পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট না থাকলে একসাথে বেশি হার্ডডিস্ক লাগাবেন না, এতে সিস্টেমের ক্ষতি হতে পারে। কারণ প্রতিটি হার্ডডিস্ক পাওয়ার সাপ্লাই থেকে পাওয়ার নেয়। বেশি লাগালে পাওয়ার টানার পরিমাণও বেশি হবে। পাওয়ার সাপ্লাই পর্যাপ্ত না হলে হার্ডডিস্কেরও ক্ষতি হতে পারে। তাই ভালোমানের পাওয়ার সাপ্লাই ব্যবহার করুন।



সমস্যা :

এজিপি ও পিসিআই- এ দুটির মধ্যে পার্থক্য কি? কোনটি বেশি ভালো?

কবির, বছিলা



সমাধান :
এজিপি আগে গ্রাফিক্সকার্ড লাগানোর জন্য ব্যবহার করা হতো। পুরনো মাদারবোর্ডগুলোতে এজিপি পোর্ট ছিল, যাতে এজিপি স্লটের গ্রাফিক্সকার্ড লাগাতে হতো। এজিপি অর্থ এক্সেলারেটেড গ্রাফিক্স পোর্ট। এখনো বাজারে এজিপি স্লটের গ্রাফিক্সকার্ড পাওয়া যায়, তবে তা বেশ সীমিত। পিসিআই অর্থ পেরিফেরাল কম্পোনেন্ট ইন্টারকানেক্ট। পিসিআইর চেয়ে এজিপির ডাটা ট্রান্সফার স্পিড বেশি। এজিপি শুধু গ্রাফিক্স ইউনিট ট্রান্সফার করতে পারে আর পিসিআই গ্রাফিক্সের পাশাপাশি সাউন্ড ও নেওটওয়ার্ক ট্রান্সফার করার ক্ষমতা রাখে। তাই অনেকে পিসিআই পোর্ট ব্যবহার করে থাকেন বাড়তি সুবিধা পেতে। এজিপি ও পিসিআইর চেয়ে আরো বেশি শক্তিশালী ও গতিশীল পোর্ট হচ্ছে পিসিআই এক্সপ্রেস। এখনকার সব গ্রাফিক্সকার্ডই পিসিআই এক্সপ্রেস স্লটের হয়ে থাকে।



সমস্যা :

আমার পিসির কনফিগারেশন- প্রসেসর : কোরআই৩ ৫৪০, মাদারবোর্ড : ফক্সকন এইচ৫৫এমএক্সভি, র‌্যাম : ২ গিগাবাইট ডিডিআর৩, হার্ডডিস্ক : ৫০০ গিগাবাইট, অপটিক্যাল ড্রাইভ : ২৪এক্স আসুস ডিভিডি রাইটার, ৫০০ ওয়াট থার্মালটেক লাইট পাওয়ার পিএসইউ। অনেকের কাছে শুনলাম নতুন কোরআই৫ ২৫০০কে মডেলের প্রসেসরটি গেম খেলার জন্য বেশ ভালো। আমি প্রসেসর আপগ্রেড করে ইন্টেলের দ্বিতীয় প্রজন্মের কোরআই৫ ২৫০০কে কিনতে চাই। প্রসেসরের পাশাপাশি আমি র‌্যাম ও গ্রাফিক্সকার্ড আপগ্রেড করতে চাই। আমার পিসির মাদারবোর্ড কত পর্যন্ত র‌্যাম সাপোর্ট করতে পারবে। আমি ১৩৩৩ মেগাহার্টজের ৮ গিগাবাইট র‌্যাম লাগাতে চাই। ভালো গেমিং পারফরম্যান্সের জন্য কত দামের মধ্যে গ্রাফিক্সকার্ড কিনব?

রতন, মগবাজার



সমাধান :
আপনার পিসির যে মাদারবোর্ড তা হচ্ছে এলজিএ ১১৫৬ সকেটের প্রসেসর সাপোর্ট করে। প্রথম প্রজন্মের কোরআই সিরিজের প্রসেসরগুলো এ সকেটের হতো। কিন্তু ইন্টেলের দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রসেসর বা স্যান্ডিব্রিজ সিরিজের প্রসেসরগুলোর সকেট হচ্ছে এলজিএ১১৫৫। সকেট সাপোর্ট না করার কারণে নতুন কোরআই৫ ২৫০০কে আপনার মাদারবোর্ড সাপোর্ট করবে না। প্রসেসর আপগ্রেড করার জন্য মাদারবোর্ডও আপগ্রেড করতে হবে। ইন্টেলের নতুন প্রসেসর সিরিজ আইভি ব্রিজও এলজিএ১১৫৫ সকেট সাপোর্ট করে, তাই সামনের ২-৩ বছর নিশ্চিন্তে এ পিসি ব্যবহার করতে পারবেন। প্রযুক্তি এত তাড়াতাড়ি বদলে যাচ্ছে, যার সাথে তাল মিলিয়ে পিসি আপগ্রেড করাটাও মুশকিল হয়ে পড়ছে। আগে পিসি কিনে তা অনেকে ৫-১০ বছরও চালিয়েছেন, কারণ তখন নতুন পণ্য বাজারে আসতে অনেক সময় লাগত। কিন্তু এখন একটি যন্ত্রাংশ কেনার কয়েক মাসের মধ্যে আরেকটি চলে আসছে, যা পুরনো যন্ত্রাংশের পারফরম্যান্সকে মলিন করে দিচ্ছে। অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যারগুলোর ক্রমাগত পরিবর্তনের ফলেও হার্ডওয়্যার বাজারে প্রভাব ফেলছে। গেম ভালোভাবে খেলার জন্য বারবার পিসি বছরে ২-৩ বার আপগ্রেড করার প্রয়োজন পড়ছে। তাই বলা যায় এখন যে পিসি কিনছেন, তা ২-৩ বছর ব্যবহার করার লক্ষ্যেই কিনতে হবে। ২-৩ বছরে কমপিউটিংয়ে কতটা পরিবর্তন আসবে তা বলা মুশকিল, তবে বিরাট পরিবর্তন যে হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বর্তমানে যে মাদারবোর্ডটি রয়েছে তা ৮ গিগাবাইট র‌্যাম সাপোর্ট করে। নতুন মাদারবোর্ড কিনে নিন, তাতে আরো বেশি মেমরির র‌্যাম সাপোর্ট ও হাই বাসস্পিডের র‌্যাম সাপোর্ট পাবেন। মাদারবোর্ড কেনার সময় এমনটি কিনুন, যাতে পরে আপগ্রেড করার ক্ষেত্রে সুবিধা হয়। দুটি গ্রাফিক্সকার্ড লাগানোর চিন্তা থাকলে দুটি পিসিআই এক্সপ্রেস স্লট আছে এমন মাদারবোর্ড কিনুন। ভালোভাবে গেম খেলার জন্য ভালোমানের গ্রাফিক্সকার্ডের দাম ১০ হাজারের ওপরে পড়বে।



সমস্যা :

আমার পিসি ৪ বছর আগে কেনা। পিসিটি এতদিন ভালোই চলেছে, কিন্তু কিছুদিন ধরে সমস্যা করছে। গেম খেলার সময় বা মুভি দেখার সময় হঠাৎ করে পিসি বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ কাজ করলে এ সমস্যা হয় না। ভারি কোনো কাজ করতে গেলেই ৪-৫ মিনিটের মধ্যে পিসি বন্ধ হয়ে যায়। কি কারণে এমনটা হচ্ছে?

রেজাউল করিম, টঙ্গী



সমাধান :
পিসির কনফিগারেশন উল্লেখ করলে ভালো হতো। যাই হোক, এ সমস্যা কয়েকটি কারণে হতে পারে। প্রথমত প্রসেসরের ফ্যান ও হিটসিঙ্কে বেশ ময়লা জমে যাওয়ায় কুলিং সিস্টেমে ব্যাঘাত ঘটায় পিসি শাটডাউন হচ্ছে। আরেকটি কারণ হতে পারে প্রসেসরের থার্মাল পেস্ট শুকিয়ে যাওয়ায় প্রসেসর তাপ ভালোভাবে ছাড়তে না পেরে বেশি গরম হয়ে যাচ্ছে এবং মাদারবোর্ড পিসিকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য পিসি বন্ধ করে দিচ্ছে। সমস্যা সমাধানের জন্য প্রথমে www.cpuid.com থেকে HWmonitor নামের সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে নিন। এরপর তা ইনস্টল করে চালু করুন। এবার সেখান থেকে দেখে নিন পিসির প্রসেসর ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের তাপমাত্রা কত? এবার ভারি কোনো অ্যাপ্লিকেশন বা গেম চালু করুন। ২-১ মিনিট পড়ে কন্ট্রোল+অল্টার কি চেপে গেম থেকে বের হয়ে আবার এইচডব্লিউমনিটরে দেখুন তাপমাত্রা কত দেখায়। যদি তা ৯০-এর ওপরে হয় তবে বুঝতে হবে প্রসেসর বেশি গরম হয়ে যাওয়ার কারণেই এ সমস্যা হচ্ছে। প্রসেসরের হিটসিঙ্ক ও ফ্যান খুলে তা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন এবং প্রসেসরের ওপরে থাকা থার্মাল পেস্টের কি অবস্থা তা দেখুন। যদি তা শুকিয়ে গিয়ে থাকে তবে তা নতুন করে দিতে হবে। বাজারে ১০ টাকায় ছোট প্যাকেটে ওয়ান টাইম ইউজ থার্মাল পেস্ট পাওয়া যায়। এটি খুব একটা কার্যকর নয়, তবে কাজ চলে যায়। আরো ভালো থার্মাল পেস্ট লাগাতে চাইলে থার্মালটেকের থার্মাল গ্রিজ টিজি২ ব্যবহার করতে পারেন। এতে এক সিরিঞ্জ থার্মাল গ্রিজ দেয়া থাকে, যা অনেকবার ব্যবহার করা যাবে। এ থার্মাল গ্রিজের দাম একটু বেশি বলা চলে। এটির দাম ৫৫০ টাকা। এর চেয়ে আরো ভালো আরেকটি রয়েছে যা হচ্ছে টিজি১। এটির দাম ৮৫০ টাকা। নিজের পিসির পার্টস খোলার অভিজ্ঞতা না থাকলে তা অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে করিয়ে নিন বা সার্ভিসিং সেন্টারে নিয়ে যান। ভাইরাসের কারণেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ভালোমানের অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন।



সমস্যা :

আমার কাছে বেশ কিছু এমপিথ্রি ফরমেটের অডিও ফাইল রয়েছে, যা আমি মোবাইলে রাখতে চাই। কিন্তু মেমরিকার্ডের তুলনায় ফাইলগুলো অনেক বড়। আমাকে এক বন্ধু বলল এএমআর ফরমেটে এমপিথ্রিগুলোকে কনভার্ট করলে আকারে অনেক ছোট হয়ে যাবে। ফাইলগুলো কনভার্ট করার জন্য অনেক কনভার্টার খুঁজলাম, কিন্তু ভালো কোনো সফটওয়্যার পেলাম না। কয়েকটি ভালো কনভার্টার সফটওয়্যারের নাম দিলে খুব উপকার হয়। কিছু ভিডিও লেকচার অডিও করার দরকার। ভিডিও থেকে অডিও করা যায় এমন কোনো সফটওয়্যার আছে কি?

মাহমুদুল হাসান, যাত্রাবাড়ী



সমাধান :
ফাইল কনভার্ট করার বেশ ভালো একটি সফটওয়্যার রয়েছে, যার নাম ফরমেট ফ্যাক্টরি। এটি একটি ফ্রি মিডিয়া ফাইল ফরমেট কনভার্টার। এটি বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারবেন www.formatoz.com থেকে। এটি বেশ কয়েকটি ভিডিও ফাইল ফরমেট, অডিও ফাইল ফরমেট ও ইমেজ ফাইল ফরমেট সাপোর্ট করে। এক অডিও থেকে আরেক অডিও ফরমেট, ভিডিও থেকে ভিডিও ফরমেট, ইমেজ থেকে ইমেজ ফরমেট, ভিডিও থেকে অডিও, ডিভিডি থেকে ভিডিও ফাইল, অডিও সিডি রিপিং, ফাইলের আকার ছোট করা, ড্যামেজড অডিও/ভিডিও ফাইল রিপেয়ার করা ইত্যাদি আরো কাজ করে থাকে। আইফোন, আইপড, পিএসপি, ব্ল্যাকবেরি ইত্যাদি ডিভাইসের ফরমেটও সাপোর্ট করে। এককথায় এটি একটি অল-ইন-ওয়ান সফটওয়্যার, যা পিসিতে সবসময় ইনস্টল করে রাখার মতো একটি সফটওয়্যার।


কজ ওয়েব

ফিডব্যাক : jhuthamela@comjagat.com
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটি পিডিএফ ফর্মেটে ডাউনলোড করুন
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস