Comjagat.com-The first IT magazine in Bangladesh
  • ভাষা:
  • English
  • বাংলা
হোম > স্বল্প পরিচিত ৪টি মজার লিনআক্স ডিস্ট্রো
লেখক পরিচিতি
লেখকের নাম: মো: আমিনুল ইসলাম সজীব
মোট লেখা:৪
লেখা সম্পর্কিত
পাবলিশ:
২০১২ - অক্টোবর
তথ্যসূত্র:
কমপিউটার জগৎ
লেখার ধরণ:
লিনআক্স
তথ্যসূত্র:
লিনআক্স
ভাষা:
বাংলা
স্বত্ত্ব:
কমপিউটার জগৎ
স্বল্প পরিচিত ৪টি মজার লিনআক্স ডিস্ট্রো
লিনআক্সকে সাধারণত ওপেনসোর্স ও বিনামূল্যের অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে আমরা জানলেও এটি আসলে কোনো অপারেটিং সিস্টেম নয়। লিনআক্স একটি কার্নেলের নাম। কার্নেল মূলত কমপিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষাকারী। এই কার্নেলের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করা হয়ে থাকে। যেগুলোকে আমরা লিনআক্সভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম বলে থাকি। অন্য কথায় লিনআক্স কার্নেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেমকে লিনআক্স ডিস্ট্রো (Linux distro) বলা হয়।

লিনআক্স অপারেটিং সিস্টেম বলতে আমরা সাধারণত উবুন্টু ও লিনআক্স মিন্টকে বুঝি। এছাড়া অনেকে হয়তো ফেডোরা ও ওপেনসুসের নামও উল্লেখ করবেন। মূলত এই অপারেটিং সিস্টেম বা ডিস্ট্রোগুলোই লিনআক্স ব্যবহারকারীদের মাঝে ব্যাপক সমাদৃত ও ব্যবহৃত। কিন্তু তাই বলে লিনআক্স কার্নেলে তৈরি অপারেটিং সিস্টেমের সংখ্যা কিন্তু নেহায়েত কম নয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ডেভেলপার লিনআক্সের মূল কোডের ওপর অথবা লিনআক্সের একটি ডিস্ট্রোর ওপর ভিত্তি করে তাকে কাস্টোমাইজ করে নতুন ডিস্ট্রো তৈরি করে ফেলেছেন। একটু আগে যে লিনআক্স মিন্টের কথা বলা হয়েছে, তা-ও উবুন্টুর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। উবুন্টু আবার তৈরি করা হয় লিনআক্সের ডেবিয়ান অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে।

এ লেখায় পাঠকদের জন্য নতুন কিছু অপরিচিত লিনআক্স ডিস্ট্রো উপস্থাপন করা হয়েছে। লিনআক্সের নানারকম স্বাদ চেখে দেখতে অথবা তুলনামূলক পুরনো ও কম রিসোর্সের হার্ডওয়্যারে চালানোর জন্য এসব ডিস্ট্রোর কোনোটি না কোনোটি আপনার কাজে আসবেই। নিচে আলোচনা করা হয়েছে লিনআক্স জগতের আরও কিছু ডিস্ট্রো প্রসঙ্গে।

পাপ্পি লিনআক্স

সবচেয়ে ছোট লিনআক্স ডিস্ট্রো হিসেবে পাপ্পি লিনআক্সের নাম একবাক্যে উচ্চারিত হয়। যদিও পাপ্পি লিনআক্সের চেয়েও আকারে ছোট লিনআক্স ডিস্ট্রো রয়েছে। কিন্তু এর মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ ও রীতিমতো কাজ করার উপযোগী অপারেটিং সিস্টেম আর দ্বিতীয়টি নেই। পাপ্পি লিনআক্স মাত্র ১০০ মেগাবাইটেরও কম আকারের আইএসও ফাইলে এটে যায়। যেখানে প্রায় সব ডিস্ট্রোই ৭০০ মেগাবাইটের বেশি জায়গা নিয়ে থাকে, পাপ্পি সেখানে স্বল্পতম জায়গা নিয়ে ব্যবহারকারীকে কাজ করার উপযোগী একটি অপারেটিং সিস্টেম এনে দেয়।

প্রথমে শুনলে মনে হবে, পাপ্পি বোধহয় শুধুই মজা করার জন্য একটি ছোট আকারের অপারেটিং সিস্টেম। আসলে মোটেই তেমনটি নয়। পাপ্পির সাথে রয়েছে ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার, ওয়েব ব্রাউজারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খুঁটিনাটি অ্যাপিস্নকেশন। লাইভ সিডির পাশাপাশি ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভের মাধ্যমে এটি খুব সহজেই ব্যবহার করা যাবে। ফ্ল্যাশ ড্রাইভে এটিমাত্র ১০০ মেগাবাইটের কিছু বেশি জায়গা নেবে। ওপেন অফিস ইনস্টল করলে এটি ২৫০ মেগাবাইটের মতো জায়গা নেবে। একটি ১ গিগাবাইটের ফ্ল্যাশ ড্রাইভে এটি ইনস্টল করলে বাকি ৭৫০ মেগাবাইট জায়গাই খালি থাকবে যেখানে বিভিন্ন সেটিংস বা বাড়তি অ্যাপিস্নকেশন যেমন-ওপেন অফিস ইনস্টল করা যাবে।


পাপ্পি লিনআক্স সবচেয়ে উপকারী বন্ধু হিসেবে কাজ করবে, যখন আপনার কমপিউটারের হার্ডডিস্ক কোনো কারণে কাজ না করে কিংবা একেবারেই না থাকে। অথবা আপনার স্টোররম্নমে পড়ে থাকা পুরনো আমলের কমপিউটার যেখানে নতুন অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টলই করা যায় না, সেখানেও পাপ্পি লিনআক্স একেবারে নতুন কমপিউটারের মতো কাজ করবে। এর ইউজার ইন্টারফেস অনেকটা উইন্ডোজের মতো হওয়ায় নতুন ব্যবহারকারীরা এটি ব্যবহার করতে পারবেন কোনো ঝামেলা ছাড়াই। তবে আকার কম হওয়ায় রেজল্যুশন একটু খারাপ যদিও তা চোখে পড়ার মতো নয়। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় বা কাজ চালিয়ে নিতে পাপ্পি লিনআক্স একটি সম্পূর্ণ ও পরিপূর্ণ অপারেটিং সিস্টেম হিসেবেই সমাদৃত। ওয়েবসাইট : http://puppylinux.org

ম্যাকপাপ


পাপ্পি লিনআক্সের একটি বিশেষ সংস্করণকে নিজেদের মতো করে উন্নীত করে আরেক দল ডেভেলপার তৈরি করেছেন ম্যাকপাপ নামে আরেকটি অপারেটিং সিস্টেম। পাপ্পি লিনআক্সের তুলনায় এর ফাইল সাইজ প্রায় ১০০ মেগাবাইট বেশি হলেও এর ডেস্কটপ ও ইউজার ইন্টারফেস পাপ্পি লিনআক্সের চেয়ে উন্নত। ম্যাকপাপ ইনস্টল করার বা ইউএসবি/লাইভ সিডি থেকে বুট করার পরপরই ডেস্কটপের নিচের অংশে পাবেন ম্যাকের মতো একটি ডক। ডক থেকে আপনি বিভিন্ন অ্যাপিস্নকেশন চালু করতে পারবেন।

ম্যাকপাপের ডেভেলপারদের মতে, ম্যাকপাপ কোনো বেসিক কোর অপারেটিং সিস্টেম নয়। এটি একটি পরিপূর্ণ অপারেটিং সিস্টেম যেখানে গ্রাফিক্স, মাল্টিমিডিয়া, ইন্টারনেট ব্রাউজিং ও অফিস প্রোডাক্টিভিটির মতো কাজগুলো সহজেই করা যায়। কম রিসোর্স টানায় পুরনো আমলের কমপিউটারেও ম্যাকপাপ থেকে পাবেন দ্রম্নতগতির পারফরম্যান্স। তাই পাপ্পি লিনআক্সকে দেখতে যদিও বেশি মান্ধাতার আমলের মতো মনে হয়, তাহলে ম্যাকপাপ হবে আপনার বিকল্প পছন্দ। ওয়েবসাইট : http://macpup.org/

সিস্নটাজ

মাত্র ৩৪ মেগাবাইটের কিছু বেশি জায়গার মধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে সিস্নটাজ নামের এই লিনআক্স ডিস্ট্রো। সুইজারল্যান্ডের কিছু ডেভেলপারের তৈরি এই ডিস্ট্রোতে অবিশ্বাস্যরকমের কাজের সব অ্যাপিস্নকেশন দেয়া হয়েছে। মাত্র ৩৪ মেগাবাইটে কী-ইবা আর থাকা সম্ভব? প্রাথমিকভাবে এমন একটি ধারণা এলেও সিস্নটাজ ব্যবহারের পর এই ধারণা সম্পূর্ণই বদলে যাবে। সিস্নটাজ শুধু গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেসে তৈরি একটি লিনআক্স ডিস্ট্রোই নয়, এতে রয়েছে লাইটটিপিডি ওয়েব সার্ভার, এসকিউলাইট ডাটাবেজ, আইআরসি ক্লায়েন্ট, এসএসএইচ ক্লায়েন্ট, এক্সউইন্ডো সিস্টেম, ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের জন্য মজিলা ফায়ারফক্স, মিডিয়া ফাইলের জন্য আলসাপেস্নয়ার, হার্ডডিস্ক পার্টিশন ম্যানেজমেন্টের জন্য জনপ্রিয় জিপার্টেড, একটি সাউন্ড এডিটর অ্যাপিস্নকেশনসহ আরও অনেক কিছু।

সিস্নটাজ ভালোভাবে কাজ করার জন্য শুধু ২৫৬ মেগাবাইট র‌্যাম থাকাই যথেষ্ট। ইনস্টল করলে এটি হার্ডডিস্কে মাত্র ৮০ মেগাবাইটের মতো জায়গা নিয়ে থাকে। এত কম জায়গা নেয় বলে একে খুব একটা কাজের মনে না করার কোনো কারণ নেই। লিনআক্স নিয়ে আগ্রহীরা অন্তত একবার সিস্নটাজ ব্যবহার করে দেখবেন। ওয়েবসাইট : http://www.slitaz.org

টাইনি কোর

এতক্ষণ আলোচনা করা হয়েছে ৩২ মেগাবাইটের অপারেটিং সিস্টেম প্রসঙ্গে। এবার দেখে নিন ১০ মেগাবাইটের অপারেটিং সিস্টেম। গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেসসহ এই অপারেটিং সিস্টেমটি ইনস্টল হয়। আর এটি চলে সম্পূর্ণই কমপিউটারের মেমরি থেকে। তবে এটি একটি বস্ন্যাঙ্ক অপারেটিং সিস্টেম বলা যায়। কেননা এটি ইনস্টল করার পর ব্যবহারকারীদের টাইনি কোরের অনলাইন রেপোজিটরি থেকে প্রয়োজনীয় অ্যাপিস্নকেশন ডাউনলোড করে নিতে হয়। ওয়েবসাইট : distro.ibiblio.org/tinycorelinux/ welcome.html

লিনআক্স জগতে রয়েছে প্রচুর ডিস্ট্রো। গুগল নিজেও লিনআক্সের একটি ডিস্ট্রো ব্যবহার করে। নিজেদের প্রয়োজনে অথবা পেশাদার কাজে বিভিন্ন ধরনের ডিস্ট্রো রয়েছে। তাই লিনআক্স বলতে শুধু উবুন্টু, ফেডোরা, মিন্ট আর ওপেনসুসেকে ভাবা ভুল। সিস্টেম অ্যাডমিন থেকে শুরম্ন করে শিক্ষার্থী এমনকি চিকিৎসকদের জন্যও রয়েছে লিনআক্সের বিশেষ ডিস্ট্রো। আর এসব ছোটখাটো ডিস্ট্রো সাধারণ ব্যবহারের জন্য তৈরি হলেও অনেক সময় উবুন্টু বা ফেডোরার মতো বড় আকারের ডিস্ট্রোর চেয়ে এগুলো বেশি ভালো পারফরম্যান্স দিয়ে থাকে। তাই সময় নিয়ে অপারেটিং সিস্টেমগুলো ঘেঁটে দেখুন। হয়তো আপনি জানেন না এগুলোর কোনো একটি আপনার সত্যিই ভালো লেগে যাবে।
পত্রিকায় লেখাটির পাতাগুলো
লেখাটির সহায়ক ভিডিও
চলতি সংখ্যার হাইলাইটস